<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | মোঃ ফাইজুল ইসলাম | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/faijulislam/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/faijulislam/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for মোঃ ফাইজুল ইসলাম.</description>
	<lastBuildDate>Sun, 09 Aug 2026 20:09:40 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">31e3b71ab2014dee4c165e3ba6b07348</guid>
				<title>অবাক জ্যোস্না

আধুনিক যুগের বিজলী বাতির এ শহরে আমি একা &#124; হ্যাঁ আমি বড্ড একা &#124; এমন নিঃসঙ্গতায় ও মনে হয় সব সময় কে যেন আমাকে অনুসরণ করে চলে &#124; মনে হয় কারো নজরে আমি বন্দী &#124; দিনা রাত অষ্টপ্রহর কে যেন চোখে চোখে রাখছে আমায় &#124; একাকিত্বের এ শহরে সে আমাকে একা থাকতে দিচ্ছে না &#124; নিজেকে কোথাও লুকিয়ে রাখতে ইচ্ছে করে &#124; কিন্তু লুকোনোর জায়গাটা কোথায় ?
‎
‎ আর লুকোবো কখন ? দিনের বেলায় না রাতে ?
‎ রাতের জমাট বাঁধা অন্ধকারে &#124; কিন্তু এ শহরে রাত নেমে আসলেও জামাট বাঁধা অন্ধকার কোথাও নামে না &#124; অভিশপ্ত বিজলী বাতিগুলো তাদের পাপের আগুনে জ্বলতে থাকে অবিরাম &#124; সেই তেজদীপ্ত আগুনের তীব্র উজ্জ্বলতা ঝেটিয়ে দূর করে জমাট বাঁধা অন্ধকার &#124;
‎
‎ অন্ধকার এ হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ নাই &#124; আলোর বিপরীতে ছায়া &#124; এই ছায়াই আমাকে অনুসরণ করে। আমার পিছু ছাড়ে না &#124; চোখে চোখে রাখে &#124; এমন একটা সময় আসে না এ শহুরে জীবনে &#124; যে সময় কোনো আলো থাকবে না &#124;
শহর জুড়ে সারারাত বিজলী বাতির আলো &#124; রাস্তার পাশের বড় বড় ল্যাম্প পোষ্টের আলো &#124; আকাশ ছোঁয়া বিল্ডিংগুলোতে আলো নিভে না কখনো &#124; কোনো না কোন ফ্ল্যাটে আলো জ্বলবেই &#124;ব্যলকনি গুলোর কথা না ই বললাম &#124; বিশুদ্ধ চাঁদের আলো এ শহরে মিলে না &#124; পানি বাতাসের মতো এ শহরের চাঁদের আলো ও আজ দূষিত&#124; এ শহর দূষণ থেকে চাঁদের এ মায়াবী নরম আলোকেও বাঁচতে দেয়নি &#124; কী ভাবছেন ? ভাবছেন প্রোলাপ বকছি &#124; না আমি যা বলছি &#124; ঠিক বলছি &#124;
‎
‎ সে দিন রাতে হুট করে জেগে উঠলাম &#124; কেন ঘুম ভাঙ্গল বুঝতে পারলাম না &#124; দেখলাম পর্দার ফাঁক দিয়ে আলো ঢুকছে রুমে &#124; অন্ধকারে এমন আলো একটা মোহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করেছে &#124; রুপালি আলো। মনটা খুশি হলো । বিছানা থেকে উঠে জানালার কাছে গেলাম &#124;চাঁদটা দেখার ইচ্ছে হল। পর্দা সরিয়ে দেখি চাঁদের আলো না পাশের ১১তলা বিল্ডিংয়ের ৬ষ্ঠ তলার এক ব্যালকনি থেকে এনার্জি সেভিং বাল্বের আলো &#124; মনটা বিষিয়ে উঠলো &#124;
‎
‎ রূপালি আলো এখন এসব বিজলী বাতি থেকেও পাওয়া যায় &#124; তবে তার মধ্যে স্নিগ্ধতা নেই এক রত্তি &#124; আলোর উৎসের দিকে তাকানো যায় না &#124; তীব্রতা চোখ ধাঁধিয়ে দেয় &#124; বিষণ্ন হয়ে পড়ে মন &#124; মেজাজ হয় খিটখিটে &#124; হৃদয়ের কোমলতা নষ্ট করে &#124;
