<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Rajib-Chowdhury | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/rajib-chowdhury/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/rajib-chowdhury/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Rajib-Chowdhury.</description>
	<lastBuildDate>Sun, 14 Jun 2026 15:26:11 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">70c924e2983ad98781d15693f7215c3e</guid>
				<title>লেডি গাগা 
১.
“সুপ্রিয় দর্শক মণ্ডলী আজকে আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হয়েছেন “লেডি গাগা” নামে পরিচিত বিউটি এক্সপার্ট “গাউসিয়া গাহীন”। সবাই ওনার জন্য একটা জোড় হাততালি দিন”।
বিশাল আয়নাতে নিজের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলে গুণমুগ্ধ ভঙ্গিতে নকল হাততালি দিলেন কয়েকবার। 
বিউটি এক্সপার্ট হিসেবে ফেমাস ব্যক্তিত্ব গাউসিয়া গাহীন নিজের সকাল বেলার সাঁজ সম্পন্ন করছিলেন নিজের শয়ন কক্ষে। কক্ষটা বিশাল। একপাশে একটা বিশাল টেরেস। সেখান থেকে ভেসে আসছে ভোরের সূর্যালোক। এই আলো ফুটার আগেই গাউসিয়া গোসল সেরে নেন। তারপর সূর্য স্নান করেন ভোরের আলোতে। সূর্য স্নান শেষে এসে দাঁড়ান আয়নার সামনে। তারপর শুরু হয় উনার রূপচর্চা। এই সময় উনার আশে পাশে কেউ থাকেনা। একেবারেই নিষিদ্ধ এই সময় উনার ঘরে প্রবেশ করা। এমনকি উনার নতুন বয়-ফ্রেন্ড শাহীন ও এখানে আসতে পারেনা এই সময়। শুধু মাত্র রাতের দুই ঘণ্টা তিনি দেন শাহীন কে। 
রূপচর্চার জন্য তিনি বিখ্যাত হয়েছেন মাত্র কয়েকবছর আগে। এর আগে উনার একটা বিউটিপারলার ছিল। সেখানে বিউটি টিপস দিতেন বিখ্যাত সব মানুষ কে। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি একটা ফর্মুলা আবিষ্কার করেছেন। এই ফর্মুলা আবিষ্কারের পরপরই তিনি রীতিমত খবরের কাগজের শিরোনাম হয়ে উঠেন। তবে যার কারণে তিনি বিখ্যাত হয়েছেন সেই বিউটি সোপ মডেল “নিতিকা” হঠাৎ নিখোঁজ হন । যদিও গাউসিয়া গাহীন ততদিনে “লেডি গাগা” নামে চারপাশে স্বীকৃতি পেয়ে গেছেন। 
আয়নার সামনে দাড়িয়েই প্রথমে আয়নার নিচের কেবিনেট থেকে বের করলেন একটা বাক্স। এই বাক্সে তিনি একটা বিশেষ চুল রাখেন দুই মাস যাবত। এটা দিয়েই শুরু হয় উনার বিউটি কেয়ার। নিজের শরীরের প্রতিটি ইঞ্চির যত্ন নেন তিনি। এবং এর মাঝে অনেক-অনেক কিছুই করেন যা বাইরের পৃথিবী কিছুই জানেনা এবং জানতে ও চায়না। সবাই এখন লেডি গাগার পেছনে বিউটি টিপস নিতেই দৌড়ায়। উনি কী মাখতে বললেন সেটার দিকে কেউ তাকায় না। 
