<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Md Didar Chowdhury | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/md-didar-chowdhury/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/md-didar-chowdhury/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Md Didar Chowdhury.</description>
	<lastBuildDate>Sat, 27 Jun 2026 14:51:58 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">9e2daa29941466592a10e8f66af21364</guid>
				<title>নাইট কুইন
মোঃ দিদার চৌধুরী
(যারা আমার লেখা পড়ে আমায় উৎসাহ দেন, ইতিবাচক কমেন্ট করেন তাদের জন্যই)
চারিদিকে কুয়াশা। এখনো পুরোপুরিভাবে রোদ উঠতে অনেক দেরি। কয়েকটা চড়ুই পাখির কিচিরমিচির সকালের নীরবতাকে ভেঙে দিচ্ছে। খড়কুটো আর শুকনো ঘাস পাতা দিয়ে এরা কার্নিশে বাসা বেঁধেছে। সমস্ত দিন এরা লাফিয়ে বেড়িয়ে মাটি থেকে পোকামাকড়, শস্য খুঁটে খায়। আজও তারা একাজে ব্যস্ত। দূর স্টেশন থেকে ট্রেনের শব্দ ভেসে আসছে। একটা টুনটুনি এডাল থেকে ওডালে মিষ্টি একটা সুর তুলে লাফিয়ে চলছে অনবরত। টুনটুনিকে দেখলে ছোটবেলায় শোনা গল্পটির কথা মনে পড়ে যায়। টুনটুনি খুবই চালাক পাখি। সাগরের বাগানে প্রতিদিন সকালে পাখির মেলা বসে। হরেক রকমের পাখির দেখা মেলে। বিশেষত দুপুরে ঘুঘু পাখির ডাক খুবই ভালো লাগে। ঘুঘু পাখির ডাক সাগরের কাছে খুবই করুণ মনে হয়। অবিরত ডেকেই চলে। হয়তো ঘুঘু পাখির অন্যরকমের দুঃখ রয়েছে। 
সকাল বেলার রাস্তা জনমানবহীন। জনমানবহীন রাস্তায় সাগর একাকী, সাগরের তা ভাবতেই ভালো লাগে। ধীরে ধীরে আড়মোড়া ভেঙে সবাই জাগতে শুরু করেছে। একটা টহল গাড়ি চলে গেল। মর্নিং ওয়াকে একজন মধ্যবয়সী পুরুষ ও মহিলাকে দেখা গেল। সাগর তাদের চলার ছন্দ অবলোকন করতে লাগল। কিছুদুর যেতেই ঘন কুয়াশায় তারা দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল। সাগর উদ্দেশ্যহীনভাবে বাসার চারিদিকে ঘুরতে লাগল। তিনতলা বাসাটি নতুন সাজে সেজেছে যেন। বিয়ে বাড়ি, সাজাতেই হবে। বাগানে হঠাৎ কারো শব্দ হল। সাগরের মনে হল বাগান থেকে কে যেনো দৌড়ে বের হয়ে গেল। কুয়াশায় স্পষ্ট দেখতে পেল না। ঝুড়ি দেখে সাগর বুঝতে পারল পূজোর ফুল তুলতে বের হয়েছে কেউ। অনেকদিন পর সে বাগানে ঢুকল। তার দুবছর আগে লাগানো নাইট কুইনগাছে চোখ পড়ল। কলিটি নেই। এইমাত্র নিয়ে গেছে বুঝতে পারল। অন্যদিন হলে ভীষণ রাগ হতো কিন্তু আজ কেন জানি সাগর রাগ করল না। রাতের রাণী নাইটকুইন অনেক সাধনার ফসল। দীর্ঘ দিনপর একটি ফুল এসেছে। নীলার খোপায় স্থান পাওয়ার কথা ছিল।
