<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | চাঁদ সদাগর | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/chand_sodagor/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/chand_sodagor/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for চাঁদ সদাগর.</description>
	<lastBuildDate>Tue, 09 Jun 2026 10:57:51 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">008139e2821ca325064f5a7a6b163dd1</guid>
				<title>[আগের বার পোস্ট করা লেখাটি এডিট করতে গিয়ে ভুলক্রমে ডিলিট হয়ে যায়। তাই আবার পোস্ট করছি। যাঁরা আগের বার কমেন্ট এবং লাইক দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি শুভেচ্ছা এবং কৃতজ্ঞতা !]

আবু আহসানের ২ টা কবিতা নিয়ে কিছু আলাপ। 
*****************************

আদাবেন ত্রাতালি একবার আবু মুস্তাফিজ হাসানের কবিতার বই &quot;মিস্টার টী ও প্রেমময় বুলডোজার&quot; নিয়ে সুন্দর আলোচনা করছিলেন। আরও নানা বিষয়ের সাথে সাথে কবিতায় দৈনন্দিন মুখের ভাষার ব্যবহার আর নিরাভরণতা (অর্থাৎ, কবিতায় প্রচলিত অলংকার থেকে মুক্ত থাকার বিষয়টা) নিয়ে আলাপ করছিলেন মনে পড়ে। ত্রাতালির ঐ লেখাটা পড়ার সময় থেকেই মনে হতেছিল যে ঐ আলোচনার পাশাপাশি আবু আহসান (মিশু)-ইনার কবিতাগুলি পাশে রেখে আরো এক দফা আলোচনা এগিয়ে নাওয়া যায়।

মুস্তাফিজ হাসান আর আবু আহসান - এই দুইজনের কবিতা শেষপর্যন্ত দুইরকম হলেও, কোনো একটা দিক দিয়ে তারা যেন কিছু কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, আবার, এইরকম সাবলীল, সুপ্রচলিত , মুখের কথার ভাষায় রচিত কবিতা আশেপাশে খুব কম-ই পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস।

দুজনের কবিতাতে যেই জিনিসগুলি প্রথমেই চোখে পড়ে সেগুলি হয়ত এইভাবে লিপিবদ্ধ করা যায়:

১) ভণিতা-হীনতা। ভণিতা খারাপ জিনিস নয়। বাংলা কবিতায় যুগ যুগ ধরে ভণিতা চলে আসছে। ভণিতা নামে আলাদা এক অংশই নিবেদিত ছিল কাব্য রচণা কালে। অনেকে এমনও হয়ত ভাবেন যে সাহিত্য হতে হলে কিছু ভণিতা থাকতেই হবে। পাঠক/পাঠিকারা কবিতা পড়ার সময় সেইসব ভণিতা বা ভাণ মেনেও নেন।  উদাহরণ, কবিতার ক্ষেত্রে যদি আমি বলি &#039;সাধ হয় চলে যাই বহুদূর&#039; - এখানে আমি মুখের ভাষাকে ইচ্ছা করে যেন একটু বদলে দিলাম একটা কাব্যিক আবহ আনার জন্যে। কিন্তু এই একই বাক্য আমরা সত্যিকার অর্থে কিভাবে উচ্চারণ করব? আমরা বলব &quot;অনেকদুর চলে যাওয়ার ইচ্ছা করতেসে&quot;। এটাকেই আপাতত বলতে চাচ্ছি ভণিতা থাকা আর না থাকা। আলোচ্য কবিদের কবিতায় এই প্রচলিত কিংবা স্বীকৃত &#039;ভান&#039;-গুলা নাই। 

গত শতকের সত্তর কিংবা আশির দশক, এমনকি কেউ কেউ বলবেন পঞ্চাশের দশক থেকেই , বাংলা কবিদের অনেকে ভণিতা বা &#039;কাব্য ভাষা&#039; বাদ দেবার চেষ্টা করে আসতেছেন। কবিতার জন্য মুখের ভাষাকে একটুখানি ঘুরিয়ে দিব, পেঁচিয়ে দিব, এক শব্দকে আরেক শব্দের আগে বা পরে বসিয়ে দিয়ে একটু কাব্যের দোলা দিব - একটা উদাসীন আবহ নিয়ে আসব - এই বিষয়গুলি অনেক হয়েছে। এখান থেকে যেন মুক্তি চেয়েছে অনেক কবি কিংবা পাঠক। এখন যেন নতুন ঝকঝকে এক ঝাঁক লেখা চাই আমরা, যেখানে কোনো ভান নাই। আমাদের মুখের কথার মতো কথা থাকবে। যেন গদ্য ভাষার মতো কথা।

২) অনেক অপ্রচলিত শব্দ, যেগুলি আমরা গদ্যে কিংবা মুখের ভাষায় ব্যবহার করি না, অথচ কবিতায় করে থাকি - সেরকম শব্দগুলি একেবারে এড়িয়ে চলা। যেমন &#039;করেছিনু&#039;, &#039;খেয়েছিনু&#039;, &#039;সাধ&#039; (ইচ্ছা না বলে সাধ বলা), &#039;রাত্রি&#039; (রাত না বলে রাত্রি বলা) - এই ধরণের কাব্যিক শব্দ ইনারা দুজনেই এড়িয়ে গেছেন।

৩) বাংলা কবিতায় অপ্রচলিত, কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত সুপ্রচলিত অনেক শব্দ কবিতায় নির্দ্বিধায় নিয়ে আসছেন ইনারা। এই সাহস কিন্তু এখনকার অনেক কবিও করে থাকেন না। ফলে উনাদের ভাষা অত্যন্ত সহজ আর আরাম লাগে পড়তে। (শব্দগুলি পরে উল্লেখ করব)

৪) কবিতার বিষয়-বস্তুতে প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা ইত্যাদি পুরনো প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে অভিনব নতুন নতুন বিষয় নিয়ে আসা। যেমন আবু মুস্তাফিজ - উনার একটা লেখায় দেখলাম পদ্মা ব্রিজের উপর কবি একজন পুলিশকে ইলিশ মাছ খাওয়ার জন্য আহবান করতেছেন। আবার আবু আহসানের কবিতায় মিরপুর বাধ, আশুলিয়া ব্রিজে বন্যা, আরিচাগামী বাস, রিহ্যাব সেন্টার - এইসব প্রসঙ্গ আসতেছে। 

