<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Israt Jahan Iqra | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/isratjahaniqra/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/isratjahaniqra/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Israt Jahan Iqra.</description>
	<lastBuildDate>Tue, 15 Sep 2026 19:46:04 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">8741cee894de61ecaabd23b43c765fcd</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/274082/</link>
				<pubDate>Mon, 14 Sep 2026 17:28:38 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">efeb03433247ed0f764b1f23ef62b53d</guid>
				<title>সাল ২০৭০।

সকালটা অন্য সব সকালের মতোই ছিল।

আকাশে সূর্য উঠেছে। কাঁচের তৈরি উঁচু ভবনগুলোতে সকালের আলো ঝিলমিল করছে। আকাশপথে ছুটে যাচ্ছে চালকবিহীন যান। 

রায়হান জুতোর ফিতা বাঁধতে বাঁধতে বলল,

—“মা, আমি বের হচ্ছি।”

রান্নাঘর থেকে মা বেরিয়ে এলেন।

—“আচ্ছা বাবা, সাবধানে যাস।”

—“হুম।”

—“পৌঁছে আমাকে একটা কল দিস।”

রায়হান হেসে বলল,

—“আচ্ছা মা।”

সে দরজা খুলে বাইরে পা বাড়াতেই মা আবার ডাকলেন,

—“বাবা!”

রায়হান ফিরে তাকাল।

মা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

—“একটা কথা ছিল…”

রায়হান মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,

—“কী বলো? এত সংকোচ করছ কেন?”

মা আস্তে করে বললেন,

—“ঘরের অক্সিজেনটা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ফেরার সময় একটা সিলিন্ডার নিয়ে আসিস বাবা।”

রায়হান হেসে বলল,

—“ওহ, এই ব্যাপার! ঠিক আছে। আসার সময় নিয়ে আসব।”

—“মনে করে আনিস কিন্তু।”

—“আচ্ছা, মনে করে আনব।”

মা এবার ছেলের দিকে তাকিয়ে একটু বিষণ্ণ হয়ে বললেন,

—“তুই এই পরিবারের জন্য কত খাটিস, বাবা। নিজের জন্যও তো কিছু জমাতে হয়।”

রায়হান মায়ের কাছে গিয়ে বলল,

—“এসব ভেবে মন খারাপ করো না। তোমাদের জন্য করতে পারলেই তো আমার খুশি।”

মা কিছু বললেন না।

শুধু ছেলের মাথায় হাত রেখে বললেন,

—“আল্লাহ তোকে ভালো রাখুক।”

রায়হান বেরিয়ে গেল।

---

অফিসে পৌঁছানোর পর প্রথমেই সে মাকে ফোন করল।

—“মা, আমি পৌঁছে গেছি।”

—“আলহামদুলিল্লাহ। খেয়াল করে কাজ করিস।”

—“হুম।”

একটু থেমে মা বললেন,

—“আর…”

রায়হান হেসে বলল,

—“জানি। অক্সিজেন।”

মাও হেসে ফেললেন।

—“ভুলে যাস না।”

—“ভুলব না।”

ফোন কেটে গেল।

রায়হান কাজে বসে পড়ল।

তার ডেস্কের সামনে বিশাল কাচের জানালা। ওপাশে ২০৭০ সালের শহর।

কোথাও গাছ নেই।

তবু শহরটা সবুজের অভাব অনুভব করছে বলে মনে হয় না। ভবনের দেয়ালে কৃত্রিম সবুজ আলো, ছাদে কৃত্রিম বাগান, রাস্তার পাশে ডিজিটাল গাছের বিজ্ঞাপন।

একটা বিজ্ঞাপনে লেখা—

“আপনার ঘরের জন্য নতুন প্রজন্মের অক্সিজেন জেনারেটর।”

রায়হান একবার তাকিয়ে আবার কাজে মন দিল।

---

দুপুরে বন্ধু সামির এসে তার পাশে বসল।

—“চল, নিচে যাই।”

—“কোথায়?”