জন মানবহীন রাস্তায় হাটতে হাটতে সাগরের সেদিনের কথা মনে পড়ে গেল। সন্ধ্যারাত। ভরা পূর্ণিমা। সাগর ছাদে একা, দেয়ালে ঠেস দিয়ে আনমনে শুধু ভাবছে। পূর্ণিমার আবছা আলোয় সবই স্পষ্ট দেখা যায়। আবছা আলোয় সাগরের মন আনচান করছে। তার আনচান মন আলো-আঁধারের এমন লগ্নে কারও উপস্থিতি কামনা করছে। চোখ বুঁজে একাগ্রচিত্তে নীলাকে মনে মনে ভেবে চলেছে; হঠাৎ কাঁধে স্পর্শ পেল। সাগর বুঝতে পারল নীলা এসেছে-&quot; নীলা! তুমি?” খুশিতে আত্মহারা হয়ে সাগর নীলার দুই হাত ধরে ঘুরতে লাগল। আকাশের লক্ষ কোটি তারারা সাগরের আনন্দে শরিক হল, সাগরের মনে হল তারারা মিটমিট করে জ্বলে তাকে অভিবাদন জানিয়ে চলেছে। নীলাকে টেনে নিয়ে টবে লাগানো নাইটকুইন গাছের কাছে নিল।
-“জানো নীলা! যে রাতে নাইটকুইন ফুটবে, সে রাতে আমি আর তুমি ছাদে মাদুর পেতে ফ্লাক্স ভর্তি চা নিয়ে ফুল ফোটা উপভোগ করব । আর গভীর রাতে ফুলটি তোমার খোঁপায় গুঁজে দিয়ে তোমাকে আমার রাতের রানী বানাবো।&quot;
এ কথা শেষ হতে না হতেই নীলা সাগরের মুখ চেপে ধরল। -“প্লিজ, এ কথা বলো না, সাগর! তুমি কি জানো না নাইটকুইন ক্ষণস্থায়ী, অল্পই তার স্থায়ীত্ব, দিনের আলোতে স্লান!&quot;
 -&quot;আমি তোমাকে কোনদিন স্লান হতে দিব না&quot; বলে সাগর চাঁদের আলোয় অবগাহন করে নীলার হাত ধরে উচ্চস্বরে রবীন্দ্রনাথের একটি গান শুরু করল- 
“এই লভিনু সঙ্গ তব,
সুন্দর, হে সুন্দর।
পুণ্য হল অঙ্গ মম,
ধন্য হল অন্তর,
সুন্দর, হে সুন্দর।
আলোকে মোর চক্ষু দুটি
মুগ্ধ হয়ে উঠল ফুটি,
হৃদ্‌গগনে পবন হল
সৌরভেতে মন্থর,
সুন্দর, হে সুন্দর।
এই তোমারি পরশরাগে
চিত্ত হল রঞ্জিত,
এই তোমারি মিলন-সুধা
রইল প্রাণে সঞ্চিত।
তোমার মাঝে এমনি ক’রে
নবীন করি লও যে মোরে,
এই জনমে ঘটালে মোর
জন্ম-জন্মান্তর,
সুন্দর, হে সুন্দর।“
শালিক আর টুনটুনির মিষ্টি গানে খেই হারিয়ে ফেলল সাগর। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত সকাল, ফুরফুরে ঠান্ডা হাওয়া, নিরবতা সাগরের দেহ ও মনে অন্য এক ধরনের আবেদন সৃষ্টি করলো। মাঝে মাঝে পাগলা ঠান্ডা দমকা হাওয়া জামার ফাক-ফোকর দিয়ে ঢুকে শিহরণ খেলে যায়। সাগরের কেন জানি আজ সব কিছুই ভালো লাগছে। সবই সুন্দর। কুয়াশা ভেদ করে সূর্যরশ্মি