অথচ এত এত পরিবর্তন আনার পরেও - উনাদের কবিতাকে কিন্তু কেউ &#039;কবিতা হয় নাই&#039; - এমন বলতে পারবেন না। আমরা পাঠকেরা আমাদের ইনস্টিংক্ট থেকেই বুঝতে পারি যে - এগুলি কবিতা।

কবি আবু সুস্তাফিজের বইয়ের উপরে আদাবেন ত্রাতালির লেখাটা এই মুহূর্তে খুঁজে পাচ্ছি না কোথাও। তাই আবু আহসানের কবিতা নিয়েই অগ্রসর হই। প্রথমেই একটি কবিতা, যার শিরোনাম &quot;যে রোগের কথা বলব না&quot; । 

.
যে রোগের কথা বলব না
---------------------------
বিকেল নয়।
চাতকের ডানায় স্বল্পরাত নামে
শহরের অলক্ষ্যে উঠে আসে সরু চাঁদ
এই জোৎস্না রাত্রি হাওয়ায়, উন্মুক্ত
আমার শরীরে অসংখ্য গোপন রোগ
লকলক তারার মতো
ফুটে আছে অন্ধকার আভায়
তবুও যেন বলছে আমাকে,
কত ভাল মানুষের চোখ হতে
দূরে, দূরে থাকা।
সাদা সাদা দিনে এদেরকে ঢেকে রেখেছি
কালো কাপড়ের ওভারকোটে
ঘেন্নায় চোখ হতে দূরে
হাত পেতে থাকা আলোর অলক্ষ্যে
গোপনে আমার গোপন রোগ
লাজুকভাবে লেপটে আছে
আমার শরীরের সাথেই,
যার সাথে এমন নিবিড় সহবাস
ওগো রোগ প্রিয়তম তুমি
তোমাকে ঝেড়ে ফেলা যাবে? 

_ _ _ 


পঞ্চম লাইনে এসে অভাবনীয় ভাবে, হঠাৎ করে, এক লহমায় প্রকাশ পেল &quot;আমার শরীরে অসংখ্য গোপন রোগ&quot;।

নাগরিক একটা ভাবনা যেন। আমাদের অনেকের মাঝেই নানা রোগ , নানা অস্বাভাবিকতা নিয়ে আমরা ঘুরে বেড়াই। হয়ত শারিরীক, হয়ত মানসিক, যেগুলি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে আপন। যেগুলি নিয়ে আমরা বিপর্যস্ত থাকি, অথচ খুব কাছের মানুষকেও প্রকাশ করি না। এক লহমায় আমাদের এই গোপন অসহায়ত্ব কত অবলীলায় কবিতাটিতে প্রকাশ পেয়ে গেছে। খুব ন্যাচারাল ভাবে, যেমনভাবে একটা ফুল নীরবে প্রকাশ পায় - সেইভাবে এই বাক্য কবিতার মধ্যে প্রকাশ পেল।

এই গোপন রোগগুলি নিয়ে কবি কিন্তু কিছুটা রোমান্টিসিজমেও আচ্ছন্ন আছে। এই রোগগুলি লকলকে &#039;তারার&#039; মতো, নক্ষত্রের মতো ফুটে থাকে অন্ধকার আভায়। রোগগুলি লাজুকভাবে লেপটে থাকে শরীরের সাথে। অর্থাৎ রোগগুলি কিন্তু কবির কাছে, আমাদের কাছে, খুব প্রেমময়-ও বটে। আমরা তাদের পারি না এড়াতে। এই রোগগুলি আমরা ঢেকে রাখি কালো ওভারকোটে, মানুষের চোখে পড়তে দেই না। মনে পড়ে সুনীলের একটা কবিতায় একবার একটা ফোঁড়ার কথা এসেছিল, যা আমরা জামায় ঢেকে রাখি আর পরম মমতায় মাঝে মাঝে হাত দিয়ে দেখি।

অদ্ভূত এক বিষয়, অথচ বিশ্বাস না করে উপায় নেই। আবার, শেষপর্যন্ত এসে এই অনুধাবন হয় যে, মানুষ, ব্যক্তিগতভাবে, খুব লাজুক এবং একাকী, তারা তাদের রোগ নিয়ে অন্যের সামনে পড়তে চায় না। মাঝে মাঝে এই রোগই যেন আরও বেশি রকমের প্রিয়। সমাজের ভালো মানুষেদের থেকে। ভালো মানুষেদের চোখে আমরা পড়তে চাই না।  &quot;তবুও যেন বলছে আমাকে, / কত ভাল মানুষের চোখ হতে / দূরে, দূরে থাকা।&quot;

একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, এখানে প্রচলিত বাংলা কবিতার কোনো ছন্দের দোলা নাই। কোনো অস্বাভাবিক &#039;আর্টিসটিক&#039; ধরণের শব্দ কিংবা এক্সপ্রেশন নাই। বরং কবিতার প্রয়োজনে লেখক দু একটা নিজের মতো শব্দবনন্ধ তৈরী করলেন আর অবলীলায় ব্যবহার করে ফেললেন কোনো রকমের অস্বাভাবিকতার জন্ম না দিয়ে। আমরা হোঁচট খাই না। এমন একটা শব্দ, &quot;স্বল্পরাত&quot; । 

আরেকটা কবিতা, &quot;শহরের ল্যাপপোস্টে পাকা কাঁকরোল&quot;

.
শহরের ল্যাপপোস্টে পাকা কাঁকরোল
----------------------------------------
ইকবাল রোডের দুই সারি বাড়ীর ফাঁকে
কয়েকটা পাকা কাঁকরোল ঝুলে থাকে ইলেকট্রিকের তারে
ভাবি : ওরা কি জ্বলে উঠবে ইলেকট্রন ফিলামেন্টে?

