মেট্রোপলিটান। জানুয়ারি,২০২০

মেট্রোপলিটান। জানুয়ারি,২০২০

কেদারনাথ রোড দিয়া রাত্তিরে হাঁটবার অবকাশ নাই। তবে, আজকাল হাঁটা যাইতেসে । এর সঠিক কারণটা ভাবতে ভাবতে আমি আমার লক্ষ্যের দিকে আগাই, বাস স্ট্যান্ড যাবো। প্রতি রাত্তিরেই- আমি এমন যাই। কেদারনাথ মেইনরোড কতগুলো শাখায় ভাগ হয়ে যাবার মাথায় আমার বাড়ি। এরপর দীর্ঘ সুনসান আবাসিক টাইপের রাস্তা- কালিবাড়ি বাজার আর, রেলিগেট স্ট্যান্ডকে ধইরা রাখসে।

এই রাস্তাটা প্রাচীন। অনেক আগেকার।

শোনা যায়, এই কেদারনাথ রোডের পেট বরাবর ছিলো এই এলাকার জমিদার বাড়ি। অনেক আগেকার ব্যাপার। তখন এই রোড দিয়ে হাঁইটা যাইতে হইলে- পায়ের জুতা হাতে নিয়া হাঁইটা যাওয়া লাগত।

ছাতি মাথায় কেউ জমিদার বাড়ি ক্রস করতে পারত না। আর, জমিদার বলতেও যেন তেন জমিদার তারা ছিলো না। এলাকার কালিমন্দিরের প্রায় তিনশ বছরের পুরাতন ব্রোঞ্জমূর্তির কর্তৃত্ব, মা কালীর নামে প্রতিষ্ঠিত বাজারের টোল- সকলই সেই জমিদার বাবুদের সম্পত্তি ছিলো। নিচু জাত হিন্দু মুসলমান যারা ছিলো- এদের জন্য নিয়ম ছিলো আরোও কড়া। প্রায়ই নাকি ধইরা ধইরা তাদের মাথা মুড়ায়ে দেয়া হইত। নানান রকম সুররিয়াল কল্পিত অপরাধে। ইনারা এতই ক্ষমতাবান ছিলো, এই লোকালয়ের কেন্দ্র-স্বয়ং কালীমন্দিরের নগ্ন কালীমূর্তিরেও তারা নিজেদের নয়া এসথেটিক্সের মূর্তি দিয়া বদলায়ে দিতে চাইসিলো। যদিও পরে, স্বয়ং কালী নিজে জমিদারবাবুর স্বপ্নে আইসা – হুমকি ধামকি দেয়ায়, উনি এ সাহস আর করেন নাই। ওনার নিজের নতুন কালীমূর্তিরে উনি- নিজ বাটীর সাথে এটাচ মন্দিরে স্থাপন করেন, এবং পরে কালক্রমে সেখানে একটা ঘরোয়া পূজা চালু করেন। জমিদারবাবুরা নাই। সেই মন্দিরটা আছে। আর তাদের ভাঙ্গা দালানে এখন তাদের প্রেত ও এলাকার ইন্টার্ন গাঞ্জুইট্টা পোলাপান আড্ডা মারে, একলগে  মহাকাশ ভ্রমণে যায়।

জন্মগত সুত্রে জমিদারের এলাকা হওয়াতেই বোধহয় – খুলনার নগর বাড়ানোর একটা ফেইজে এইখানে জমি কেনা শুরু করে অবস্থাপন্ন মানুষেরাই, আর এখন – কেদারনাথ রোডের দুই পাশ জুড়ে, শুধু বিংশ শতাব্দীর পয়সা-অলা লোকেদের বিচিত্র আবাস-বিল্ডিং সার দিয়া দিয়া দাঁড়ায়ে আছে। আমার মনে আছে, আমি যখন ছোটো – এই রোড দিয়া মেইনলি ভ্যান চলতো। পায়ে টানা ভ্যান। চাইরজন লোক, পার হেড এক টাকা ভাড়া। আর, চলতো রিকশা- কালিবাড়ি বাজার যাইতে হইলে, দরদামহীন ভাড়া পাঁচটাকা।

