রহস্যময় গুহা-শিল্পের অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাচ্ছে

রহস্যময় গুহা-শিল্পের অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাচ্ছে

বিশাল এক নেটিভ আমেরিকান অঙ্কন,  যা ১০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আলাবামা গুহায় অদেখা ছিল , সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের একটি দল সেটি উন্মোচন করেছে ৷ এটি উত্তর আমেরিকায় আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় গুহা-শিল্প।

গবেষকরা গুহাটিতে অনুসন্ধান না চালানো পর্যন্ত শিল্পটি কার্যত অদৃশ্য ছিল। কাজগুলি প্রকাশ করার সময় 3D স্ক্যান ব্যবহার করা হয়। অ্যান্টিকুইটি জার্নালে ৩ মে, মঙ্গলবার তাদের ফলাফল সমৃদ্ধ বিশদ একটি গবেষণা প্রকাশিত হয় ।

বড় শিল্পকর্মটি আলাবামার ১৯ তম ‘নামহীন’ গুহার ভিতরে অবস্থিত শিল্পগুলির মধ্যে অন্যতম। সাইটটিকে ভাঙচুর থেকে রক্ষা করার জন্য বেনামে রাখা হয়েছে। এটির অবস্থান প্রথম পাওয়া গেছিল ১৯৮৯ সালে। গুহার আঁটসাঁট সীমানাগুলি কাদা দিয়ে আঁকা বিস্তৃত শিল্পকে গোপন করে, দেখা প্রায় অসম্ভব, তাই এটি কারো চোখে পড়েনি। কিন্তু পূর্বকালে এই গুহা জুড়ে শত শত ছোট ছবি আবিষ্কৃত হয়েছে ইতিমধ্যে।

গুহাচিত্র। (নমুনা চিত্র হিসাবে এই চিত্র ব্যবহার হয়েছে। মূল সংবাদের সাথে এর যোগ নেই)

দৈত্যাকার ‘গ্লিফ’-গুলি অচেনা আত্মাকে চিত্রিত করে থাকতে পারে এবং হতে পারে এটি প্রথম খ্রিস্টাব্দের । গবেষণায় বলা হচ্ছে, এই শিল্পটি নেটিভ আমেরিকানদের বাইরের সংস্কৃতির মুখোমুখি হওয়ার আগে তৈরি ।

জান.এফ.সিমেক, যিনি দ্য ইউনিভার্সিটি অফ টেনেসি, ন্যাশভিলে বিজ্ঞানের একজন বিশিষ্ট অধ্যাপক, এবং তাঁর সাথে গবেষকদের একটি দল ২০১৭ সালে গুহার অভ্যন্তরীণ নথিপত্র তৈরি করার সময় প্রাথমিকভাবে বিশাল অঙ্কনগুলি দেখতে পান।

“আমরা জানতাম যে, গুহাটিতে নেটিভ আমেরিকানদের ‘মাড-গ্লিফ’ আছে, এবং সেগুলির ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণের জন্য তাই একটি 3D ফটোগ্রাম-মেট্রি ডকুমেন্টেশন প্রকল্প চালাচ্ছিলাম” সিমেক, প্রধান গবেষণা লেখক বলেন, “সাইটে সীমাবদ্ধ স্থানের কারণে গুহায় দাঁড়িয়ে শিল্প চিত্রগুলি দেখা যায় না।”

ফটোগ্রামমেট্রি প্রক্রিয়ায় কোনো কিছুর 3D মডেল তৈরি করতে হাজার হাজার ফটো তোলা হয়। এটি সাইটের একটি পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক রেকর্ড তৈরি করে; এবং এর ফলে গোপন আর্টওয়ার্ক উন্মোচনে অতিরিক্ত সুযোগ তৈরী হয়। দুই মাস মাঠের কাজের সময়কালে, দলটি ১৬,০০০ ছবি তুলেছে।

এই গুহায় এবং অন্যান্য সাইটগুলিতে ফটোগ্রামেট্রি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা নেটিভ আমেরিকান গুহা-শিল্প আবিষ্কার এবং পাঠ-করার উপায় পরিবর্তন করে; যার ফলে নকশাগুলি করার পিছনের উদ্দেশ্য এবং অর্থ বুঝতে সুবিধা হয়৷