অথচ কিই বা প্রয়োজন এই নগন্য গাছের!
প্রয়োজন ইলেকট্রিক তারের
কোটি কোটি ইলেকট্রন সাভার-সদরঘাট ছুটোছুটি করবে 
মস্ত মস্ত আলো জ্বালাবার কাজ সব পড়ে আছে ।
তবুও - সাদা কাগজের নিষ্প্রাণ দিনে
কাঁকরোল গাছ এত সখ্যতায় ইলেকট্রিক তারে জড়িয়ে থাকে
এ শহরেই !

পাকা কাকরোলগুলো কি জ্বলে উঠবে?
ক্লোরোফিল বাকলে ইলেকট্রন উৎসাহে
ওরা কি জ্বলে উঠবে?

হয়তো - না দেখা সন্ধ্যায় কয়েকটা কাঁকরোল জ্বলে ওঠে।
হয়তো - শহরের ল্যাম্পপোস্ট জুড়ে বাল্ব নয়
শুধুই পাকা কাঁকরোল।

_ _ _

প্রথমেই বলতে হয়, এই যে &#039;ল্যাম্পপোস্ট&#039; শব্দটা নিয়ে। এটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুব সাধারণ একটা উপকরণ, অথচ বাংলা কবিতায় কিন্তু এ ধরণের শব্দ সচরাচর আসে না। 
শহরের ল্যাম্পোস্টে পাকা কাঁকরোল ঝুলে আছে - এই দৃশ্যটাও খুব পরিচিত, কিন্তু অবলীলায় কবিতার মধ্যে এভাবে নিয়ে আসতে পেরেছেন কয় জন?
লেখক বলতেছেন যে এটা খুব নগন্য একটা ঘটনা , অন্তত সাভার -সদরঘাটে প্রতিদিন যে কোটি কোটি ইলেকট্রন ছুটাছুটি করছে (আমাদের আধুনিক যান্ত্রিক জীবনের প্রয়োজনে) - সেই তুলনায় একটা পাকা কাঁকরোল গাছ যে ইলেকট্রিকের তারে জড়িয়ে আছে - এই ঘটোনা অতি নগন্য একটা বিষয় । অথচ তারপরেও এই ঘটনাটি বর্তমান আছে। আবার এই ঘটনাটি লেখকের, (তথা মানুষের) দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিচ্ছে।

লেখক আবার খুব রূপকথাময় অবাস্তবতাকেও ধারণ করেছেন, অথবা প্রকাশ করেছেন। আমরা যখন দেখি না, তখন সন্ধ্যাবেলায় &quot;হয়তো - না দেখা সন্ধ্যায় কয়েকটা কাঁকরোল জ্বলে ওঠে&quot;।  বাস্তবতাকে অতিক্রম করে যাওয়াটা লেখাটাকে কবিতা করে তোলে।

একটা সাহিত্য সুলভ অতিশয়োক্তি (অর্থাৎ, &#039;অতিশয় উক্তি&#039; বা ইচ্ছাকৃতভাবে একটু বাড়িয়ে বলা) উনার এই লেখায় আছে। &quot;হয়তো - শহরের ল্যাম্পপোস্ট জুড়ে বাল্ব নয় / শুধুই পাকা কাঁকরোল।&quot; যেন, পাকা কাকরোলে ভরে উঠেছে শহরের সব ল্যাম্পপোস্ট। শয়ে শয়ে, হাজারে হাজারে বাল্ব না, শুধুই পাকা কাকরোলে ভরে আছে আমাদের পুরা শহর।

আগের কবিদের থেকে একটা মজার পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। শহীদ কাদরী অথবা শামসুর রহমানের অতিশয়োক্তির পাশাপাশি যদি আমরা এই অতিশয়োক্তিটাকে পাশে রেখে দেখি তাইলে বলতে হবে শামসুর আর কাদরীর অতিশয়োক্তির পিছনে একটা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য বা ক্লাইম্যাক্স ছিল। কিভাবে?

&quot;আমি তারায় তারায় রটিয়ে দেব তুমি আমার&quot; (জেমসের গাওয়া শামসুর রাহমানের রচনা থেকে)

&quot;ভয় নেই / আমি এমন ব্যবস্থা করবো যাতে সেনাবাহিনী / গোলাপের গুচ্ছ কাঁধে নিয়ে / মার্চপাস্ট করে চলে যাবে / এবং স্যালুট করবে / কেবল তোমাকে প্রিয়তমা।&quot; (শহীদ কাদরীর &#039;তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা&#039;)

দুটা ক্ষেত্রেই অতিশয়োক্তি দিয়ে প্রিয়তমার কাছে ভালোবাসার তীব্রতা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে অতিশয়োক্তির একটা লক্ষ্য আছে, উদ্দেশ্য আছে, একটা ক্লাইম্যাক্স আছে।

অথচ &quot;শহরের ল্যাম্পপোস্ট জুড়ে বাল্ব নয় / শুধুই পাকা কাঁকরোল।&quot; - এখানে অতিশয়োক্তি এসেছে , কিন্তু কোনো ক্লাইম্যাক্স নাই। কোনো উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য নাই, কেবলমাত্র কবির নিজের একটা খায়েশ, একটা লক্ষ্যহীন কল্পনা, যেটা পাঠকের মনেও ছড়িয়ে যায়। 

এই যে এন্টি-ক্লাইম্যাক্স বা উদ্দেশ্যহীনতা, এটা যেন নগর-বাসী আমাদের আধুনিক বিষন্নতার সাথে, এবসার্ড ভাবনা বা সত্ত্বার সাথে মিলে মিশে যায়। উদ্দেশ্যহীনতা। যেমনভাবে এলিয়ট উনার &#039;লাভ সং অফ জে আলফ্রেড প্রুদ্রক&#039; কবিতায় দেখছিলেন, বিষণ্ণ সন্ধ্যাবেলায় নগরের বয়ষ্ক মানুষেরা জানালা থেকে কোনো কারণ ছাড়া রাস্তার দিকে ঝুকে ঝুকে আছেন।

কবি জনাব আবু মুস্তাফিজের কিছু কবিতা অথবা, উনার উপরে লেখাটা শেয়ার করতে পারলে ভালো লাগত। তবে আপাতত এতটুকুই।

এই কথাগুলি বললাম বাংলা সাহিত্যে নতুন ধরণের কবিতার সন্ধান লাভের আশায়। এই কবিতাগুলি থেকে কি কোনোরকমের দিকনির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে? পাঠক/পাঠিকা সেটা বলবেন। ধন্যবাদ।

