একবার চোখ বন্ধ করে ভাবুন

একবার চোখ বন্ধ করে ভাবুন

বাংলা সাহিত্য থেকে ধরে নিন সমস্ত টার্মিনোলজি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো ইজমের ফান্ডা কোথাও নেই। কোনো প্রবন্ধ খুললেই বাংলা ছাড়া অন্য যেকোনো ভাষার লেখক কবিদের লম্বা লিস্টি, অন্য যেকোনো ভাষার “মুভমেন্ট” নিয়ে অংবংচং, (শালা যেন বাংলা ভাষা নড়ে না, চড়ে না), এবং দু লাইন অন্তর “এটি আমাদের বোধের অন্তরগন্ধগদ্যগদ্দারত্ব কে এক মানবিক ব্রাখোলা কাকলির দিকে নিয়ে যায়”।

চার লাইন বাদে, “ঠিক এই জায়গায় এসে একজন সচেতন কবি তাঁর গবগবেকবকবিত্ব শায়াহীন নীলিমায় ছুঁড়ে ফেলে একটি ইন্টারমেন্টালক্যান্তারকন্টকলজির হীরকতুল্য কুলকুচির আঁধারে ডুবে যান” (বিশ্বাস করুন, এই মালগুলো আপনার যেমন আমার ঠিক তেমনই ঝাঁট জ্বালায়) এইসব কিছু নেই। নেই পাঠককে শিক্ষিত করার গাণ্ডু ঔদ্ধত্য। নেই “কবিতা পড়ার জন্য একটা মিনিমাম স্কুলিং প্রয়োজন” বলার চুরবুর্জোয়া উন্নাসিকতা ও দুর্গন্ধ অহং।

কি অপূর্ব না? কি সহজ এই বাংলা ভাষায় লেখা! কি অমলিন এই বাংলার বাক্য! কি স্বচ্ছ না এই বাংলা ভাষার শব্দ। এত প্রাণ আর এত হৃদ আর কোথায়? বলুন তো কোন ভাষায় আপনি হিন্দি সিনেমায় একটি শব্দ শুনলেন “ফেকনা”, জানলেন এর মানে ঢপবাজি, ভালো তে অনৃতভাষণ, আপনি অফিসে জুনিয়রকে সার্টিফাই করলেন ও খুব ভালো ছেলে। আর রাত্রে মালের আড্ডায় বন্ধুকে প্রাণের আনন্দে বলে উঠলেন

“আরে শালা ওই মদনের কথা বাদ দে। ও মালটা ফেকোলজিতে ডক্টরেট করা ঢপবাজ”

বন্ধুর হাসিতে গড়িয়ে পড়া দেখে জুড়ে দিলেন “তাও আবার ফেক ঢপবাজ”। কারন আপনার তক্ষুনি মনে পড়ে গেছে ইংলিশে একটা শব্দ আছে ফেক, এর সাথে দারুণ জমে তো।

কোন ভাষা একই সাথে এত মেধাবী ও মজার। একই সাথে এত স্বতন্ত্র ও উদার। একই সাথে এত ঋজু ও নমনীয় যে এক বাক্যে দস্যু পর্তুগীজ এর সাথে বেনিয়া ইংরেজ তার পাশে গোঁড়া ফার্সী তার পাশে মৃত সংস্কৃত আর শেষে নবাবী উর্দ্দু রেখে সবটাকে বাংলা বাক্য বানিয়ে নেয়??

“যেন গায়ে একটা দরজা পরে আছে কলিং বেল সহ শবনম, যাতে তর্জনী ছোঁয়ালেই বেজে উঠবে শানিত শান ও সৌকত”

এটা কি কোনোভাবে মনে হচ্ছে বাংলাত্ব কম আছে?

প্লিজ, ওই ভাষাশুদ্ধতার দোহাই দিয়ে আত্তীকরণকে বন্ধ করবেন না.. ওটি একটি ভাষাকে বাঁচায়, ঋদ্ধ করে।

+

ছবিসূত্র:
শীর্ষ ছবি: Kunalrks, CC BY-SA 4.0, via Wikimedia Commons

1 Comment

  1. Well said. Very good.

Leave a Reply