<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Rupantor Roy | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/rupantorroy/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/rupantorroy/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Rupantor Roy.</description>
	<lastBuildDate>Sun, 13 Sep 2026 04:11:57 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">67d5bec20a3255aecf77aeefdf6346d0</guid>
				<title>Rupantor Roy and অমিত are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/273364/</link>
				<pubDate>Sat, 12 Sep 2026 19:04:54 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9a219e6872f1cbb0f167acac9a4168b8</guid>
				<title>Rupantor Roy and Syed Farah are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/273223/</link>
				<pubDate>Sat, 12 Sep 2026 11:48:23 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">31831f248885c623e7fc35f8759cd5cc</guid>
				<title>Rupantor Roy changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/273085/</link>
				<pubDate>Sat, 12 Sep 2026 00:48:56 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">985f53335f064262e0adfa06289a96ef</guid>
				<title>এমন একটা পৃথিবী যেখানে সব সময় রাত থাকে। পুরুষেরা বাচ্চা জন্ম দেয়। এবং নারীরা তাদের সেবা করে।

আজ বেশ জোস্না উঠেছে আকাশে। বাইরে সবকিছু ঝকঝকে পরিষ্কার। লন্ঠন নিয়ে না হাঁটলেও বোধ হয় সুন্দরভাবে পথ চলা যায়। অন্ধকারে চাঁদের আলোয় মাটিতে গাছের ছায়া পড়েছে। চোখ দিয়ে তা ধরা যাচ্ছে স্পষ্টভাবে। এমনটা অনেকদিন পর ঘটলো। চাঁদ আবার পূর্ণভাবে উঠেছে উঠেছে। শোনা যায়, জোস্না আকাশে এবং বাতাসে এক ধরনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে দেয়। যার ফলে যেখানে সেখানে লুকিয়ে থাকা ভয়ংকর অন্ধকার গুলো ভয় পায়। এবং আলো থেকে দূরে সরে যায়। 
আজ তেমনি একটা দিন। ঘরের ভেতরে কালো জ্বলছে। চারিদিক চোখের সামনে চকচকে পরিষ্কার। মিল্টন সবার সামনে নরম গদিতে বসে আছে। তার সামনে রাখা টেবিলে মিষ্টান্ন, বিস্কুট, চানাচুর, ফলমূল এবং আরেক পাশে কাঁচের জগের সাথে দুটো স্টিলের গ্লাস রাখা আছে। মিল্টন সেখান থেকে সহজ ভাবে একটা আঙ্গুর ছিরে মুখে দিলো। দাঁত দিয়ে সেটা কামড়ে ধরে, জিভ দিয়ে হালকা করে চাপ দিয়ে, সেটা সে গিলে ফেললো। তার পাশে একজন এজেন্ট এবং আরেকদিকে কতগুলো মানুষ তার দিকে আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে। এজেন্ট তার দিকে ঝুঁকে এসে তাকে কানে কানে বললো,

“তুমি দেখো এই মেয়েটা খুবই সুন্দর।”

মিল্টন ঠোঁটের কোণে একটু হাসি রেখে গম্ভীর ভাবে মাথা নাড়লো। তাকিয়ে দেখলো, অন্য মানুষগুলো তার দিকে মুখ হাসি হাসি করে আছে। তাদের মধ্যে থেকে একজন মধ্যবয়স্ক লোক তাকে বিনয়ের সাথে বললো,

“বাবা তুমি লজ্জা পাচ্ছে বোধহয়। আরো কিছু নাও না!”

মিল্টন অমায়িক হাঁসি হেসে বললো,

“আরে না, না, কিসের আবার লজ্জা!”