চারিদিক আলোকিত করে চলেছে। দূর্বা ঘাসের শিশির কণায় সূর্যকিরণ আলোর নাচন তৈরি করেছে। দুর্বা মাড়িয়ে শিউলী কুড়াতে গেল সে। অনাদর আর অবহেলায় পড়ে রয়েছে শিউলিফুল। পায়ের গোড়ালিতে ভর করে শিউলি ফুল তুলে কি মনে করে তা আবার ছুঁড়ে ফেলে দিল। তিনতলার দিকে তাকাতেই ঝাড়বাতি চোখে পড়ল। সারাবাড়ি লাইটিং করা হয়েছে, কাল সারারাত ধরে বিভিন্ন রঙের-ঢংয়ের লাইটিং করা হয়েছে। রাতে যখন সকল লাইট অন করা হয়েছে তখন অদ্ভূত আলোয় ছেয়ে গেছে সারা বাড়ি। মায়াবী আলো। অবশ্য নীলার পছন্দ আর পরামর্শেই লাইটিং করা হয়েছে, যাতে কোনো কিছুর ঘাটতি না থাকে। মাঝে মাঝে নীলা বের হয়ে কোন লাইটিং কোন জায়গায় হবে তা দেখিয়ে দিয়ে গেছে। গত সন্ধ্যায় মার কোলে মাথা রেখে সাগর শুয়ে ছিল। মা আলতো করে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। মায়ের হাতের আলতো পরশ শান্তনার মতো মনে হল। -&quot;মা, নীলা আপু গাল ফুলিয়ে বসে রয়েছে, তার নাকি বিউটি বক্স পছন্দ হয়নি&quot;- শানুর আবেগজড়িত কণ্ঠ শুনে ফিরে তাকাল সাগর। সাগরের একমাত্র বোন শানু। নীলার বিউটি বক্স পছন্দ না হওয়াতে শানুরও মন খারাপ। শানুর দুঃখে ভরা অভিমানমিশ্রিত মুখের দিকে তাকিয়ে সাগর অবাক হচ্ছে। নীলাকে নিজের মতো করে নিজ হাতে সাজাবে বলে কেনা বিউটি বক্সটি সাগর তার ড্রয়ার থেকে বের করে শানুর হাতে দিয়ে বলল- &quot; এটা নিশ্চয়ই লীলার পছন্দ হবে।&quot; আনন্দ আর কৃতজ্ঞতার ভাব স্পষ্ট হল শানুর মুখে। নীলার হাসি-হাসি মুখ দেখার জন্য শানু  বক্সটি নিয়ে দৌড়ে চলে গেল।
নীলা সাগরের চাচাতো বোন। একই বাড়িতে থাকে। নীলার সাথে সাগরের বয়সের ব্যবধান অনেক, কিন্তু মনের ব্যবধান অল্পই। কখন কোন মুহূর্তে এসে ব্যবধান শুন্যে এসে ঠেকল সাগর তা বুঝতেই পারল না। সেদিন চাচা-চাচি বাসায় ছিলেন না। সন্ধ্যায় নীলা বই নিয়ে বসেছে। সাগর তার পড়ার টেবিলে গিয়ে মুখোমুখি বসল। কোন কথা না বলে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল নীলার দিকে। -&quot;এমন করে তাকিয়ে আছ কেন, আমার লজ্জা করছে&quot; বলে নীলা ওড়না দিয়ে তার মুখ ঢেকে দিল। তর্জনীর নখের ঠিক নিচে যে তিলটি নীলার হাতের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে তাতে আলতো করে স্পর্শ করল সে। নীলা কেপে উঠলো। সারা শরীরে কিসের নাচন শুরু হল! সমুদ্রের ঢেউ তীব্রবেগে তীরে আছড়ে পড়তে লাগলো, থামতেই চায় না। একসময় শান্ত হল সব। সাগরের মনে একটা দুষ্টুমি এসে ভর করল। বায়না ধরল সাগর-&quot;নীলা ঘোমটা টেনে একটু সময়ের জন্য বউ সেজে বসো না প্লিজ!