আজ একটু তাড়া আছে ওনার। একটা বিউটি কন্টেস্টে তিনি বিউটি এক্সপার্ট হিসেবে বক্তৃতা দেবেন। এই কারণে ওনাকে প্রথম দুই কর্ম ঘণ্টা “গাগা বিউটি কেয়ার” এ নতুন বউ সাজানোর কাজ সেরে চলে যেতে হবে টেলিভিশন চ্যানেল অফিসে। সেখানে থাকতে হবে। বক্তৃতা তৈরি করে নিতে হবে। এই কারণে গতকাল রাতে তিনি শাহিনকে ও বেশি সময় দেননি।
বক্সটা খুলে একটা ডালা পাশের দিকে সরালেন গাউসিয়া। তারপর বের করে নিলেন এক গোছা চুল। এই চুলগুলো একেবারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। গাউসিয়া বিশ্বাস করেন এই চুল দিয়েই প্রথমে নিজের ফেইসওয়াশ করে নিতে হবে। 
চুল টা নিয়ে তুলোর মত করে পুরো মুখে বুলানো শুরু করে দিলেন তিনি। তারপর পুরো শরীরের প্রতিটি অংশে বুলিয়ে সাবধানে আগের স্থানে রেখে দিলেন চুলের গোছাটা। এই চুল এক নির্দিষ্ট মানুষের মাথার চুল। যার চুল সে এই পরিমাণ চুল দিতে অস্বীকৃতি জানাতেই তিনি জোর করে কেটে নিয়েছেন এই চুল। অবশ্য জোড় করে নেন নি বলেই বলা চলে। কারণ চুলগুলো কাটার সময় চুলের মালিক মৃতদের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। 
এই চুলের মালিকের নাম ছিল শিলা। শিলার ছিল এক গোছা লম্বা সুন্দর চুল। গাউসিয়ার কাছে এসেছিল বিউটি টিপস নিতে। গাউসিয়ার একটাই চাওয়া ছিল শিলার মাথা থেকে এক গোছা চুল কেটে নেবেন তিনি। মেয়েটা চায়নি চুল দিতে। আর তাতেই গাউসিয়া রেগে গিয়ে ...
চুল ট্রিটমেন্ট শেষ করে আরেকটা পার্ট খুললেন তিনি। গাড় লাল রঙ এর আঠালো তরল ভর্তি ছিল চেম্বারটা। সেখান থেকে একটা তুলি দিয়ে কিছু তরল তুলে নিলেন সযত্নে। এই লাল তরল বেশ কষ্টে যোগার করতে হয়েছে। অনেক কষ্টে এই তরল নিকষিত করেছেন একজনের একটা বিশেষ অঙ্গ থেকে। অবশ্য সেই অঙ্গের মালিকা ও এখন মৃতের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। তবে এতে গাউসিয়ার কোন হাত ছিলনা। সে না দিলে কিভাবে গাউসিয়া রূপচর্চা করবেন?
অবশ্য ছোটবেলা থেকে গাউসিয়া অপূর্ব রূপের অধিকারিণী। তাঁর শরীরে টইটুম্বুর সৌন্দর্য। যেন রূপ গলে গলে পড়ত। গাউসিয়া যখন মাত্র বারো বছরের কিশোরী তখনই তাঁর রূপের ঝলকে পাগল হয়েছিল আশে পাশের সকল পুরুষ প্রজাতি। 
কিন্তু একদিন গাউসিয়ার এক দুঃসম্পর্কের চাচা গাউসিয়াকে জোড় করে... 
এর পর থেকে গাউসিয়া আর কোন দিন প্রেমের সম্পর্কে জড়ান নি কারো সাথে।পুরুষের সাথে তাঁর চির জনমের শত্রুতা। আর সুন্দরী নারীদের যা কিছু সুন্দর তা তাঁর চাই ই চাই। এই চাওয়ার কারণেই আজকে পঁয়তাল্লিশ পেরিয়েও গাউসিয়া গাহীন লেডি গাগা হয়েছেন।
“ক্রিং ক্রিং শব্দে ফোন বেজে উঠল। ইন্টার-কমে বলা ছিল এই সময় কোন ভাবেই বিরক্ত করা যাবেনা। কিন্তু বিশেষ কারণ ছাড়া কেউ উনাকে এই সময় বিরক্ত করতে সাহস পায়না। 
গাউসিয়া ফোনের রিসিভার তুললেন। ওপাশ থেকে একটা নারী কণ্ঠ বলল:
“ম্যাডাম- একটু আগে বিউটি টিপস নিতে এক মহিলা এসেছিলেন বিউটি কেয়ারের গুলশান অফিসে। এত সকালে সাধারণত কেউ আসেনা। এই কারণে দারোয়ান ওনাকে ঢুকতে দেননি। কিন্তু মহিলা জোড় করেই ঢুকেছেন- আর হঠাৎ কী সব আবোল তাবোল বলা শুরু করেছেন”
“কী বলেছে সে?” গাউসিয়ার কণ্ঠে রাগ ঝরে পড়ছে। 
“ম্যাডাম উনি বলছেন – আপনার ফেয়ারনেস লোশনে নাকি আপনি রক্ত মিশিয়েছেন” ওপাশ থেকে ভয়ার্ত কণ্ঠে বলে উঠল কেউ।
কথাটা শুনেই গাউসিয়ার গা কেঁপে উঠল। ভয়ে এবং ঘৃণায়। তবে তিনি কোন কিছুই প্রকাশ করলেন না। ক্লজেটের ভেতর থেকে একটা গাড় লাল লিপ লাইনার বের করে ঠোট দুটো এঁকে নিলেন ভালো করে। ঠোঁট আঁকতে গাউসিয়া একেবারেই কার্পণ্য করেন না।এমনকি সর্বোচ্চ বিপদসংকেতে ও না। কারণ এই ঠোঁট দিয়েই এই পর্যন্ত পাগল করেছেন কত যুবককে- তার কোন ইয়ত্তা নেই। তিনি বেশ ভালোভাবেই জানেন- ঠোঁটের লাল হাসিতে যে কোন পুরুষকেই কাত করে ফেলা যায় নিমেষেই- যা গাউসিয়া বেশ ভালোভাবেই জানেন।
প্রাথমিক সাঁজ শেষ করেই একটা শাড়ি গায়ে জড়ালেন তিনি। ঠিক করেছেন এটা পড়েই অনুষ্ঠানে যাবেন তিনি। শাড়িটা পরতে উনার মাত্র তিন মিনিট সময় লাগল। এর মাঝেই দুইবার ভাইব্রেশন হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে ব্যক্তিগত দু নম্বর মোবাইলটা। সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ না করেই তিনি প্রস্তুত হয়েই নিজেই ড্রাইভ করে বেরিয়ে পড়লেন গুলশানের উদ্দেশ্যে। সময় তখন সকাল সাতটা।
২.
মিনিট বিশেক পর...... 
গাউসিয়া নেমে এলেন গুলশান দুই এর সার্কেল এর ট্রপিকান টাওয়ারে। এই টাওয়ার সদ্য প্রসূত। একজন ইউরোপিয়ান আর্কিটেক্ট ডিজাইন করেছেন। গাউসিয়া এই ভবনের দশ তলায় নিজের বিউটি কেয়ার এ চলে গেলেন লিফট এ চড়ে। অফিস আওয়ার এখনো শুরু হয়নি। কিন্তু বিশেষ ভাবে চেনার কারণে দারোয়ান স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তিনি প্রবেশ করলেন। 
লিফটের ৯ এ বাটন প্রেস করে  তিনি দাঁড়ালেন শান্ত হয়ে। লিফটের ভেতর বেশ উজ্জ্বল আলোর ঝলকানিতে বেশ উচ্ছল মনে হল নিজেকে। স্টেইনলেস স্টিলের আবরণে নিজেকে বেশ স্বচ্ছ ভাবে দেখা যাচ্ছে। শাড়ীর পাড়টা বেশ সুন্দর করে ভাঁজ করে নিলেন এর ফাঁকে। 
একজন মহিলার কণ্ঠে নয় তলা এসেছে জানান দিতেই গাউসিয়া নেমে এলেন লিফট থেকে। সামান্য দুই পাক ঘুরে যেতেই অফিস। কিন্তু সেখানে গিয়েই দেখেন তুলকালাম কাণ্ড। দুইজন খাকি উর্দির গার্ড দুই হাত চেপে ধরে আছে এক পঞ্চাশ পেরোনো মহিলাকে। মহিলা গাগা কে দেখার জন্যই অপেক্ষা করছিল হয়ত। আর দেখার সাথে সাথে চিৎকার করে বলে উঠল:
“ঐ তো পিশাচিনি। ঐ আমার মেয়েকে খুন করেছে”।
খট খট শব্দ তৈরি করা হাই হিল এ চেপে গাউসিয়া এসে দাঁড়ালেন মহিলার সামনে। তারপর গার্ডদের বললেনঃ 
“উনাকে ছেড়ে দেন”। তারপর মহিলার দিকে তাকিয়ে বললেনঃ “আমার সাথে আসুন ভেতরে”।
৩.
