<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Hasin Israk Toaha | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/hasinisraktoaha/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/hasinisraktoaha/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Hasin Israk Toaha.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 15 Jun 2026 05:54:34 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">0aec81172e586d2c6d8828acbcff87b7</guid>
				<title>প্রবন্ধ: ভালোবাস।
                - হাসিন
ভালোবাসা একটি দুমুখো শব্দ। ইহার দুইটি পক্ষ থাকে, একপক্ষ ভালোবাসা পাঠায়, অন্যপক্ষ তাহা গ্রহন করে। যদি প্রেরকপক্ষ এটি না পাঠায়, তবে তাহার কোনো অস্তিত্ব নাই। আবার গ্রহীতা যদি যত্নসহকারে তাহা গ্রহণ না করে, তবে তাহা নষ্ট হইয়া যায়। ভালোবাসার শক্তি অনেক। যিনি অন্যকে ভালোবাসেন তিনি মানুষ, কিন্তু যিনি শত্রুকেও ভালোবাসিয়া আপন করিয়া নিতে পারেন, তিনি মহামানুষ। আমি ভালোবাসিতে চাই আমাকে, আমার শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গকে। ভালোবাসিতে চাই উদ্দাম-উলঙ্গ ছুটে চলা বেদে মায়ের সন্তানকে, গাজায় ফোটা কোমল শিশুকে যে জানেনা তাহার অপরাধ কি? ভালোবাসিতে চাই গ্রেনেড শেলে ভালোবেসে ফুল ফুটিয়ে দেওয়া সেই ফিলিস্তিনি তরুণ/তরুণীকে। হয়ত সে এর দামামার ঘায়ে বাঁচিয়া নাই, কিন্তু তাহার ভালোবাসা আমাদের স্বীকার করিয়া লইতে হইবে। ভালোবাসিতে চাই ম্যাক্সিম গোর্কির শব্দক্যানভাসে শব্দ দিয়ে আঁকা সেই আদর্শ মাকে, আমার মাকে, পৃথিবীর সব উদ্ভিদ ও প্রাণী মাকে। আমি ভালোবাসিতে চাই আফ্রিকান হতদরিদ্র সেই পরিবারকে যারা পুঁজিবাদের চাপে জর্জরিত, চাই ভালোবাসিতে কৃষক হইতে চালক, শ্রমিক হইতে মেথর সবাইকে। ভালোবাসি ক্ষুদিরাম বসু হইতে ভগৎ সিং, গান্ধী হইতে আম্বেদকর, শেরে বাংলা হইতে ভাসানী, সবাইকে। আমি ঘৃণা করি ধর্মকে - যাহা সহিংসতায় তাহার অনুসারী মানুষগুলোকে ঠেলিয়া দিয়া গোড়া কাটিয়া আগায় পানি ঢালিবার জন্য দু&#039;একটি শান্তি ও অহিংসতার বাণী শোনায় যাহা মানুষে মানুষে বিভেদের দেওয়াল খাড়া করে, মমত্বকে মারিয়া ফেলে, ভালোবাসাকে সৎকার করে। &#039;মতবাদকে ঘৃণা করি বলিয়া তাহাদের অনুসারীদেরও ঘৃণা করি&#039;- এমন ভাবা ভুল হইবে। একজন মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু, শিখ ধর্মের অনুসারী ব্যক্তি যদি আমার বাড়িতে আসেন, আমি তাহাদের সমানভাবে ভালোবাসিবো, আমার শ্রেষ্ঠ আতিথেয়তা তাহাদিগকে উপহার দিবো। আমি তাহাদের মতাদর্শের সঙ্গে একমত নই বলিয়া কখনোই তাহাদিগকের পানে অবমাননা কিংবা কটুক্তির তীব্র বাণ ছুড়িয়া দিবো না। আমি ভালোবাসি জেন্দা-বেস্তা ওয়ালাদের, বাইবেল-কোরান গীতা-ত্রিপিটক ওয়ালাদের, সমস্ত জীবজগৎকে, আমার দেশকে, আমার গ্রহকে।
