<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Rupantor Roy | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/rupantorroy/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/rupantorroy/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Rupantor Roy.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 02 Nov 2026 10:26:10 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">ee29db7aaed809c79955d25aa9c30cac</guid>
				<title>আমরা এক আজব দুনিয়ায় বাস করি। যার নাম পৃথিবী। এখানে বাস করে ৮০০ কোটিরও বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে আমি একজন, আপনি একজন, আর আপনার চেনাজানা আরও অনেক মানুষ। জানেন, আমাদের মধ্যে একটা অদ্ভুত মিল কী? আমি একা, আপনি একা, এবং বাকি সবাইও একা।

আপনি যদি খুব সূক্ষ্মভাবে চিন্তা না করেন, তাহলে হয়তো এসব কিছুই উপলব্ধি করতে পারবেন না। আর তার জন্য দরকার অনেকটা অবসর সময়, নিজের সঙ্গে কাটানোর মতো কিছু মুহূর্ত আর একাকিত্বের স্বাদ। আপনি যদি একবার গভীরভাবে চিন্তা করেন তাহলে আপনি অনেক উন্নত হবেন। একই সঙ্গে ভেঙেও পড়বেন।

‘আমি একা, আমাকে কেউ বুঝবে না’—এগুলো হলো রোগক্লিষ্ট মস্তিষ্কের ব্যাখ্যা। চারদিকে তাকিয়ে দেখুন। কত মানুষ আছে আপনার! তারা আপনাকে হাসাতে পারে। আপনিও তাদের অসময়ে একটু খোঁজ নিতে পারেন। তারপরও একটা প্রশ্ন থেকে যায়—তারা কি সত্যিই আপনাকে পুরোপুরি বোঝে? কিংবা আপনি কি তাদের পুরোপুরি বুঝতে পারেন?

একটা সময়ে এসে প্রত্যেক মানুষই ভেতরে ভেতরে কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে ধুঁকতে থাকে। অথচ বাইরে থেকে তাকে দেখে মনে হয়, সে খুব সুখে আছে। তার মতো হাসিখুশি মানুষ পৃথিবীতে আর কেউ নেই। কিন্তু তার ভেতরের খবর কজন জানে?

মানুষ যা দেখায়, তা সে নয়। কাউকে বুঝতে হলে তার ভেতরের জগৎটাকে জানতে হয়। কিন্তু সে যদি নিজের সেই জগৎ কাউকে দেখাতেই না চায়, তখন?

মানুষ হয়ে যখন জন্মেছি, তখন কষ্ট তো পেতেই হবে। সেই কষ্টের গভীরতা যতই হোক না কেন, তবু তো আমি মানুষ। দুঃখ, ব্যর্থতা কিংবা দীর্ঘদিনের মানসিক টানাপোড়েন কখনো কখনো মানুষকে শিল্পের দিকে নিয়ে যায়। কেউ লেখক হয়, কেউ গায়ক, কেউবা অন্য কোনো শিল্পী।

কেন আমাদের জীবনে বারবার ব্যর্থতা আসে, তা বোঝার ক্ষমতা আমার এখনো হয়নি। কারণ, আমি কখনো নিজেকে সফল মানুষ হিসেবে দেখতে পারিনি। নিজেকে অনেকবার, অনেকভাবে ভেঙেছি। এখনো ভাঙছি।

‘আমাদের কেউ বুঝতে পারে না’—এই ধারণাটা হয়তো পুরোপুরি সত্য নয়। কখনো যদি তোমার এমন মনে হয়, তাহলে গান শোনো। কিংবা বই পড়ো। আর যদি নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করার মতো কোনো ভাষা খুঁজে না পাও, তাহলে লেখক হও, গায়ক হও।

কখনো মনে পড়ে তোমার প্রথম প্রেমের কথা?

সেই সময়ে কতগুলো গান তোমার মনকে দোলাত! প্রেম যদি একতরফা হয়ে থাকে, তাহলে হয়তো তুমি শুনতে ‘মায়াবন বিহারিণী হরিণী’। আর যদি ভালোবাসা পূর্ণতা পেয়ে থাকে, তাহলে হয়তো অন্য কোনো গান তোমার মনের সঙ্গে মিশে যেত। আবার ভালোবাসায় ব্যর্থ হয়ে যখন হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হতো, তখন হয়তো শুনতে—‘এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না, সুখ চলে যায়।’

একটু মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করলে দেখবে, গান কিংবা সাহিত্যের পাতায় মানুষের প্রায় সব ধরনের অনুভূতিরই জায়গা রয়েছে। সেখানে আনন্দ আছে, বিষাদ আছে, একাকিত্ব আছে, ভালোবাসা আছে, বিচ্ছেদ আছে। কখনো কখনো কোনো একটি গানের কয়েকটি লাইন আমাদের নিজের জীবনের গল্প হয়ে ওঠে। মনে হয়, এই কথাগুলো তো আমারই! আমার মনের ভেতরে জমে থাকা অনুভূতিগুলোই যেন কেউ ভাষায় প্রকাশ করে দিয়েছে।

পৃথিবীতে কত ধরনের গান রয়েছে! অনুপ্রেরণার গান, একাকিত্বের গান, বিষণ্নতার গান, প্রেমের গান, বিচ্ছেদের গান, আনন্দের গান। জীবনের একেকটি মুহূর্তে একেকটি গান আমাদের মনের সঙ্গে মিশে যায়। আমরা অন্য কারও কণ্ঠে নিজের না-বলা কথাগুলো শুনতে পাই।

তাই বলছি, তুমি একা নও। তোমার অনুভূতিগুলো হয়তো তোমার মতো করে আর কেউ প্রকাশ করতে পারেনি, কিন্তু পৃথিবীর কোথাও না কোথাও কেউ না কেউ সেই অনুভূতির মধ্য দিয়ে গেছে। হয়তো কোনো লেখক তা লিখে গেছেন, কোনো গায়ক তা গেয়ে গেছেন। তুমি শুধু এখনো তার সঙ্গে পরিচিত হওনি।

আর যদি কখনো মনে হয়, তোমার অনুভূতি সবার থেকে আলাদা, তোমার মনের কথাগুলো বোঝার মতো কেউ নেই, তাহলে তুমি গায়ক হও। অথবা একজন লেখক।

অন্তত এমন কিছু সৃষ্টি করো, যার মধ্যে একদিন অন্য কেউ নিজের একাকিত্বকে খুঁজে পাবে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/287605/</link>
				<pubDate>Sat, 31 Oct 2026 01:33:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমরা এক আজব দুনিয়ায় বাস করি। যার নাম পৃথিবী। এখানে বাস করে ৮০০ কোটিরও বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে আমি একজন, আপনি একজন, আর আপনার চেনাজানা আরও অনেক মানুষ। জানেন, আমাদের মধ্যে একটা অদ্ভুত মিল কী? আমি একা, আপনি একা, এবং বাকি সবাইও একা।</p>
<p>আপনি যদি খুব সূক্ষ্মভাবে চিন্তা না করেন, তাহলে হয়তো এসব কিছুই উপলব্ধি করতে পারবেন না। আর তা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-287605"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/287605/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4bd17e6c0f06a1aebea5f02f36de841b</guid>
				<title>জীবন কখনো কথা বলে ১.

জীবন কখনো কথা বলে। যেমন এখন সে আমায় বলছে, &quot;গরম চা টা ঠান্ডা করে ধীরে সুস্থে খাও।&quot;

বাহিরে অনেক কনকনে শীতল বাতাসে রীতিমতো ঠক ঠক করে কাঁপছি। গায়ে পাতলা একটা চাদর। এই সময়ে হাতের কাছে আগুন গরম এক পেয়ালা চা। কে আর জীবনের কথা শুনে! একটু ফু দিয়ে গলায় ঢেলে দিলাম সেই তরল অমৃত। জিভটা মনে হয় পুড়ে গেল। গলা দিয়ে নেমে গেল গরম আগুন। পাকস্থলী ও মনে হয় বুঝতে পারল উত্তপ্ত কিছু একটা ভেতরে এসেছে। অথচ শরীরের বেশ আরাম পেলাম। কোন যন্ত্রণা অনুভব হলো না। পরপর আরো কয়েকবার চুমুক দিলাম। একই অনুভূতি ঘুরে এলো আমার মস্তিষ্কে। কিন্তু বুঝতে পারলাম পরবর্তীতে এর খেসারত দিতে হবে আমাকে।

জীবন আমাকে একটা কথা জানালো। যে, &quot;তুমি আগে মানুষ হও।&quot;

এদিকে আমার চা পান করা শেষ। শরীর আগের তুলনায় উষ্ণ হয়ে আছে। তবুও ঠান্ডা আটকানোর জন্য দুহাত দিয়ে নিজেকে জড়িয়ে ধরে নোংরা বেঞ্চিটার উপর বসে পড়লাম। দোকানটা আর কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়তো বন্ধ করে ফেলবে। তখন আমি হয়তো সম্পূর্ণ একা হয়ে যাব। এদিকে আমার জিভটাও পুড়ে গেছে। মুখের ভেতর কিছু অনুভব করতে পারছি না। আবার জীবনকেও তার জবাব দেওয়া দরকার— তুমি আগে মানুষ হও।

মনে মনে তাকে বললাম,

&quot;যার শারীরিক গঠনে উন্নত একটা মস্তিষ্ক আছে। যে অন্যকে বুঝতে পারে, নিজের মনভাব প্রকাশ করতে পারে। তাকেই তো মানুষ বলে। আর আমিও তো তেমন একজন। আসলে তুমি কোন মানুষের কথা বলছো?&quot;

জীবন বললো,

&quot;তুমি যদি তা বুঝতে না পারো। তাহলে তুমি একজন অমানুষ।&quot;

আমি মনে মনে মৃদু ভাবে হেসে মুখভঙ্গিতে তা প্রকাশ করে তাকে বললাম,

&quot;তুমিও কি আমার সঙ্গী নও? নাকি তুমি আমার...