‎
‎ সেই কর্কষ আলো ধাঁদিয়ে দেয় চোখ &#124; ঘুম পালিয়ে যায় হাজার মাইল দূরে &#124; উদয় হয় আর এক নতুন ভোরের &#124; কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের আড্ডা শেষ করে যখন হোস্টেলে বা হল গুলোতে ফেরে তখন ঘড়িতে বাজে রাত দশটা &#124; ঘড়িতে রাত দশটা আগেই বলেছি অলক্ষুণে বিজলী বাতির বদৌলতে তখন নতুন ভোর &#124; শুরু হয় তাদের তুমুল পড়াশোনা &#124; চলে ভোর ৪ টা অবদ্ধি &#124; তারপর কি ঘুম ? না। ঘুম তখনও দু মাইল দূরে &#124; এরপর এরা সিনেমা দেখবে ফেসবুক ইউটিউবে ঝড় তুলবে &#124; ভোরের সূর্য যখন উঁকি দিবে তখন রাজ্যের ঘুম নামবে চোখে &#124; তারপর &#124; তারপর ঘুম &#124;
‎
‎অন্ধকার রাতের মাঝে কত মায়া জড়ানো &#124; রহস্যময় &#124; জমাট বাধা অন্ধকার মানেই কৌতুহল &#124; অন্ধকার মানেই ভূত _ প্রেত জিন_পরী &#124; প্রায়ই আমি নিজের শৈশবের সাথে একালের শৈশবের তুলনা করি &#124; আপন মনেই ভাবি &#124; আমাদের শৈশব ছিলো প্রকৃতি ঘেষা &#124; আমাদের শৈশব কেটেছে কাদা মাটিতে &#124; রোদে বৃষ্টিতে ঝড়ে &#124; আমাদের বেড়ে ওঠা প্রকৃতির কোলে &#124; দিন রাত কে আমরা যেভাবে চিনি-জানি এখনকার শিশু কিশোররা কি তা সেভাবে জানছে ?
‎
‎ ওই চাঁদটা নিয়েই কি কম কৌতূহল ছিলো ! চাঁদনি রাতে যখন হাঁটতাম মনে হতো চাঁদটা আমাদের সাথে হাঁটছে &#124; আমরা বেশ মজা পেতাম &#124; বারবার সামনে পেছনে হেঁটে সেটা পরীক্ষা করে দেখতাম &#124;
‎
‎ আবার ধরেন চাঁদ টার কথা &#124; কত গল্প শুনেছি &#124; চাঁদের বুড়ি &#124; চাঁদের বুড়ি বসে বসে চরকা কাটছে &#124;
‎ এ সব শুনে শুনে শিউড়ে উঠতাম &#124;
‎আরও শুনতাম, চাঁদের পরী &#124; চাঁদে থাকে &#124; নিশুতি রাতে নেমে আছে আমাদের পৃথিবীতে &#124; তাদের কাছে আছে জাদুর আয়না &#124; আলো বেরিয়ে আসে আয়না থেকে &#124; পরী যা হুকুম করে সেই আলো তা বানিয়ে দেয় &#124; আর কত কাল্পনিক গল্প ! কত রোমাঞ্চকর ছিলো সেসব রাত ! ভোর হতেই আবার কেটে যেত সকল রোমান্স &#124; তখন মনে হতো ওসব নেই কিছু &#124;
যখন অন্ধকারের চাদর গায়ে রাত আবার নেমে আসত পৃথিবীর বুকে ,তখন একে একে সব আবার বিশ্বাস হতে শুরু করতো &#124; ভয়ে রোমাঞ্চে আবার কাঁটা দিয়ে উঠতো শরীর &#124;আমরা একসাথে জড়ো হয়ে দাদা- দাদী,নানা -নানীর কাছে কত ভৌতিক গল্প শুনেছি &#124; সেসব গল্পের কিছু কিছু আজ ও মনে আছে। এই গল্প গুলোই আমাদের কাল্পনিক শক্তিকে বাড়িয়েছে বহুগুণে।
রাত আর চাঁদ আমাদের শৈশবের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মায়ের কাছে ছড়া শুনে অবাক হয়ে তাকাতাম ওই আকাশের দিকে । মা চাঁদটাকে মামা ডাকতে শিখিয়ে ছিল। মা বলতো,,,

‎আয় আয় চাঁদ মামা
‎টিপ দিয়ে যা
‎চাঁদের কপালে চাঁদ
‎টিপ দিয়ে যা।
‎ধান ভানলে কুঁড়ো দেব
‎মাছ কাটলে মুড়ো দেব
‎কাল গাইয়ের দুধ দেব
