<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | এনাম রাজু | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/enam1raju/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/enam1raju/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for এনাম রাজু.</description>
	<lastBuildDate>Tue, 28 Jul 2026 03:30:16 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">f21bf04f8ea18d4e919cf55aee774e76</guid>
				<title>একটি মৃত্যু ও আমি
এনাম রাজু
নতুন চাকরিতে জয়েন করেছি, সাত-আট মাস কেটে গেলেও নিজের কাজ কি তা এত দিনেও পুরোপুুরি বুঝে উঠতে পারিনি। তবে যা কাজ করছি, তাতে আনন্দ পাচ্ছি। কারণ লেখালেখি আর পুস্তক ঘাঁটাঘাঁটি করাই এখন পর্যন্ত কাজ। ভালো লাগার পাশাপাশি খুব খারাপ লাগে যখন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হয়। সূর্য ওঠার আগে জেগে উঠতাম সেই ছাত্রজীবনে। তখন পড়াশোনার চাপ ছিল, অভিভাবক ও শিক্ষকের তাড়া ছিল। গত দুই বছরের অভ্যাসে বেশ পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু এখন চাকরিজীবনে এসে নতুন করে ছাত্রজীবনের সেই কাজটা করতে কষ্টই হচ্ছে।
মুয়াজ্জিনের ডাক কানে যেতেই বিছানা ছেড়ে অজু করে নামাজ শেষ করে মনের আনন্দে বাগানের গাছগাছালি আর ফুল-পাখিদের সাথে ভাবের আদান-প্রদান চলে। ধীরে ধীরে পাখিদের সাথে সখ্যও তৈরি হয়।
আজ ফজরের নামাজ পড়েই ফুলগাছে পানি আর পাখিদের খাবার দিয়ে ডায়াবেটিস রোগীর মতো হালকা কদমে কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করে বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে পোশাক পাল্টে নিয়ে বের হয়ে পড়তে হয় বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে। গন্তব্য নীলক্ষেত, বই বাঁধাইয়ের দোকানে। অনেক দিন আগে কিছু পুরনো বই বাঁধাই করতে দেওয়া হলেও বিভিন্ন কাজের ব্যস্ততায় তা আনা হয়নি। 
ঢাকার রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামের যে অবস্থা, তাতে বাসে উঠে বেশ ভালোই ঘুমানো যাবে। সকালের ঘুমটা বাসেই হয়ে যাবে। আর সকালের ঘুমের একটা দারুণ তৃপ্তি আছে। যদিও ধর্ম বা বিজ্ঞান কেউই তা স্বীকার করে না। 
কিন্তু বাসে উঠে সেটা হলো না। কারণ পাশের সিটে এসে বসল পঞ্চাশ-ষাট বছরের এক পোশাকি যুবতী। মেয়েমানুষ পাশে বসলে ঘুমানো মুশকিল। সেটা ঘরে হোক আর বাসে হোক। মনটা খারাপ হয়ে গেল। কী আর করি, পকেট থেকে মোবাইল ফোনটি বের করে বাড়ির খবরাখবর জানতে ছোট বোন তৃষ্ণাকে ফোন দিই। কথা শেষ করে কিছু সময় গেম খেলে সময় কাটানোর চেষ্টা করলাম। কিছুই জুতসই হলো না, মনটা খারাপ হয়েই রইল একটু ঘুমাতে না পারার জন্য। 