আলো আধারির মাঝে মহিলা বসে আছে। মহিলার দুই দিকে দুইজন গার্ড দাঁড়িয়েছিল এতক্ষণ। গাগা ইশারা করতেই চলে গেল ওরা নিঃশব্দে। ওদের চিৎকার করার কোন অধিকার নেই। ওরা ক্ষমতাবান দের অঙ্গুলি হেলনে চলাফেরা করে। 
“ কী নাম আপনার?” গাগার কণ্ঠে শীতলতা।
“ গুলশান আরা “ – ফোঁপাচ্ছেন মহিলা।
“ আপনি কীভাবে এতকিছু জানেন?”
“ আমি দেখতে পেয়েছি”
“ কী দেখতে পেয়েছেন?”
“ আমি দেখেছি- তুই – তুই আমার মেয়েকে খুন করেছিস”
“ কীভাবে?”
“ আমি স্বপ্নে দেখেছি”
বিকট স্বরে চিৎকার করে হেসে উঠলেন গাউসিয়া। শুনেই গায়ে কাঁটা দিল গুলশান আরার। মহিলার বিকট শরীরে কাঁপুনি ধরেছে গাউসিয়ার হাসি শুনে। যতই স্বপ্নে দেখেন না কেন গাউসিয়ার ক্ষমতা সম্পর্কে উনি জানেন। আর এই কারণেই ভয়েই কাঁপছেন তিনি। তবে নিজের সন্তানের সম্ভাব্য হত্যাকারিণীর সামনে তিনি মাথা নত করতে চাইলেন না। 
“ হাসবি না রে বেশ্যা” হিসহিসিয়ে উঠলেন গুলশান আরা।
“ তাই না? আমি বেশ্যা? আর তোর মেয়ে কী ছিল?” গাউসিয়া এবার বেশ ঝাঁঝের সাথেই বললেন কথা গুলো।
“ আমার মেয়ে নিষ্পাপ ছিল। আমি ওকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি। মিডিয়াতে বেশ নাম করেছিল। আহা মোমের মত শরীর ছিল মেয়েটার। আর তুই মাগী- বেশ্যা- আমার মেয়েটাকে গুম করেছিস”। বলেই কেঁদে ফেলল গুলশান আরা। মেয়ের মুখের ছবি ভেসে উঠল ওনার চোখে। মেয়েকে সত্যি  বেশ কষ্ট করে বড় করেছিলেন তিনি। উনার স্বামী মারা যান বেশ আগে একটা এক্সিডেন্টে। সেই থেকে এক ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে ওনার যুদ্ধ ময় জীবন। 
কিন্তু গত দশ দিন যাবত উনার মেয়ে টয়া নিখোঁজ। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় টয়ার নিখোঁজ সংবাদ ছেপেছে পেছনের পাতায়। টয়ার সাথে দুই তিনজন বিজনেস ম্যাগনেটের সাথে বডি কন্টাক্ট ছিল বলেও বেরিয়েছে কয়েকটা সস্তা পত্রিকায়। আর গাউসিয়ার কাছেই এসেছিল টয়া। টানা তিনদিন আসে সে। একটা বিউটি ট্রিটমেন্ট নিচ্ছিল সে। ব্রেস্ট এনলারজমেন্ট। এই ব্যাপারে গাউসিয়ার আবার বিশেষ ট্রেনিং করা মেয়েরা আছে। ওদের হাতেই মিডিয়ার বেশ নাম করা কিছু মডেল আর নায়িকা নিজেদের উন্নত বক্ষা রূপে আত্মপ্রকাশ করেছেন। অনেক প্রফেশনাল কল-গার্ল আর সোসাইটি কন্যা নিজেদের ‘রাত্রিযাপন’ রেইট বাড়িয়ে নিয়েছে শুধু গাগার ব্রেস্ট এনলার্জমেন্ট ট্রিটমেন্ট নিয়ে। অবশ্য সবশেষে গাউসিয়ার আবিষ্কৃত এক বিশেষ লোশন মেখেই শেষ করেছে ওদের বিউটি ট্রিটমেন্ট। আর এদের মত করে পত্রিকার বিজ্ঞাপন দেখেই টয়া ও এসেছিল গাউসিয়ার বিউটি-কেয়ার এ। সেখানে দুইদিন সিটিং দিয়েছিল কিন্তু ক্লান্ত টয়া পর দিন সরাসরি গাউসিয়ার কাছে ট্রিটমেন্ট নিতে আসে। আর সেদিন থেকেই নিখোঁজ সে। টয়ার মায়ের কথাগুলো শুনে গাউসিয়া এবার সুর পালটালেন।