বলে সে না চাইতেও একটা রসগোল্লা হাতে তুলে নিল। অনেকগুলো চোখ আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে বলে। সে আস্তে আস্তে করে সেটা খেতে লাগলো। এমন সময় ভেতর থেকে একটা ছোট মেয়ে ছুটে এসে তার মায়ের দিকে ঘেঁসে এসে মৃদুভাবে বললো,

“দিদি আসছে।”

এজেন্ট সেই কথাটি টেনে নিয়ে বললো,

“বেশ তো, চাঁদ এখন মাথার উপরে। এই সময়ে শুভ কাজটা সারা গেলে আমাদের জন্যই মঙ্গল হবে। কি বলেন আপনারা?”

লোকগুলো একসঙ্গে সায় দিয়ে বললো,

“হ্যাঁ তাইতো, তাইতো।”

মেয়ে ভিতরে আসলো। তার হাতে রয়েছে চায়ের ট্রে। তার বাবা তাকে আদর করে বললো,

“মা, প্রথমে তুমি ওনাদের দিয়ে শুরু করো!”

মেয়েটা ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে প্রথমে এজেন্টকে এবং তারপর মিল্টনের দিকে ঝুঁকে এসে, তার দিকে চায়ের কাপ বাড়িয়ে দিল। মিল্টন কাপটা নিতে নিতে খুব ভালো করে তার মুখখানা একবার দেখে নিল। মেয়েটাও অল্প কিছুক্ষনের জন্য তাকালো তার দিকে। তারপর সে বাকি সবাইকে চা পরিবেশন করে অন্যদিকে গিয়ে বসলো মিল্টনের সামনে। এজেন্ট মনোযোগে নিবিষ্ট মিল্টনের দিকে ঝুঁকে এসে তাকে কানে কানে আরেকবার বললো,

“কি ফেলেছিলাম? মেয়েটা খুব সুন্দর না! ভালো করে দেখো তোমার পছন্দের সঙ্গে ঠিক মিলে যাবে।”

 মিল্টন তার কথায় সায় দিল। মেয়ের বাবা তাকে উদ্দেশ্য করে এজেন্টকে বললো,

“আমার মেয়ে খুব নম্র ভদ্র। তার মতো মেয়ে আপনি গোটা এলাকা খুঁজলেও আরেকটা পাবেন না। সে খুব ধৈর্যশীল এবং দায়িত্ববান। সব ধরনের কাজ সে খুব নিখুঁত এবং গোছালোভাবে করতে পারে।”

এজেন্ট মাথা নেড়ে একমুখ হাসি নিয়ে বললো,

“তা তো অবশ্যই। এসব তো জানা কথা। কিন্তু আমার ক্লাইন্ট মিল্টন বাবাজি আপনারমেয়েকে ভালো করে কিছু প্রশ্ন করতে চায়।”

মেয়ের বাবা গদগদ হয়ে বললো,

“মেয়ে আমার লক্ষ্মীর মতো। আপনারা নিঃসন্দেহে তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।”


মিল্টন তাকে নরম গলায় বললো,

“তোমার নাম কি?”

মেয়েটি বললো,

“মিথিলা।”

মিল্টন বুঝতে পারল, তার গলার স্বর ভারী মিষ্টি। সে আবার বললো,

“তুমি কি আমাকে এবং আমার অংশকে ভালো করে সেবা করতে পারবে?”

মেয়েটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাথা মেরে বললো,

“পারব।”

মিল্টন বললো,

“তুমি কি কি কাজ জানো?”

মেয়েটি বললো,

“কাপড় কাঁচা, বাসন মাজা, ঘর ঝাড়ু দেওয়া, বিছানা গোছানো, রান্না করা, প্রায় সব কাজই পারি।”

মিল্টন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,

“তোমার ভেতরে কি কি গুন আছে?”