বাস থেকে নেমেই দেখি মার্কেট বন্ধ। আজ মঙ্গলবার, সাপ্তাহিক ছুটি। বিষণ্ন মন নিয়ে মিসেস সৈনিককে বিষয়টি জানাতে ফোন করি। মিসেস প্রফেসরকে আম্মা বলেই সম্বোধন করি, তাতে নিজের বুকটা শান্তিতে ভরে যায়। ঢাকার মতো শহরে কাউকে যে আম্মা ডাকাটাও বড় প্রাপ্তি, যার মা নেই; সেই বুঝতে পারবে। যদিও গ্রামে আমার গর্ভধারিণী এখন জীবিত।
মিসেস প্রফেসর অল্পতেই রেগে যান কোনো কিছু সম্পূর্ণ না শুনেই। পরে বুঝিয়ে বললে আবার বুঝতে পারেন। কিন্তু তাতে কী আর হয়! মন তো যখন খারাপ হওয়ার তা হয়েই যায়। অবশ্য মনটা ইদানীং মিনিট চারের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়। তা ছাড়া মিসেস প্রফেসরের ভালোবাসা আর একাকিত্ব বুঝতে পারি। তাই মিসেস প্রফেসর যত রাগ হোক সাময়িক মন খারাপ হলেও আবার সবকিছু পজেটিভ ভেবে মনকে সান্ত্বনা দিই। ঠিকই তো, যখন অর্থের অভাবে কঠিন সময়ের স্রোতে মাঝ নদীতে হাবুডুবু খাচ্ছি, তখনই তো এ চাকরিটা পাই। তা ছাড়া বিভিন্ন সময় বিপদে-আপদে তিনি তো ভরসার প্রদীপ। যে ভালোবাসা দিয়েছেন তা কী করে ভুলে যাব? ভালোবাসার কোনো প্রতিদান দিতে নেই, প্রতিদান হয়ও না। জীবনে কিছু মানুষ আছে যাদের রাগ আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয়। মাঝে খারাপ লাগে।
ভালো-খারাপ তো দুটি বিষয় খুবই প্রাসঙ্গিক জীবনের সাথে। তাই ভালোবাসাকে আর পাওয়াটাকেই মনে রাখতে হয়। বিবেকবর্জিতরা অবশ্য ভিন্ন পথেই চলে। নিজেকে তো আর বোধহীন মানুষ ভাবতে পারি না। ভয়ে ভয়ে ফোন দিই মিসেস প্রফেসরকে। মিসেস প্রফেসর মার্কেট বন্ধ শুনে নিজেও কষ্ট পান। 
নীলক্ষেত থেকে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। পথিমধ্যে বাস সিগন্যালে পড়ে। অনেক্ষণ মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থেকে ভালো লাগছে না। তাই বাসের জানালা ভেদ করে বাইরের দিকে একনজর রাখতেই চোখে পড়েÑএকটু দূরে এক বৃদ্ধ রিকশাওয়ালা হাঁপাচ্ছে। এতটাই হাঁপাচ্ছে যে, মনে হয় এখনেই পড়ে যাবে মাটিতে। দিনটা প্রচুর গরম, তার ওপর বেচারা রিকশা চালায় বৃদ্ধ বয়সে। খুবই দুঃখজনক। মাঝে মাঝে মনে হয় সমস্ত দেশের দরিদ্রতার এবং কষ্টের ভার একাই বহন করি। তাতেও যদি দেশটা সুন্দর হয়, যেমন সুন্দর ছিল গৌতমের ছোটবেলার পরিবেশ। আবার কখনো কখনো ভাবি সমস্ত দেশ তো সবুজ করতে পারব না, তাই নিজের গ্রামটা যাতে সুন্দর ও ভালো হয়। সে কাজগুলো করব। ইতোমধ্যে এসএসডিও নামে যে সংগঠনটা করেছি তার মূল লক্ষ্য ছাত্র-ছাত্রীদের এবং সমাজের উন্নয়নে সাহায্য করা। সকলকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করা। 