                                              --- --- ---

[@adabentatali এবং @sharbanam-gupta, এই লেখাটা দেইখেন। আপনারা কিংবা অন্য কেউ যে কোনো মতামত দিতে চাইলে অবশ্যই স্বাগত! ]</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/159013/</link>
				<pubDate>Sun, 09 Oct 2022 08:00:07 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>[আগের বার পোস্ট করা লেখাটি এডিট করতে গিয়ে ভুলক্রমে ডিলিট হয়ে যায়। তাই আবার পোস্ট করছি। যাঁরা আগের বার কমেন্ট এবং লাইক দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি শুভেচ্ছা এবং কৃতজ্ঞতা !]</p>
<p>আবু আহসানের ২ টা কবিতা নিয়ে কিছু আলাপ।<br />
*****************************</p>
<p>আদাবেন ত্রাতালি একবার আবু মুস্তাফিজ হাসানের কবিতার বই &#8220;মিস্টার টী ও প্রেমময় বুলডোজার&#8221; নিয়ে সুন্দর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-159013"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/159013/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>13</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">58920088ca34558545e4e0af1d525444</guid>
				<title>ছন্দ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কথাগুলি ভালো লাগল। আসলেই, ইংরেজী ভাষায়, নেটিভ স্পিকাররা যখন কথা বলেন, একই শব্দের বিভিন্ন সিলেবালের মধ্যে জোরের বেশ-কম ঘটে। nineteen - শব্দে  Teen অংশে একটা জোর বা stress আছে, কিন্তু ninety শব্দের ty  অংশে কোনো stress বা জোর নাই। ইংরেজি ভাষায় শব্দের উচ্চারণে বিভিন্ন সিলেবালে এই জোর দেয়া / না দেয়ার উপর ভিত্তি করে ওদের ছন্দ (rhythm) শাস্ত্র গড়ে উঠেছে। অথচ বাংলা ভাষায় শব্দের উচ্চারণে বিভিন্ন অংশে (সিলেবালে) এই জোর দেয়া - না দেয়ার বিষয়টা নাই। একটা শব্দের বিভিন্ন অংশের মধ্যে আমরা একইরকম জোর দিয়ে কথা বলে যাই। ফলে আমাদের ছন্দ শাস্ত্র গড়ে উঠেছে একেবারে অন্য মেকানিজমে ...

এই বিষয়টা সম্ভবত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম চিহ্নিত করেন আর সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা বা উল্লেখ করেন ...

&quot;...ইংরেজি ভাষার একটা মস্ত গুণ এই যে, ও ভাষায় প্রত্যেকটি শব্দেরই একটা বিশেষ জোর আছে, সেটা ও ভাষার accent এর জন্যেই হয়। প্রত্যেকটি শব্দই নিজের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করে চলে, অন্য কথার মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলে না। শব্দগুলিকে এ ভাবে জোর দিয়ে উচ্চারণ করতে হয় বলেই ইংরেজি ছন্দ এরূপ তরঙ্গিত হয়ে ওঠে। কিন্তু বাংলা শব্দগুলি বড়ো শান্তশিষ্ট, তারা ধ্বনিকে আঘাত করে তরঙ্গিত করে তোলে না। এজন্য বাংলায় আমরা এক ঝোঁকে অনেকগুলো শব্দ উচ্চারণ করে আবৃত্তি করে যাই, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই অর্থবোধ হয় না। অর্থবোধের জন্য বিষয়টাকে আবার ফিরে পড়তে হয়। এ অভাবটা মধুসূদন খুব অনুভব করেছিলেন। তাই তিনি বেছে বেছে যুক্তাক্ষরবহুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহারের দ্বারা বাংলার এই দুর্বলতাটা দূর করতে চেয়েছিলেন। এজন্যেই তাঁর কাব্যে &#039;ইরন্মদ&#039; প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার হয়েছে। আর তাতে ছন্দের মধ্যেও অনেকখানি তরঙ্গায়িত ভঙ্গি দেখা দিয়েছে । &#039;যাদঃপতিরোধঃ যথা চলোর্মি আঘাতে&#039; প্রভৃতি পঙ্‌ক্তিতে ধ্বনিটা আঘাতে আঘাতে কেমন তরঙ্গিত হয়ে উঠেছে তা দেখতে পাচ্ছ। অল্পবয়সে আমি মধুসূদনের যে কঠোর সমালোচনা করেছিলুম, পরবর্তী কালে আমাকে তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়েছে। বাংলাভাষার এই সমতলতা, এই দুর্বলতাটা দূর করবার জন্যে গদ্যে ও পদ্যে আমিও বহু সংস্কৃত শব্দ ব্যবহার করেছি । ...&quot;
.
[ ছন্দ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শ্রীপ্রবোধচন্দ্র সেন সম্পাদিত। বিশ্বভারতী জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯ সংস্করণ, পৃ:১২৪]</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/157188/</link>
				<pubDate>Thu, 06 Oct 2022 04:55:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ছন্দ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কথাগুলি ভালো লাগল। আসলেই, ইংরেজী ভাষায়, নেটিভ স্পিকাররা যখন কথা বলেন, একই শব্দের বিভিন্ন সিলেবালের মধ্যে জোরের বেশ-কম ঘটে। nineteen &#8211; শব্দে  Teen অংশে একটা জোর বা stress আছে, কিন্তু ninety শব্দের ty  অংশে কোনো stress বা জোর নাই। ইংরেজি ভাষায় শব্দের উচ্চারণে বিভিন্ন সিলেবালে এই জোর দেয়া / না দেয়ার উপর ভিত্তি করে ওদে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-157188"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/157188/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4b456265aef0b7d7096af37dfed49cda</guid>
				<title>চাঁদ সদাগর and কে,এম, আশিকুল আলম রিজন are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/37316/</link>
				<pubDate>Tue, 21 Sep 2021 14:34:31 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">20d60cbb2a3ab619d5893d3861764afc</guid>
				<title>মোটা দাগে কবিতার দুই ভাগ

