Profile Photo

Ahmed-FaruqOffline

  • Ahmed-Faruq
  • Profile picture of Ahmed-Faruq

    Ahmed-Faruq

    3 years, 9 months ago

    #গল্প_ফড়িঙ_জীবন
    ১ম পর্ব
    #আহমেদ_ফারুক

    ইদানীং অদ্ভুত কিছু স্বপ্ন দেখে হেলাল। রাতে ঘুম হয় না। অনেকগুলো গাঙপাখি, গায়ের রঙ হলুদ, ঝাঁক বেঁধে হেলালের দিকে ধেয়ে আসতে থাকে। অদ্ভুত তাদের মুখভঙ্গি। বিচিত্র তাদের শব্দ। ঘুম ভেঙে যায় তার। প্রায় একই রকম স্বপ্ন প্রতি রাতে। নির্ঘুম রাতের পর ক্লান্তি আসে শরীরে। কিন্তু ঘুমোতে পারে না সে। চোখের পাতা থেকে ঘুম যেন নির্বাসনে গেছে বহুদিন আগেই। ঘুমানোর বৃথা চেষ্টা করে হেলাল ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অদ্ভুত এক নীরবতা এখন তার চারপাশে। শুধুমাত্র হাত-পায়ের শেকলের শব্দ ছাড়া আর যেন কোনো শব্দই নেই।
    নির্ঘুম রাতগুলোতে হেলাল ভেবেছে অনেক। সে জানত রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েও সে বাঁচতে পারবে না। তবুও মনের কোথায় যেন একটা ক্ষীণ আশা ছিল। যদি বেঁচে থাকা যায় এই পৃথিবীতে। সত্যিই সে ভালো মানুষ হয়ে যেত। কারও ওপর কোনো রাগ, কোনো ঘৃণা থাকত না। কারণ ওগুলো বহু আগেই সে বদ্ধ সেলের চার দেয়ালে কবর দিয়েছে। এখন আর স্বপ্ন দেখতে ভালো লাগে না। যদি বেঁচে থাকতে পারত তাহলে বহু দূরে চলে যেত। সব পরিচিতদের কাছ থেকে দূরে। সব বন্ধন ছিন্ন করে।
    ইস! কেন যে পৃথিবীতে ফাঁসি নামক শাস্তিটা আছে। তা না হলে আজ থেকে দশ, বিশ, ত্রিশ বছর পর হলেও একদিন সে শিমির মুখ দেখতে পেত। বন্দিজীবনের অনেক বছরের অপেক্ষার পর শিমি তাকে কি চিনতে পারত? নাকি শুধুই তিরস্কার, আর ঘৃণা, আর এক দলা থুতু।
    এসবই এখন স্বপ্ন। একটু আগেই তার ফাঁসির আদেশ শোনানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতি তার প্রাণভিক্ষা দেয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ নেই তার। যেখানে সৃষ্টিকর্তাই তাকে প্রাণভিক্ষা দেয়নি সেখানে রাষ্ট্রপতি ভিক্ষা দেবার কে? কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপারটা ঘটল তখনই যখন সে জানল তার জীবনের আয়ু আর মাত্র দুঘণ্টা। দুচোখ বেয়ে কেবল ঘুম আসছে তার। কেবল ঘুম আর ঘুম।
    হেলাল তার সর্বশক্তি দিয়ে জেগে থাকার চেষ্টা করছে। কিছুতেই ঘুমোনো চলবে না। সময়ের ক্ষুদ্রতম এককে অবশিষ্ট জীবনকে করতে হবে দীর্ঘ। একেকটি সেকেন্ডের মূল্য এখন তার কাছে একেকটি বছরের সমান। বস্তুগত সময়ের হিসেবে আর মাত্র দুঘণ্টা পরেই সে ঘুমোবে অনন্ত সময়ের জন্য। তারপর আবারও সৃষ্টিকর্তার বিচার। তখন হেলালের পক্ষে-বিপক্ষে উকিল থাকবে না। মিথ্যেকে পেঁচিয়ে ফাঁসির মঞ্চে আনবে না কেউ। সৃষ্টিকর্তার ওপর এতটুকু বিশ্বাস তার আছে। সেই বিচারের দিনে হেলাল কি আজকের অপরাধীর বিচার চাইবে? কেন চাইবে? কেনই বা চাইবে?
    না, না, এসব ভেবে সে তার জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চায় না। এক ফড়িঙ জীবনের সমান সময়কে তার অর্থবহ করে তুলতে হবে। তার জীবনে যে নগদ বলতে আর কিছুই নেই। থাকার মধ্যে আছে কিছু খুচরো স্মৃতি। সেগুলোও এতদিন চাপা ছিল হৃদয়ের ধ্বংসস্তূপে। রায় হবার পর থেকেই হেলাল সুনিপুণ প্রতœতাত্ত্বিকের মতো স্মৃতিগুলো খুঁড়ে বের করেছে। স্পষ্ট স্মৃতি না, একরকম ধূসরই বলা যায়।
    ইটচাপা কিশোরী ঘাসের মতো একটা স্মৃতি উঠে আসে হৃদয়ের আয়নায়। খুব ভালো ছাত্র ছিল সে। তার জগৎ ছিল পড়ার টেবিলের চারপাশ ঘিরে। একসময় কবিতা আবৃত্তি করত। কথাটা মনে হতেই হাসি পেল তার। তার মতো খুনি, ক্যাডার একসময় কবিতার অন্তমিল খুঁজতো। কাঁচা হাতে কিছু কবিতাও লিখেছিল। শিমিকে ভালোবেসে একবার চিঠিতে লিখেছিল দুটো কবিতার লাইনÍ
    এখন আমি পরাযৌবনের আদম
    যদিও আমি হাত দিয়ে যা ছুঁই
    তাই কষ্ট হয়ে যায়।
    কবিতাটির কোনো অন্তমিল নেই। ছন্দ নেই। কিছুই নেই। তবুও শিমিকে লেখার পর অতিপ্রাকৃতিক এক আবেগে দুলে উঠেছিল তার মন। শিমি কবিতা পড়ে হেসেছিল। হয়তো অবহেলার হাসি। হেলাল জানত শিমি ইমতিয়াজ নামের অন্য একজনকে ভালোবাসে। তবুও মনের ভুলেই হেলালের মনে হতো, এও এক ভালোবাসা। পৃথিবীর শুদ্ধতম উচ্চারণ।
    (চলবে)

    3
    6 Comments
    • নতুন গল্প মানেই একরাশ স্বচ্ছ আনন্দ! খুব ভালো লাগলো পড়ে! পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম! শুভেচ্ছা নেবেন লেখকপ্রিয়!

    • গল্প হচ্ছে বাক্যের নিপুন খেলা। লিখে যাও।

      • জানতাম না।

      • অপরিচিত কেউ আমাকে তুমি করে বললে আমি তাদের অপছন্দ করি।
        নেক্সট টাইম নেভার ডু ইট।

        • আসুন তাহলে পরিচিত হই সবাই, একে অপরের সুহৃদ হয়ে উঠি। এই পৃথিবীর যাত্রী সবাই আমরা, চেনা জানা থাকলে পথ চলতে সুবিধাই হবে। শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নেবেন!

Skip to toolbar