ও. হেনরির ‘মেমোয়ার্স অফ এ ইয়েলো ডগ’—একটি  বিশ্লেষণ

ও. হেনরির ‘মেমোয়ার্স অফ এ ইয়েলো ডগ’—একটি  বিশ্লেষণ

‘মেমোয়ার্স অফ আ ইয়েলো ডগ’ মার্কিন ছোটগল্প লেখক ও হেনরির একটি সুপরিচিত গল্প। ও হেনরির আসল নাম উইলিয়াম সিডনি পোর্টার (১৮৬২-১৯১০)। ১৯০৩ সালে লেখা এই গল্পে, গল্পের শিরোনামের হলুদ কুকুরটি তার জীবন ও তার প্রভুর প্রতি তার ভালবাসা (এবং  প্রভুর স্ত্রীর প্রতি তার অপছন্দ) বর্ণনা করে।

এই গল্পে পুরুষ এবং তার স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের চেয়ে মানুষ এবং কুকুরের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী – এমনটা যেন বোঝাতে চায়। মেমোয়ার্স অফ এ ইয়েলো ডগ’ আমাদের চার-পেয়ে বন্ধুদের নিয়ে একটি ক্লাসিক ছোট গল্প যেন।

গল্পটি নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী একটি হলুদ কুকুরের কথা বর্ণিত হয়েছে। কুকুরটি  তার জন্মের কোনও বিবরণ মনে রাখতে পারে না, তবে ব্রডওয়েতে একজন বৃদ্ধ ‘মোটা মহিলা’র কাছে বিক্রি হবার কথা মনে করতে পারে। এই মহিলা কুকুরটিকে নিয়ে হাসাহাসি করে এবং তার সাথে বেশ চতুরভাবে কথা বলে, ডাকে, ‘উম ওডলুম, ডুডলাম, উডলাম, টুডলাম, বিটসি-উইটসি স্কুডলামস’ ; সে তাকে ‘লাভি’ বলে ডাকে।

কুকুরটি আমাদের বলে যে, সে একটি পূর্ণ বয়স্ক কুকুরে পরিণত হওয়ার সময় সে লেবুর বাক্সের সাথে ক্রস করা একটি অ্যাঙ্গোরা বিড়ালের মতো ছিল এবং সে মহিলার সাথে তার ফ্ল্যাটে থাকতেন। মহিলা তার স্বামীকে কুকুরটিকে প্রতিদিন সন্ধ্যা বেলায় বেড়াতে নিয়ে যেতে বাধ্য করছিলো।

মহিলাটি দিনের বেলায় যা করে কুকুরটি তার প্রতি অবজ্ঞা করে। একদিন সন্ধ্যায় তাদের প্রতিদিনের হাঁটার সময়, কুকুরটি মহিলার স্বামীর প্রতি সমবেদনা জানানোর চেষ্টা করে, তাকে বলে যে, অন্তত তার স্ত্রী যেভাবে কুকুরটিকে চুম্বন করে, সেভাবে সে চুম্বন করার চেষ্টা করে না। এই কারণে সে খুশি আছে – এটা জানায়।

কুকুরটি হলওয়েতে বসবাসকারী ট্যান-টেরিয়ার জাতের অন্য একটি কুকুরের সাথে তার কথোপকথনের কথাও বলে। সে অন্য কুকুরটিকে জিজ্ঞেস করে, কিভাবে তার মালিককে এত খুশি দেখায়। কালো কুকুরটি তাকে বলে যে, তার মাস্টার তাকে প্রায়শই সেলুন বারে নিয়ে যায়, যেখানে সে (তার মালিক) মাতাল হয়।

পরদিন সন্ধ্যায়, তার মাস্টারের সাথে বাইরে যাওয়ার সময়, সে একটি সেলুনের বাইরে থামে এবং দরজায় আঁচড় দেয়। ইঙ্গিতটি কাজ করে, এবং স্বামী ভিতরে যায় এবং স্কচ হুইস্কিতে মাতাল হওয়ার জন্য এগিয়ে যায়। অসংখ্য পানীয় পান করার পর, কুকুরটি যা বলতে চাইছে তা স্বামীটি বুঝতে পারে এবং ঘোষণা করে যে, তারা দুজন পালিয়ে যাবে, স্ত্রীকে ছেড়ে রকি পর্বতে একসাথে বসবাস করবে। স্বামী কুকুরটিকে বলে যে, সে এখন থেকে তাকে ‘পিট’ বলে ডাকবে—এমন একটি নাম হলুদ কুকুরটিকে অত্যন্ত খুশি করে।

ও. হেনরির গল্পগুলি বিদ্রুপ এবং আশ্চর্য সমাপ্তির কারণে নন্দিত এবং  তাদের অনুভূতিশীলতার জন্যও।

এটা সত্য যে শেষের দিকে গল্পটির কিছুটা আশ্চর্যজনক বিকাশ ঘটেছে, যেখানে মানুষ এবং কুকুর একসাথে পাশাপাশি ছুটে যাচ্ছে, কিন্তু এটি একটি সম্পূর্ণরকমের ‘টুইস্ট’ নয়। এটা আসলে আগে যা হয়েছে তার থেকেই একটি স্বাভাবিক পরিণতি। একইভাবে, গল্পটি যেন ও. হেনরির অন্যান্য বিখ্যাত গল্পগুলির তুলনায় অনেক মাত্রায় কম আবেগ-প্রবণ। অন্যান্য গল্পে মানুষের সহানুভূতি এবং প্রেম প্রায়শই গল্পের ‘বার্তা’র একটি মূল উপাদান, কিন্তু এখানে নয়। তার পরিবর্তে, ‘মেমোয়ার্স অফ এ ইয়েলো ডগ’ এমন কি বলা যায় রীতিমতো আবেগ-বিরোধী। আবার এর কুকুরের ভাষ্যে কথোপকথন বর্ণনার শৈলিটাও যেন অন্যরকম। ও. হেনরি, গল্পের শুরু থেকেই, তার কুকুরকে সূক্ষ্মভাবে একটি আমেরিকান চরিত্রের,  বুদ্ধিমান, দ্রুত কথা বলা প্রাণী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আগ্রহী, যেটি রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর প্রাণীদের ‘স্টক-আপ’ শৈলির বিপরীতে স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়।

‘মেমোয়ার্স অফ এ ইয়েলো ডগ’-এর কথক কুকুরটি নিজেই তার দৃষ্টিভঙ্গিতে আবেগ-বিরোধী। অতিরিক্ত ওজনের স্ত্রী-এর দেওয়া সুন্দর নামগুলি সে অপছন্দ করে । যখন স্বামী তাকে পিট নামকরণ করে, তখন আবার সে আনন্দে লেজ নাড়ায়।

ও হেনরি (উইলিয়াম সিডনি পোর্টার)

 

ছবি: ব্যবহৃত ছবিগুলি প্রতীকি চিত্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। 
মুল সংবাদের সাথে এদের সরাসরি যোগাযোগ না-ও থাকতে পারে।
Daderot, Public domain, via Wikimedia Commons
Daderot, CC0, via Wikimedia Commons
Darryl Pearson, CC BY-SA 4.0, via Wikimedia Commons
W.M. Vanderweyde, New York, Public domain, via Wikimedia Commons

1 Comment

  1. ধন্যবাদ একটি রূপকধর্মী সুন্দর গল্প- বিশ্লেষন উপহার দেয়া জন্য।

Leave a Reply