তবে এতসব ভালোবাসাদান তখনই স্বার্থক হইবে, যখন গ্রহীতা তাহা বুঝিতে পারিবে ও গ্রহণ করিবে। আবার ভালোবাসিতে গেলে সঠিক পদ্ধতিও জানিবার দরকার হয়। যেমন, কোন ক্ষুধার্ত বাঘকে জড়াইয়া ধরিয়া ভালোবাসাদান করিতে পারিবে না। তাহাকে ভালোবাসিতে হইবে খাদ্য দিয়া, বনরক্ষা করিয়া, শিকারীদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করিয়া। পাখিকে খাঁচায় পুরিয়া নিত্য দানাপানি দেওয়া ভালোবাসা নহে, আপনি ভালোবাসিলেও উহা তাহার কাছে গোলাপ-কণ্টকের ন্যায় অনুভূত হয়, বরং খাঁচাবন্দি পাখিকে মুক্তাকাশে উড়িতে দেওয়াই সঠিক ভালোবাসা। বাস্তব জীবনেও আমরা অনেকেই ভুলভাবে অপরকে ভালোবাসি, যাহার ৩টি পরিণতি হইতে পারে - নিজের ক্ষতি, ভালোবাসা গ্রহীতার ক্ষতি ও ভালোবাসা নষ্ট হইয়া যাওয়া। ভালোবাসা কভু স্বার্থ ব্যতীত জন্মে না। আমি সবচেয়ে - সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি আমার শরীরকে, আমার মগজকে। এই শরীরই এই ব্রহ্মাণ্ডে থাকিবার পরিচয়পত্র; ইহার উপরই আমি টিকিয়া আছি। মগজই আমি, আমিই মগজ, মগজই &#039;আমিত্ব&#039; তৈরি করে; তাই মগজকেও ভালোবাসি। এখানে যেহেতু শরীর একটি পরিচয়পত্র, তাই তাহাকে ভালোবাসিতে হয়। নয়তো শরীর ভাঙ্গিয়া পড়িবে, আমি বিলীন হইয়া পড়িবো। তাহার পরে ভালোবাসি আমার মাকে। তিনি আমাকে জন্ম দিয়াছেন, স্নেহ দিয়াছেন। আমিও তাহার নিকট হইতে স্নেহ পাই বলিয়া তাহাকে ভালোবাসি, তাহাকে ছাড়িয়া আমি থাকিতে পারিনা। পাঠকগণ, কঠিন ও খারাপ লাগিলেও সত্য যে পৃথিবী যে মা&#039;কে নিঃস্বার্থের প্রতীক হিসাবে উপস্থাপন করিয়া আসিয়াছে, তাহা ভুল। মায়েরা হরমোনের প্রভাবে সন্তানকে ভালোবাসেন। আরেকটি কারণ হলো কোনো প্রাণীই বিলুপ্ত হইতে চাহেনা, তাহারা বংশধর বাঁচাইয়া রাখার মাধ্যমেই তাহাদের প্রজাতিকে পৃথিবীর বুকে টিকাইয়া রাখিতে চায়। মাতার জিন সন্তান ধারণ করে এবং মাতা অবচেতন মনে চান যেন তাহার জিন প্রজন্ম হইতে প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়, ফলে মাতা তাহার সন্তানকে ভালোবাসেন। আরেকটি কারণ হইতে পারে সামাজিক রীতি। যেহেতু মাতা দেখিয়াছেন সমাজে অন্য মাতার তাঁহাদের সন্তানদের স্নেহ করেন ও ভালোবাসেন। কখনো কখনো সত্যের থেকে মিথ্যা ব্যথা উপশমে বেশ কাজে দেয়, খানিকটা প্লেসিবো ইফেক্টের ন্যায়। কিন্তু এই সত্য জানিবার পরেও আমি মানতে নারাজ যে আমার মা নিঃস্বার্থ নন। আমি তাই এইক্ষেত্রে মিথ্যার ভেতরেই থাকিবার চাই। যদিও মায়ের ভালোবাসা নিঃস্বার্থ ছিলো না, কিন্তু তাও আমি বলিবো ইহা অমূল্য। মায়ের ভালোবাসা যদি ৯৯% খাঁটি হয়, তবে পৃথিবীর কিংবা মহাবিশ্বের অন্য কারো ভালোবাসা ইহার ধারে কাছেও নাই। বরং আমি এই তুলনা করিয়াই মস্ত বড়ো অপরাধ করিয়াছি।
আবার আমি পূর্বে যেসব উপাদানের কথা বলিয়াছি যাহাদের আমি ভালোবাসি, সেই ভালোবাসার ভেতরেও স্বার্থ আছে। উল্লেখিত বিষয়সমূহ আমাদের গ্রহেরই অংশ এবং গ্রহজুড়ে শান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তাহাদের ভালোবাসিতে হইবে। এখানে স্বার্থ হচ্ছে &#039;শান্তিতে বাস করা&#039;, যাহা স্বার্থ হইলেও একটি উত্তম স্বার্থ।
আমি রাজনীতিবিদদের পছন্দ করি না, ঘৃণা করি। তাহারা মানুষকে ভালোবাসিবার অভিনয় করিয়া যায়, কিন্তু ভালোবাসে না। ভালো না বাসা যতবড় অপরাধ তাহার তুলনায় বড় অপরাধ হইতেছে ভালবাসিবার অভিনয় করা। যদি রাজনীতিবিদেরা মানুষকে ভালোবাসিয়াও থাকে তবে তাহার স্বার্থ আছে, তবে সে স্বার্থ উত্তম কিছু নহে - তাহা হইলো &#039;ক্ষমতায় টিকিয়া থাকা&#039;। তবে কোনো কোনো রাজনীতিবিদের মানসিকতা যদি পরিস্কার হয়, যাবতীয় লোভ-লালসা হইতে নিজেকে বাঁচাইয়া রাখিতে পারে এবং মানুষকে