১০ প্রকার বিরক্তিকর বাংলা কবিতা

১০ প্রকার বিরক্তিকর বাংলা কবিতা

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কবিতার বিরক্তিকর উপাদানগুলো কী কী?

আমার তালিকা :

১.
বাংলাসাহিত্যের ইতিহাস ও ছন্দ পড়ে আসা এনিমিক, মাত্রা-গোণা, পাকনা-মনস্ক ক্লিশের স্তূপ। কবিতার প্রথম লাইন পড়ার সাথে সাথে টের হয়, এক গামলা সেমাইর প্রথম চামচ খেলেন মাত্র। বাকিটা গলাধঃকরণ করবেন কি না, আপনার ধৈর্য।

উদাহরণ কি লাগবে?

২.
প্রাকরণিক ভাবে অনবগত, বাংলা কবিতার আনুপূর্বিক ঘটনায় বেখবর সম্প্রদায়। তাঁরা অবশ্য সব ‘ভেঙ্গে ‘ ‘নতুন কবিতা’ ‘ইনস্টিংকট দিয়ে’ লিখবেন বলে আত্মবিশ্বাসী।

[ধরা যাক কবির নাম হা, বা , বা, ল, ইত্যাদি। ]

৩.
দর্শনের প্রাথমিক কোন সমস্যার মধ্যে হাবুডুবু খাওয়া। যেমন, আপাত বাস্তব (apparent world) / প্রকৃত বাস্তব ( thing-in-itself) ।

সেটা ঝামেলা নয়।

ঝামেলা হলো , কোনো নতুন অর্থ-কম্পন তৈরির ব্যর্থতা, এবং এই দার্শনিক সমস্যাকে কবি জেনেছেন, ও বাতিকে আক্রান্ত হয়েছেন, সেই মাত্র আমরা খবর পাই পুরা কবিতা পড়ে।

[ধরা যাক, কবির নাম ই, হা, হা হা, ইত্যাদি]

৪.
সামাজিক-আর্থিকভাবে ব্যর্থ , চাকরি-হারা , বেতনে অসুখী , রাজনৈতিকভাবে হতাশ যুবকের/ যুবতীর রাগ। সে সবদিকে নিজের জামা, স্যান্ডেল, পানির বোতল ছুঁড়ে মারতে মারতে কবিতা লেখতে থাকে।

[কিন্তু তারাই, বিভিন্ন কারণে, সব থেকে সম্ভাবনাশীল গ্রুপ। উই মাস্ট লাভ দেম।]

৫.
সিনিয়র কবির নিজের পুনরাবৃত্তি। আগেও অগুরুত্বপূর্ণ কবিতা লিখেছেন। অনেকে পরিবার, স্ত্রী, পদমর্যাদা ইত্যাদি জড়িয়ে মিশিয়ে খুব সুন্দর সামাজিক, ফেসবৌকিক , টৈভিক সাফল্যে মেক-আপ করা বাঁচা বাঁচেন।

এদের অনেকের, আমার সন্দেহ, পায়খানার সাথে দুর্বোধ্য রক্ত যায়।

উদাহরণ নিষ্প্রয়োজন।

৬ .
উৎপল কুমার বসুর ভাঙ্গা রাস্তায় আত্মাহুতি ।
[যেমন, হা, রো, মা রা হো গা , ইত্যাদি]

এবং, রণজিৎ দাশের বাতিকগ্রস্ত প্রলম্বন ।
[কবির নাম, ধরা যাক, ই, মা,]

৭.
ঢাকাইয়া মৌখিকতা বা অপ্রমিত ভাষার ডায়রিয়ামূলক কবিতা। কিছুদিন আগেও যে-ভাষা অভিনব ছিল, তা গণ-ব্যবহারে ইতোমধ্যে ক্লিশেতে পরিণত ।

প্রমিতের চেয়েও সম্ভবত খারাপ অবস্থা এর এখন।

৮.
ব্রাত্য রাইসুর ভঙ্গির নকলকারীগণ।
বা, ব্রাত্য রাইসুতে শহীদ কবিকুল।

উদাহরণ কেউ চাইবেন না, জানি।

৯.
বানোয়াট ‘স্মার্ট’ কাব্য ।

তিরিশের দশকের তিরতিরে একটি ধারা ( শামসুর রাহমানের হাত ধরে আসা) বাঁক নিয়ে এসে মিশেছে তাতে ।

[ধরা যাক, কবির নাম আ, আ, জু, মা, ইত্যাদি]

১০.
“হায়, হে, আহা” -ওলা ভাষার কবি।
যেমন, হে ময়ূর! (বলার পর সংজ্ঞা হারাবেন কবি।)

.

‘তা দেখি কাহ্ন বিমণা ভইলা’
ড্রয়িং : মহসিন রাহুল

 

3 Comments

  1. মজা পেলাম। সমৃদ্ধ লেখা। ধন্যবাদ

  2. ধন্যবাদ। আপনার তালিকা টা নতুনদের কাজে লাগবে।

  3. শিরোনাম দেখেই পড়ার খুব আগ্রহ হয়েছে। দারুণ তালিকা বানিয়েছেন। সেমাই জাতীয় অনুভূতি মাঝে মাঝে আমিও টের পাই। প্রীতি ও শুভেচ্ছা রইল।

Leave a Reply