জীবনের কাছে কথাটা শেষ করতে পারলাম না। তার আগেই বাস্তবতায় দোকানদারের একটা ঝাড়ি খেলাম। শীতের মধ্যে বাহিরে বসে থেকে অকারনে আমাকে হাসতে দেখে তার মনে হতো অন্যরকম অনুভূতির জন্ম নিচ্ছিল। সে বিরক্তি মাখা সুরে বললো,

&quot;এখন যাও। এখন আমি দোকান বন্ধ করবো।&quot;

খোলা শুনশান মাঠে একটা ঝুপড়ি দোকান মতো। তার বাহিরে মাটিতে বাঁশ পুতে তৈরিকৃত বেঞ্চে আমি উপবেশন করে আছি। জিভ অকার্যকর থাকায় অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে দোকানদারকে বুঝাতে চাইলাম, এই অসময়ে আমি এখন কোথায় যাব। তাই বাইরে এখানে কিছুক্ষণ থাকতে চাই। কিন্তু সে আমার অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে কি যে বুঝলো—তা সেই জানে। সে আরো ক্ষেপে গিয়ে ধমকের সুরে আমায় বললো,

&quot;পাগল, যা পালা শালা। এক্ষুনি যা! নইলে কিন্তু এবার মারবো।&quot;

আমি অমায়িকভাবে হাসতে লাগলাম। মনে মনে তাকে বললাম,

&quot;তুমি ভুল বুঝছো ভাই।&quot;

কিন্তু তারপরেও আমাকে উঠতে হলো। হাবভাব বাদ দিয়ে আমার চেহারায় বাকি যা কিছু আছে তার সম্মিলিত বিবরণ একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষেরই মতো। তাই হয়তো আমি উঠে দাঁড়ানোর সাথে সাথেই দোকানদার আমার কাছে চায়ের পেয়ালার জন্য টাকা চাইলো। আমি তখন সঙ্গে থমকে গেলাম। মনে পড়লো, আমি এক শূন্য মানুষ। থমথমে চেহারার দোকানদারের বাড়িয়ে দেওয়া খালি হাতের দিকে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আমার আর কোন করার ছিল না।

ধুপ করে দোকানের ছাউনি টা আমার মুখের সামনে পড়ে গেল। দোকানদার আমাকে নীরবে বিতাড়িত করলো। আমার সুবিশাল আত্মসম্মানে সূচের মতো একটা ক্ষত দিয়ে। আমার জীবনের ভেতরটা তখন আমাকে উপহাস করে অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। আমি মৃদুভাবে মাথা নেড়ে হাটতে শুরু করলাম।

প্রান্তর জুড়ে কেউ নেই। চারিদিকে জলা জঙ্গল আর কুয়াশার চাদরে ঢাকা। আর আমি একা। হাঁটতে হাঁটতে একটা গ্রামার কাছে এসে পৌঁছলাম। ঠান্ডায় পুরো শরীর তখন অবশ হয়ে এসেছে। জীবন একনাগারে মাথার ভিতর তখন কি আবোল তাবোল বলছে— তাতে মনোযোগ দিলাম না।

গ্ৰামের ভেতরের সারি সারি বাড়িগুলো অন্ধকারে বুকের আলো জ্বেলে দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরেই যেন সকল আশ্রয়। আমি আবারো হাঁটতে শুরু করলাম। আমার যাবার আর কোন জায়গা নেই। ঠান্ডায় ধুলো মাখা এই রাস্তার মধ্যে অল্পক্ষণই হতো অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাবো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/287176/</link>
				<pubDate>Wed, 28 Oct 2026 06:16:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জীবন কখনো কথা বলে ১.</p>
<p>জীবন কখনো কথা বলে। যেমন এখন সে আমায় বলছে, &#8220;গরম চা টা ঠান্ডা করে ধীরে সুস্থে খাও।&#8221;</p>
<p>বাহিরে অনেক কনকনে শীতল বাতাসে রীতিমতো ঠক ঠক করে কাঁপছি। গায়ে পাতলা একটা চাদর। এই সময়ে হাতের কাছে আগুন গরম এক পেয়ালা চা। কে আর জীবনের কথা শুনে! একটু ফু দিয়ে গলায় ঢেলে দিলাম সেই তরল অমৃত। জিভটা মনে হয় পুড়ে গেল। গলা দিয়ে নেমে গেল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-287176"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/287176/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">69ade8240c27defca105a4ba02583812</guid>
				<title>না বলা ভালোবাসা

না বলা ভালোবাসা হায়!
অযত্নে হারিয়া যায়।
তোমারে খুব ভালোবাসি
যখন হারিয়ে ফেলার সময় আসে।

তুমি আছো—
এই বিশ্বাসটুকুই যথেষ্ট ছিল।
তাই তোমার থাকা নিয়ে
কখনো ভাবিনি।

কাছের জিনিসের প্রতি
মানুষ বড় নির্দয়;
সে জানে না—
যা প্রতিদিন পাশে থাকে,
একদিন তার অনুপস্থিতিই
সবচেয়ে বড় শূন্যতা হয়ে দাঁড়াবে।

আমি জানি না
তুমি আমাকে ভালোবাসো কি না।
তবু তোমাকে ভালোবেসে
একটি অসম্পূর্ণ সত্যকে
সম্পূর্ণ বলে মেনে নিয়েছিলাম।

হঠাৎ একদিন প্রশ্ন জাগে—
তুমি কি সত্যিই আমার?

প্রশ্নটি ছোট,
কিন্তু তার ভেতরেই
সমস্ত নিশ্চয়তার মৃত্যু।

তখন মনে হয়,
যাকে এতদিন নিজের ভেবেছি
সে হয়তো কখনোই আমার ছিল না;
শুধু আমার ভালোবাসার মধ্যে
তার একটি ঠিকানা ছিল।

আর আশ্চর্য—
হারানোর ভয় আসতেই
তোমাকে আরও বেশি করে
মনে পড়তে থাকে।

তখন বুঝি,
ভালোবাসা কখনো কখনো
পাওয়ার মধ্যে নয়—
হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার মধ্যেই
তার সবচেয়ে গভীর রূপটি প্রকাশ করে।

যে মানুষটি হয়তো আমার নয়,
তাকেই হারানোর ভয়
কেন এত সত্যি?

হয়তো মানুষ
কখনো কখনো একজন মানুষকে নয়,
নিজের বিশ্বাসকেই ভালোবাসে।

আর সেই বিশ্বাস ভেঙে যাওয়ার আগে
শেষবারের মতো
হৃদয় তাকে আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরে।

না বলা ভালোবাসা হায়!
অযত্নে হারিয়া যায়।
তোমারে খুব ভালোবাসি
যখন হারিয়ে ফেলার সময় আসে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/283069/</link>
				<pubDate>Wed, 07 Oct 2026 08:26:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>না বলা ভালোবাসা</p>
<p>না বলা ভালোবাসা হায়!<br />
অযত্নে হারিয়া যায়।<br />
তোমারে খুব ভালোবাসি<br />
যখন হারিয়ে ফেলার সময় আসে।</p>
<p>তুমি আছো—<br />
এই বিশ্বাসটুকুই যথেষ্ট ছিল।<br />
তাই তোমার থাকা নিয়ে<br />
কখনো ভাবিনি।</p>
<p>কাছের জিনিসের প্রতি<br />
মানুষ বড় নির্দয়;<br />
সে জানে না—<br />
যা প্রতিদিন পাশে থাকে,<br />
একদিন তার অনুপস্থিতিই<br />
সবচেয়ে বড় শূন্যতা হয়ে দাঁড়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-283069"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/283069/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b5e4ee22cca3b0df11d8432aa9e1f94e</guid>
				<title>এমনিই

মরিবার আগে আমি
জীবনের শেষ বিন্দুতে এসে
নিজেকে দেখতে চাই।

যখন চুলগুলো সব সাদা হয়ে যাবে,
কপালে পুরোনো চামড়ার কুৎসিত ভাঁজ পড়বে,
শরীরে থাকবে লাঠির ভরে উঠে দাঁড়ানোর বল।