ভালোবাসে ও স্বার্থ যদি হয় উত্তম, তবে তাহাকে খারাপ বলা আমার সাধিবে না। কিন্তু এমন পরিষ্কার রাজনীতিবিদ খুঁজিয়া পাওয়া উপমহাদেশে অসম্ভব। টেলিভিশন খুলিলে, খবরের কাজ খুলিলেই এসব নোংরা রাজনীতিবিদদের চোখে পড়ে। ফলে চোখই অপরিষ্কার হইয়া পড়ে। এসব রাজনীতিবিদদের আমি ধর্মের থেকেও বেশি ঘৃণা করিয়া থাকি। ধর্ম শুধু বইয়ের পাতায় সহিংসতা ঘটাইতে বলে, যাহা নির্জীব। কিন্তু রাজনীতিবিদগণ তাহাকে জীবন নহে - ভরা যৌবন ডান করে ক্ষমতার মসনদ দীর্ঘস্থায়ী ও পাকা করিতে। তাহারা উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বাঁধায়, মসজিদ-মন্দির ভাঙ্গে, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও মৌলবাদ চরমে টানিয়া তোলে। মারা যায় শত-শত মানুষ, ক্ষতি হয় দেশের সম্পদের। পরিস্থিতি যখন অতি ঘোলাটে হইয়া যায়, তখন তাহারা নামে মাছ শিকারে। তাহাদের নির্বাচিত করিলে সার্বিক অবস্থার উন্নতি করিবে বলিয়া তাহারা একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায়। অবশ্য এই কান্ড ডানেরা বেশি করিয়া থাকে বলিয়াই আমার ধারণা। বামেরা যথেষ্ট ধর্মনিরপেক্ষ হয় বলিয়া এই দোষ বামেদের ঘাড়ে চাপানো যুক্তিযুক্ত নহে।
আরেক প্রকারের ভালোবাসা হয় মানব-মানবীর মধ্যে। আমার কাছে সর্বনিকৃষ্ট ও বাজে লাগে এই প্রকারের ভালোবাসা। এটি তাহাদের অবচেতন মনেই জন্মায় এবং এর উদ্দেশ্য একটাই - প্রজন্ম হইতে প্রজন্মে তাহাদের জিন সঞ্চারিত করা। হ্যাঁ, ইহা কিছুটা মায়ের ভালোবাসার মতোই কিন্তু ইহাকে সর্বনিকৃষ্ট বলিবার কারণ হলো এই ভালোবাসা রাজনীতিবিদদের ন্যায় ভুয়া হইতে পারে - স্বার্থসিদ্ধির পরে এই ভালোবাসা ভাঙ্গিয়া যাইতে পারে, ফলে সমাজে নানা সংকটও জন্ম নিতে পারে। মায়ের ভালোবাসায় খাঁদ থাকিলেও তাহা কখনো ভাঙ্গিয়া পরে না।
যাইহোক, পৃথিবীকে বাসযোগ্য করিয়া রাখিতে ভালোবাসিতে হইবে, ভালোবাসা নিতে হইবে ও তাহার মূল্য বুঝিতে হইবে। ভালোবাসাই পারে অস্ত্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা লাটে তুলিতে, যুদ্ধ ব্যবসায়ীদের দাফন করিতে, দাঙ্গাবাজ রাজনীতিবিদদের বয়কট করিতে। ভালোবাসা হলো মস্তিষ্কে একগুচ্ছ রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ফল। যদি এই সামান্য বিক্রিয়াকে যথার্থরূপে ব্যবহার করা যায়, তবে অসুস্থ পৃথিবী পুনঃরায় ভরিয়া উঠিবে সবুজে-শান্তিতে। অন্যথায় মানুষ হইয়া উঠিবে পৃথিবীর ক্যান্সার।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/247866/</link>
				<pubDate>Fri, 15 May 2026 01:46:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রবন্ধ: ভালোবাস।<br />
                &#8211; হাসিন<br />
ভালোবাসা একটি দুমুখো শব্দ। ইহার দুইটি পক্ষ থাকে, একপক্ষ ভালোবাসা পাঠায়, অন্যপক্ষ তাহা গ্রহন করে। যদি প্রেরকপক্ষ এটি না পাঠায়, তবে তাহার কোনো অস্তিত্ব নাই। আবার গ্রহীতা যদি যত্নসহকারে তাহা গ্রহণ না করে, তবে তাহা নষ্ট হইয়া যায়। ভালোবাসার শক্তি অনেক। যিনি অন্যকে ভালোবাসেন তিনি মানুষ, কিন্তু যিনি শ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-247866"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/247866/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>