কিছুক্ষণ পর আবার বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে দেখা গেল আগের চেয়ে এখন একটু বেশি হাঁপাচ্ছে। সেই সাথে পকেট থেকে কী যেন একটা জিনিস বের করে বারবার ঝাঁকাচ্ছে এবং পকেট থেকে টাকা বের করে হিসাব করছে। এক মিনিটের মধ্যে বেশ কয়েকবার পকেট থেকে টাকা বের করে হিসাব করছে। আবার পকেটে রাখছে। যতটা না হাঁপাচ্ছে তার চেয়ে বেশি একটা ছোট বোতল ঝাঁকাচ্ছে। এত বেশি অস্থির দেখাচ্ছে বৃদ্ধকে যে, এই দৃশ্য নিজের চোখে না দেখলে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। খুব শক্ত অভিনেতাও এই সময়টি আর চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পারবে না। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে এমন দৃশ্য চলছে। কেউ ভ্রƒক্ষেপও করছে না। ব্যস্ত এই শহরে কে কার খবর রাখে। খবরের পাতার খবরই রাখে না মানুষ আবার রাস্তার মানুষের খবর। বাংলাদেশি টিভি চ্যানেলও তো দেখা বন্ধ করে দিয়েছে হিন্দি সিরিয়ালের দৌরাত্ম্যে।
অস্থিরভাবে রাস্তার পাশে একবার বসছে আবার দাঁড়াচ্ছে। ধীরে ধীরে বৃদ্ধের হাঁপানি বেড়েই যাচ্ছে। এবার কৌতূহলি মন নিয়ে বাস থেকে নেমে কিশাওয়ালার কাছে যাই। খুব সম্মানের সাথে জিজ্ঞেস করি, চাচা, কোনো সমস্যা আপনার? আমার কথা শুনে সে স্থির হওয়ার চেষ্টা করেও পারছে না। আমার মুখ দেখার চেষ্টা করছে। চাচা মনে হয় একটু অবাক হয়েছে প্রশ্ন শুনে। হয়তো একটু শান্তিও পেয়েছে। আসলে মানুষের যখন বয়স বেড়ে যায়, তখন সে চায় কেউ তার খবর রাখুক। কেউ একটু ভালোবাসুক। 
আমার দিকে তাকিয়ে বলল, আরো অনেক লাগে। এর বেশি কিছু বলতে পারছে না। পকেট থেকে ওষুধের একটা বোতল বের করে দেখায়। প্রথম প্রথম বুঝতে না পারলেও পরে ওষুধের বোতলটি দেখার পর বুঝতে পারলাম সে গরমে এমন করছে না। কারণ আমার দাদুও এমন একটি বোতল সবসময় পকেটে রাখত। এই বোতল কেন রাখত সেটা তখন বুঝতাম না ছোট থাকার কারণে। এখন জানি, এ বোতলটি ছিল কয়েকটি রোগের কার্যকর ওষুধ। এটা ছাড়া চলা ছিল দাদুর মরণপথে যাত্রা। পরে দাদু মারা গেলে অনেকে ছোট চাচার ঘাড়ে দোষ চাপায়। তিনি সময়মতো দাদুর প্রয়োজনীয় ওষুধ দেননি। ভালো করে তার দেখাশোনা করেননি। সত্তর-আশি বছরের মানুষের সাথে বসবাস করা আর তাকে দেখাশোনা করা মানেই হচ্ছে আপনি ষাট বছরের অভিজ্ঞ কোনো নার্স। সেই সাথে একটি দুষ্টু প্রকৃতির শিশুর মা। 
চাচা কোনো কথা না বলতে পারায় শুধু ইশারায় বোঝাতে চেষ্টা করলÑতার ওষুধ শেষ। ওষুধ কিনতে না পারলে যেকোনো মুহূর্তে জীবননাশ হতে পারে। আরো টাকাও লাগবে। 