হায়রে পৃথিবী।

এখন খুব একা লাগে
বিধ্বস্ত মস্তিষ্কের কলুষিত সরু নদীগুলো দিয়ে
উষ্ণ, একধরনের তরল বয়ে যায়।

নিজের দিকে যখন তাকাই, তখন সুখে থাকি,
অন্যকে আদলে ফেলে, চিন্তাগুলো মুক্তি পেলে—
বিষক্রিয়া ঘটে তখন নদীর জলে।

হায়রে পৃথিবী।

চারিদিকে মরুঝড়, উত্তাল সমুদ্র
প্রখর রৌদ্রে টেকা বড়ো দায়।
দূর থেকে এসে, শূন্য নদীতে ভেসে
আবার মরীচিকা দেখা দেয়।

হায়রে পৃথিবী।

মরিবার আগে আমি
জীবনের ঝুটা স্বপ্নগুলোকে নিয়ে
অন্ততঃ, বেঁচে থাকতে চাই।

হায়রে পৃথিবী।

উনিশ বছর বয়স
এটা কি খুব বেশি?
হ্যাঁ, মনে হয়।

হায়রে পৃথিবী।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/280791/</link>
				<pubDate>Thu, 01 Oct 2026 05:25:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এমনিই</p>
<p>মরিবার আগে আমি<br />
জীবনের শেষ বিন্দুতে এসে<br />
নিজেকে দেখতে চাই।</p>
<p>যখন চুলগুলো সব সাদা হয়ে যাবে,<br />
কপালে পুরোনো চামড়ার কুৎসিত ভাঁজ পড়বে,<br />
শরীরে থাকবে লাঠির ভরে উঠে দাঁড়ানোর বল।</p>
<p>হায়রে পৃথিবী।</p>
<p>এখন খুব একা লাগে<br />
বিধ্বস্ত মস্তিষ্কের কলুষিত সরু নদীগুলো দিয়ে<br />
উষ্ণ, একধরনের তরল বয়ে যায়।</p>
<p>নিজের দিকে যখন তাকাই, তখন সুখে থাকি,<br />
অন্য&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-280791"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/280791/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">522c69518149c967bf03a2585f79a06b</guid>
				<title>কিছু

আমরা মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব 
নিজের ভাগ্য লুঠতে মারতে পারি স্রিফ,

জঞ্জাল থেকে মুক্তি পেতে-
কাঁধের বোঝা কাধেই রেখে-
অন্যজনারে দাঁড় করায়ে-
দিই ঘারে তার বটে,
বুদ্ধি নাই যার ঘটে।

নিজের লাগি অন্যের ঠেলা-
মান বাঁচাতে করি না অবহেলা-
দুঃখ সহকারে ভরে দিই তার মন, 
কিন্তু গোপনে লুটছি তার ধন। 

হও হুশিয়ার, হও হুশিয়ার 
বলে বলে তার কানে-
স্বার্থের গান গাইছি মোরা,
এই তার মানে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/280390/</link>
				<pubDate>Wed, 30 Sep 2026 05:03:28 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিছু</p>
<p>আমরা মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব<br />
নিজের ভাগ্য লুঠতে মারতে পারি স্রিফ,</p>
<p>জঞ্জাল থেকে মুক্তি পেতে-<br />
কাঁধের বোঝা কাধেই রেখে-<br />
অন্যজনারে দাঁড় করায়ে-<br />
দিই ঘারে তার বটে,<br />
বুদ্ধি নাই যার ঘটে।</p>
<p>নিজের লাগি অন্যের ঠেলা-<br />
মান বাঁচাতে করি না অবহেলা-<br />
দুঃখ সহকারে ভরে দিই তার মন,<br />
কিন্তু গোপনে লুটছি তার ধন। </p>
<p>হও হুশিয়ার, হও হুশিয়ার<br />
বলে বলে ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-280390"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/280390/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1b413ed79f63c4cc4ef020dd4aab0d20</guid>
				<title>Rupantor Roy and Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ] are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/274371/</link>
				<pubDate>Tue, 15 Sep 2026 09:53:03 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7ce7b8b029ab6f12c13a0b8b7970b68d</guid>
				<title>হতভাগা আমি।

কাতরতা, কাতরতা কেন ডাকিয়া আনিলে-- মোরে?
এই ভাঙা ঘরের দোরে,
আমার তো কিছুই নেই
সবকিছু পাওয়ার লোভ
তবে কার উপরে জন্মাবে, কাতরতার ক্ষোভ? 

দান করো মোরে, দান করো মোরে
সুখেই কাটাইতেছি জীবন-
কিছু পাইনে, তবু আশা স্বপ্নে বিভোর এমন। 

স্বাদের বেলায় সবকিছুতেই 
আগ বাড়িয়ে থাকি-
যার আকর্ষন, তার লাগি 
মন খিলায়ে ভাবি। 

বিশ্বাসযোগ্য নহে বিশ্বাস, এই রিদয়ের মাঝে-
কাতরতার রস কেমনে লাগিবে? 
আমি যে ঘুমিয়ে পরি সাঁঝে। 

না পাওয়া যতো পাওয়াগুলি 
মনের ভেতর জমা করে-
বিভোর স্বপ্নে মাতাই নয়ন-আঁখি মেলে।।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/274324/</link>
				<pubDate>Tue, 15 Sep 2026 08:10:42 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হতভাগা আমি।</p>
<p>কাতরতা, কাতরতা কেন ডাকিয়া আনিলে&#8211; মোরে?<br />
এই ভাঙা ঘরের দোরে,<br />
আমার তো কিছুই নেই<br />
সবকিছু পাওয়ার লোভ<br />
তবে কার উপরে জন্মাবে, কাতরতার ক্ষোভ? </p>
<p>দান করো মোরে, দান করো মোরে<br />
সুখেই কাটাইতেছি জীবন-<br />
কিছু পাইনে, তবু আশা স্বপ্নে বিভোর এমন। </p>
<p>স্বাদের বেলায় সবকিছুতেই<br />
আগ বাড়িয়ে থাকি-<br />
যার আকর্ষন, তার লাগি<br />
মন খিলায়ে ভাবি।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-274324"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/274324/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">75f6ebecc27b1ca373f7d065b54a0e14</guid>
				<title>Rupantor Roy and BISHU KUMAR BISWAS are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/274166/</link>
				<pubDate>Mon, 14 Sep 2026 22:11:52 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b35af095a15a8168ee0075869f45dd10</guid>
				<title>সাঁঝের মায়া 

যেমনি-- বৃষ্টি শেষ হলো- 
সন্ধ্যে ঘনিয়ে এলো-
দিনের আলো ফুরোলো-
এবার জোনাকিরা জ্বালাবে আলো। 

আধো আলো, আধো কালো- 
চারিদিক সাদাকালো।
মেঘের ভিতরে বজ্রের নাচ
টেনে দিচ্ছে প্রকৃতির সাজ
মেলে দিচ্ছে ভয়ের দুয়ার
সাধ জেগেছে আকাশ ছোঁয়ার। 

পাখিরাও চুপটি করে-
ডানা দুটো মেলে-
শুনছে কলরব।

ব্যাঙের ডাকে ভরা পুকুর 
অতিষ্ঠ নাই, লাগছে বেশ সুর 
বাতাসের দোলায়
জারুল গাছের তলায়
পড়ে থাকে জামরুল
পেকে একেবারে টুলটুল।।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/273805/</link>
				<pubDate>Mon, 14 Sep 2026 02:22:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সাঁঝের মায়া </p>
<p>যেমনি&#8211; বৃষ্টি শেষ হলো-<br />
সন্ধ্যে ঘনিয়ে এলো-<br />
দিনের আলো ফুরোলো-<br />
এবার জোনাকিরা জ্বালাবে আলো। </p>
<p>আধো আলো, আধো কালো-<br />
চারিদিক সাদাকালো।<br />
মেঘের ভিতরে বজ্রের নাচ<br />
টেনে দিচ্ছে প্রকৃতির সাজ<br />
মেলে দিচ্ছে ভয়ের দুয়ার<br />
সাধ জেগেছে আকাশ ছোঁয়ার। </p>
<p>পাখিরাও চুপটি করে-<br />
ডানা দুটো মেলে-<br />
শুনছে কলরব।</p>
<p>ব্যাঙের ডাকে ভরা পুকুর<br />
অতিষ্ঠ নাই, লাগছে বেশ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-273805"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/273805/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">541e3c69e46c43713596e4f8c174c126</guid>
				<title>আমার প্রথম লেখা।।