‎দুধ খাবার বাটি দেব
‎চাঁদের কপালে চাঁদ
‎টিপ দিয়ে যা।

মায়ের কোলে আমি এক চাঁদ আর আকাশে আর এক চাঁদ। আহ! কি মধুর সব স্মৃতি। যখন আরেকটু বেড়ে উঠলাম ।পা রাখলাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তখন শিখলাম কাজলা দিদি। সেখানেও নিশিরাত আর চাঁদ। মানে, রাত আর চাঁদটা ছাড়া যেন চলবেই না।
‎
‎
‎বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,
‎মাগো আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই?
‎পুকুর ধারে লেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে
‎ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না একলা জেগে রই-
‎মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?
‎
‎সেদিন হতে কেন মা আর দিদিরে না ডাকো;-
‎দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো?
‎খাবার খেতে আসি যখন, দিদি বলে ডাকি তখন,
‎ওঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো?
আমি ডাকি তুমি কেন চুপটি করে থাকো?
‎
‎বল মা দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে?
‎কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল-বিয়ে হবে!
দিদির মতন ফাঁকি দিয়ে আমিও যদি লুকোই গিয়ে-
তুমি তখন একলা ঘরে কেমন করে রবে?
আমিও নাই দিদিও নাই কেমন মজা হবে!
এমন সব আবেগ জড়ানো ছিল ওই রাত আর চাঁদের সাথে। এখন আমরা সভ্যতার শ্রেষ্ঠ যুগে বাস করছি। তাই আর পুরনো দিনের ওসব কিছুর আর দরকার নেই। বিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক ডিভাইস এর সাথে ইন্টার্নেট যুক্ত হয়ে আমাদের জীবনকে করেছে সহজ আর আরাম দায়ক।
সেই আরামের কিছু নমুনা দিলে &#x200d;বিষয়টা বুঝতে সুবিধা হবে।যেমন ধরেন ঘুমের ওষুধ না খেলে ঘুম আসে না।অতিরিক্ত মোবাইল বা টেলিভিশন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে ছোট ছোট বাচ্চাদের চোখে ভারি ভারি কাঁচের চশমা। অস্থিরতা।আরও কত কি!!!

যান্ত্রিক এ শহর ছেড়ে আমি চলে যাব ওই গ্রামীণ আবহে। মিশে যাব প্রকৃতির কোলে। রাত জেগে চাঁদের জ্যোস্নায় পরীর কেচ্ছা শুনবো। আপনি যাবেন আমার সাথে………!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/260018/</link>
				<pubDate>Sun, 09 Aug 2026 17:38:19 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অবাক জ্যোস্না</p>
<p>আধুনিক যুগের বিজলী বাতির এ শহরে আমি একা | হ্যাঁ আমি বড্ড একা | এমন নিঃসঙ্গতায় ও মনে হয় সব সময় কে যেন আমাকে অনুসরণ করে চলে | মনে হয় কারো নজরে আমি বন্দী | দিনা রাত অষ্টপ্রহর কে যেন চোখে চোখে রাখছে আমায় | একাকিত্বের এ শহরে সে আমাকে একা থাকতে দিচ্ছে না | নিজেকে কোথাও লুকিয়ে রাখতে ইচ্ছে করে | কিন্তু লুকোনোর জায়গাটা কোথায়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-260018"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/260018/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>