ব্রাজিলিয়ান ভাস্কর জুয়াও তুরিন স্মরণে পারানায় ভাস্কর্য পার্ক

ব্রাজিলিয়ান ভাস্কর জুয়াও তুরিন স্মরণে পারানায় ভাস্কর্য পার্ক

১৯২০ সালের পারানিজম আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব প্রয়াত ভাস্কর্য শিল্পী জুয়াও তুরিনের (João Turin) স্মৃতি ও কর্ম নিয়ে জন্ম শহর পারানায় গড়ে তোলা হচ্ছে ভাস্কর্য পার্ক।

১৯২০ সালে দক্ষিনপন্থী প্রেসিডেন্ট জে বলসোনা্রো (Jair Bolsonaro) পারানার রেই্ন-ফরেস্ট ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিলে তুরিন প্রতিবাদী আন্দোলন গড়ে তোলেন। তিনি ছিলেন আদিবাসী জীবন ও প্রকৃতি সংরক্ষণের একজন বড় ক্যাম্পেইনার। প্রাণী-ভাস্কর হিসাবে তার খ্যাতি জগত জোড়া।

জুয়াও তুরিনের শিল্পকর্মের স্বত্বাধিকারী ব্রাজিলিয়ান ব্যবসায়ী সামুয়েল লাগো বলেন, এই পার্ক প্রকৃতি রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার প্রেরণা যোগাবে।

সামুয়েল ল্যাগো (Samuel Lago) ভাস্কর্য পার্কটি নির্মাণের দায়িত্ব নিয়েছেন।

তুরিনের জন্ম ১৮৭৮ সালে ব্রাজিলের পারানা প্রদেশের পোর্ট ডি চিমায়।ছেলেবেলায় চলে যান চুরিতিবা শহরে; এবং কাঠুরে এবং কামারের কাজ করেন।

১৯০৫সালে ব্রাজিল সরকারের বৃত্তি নিয়ে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস আর্ট একাডেমিতে যোগ দেন। এবং ১৯১১ সালে প্যারিস ভ্রমণ করেন। ইউরোপে থাকাকালে ভিক্টর ব্রেচেরি (Victor Brecheret) ও তুলো মুগনেনি (Tulio Mugnaini) মতো ব্রাজিলিয়ান শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেন।

ইউরোপে থাকাকালে তিনি ফরাসি প্রতীকধর্মী শিল্প দ্বারা প্রভাবিত হন।
দেশে ফিরে প্লাস্টার ও ব্রোঞ্জে শতাধিক ভাস্কর্য নির্মাণ করেন; যেগুলোর প্রতিপাদ্য ছিল আদিবাসী জীবন ও বন্যপ্রাণী। ১৯৪৯ সালে এই বিশ্বখ্যাত প্রাণী-ভাস্কর মারা যান।

সামুয়েল ল্যাগো মনে করেন, এই পার্ক তুরিনের ভাস্কর্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখবে; এবং ব্রাজিলের প্রকৃতির প্রতি জনসাধারণকে সহানুভূতিশীল করে তুলবে।

নির্মাণাধীন সাও লরেনকো পার্কের প্রধান ফটকে বসানো হচ্ছে তুরিনের বানানো ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের ধাতব ভাস্কর্য ‘মারুম্বি’। এতে আছে দ্বন্দ্ব-রত দুটি জাগুয়ার।

পার্কে স্থান পাবে তুরিনের ৭৮ টি ভাস্কর্য; যার মধ্যে ডজন-খানেক বসানো হয়ে গেছে। মার্চের শেষে পার্কটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

তুলট ডেস্ক।

ছবি সূত্র :
১) Gi.te63, CC BY 3.0, via Wikimedia Commons
২) Mathieu Bertrand Struck ([email protected], CC BY-SA 2.5, via Wikimedia Commons
৩) gi.te63, CC BY 3.0, via Wikimedia Commons

3 Comments

  1. ধন্যবাদ। লেখাটি সুন্দর ও ঐতিহাসিক তথ্য সমৃদ্ধ। পড়ে ভাল লাগল।

  2. অসাধারণ লেখা, ইতিহাস মানুষকে ভবিষ্যৎ ও বিগত দিনের সেতু বন্ধন করে।

  3. লেখা টিকে পড়ে ভালো লাগছে।

Leave a Reply