“আপনি কি জানেন- আপনার মেয়ে টয়ার সাথে কত পুরুষের বডি কন্টাক্ট ছিল মিসেস গুলশান?” গাউসিয়া এখন মেন্টাল গেইম খেলছেন।
“বেশ্যা তুই কত জনের সাথে শুয়েছিস?” রেগে গেলেন মিসেস গুলশান। 
“আমি তো কত পুরুষের সাথেই শুয়েছি। কিন্তু তোমার মেয়ে দিনে রাতে বেশ্যাগিরি করতো। আমার কাছে এসেছিল ব্রেস্ট ট্রিটমেন্ট করাতে। ওটা করালে নাকি ওর রেট দশ হাজার টাকা বেড়ে যেত” বলেই ‘হা হা হা’ করে হেসে উঠল গাউসিয়া। 
“ কোন প্রমাণ আছে?” ঝাঁঝের সাথে বললেন গুলশান।
“হ্যাঁ আছে। আমার কাছে সব আছে। আমার মোবাইলেই টয়ার দুইটা ভিডিও ক্লিপ আছে” বলেই মোবাইলে কিছু একটা টিপে বের করে দিলেন মিসেস গুলশানের দিকে।
মিসেস গুলশান মোবাইলটা হাতে নিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেলেন। নিশ্চুপ ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছেন মোবাইল স্ক্রিনের দিকে। সেখানে ভেসে উঠেছে টয়ার মুখ। হাসি হাসি মুখে টয়া বলছে-
“ আমাকে কিন্তু আজকে পাঁচ হাজার টাকা বেশি দিতে হবে এটার জন্য”।
সামনে কে যেন গম্ভীর স্বরে কিছু একটা বলল। টয়া বেশ স্বাভাবিক ভাবেই নিজের শরীরের  কাপড় খুলে ফেলল। টয়ার বস্ত্রহীন দৃশ্য দেখে ফুঁপিয়ে উঠলেন মিসেস গুলশান।
বেশ সাবলীল ভঙ্গিতে সঙ্গী পুরুষকে বিভিন্ন স্থানে আদর করে চলেছে টয়া। ভিডিও ক্লিপ টা বেশ প্রফেশনাল ভাবে তৈরি করা হয়েছে। লাইট আর ক্যামেরা ম্যান আরেকজন। মানে টয়া বুঝে শুনেই এই ভিডিও করেছে। এটা ইউটিউব আর ফেসবুকে লিক হলে টয়ার ক্যারিয়ার ধ্বংস হতে পারে জেনেও টাকার জন্য শুয়েছে লোকটার সাথে!
শীৎকার শুরু হতেই মিসেস গুলশান মোবাইলটা বাড়িয়ে দিলেন গাউসিয়ার দিকে। মোবাইলটা হাতে নিয়েই বললেনঃ
“ আরও দুইটা ক্লিপ আছে। একটা লুকানো। এটাতে আবার একজন মন্ত্রী ও আছেন” বলে মোবাইলে ভিডিও সার্চ করতে যেতেই মিসেস গুলশান কেঁদে ফেলে বললেন-
“না- না আমাকে আর দেখাতে হবেনা।আমার মেয়েকে কোথায় রেখেছেন আপনি?”
“আমি রাখতে যাবার কে?”
“আমি জানি টয়ার কী হয়েছে সেটা আপনি জানেন গাগা”
“আমি কীভাবে জানব?”
“তাহলে আমি এই স্বপ্ন দেখব কেন?”
“আমি তো স্বপ্নের ঠিকাদার নই মিসেস গুলশান?”
“আপনি জানেন কই আছে সে?” 
“আমি জানিনা।”
“তাহলে সেদিক থেকে টয়া মা কে পাওয়া যাচ্ছেনা কেন?” 
“আমি জানিনা।”
“আপনি জানেন।”
“সেদিন আমার এখানে আসার পর ওর মোবাইলে ফোন আসে। সে ফোন পেয়ে তাড়াহুড়া করে চলে যায়।”
“কিন্তু কই গেছিল?”
