<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | মানিকুল ইসলাম মানিক (কবি/সাহিত্যিক) | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/manik123mmmgmail-com/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/manik123mmmgmail-com/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for মানিকুল ইসলাম মানিক (কবি/সাহিত্যিক).</description>
	<lastBuildDate>Sat, 19 Sep 2026 10:30:13 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">7305571740b62ec3873136013d3eecc7</guid>
				<title>এক রাতের অচেনা সহযাত্রী
                  মানিকুল ইসলাম মানিক
রাত তখন প্রায় নয়টা। বাস স্টান্ডে কোন বাস নেই, দু&#039;চারটা অটো, ভ্যান দেখছি। আপাতত তিন ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে অটোতে উঠলাম। নিয়ম ছিল, ছয়জন যাত্রী না হলে অটো ছাড়বে না। কিন্তু একটু বেশি ভাড়া দিতে চাওয়ায় সেদিন মাত্র দুজন যাত্রী নিয়েই অটো ছেড়ে দিল—আমি আর এক অচেনা মেয়ে।

প্রথমে দুজনের মধ্যে তেমন কোনো কথা ছিল না। অন্ধকার পথ, অটোর ঝাঁকুনি আর চারপাশের নীরবতা আমাদের ঘিরে ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর কীভাবে যেন গল্প জমে উঠল। অচেনা মেয়েটি ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠল। জীবনের টুকরো টুকরো কথা, হাসি, স্বপ্ন আর নানান গল্পে তিন ঘণ্টার পথ কখন পেরিয়ে গেল, টেরই পেলাম না।

মাঝপথে নাস্তার জন্য অটো থামল। আমরা দুজন রেস্টুরেন্টে বসলাম এবং ভালুদা খেলাম। বিলটা আমিই দিয়ে দিলাম। সে হয়তো একটু অবাক হয়েছিল। কিন্তু সেই অবাক চোখে কোনো অস্বস্তি ছিল না, বরং ছিল এক ধরনের আন্তরিকতা।

হঠাৎ আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামল।

অটোর ছাউনিতে বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ, ভেজা বাতাস আর অন্ধকার পথ—সবকিছু মিলিয়ে রাতটা কেমন যেন অন্যরকম হয়ে উঠল। মনে হচ্ছিল, এই অপরিচিত মানুষটির সঙ্গে পরিচয়টা হয়তো কোনো সাধারণ ঘটনা নয়।

গল্পের ফাঁকে সে আমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি চাইল। আমার ফোনে ইন্টারনেট থাকায় আমিই তাকে রিকুয়েস্ট পাঠালাম। সে বলল, বাসায় ওয়াইফাই আছে পৌছে একসেপ্ট করবো।

যাত্রা শেষে অটো ভাড়া দেওয়ার সময় তার ভাড়াটাও দিয়ে দিলাম। সে কিছুটা সংকোচ নিয়ে বলল,

— আপনার এত কষ্ট করার কী দরকার ছিল?

আমি হেসে বললাম,

— কষ্ট নয়, ভালো লাগা।

কিন্তু যাত্রা তখনো শেষ হয়নি।

অন্য একটি অটো পাওয়ার জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো। রাত প্রায় বারোটা। অবশেষে একটি অটো পাওয়া গেল। ভাড়া ছিল নিয়মের প্রায় দ্বিগুণ। তাতেও রাজি হলাম। আবারও দুজনে অটোতে চাপলাম। শুরু হলো গল্প, পড়াশোনা, চাকুরি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইত্যাদি নিয়ে।

কিছুক্ষণ পর তার গন্তব্য এসে গেল। সে অটো থেকে নেমে দাঁড়াল। বৃষ্টির পর ভেজা রাস্তায় হলুদ আলো পড়ছিল। বিদায়ের আগে সে একবার ফিরে তাকিয়ে মৃদু হেসেছিল কি না, আজও নিশ্চিত নই। তবে সেই মুহূর্তটা মনে গেঁথে আছে।

তারপর আমাদের পথ আলাদা হয়ে গেল।

অটো আবার চলতে শুরু করল। এবার আমি একা।

ড্রাইভার আমার দিকে তাকিয়ে বলল,

— ভাই, আপা কি আপনার পরিচিত?

— না।

— তাহলে তার ভাড়া দিতে চাইলেন যে?