এই আরামে প্রথম বিবাদ ঘটাইলো – আক্কারার কাল। বাংলাদেশের সরকার চেইন্জ হবার আগ আগ দিয়ে, তত্ত্বাবধায়কের আমলে, ভাড়াটা একটু বাড়াইতে বাধ্য হইলো ভ্যান-অলারা। কারন, এক ট্রিপ চার টাকা কইরা কয় দিন আর! চাইলের কেজি তখন চল্লিশ টাকা ছাড়াইসে- দুই টাকা পার হেড ভাড়া হবার পর, রিকশার লগে ভ্যানের একটা অদৃশ্য কম্পিটিশন লক্ষ্য করা যাইতো। তাও, অতটা প্রকট না। কিন্তু, লোকে ঠিকই রিকশায় বেশি যাওয়া শুর করলো। এই সুযোগে রিকশাও ভাড়া বাড়ানোর একটা ট্রাই মারলো – ভাড়া, জনপ্রতি সাত টাকা। একটা আলগা আবদারের মতন- প্রথমে, পরে ধীরে ধীরে এই দরটাই যেন নিয়ম, এমন ভাব করে – রিকশার ভাড়াও গেলো বেড়ে। এইদিকে, ভ্যানের ভাড়া কম থাকায় – লোকজন দল বাইন্ধা আবারও ভ্যানে ব্যাক করলো। তখন, আরেক ক্যাচাল। দুর দুরান্তের লোকজন, পিচ্চি- জোয়ান- বুড়া গণহারে যত মালপরিবাহী ভ্যান, ভাঙারি বিক্রির ভ্যান- সবাই যাত্রী টানার এক মোক্ষম সুযোগ চোখের সামনে দেখায় – সবাই-ই লাফঝাঁপ দিয়ে- যে যার মতন ভ্যানে লোক নেবার ট্রাই মারায় রেলিগেট আর, কালিবাড়ি দুই জায়গাতেই ভ্যানস্ট্যান্ড তৈরী করা হইলো। সিরিয়াল-রুল-ভাড়া-নিয়ন্ত্রণ-সমিতি … যা যা আছে, লাইন দিয়ে দাঁড়ায়ে গ্যালো। রেলিগেট দিয়া তখন নামতে গেলে মনে হইতো উৎসব লাগসে কোনো। সারিসারি ভ্যান দাঁড়ানো। সিরিয়ালে । আর, ভ্যান অলারা গল্পসল্প করতেসে। নিজেরা- যেন ঐ জায়গাটা ওরাই ওউন করে।

বলা বাহুল্য, কোনো ব্যালেন্সই বেশি দিন টিকে না। আম্লীগ সরকার বিদ্যুতের নিয়মিত সাপ্লাই দেবার নিশ্চয়তা পাবার পর পরই, একটা নতুন জাতের বাহনের আমদানি হইতে লাগলো । কেউ কয় অটো, কেউ কয় ইজিবাইক। আবার, ইলেক্ট্রিসিটিতে চলা মেশিন – যেইটা দিয়া ভ্যান চালানো যায়, এমন যন্ত্রেরও আবির্ভাব হলো। এলাকায় যারা নতুন নতুন ভ্যান চালাইতো- আর, মোটামুটি পয়সাপাতি আছে- এরা, সেই মেশিন লাগায়ে নিলো, ভ্যানে- রিকশায়। গতি বাড়লো। বিপদে পড়লো মৌলিক বুড়া ভ্যান অলারা। উনাদের টাকা নাই। ফলে আমরা প্রায়ি বুড়া ভ্যান অলাদের লেফট আউট অবস্থায় এদিক সেদিক অইড়া থাকতে দেখতাম। বিষণ্ন লাগতো। এই দ্বৈরথ, অনেকদিন চলসে।

এইভাবেই দিন আগাইসে – কোনো দিনই, সময় সিচুয়েশনই – স্থির না। অদৃশ্য প্রতিযোগিতার মতন- এই
কেদারনাথ রোড জুইড়া উচ্চগতির ভ্যান, শোড়োগোল – গভীর রাতের লোকদের বাড়ি ফেরার শব্দ, ক্যাচাল, অলস চা ইত্যাদি দিয়া আমাদের গল্প ভরা থাকতো। যদি না হঠাৎ, হুট কইরা আমাদের নগর পিতা ইন্জিন ভ্যানগুলিরে নিষিদ্ধ কইরা- আর, অটোগুলিরে রেগুলেট কইরা খুলনাটাকে একটা শেইপে আনার চেষ্টা না করতেন।

