-
খসে খসে পড়ছে চুন ও সুরকি,বয়সের ভারে অনেকটা ফ্যাকাসে পূর্ণ অবয়ব,শেওলায় মোড়ানো ইটের দেওয়াল তবুও নষ্ট ও স্লান হয়নি তার সৌন্দর্যের সুষমা। শিশিরধোঁয়া কোন এক নিসঙ্গ বিকেলে বাড়িটির সন্ধান পাই প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদের “ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না কাব্যগ্রন্থে”। লেখকতনয়া মৌলিকে উৎসর্গকৃত বইয়ের মুখবন্ধে লেখক বয়ান করেছেন তার সৌন্দর্যের নিসর্গ বন্দনা। বাড়িটিকে অবলাচিত্রে চিত্রায়িত করেছেন “বিলের পাড়ে প্যারিস শহর”।
“অর্ধেক মানবী তুমি অর্ধেক কল্পনা” মোনালিসার শহর স্বপ্ন ও রুপকথার শহর “লাইট অব সিটি” খ্যাত প্যারিস শহর যেমন অনিন্দ্যসুন্দর সিন নদীর নীলাভ জলে ঝলমল করে এই জমিদার বাড়িটি একসময় আড়িয়াল বিলের লঘু ঊর্মিময় জলছায়ায় প্রতিবিম্বিত হত।
সূর্যচন্দ্রহীন সান্ধ্য আকাশের শিতিতলে গলে লাল হওয়া সুর্যাস্তের স্বর্ণালি সূর্যকরশ্মির মতো কিংবা পূর্ণচন্দ্রদূত্যিতে চঞ্চল চন্দ্রকর ও চন্দ্রকিরণের স্পর্শে চিকচিক ও ঝিকঝিক করে উন্মীলিত ও উন্মেষিত হত এই বাড়িটি ।
ইতিহাসের আয়নায় আজো পরিস্কার,শ্রীরুপি শ্রীময়ী শ্রীনগরকে শ্রীমণ্ডিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় জমিদার শ্রীনাথ রায়।তাঁর সুপুত্র যদুনাথ রায় অষ্টাদশ শতাব্দীর গোড়ালগ্নে নজরকাঁড়া নান্দনিক নন্দনশোভিত এই বাড়িটি নির্মাণ করেন।প্রাচীর-প্রাকার ও তোরনশোভিত এই বাড়িটি সেই সময়ের মানুষের কাছে ছিল আগ্রহ-আফসোস ও কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।
যদুনাথরায়ের পুর্বপুরষদের কতো র্কীর্তি কাল থেকে কালান্তরে কলকল করা কীর্তিনাশা পদ্মার শুন্যে সৃপ্ত হয়ে গেছে।চোখধাঁধানো গ্রীক স্থাপত্যশৈলী ও অনন্য আভিজাত্যের ক্যারিশমায় গড়া এ বাড়িটি নিঃসন্দেহে বৈচিত্র্যময় কল্পনার এক ঐন্দ্রজালিক কালোত্তীর্ণ নিদর্শন।
শুধু জমিদারিত্ব নয় এই বাড়িতে বাস করতেন বিলেতি ডিগ্রী নেওয়া অসংখ্য বাঘা বাঘা ব্যারিস্টার। বংশ-আভিজাত্য শান-শওকত প্রভাব-প্রতিপত্তি অহংকার-অহমিকা আর জ্ঞান-গরিমার প্রাচুর্যতা থাকায় বৃটিশ রানি তাঁদের দেখতেন শ্রদ্ধার চোখে। জনহিতকর ও মানবহিতৈষী কাজের সংশ্লিষ্টতায় রানি তাঁদের জমিদার উপাধি দেন। শ্রীনগর প্রস্থানের পূর্ব পর্যন্ত জমিদাররা ছিলেন প্রজাবান্ধব। প্রজার সুপেয় জল পানের জন্য খনন করেন বিশাল দীঘল দীঘি। আর এই দীঘির সোপানসম্ভলিত পুকুর ঘাটেই বাড়ির রক্তচন্দনে চর্চিত রুপযৌবনগর্বিতা রৌপকাঞ্চনবর্ণা বিদগ্ধা সর্বাঙ্গসুন্দরি অনন্দিতারা জলকেলিতে মেতে উঠতো।
দেশভাগের পর শিকঁড়গাথা নাড়িপোঁতা এই ভাগ্যকূলের সাথে রাখিবন্ধন ছিন্ন করে স্থাবর-অস্থাবর সয়-সম্পত্তি মনিমুক্তাখচিত সিন্ধুক ও কাঞ্চনকান্তিময় স্বর্ণাসন রেখে অশ্রুপূর্ণনয়নে বিষন্নবদনে পাড়ি জমান ভারতবর্ষে।
শ্রীনগর থেকে ফিরে
4 Comments
Friends
Merina-Mira
@merina-mira
alif-gamings
@alif-gamings
রিফাত মাহমুদ
@rifat-mahmud
Mohammad Abdul ajij
@m-a-ajij
ফারুক আব্দুল্লাহ - Faruq Abdullah
@faruq-abdullah
Tanvir Ahmed
@tanvir02025
nomanur-rahman
@nomanur-rahman
Atanu Datta
@atanudatt
কাজল আহমেদ
@kajol-ahmed


সুন্দর ভ্রমণ গল্প! চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন লেখকবন্ধু! খুব ভালো লাগলো পড়ে!