&quot; সাগরের আকুতি। নীলা কিছুতেই ঘোমটা টেনে বউ সাজবে না। &quot;আমি কি কখনো বউ সেজেছি নাকি ?&quot;বলে নীলা লজ্জাবনত হয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে রইল। সাগরের দিকে তাকাতে পারছে না সে। অনেক অনুরোধ করার পর ওড়না টেনে ঘোমটায় বউ সাজলো; তাও অল্প সময়ের জন্যে। মেকাপ ছাড়া নীলাকে অপরূপা মনে হয়। -&quot;বিয়ের পর তোমাকে নিজ হাতে সাজাব, তখন কিন্তু বাধা দিতে পারবে না।&quot; বলে সাগর সেদিন চলে আসল। নীলাকে নিজহাতে আর সাজানো হল না। আজ নীলার বিয়ে। কিন্তু এমনতো কথা ছিল না। সাগরের স্বপ্ন কেন এমন করে ভেঙে চুরমার হল! সবকিছু চুরমার করে দিতেই কী নীলা সাগরের জীবনে এসে ছিল? ভেবে ভেবে বাসার পাশের ড্রেন বরাবর চলে এল। ড্রেনের উপরে থাকা একটি ইটের সাথে পায়ে হোচট লেগে নিজেকে ফিরে পেল সে। 
নীলা তখন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বাসার গেইটে দাঁড়িয়ে তাকে রিক্সা খুঁজে দিচ্ছে সাগর। এমন সময় একটি ছেলে “ইস! অনেকদিন হয় এমন করে তুত রঙ দেখি না”- বলে নীলার ঠোঁটের দিকে ইঙ্গিত করে চলে গেল। নীলার ঠোঁটে সত্যিই তুত রঙের লিপস্টিক। মাথায় রক্ত উঠে গেল সাগরের। দৌড়ে ছেলেটিকে ধরে প্রচুর মারধর করল। সাগরও আঘাত পেয়েছে। এর জের ধরে সাগর দুদিন জ্বরে ভুগল। সন্ধ্যায় জ্বরে যখন সে ছটফট করছে, তখন নীলা এসে সাগরের কপালে হাত রাখল। তার স্পর্শে কি জাদু! সাগরের জ্বর আর কষ্ট নিমিষেই মিলিয়ে গেল। যন্ত্রনার পরিবর্তে এক ধরনের আনন্দের টেঊ খেলে গেল তার সারা শরীরে।
-&quot;এমন করলে কেন, আমাকে কটুক্তি করলে তোমার কী?&quot; নীলার কন্ঠে অভিমান মিশ্রিত রাগ। নিজেকে আর সামলাতে পারল না। -&quot;তোকে কেউ কটুক্তি করুক তা আমার সহ্য হয় না&quot; বলে শেষ করতে পারল না সাগর। নীলার পাল্টা প্রশ্ন -&quot;কেন&quot;? বাঁধ ভাঙা টেউয়ের মতো কেমন করে যেন সাগরের কণ্ঠে ভেসে এলো-“আমি যে তোকে ভীষণ ভালোবাসি, নীলা।&quot; চারিদিক কালো করে তীব্র একটা অন্ধকার ধেয়ে আসলো। ছিমছাম নীরবতায় আচ্ছন্ন হয়ে রইল নীলা।  কিছুক্ষণ চুপচাপ কোন কথা নেই। হঠৎ পিনপতন নিরবতাকে ভেঙ্গে- &quot;আমিও&quot; বলে নীলা সাগরের মনোবিণার মাঝে ঝংকার তুলে দৌড়ে চলে গেল।