মেয়েটি বললো,

“আমি নাচতে এবং গাইতে পারি।”

এজেন্ট মেয়েটির আরো প্রশংসা করে বললো,

“এরকম রূপে গুনে ভরা প্রতিমা আজকাল মেলা বড় ভাঁড়। তুমি ভিতরে যাও মা। আমাদের মেয়ে দেখা হয়ে গেছে।”

মেয়েটি একটি নমস্কার দিয়ে ভেতরে চলে গেল। এজেন্ট খুক করে কেশে মেয়ে পক্ষকে উদ্দেশ্য করে বললো,

“তাহলে মশাই, মেয়েতো মোটামুটি আমাদের পছন্দ। তাহলে ডিমান্ডের বিষয়টা এখানেই পরিষ্কার করা যাক।”

মেয়ের বাবা উৎসাহ নিয়ে বললো,

“হ্যাঁ, তাতো অবশ্যই! তাহলে বলুন আপনাদের কি ডিমান্ড?”

 এজেন্ট বললো,

“মিল্টন বাবাজির বেশি কিছু দাবি দাওয়া নেই। তার শুধু একটা মনের মতো গোছালো সেবিকার প্রয়োজন। দাবির মধ্যে ওই পনেরো ভরি সোনা, বাড়ির আসবাবপত্র, বিশ লক্ষ মুদ্রা আর পাঁচ একর জমি হলেই হবে। তাছাড়া আমাদের আর বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই। আমাদের শুধু মেয়েকে চাই।”

কথাগুলো শুনে মেয়ের বাবার হাসিমাখা মুখখানা হালকা ফ্যাকাস হয়ে গেল। তিনি বললেন,

“দেখুন আমি বুঝতে পারছি, পাত্র সব দিক থেকেই উপযুক্ত। এমন পাত্র কোন মেয়ের বাবাই হাতছাড়া করতে চাইবে না। কিন্তু আমার আরো একটা ছোট মেয়ে আছে। তাকেও তো বিয়ে দিতে হবে। দেখেন, আপনারা যদি ডিমান্ডের অঙ্গটা একটু কমান। তাহলে আমরা ভেবে দেখতে পারি।”

এজেন্ট হালকা হেসে বললো,

“কি বলেন মশাই। আমাদের আপনাদের মেয়ে পছন্দ হয়েছে বলেই তো, মিল্টন বাবাজির কথায় ডিমান্ডটা একটু কম কম করে বললাম। না হলে অন্য জায়গায় এর থেকে বেশি বলে বসতাম।”

মেয়ের বাবা বললো,

“কি করবো বলুন! আমি তো অসহায়। দুটো মেয়ে যখন হয়েছে, তখন দুজনকেই তো দেখতে হবে।”

মিলন তখন বললো,

“তাহলে আমরা উঠি। বাড়িতে গিয়ে ভেবে চিন্তে জানাই!”

মেয়ের বাবা অবাক হয়ে বললো,

“এখনই যাবেন! আপনারা তো প্রায় কিছুই খেলেন না।”



হাতে একটা লন্ঠ নিয়ে মিল্টনের সাথে এজেন্ট মেঠোপথ ধরে বাড়ির দিকে হাটতে লাগলো। স্নান জোস্না চারিদিকে থৈ থৈ করছে। অনেকদূর পর্যন্ত খালি চোখে দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট। রাস্তার দুই দিকে নীলের খেত দূর দূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। চাদের আলোয় অন্ধকার গায়ে মেখে নীলের গাছগুলো মৃদু মৃদু জ্বলছে। দেখে মনে হচ্ছে, মাটিতে নীল নক্ষত্র খসে পড়ে তারার মতো জ্বলজ্বল করছে। বাঁশ বাগানের তল দিয়ে যেতে যেতে মিল্টন এজেন্টকে তিরস্কার করতে লাগলো। সে বললো,

“আপনার দ্বারা কিছুই হবে না। আজ যে যে বাড়িগুলোতে নিয়ে গেলেন। তারা কেউই আমার ডিমান্ড পূরণ করতে পারল না। আচ্ছা, আপনার ঝুলিতে কি কোন ধনী মেয়ের সন্ধান নেই? না পারলে বলুন। আমি অন্য পথ দেখে নেব।”