খুলনা শহরে হঠাৎ হুলিয়ার মতন জারি হইলো নতুন আইন। মেট্রোপলিটানে কোনো তিন চাকার গাড়ি- যেগুলার হাইড্রলিক নাই- তারা চলবার পারবে না। পাবলিক সেইফটি, নগরের সৌন্দর্যের কথা চিন্তা করলে – ঠিকই ছিলো – কিন্তু, খুলনার একটা বেশ বড় অংশ এগুলি চালায়াই খায়। বাঁইচা থাকে। সো, নগরপিতার জন্য বিষয়টা সোজা হইলো না। কয়েক দফা স্ট্রাইক হইলো। কিছু ত্যাড়া ভ্যান-অলা, গোঁ ধইরা বইসা থাকলো রেলিগেটের মোড়ে। বাড়ি ফেরত যাবে না।

তবে, সবই প্রায় সোজা হইতে বাধ্য হইলো যখন পরপর কয়েকদিন পুলিশ নির্বিচারে কতগুলা ভ্যান রিকশা চোখের সামনে টুকরা করে ফেললো, চল্লিশ হাজার টাকার একটা জিনিস যদি চোখের সামনে টুকরা হয়ে যায়, যার আবার দাম শোধ করার জন্য এখনও কিস্তি দেয়া লাগে- জিনিশটা তো সোজা হয় না। এছাড়া, বাসিন্দারাও অতোটা ভালোমানুষ না। ইন্জিন ভ্যানে ক্যাচাল- মানুষ নেমে অটো ফটো- সহ, নানান জিনিসপাতিতে আবার চলা শুরু করলো। কেউ কেউ হাঁটা ধরলো। ছোটোপথ, মাত্র দেড় কিলো কি তার একটু কম-বেশ। কতক্ষণই বা আর লাগে! আর, এইদিক-রাস্তায় একা দাঁড়ায়া থাকতে থাকতে, গ্যারেজ থেকে গাড়ি বাইর করাই বন্ধ হবার জোগাড়, এভাবেই সব কিছু ঝিমায় আসে কেদারনাথ রোডে। কারোর কোনো মাথা ব্যথা নাই। দুয়েকটা ইন্জিন-হীন বুড়া চালক, প্রাগৈতিহাসিক কালের মতন শুধু দাঁড়ায়ে থাকে। রেলিগেটরে এইসময় আর চেনা যাইতো না। মনে হইতো, কে জানি মারা গেছে, এইখানে, বড় কেউ।

তখনই, বিষয়টা ঘটলো। কেদারনাথ রোড, রাতে যেহেতু কোনো ভ্যান থাকতো না, সেই আবার, আধাভৌতিক কাঁপা কাঁপা কুয়াশার বিষণ্ন চেহারা ফিরত পাইলো। সেইসাথে বাইড়া গেল, একটা নতুন উপদ্রব, কুকুর।

প্রথমে অনেকেই বিষয়টা এড়ায়ে গেছে, গুরুত্ব দেয় নাই। কুকুর তো খুব স্বাভাবিক বিষয়। যতদিন না, মুল শহরের এক সেলসম্যান হেঁটে ফেরত আসার পথে, তারে – একপাল (তার গোণা মতে ষোলো সতেরটা) কুকুর দফায় দফায় আক্রমন করে, আর, তারে মেডিকেলে ভর্তি করা লাগে। দেখা গেল, যে-ই রাতে একা একা হেঁটে যায় – কুকুরগুলো তারেই দাবড়ায়, নাকানি চুবানি খাওয়ায়ে ছেড়ে দেয়। সাড়া রোডে তিন ভাগে ভাগ হয়ে তিন পাল কুকুর- সারা রাত আক্রোশে দাঁত মুখ খিচায়ে ঘোরে, যেন, প্রত্যেকটা মানুষই কোনো দুষ্টু লোক নিশ্চই, এরা তার অদৃশ্য কোনো প্রভুর বাড়ির আঙিনায় চুরি করে ফিরত যাচ্ছে।

দিনের বেলা এই কুকুরগুলো কই থাকে কেউ জানে না, বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন বাড়ি অথবা, কোনো আঙিনা- একটু দুরের কোনো জঙ্গল, জানে না কেউ সঠিক!