এমন সিগন্যাল আর রাস্তায় জ্যাম ঠেলে সামান্য টাকাই আয় করেছে। তা ছাড়া বয়সে ভারী হওয়ার কারণে অনেকেই তার রিকশায় উঠতে চায় না। অন্য রিকশাওয়ালা যেখানে আড়াই থেকে তিনশ টাকা আয় করেছে, সেখানে তার উপার্জন মাত্র সত্তর টাকা। নিজের ওষুধ সাথে গৃহিণীর ওষুধও। যদিও বাড়ির মানুষটির জন্য আজকে না কিনলেও তেমন ক্ষতি হবে না জানালো। বৃদ্ধের সন্তান-সন্ততির কথা জানতে চাইলে প্রথমে কিছুই বলল না। অনেকবার জিজ্ঞেস করাতে ইশারা করে দেখিয়ে দিল একটি দোকান। বেশ বড়সড় দোকান। সেটা তার ছোট ছেলের। আরো একটি ছেলে আছে। সে সিএনজি চালায়। মেয়ের কথা বললে কেঁদে ফেলল। কারণ অল্প বয়সে ফুটফুটে মেয়েটা মারা গেছে সাপের কামড়ে। 
বৃদ্ধ আত্মসম্মানে ভরপুর। আমার পকেটে অতিরিক্ত টাকা নেই। যে টাকা আছে তা আম্মার। এই টাকা আমি কোনোভাবেই খরচ করতে পারব না। কারণ হিসাব করেই নিয়েছি টাকা। আবার এই টাকা দিলে ফুলগাছের পাথর আর টব কেনা হবে না। অবশ্য আম্মাকে বললে কিছুই বলবেন না। কারণ দুই হাত ভরে দান করার অভ্যাস আছে আম্মার। প্রতিদিনি যে কত টাকা গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছেন তার খবর তো শুধু তিনিই জানেন। অবশ্য অন্য কেউ জানার কথাও না। বরং অন্যের উপকার হয়েছে শুনলে খুশি হবেন। মুখ্য সমস্যা হচ্ছে এত দূর এসে কাজ হাসিল না করে খালি হাতে ঘরে ফেরাটাও যে নিজের কাছে নিজেকে ছোট করা। এমনিতেই অনেক কাজ সময়ের অভাবেই হয় না। তা ছাড়া এত দূর সময় বের করে আসা যে কত কষ্টসাধ্য আর কত দিনের ব্যাপার তাও হিসাব করে দেখতে হয়। সারাদিন বৃথাই যাবে। এত কষ্ট করে নীলক্ষেত আবার সেখান থেকে শাহবাগ। ঢাকা শহরে গৃহবন্দি থাকা ভালো। তবুও কাজ নিয়ে রাস্তায় বের হওয়া উচিত না। কিছুদিন আগে পত্রিকার হট শিরোনাম ছিলÑজ্যামে আটকা পড়ে হসপিটালে যাওয়া হলো না গভবর্তীর। রাস্তায় সন্তান প্রসব। এত কিছু ভাবার সময় নেই। যেকোনো মুহূর্তে বাস ছাড়তে পারে। আবার বৃদ্ধের শরীরের অবস্থাও বেশ খারাপের দিকে এগোচ্ছে। পকেট থেকে টাকা বের করে দিতে চাইলাম বৃদ্ধকে। বৃদ্ধ টাকা নেবেই না। সে ভিক্ষা করতে বা কারো করুণা পেতে পৃথিবীতে আসেনি। তা ছাড়া নিজের ছেলেই যখন তাকে অসহায় রেখে সুখে আছে। তখন অন্যের দয়ায় বাঁচতে চায় না। অনেক বলে-কয়ে রাজি করাতে না পেরে শেষে নিজের নাম, ঠিকানা আর মোবাইল নাম্বার একটা কাগজে লিখে দিয়ে বলি, আপনি আমাকে টাকাটা পরে দিয়ে দেবেন। 
ইতোমধ্যে বাস ছেড়েছে। কোনো রকমে বৃদ্ধের হাতে তিন শ টাকা দিতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে। আর ভাবছি, এত টাকা অকারণে খরচ করছে মানুষ। অথচ তিন শ টাকা বৃদ্ধকে দিতে পারছে না। আবার বৃদ্ধও কতটা অসহায় যে তিন শ টাকার জন্য ওধুষ কিনতে পারছে না। বারবার বৃদ্ধের সেই হাঁপানো আর পকেট থেকে টাকা বের করে হিসাব করার দৃশ্যটা চোখে ভাসছে। বৃদ্ধ নিজেও জানে পকেটে যে টাকা আছে সেটা যতবারই হিসাব করুক না কেন তার থেকে এক টাকাও বেশি হবে না। তবু বারবার হিসাব করার মাঝে জীবন খুঁজে ফেরার যে করুণ চেষ্টা তা ভুলতে পারা সম্ভব নয়। 