এজেন্ট শান্ত হয়ে বললো,

“আহা, এত উতলা হলে হবে। তাড়াহড়ো করে এই কাজ করা যায় না বাপু। একটু সবুর করো। তাহলে দেখবে, তোমার ডিমান্ড মতো এবং যুত মতো মেয়ে তুমি ঠিকই খুঁজে পাবে।”

মিল্টন মাথা গরম করে বললো,

“সবুর করেই তো আছি। আর কতদিন আমাকে এই ভাবে ঘুরতে হবে? মরার ঘাটে যাওয়ার সময় তো প্রায় হয়েই এলো।”

এজেন্ট বললো,

“কালকের তালিকায় আরো ভালো ভালো কয়েকটা মেয়ে আছে। এই সময় জোস্নাও বেশ গাঢ়। এই শুভ সময়ে হতে পারে তুমি কালকেই তোমার পছন্দ পেয়ে গেলে।”

মিল্টন এজেন্ট এর হাত থেকে লন্ঠনটা কেড়ে নিয়ে বললো,

“হয়েছে হয়েছে খুঁড়ো, এখন যাও। ওই দেখো তোমার বাড়ি রাস্তায় চলে এসেছি।”

এজেন্ট চমকে উঠে বললো,

“এত তাড়াতাড়ি চলে এলাম। গল্প করতে করতে এতক্ষণ তাহলে কোন খেয়ালই ছিল না।”


মিল্টন লন্ঠন হাতে নিয়ে সামনে এগিয়ে গেল। বাঁদিকের সরু জলা-জঙ্গলে ঘেরা নিচু রাস্তাটায় নেমে পড়ল এজেন্ট। সেদিকের পথটা নারিকেল, সুপারি, পেয়ারা আর হরিতকি গাছের সারিতে ঢাকা। ফলে চাঁদের আলো সেখানে ভালো করে ঢুকতে পারে না। এজেন্ট পথ চলতে লন্ঠনের ধার ধারেন না। কিন্তু ওইটুকু অন্ধকার পথ চলতে তার বেশ ভয়ই করে। এখান থেকে আরও আধ কিলো দূরে তার বাড়ি। বাড়ির আশেপাশের বড় বড় কদম গাছগুলো সারা বছর তার বাসস্থান কে অন্ধকার করে রাখে। গাঢ় জোছনাতেও সেখানটা তেমন পরিষ্কার হয় না। শুধু গাছের ডালপালার ফাঁক ফোকর দিয়ে চাঁদের আবছা আলো তীরের ফলার মতো মাটিতে ছড়িয়ে থাকে। 


আশেপাশের সরিষার ক্ষেতগুলোয় হলুদ ফুল ফুটে আছে। কুয়াশার পাতলা চাদর জমতে শুরু করেছে তাদের মাথা গুলোর উপর। চাঁদটা এতক্ষণে মাথার উপর উঠে গেছে। মিল্টন লন্ঠন হাতে হনহন করে চলতে চলতে তার বাড়ির পাশের খেতগুলি দেখতে লাগলো। আলো গায়ে মেখে যব আর কলাইয়ের এর ক্ষেতগুলো চকচক করে দাঁড়িয়ে আছে। সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বুঝতে চেষ্টা করলো; এগুলো কাটার সময় হয়ে গেছে কিনা। 

এমন সময় ওই পাশের ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে কি যেন একটা শব্দ করে নড়ে উঠলো। লন্ঠনটা সেই দিকে ধরতেই আবার চারিদিক নিস্তব্দ। মিল্টন সজাগ হয়ে তাকিয়ে রইল সেই দিকে। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ কি যেন একটা, ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে পশ্চিম দিকে খসখস শব্দ করে ছুটে যেতে লাগলো। মিল্টনও জমিতে নেমে পরে ছুটলো সেই বস্তুটার দিকে। খানিকক্ষণ সেইভাবে দৌড়ানোর পর ক্ষেতের মধ্যে এসে হঠাৎ মিল্টনের নজর আটকে গেল, দাঁড়িয়ে থাকা পাথরের খন্ডটার দিকে। সেটাকে কেন্দ্র করে অনেকটা জায়গা জুড়ে কেউ বা কারা গোল করে ভুট্টার গাছগুলো মাটির সাথে দলে দিয়েছে। 