মারামারির ঘটনায় সাগরের মা চিন্তিত। বাজে ছেলের সাথে মারামারি করাতে সাগরের মা সাগরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে পাঠিয়ে দিলেন। সাগর হলে চলে গেল। কিন্তু মন পড়ে রইল নীলার কাছে। কিছুতেই মন নীলার কাছ ত্থেকে ফিরে আসতে চায় না। এতটুকুর জন্য এসে আবার ফিরে যায়। চাতক পাখির মত প্রতীক্ষার প্রহর গুনে সে, কখন বৃষ্টি হবে আর সে তৃষ্ণা মেটাবে। জ্যৈষ্ঠের খরতাপে মাঠ যখন চৌচির প্রায়, তখন ফাটা মাঠ হা করে রয় এতটুকু জলের আশায়। তীব্র গরমে শালিক যেমন ডানা ছেড়ে ঠোঁট ফাক করে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে, সাগর এরকম ছটফট করে নীলাকে দেখার জন্য। সাগর হলে বসে কল্পন্নায় রঙিন ফানুস উড়িয়ে স্বপ্ন দেখে রং-বেরংয়ের, কল্পনায় ডানা মেলে উড়াল দেয় তার বাসা্র দিকে। সারাক্ষণই নীলার কথা ভাবে সে। বিকেলে হলের রুমে ওরে নীল দরিয়া-গানটি গেয়ে উঠল-
“ওরে নীল দরিয়া
আমায় দেরে দে ছাড়িয়া
বন্দী হইয়া মনোয়া পাখি, হায়রে
কান্দে রইয়া রইয়া 
কাছের মানুষ দুরে থুইয়া,
মরি আমি ধড়-ফড়াইয়া,রে
দারুন জ্বালা দিবানিশি।
অন্তরে অন্তরে।
আমার এত সাধের মন বধূয়া
হায়রে কি জানি কি করে।“
 একটু অবসর পেলেই সাগর কল্পনায় নীলাকে নিয়ে হারিয়ে যায় দূরে বহুদূরে, দূর দিগন্তে। ছুটিতে যখন বাসায় আসে তখন আর তর সয় না। গাড়ির আগে আগে মন ছুটে যায়। বাসায় এসে হাত মুখ ধোয়ার সময় পর্যন্ত পায় না সে। মা খাবারের জন্য চাপ দেন, ক্ষুধা থাকে না। মনে হয় তার দেখা পেলেই ক্ষুধা মিটে যাবে। হয়ও তাই। দেহ মন যখন অবসন্ন প্রায়, বিরক্তি আর ক্লান্তিতে মন যখন বিষিয়ে যায়, তখন সাগরের সব অবসাদ, ক্লান্তি, বিরক্তি আর হতাশা কর্পূরের মতো দমকা হাওয়ায় উড়ে যায় নীলার কাছে গেলে। 
এইতো সেদিন। ফুরফুরে পড়ন্ত বিকাল। সূর্য প্রায় ডুবুডুবু করছে। দিন ও রাতের সন্ধিক্ষণ। একঝাক সাদা বক উত্তর থেকে দক্ষিণে চলে গেল। দূরে গিয়ে দুভাগ হল, চেয়ে রইল সে, এক সময় হারিয়েও গেল। দু&#039; একটা বাদুর বের হল খাবারের সন্ধানে, ডানা ঝাপটানোর শব্দ কানে বাজল সাগরের। সন্ধ্যা হতে আর দেরি নেই। ডিমের-কুসুমের মতো সূর্যকে আর দেখা যাচ্ছে না। সাগর ছটফট করছে। নীলার ছাদে আসার কথা। আসছে না, দেরি করছে। হল থেকে অনেকদিন পর এল, অথচ এখনো নীলার দেখা মেলেনি। মাস্টার্সের রেজাল্ট বের হলে চাকরি খুঁজবে সে। চাকরি হলেই নীলাকে ঘরে তুলবে। এ সব যখন ভাবছে সে, তখন