শ্রমিক ঘোস থাকে একটা শহরে। তার বয়স প্রায় সত্তর। দির্ঘ জীবনের সাধনার স্তরে তিনি অনেক কিছু অর্জন করেছেন, অনেক কিছু হারিয়েছেন। অতীতের দিনগুলো আজও তার চোঁখে ভাসে। এককালে কী ছিল,‌ আর এখন কি হয়েছে। বন্ধু-বান্ধব উল্লাস-আমোদে লুকিয়ে কষ্ট করে এতদূর অথচ এত নিকটে এসেছেন। সত্তরটি বছরে জমা করা স্মৃতি ছাড়া আজ তার কেউ নেই। আপন বলতে যা বোঝায় তিনি তার মর্ম এককালে বুঝেছিলেন। এখন‌ আর এ কথার কাজ নেই। তার কাছে বেঁচে থাকার কেবলমাত্র একটা কারনই যথেষ্ট। 

তিনি অনেক দিন থেকেই একটা নভেল লেখার চেষ্টা করছেন। লিখবো-লিখবো করছেন, মাথায় গল্প সাজাচ্ছেন কিন্তু লিখছেন না। আজ বিকেল ৫ টা নাগাদ পাঞ্জাবিটা গায়ে জড়িয়ে রাস্তায় বের হলেন।

শহরে এখন জুন মাস। সারা দিনের তিব্র রোদের পর বেলা কিছুটা কোমল হতে শুরু করেছে। চারিদিকে বইছে গরম বাতাস।

তিনি একটা হলুদ টেক্সিতে উঠলেন। চালক একজন তরুণ। হাসি ভরা মুখে বললো,

&quot;স্যার, কোথায় যাবেন।&quot;

শ্রমিক ঘোস চিন্তা করলেন কোথায় যাওয়া যায়। পকেট‌ থেকে দুটো নোট বের করে তরুণ কে বললেন, চলো। 

তরুণ তার বিচক্ষণ শক্তি দিয়ে বুঝলো, নোট দুটো যতদূর নিয়ে যায়, তাকে সেখানে নিয়ে যেতে হবে। তবে জায়গাটা হতে হবে কোন বিশেষ স্থান। 

গাড়ি চলতে আরম্ভ করলো। জানালা দিয়ে শ্রমিক ঘোস কিছুক্ষন বাইরে তাকিয়ে রইলেন। তারপর পাঞ্জাবির পকেট থেকে খাতা কলম বের করে লিখলেন- 

বাইরের হাওয়ায় ধুলো উড়ছে। ফুটপাত দিয়ে অনেকে যাতায়াত করছে। তাদের বয়স এবং পোশাকে ব্যবধান। কিছু যায়গায় ঝুপড়ি দোকান, কিছু যায়গায় তা বিলাসবহুল। কেউ কোথায় যাচ্ছে তা পোশাক দেখে বোঝা যাচ্ছে না। পুরনো একটা বাড়ি রং করে আবার নতুন করা হয়েছে। অনেক নতুন বাড়ি গড়ে তোলা হচ্ছে। বড়ো-বড়ো সব অট্টালিকা। রাস্তায় এখন অনেক গাড়ি, তাদের গন্তব্যে। শহরটা মনে হয় বদলে গেছে। 

শ্রমিক ঘোস আবার বাইরে তাকালেন। তরুণ চালক কৌতুহলী হয়ে হাসি মুখে জিজ্ঞেস করল,

&quot;স্যার একটা প্রশ্ন করতে পারি।&quot;

শ্রমিক ঘোস বাইরে তাকিয়ে থেকেই বললো, হু। 

&quot;খাতায় আপনি কি লিখছেন।&quot;

&quot;যা দেখছি তাই লিখছি&quot;

তরুণ কিছু বুঝলো না। তার হাঁসি মলিন হয়ে গেল। বাইরে এমন কি বা দেখার আছে?। তার মনে হলো আবার বলি, &quot;কি দেখছেন?&quot;। কিন্ত বললো না। 

গাড়ি ট্রাফিক সিগন্যালে থামলো। শ্রমিক ঘোস আবার খাতায় লিখতে আরম্ভ করলেন। তরুণ তাকে আবার জিজ্ঞেস করলো,

&quot;আপনি কি লেখক?&quot;

শ্রমিক ঘোস এবার তরুনের দিকে তাকিয়ে বললো,

&quot;তোমার নাম কি?&quot;

&quot;কেনো?&quot;, কিছুক্ষন থমকে থেকে তরুণ বললো, শাহরুখ।

&quot;শাহরুখ, তোমার ঠিকানা জানতে পারি? তোমার পরিচয়।&quot;

শাহরুখ বিস্মিত হলো। তার মধ্যে একটু লজ্জিত বোধ কাজ করতে লাগলো। তার কাজ গাড়ি চালানো, যাত্রিরা কে কি করছে তা নিয়ে মাথা ঘামানো তার কাজ নয়। ট্রাফিক লাইটে গ্রীন সিগন্যাল দেখে গাড়ি চালাতে লাগল। শ্রমিক ঘোস আবার লিখতে আরম্ভ করলেন-

গোধূলি লগ্ন। বাতাসে উড়ছে গাড়ির ধূলো। হঠাৎ করে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামতে পারে। তবে এই রাস্তা, পাশের গাছগুলো, ঐ ভাঙ্গা বাড়িটা ধুয়ে যাবে। প্রেম, সংসারের যাবতীয় উপাদান। শহরের ফাঁকা যায়গায় গ্রাম মানাবে না। 

শ্রমিক ঘোস খাতা বন্ধ করে পকেটে রাখলেন। শাহরুখের উদ্দেশ্য বললেন,

&quot;ভালো হতো যদি জানালা নদী দেখা যেতো। পাশ দিয়ে বয়ে যেতো কলকল ধ্বনি।&quot;

শাহরুখ নদীর ধারের একটা নির্জন জায়গায় গাড়িটা দার করল। শ্রমিক ঘোস এক মনে জলের দিকে তাকিয়ে রইলেন। বুঝলেন, শ্রোতের টানে তার মনে আর ভাসচ্ছে না কোন কল্পনায়। সময়, এক‌ সময় ছিল, এখন তা কেবল অতীত। 

&quot;ভালো হতো যদি জানালা দিয়ে সূর্যাস্তের শেষ রোদটুকু মুখে এসে পড়তো।&quot;

সমূদ্রের উন্মুক্ত প্রান্তরে গাড়িটা থামল। সূর্যের শেষ বেলার ক্ষীণ আলো জানলার কাঁচ ভেদ করে শ্রমিক ঘোসের মুখে পড়লো। ক্রমে ক্রমে সেই আলোটাও মুছে গেল। সঙ্গে শ্রমিক ঘোসের মুখে একা বিষন্ন হাসি ফুটে উঠল। তিনি বললেন,

&quot;শাহরুখ, আমার নাম শ্রমিক ঘোস।&quot;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/273468/</link>
				<pubDate>Sun, 13 Sep 2026 04:25:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমার প্রথম লেখা।।</p>
<p>শ্রমিক ঘোস থাকে একটা শহরে। তার বয়স প্রায় সত্তর। দির্ঘ জীবনের সাধনার স্তরে তিনি অনেক কিছু অর্জন করেছেন, অনেক কিছু হারিয়েছেন। অতীতের দিনগুলো আজও তার চোঁখে ভাসে। এককালে কী ছিল,‌ আর এখন কি হয়েছে। বন্ধু-বান্ধব উল্লাস-আমোদে লুকিয়ে কষ্ট করে এতদূর অথচ এত নিকটে এসেছেন। সত্তরটি বছরে জমা করা স্মৃতি ছাড়া আজ তার কেউ নেই। আপন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-273468"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/273468/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">67d5bec20a3255aecf77aeefdf6346d0</guid>
				<title>Rupantor Roy and অমিত are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/273364/</link>
				<pubDate>Sat, 12 Sep 2026 19:04:54 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9a219e6872f1cbb0f167acac9a4168b8</guid>
				<title>Rupantor Roy and Syed Farah are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/273223/</link>
				<pubDate>Sat, 12 Sep 2026 11:48:23 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">31831f248885c623e7fc35f8759cd5cc</guid>
				<title>Rupantor Roy changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/273085/</link>
				<pubDate>Sat, 12 Sep 2026 00:48:56 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">985f53335f064262e0adfa06289a96ef</guid>
				<title>এমন একটা পৃথিবী যেখানে সব সময় রাত থাকে। পুরুষেরা বাচ্চা জন্ম দেয়। এবং নারীরা তাদের সেবা করে।