পাথরের খন্ডটা জমির মধ্যে হওয়ায় মিল্টন অল্প একটু জায়গা বাদ দিয়ে বাকি জমিটা চাষাবাদ করে। কিন্তু সে যখন দেখল, তার ফসলগুলো কেউ এইভাবে নষ্ট করেছে। তখন সে বেশ অবাকই হলো। আজ তার মনে কোন রাগ জন্মালো না। গত কয়েকদিন ধরে তার জমিগুলোতে কেউ অন্ধকারে এসে ফসল নষ্ট করে বেড়াচ্ছে। আজ তাকে ধরবে বলে পিছু নিয়ে যখন সে পাথরঘন্টার সামনে পৌঁছালো। (যাকে তারা পৌত্তলিক বলে ডাকে)। তখন সে আবিষ্কার করলো, তা তাকে বেশ হতভম্বই করে দিল। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল পৌত্তলিকটার দিকে। চদের আলোয় পৌত্তলিকতার গায়ে খোদাই করা অক্ষরগুলো জ্বলজ্বল করছে। মিল্টন বিস্মিত হলেও পৌত্তলিকটার সামনে মাথা ঠেকাতে ভুলে গেল না। হাঁটু গেড়ে বসে ভয়ে ভয়ে চারিদিকে সজাগ দৃষ্টি রেখে। তাদের নিয়ম অনুযায়ী খোদাই করা অক্ষরগুলো বলতে লাগলো,

“পুরুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সে তার শক্তি, সামর্থ্য এবং ক্ষমতা দিয়ে এই পুরো পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। জগতের সব কিছু তার ভোগের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। নারী অনেক দুর্বল এবং অবলা প্রাণী। পুরুষের উচিত তাদের উপর দয়া করে, তাদেরকে সেবিকা হিসেবে গ্রহণ করা। এবং কোন পুরুষ যদি নারীর সৃষ্টি করে। তাহলে তার উচিত অর্থ প্রদানের মাধ্যমে অন্য পুরুষের কাছে তার অংশটিকে হস্তান্তর করা। এবং এর প্রায়শ্চিত্ত করা।”

 
চোখ বুজে কথাগুলো উচ্চারণ করার পর সে পিছন ফিরতেই দেখল,

“অন্ধকারে একটা মানুষের অবয়ব তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। জোছনার আলোতে ছায়ামূর্তিটার নির্দিষ্ট স্থান জুড়ে গাড় কালো অন্ধকার। সেটার আকৃতি একটা মেয়ের মতো। মিল্টন তাকে চিনতে না পেরে অবাক হয়ে বললো,

“আপনি কে? এবং এই সময়ে এখানে কি করছেন?”

কথাগুলো শুনে ছায়ামূর্তি কোন জবাব দিল না। সেখানেই থমকে দাঁড়িয়ে রইলো। মিল্টন আবার তাকে বললো,

“আপনাদের এইভাবে একা ঘুরে বেড়ানো উচিত নয়। বাইরে অনেক বিপদ থাকতে পারে। আপনি বিপদেও করতে পারেন। এখন যদি বলেন, আমি আপনাকে সুরক্ষিত ভাবে ঘরে পৌঁছে দিতে পারি।”

এবারেও ছায়া মূর্তি কোন জবাব দিল না। মিল্টন বললো,

“এই যে মহোদয়া, আপনি কি শুনতে পারছেন? আমি আপনাকে বলছি। চলুন, আমি আপনাকে সুরক্ষিত ভাবে রেখে আসি।”