ধীরলয়ে নীলার আগমন ঘটল; খুবই নিঃশব্দে। নীলাকে দেখে সাগরের চোখে মুখে আনন্দের আভা খেলে গেল। নীলা নির্বিকার। অনেকক্ষণ চুপচাপ কেটে গেল। নীলা-ই নীরবতাকে ভেঙে &quot;আমাকে ভুলে যাও&quot;-বলে দৌড়ে চলে গেল। সাগরের অজান্তেই দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়তে থাকল। যন্ত্রণায় বিদ্ধ অসহায় সাগর ফ্যালফ্যাল করে বিশাল নীলাকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। এত অসহায়বোধ জীবনে কখনো অনুভব করেনি সে। মনে মনে সাজিয়ে রেখেছে অনেক কথা। কল্পনার রং দিয়ে কথার মালা সাজিয়েছে। শব্দের ভান্ডার ফুরিয়ে যায় সাগরের, মনে হচ্ছে কথা শেষ হবেনা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর গুনে ছুটে এসেছে সে নীলার কাছে, এতটুকু শান্তির জন্য; তার জমানো আবেগ শেয়ার করার জন্য। মুহূর্তগুলো কিভাবে কাটাবে তা আগেই প্ল্যান করে রেখেছে সে। কিন্তু নীলা যখন সাগরের শৃঙ্খল প্লান এলোমেলো করে দিল, তখন গুলিবিদ্ধ শ্বেত কপোতের মত ছটফট করতে লাগল সে। নীল বিষে জারিত সে। নীলার একটু খামখেয়ালি সাগরের জন্য বড়ই কষ্টের, বড়ই দুঃখের। কষ্টের শৃংখল গায়ে জড়ানো সাগরের, নীলা তা বুঝতে পারলনা। লীনা যদি বুঝত, তাহলে এমন খেলাচ্ছলে সাগরের স্বর্ণালী মায়াকাড়া মায়াভরা মুহূর্তগুলো ধ্বংস করে দিত না। বিষ মুখে নিয়ে সে কখনো দেখেনি, কিন্তু বিষের যন্ত্রণা আজ টের পেল সে। চোখ থেকে যে জল আজ বের হল, সেতো মিথ্যে নয়; ভান কিংবা ছলনা নয়; সে-তো সাগরের ভালোবাসা।
সারারাত একটা ঘোরের মধ্যে কেটে গেল। ভাবনাগুলো এককেন্দ্রিক হয়ে গেল। ভাবনায় শুধুই নীলা আর নীলা। মাদকাসক্ত ব্যক্তি যেমন নিরিবিলি অন্ধকার জায়গা খুঁজে বেড়ায়, তেমনি সাগরও বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গ ছেড়ে একাকী হয়ে গেল। রাগে-দুঃখে অভিমানে একাকী দংশিত। সাগর তার যন্ত্রণা একাই বয়ে বেড়ায়, কাউকে সে বুঝতে দেয় না। এ যেন এক বিষাক্ত সাপ ফণা তুলে শুধু ফুঁস ফুঁস করছে! ভালোলাগা যখন কোন কিছুর আঘাতে অথবা স্পর্শে বিশৃংখল হয়ে যায়, তখন সেই ভালোলাগাই কষ্ট হয়ে যায়। নীলা কি পারবে সাগরের কষ্টগুলো শৃঙ্খল করে ভালোলাগায় রূপ দিতে, সে কি পারবে সাগরের আনন্দঘন মুহূর্ত ফিরিয়ে দিতে, সে কি পারবে সাগরের কষ্টের বোঝা এতোটুকু বহন করতে,  সে কি পারবে সাগরের ক্ষয়ে যাওয়া কষ্টের হৃদয়ে এতটুকু শান্তির ধারা প্রবাহিত করতে ? 