------------------------------
&quot;Poetry doesn&#039;t belong to those who write it; it belongs to those who need it.&quot;
.
সকালে একজন ফেবু-বন্ধুর শেয়ার করা ফেবু-স্টোরি তে একটা ইমেজের মধ্যে এই বাক্য দেখে ভালো লেগে যায় ফলে এর পরে পরে গুগলে সার্চ করে বাক্যটার উৎস সম্পর্কে কিছুটা জানার উদ্যোগ নেয়া হয়। The Postman (IL POSTINO) (1994) ছবির চরিত্র Mario Ruoppolo (শিল্পী Massimo Troisi দ্বারা অভিনীত) এই বাক্যটি ছবিতে ডায়ালগ দেন। কেউ কেউ অবশ্য Pablo Neruda-র উক্তি বলে এটা ব্যবহার করসেন, সেটা কতটা ঠিক জানা নাই।
.
এই বাক্য থেকে পুরনো একটা ভাবনা পুনরায় মন-মধ্যে ফিরে আসে। রি-সারফেস করে। কবিতার ক্ষেত্রে একটা বড়ো রকমের শিফট অথবা পরিবর্তন ঘটসে সম্ভবত ১৮৫০ থেকে শুরু করে +/- ১৯৬০ এর মধ্যে। পৃথিবীর নানা দেশের ভাষাতেই হয়ত বা এই পরিবর্তনটা আসছে। &quot;Poetry doesn&#039;t belong to ...&quot; বাক্যটা হতেসে এই পরিবর্তিত ধারার নতুন কবিদের চিন্তাধারার সাথে খাপ খাওয়া একটা বাক্য।
.
আমি যেইভাবে ব্যাখ্যা করতেসি সেটা একেবারেই মোটা দাগে। নিজের সাধারণ বা তাৎক্ষণিক একটা বিচার বা বিশ্লেষণ থেকে এই ব্যাখ্যা। সম্ভবত এই নিয়ে অনেক তাত্ত্বিক আলাপ আলোচনা বিতর্ক অনেকে করে গেছেন , এমনকি এই সব পরিবর্তনের নাম, ধাম, শ্রেণীবিভাজনও করে গেসেন, কিন্তু সেইসব বিবেচনায় না গিয়ে মোটা দাগে নিজের ভাবনায় এই দুই বিচ্ছিন্ন ধারার অবতারণা মাত্র করতেসি এখন। 
.
মোটা দাগে: 
১৮৫০ এর আগের প্রচলিত ধারাটির বেশির ভাগ কবিতা (হয়ত সবগুলি-ই) ছিল যেন ভাষার আলঙ্কারিক দিকের উপরে ভিত্তি করে তৈরি করা &#039;ফেইস ভ্যালু দ্বারা বিচার্য&#039; কবিতা। শ্রুতিমধুর, উচ্চারণে মধুর, হালকা জীবনদর্শন প্রকাশক, অনুভূতি প্রকাশক, বিনোদন মূলক, অথবা কোনো বড়ো ঐতিহাসিক ঘটনাকে একধরণের মধুর &#039;স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন&#039;-এ নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা কবিতা। যেন খাপে খাপ শব্দের পরে শব্দ দিয়ে এমনভাবে একটা ঘটনা বা বক্তব্য-কে বিধৃত করা হইল যেন কেউ আর ওর ভিতরে হাত ঢুকানোর সাহস না পায়। বরং পাঠ করা শেষে নিজে আনন্দ পায় আর শ্রোতাদেরকেও আনন্দ দিতে পারে।
.
উল্লেখ্য যে, এটাকে ১৮৫০ পূর্ববর্তী ধারা বললেও - এটা যে এখন পর্যন্ত প্রচলিত নয়, তা কিন্তু নয়। এখনও স্ব-মহিমায় বর্তমান আছে। নতুন বা প্রবর্তিত যেই ধারাটির কথা বলব, সেটার পাশাপাশি এখনও বর্তমান আছে।
.
স্বাভাবিকভাবেই, কবিতা থেকে এই ধরণের আনন্দ লাভ লাভ করাটা সমাজের বেশির ভাগ মানুষের পক্ষে সহজ ছিল এবং এখনও আছে। এক রকমের ছন্দ আর শব্দের ব্যঞ্জনা, মানুষের আপাত-দর্শন ভাবনার এক ধরণের সহজ প্রকাশ, শব্দের উচ্চারণে এক ধরণের আভিজাত্য অথবা নানা রকম সাহিত্যিক রসের প্রকাশ - এইগুলি মানুষকে সহজে আনন্দ দিতে পারে। ফলে এর শ্রোতামণ্ডলীর (বা ভোক্তা-মণ্ডলীর) সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে বেশি।
.
বিক্ষিপ্ত কিছু উদাহরণ দেয়া যেতে পারে নিচে। এই ক্ষেত্রে কবিতা, গান, নাটকের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য করা হলো না, কারণ এই বিষয়গুলি আরও বেশী করে পরস্পর-সংযুক্ত বা ওভারল্যাপড ছিল।
.
.
প্রচলিত ধারা থেকে উদাহরণ:
-------------------------
*
&quot;I come not, friends, to steal away your hearts:&quot; (জুলিয়াস সিজার, শেক্সপিয়ার) [উচ্চারণে আভিজাত্যের দোলা, দৃশ্যগুণে জমজমাট। জনসমক্ষে মার্ক এন্টনি-র ভাষণের দৃশ্য]
*
&quot;Good night, good night! parting is such sweet sorrow,
That I shall say good night till it be morrow.&quot;(রোমিও এন্ড জুলিয়েট, শেক্সপিয়ার) [চরম প্রেমাবেগের শ্রুতিমধুর প্রকাশ। সারারাত ধরে সুমধুর বেদনায় &#039;শুভরাত্রি&#039; বলে যেতে থাকব]
*
&quot;আমার  সকল কাঁটা ধন্য করে ফুটবে গো ফুল ফুটবে। 
আমার  সকল ব্যথা রঙিন হয়ে গোলাপ হয়ে উঠবে&quot; (রবীন্দ্রনাথের গান, পূজা ২৯৩) [দর্শন ভাবনার প্রকাশ, উচ্চারণের আনন্দ, বাঙালির মেঠো-সহজতা, পরিচ্ছন্ন শব্দ]
*
&quot;শঙ্খ নদীর দক্ষিণ কূলে শঙ্খ নদী মোড়। 
সাধু খাঁ, সাবেরিদ খাঁ তারা দুই ঘর।। 
মহর্ত্ত (মহন্ত) সকল জান রাজার সঙ্গে ছিল। 
সেই সব সকলেরে খোঁআঝাগিরি [আরাকান রাজ প্রবর্তিত সম্মানসূচক খেতাব] দিল।। 
কহে হীন সাবেরিদ খাঁ এহার রহস্য । 
বচনে না ধরে যারে সে নহে মনুষ্য।।&quot;