এবার ছায়ামূর্তিটা নড়ে উঠলো। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে লাগলো মিল্টনের দিকে। মিল্টন তখন হাসিমুখে অন্ধকারের মধ্যে একটা হাত বাড়িয়ে দিল তার দিকে। অন্ধকার থেকে যেই জিনিসটা চাঁদের আলোয় বেরিয়ে আসলো, তা মিল্টনের ধারণার বাইরে ছিল। মেয়েটার শরীর বলতে কিছুই নেই। সব গাড় কালো নিগুঢ় অন্ধকার। তার চুলগুলো বাতাসে বিক্ষিপ্তভাবে উড়ছে। এতক্ষণ ধরে সে বোধ হয় চোখ বুঝেছিল। কাছাকাছি আসতেই তার চোখের জায়গায় দুটো উত্তপ্ত অগ্নিপিন্ড লাল হয়ে জ্বলছে। সে ভয়ঙ্কর ভাবে এগিয়ে এসে কিছুটা দূরত্বে থমকে দাঁড়িয়ে সুন্দর করে হাসলো। 

বিদঘুটে অন্ধকার চেহারার মধ্যেই সেই হাসিটা মিল্টন স্পষ্ট দেখতে পেল। তারপর পরক্ষণেই হাসিমাখা মুখখানা হা করে তীক্ষ্ণ দাঁতগুলো বের করে মেয়েটা ঝাঁপিয়ে পড়লো মিল্টনের উপরে। মিল্টন এক লাফে বা দিকে সরে গেল তৎক্ষণাৎ। তারপর তাড়াহুড়ো করে উঠে লন্ঠনটা কোনমতে হাতে নিয়ে সে ছুটতে লাগলো জ্ঞানশুন্য হয়ে। তার পিছনে পিছনে সেই ছায়ামূর্তিটা এক ধরনের বিকৃত গগনবিদারী চিৎকার করে তাকে ধাওয়া করতে লাগলো। মিল্টন ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে হরমুরিয়ে দৌড়াতে লাগলো। তার নিঃশ্বাস এবং হৃদস্পন্দন তখন এক চরম সীমায় পৌঁছে গেছিল। সামনে কিছুটা দূরে সে তার বাড়িটা দেখতে পেল। তার একবার মনে হলো, সে যদি কোনমতে বাড়ির ভিতরে পৌঁছাতে পারে। তাহলে সে সুরক্ষিত থাকবে। তাই সে বাড়ির দিকে ছুটলো। কিন্তু এমন সময় ছায়ামুর্তিটা তাকে এক ধাক্কায় ছিটকে ফেলে দিল অনেকটা দূরে। সে ছিটকে গিয়ে পড়লো রাস্তার উপরে। সঙ্গে সঙ্গে তার নিঃশ্বাস আটকে গেল।

পাজরে সে জখম পেয়েছে প্রচন্ড। রক্তের স্রোতে ক্রমে তার জামা ভিজে উঠতে শুরু করলো। সে রাস্তার মধ্যে উপুর হয়ে সুয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস টেনে নিজেকে কোন মতে সামলাতে লাগলো। এমন সময় সেই ছায়ামূর্তিটা তার মাথার উপরে বিশাল আকার ধারণ করলো। সে মিল্টনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে যাবে, এমন সময় আকাশে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চমকে উঠলো। সেই শব্দ এবং আলোতে ছায়ামূর্তিটা কাতর হয়ে পড়লো। এবং সে আরো ভয়ঙ্কর ভাবে চেঁচাতে লাগলো। 

সুযোগ বুঝে মিল্টন শরীরের সবটুকু শক্তি সঞ্চার করে অন্যদিকে ছুটতে লাগলো। সে রুদ্ধশ্বাসে অনেকটা দূরে ছুটে গিয়ে একটা পরিত্যক্ত ভাঙ্গা বাড়ির মধ্যে লুকিয়ে পড়লো। তার মনে হতে লাগলো সে এখন সুরক্ষিত। কিন্তু তা পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারল না। সে এটা ভেবে আফসোস করলো যে, সে যদি নিজের বাড়িতে গিয়ে উঠতো তাহলে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে থাকতে পারতো। কিন্তু সে নিরুপায় হয়ে ঢুকেছে এই বাড়ির মধ্যে। সে অন্ধকারে কোনার মধ্যে ঘাপটি মেরে মুখ চেপে ধরে নিঃশ্বাস নিতে লাগলো।