দেখতে দেখতে সকাল সাড়ে সাতটা বেজে গেল। এক জোড়া শালিক এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে লাগলো। রঙ্গণের ডালে বসে বুলবুলি সুমধুর শীষ তুলে উড়ে চলে গেল। পাশের বাড়ি থেকে হঠাৎ হারমোনিয়ামের সুরেলা সুর বেঁজে উঠল। মানুষের ব্যস্ততা বাড়তে লাগল। বাচ্চারা মার হাত ধরে স্কুলে যাচ্ছে। বুকে একটা চিনচিনে চাপা ব্যাথা অনুভব করল সে। গত সন্ধ্যায় নীলার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হল। নীলাকে সবাই যখন সাজাচ্ছিল তখন তাকে দেখার লোভ সামলাতে না পেরে বেহায়ার মত চুরি করে সাজঘরে ঢুকে গেল সাগর। তাকে যাতে দেখতে পাওয়া না যায় এমন করে ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে ফাঁকফোকর দিয়ে নীলাকে দেখতে লাগল। &quot;রূপ লাগি আঁখি ঝুরে&quot;। -&quot;শানু, ফাউন্ডেশনটা নিয়ে আয়, ফাউন্ডেশন ভালো হয়নি, কি বিচ্ছিরি দেখাচ্ছে আমাকে নীলা চিৎকার করে ডাকছে। -“শানু, এই শানু শোন, আইলাইনার আরো গাঢ় করে দেয়, নইলে ক্যামেরায় ভালো দেখাবে না।&quot; নীলার কথা শুনে সাগরের হাসি পেল। চলে এল সে। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে রাত দশটা বেজে গেল। সাগরকে লেখা নীলার চিঠিগুলো একে একে বের করল। সাগর তিনতলায় থাকে। চিঠিগুলো নিয়ে বের হল। আজ কেন জানি সাগরের হাত কাঁপছে। চিঠিগুলো পড়ে যাচ্ছে যেন। দুতলার সিঁড়িতে নামতেই দেখে নীলা সিঁড়ি বেয়ে একা উঠছে। 
সাগর তার পথ আগলে ধরল। -&quot;নীলা! আমার পকেটে কিছু টাকা আছে, চলো আমরা পালিয়ে যাই&quot; কোন কথা নেই নীলার। দুফোটা জল গড়িয়ে পড়তে দেখা গেল। নীলার চোখে জল। -“ঠিক আছে, যেতে হবে না, এই নাও তোমার চিঠি গুলো; ভয় নেই, আমি তোমার পথের কাঁটা হয়ে রবো না। আমার উপস্থিতি তোমার মনে ও বিয়েতে সমস্যা করতে পারে, তাই আমি ঠিক করেছি, কাল সকালেই বাড়ি ছেড়ে চলে যাব। সুখে থাকো।&quot;
নীলাকে কথা দিয়েছে সাগর আজ সকালে চলে যাবে। কিন্তু কি যেন তাকে পিছু টানছে। একে একে সবাই জাগতে শুরু করেছে, আটটা বেজে গেল। সবাই জাগার আগেই সাগরকে চলে যেতে হবে। শুধু মাকে ছেড়ে চলে যেতে সাগরের কষ্ট হচ্ছে। সাগরের মা, সাগরের জন্য চাচা-চাচীর  নিকট লজ্জিত হয়েছেন। সাগরের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন তার মা। বেকার ছেলের কাছে তারা বিয়ে দিতে  রাজি নন। সাগরের মাকে তারা কটু কথা শুনিয়ে দিয়েছেন। আর মায়া বাড়িয়ে লাভ নেই। সাগরকে নীলার জন্যই যেতে হবে। অবশেষে নীলার ভালোবাসাই সাগরকে বাসা থেকে বের করে নিল। হাঁটতে হাঁটতে কখন কিভাবে যে রেললাইনের পাশে চলে এল, বুঝতে পারল না। ভীষণ ক্লান্ত সে। বটগাছের ছায়ায় ছায়ায় রেললাইন অনেক দূর চলে গেছে। সে আর এগুতে পারছে না। প্রায় ছয়-সাত কিলোমিটার পথ। রেললাইনেই বসে পড়ল। আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে এল শরীর, কখন যে রেললাইনের ফাঁকে বটগাছের ছায়ায় ঘুমিয়ে পড়ল, বুঝতে পারল না।