মেট্রোপলিটানের লোকেরাও কয়েকদিন কুকুর মারা গাড়ি নিয়া টহল দিয়ে গেছে, তাও, এই কুকুরের পাল যেন ম্যাজিক, কোনো এইজ-ওন্ড-হুমায়ুনীয় ভূতের গল্প। এই কুকুরগুলো, এলাকার মিথগুলোকে রিভাইভ করতে শুরু করলো। বিশেষত, যেইসব মিথগুলো কালীমন্দিরের সমান পুরানো, আর, ইলেকট্রিসিটির সাথে সাথে বিলুপ্ত হইসে। অইসব মিথগুলো। সেইগুলো। কুকুরগুলা, মানুষ আক্রমন করেই যদি থামতো, তাও হইতো, এরা সারারাত প্রত্যেক রাস্তা সংলগ্ন বাড়ির সামনে সামনে টহল দিয়ে দিয়ে সারারাত ধইরা কাইন্দা বেড়াইতে লাগলো। এলাকার রমনীরা আগে, শুধু ভয় পাইতো তার স্বামী-পুত্র ঠিকঠাক ফিরত আসবে কিনা, পরে, আস্তে আস্তে সারা রাতের ঘুমও যখন হারাম হওয়া শুরু হল, এর প্রভাব দেখা যাইতে লাগলো পুরা এলাকার টোটাল কাজকামেই। দেখা গেল, কম বয়সী অভিভাবিকা, যার কিনা ছেলেরে সকালে ফ্কুলে নিয়ে যাবার কথা, সে ঘুমায়ে আছে, পাঠায়ে দিসে ছেলেরে একা। এই নিয়া শাশুড়ির সাথে ক্যাচাল। সংসারে অশান্তি । খুব ছোট্ট একটা পেরেক, অথচ, ভীষণ জং ধরা- যেন ফুটে গেল, পুরা এলাকার পায়ে।

আমি, আমার মতন নিতান্ত দরিদ্র মানুষও রাতে এলাকা এডায়ে চলা শুরু করলাম। বাসায় যাওয়া ঝামেলা ইত্যাদি বলে, কাজকামের অইখানেই বেড়াছেড়া কইরা থাকা শুরু করলাম, আমার জীবনে এর ইম্প্যাক্ট হইলো- আমার বোনরে আমি ফিজিক্স পড়াইতে পারলাম না। এসএসসিতে তার পার্ট টাইম টিচার গিরির যে আশ্বাস তারে দিসিলাম, এইটা তার, আমার ওপর একটা হালকা অভিমানের জন্ম দিলো। আমার আম্মার আমার প্রতি- কথার টোনও বদলায়ে গেল, যেন আমি আমেরিকা থাকি। এমন ভাবেই, প্রত্যেকটা মানুষেরই- জীবনের ছোটো ছোটো ইম্প্যাক্টে পুরা এলাকাতে ছড়ায়ে পড়তে লাগলো অশান্তি, কালীদেবীর প্রাচীন শাপ- যেন, তারে স্থানচ্যুত করা হইসে।

যদিও এইবার সে স্বপ্নে দেখা দিলো না। কেবল, দেখলাম কালিবাড়ির ভিতর বাজারে কিছু নতুন নারী পুরুষ পাটশাক তুলে এনে বেচতেসে সকালে, আর, কতগুলি দুর্বল ঝাঁপি ধরা পিঠা আর, পাপড়ের দোকান। এরা সবাইই এক্স-ভ্যান রিকশা চালকের পরিবার সম্বন্ধীয়, যদিও, এদের ব্যবসার ধরন অতোটা স্ট্যাবলও ছিলো না। বোঝাই যাইতেসিলো, পাত্তাড়ি গোটাইতে হবে দ্রুতই। স্পেইসের অভাব, আর, হাস্যকর এক আঁটি শাক আট টাকা মুল্যে কতক্ষণ আর, কয়টা পেটই বা চলবে… !