আজ বেশ জোস্না উঠেছে আকাশে। বাইরে সবকিছু ঝকঝকে পরিষ্কার। লন্ঠন নিয়ে না হাঁটলেও বোধ হয় সুন্দরভাবে পথ চলা যায়। অন্ধকারে চাঁদের আলোয় মাটিতে গাছের ছায়া পড়েছে। চোখ দিয়ে তা ধরা যাচ্ছে স্পষ্টভাবে। এমনটা অনেকদিন পর ঘটলো। চাঁদ আবার পূর্ণভাবে উঠেছে উঠেছে। শোনা যায়, জোস্না আকাশে এবং বাতাসে এক ধরনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে দেয়। যার ফলে যেখানে সেখানে লুকিয়ে থাকা ভয়ংকর অন্ধকার গুলো ভয় পায়। এবং আলো থেকে দূরে সরে যায়। 
আজ তেমনি একটা দিন। ঘরের ভেতরে কালো জ্বলছে। চারিদিক চোখের সামনে চকচকে পরিষ্কার। মিল্টন সবার সামনে নরম গদিতে বসে আছে। তার সামনে রাখা টেবিলে মিষ্টান্ন, বিস্কুট, চানাচুর, ফলমূল এবং আরেক পাশে কাঁচের জগের সাথে দুটো স্টিলের গ্লাস রাখা আছে। মিল্টন সেখান থেকে সহজ ভাবে একটা আঙ্গুর ছিরে মুখে দিলো। দাঁত দিয়ে সেটা কামড়ে ধরে, জিভ দিয়ে হালকা করে চাপ দিয়ে, সেটা সে গিলে ফেললো। তার পাশে একজন এজেন্ট এবং আরেকদিকে কতগুলো মানুষ তার দিকে আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে। এজেন্ট তার দিকে ঝুঁকে এসে তাকে কানে কানে বললো,

“তুমি দেখো এই মেয়েটা খুবই সুন্দর।”

মিল্টন ঠোঁটের কোণে একটু হাসি রেখে গম্ভীর ভাবে মাথা নাড়লো। তাকিয়ে দেখলো, অন্য মানুষগুলো তার দিকে মুখ হাসি হাসি করে আছে। তাদের মধ্যে থেকে একজন মধ্যবয়স্ক লোক তাকে বিনয়ের সাথে বললো,

“বাবা তুমি লজ্জা পাচ্ছে বোধহয়। আরো কিছু নাও না!”

মিল্টন অমায়িক হাঁসি হেসে বললো,

“আরে না, না, কিসের আবার লজ্জা!”

বলে সে না চাইতেও একটা রসগোল্লা হাতে তুলে নিল। অনেকগুলো চোখ আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে বলে। সে আস্তে আস্তে করে সেটা খেতে লাগলো। এমন সময় ভেতর থেকে একটা ছোট মেয়ে ছুটে এসে তার মায়ের দিকে ঘেঁসে এসে মৃদুভাবে বললো,

“দিদি আসছে।”

এজেন্ট সেই কথাটি টেনে নিয়ে বললো,

“বেশ তো, চাঁদ এখন মাথার উপরে। এই সময়ে শুভ কাজটা সারা গেলে আমাদের জন্যই মঙ্গল হবে। কি বলেন আপনারা?”

লোকগুলো একসঙ্গে সায় দিয়ে বললো,

“হ্যাঁ তাইতো, তাইতো।”

মেয়ে ভিতরে আসলো। তার হাতে রয়েছে চায়ের ট্রে। তার বাবা তাকে আদর করে বললো,

“মা, প্রথমে তুমি ওনাদের দিয়ে শুরু করো!”

মেয়েটা ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে প্রথমে এজেন্টকে এবং তারপর মিল্টনের দিকে ঝুঁকে এসে, তার দিকে চায়ের কাপ বাড়িয়ে দিল। মিল্টন কাপটা নিতে নিতে খুব ভালো করে তার মুখখানা একবার দেখে নিল। মেয়েটাও অল্প কিছুক্ষনের জন্য তাকালো তার দিকে। তারপর সে বাকি সবাইকে চা পরিবেশন করে অন্যদিকে গিয়ে বসলো মিল্টনের সামনে। এজেন্ট মনোযোগে নিবিষ্ট মিল্টনের দিকে ঝুঁকে এসে তাকে কানে কানে আরেকবার বললো,

“কি ফেলেছিলাম? মেয়েটা খুব সুন্দর না! ভালো করে দেখো তোমার পছন্দের সঙ্গে ঠিক মিলে যাবে।”

 মিল্টন তার কথায় সায় দিল। মেয়ের বাবা তাকে উদ্দেশ্য করে এজেন্টকে বললো,

“আমার মেয়ে খুব নম্র ভদ্র। তার মতো মেয়ে আপনি গোটা এলাকা খুঁজলেও আরেকটা পাবেন না। সে খুব ধৈর্যশীল এবং দায়িত্ববান। সব ধরনের কাজ সে খুব নিখুঁত এবং গোছালোভাবে করতে পারে।”

এজেন্ট মাথা নেড়ে একমুখ হাসি নিয়ে বললো,

“তা তো অবশ্যই। এসব তো জানা কথা। কিন্তু আমার ক্লাইন্ট মিল্টন বাবাজি আপনারমেয়েকে ভালো করে কিছু প্রশ্ন করতে চায়।”

মেয়ের বাবা গদগদ হয়ে বললো,

“মেয়ে আমার লক্ষ্মীর মতো। আপনারা নিঃসন্দেহে তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।”


মিল্টন তাকে নরম গলায় বললো,

“তোমার নাম কি?”

মেয়েটি বললো,

“মিথিলা।”

মিল্টন বুঝতে পারল, তার গলার স্বর ভারী মিষ্টি। সে আবার বললো,

“তুমি কি আমাকে এবং আমার অংশকে ভালো করে সেবা করতে পারবে?”

মেয়েটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাথা মেরে বললো,

“পারব।”

মিল্টন বললো,

“তুমি কি কি কাজ জানো?”

মেয়েটি বললো,

“কাপড় কাঁচা, বাসন মাজা, ঘর ঝাড়ু দেওয়া, বিছানা গোছানো, রান্না করা, প্রায় সব কাজই পারি।”

মিল্টন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,

“তোমার ভেতরে কি কি গুন আছে?”

মেয়েটি বললো,

“আমি নাচতে এবং গাইতে পারি।”

এজেন্ট মেয়েটির আরো প্রশংসা করে বললো,

“এরকম রূপে গুনে ভরা প্রতিমা আজকাল মেলা বড় ভাঁড়। তুমি ভিতরে যাও মা। আমাদের মেয়ে দেখা হয়ে গেছে।”

মেয়েটি একটি নমস্কার দিয়ে ভেতরে চলে গেল। এজেন্ট খুক করে কেশে মেয়ে পক্ষকে উদ্দেশ্য করে বললো,

“তাহলে মশাই, মেয়েতো মোটামুটি আমাদের পছন্দ। তাহলে ডিমান্ডের বিষয়টা এখানেই পরিষ্কার করা যাক।”

মেয়ের বাবা উৎসাহ নিয়ে বললো,

“হ্যাঁ, তাতো অবশ্যই! তাহলে বলুন আপনাদের কি ডিমান্ড?”

 এজেন্ট বললো,

“মিল্টন বাবাজির বেশি কিছু দাবি দাওয়া নেই। তার শুধু একটা মনের মতো গোছালো সেবিকার প্রয়োজন। দাবির মধ্যে ওই পনেরো ভরি সোনা, বাড়ির আসবাবপত্র, বিশ লক্ষ মুদ্রা আর পাঁচ একর জমি হলেই হবে। তাছাড়া আমাদের আর বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই। আমাদের শুধু মেয়েকে চাই।”

কথাগুলো শুনে মেয়ের বাবার হাসিমাখা মুখখানা হালকা ফ্যাকাস হয়ে গেল। তিনি বললেন,

“দেখুন আমি বুঝতে পারছি, পাত্র সব দিক থেকেই উপযুক্ত। এমন পাত্র কোন মেয়ের বাবাই হাতছাড়া করতে চাইবে না। কিন্তু আমার আরো একটা ছোট মেয়ে আছে। তাকেও তো বিয়ে দিতে হবে। দেখেন, আপনারা যদি ডিমান্ডের অঙ্গটা একটু কমান। তাহলে আমরা ভেবে দেখতে পারি।”

এজেন্ট হালকা হেসে বললো,

“কি বলেন মশাই। আমাদের আপনাদের মেয়ে পছন্দ হয়েছে বলেই তো, মিল্টন বাবাজির কথায় ডিমান্ডটা একটু কম কম করে বললাম। না হলে অন্য জায়গায় এর থেকে বেশি বলে বসতাম।”

মেয়ের বাবা বললো,

“কি করবো বলুন! আমি তো অসহায়। দুটো মেয়ে যখন হয়েছে, তখন দুজনকেই তো দেখতে হবে।”

মিলন তখন বললো,

“তাহলে আমরা উঠি। বাড়িতে গিয়ে ভেবে চিন্তে জানাই!”