শরীর শীতল হয়ে আসছে। বাস থেকে নেমে একটা চা খেলাম। যদিও বাইরের দোকানে কিছুই খাওয়ার তেমন অভ্যাস নেই। কারণ একটাই, পকেটে অতিরিক্ত টাকাই থাকে না। অনেক দিন পরে চায়ে ঠোঁট ভিজল। আজকে চায়ে আনন্দ পাচ্ছে। মনে মনে ভাবছে বৃদ্ধ আর তার পার্থক্য? বৃদ্ধও অর্থহীন, সেও অর্থহীন। তবে বৃদ্ধের মতো ভুল করার মতো মানুষ সে না। তাই অনেক আগেই সিদ্ধান্ত পাকা করেছে বিয়ে করার মতো ভুল সে করবে না। এমন একা জীবনেই ভালো। 
চা খাওয়া শেষ করে গ্রামে ফোন করলাম মাকে। ফোন করে মাকে বললাম বিস্তারিত। মায়ের হাতে টাকা নেই। তবু ছেলের এমন কাজে মা গর্বিত। ছেলেকে আশ্বাস দেন, একটু অপেক্ষা করতে বলেন। 
আমি নিশ্চিত, যেভাবেই হোক মা টাকা ম্যানেজ করে পাঠাবেন। এই ফাঁকে দোকানদারকে আরো একটি চা দিতে বলি।
মা টাকা পাঠিয়েছেন। সেই টাকা দিয়ে পাথর কিনে হাঁটতে শুরু করি মালিবাগের পথে। কিছু দূর যাওয়ার পর রাস্তায় জ্যাম দেখে আবার উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করি। শাহবাগ চত্বর থেকে একটু দূরে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখে সেদিকে ভ্রƒক্ষপ না করে বাসার উদ্দেশ্যে জোর কদমে হাঁটতে থাকি। 
সারাদিনের কাজের ব্যস্ততায়ও সেই বৃদ্ধের ও তার কথোপকথন ভুলতে পারি না। কতটা অসহায় কিশাওয়ালা সে পিতা! এ ভেবে ভেবে কোনো কাজই ভালো করে করতে পারছি না। সব কাজই ভুল হতে থাকে।
রাতে ঘুম আসে না। ছাদে হাঁটাহাঁটি করতে করতে রাত শেষ হয়ে আসে। সকালে আম্মা আদর করে যখন খেতে বলেনÑতখন খেয়ে কাজে লেগে পড়ি। 
আজ সারাদিন বড্ড কাজের চাপ গেছে। রাতে রুমে ফিরে ফ্রেশ হয়ে একটু আরাম করে বসতেই মনে হলো আজকের পত্রিকা দেখা হয়নি। টেবিল থেকে পত্রিকাটি হাতে তুলে নিতেই প্রথম পাতায় একটা ছোট শিরোনামে চোখ আটকে যায়Ñ‘গরমে রাজধানীর রাস্তায় রিকশাওয়ালার মৃত্যু’।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/128556/</link>
				<pubDate>Thu, 04 Aug 2022 07:13:35 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একটি মৃত্যু ও আমি<br />
এনাম রাজু<br />
নতুন চাকরিতে জয়েন করেছি, সাত-আট মাস কেটে গেলেও নিজের কাজ কি তা এত দিনেও পুরোপুুরি বুঝে উঠতে পারিনি। তবে যা কাজ করছি, তাতে আনন্দ পাচ্ছি। কারণ লেখালেখি আর পুস্তক ঘাঁটাঘাঁটি করাই এখন পর্যন্ত কাজ। ভালো লাগার পাশাপাশি খুব খারাপ লাগে যখন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হয়। সূর্য ওঠার আগে জেগে উঠতাম সেই ছাত্রজীবনে। তখন পড়াশোনা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-128556"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/128556/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>