—“চা।”

দুজন নিচে নামল।

অফিসের সামনে অক্সিজেনের দোকানগুলোর লম্বা সারি।

সামির বলল,

—“আজ দাম আবার বেড়েছে।”

রায়হান বলল,

—“কত?”

—“প্রায় দশ শতাংশ।”

রায়হান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

—“মায়ের সিলিন্ডারটা আজ নিতেই হবে।”

সামির কিছু বলল না।

ঠিক তখনই রাস্তার ওপাশে একটা ছোট কাচের দোকানের সামনে রায়হানের চোখ আটকে গেল।

কাচের ভেতরে রাখা একটি ছোট্ট গাছ।

মাত্র কয়েকটি পাতা।

গাছটির নিচে লেখা—

“প্রাকৃতিক বৃক্ষ। জীবন্ত নমুনা।”

রায়হান দোকানে ঢুকে পড়ল।

—“এটা কত?”

দোকানদার দাম বললেন।

রায়হান কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।

একটি ছোট গাছের দাম তার কয়েক মাসের সঞ্চয়ের সমান।

—“এত দাম?”

বৃদ্ধ দোকানদার শান্তভাবে বললেন,

—“এখন তো ছোট।”

রায়হান অবাক হয়ে তাকাল।

বৃদ্ধ আর কিছু বললেন না।

রায়হান বেরিয়ে এল।

---

সেদিন বাড়ি ফেরার পথে সে মায়ের অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনল।

সিলিন্ডার হাতে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আবার সেই গাছটার কথা মনে পড়ল।

তারপর মায়ার কথা।

মায়া গাছ ভালোবাসে—এ কথা সে জানত।

কিন্তু মায়ার জন্য একটা সত্যিকারের গাছ কিনে দেওয়া তার কাছে অসম্ভবের মতো ছিল।

তবু সেদিন থেকে সে টাকা জমাতে শুরু করল।

প্রতিদিন অল্প অল্প করে।

নিজের চা কমিয়ে।

অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিয়ে।

কখনো পঞ্চাশ ক্রেডিট।

কখনো একশো।

কখনো মাত্র দশ।

মাসের পর মাস।

---

অবশেষে একদিন সে গাছটি কিনল।

ছোট।

সুন্দর।

জীবন্ত।

মায়ার সামনে গাছটি নিয়ে দাঁড়িয়ে রায়হান বলল,

—“তোমার জন্য।”

মায়া অবাক হয়ে গাছটির দিকে তাকাল।

—“এটা… সত্যি?”

—“হ্যাঁ।”

—“কোথায় পেলে?”

রায়হান হেসে বলল,

—“অনেকদিন ধরে টাকা জমিয়েছি।”

মায়া কিছু বলার আগেই একটি বিলাসবহুল গাড়ি এসে থামল।

গাড়ি থেকে নামল এক যুবক।

তার সঙ্গে দুজন কর্মচারী।

তারা গাড়ি থেকে নামাল একটি বিশাল গাছ।

গাছটি স্বচ্ছ সুরক্ষাকবচের ভেতরে রাখা।

ঘন পাতা।

বড় ডাল।

পুরো একটা ছোট্ট গাছ।

যুবকটি মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,

—“তোমার জন্য।”

তারপর রায়হানের হাতে থাকা গাছটির দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।

—“এত ছোট?”

রায়হান চুপ।

যুবকটি বলল,

—“আমাদের বাড়িতে এর চেয়েও বড় কয়েকটা আছে।”

মায়া কিছুক্ষণ রায়হানের দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর সেই যুবকের সঙ্গে চলে গেল।

রায়হান দাঁড়িয়ে রইল।

তার হাতে ছোট্ট গাছটি।

কিছুক্ষণ পর সে নিচু গলায় বলল,

—“আজকাল মানুষও বুঝি গাছের ছায়ায় ভালোবাসা খোঁজে।”

তারপর সে একা হাঁটতে শুরু করল।

---

সেদিন রাতে রায়হান সামিরের কাছে গেল।

সামির কিছুক্ষণ তার কথা শুনে বলল,

—“তুই নিজেকে এত ছোট ভাবছিস কেন?”