এইদিকে চুরিও বাড়তেসিলো।  হুটহাট কোনো কোনো বাড়িতে দিন দুপুরে খুব ন্যুব স্টাইলে ডাকাতির কথাও চাউর হয়ে পড়লো।

এলাকাতে ক্ষমতাবান লোকের অভাব নাই। তারা গাড়ি নিয়া চলাফিরা করেন। ব্যবসায়ী, প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, পলিটিশিয়ান-প্রমুখ, যারা মেইন রেসিডেন্ট – বাড়ির মালিকেরা, তাদের কানে তোলার পর, অবশেষে, এক জুম্মা-বাদ মসজিদে এই সকল সমস্যা নিয়া বসার সিদ্ধান্ত হইলো।

জুম্মার ইমাম, এলাকার কমিশনার সহ, সকল হোমড়া চোমড়া ব্যক্তিই একসাথে বসে একমত হইলো এই অনিয়ন্ত্রিত বেড়ে যাওয়া কুকুর, এই, সংখ্যাগত বাইড়া ওঠা চোর – এইগুলা, নিশ্চয়ই রিলেটেড-

এবং, এগুলারে নিয়ে অবশ্যই- গভর্নমেন্টের উচ্চপদস্থ কোথাও অভিযোগ করে, উপযুক্ত সেট-আপ নিয়ে বাইর হইতে হবে। খুলনা মেট্রোপলিটান পুলিশের নিকটস্থ ফাঁড়ি থেইকা যেই বেবিট্যাক্সি কইরা টহল দেয়া হতো – সেটা বদলে, একটু আধুনিক- একটু ভয়াল দর্শণ গাড়ির এরেঞ্জমেন্ট করা হলো। সাথে মেট্রোপলিটান থেইকা কুকুর মারা গাড়িও একটা।

এবং, কাজ হল। এরেবজমেন্ট থেকে বোঝা গেল, এদেরকে গভর্নমেন্ট বেশ সিরিয়াসলি নিসে। বর্তমান বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট কাউরে সমস্যা মনে করলে তার নিস্তার নাই। অবশ্যই নাই। বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট এই কুত্তা ও এক্স-ভ্যান শ্রমিকদের সমস্যা মনে করলো।

রাতে- হেঁটে আসতে আসতে আমার নিজেরও দুদিন দেখা হইসে এই টহলের সাথে। আমি আইডি কার্ড দেখায় ফিরত আসছি। অনেকেই আসতে পারে নাই-

যাইহোক, পুলিশের টিম ও কুকুর মারার টিমের উত্তরোত্তর বর্ধমান তৎপরতায়- এলাকার উপদ্রব কমতে শুরু করলো। কিছু লোক গ্রামের দিকে মাইগ্রেট করা শুরু করলো। আর, কুকুরগুলোর মৃতদেহ জমতে লাগলো, আমাদের অজানা কোনো ভাগাড়ে।

এলাকার মানুষের ভিতর, একটা দৃশ্যমান শান্তি ফিরত আসতে চাইতেসিলো, তাও- কই যেন একটা বিব্রতবোধ আছে। রাতে কুকুরদের আর্তনাদ, মাথায় বাড়ি মেরে স্কাল ফাটানোর শব্দ –

রাতের ভূতুড়ে ফাঁকা রাস্তা- ফগ লাইট জ্বলা পর পর দুটো ধীরে ধীরে চলা গাড়ি- এদের চাপা শব্দ, অনেকটা দুঃস্বপ্নের মতো- যেন, মানুষ- এই সব কিছুকে ভুলে যেত চাইতো খাবার টেবিলে। কারণ, সকালের তাড়ায়- এই ভৌতিকতা কমে আসে। স্কুলগুলো প্রা্ঞ্জল হয়ে ওঠে। তবু কোনো কোনো অলস বেকার, কিংবা, রাস্তায় লুকিয়ে ভিক্ষে করা বৃদ্ধা, অথবা, স্কুল ফিরত বাচ্চারা ভ্যান রিকশাহীন ছিমছাম রাস্তায়- জমাটবাধা রক্তগুলোর কালচে বিষণ্নতায়- হঠাৎ, থমকে দাঁড়ায় না?

.
.
.
Image by Tanjim A Rakib from Pixabay

12 Comments

  1. হুম, পুজিবাদি দুনিয়ায় অর্থ আর পেশী শক্তিই সব।

  2. ভালো লাগলো

Leave a Reply