অনেকক্ষণ কেটে যাওয়ার পরও যখন কোন কিছু আর ঘটলো না। তখন সে অনেকটা আশ্বস্ত হলো। সে এখন সুরক্ষিত। দ্বিধা নিয়ে পড়ে থাকা একটা লণ্ঠন জ্বালিয়ে বাড়িটা সে ভালো করে দেখতে লাগলো। ভেতরের আসবাবপত্রগুলোতে মাকড়সার জাল আর ধুলো জমে আছে। জানালার কাঁচ গুলো ভাঙ্গা। উপরের কোন কোন জায়গায় ছাদ নেই। কাঠের খুঁটিতে ঘুন ধরেছে। সকলে এই বাড়িটাকে ভুতরের বাড়ি বলে। কেউ এর আশপাশ দিয়ে আসার সাহস করে না। মিল্টন ও ভয় পায় প্রচন্ড সে দৌড়ে এসে এই বাড়িটাতে আশ্রয় খুঁজেছে। তার কেন জানি আজ বাড়িটাকে আর ভয় করল না। বরং সে যেন এখানে থাকতে স্বস্তি পেতে লাগলো। তার মনে হতে লাগলো সে বাইরে বেরোলেই তাকে গিলে ফেলবে সেই ভয়ংকর মূর্তিটা।

এমন সময় দুটো হাত খপ করে তার পা দুটো ধরে তাকে উল্টে মাটিতে ফেলে দিল। তারপর তাকে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো বাহিরের দিকে। সে প্রাণপণ চেষ্টা করলো নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে। কিন্তু সে পারল না। আশ্রয় খোঁজার আশায় লন্ঠনটা এক হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে রইলো। বাহিরে টেনে এনে ছায়ামূর্তিটা তাকে দূরে উঠোনে ছুড়ে ফেলল। তার মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো সঙ্গে সঙ্গে। পাঁজরের হাড়গুলো বোধহয় মরমর করে ভেঙে গেছে। ছায়ামূর্তিটা মেয়ের আকৃতি ধারণ করে তার দিকে এগিয়ে আসছে। তার চোখগুলো আর জ্বলছে না। মিল্টন নিথর হয়ে শুয়ে দুচোখ ভরে দেখতে লাগলো তার মৃত্যুকে। তখন তার কিছুই মনে হলো না। সবকিছু যেন খুব স্বাভাবিক। সে তখন নিজেকে অনেক শান্ত এবং নির্মল ভাবে খুঁজে পেল।

 সে মরতে চলেছে। ছায়ামূর্তিটার দিকে আদ্র চোখে তাকিয়ে থেকে সে হঠাৎ করে হেসে উঠলো। তার মুখে ফুটে ওঠা বিষন্ন আনন্দ ভরা হাসিটা লক্ষ্য করে ছায়ামূর্তিটা এক সময় দাঁড়িয়ে পড়লো। মিল্টন তখন আরো জোরে জোরে আরো খুশিতে হাসতে লাগলো। সে মরে যাবে। তার সমস্ত বেদনা, সমস্ত গ্লানি, সব ধুয়ে যাবে। হাসতে হাসতেই হঠাৎ করে সে ভেঙে পড়লো। তার দু চোখ দিয়ে ঝড়তে লাগলো অশ্রু। 