(মোগল আগমন পূর্ব  দক্ষিণ চট্টগ্রামের পদ রচয়িতা শাহ বারিদ খাঁ / সাবিরিদ খান-র উদ্ধারকৃত পুঁথির অন্তর্গত। ঐতিহাসিক ঘটনার বয়ান। রাজা বা অভিজাত মণ্ডলীর গুণগান। উচ্চারণ, মুখস্থ করা এবং আবৃত্তি বা প্রচারে সহজতা। শ্রবণকারীদের বিনোদন) 
*
&quot;সোনার হাতে সোনার কাঁকন কে কার অলংকার
কে জানে তার এ রূপ দিল সে কোন মণিকার&quot; 
(সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের গান। একাধিক সাহিত্যিক অলঙ্কারের বুদ্ধিদীপ্ত, রসিক প্রয়োগ)
.
.
নতুন বা আবর্তিত ধারা হতে উদাহরণ:
----------------------------------
এই ধারার কবিতাতে যেন &#039;অতিরিক্ত&#039; কিছু একটা জিনিস এসে মিশছে। কবিতাতে &#039;অতিমানুষিক&#039; কিছু একটার প্রবর্তন স্বীকৃত হয়েছে। কেউ কেউ একে নবীত্বের সাথে তুলনা করছেন। যেমন, নবীদের মনের ভিতরে যেভাবে ঐশ্বরিক বাণী এসে নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে প্রকাশ পেত। কবিতাও তেমনই যেন, হঠাৎ হঠাৎ এসে কবির ভিতরে ধরা দেয়। কবির কিছু করার থাকে না। অটোমেটিক রাইটিং যেন। সেইসব কবিতায় এমন কিছু একটার প্রকাশ ঘটে যা কিনা বিরল, সেটা যেন কিছুটা অতিমানবিক, ঐশ্বরিক, ব্যাখ্যা করা যায় না, কিন্তু পাঠক ঠিকই শেষপর্যন্ত কোনো একটা অতিরিক্তের ছোঁয়া পান, টের পেয়ে যান -এইরকম একটা কিছু। একটা &#039;জীবন্ত&#039; ভাবনার পুনর্জন্ম যেন সংঘটিত হয় পাঠকের মনে। 
.
এই ব্যাখ্যাতীত জিনিসগুলাও আবার পাঠককে ঠিক সব সময় ধরা দেয় না। হঠাৎ হঠাৎ ধরা দেয়। পাঠকের সেই কবিতার অন্তর্গত বিষয় সম্পর্কে হয়ত পূর্ব প্রস্তুতির দরকার থাকে। এমনকি, কবিতাটি পাঠ করার সময় পাঠকের মানসিক অবস্থা কী অবস্থায় আছে - সেটাও প্রভাব ফেলবে, কবিতার সেই &#039;ম্যাজিক&#039; বা &#039;রহস্য&#039;টা পাঠক বুঝবেন নাকি বুঝবেন না।
.
একই কবিতা সকালে পড়লে এক রকম, আবার বিকালে পাঠ করলে আরেক রকম।
.
এই ধারাতে ফেলে নানারকম উদাহরণ দেয়া যায়। প্রথমেই জীবনানন্দের অনেক উদ্ধৃত এই বাক্যাংশ টি:
*
&quot;উটের গ্রীবার মতো কোনো-এক নিস্তব্ধতা এসে...&quot;
(আট বছর আগের একদিন, জীবনানন্দ দাস)
*
নিস্তব্ধতা উটের ঘাড়ের মতো হবে কিভাবে। অথচ, কোনোরকম অর্থ বা ব্যাখ্যা খুঁজে না পাওয়া গেলেও, জিনিসটা যেন বোঝা বা টের পাওয়া যেতেসে যেন।
*
&quot;Let us go then, you and I, When the evening is spread out against the sky Like a patient etherized upon a table&quot;
(লাভ সং অফ জে আলফ্রেড প্রুফ্রক, টি এস এলিয়ট)
.
তুমি আর আমি চলো যাই, সেইরকম এক সন্ধ্যায়, যখন সন্ধ্যাটাকে অপারেশনের টেবিলের উপরে শুয়ায়ে রাখা অচেতন করা একজন রোগীর মতো লাগতেসে । সন্ধ্যা আর রোগীর মধ্যে তুলনা করার মধ্যে অবশ্য একটা সাধারণ গুণ পাওয়া যেতেসে, যেইটা অনূহ্য আছে। এই গুনটা হতে পারে, ফ্যাকাসে ভাব টা। সন্ধ্যা সেইরকম ফ্যাকাসে আর ভবিষ্যৎ বিহীন, যেমন অচেতন রোগীটাও ফ্যাকাসে আর ভবিষ্যৎ বিহীন, আশা ত্যক্ত আর ভীত। কিন্তু তারপরেও, এই তুলনার মাধ্যমে শুধু ফ্যাকাসে জিনিসটাই না, বরং আরও আরও অনেক বিষয় এসে এক ধাক্কায় প্রকাশ হয়ে যেতেসে, যেগুলা যেন ঠিক ঠাক যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয় না।
*
একই কবিতায়:
“I grow old … I grow old …
I shall wear the bottoms of my trousers rolled.” 
বয়েস বাড়ার সাথে সাথে ফুলপ্যান্টের নিচের অংশটা গুটায়ে নিয়ে পরার কোনোরকমের সম্বন্ধই নাই, একটা শিশুই যেন সেইটা বেশি করে, অথচ, তারপরেও, এই লাইন যেন অন্য কোনো এক ধরণের মিনিং ক্যারি করে। এইটা পাঠককে অন্যভাবে এসে (হঠাৎ হঠাৎ) টাচ করে, যেটার ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব না।
*
&quot;স্বাধীনতা তুমি পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন&quot;
(স্বাধীনতা তুমি, শামসুর রাহমান)
এটার ব্যাখ্যা দিতে হলে কয়েক ধাপে যুক্তি পরম্পরায় ব্যাখ্যা দিতে হবে, কিন্তু প্রাথমিক ভাবে এসেই, লাইনটা কোনোরকম যুক্তি ছাড়াই পাঠককে আঘাত করে। শামসুর রাহমানের একইরকমের একটা জ্বলজ্বলে দৃশ্য ছিল ঢাকার নিউমার্কেট, পাঞ্জাবির বোতাম ইত্যাদি নিয়ে।
*
&quot;রেলব্রিজে একা&quot; - (রেলব্রিজে একা। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। কবিতার শিরোনামের এই দুই শব্দ মিলেই একটা অন্যরকম ভাবের জন্ম দিতেসে যেন।)
*
&quot;[নীরা, তোমায়] দেখেছি ছুরির মতো বিঁধে থাকতে সিন্ধুপারে–দিকচিহ্নহীন–&quot; (হঠাৎ নীরার জন্য, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, অর্থ ক্যারি করে বটে। একটা মানুষ একটা সমুদ্রের পাড়ে একটা ছুরির মতো বিঁধে আছে, অথচ, এই বাক্যাংশটি যেন আরও কয়েক গুণ বেশি অর্থ প্রকাশ করে, যেটা হঠাৎ ব্যাখ্যা করা যেতেসে না। এটা ঠিক প্রেম-বোধও না। অথচ প্রেম বোধের চাইতে আরও অনেক বেশি)