আমি একটু হেসে বললাম,

— গাড়িতে কথা বলতে বলতে পরিচয় হয়েছে। ভালো লেগেছে মানুষটাকে তাই। আর আমি এমনই।

ড্রাইভার কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

— ভাই, আপনার মনে হয় অনেক টাকা?

— মোটেও না। আমার নিজের ভাড়া দেওয়ার মতো টাকাও ছিল না। বন্ধুর কাছ থেকে বিকাশে এক হাজার টাকা ধার নিয়েছি।

ড্রাইভার বলল: ভাই এই স্বার্থপর দুনিয়ায় কেউ কারো জন্য এক ফাটা পয়সা খরচ করে না। যদি কেউ করে তাহলে কোন না কোন স্বার্থে করে।

আমি বললাম: সঠিক বলেছেন। কিন্তু আমি একটু আলাদা।

ড্রাইভার বলল: অন্য মানুষের কথা আর কি বললো! আমার আপন ছোট ভাই জমি রেজিট্রেরি করার সময় এক সপ্তাহের কথা বলে বিশ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল কিন্তু আজকে পাঁচ বছর হয়ে গেল আমার টাকা দিচ্ছে না। এখন আমাকে শত্রু মনে করে।

আমি বললাম: হ্যাঁ ভাই, মানুষ খুবই স্বার্থপর। আমিও অনেক ঘাত পতিঘাত পেয়েছি কিন্তু নিজেকে বদলাতে পারিনি।

ড্রাইভার আর কিছু বলল না। অটো এগিয়ে চলল। রাতের নিস্তব্ধতায় বৃষ্টির গন্ধ মিশে ছিল। জানালার বাইরে ছুটে চলা আলো-আঁধারির দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, কিছু মানুষ খুব অল্প সময়ের জন্য আমাদের জীবনে আসে, অথচ তাদের রেখে যাওয়া অনুভূতি অনেক দীর্ঘস্থায়ী হয়।

রাত আড়াইটার দিকে বাড়ি ফিরলাম।

ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লেও ঘুম আসছিল না। বারবার মনে পড়ছিল সেই অচেনা মেয়েটির হাসি, কথার ভঙ্গি, আর বিদায়ের মুহূর্তটি।

আজ প্রায় এক মাস হয়ে গেছে।

সে দিব্যি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি চালাচ্ছে। অথচ আমার পাঠানো সেই রিকুয়েস্টটি এখনো গ্রহণ করেনি।

হয়তো সে ভুলে গেছে সেই রাতের কথা। হয়তো তার কাছে সেটি ছিল স্রেফ একটি যাত্রা, কয়েকটি গল্প আর একজন অচেনা সহযাত্রী।

কিন্তু আমার কাছে?

সেটি ছিল এক রাতের ছোট্ট গল্প—যেখানে পরিচয় ছিল ক্ষণিকের, মায়া ছিল অকারণ, আর ভালো লাগার কোনো হিসাব ছিল না।

কিছু মানুষ আমাদের জীবনে আসে, কয়েক ঘণ্টা পাশে বসে থাকে, তারপর অন্ধকার পথের কোনো এক মোড়ে নেমে যায়।

তবু তাদের জন্য আমরা ভাড়া দিয়ে যাই—কখনো অটোর, কখনো স্মৃতির।

---

লেখক:
মানিকুল ইসলাম মানিক
বি.এ. (অনার্স), এম.এ. (ইংরেজি), এলএল.বি.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/275046/</link>
				<pubDate>Thu, 17 Sep 2026 03:58:58 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এক রাতের অচেনা সহযাত্রী<br />
                  মানিকুল ইসলাম মানিক<br />
রাত তখন প্রায় নয়টা। বাস স্টান্ডে কোন বাস নেই, দু&#8217;চারটা অটো, ভ্যান দেখছি। আপাতত তিন ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে অটোতে উঠলাম। নিয়ম ছিল, ছয়জন যাত্রী না হলে অটো ছাড়বে না। কিন্তু একটু বেশি ভাড়া দিতে চাওয়ায় সেদিন মাত্র দুজন যাত্রী নিয়েই অটো ছেড়ে দিল—আমি আর এক অচেনা মেয়ে।</p>
<p>প্রথমে দু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-275046"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/275046/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">92999fc5267edf77009ebe091a1d6286</guid>
				<title>মানিকুল ইসলাম মানিক (কবি/সাহিত্যিক) changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/275045/</link>
				<pubDate>Thu, 17 Sep 2026 03:48:15 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>