“আমি কী জানি? আমার এখানে তখন সিনেমার অভিনেত্রী জিনিয়া এসেছিলেন। আমি ওনাকে ট্রিটমেন্ট দিচ্ছিলাম”।
আর কথা বাড়ালেন না গাউসিয়া। উঠে পড়লেন। এদিকে নাছোড়বান্দা গুলশান আরা বাম হাত জড়িয়ে ধরল গাউসিয়ার। আর গাউসিয়ার গায়ে হাত লাগতেই রেগে গেলেন তিনি। এক ধাক্কা মারলেন গুলশান আরাকে। এক ধাক্কায় খেই হারিয়ে পড়ে গেলেন গুলশান আরা। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে টেবিলের উপর রাখা একটা পেপার ওয়েট ছুড়ে মারলেন গাউসিয়ার দিকে। আর এতেই রেগে গেলেন তিনি। দেয়ালে একটা কাঠের মূর্তি টানানো ছিল। আর সেটার কোমরে ঝোলানো ছিল একটা চকচকে ছুরি। ছুরিটা  প্যারিসের ‘এভান্ত গার্দ’ থেকে কিনেছিলেন গাগা। এভান্ত গার্দ হল প্যারিসের সবচে আলিশান দোকান-যেখানে পুরনো সব এন্টিক পাওয়া যায়। আর এই ছুরিটা ছিল প্রায় দুশো বছর আগের এন্টিক। ছুরিটা এক টানে খুলে গাগা আমূল ঢুকিয়ে দিলেন গুলশান আরার পেটে। আর মিনিট খানেকের মাঝেই গুলশান আরা মৃত্যুবরণ করলেন সেখানেই। চারপাশ ভরে গেল তরতাজা লাল রক্তে। অনেকদিন পর গাগা আবার ও লাল রক্ত দেখে প্রশান্তি অনুভব করছেন। টকটকে লাল রক্ত দেখলে গাগার অদ্ভুত শান্তি-বোধ হয়। এই শান্তি আর তিনি কিছুতেই পান না।  
৪.
ধীরে ধীরে হাতের রক্ত মুছে ফেললেন গাউসিয়া। উনার সামনে স্তূপীকৃত গুলশান আরার লাশ। সেই লাশের টুকরো নিজেই করেছেন গাউসিয়া। এই কাজটা করতে উনার বেশ লাগে। যদিও আজকে সময় হাতে নেই। তাহলে বেশ রসিয়ে রসিয়ে করতেন উনি কাজটা। 
গাগার বাড়ির মত অফিসের একটা কক্ষে কেউ প্রবেশ করতে পারেনা। এমনকি হাউজ-কিপার ও না। এই রুমে গাউসিয়ার গোপন চেম্বার আছে। এখানেই গাগা তার ঔষধ গুলো তৈরি করেন। আর এজন্য প্রচুর কাঁচামাল লাগে। কিন্তু আজকে কাঁচামালের পরিবর্তে পাকা মাল টুকরো হয়ে পড়ে আছে উনার সামনে। অবশ্য গাউসিয়া নিজের কাজ ঠিকই করে নিলেন। বিশেষ স্ক্রাব করতে একটা টোনার বানিয়েছিলেন গাউসিয়া। এটা তৈরি করেন তিনি মাথার খুলিতে জমে থাকা রক্তরস আর মস্তিষ্কের মিশ্রণের মাধ্যমে। খুবই দামী এই জিনিস। প্রতিবার স্ক্রাব করতে তিনি ত্রিশ হাজার টাকা নেন। অবশ্য কেউ এখনো পর্যন্ত এই ট্রিটমেন্ট খারাপ সেটা বলেনি। উল্টো প্রতিদিন অন্তত একজন করে এসেছে এই ট্রিটমেন্ট নিতে। এইতো গত কাল ও এসেছে নায়িকা সুনেহরা সুমি। সুমি প্রতিমাসে এই ট্রিটমেন্ট করান।একজন প্রতিমন্ত্রীর সাথে প্রতিদিন ডেট এ যান। আর এই টোনার যেদিন লাগান সেদিন প্রতিমন্ত্রী সুমিকে ছাড়তেই চায়না। গাগা এই কারণেই গুলশান আরার মাথাটা সযত্নে কেটে ফ্রিজরে রেখে দিয়েছেন।