.
***
.
দেখা যেতেসে যে, নতুন-তর ধারার যেই কয়টা উদাহরণ দেয়া হলো তাদের সব কয়টাই, বেসিকালি, কবিতার চিত্রগুণ বা দৃশ্যগুণ-কে নির্ভর করে জন্ম নিসে। (গঠনগত শৈলীর প্রভাব-ও কিছুটা আছে বটে)। লাইনগুলা পড়ে একটা দৃশ্য জন্ম নিতেসে পাঠকের মনে, আর সেই দৃশ্যটাই পরবর্তীকালে বৃহত্তর, ভিন্নতর অর্থ বা ভাবনার ডালপালা মেলে দিসে।
.
কিন্তু, আরো কিছুটা খুঁজলেই এইরকম পাওয়া যাবে যে, পরবর্তীকালের বাংলা কবিতায়, যেইখানে এই &quot;ব্যাখ্যাতীত অনুরণন&quot;টি স্রেফ দৃশ্যকে নির্ভর করে জন্ম নেয় নাই। পরস্পর সম্বন্ধ-বিহীন শব্দ, এমনকি নিরর্থক শব্দ মিলেও একইরকম ব্যাখ্যাতীত কিংবা তৃতীয় একটা বোধের জন্ম দিয়ে গেসে। শব্দ পরম্পরায় সুনিপুন ধ্বনি-গুন, যুক্তিগুণ, কু-যুক্তিগুণ অথবা অন্য কোনো ধরণের টেকনিক ফলো করেও এই &quot;তৃতীয় অনুরণনের&quot; প্রকাশ করা সম্ভব হতে পারে।
.
***
.
তো আমার কথা হলো, &quot;Poetry doesn&#039;t belong to those who write it; it belongs to those who need it.&quot; - এই বাক্যটাকে, পুরনো ধারার কবিতার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সম্ভব হলেও, পরের ধারার কবিতার ক্ষেত্রে যেন এর প্রয়োগ বেশী করে করা সম্ভব। এইটা যেন পরের ধারার কবিদেরই কথা।
.
&quot;কবিতা একবার লেখা হয়ে গেলে সেই কবিতার উপরে কবির আর মালিকানা থাকে না&quot;। -এইরকম কথা অনেক সময়েই শোনা যায়। &quot;কবিতাটা লেখা হয়ে গেলে পর সেইটা পুরাপুরি পাঠকের সম্পত্তি হয়ে যায়। পাঠক যেইভাবে ব্যাখ্যা করবে, কবিতাটি ঠিক তাই - কবির সেইক্ষেত্রে আর কিছুই বলার থাকে না&quot; - এইরকম কথা অনেকেই বলে থাকেন। বিশেষ করে ঐ নতুন ধারার পাঠক-কবিরাই যেন এই কথা বেশি বেশি করে বলেন। 
.
কিন্তু এই লেখার শুরুতে উদ্ধৃত বাক্যাংশটিতে আরও এক ধাপ আগায় গিয়ে বলা হতেসে যে &quot;it belongs to those who need it&quot;। খেয়াল করা যেতে পারে, এইটা কিন্তু বলা হয় নাই যে &quot;it belongs to those who read it&quot;, বরং বলতেসে &quot;who need it&quot;
.
মানে অনেকেই কবিতাটা পড়তে পারেন, কিন্তু যাদের ভিতরে ঐ কবিতাটার জন্য প্রয়োজন তৈরি হইসে ইতিমধ্যে, কবিতাটা তাদের জন্যই। আপামর সকল পাঠকের জন্য নয়। কবিতা পাঠের সেই বিশেষ ক্ষণে সেই বিশেষ-ভাবে পিপাসার্ত পাঠকের মনেই কবিতাটির পুনর্জন্ম লাভ হবে। সেই বিশিষ্ট পাঠক সেইটা অনুধাবন করতে পারবে। 
.
উদ্ধৃতাংশের এই ধারণাটা যেন মোটা দাগে আমার ব্যাখ্যা করা দ্বিতীয় ধারার কবিতার সাথেই বেশি করে যায়। আগের বা পুরনো ধারার কবিতা বেশিরভাগ পাঠক পাঠ-মাত্র, চেষ্টা করলেই পারবে। কিন্তু নতুন ধারণের কবিতাগুলি তাদের জন্যেই, যারা ঠিক সেই কবিতাটির জন্যে তৃষ্ণার্ত আছেন।
***
.
[কবিতা নিয়ে আরও অনেক ধরণের কাটা ছেঁড়া হইসে। এটা অনেকেই জানেন। উত্তরাধুনিক কালে এসে কবিতার ক্ষেত্রে কবির স্বকীয়তা, কবিতায় নবীত্বগুণ, তৃতীয় অনুরণন প্রভৃতিকে বহুল পরিমাণে কাটা ছেঁড়া করে কিছুই আর বাকী রাখা হয় নাই। তারপরেও, একটা সাময়িক ধারণার সাময়িক প্রকাশের জন্য উপরের কথা গুলা বলে রাখা যেতে পারে। এখনকার কিছু কবিতা বা কবিতার ক্রমানুযায়ী ভাবধারা বিশ্লেষণে হয়ত সহায়তা করে থাকবে]</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/32575/</link>
				<pubDate>Tue, 07 Sep 2021 18:06:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মোটা দাগে কবিতার দুই ভাগ</p>
<p>&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;<br />
&#8220;Poetry doesn&#8217;t belong to those who write it; it belongs to those who need it.&#8221;<br />
.<br />
সকালে একজন ফেবু-বন্ধুর শেয়ার করা ফেবু-স্টোরি তে একটা ইমেজের মধ্যে এই বাক্য দেখে ভালো লেগে যায় ফলে এর পরে পরে গুগলে সার্চ করে বাক্যটার উৎস সম্পর্কে কিছুটা জানার উদ্যোগ নেয়া হয়। The Postman (IL POSTI&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-32575"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/32575/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>17</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b075d987144943a0fb419c238a1afaf5</guid>
				<title>&quot;কি সুন্দর মালা আজি পরিয়াছ গলে,
প্রচেতঃ! ...&quot;