মেয়ের বাবা অবাক হয়ে বললো,

“এখনই যাবেন! আপনারা তো প্রায় কিছুই খেলেন না।”



হাতে একটা লন্ঠ নিয়ে মিল্টনের সাথে এজেন্ট মেঠোপথ ধরে বাড়ির দিকে হাটতে লাগলো। স্নান জোস্না চারিদিকে থৈ থৈ করছে। অনেকদূর পর্যন্ত খালি চোখে দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট। রাস্তার দুই দিকে নীলের খেত দূর দূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। চাদের আলোয় অন্ধকার গায়ে মেখে নীলের গাছগুলো মৃদু মৃদু জ্বলছে। দেখে মনে হচ্ছে, মাটিতে নীল নক্ষত্র খসে পড়ে তারার মতো জ্বলজ্বল করছে। বাঁশ বাগানের তল দিয়ে যেতে যেতে মিল্টন এজেন্টকে তিরস্কার করতে লাগলো। সে বললো,

“আপনার দ্বারা কিছুই হবে না। আজ যে যে বাড়িগুলোতে নিয়ে গেলেন। তারা কেউই আমার ডিমান্ড পূরণ করতে পারল না। আচ্ছা, আপনার ঝুলিতে কি কোন ধনী মেয়ের সন্ধান নেই? না পারলে বলুন। আমি অন্য পথ দেখে নেব।”

এজেন্ট শান্ত হয়ে বললো,

“আহা, এত উতলা হলে হবে। তাড়াহড়ো করে এই কাজ করা যায় না বাপু। একটু সবুর করো। তাহলে দেখবে, তোমার ডিমান্ড মতো এবং যুত মতো মেয়ে তুমি ঠিকই খুঁজে পাবে।”

মিল্টন মাথা গরম করে বললো,

“সবুর করেই তো আছি। আর কতদিন আমাকে এই ভাবে ঘুরতে হবে? মরার ঘাটে যাওয়ার সময় তো প্রায় হয়েই এলো।”

এজেন্ট বললো,

“কালকের তালিকায় আরো ভালো ভালো কয়েকটা মেয়ে আছে। এই সময় জোস্নাও বেশ গাঢ়। এই শুভ সময়ে হতে পারে তুমি কালকেই তোমার পছন্দ পেয়ে গেলে।”

মিল্টন এজেন্ট এর হাত থেকে লন্ঠনটা কেড়ে নিয়ে বললো,

“হয়েছে হয়েছে খুঁড়ো, এখন যাও। ওই দেখো তোমার বাড়ি রাস্তায় চলে এসেছি।”

এজেন্ট চমকে উঠে বললো,

“এত তাড়াতাড়ি চলে এলাম। গল্প করতে করতে এতক্ষণ তাহলে কোন খেয়ালই ছিল না।”


মিল্টন লন্ঠন হাতে নিয়ে সামনে এগিয়ে গেল। বাঁদিকের সরু জলা-জঙ্গলে ঘেরা নিচু রাস্তাটায় নেমে পড়ল এজেন্ট। সেদিকের পথটা নারিকেল, সুপারি, পেয়ারা আর হরিতকি গাছের সারিতে ঢাকা। ফলে চাঁদের আলো সেখানে ভালো করে ঢুকতে পারে না। এজেন্ট পথ চলতে লন্ঠনের ধার ধারেন না। কিন্তু ওইটুকু অন্ধকার পথ চলতে তার বেশ ভয়ই করে। এখান থেকে আরও আধ কিলো দূরে তার বাড়ি। বাড়ির আশেপাশের বড় বড় কদম গাছগুলো সারা বছর তার বাসস্থান কে অন্ধকার করে রাখে। গাঢ় জোছনাতেও সেখানটা তেমন পরিষ্কার হয় না। শুধু গাছের ডালপালার ফাঁক ফোকর দিয়ে চাঁদের আবছা আলো তীরের ফলার মতো মাটিতে ছড়িয়ে থাকে। 


আশেপাশের সরিষার ক্ষেতগুলোয় হলুদ ফুল ফুটে আছে। কুয়াশার পাতলা চাদর জমতে শুরু করেছে তাদের মাথা গুলোর উপর। চাঁদটা এতক্ষণে মাথার উপর উঠে গেছে। মিল্টন লন্ঠন হাতে হনহন করে চলতে চলতে তার বাড়ির পাশের খেতগুলি দেখতে লাগলো। আলো গায়ে মেখে যব আর কলাইয়ের এর ক্ষেতগুলো চকচক করে দাঁড়িয়ে আছে। সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বুঝতে চেষ্টা করলো; এগুলো কাটার সময় হয়ে গেছে কিনা। 

এমন সময় ওই পাশের ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে কি যেন একটা শব্দ করে নড়ে উঠলো। লন্ঠনটা সেই দিকে ধরতেই আবার চারিদিক নিস্তব্দ। মিল্টন সজাগ হয়ে তাকিয়ে রইল সেই দিকে। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ কি যেন একটা, ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে পশ্চিম দিকে খসখস শব্দ করে ছুটে যেতে লাগলো। মিল্টনও জমিতে নেমে পরে ছুটলো সেই বস্তুটার দিকে। খানিকক্ষণ সেইভাবে দৌড়ানোর পর ক্ষেতের মধ্যে এসে হঠাৎ মিল্টনের নজর আটকে গেল, দাঁড়িয়ে থাকা পাথরের খন্ডটার দিকে। সেটাকে কেন্দ্র করে অনেকটা জায়গা জুড়ে কেউ বা কারা গোল করে ভুট্টার গাছগুলো মাটির সাথে দলে দিয়েছে। 

পাথরের খন্ডটা জমির মধ্যে হওয়ায় মিল্টন অল্প একটু জায়গা বাদ দিয়ে বাকি জমিটা চাষাবাদ করে। কিন্তু সে যখন দেখল, তার ফসলগুলো কেউ এইভাবে নষ্ট করেছে। তখন সে বেশ অবাকই হলো। আজ তার মনে কোন রাগ জন্মালো না। গত কয়েকদিন ধরে তার জমিগুলোতে কেউ অন্ধকারে এসে ফসল নষ্ট করে বেড়াচ্ছে। আজ তাকে ধরবে বলে পিছু নিয়ে যখন সে পাথরঘন্টার সামনে পৌঁছালো। (যাকে তারা পৌত্তলিক বলে ডাকে)। তখন সে আবিষ্কার করলো, তা তাকে বেশ হতভম্বই করে দিল। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল পৌত্তলিকটার দিকে। চদের আলোয় পৌত্তলিকতার গায়ে খোদাই করা অক্ষরগুলো জ্বলজ্বল করছে। মিল্টন বিস্মিত হলেও পৌত্তলিকটার সামনে মাথা ঠেকাতে ভুলে গেল না। হাঁটু গেড়ে বসে ভয়ে ভয়ে চারিদিকে সজাগ দৃষ্টি রেখে। তাদের নিয়ম অনুযায়ী খোদাই করা অক্ষরগুলো বলতে লাগলো,

“পুরুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সে তার শক্তি, সামর্থ্য এবং ক্ষমতা দিয়ে এই পুরো পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। জগতের সব কিছু তার ভোগের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। নারী অনেক দুর্বল এবং অবলা প্রাণী। পুরুষের উচিত তাদের উপর দয়া করে, তাদেরকে সেবিকা হিসেবে গ্রহণ করা। এবং কোন পুরুষ যদি নারীর সৃষ্টি করে। তাহলে তার উচিত অর্থ প্রদানের মাধ্যমে অন্য পুরুষের কাছে তার অংশটিকে হস্তান্তর করা। এবং এর প্রায়শ্চিত্ত করা।”

 
চোখ বুজে কথাগুলো উচ্চারণ করার পর সে পিছন ফিরতেই দেখল,

“অন্ধকারে একটা মানুষের অবয়ব তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। জোছনার আলোতে ছায়ামূর্তিটার নির্দিষ্ট স্থান জুড়ে গাড় কালো অন্ধকার। সেটার আকৃতি একটা মেয়ের মতো। মিল্টন তাকে চিনতে না পেরে অবাক হয়ে বললো,

“আপনি কে? এবং এই সময়ে এখানে কি করছেন?”

কথাগুলো শুনে ছায়ামূর্তি কোন জবাব দিল না। সেখানেই থমকে দাঁড়িয়ে রইলো। মিল্টন আবার তাকে বললো,

“আপনাদের এইভাবে একা ঘুরে বেড়ানো উচিত নয়। বাইরে অনেক বিপদ থাকতে পারে। আপনি বিপদেও করতে পারেন। এখন যদি বলেন, আমি আপনাকে সুরক্ষিত ভাবে ঘরে পৌঁছে দিতে পারি।”

এবারেও ছায়া মূর্তি কোন জবাব দিল না। মিল্টন বললো,

“এই যে মহোদয়া, আপনি কি শুনতে পারছেন? আমি আপনাকে বলছি। চলুন, আমি আপনাকে সুরক্ষিত ভাবে রেখে আসি।”

এবার ছায়ামূর্তিটা নড়ে উঠলো। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে লাগলো মিল্টনের দিকে। মিল্টন তখন হাসিমুখে অন্ধকারের মধ্যে একটা হাত বাড়িয়ে দিল তার দিকে। অন্ধকার থেকে যেই জিনিসটা চাঁদের আলোয় বেরিয়ে আসলো, তা মিল্টনের ধারণার বাইরে ছিল। মেয়েটার শরীর বলতে কিছুই নেই। সব গাড় কালো নিগুঢ় অন্ধকার। তার চুলগুলো বাতাসে বিক্ষিপ্তভাবে উড়ছে। এতক্ষণ ধরে সে বোধ হয় চোখ বুঝেছিল। কাছাকাছি আসতেই তার চোখের জায়গায় দুটো উত্তপ্ত অগ্নিপিন্ড লাল হয়ে জ্বলছে। সে ভয়ঙ্কর ভাবে এগিয়ে এসে কিছুটা দূরত্বে থমকে দাঁড়িয়ে সুন্দর করে হাসলো। 