রায়হান মাথা নিচু করে বলল,

—“আমি চেষ্টা করেও কাউকে ধরে রাখতে পারলাম না।”

—“সবকিছু টাকা দিয়ে ধরে রাখা যায় না।”

রায়হান চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

—“মায়ের জন্য অক্সিজেন কিনতেই মাসের অর্ধেক টাকা চলে যায়। নিজের জন্য কী-ই বা রাখি?”

সামির তার কাঁধে হাত রাখল।

—“চল, বাড়ি যাস।”

রায়হান বলল,

—“মা অপেক্ষা করছে।”

—“তাহলে আরও তাড়াতাড়ি চল।”

---

বাড়িতে পৌঁছে রায়হান সিলিন্ডারটা মায়ের হাতে দিল।

—“নিয়ে এসেছি।”

মা হাসলেন।

—“খেয়েছিস?”

রায়হান মাথা নাড়ল।

—“না।”

—“বস। খাবার দিচ্ছি।”

রায়হান বসার ঘরে এসে পুরোনো একটা কাঠের বাক্স দেখতে পেল।

বাক্স খুলতেই কিছু পুরোনো ছবি বেরিয়ে এল।

একটা ছবিতে তার মা অনেক ছোট।

তার পাশে একজন পুরুষ।

আর তাদের মাথার ওপর—

একটা বিশাল গাছ।

রায়হান ছবিটা হাতে নিয়ে বলল,

—“মা, এটা কী?”

মা ছবিটার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।

—“গাছ।”

—“এত বড়?”

—“এর থেকেও বড় ছিল।”

রায়হান অবাক হয়ে বলল,

—“তখন এর দাম কত ছিল?”

মা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

তারপর বললেন,

—“দাম?”

রায়হান মাথা নাড়ল।

মা মৃদু হেসে বললেন,

—“তখন গাছের দাম দিয়ে গাছ কেনা হতো না বাবা।”

রায়হান কিছু বুঝল না।

---

কয়েকদিন পর।

সকাল।

রায়হান অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

মা রান্নাঘর থেকে ডাকলেন,

—“বাবা…”

কোনো উত্তর নেই।

—“রায়হান?”

সে দৌড়ে ঘরে এল।

মা চেয়ারে বসে আছেন।

মুখটা কেমন ফ্যাকাশে।

রায়হান দ্রুত মায়ের অক্সিজেন মাস্ক ঠিক করে দিল।

যন্ত্রের স্ক্রিনে লাল আলো জ্বলছে।

O₂ RESERVE: 03%

রায়হানের বুক কেঁপে উঠল।

—“মা, একটু অপেক্ষা করো। আমি এখনই নতুন সিলিন্ডার নিয়ে আসছি।”

মা দুর্বলভাবে বললেন,

—“অফিসে দেরি হবে না?”

—“অফিস পরে হবে।”

সে দৌড়ে বেরিয়ে গেল।

---

অক্সিজেন স্টেশনে পৌঁছাতে পৌঁছাতে রায়হানের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।

কাউন্টারের সামনে লাইন।

সে টাকা বাড়িয়ে বলল,

—“একটা সিলিন্ডার দিন। জরুরি।”

কর্মচারী স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বলল,

—“পেমেন্ট করুন।”

রায়হান তার অ্যাকাউন্টের সব টাকা দিল।

স্ক্রিনে ভেসে উঠল—

INSUFFICIENT BALANCE

রায়হান স্তব্ধ।

—“আর একটু কমানো যায় না?”

—“দুঃখিত।”

—“আমি পরে বাকি টাকা দিয়ে দেব।”

—“সিস্টেমে ক্রেডিট নেই।”

রায়হান পকেট হাতড়াল।

কিছু নোট।

কিছু কয়েন।

কিছুই যথেষ্ট নয়।

ঠিক তখন পাশের দোকানের কাচের ভেতর তার চোখ পড়ল।

সেই একই ছোট গাছ।

পাতাগুলো রোদে ঝলমল করছে।

রায়হান কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল।

তারপর নিজের পকেটের শেষ টাকাগুলো গুনল।

গাছটার দাম এখনও তার সাধ্যের বাইরে।

সে ফিরে গেল।

---

বাড়ির দরজা খুলতেই ঘরটা অস্বাভাবিক নীরব।

—“মা?”