গবেষকরা তাদের মডেল ব্যবহার করে গুহার ছাদ-কে ভার্চুয়াল মাধ্যমে উঠা-নামা করাতে সক্ষম হয়েছিল; এর ফলে বিশদভাবে গ্লিফগুলি অধ্যয়ন করতে এবং ক্রসহ্যাচিং প্যাটার্নের উপর ভিত্তি করে ডিজিটাল অঙ্কন করতে তাঁরা সফল হন। আবিষ্কৃত চারটি শিল্পকর্মে বিস্তৃত পোশাক পরা মানবসদৃশ চরিত্রর দেখা যায়।

তাদের মধ্যে একটি মানব-চিত্রে প্রসারিত বাহু এবং গোলাকার কাঁধ সহ একটি দীর্ঘ দেহ রয়েছে। এটি বিভিন্ন শৈলির বিভিন্নরকম লাইন দিয়ে তৈরি; মানুষের ধড় জুড়ে একটি জটিল নকশা খেলা করে, যা সম্ভবত এক ধরণের পোশাক বা রেগালিয়ার (ঝুল পোষাক) ধারণা দেয়। অন্য একটি লাইন চিত্রটিকে প্রতীকীভাবে পাথর থেকে উদ্ভূত হিসাবে দেখায়।

এই রহস্যময় চিত্রটি মূলত ঘূর্ণায়মান রেখা দ্বারা গঠিত, যার এক প্রান্তে একটি গোলাকার মাথা এবং অন্য প্রান্তে একটি সম্ভাব্য ‍গোঁখড় সাপের লেজ আছে।

অন্য একটি চিত্রে উপর থেকে প্রসারিত রেখা সহ একটি বর্গাকার মাথা রয়েছে, একটি আয়তাকার ধড় এবং একটি পা। বেশ কিছু মূর্তি-চিত্রে ধড়ের উপর একধরনের প্যাটার্ন বা স্যাশ দেখা যায়। একজনের একটি ত্রিভুজাকার মাথা আছে ,যার উভয় দিক থেকে ডিম্বাকৃতি আকার বের হচ্ছে, যা দেখতে কানযুক্ত যেকোনো পশুর মাথার মতো, তবে হাতগুলি স্পষ্টভাবে মানুষের হাতের মতই।

গুহাচিত্র। (নমুনা চিত্র হিসাবে এই চিত্র ব্যবহার হয়েছে। মূল সংবাদের সাথে এর যোগ নেই)

এছাড়া একটি আলাদা চিত্র একাধিক বাঁকানো এবং বক্ররেখা দিয়ে তৈরি, সাথে একটা লেজ আছে, এবং দেখতে একটি র‍্যাটল-স্নেকের মতো। কিন্তু গবেষকরা বলেন যে এটি কিসের প্রতিনিধিত্ব করে তা জানা যায় না।

পঞ্চম এবং বৃহত্তম চিত্রটি ডায়মন্ডব্যাক-র‍্যাটলস্নেকের মতো দেখতে এবং সেটি মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত ১১ ফুট (৩.৪ মিটার) লম্বা।

ডায়মন্ডব্যাক আমেরিকা জুড়ে পাওয়া বৃহত্তম ‍র‍্যাটল স্নেক, এবং এটি  দক্ষিণ-পূর্বে বসবাসকারী আদিবাসীদের কাছে পবিত্র ছিল।

 

ছবি: (ব্যবহৃত চিত্রগুলি নমুনাচিত্র মাত্র। মূল সংবাদের সাথে এদের যোগ নেই)
@ photo Luc-Henri Fage, www.fage.fr., Public domain, via Wikimedia Commons
Unknown authorUnknown author, Public domain, via Wikimedia Commons
Vaishali Bhadauriya, CC BY-SA 4.0, via Wikimedia Commons
Nikhil2789, CC BY-SA 3.0, via Wikimedia Commons

2 Comments

  1. Good information. Thanks

  2. ভাল লাগল।

Leave a Reply