বিদঘুটে অন্ধকার চেহারার মধ্যেই সেই হাসিটা মিল্টন স্পষ্ট দেখতে পেল। তারপর পরক্ষণেই হাসিমাখা মুখখানা হা করে তীক্ষ্ণ দাঁতগুলো বের করে মেয়েটা ঝাঁপিয়ে পড়লো মিল্টনের উপরে। মিল্টন এক লাফে বা দিকে সরে গেল তৎক্ষণাৎ। তারপর তাড়াহুড়ো করে উঠে লন্ঠনটা কোনমতে হাতে নিয়ে সে ছুটতে লাগলো জ্ঞানশুন্য হয়ে। তার পিছনে পিছনে সেই ছায়ামূর্তিটা এক ধরনের বিকৃত গগনবিদারী চিৎকার করে তাকে ধাওয়া করতে লাগলো। মিল্টন ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে হরমুরিয়ে দৌড়াতে লাগলো। তার নিঃশ্বাস এবং হৃদস্পন্দন তখন এক চরম সীমায় পৌঁছে গেছিল। সামনে কিছুটা দূরে সে তার বাড়িটা দেখতে পেল। তার একবার মনে হলো, সে যদি কোনমতে বাড়ির ভিতরে পৌঁছাতে পারে। তাহলে সে সুরক্ষিত থাকবে। তাই সে বাড়ির দিকে ছুটলো। কিন্তু এমন সময় ছায়ামুর্তিটা তাকে এক ধাক্কায় ছিটকে ফেলে দিল অনেকটা দূরে। সে ছিটকে গিয়ে পড়লো রাস্তার উপরে। সঙ্গে সঙ্গে তার নিঃশ্বাস আটকে গেল।

পাজরে সে জখম পেয়েছে প্রচন্ড। রক্তের স্রোতে ক্রমে তার জামা ভিজে উঠতে শুরু করলো। সে রাস্তার মধ্যে উপুর হয়ে সুয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস টেনে নিজেকে কোন মতে সামলাতে লাগলো। এমন সময় সেই ছায়ামূর্তিটা তার মাথার উপরে বিশাল আকার ধারণ করলো। সে মিল্টনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে যাবে, এমন সময় আকাশে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চমকে উঠলো। সেই শব্দ এবং আলোতে ছায়ামূর্তিটা কাতর হয়ে পড়লো। এবং সে আরো ভয়ঙ্কর ভাবে চেঁচাতে লাগলো। 

সুযোগ বুঝে মিল্টন শরীরের সবটুকু শক্তি সঞ্চার করে অন্যদিকে ছুটতে লাগলো। সে রুদ্ধশ্বাসে অনেকটা দূরে ছুটে গিয়ে একটা পরিত্যক্ত ভাঙ্গা বাড়ির মধ্যে লুকিয়ে পড়লো। তার মনে হতে লাগলো সে এখন সুরক্ষিত। কিন্তু তা পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারল না। সে এটা ভেবে আফসোস করলো যে, সে যদি নিজের বাড়িতে গিয়ে উঠতো তাহলে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে থাকতে পারতো। কিন্তু সে নিরুপায় হয়ে ঢুকেছে এই বাড়ির মধ্যে। সে অন্ধকারে কোনার মধ্যে ঘাপটি মেরে মুখ চেপে ধরে নিঃশ্বাস নিতে লাগলো।

অনেকক্ষণ কেটে যাওয়ার পরও যখন কোন কিছু আর ঘটলো না। তখন সে অনেকটা আশ্বস্ত হলো। সে এখন সুরক্ষিত। দ্বিধা নিয়ে পড়ে থাকা একটা লণ্ঠন জ্বালিয়ে বাড়িটা সে ভালো করে দেখতে লাগলো। ভেতরের আসবাবপত্রগুলোতে মাকড়সার জাল আর ধুলো জমে আছে। জানালার কাঁচ গুলো ভাঙ্গা। উপরের কোন কোন জায়গায় ছাদ নেই। কাঠের খুঁটিতে ঘুন ধরেছে। সকলে এই বাড়িটাকে ভুতরের বাড়ি বলে। কেউ এর আশপাশ দিয়ে আসার সাহস করে না। মিল্টন ও ভয় পায় প্রচন্ড সে দৌড়ে এসে এই বাড়িটাতে আশ্রয় খুঁজেছে। তার কেন জানি আজ বাড়িটাকে আর ভয় করল না। বরং সে যেন এখানে থাকতে স্বস্তি পেতে লাগলো। তার মনে হতে লাগলো সে বাইরে বেরোলেই তাকে গিলে ফেলবে সেই ভয়ংকর মূর্তিটা।

এমন সময় দুটো হাত খপ করে তার পা দুটো ধরে তাকে উল্টে মাটিতে ফেলে দিল। তারপর তাকে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো বাহিরের দিকে। সে প্রাণপণ চেষ্টা করলো নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে। কিন্তু সে পারল না। আশ্রয় খোঁজার আশায় লন্ঠনটা এক হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে রইলো। বাহিরে টেনে এনে ছায়ামূর্তিটা তাকে দূরে উঠোনে ছুড়ে ফেলল। তার মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো সঙ্গে সঙ্গে। পাঁজরের হাড়গুলো বোধহয় মরমর করে ভেঙে গেছে। ছায়ামূর্তিটা মেয়ের আকৃতি ধারণ করে তার দিকে এগিয়ে আসছে। তার চোখগুলো আর জ্বলছে না। মিল্টন নিথর হয়ে শুয়ে দুচোখ ভরে দেখতে লাগলো তার মৃত্যুকে। তখন তার কিছুই মনে হলো না। সবকিছু যেন খুব স্বাভাবিক। সে তখন নিজেকে অনেক শান্ত এবং নির্মল ভাবে খুঁজে পেল।

 সে মরতে চলেছে। ছায়ামূর্তিটার দিকে আদ্র চোখে তাকিয়ে থেকে সে হঠাৎ করে হেসে উঠলো। তার মুখে ফুটে ওঠা বিষন্ন আনন্দ ভরা হাসিটা লক্ষ্য করে ছায়ামূর্তিটা এক সময় দাঁড়িয়ে পড়লো। মিল্টন তখন আরো জোরে জোরে আরো খুশিতে হাসতে লাগলো। সে মরে যাবে। তার সমস্ত বেদনা, সমস্ত গ্লানি, সব ধুয়ে যাবে। হাসতে হাসতেই হঠাৎ করে সে ভেঙে পড়লো। তার দু চোখ দিয়ে ঝড়তে লাগলো অশ্রু। 

ছায়ামূর্তির চোখ ততক্ষণে আবার জ্বলে উঠেছে। সে আরো ভয়ংকর হয়ে এগিয়ে আসতে লাগলো। আর মিল্টন ক্ষণিকের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। লন্ঠনটা কিছুটা দূরে মাটিতে তার পায়ের কাছে পড়েছিল। সে লক্ষ্য করলো, ছায়ামূর্তিটা লন্ঠনের মৃদু আলোয় গণ্ডির মধ্যে আসার সাহস করছে না। সে তার সামনে কিছুটা দূরে আটকে আছে। ছায়ামূর্তির দুর্বলতা বুঝতে পেরে মিল্টনের শরীরে যেন নতুন করে প্রাণের সঞ্চার ঘটলো। ‌সে তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়িয়ে লণ্ঠনটা ধরলো তার সামনে। আলোর সংস্পর্ষে আসতেই ছায়ামূর্তিটার শরীর পুড়ে যেতে লাগলো। মিল্টন আরো নির্দয় হয়ে তার দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। কিন্তু সে অবাক হয়ে দেখলো, ছায়ামূর্তি আর সেখান থেকে নড়ছে না। তার গা পুড়ে যাচ্ছে তবুও না। 

যে তাকে ব্যথা দিয়েছে সে তাকে কখনো ক্ষমা করবে না। কিন্তু মিল্টন থেমে গেল। যখন সে দেখল, ছায়ামূর্তিটা নিরবভাবে কষ্টের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাঁদছে।‌ তার চোখ দিয়ে যে অশ্রুর ফোঁটাগুলো গড়িয়ে পড়ছে সেগুলো রং শুভ্র। জলের মতো স্বচ্ছ। মিল্টন থামলো। বোকার মতো লন্ঠনটা নিভিয়ে ফেলল। কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুঃখী মেয়েটা থামলো না। সে মাটিতে বসে পড়ে মুখ লুকিয়ে অঝোরে কাঁদতে লাগলো। তার দুটি নয়ন দিয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগলো, আসল চোখের জল।


কিছুক্ষণ পর মিল্টন তাকে মৃদুভাবে জিজ্ঞেস করলো,

“তুমি কি ঠিক আছো?”