কোনো উত্তর নেই।

রায়হান দৌড়ে মায়ের ঘরে গেল।

মা বিছানায় শুয়ে আছেন।

অক্সিজেন যন্ত্রটা নীরব।

রায়হান কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

তারপর মায়ের হাত ধরে বসে পড়ল।

ঘরের কোণে রাখা পুরোনো ছবিটা বাতাসে একটু নড়ছিল।

ছবির গাছটার পাতা যেন নড়ছে।

কিন্তু ঘরের ভেতর কোনো বাতাস নেই।

---

কয়েক মাস পর।

শহরের এক বিশাল প্রদর্শনী কেন্দ্রে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে।

কেন্দ্রে রাখা হয়েছে পৃথিবীর শেষ জীবন্ত প্রাকৃতিক বৃক্ষগুলোর একটি।

স্বচ্ছ কাচের ঘরের ভেতরে।

চারপাশে নিরাপত্তারক্ষী।

সামনে বিশাল অঙ্কের মূল্য।

মানুষ দূর থেকে দাঁড়িয়ে গাছটির ছবি তুলছে।

রায়হানও ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল।

তার হাতে একটি পুরোনো ছবি।

ছবিতে তার মা।

আর তার মাথার ওপর—

এক বিশাল গাছ।

একটি শিশু গাছটির নিচে দাঁড়িয়ে হাসছে।

রায়হান ছবিটার দিকে তাকিয়ে খুব আস্তে বলল,

—“মা…”

তারপর সে কাচের ভেতরের গাছটির দিকে তাকাল।

গাছটি নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল।

তার পাতার ফাঁক দিয়ে আলো পড়ছিল।

রায়হান হাত বাড়িয়ে কাচ ছুঁয়ে দিল।

কাচের ওপাশে গাছ।

এপাশে মানুষ।

মাঝখানে শুধু স্বচ্ছ একটা দেয়াল।

আর নিচে—

একটি দামের ট্যাগ।

রায়হান চোখ নামিয়ে নিজের হাতে থাকা পুরোনো ছবিটার দিকে তাকাল।

ছবির গাছটির নিচে কোনো দামের ট্যাগ ছিল না।

কোনো কাচ ছিল না।

কোনো অক্সিজেন মাস্কও ছিল না।

শুধু মানুষ ছিল।

আর ছিল—

একটা গাছ।

রায়হান ছবিটা বুকের কাছে চেপে ধরল।

তারপর ধীরে ধীরে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেল।

কাচের ঘরের ভেতর গাছটি রয়ে গেল।

নিঃশব্দে।

একটু বাতাসে তার একটি পাতা কেঁপে উঠল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/274081/</link>
				<pubDate>Mon, 14 Sep 2026 17:18:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সাল ২০৭০।</p>
<p>সকালটা অন্য সব সকালের মতোই ছিল।</p>
<p>আকাশে সূর্য উঠেছে। কাঁচের তৈরি উঁচু ভবনগুলোতে সকালের আলো ঝিলমিল করছে। আকাশপথে ছুটে যাচ্ছে চালকবিহীন যান। </p>
<p>রায়হান জুতোর ফিতা বাঁধতে বাঁধতে বলল,</p>
<p>—“মা, আমি বের হচ্ছি।”</p>
<p>রান্নাঘর থেকে মা বেরিয়ে এলেন।</p>
<p>—“আচ্ছা বাবা, সাবধানে যাস।”</p>
<p>—“হুম।”</p>
<p>—“পৌঁছে আমাকে একটা কল দিস।”</p>
<p>রায়হান হেসে বলল,</p>
<p>—“আ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-274081"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/274081/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>