Photo By: Bruno Ramos Lara | Unsplash

তিনটি কবিতা

ভ্রমণ

কক্সবাজারে আগেও এসেছি। আমার এক আর্টিস্ট বন্ধু থাকে কক্সবাজারে।
ভিন্ন গ্রহের প্রাণীর নামে নাম। একটার পর একটা হোটেল সমুদ্রের পাড়ে।
ওর মারমেড নামে একটা ক্যাফে আছে। আমেরিকা, রাশিয়া, জাপান থেকে প্রচুর পর্যটক আসে।
+
সস্তা হোটেলের সংখ্যাও অনেক। সারি সারি দোকান, রেস্তোরাঁ।
এখানে একটা দারুণ সাজানো বাজার আছে পর্যটকদের জন্য।
উঁচু উঁচু আকাশ ছোঁয়া হোটেলের ছড়াছড়ি।
দু-এক বছর পরপরই এই জায়গার স্কাই লাইন দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
+
কানে সামুদ্রিক কোলাহল বুকের মধ্যে দু-এক পশলা আয়েশি সব দুঃখ পুষি।
আমাদের হোটেলটা ছিল সমুদ্রের খুব কাছে সমুদ্রের শব্দময় হৃদয়। দামী হোটেল।
পাঁচ মিনিটেরও কম পায়ে হাঁটা পথ। আমার এমনি যাওয়া এমনি আসা।
সমুদ্রের ঢেউয়ে-ঢেউয়ে কখন যেন বেলা নুইয়ে পড়ে।
দামী হোটেলের ঘরের মধ্যে পেচ্ছাব-গোসল করার জায়গা থাকে
এ হোটেলে তা ছিল। তাই সুবিধা ছিল হোটেলের বাথরুম ¯িøপারগুলি পর্যটকদের পা।
রাতে মারমেড থেকে হোটেলে ফেরার সময় এই কথাই ভাবছিলাম।
+
+

শহরের বনলতা

ভোর হয়েছে কিন্তু একে যেন ভোর বলে না বলা যায় না একে দিন
রৌদ্র নিছক অ্যালুমিনিয়ামের মতো ধাতব!
দুপুর আকাশ থেকে গাঢ় তামা রোদ কলাবাগানের ধান-লেকে ভেঙে ভেঙে পড়ে।
+
সকলেই জানে ছয় বাই আটাশের কলাবাগানে হাওয়া খেলে না। তবুও বলতে হয়,
জানালাটা খুলে, ‘আহা কি আরাম বলো, এটুকু আকাশ ছাড়া, বাঁচা যায় কিসে?’
সেখানে কৃপণ রোদে শুকায় কাপড়। জানালা দিয়ে রোদ উঁকি দেয়-সংসারের অন্তঃপুরে।
মনের কন্দরে। কবে বন্ধ দরজা খুলে গিয়ে উদার হাওয়া ঢুকবে, তা আজও অনিশ্চিত!
বন্ধ দরজা খোলার জন্য কোনো চিচিং ফাঁকের কায়দা নেই।
+
শহরের চাদ্দিকে আতংক ডাস্টবিনে ভেসে ওঠে ময়লা ছবি।
আর ঘৃণ্য অনেক চোখ সরল গ্রাম্য যুবতীর চোখে
বিষাক্ত বাতাস বয় বিষণ্ণ শরীরে। বাতাসে বিষাক্ত বিষ, আর হাহাকার।
+
আমার নিদিষ্ট ঘরে অশরীরী অরণ্যের ছায়া- ছাদের কার্নিশে বাড়ে জীর্ণ বটগাছ
সম্মুখে পিছনে নগ্ন ক্রুর যাদু হাত অন্ধকারে প্রিয়-সুখ বিভীষিকাময়।
ওই জানালার কাছে বসে আছে করতলে রেখে মাথা। শহরের বনলতা।
মানসিক চাঞ্চল্যে জেরবার মনে হয়। সূর্য পতনের আগে মন শুধু উৎকণ্ঠিত করে।
+
+

লাল কঙ্কাল

ভাঙা আরশিতে মুখ দেখার স্বভাব এখনও আছে। যখন বউটা বেশি উতলা হয়, বেশি ঘর-বার হয়,
তখন আরশি নিয়ে দাওয়ায় বসে গোঁফ টেনে টেনে বড় করি। জীবন দর্পণের দাঁড়ি টানি।
হাজা-মজা মুখটার দিকে তাকিয়ে ভেংচি কাটি। বলি, বাহবা : বাহবা : তোমার যোয়ান কি তবে গেল রে।
শক্তি, সামর্থ্য, ক্ষমতা কিছুই তো আর নেই এখন। এখন আর ওসবের সময় নেই।
তোমার বউ এখন ঘর-বার হলো রে। বাহবা : বাহবা :। আরশির মুখটা তখন ভেংচি কাটে,
আয়না মিথ্যা কথা বলে না। বলে মরো, মরো, মরো। সব দিন এক সমান নেহি থা।
+
আমার শরীরটা কঙ্কাল আছে, লাল কঙ্কাল। আমার কঙ্কাল দোসরা কঙ্কাল খুঁজতে যাচ্ছে।

4 Comments

  1. সুন্দর ❤️

  2. অনন্য অসাধারণ

  3. হুম, বেশ।

  4. আমার শরীরটা কঙ্কাল আছে, লাল কঙ্কাল। আমার কঙ্কাল দোসরা কঙ্কাল খুঁজতে যাচ্ছে।খুব সুন্দর হয়েছে

Leave a Reply