মেয়েটি নিজেকে দুঃখের সাগরে ভেসে দিয়ে অনেকক্ষণ ধরে কেঁদেছিল। তার চুলগুলো ভিজে উঠেছে তার অমোঘ চোখের জলে। সে অল্প করে মাথা নাড়ল। মিল্টন বললো,

*আমি দুঃখিত! তুমি যদি আমাকে আঘাত না করতে। তাহলে আমি তোমাকে এইভাবে কাঁদাতাম না।”

মেয়েটি দাঁড়িয়ে পড়লো। বাতাসে তার মনে হয় শীত লাগছে। সে নিজেকে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলো। মিল্টন বললো,

“তুমি কে? আর তুমি কেন আমাকে মারতে চেয়েছিলে?”

জবাবে মেয়েটি সুন্দরভাবে আবার হেসে উঠলো। তারপর সে ধীরে ধীরে চলে যেতে লাগলো। মিল্টন বললো,

“এই মেয়ে শোন, একটু দাড়াও। বলে যাও তুমি কে?”

মিল্টন ও তার পেছনে পেছনে চলতে শুরু করলো। তার কেন জানি তার সঙ্গে থাকতে ভালো লাগতে লাগলো। তারা দুজনেই নিঃশব্দ হয়ে চললো। আকাশের চাঁদটা আলো ছড়িয়ে সাক্ষী হয়ে থাকলো তাদের এই নীরব যাত্রার। 

মেয়েটি রাস্তা পেরিয়ে সূর্যমুখের মধ্যে দিয়ে চলতে লাগলো
 চারিদিকে বড় বড় সূর্যমুখী ফুটে আছে। স্নান জোসনায় হলুদ রং আর ফুলের আকৃতি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মিল্টন তাকে পিছন থেকে ডেকে বললো,

“তুমি কি সূর্যমুখী পছন্দ করো?”

 মেয়েটি কোন জবাব দিল না। মিল্টন বললো,

“ওহ বুঝেছি, তুমি আমার সঙ্গে কথা বলবে না।”

সূর্যমুখীর ক্ষেত পেরিয়ে তারা গোলাপের জমিতে নেমে পড়লো। গোলাপগুলো লাল রঙের। তবে পরিষ্কার ঝা চকচকে আলো না থাকায় সব সময় ফুলগুলো কালো হয়ে চোখে ধরা দেয়। মিল্টন অবাক হয়ে দেখলো, আজকের নিগুঢ় জোছনাতেও এগুলো চারিদিকে কালো হয়ে আছে। সে নাক দিয়ে নিঃশ্বাস টেনে মেয়েটিকে বললো,

“তুমি কি গোলাপ পছন্দ করো? এর গন্ধটা?”

মেয়েটি এবারেও কোন জবাব দিল না। মিল্টন বললো,

“আমি বুঝেছি, তুমি ফুল পছন্দ করো না।”

আরো কিছুক্ষণ এভাবে চলতে চলতে মিল্টন আবার তাকে বললো,

“আচ্ছা, তুমি কি পছন্দ করো?”

মেয়েটি জমির মধ্যে থাকা বাস এবং খড়ের তৈরি মাচানে উঠে বসে পা ঝুলিয়ে দিয়ে, আকাশের দিকে আঙ্গুল নির্দেশ করে বললো,

“চাঁদ এবং তার আলো।”

মিল্টন তার পাশে বসে তার চুলের মধ্যে একটা গোলাপ গুঁজে দিয়ে বললো,

“এবার বুঝেছি, তুমি হয়তো অন্ধকার পছন্দ করো।”

মেয়েটি তার চুলের মধ্যে আটকে থাকা গোলাপ ফুলটি সরিয়ে ফেলতে চাইলে মিল্টন তাকে বাধা দিয়ে বললো,

“এটা নেড়ো না। তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।”

মেয়েটি মনে হয় লজ্জা পেল। তার মুখে জমে উঠল গোলাপি রং। মিল্টন বললো,

“তুমি কোথায় থাকো?”

 মেয়েটি বললো,

“আমি হয়তো জানিনা।” 

মিল্টন বললো,

“এখন তোমার ভালো লাগছে?”

মেয়েটি মৃদুভাবে মাথা নাড়লো। তারপর সে নত হয়ে বললো,

“আমি কি সুন্দর?”

 মিল্টন বললো,

“হ্যাঁ অবশ্যই! তুমি খুব সুন্দর।”

সে বললো,

“আমি তোমার হাতটা ধরতে পারি?”

মিল্টন ইতস্তত করে বললো,

“তুমি যদি আমার বন্ধু হও। তাহলে পারো।”

 মেয়েটি মিল্টনের একটা হাত সঙ্গে সঙ্গে চেপে ধরে সরলভাবে বললো,

“বন্ধু মানে কি?”

 মিল্টন বললো,

“বন্ধু মানে হলো, যে তোমার সাথে…

মিল্টন কথাটা শেষ করতে পারল না। দূর থেকে হঠাৎ একটা তীর ছুটে এসে বিঁধল মেয়েটির বুকে। মেয়েটি ব্যথায় কাতর হয়ে গেল। কিন্তু সে মুখ দিয়ে কোন শব্দ উচ্চারণ করলূ না। ব্যথায় তার হাহাকার আর চিৎকার করার দরকার ছিল। কিন্তু সে মিল্টনকে হঠাৎ শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হাসি মুখে বললো,

“ আমি তোমার বন্ধু হতে চাই?”

মিল্টনের বুকের মধ্যেই সে সঙ্গে সঙ্গে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। মিল্টন কিছু বুঝে উঠতে পারল না। এতক্ষণ কি ঘটে গেল। এমন সময় হঠাৎ ফসলের ক্ষেত থেকে একজন লোক তীর ধনুক সমেত বেরিয়ে এসে জোরে বললো,

“খাইছি রে!”

 হতভম্ব মিল্টনের দিকে সে লন্ঠন নিয়ে এগিয়ে আসলো। মিল্টনের তার প্রতি খুব রাগ হলো। প্রচন্ড, প্রচন্ড রাগ। আলোর কাছাকাছি আসতেই লোকটি অবাক হয়ে বললো,

“মিল্টন তুই এখানে! এখানে কি করছিস?”

মিল্টন তাকে চিনলো, সে তার বন্ধু। এমন সময় আরো কতগুলো মানুষ মশাল এবং বর্ষা হাতে বেরিয়ে এলো। তাদের অনেকে উপস্থিত হলো মৃদঙ্গ এবং ঢোল বাজিয়ে। তার বন্ধু সবাইকে বললো,

“মিল্টনকে অন্ধকার ছুঁয়ে ফেলেছে।”

বাড়ির পথে বাজনা বাজিয়ে ফিরতে ফিরতে সকলে মিল্টনকে ঘিরে ধরলো। বললো,

“তুই এখনো কি করে বেঁচে আছিস! অন্ধকার তোকে মেরে ফেলেনি কেন?”

 মিল্টন চুপ করে থেকে বললো,

“আমি জানিনা। কিন্তু তোমরা সকলে এমনটা কেন করছো?”

একজন বৃদ্ধ বললো,

“অন্ধকারগুলো আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে। পুরুষের পরম্পরা অনুযায়ী তাই আমরা তাদের শিকারে বেরিয়েছি। তুমি কয়েকদিন ধরে মেয়ে দেখে বেরিয়েছো। তাই কিছুই জানো না।”

পাশ থেকে একজন বললো,

“সে কি সত্যি তোমায় ছুঁয়ে ছিল?”

 মিল্টন তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো,

“হ্যাঁ।”

সে তখন সকলকে বললো,

“আজ থেকে মিল্টন তাহলে, ছুঁয়া।”

তারা সকলে মিলে তখন একে অপরের বক্তব্যে ছুঁয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে লাগলো। মিল্টনের সেখানে ভালো লাগলো না। তার একবার পিছনে তাকাতে ইচ্ছে করলো। সেই মাচান এর দিকে। যেখানে সে এবং ওই মেয়েটা এতক্ষণ ধরে বসে ছিল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/273084/</link>
				<pubDate>Sat, 12 Sep 2026 00:43:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এমন একটা পৃথিবী যেখানে সব সময় রাত থাকে। পুরুষেরা বাচ্চা জন্ম দেয়। এবং নারীরা তাদের সেবা করে।</p>
<p>আজ বেশ জোস্না উঠেছে আকাশে। বাইরে সবকিছু ঝকঝকে পরিষ্কার। লন্ঠন নিয়ে না হাঁটলেও বোধ হয় সুন্দরভাবে পথ চলা যায়। অন্ধকারে চাঁদের আলোয় মাটিতে গাছের ছায়া পড়েছে। চোখ দিয়ে তা ধরা যাচ্ছে স্পষ্টভাবে। এমনটা অনেকদিন পর ঘটলো। চাঁদ আবার পূর্ণভাবে উঠে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-273084"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/273084/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>