কাজ কোনরকমে শেষ করে রুমের পাশেই একটা কাঁচের জারে মাংসের টুকরো গুলো ছেড়ে দিলেন তিনি। মুহূর্তেই রক্তে লাল হয়ে গেল জারটা। অবশ্য বেশিক্ষণ থাকবেনা সেটা। দুটো পিরানহা সদৃশ মাছ কিছুক্ষণের মাঝেই পুরো কাঁচের জারের পানি শোধনের কাজটা করে ফেলবে। প্রতিবার এভাবেই ওরা গাউসিয়ার সকল অপকর্মকে খেয়ে ফেলছে।
লাশের হাড্ডি গুলো নিয়ে গাউসিয়া বেশ বিপাকে পড়তেন। কিন্তু একদিন কি মনে করে একটা ফিমার গুড়া করে সেটার সাথে কিডনির ভেতরের তরল মিশিয়ে নিলেন। তারপর মুখে মাখিয়ে বসে থাকলেন দুই ঘণ্টা। প্রথমে কিডনি পচা একটা গন্ধ নাকে লাগলে ও পরে সব ঠিক হয়ে যায়। আর দুই ঘণ্টা পর মুখ ধুয়ে স্টিম দিতেই অদ্ভুত এক অনুভূতি হল। নিজেকে আয়নায় দেখলেন তিনি। দেখলেন ওনার চামড়ার উপর সোনালী একটা আভা পড়েছে।  সেই থেকে কোন হাড্ডিই তিনি ফেলেন না। একটা মেশিন কিনে এনেছেন চায়না থেকে। এটা দিয়ে হাড় গুড়া করা যায়। এই মেশিন দিয়েই তিনি এখন গুড়া করলেন গুলশান আরার সমস্ত হাড়। 
কাজ শেষ করে ড্রেসিং এরিয়াতে গেলেন গুলশান। বেশ ভাল একটা শাওয়ার নিলেন। তারপর ওয়ারড্রব থেকে আরেকটা লালচে শাড়ি বের করে নিলেন। এটা পরেই যেতে হবে অনুষ্ঠানে। শাড়িটা কোনরকমে পড়ে মেকআপ শেষ করলেন গাউসিয়া। তারপর রওনা দিলেন অনুষ্ঠানের পথে।
৫.
প্রতিবার মেয়েগুলোর একটা করে জিনিস তিনি চেয়ে থাকেন। জিনিস গুলো সযত্নেই থাকে। এই মুহূর্তে নিজের হাতের অনামিকায় কিছুক্ষণ আগে মারা যাওয়া গুলশান আরার হাতের সোনালী আংটি ঝলমল করছে। আংটিটার দিকে তাকিয়ে গাউসিয়ার মুখে ঝিলিক দিয়ে উঠল একটা ভুবন ভুলানো হাসি। হাসি দিয়েই তিনি স্টেজে উঠলেন। আর সঞ্চালক পুরুষটা সাথে সাথে বলে উঠল-
“লেডি গাগার জন্য হয়ে যাক একটা হাততালি। আজকে লেডি গাগা আমাদের মাঝে এসেছেন উনার ভুবন ভুলানো রূপ নিয়ে। আর উনার হাতে ঝলমল করছে একটা সোনালী রিং। এই সোনালী রিং এজন্য ও হয়ে যাক আরেকটা হাততালি...”</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/109485/</link>
				<pubDate>Wed, 11 May 2022 05:35:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>লেডি গাগা<br />
১.<br />
“সুপ্রিয় দর্শক মণ্ডলী আজকে আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হয়েছেন “লেডি গাগা” নামে পরিচিত বিউটি এক্সপার্ট “গাউসিয়া গাহীন”। সবাই ওনার জন্য একটা জোড় হাততালি দিন”।<br />
বিশাল আয়নাতে নিজের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলে গুণমুগ্ধ ভঙ্গিতে নকল হাততালি দিলেন কয়েকবার।<br />
বিউটি এক্সপার্ট হিসেবে ফেমাস ব্যক্তিত্ব গাউসিয়া গাহীন নিজের সকাল বেলার সাঁজ সম্পন্ন ক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-109485"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/109485/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>