(সাগরের উপরে ব্রিজ। ব্রিজ = মালা)

মেট্রো-রেল অথবা র&#x200d;্যাপিড ট্র্যানজিটের জন্যে ঢাকা শহরে নির্মানাধীন আধা আধা ব্রিজগুলা দেখলে  মেঘনাদবধ কাব্যের এই লাইন মনে পড়ে। 

এই করোনা-গ্রস্ত নীরব শহরে তাও সেই সুঠাম কবিকে স্মরণ করার একটা উসিলা পাওয়া গেল। এটাই বা কম কি। উনি একা হাতে বাংলা কাব্যের জন্য যা করছেন - সেগুলি সম্পূর্ণ নাকি এখনও আলোচকেরা লিখে শেষ করে উঠেন নাই। এরকম অনেকে বলেন। 

সৈয়দ মুজতবা আলীর ১১ খণ্ড রচনাবলি সেইদিন একসাথে সামনে পেয়ে প্রথমেই একাদশ খণ্ডের প্রথম পাতাটা খুলে এই লাইনগুলি পাওয়া যায় :

&quot; ... পঞ্চাশ বছর পূর্বে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে বাঙলা ক্লাস নেবার সময় কেউ যদি &#039;বলাকা&#039;র কোনও অপেক্ষাকৃত বিরল শব্দের অর্থ বলতে না পারত তিনি তখন হরহামেশা শাসাতেন, &#039;দাঁড়া! তোদের তা হলে &quot;মেঘনাদ&quot; পড়াব, তখন বুঝবি কঠিন শব্দ কাকে বলে! ... &quot;

মুজতবা আলীর লেখার শিরোনাম: &quot;মধুহীন করিনি তো মোরা মনঃ কোকনদে&quot;। 

বুঝা গেল, মুজতবা আলী নিজেও ট্রাই নিছিলেন মধুর মতো লিখতে, অন্তত একটা শিরোনামে, হা: হা:। লেখাটা অবশ্য ছিল কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তকে নিয়েই।

***

&quot;...অভিমানে মহামানী বীরকুলর্ষভ
রাবণ, কহিলা বলী সিন্ধু পানে চাহি;—
“কি সুন্দর মালা আজি পরিয়াছ গলে,
প্রচেতঃ! হা ধিক্, ওহে জলদলপতি!
এই কি সাজে তোমারে, অলঙ্ঘ্য, অজেয়
তুমি? হায়, এই কি হে তোমার ভূষণ,
রত্নাকর? কোন্ গুণে, কহ, দেব, শুনি,
কোন গুণে দাশরথি কিনেছে তোমারে? ...&quot;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17596/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Jul 2021 14:00:08 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;কি সুন্দর মালা আজি পরিয়াছ গলে,<br />
প্রচেতঃ! &#8230;&#8221;</p>
<p>(সাগরের উপরে ব্রিজ। ব্রিজ = মালা)</p>
<p>মেট্রো-রেল অথবা র&#x200d;্যাপিড ট্র্যানজিটের জন্যে ঢাকা শহরে নির্মানাধীন আধা আধা ব্রিজগুলা দেখলে  মেঘনাদবধ কাব্যের এই লাইন মনে পড়ে। </p>
<p>এই করোনা-গ্রস্ত নীরব শহরে তাও সেই সুঠাম কবিকে স্মরণ করার একটা উসিলা পাওয়া গেল। এটাই বা কম কি। উনি একা হাতে বাংলা কাব্যের জন্য যা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-17596"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/17596/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>17</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1b060d1e5fdd1462afced2c1966302c1</guid>
				<title>চাঁদ সদাগর changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17587/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Jul 2021 13:41:05 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">de0ed4d1bdfd98a286d1a6950855b295</guid>
				<title>চাঁদ সদাগর and অভিমানী মন are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17571/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Jul 2021 13:20:47 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">de0ed4d1bdfd98a286d1a6950855b295</guid>
				<title>চাঁদ সদাগর and Neel tripura are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17570/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Jul 2021 13:20:47 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7019337e270b64344da697225d6e1f20</guid>
				<title>চাঁদ সদাগর and Drako Shajib are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17569/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Jul 2021 13:20:46 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7019337e270b64344da697225d6e1f20</guid>
				<title>চাঁদ সদাগর and দারাশিকো are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17568/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Jul 2021 13:20:46 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">213cc5f372fe3f66f9d0ba8d6e9fecd5</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/3783/</link>
				<pubDate>Tue, 02 Mar 2021 07:53:16 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>