বাসর ঘর। কাঁচা ফুলে ফুলে সাজানো চারিধার। বিছানাটিতে নতুন চাদর দেওয়া হয়েছে, আর তাতে সাদা আর লাল গোলাপের পাপড়ির ছড়াছড়ি। ঘর ভর্তি সুগন্ধ। কাঁচা ফুলের গন্ধে বিভোর সারা কক্ষটি। নানা রঙের ঝাড়বাতি মিটমিট করে জ্বলছে। বাইরে পটকাবাজি হচ্ছে। দুষ্টু মেয়ের দল কনে দেখতে এসে হাসিতে গড়াগড়ি খেলো, খিলখিলিয়ে হেসে বরের আগমনের শব্দ শুনে দৌড়ে পালিয়ে গেলো। নীলার গা জড়িয়ে কাতান শাড়ী, পা জড়িয়ে লাল পাড়, মুখে রাঙ্গা শরম ছড়িয়ে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে চুপটি করে বসে রইল। নীলার সামনে বিশাল ড্রেসিং টেবিল, আয়নায় তাকে স্পষ্ট দেখা যায়; হঠাৎ তার খেয়াল হল গরমে তার মেকআপ নষ্ট হয়ে গেছে, পার্স বের করে তড়িঘড়ি করে ঠিক করে নিল,  শ্রী বৃদ্ধিতে যতটুকু ঘাটতি ছিল তা পূরণ করার চেষ্টা করল। ঘোমটা টেনে নিয়ে এলোমেলো কাপড়কে শৃংখল করে নিল। বডি স্প্রে করল। মিষ্টি গন্ধে মন ভরে উঠল। দরজা খোলার শব্দে নীলা চমকে উঠল। বর এসে নীলার সামনে বসা। নীলা একটু নড়েচড়ে বসল। বর নীলার তুথনী ধরে আলতো করে তার দিকে মুখ ফেরালো। আবেগে নীলার দুচোখ বুজে আসল। নানা রঙের আলপনা-আঁকা নীলার দুহাত বর চেপে ধরল। ---
সাগর চিৎকার করে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠল-“না, নীলাকে কেউ স্পর্শ করতে পারে না।“ তীব্র হুইসেলের শব্দে সাগরের ঘোর কাটল। ট্রেনের গতি যেন বাড়ছেই, তীক্ষ্ণ শব্দে কান প্রায় ঝালাপালা। আর মাত্র কয়েকফুট দূরে ট্রেন। সাগরের ছাদের টবের নাইটকুইন সাদা রঙের। কিন্তু যতই ট্রেন এগিয়ে আসছে ততই ট্রেনটিকে কেন যেন আজ সাগরের লালচে নাইট কুইনের মত লাগছে!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/21720/</link>
				<pubDate>Sat, 17 Jul 2021 17:52:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নাইট কুইন<br />
মোঃ দিদার চৌধুরী<br />
(যারা আমার লেখা পড়ে আমায় উৎসাহ দেন, ইতিবাচক কমেন্ট করেন তাদের জন্যই)<br />
চারিদিকে কুয়াশা। এখনো পুরোপুরিভাবে রোদ উঠতে অনেক দেরি। কয়েকটা চড়ুই পাখির কিচিরমিচির সকালের নীরবতাকে ভেঙে দিচ্ছে। খড়কুটো আর শুকনো ঘাস পাতা দিয়ে এরা কার্নিশে বাসা বেঁধেছে। সমস্ত দিন এরা লাফিয়ে বেড়িয়ে মাটি থেকে পোকামাকড়, শস্য খুঁটে খায়। আজও তারা একাজ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-21720"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/21720/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">305f4934efd777a5225827dc1d9f8884</guid>
				<title>Md Didar Chowdhury and অভিমানী মন are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/21717/</link>
				<pubDate>Sat, 17 Jul 2021 17:45:38 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">305f4934efd777a5225827dc1d9f8884</guid>
				<title>Md Didar Chowdhury and Neel tripura are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/21716/</link>
				<pubDate>Sat, 17 Jul 2021 17:45:38 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">305f4934efd777a5225827dc1d9f8884</guid>
				<title>Md Didar Chowdhury and Drako Shajib are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/21715/</link>
				<pubDate>Sat, 17 Jul 2021 17:45:38 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">305f4934efd777a5225827dc1d9f8884</guid>
				<title>Md Didar Chowdhury and চাঁদ সদাগর are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/21714/</link>
				<pubDate>Sat, 17 Jul 2021 17:45:38 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>