ছায়ামূর্তির চোখ ততক্ষণে আবার জ্বলে উঠেছে। সে আরো ভয়ংকর হয়ে এগিয়ে আসতে লাগলো। আর মিল্টন ক্ষণিকের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। লন্ঠনটা কিছুটা দূরে মাটিতে তার পায়ের কাছে পড়েছিল। সে লক্ষ্য করলো, ছায়ামূর্তিটা লন্ঠনের মৃদু আলোয় গণ্ডির মধ্যে আসার সাহস করছে না। সে তার সামনে কিছুটা দূরে আটকে আছে। ছায়ামূর্তির দুর্বলতা বুঝতে পেরে মিল্টনের শরীরে যেন নতুন করে প্রাণের সঞ্চার ঘটলো। ‌সে তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়িয়ে লণ্ঠনটা ধরলো তার সামনে। আলোর সংস্পর্ষে আসতেই ছায়ামূর্তিটার শরীর পুড়ে যেতে লাগলো। মিল্টন আরো নির্দয় হয়ে তার দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। কিন্তু সে অবাক হয়ে দেখলো, ছায়ামূর্তি আর সেখান থেকে নড়ছে না। তার গা পুড়ে যাচ্ছে তবুও না। 

যে তাকে ব্যথা দিয়েছে সে তাকে কখনো ক্ষমা করবে না। কিন্তু মিল্টন থেমে গেল। যখন সে দেখল, ছায়ামূর্তিটা নিরবভাবে কষ্টের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাঁদছে।‌ তার চোখ দিয়ে যে অশ্রুর ফোঁটাগুলো গড়িয়ে পড়ছে সেগুলো রং শুভ্র। জলের মতো স্বচ্ছ। মিল্টন থামলো। বোকার মতো লন্ঠনটা নিভিয়ে ফেলল। কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুঃখী মেয়েটা থামলো না। সে মাটিতে বসে পড়ে মুখ লুকিয়ে অঝোরে কাঁদতে লাগলো। তার দুটি নয়ন দিয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগলো, আসল চোখের জল।


কিছুক্ষণ পর মিল্টন তাকে মৃদুভাবে জিজ্ঞেস করলো,

“তুমি কি ঠিক আছো?”

মেয়েটি নিজেকে দুঃখের সাগরে ভেসে দিয়ে অনেকক্ষণ ধরে কেঁদেছিল। তার চুলগুলো ভিজে উঠেছে তার অমোঘ চোখের জলে। সে অল্প করে মাথা নাড়ল। মিল্টন বললো,

*আমি দুঃখিত! তুমি যদি আমাকে আঘাত না করতে। তাহলে আমি তোমাকে এইভাবে কাঁদাতাম না।”

মেয়েটি দাঁড়িয়ে পড়লো। বাতাসে তার মনে হয় শীত লাগছে। সে নিজেকে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলো। মিল্টন বললো,

“তুমি কে? আর তুমি কেন আমাকে মারতে চেয়েছিলে?”

জবাবে মেয়েটি সুন্দরভাবে আবার হেসে উঠলো। তারপর সে ধীরে ধীরে চলে যেতে লাগলো। মিল্টন বললো,

“এই মেয়ে শোন, একটু দাড়াও। বলে যাও তুমি কে?”

মিল্টন ও তার পেছনে পেছনে চলতে শুরু করলো। তার কেন জানি তার সঙ্গে থাকতে ভালো লাগতে লাগলো। তারা দুজনেই নিঃশব্দ হয়ে চললো। আকাশের চাঁদটা আলো ছড়িয়ে সাক্ষী হয়ে থাকলো তাদের এই নীরব যাত্রার। 

মেয়েটি রাস্তা পেরিয়ে সূর্যমুখের মধ্যে দিয়ে চলতে লাগলো
 চারিদিকে বড় বড় সূর্যমুখী ফুটে আছে। স্নান জোসনায় হলুদ রং আর ফুলের আকৃতি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মিল্টন তাকে পিছন থেকে ডেকে বললো,

“তুমি কি সূর্যমুখী পছন্দ করো?”

 মেয়েটি কোন জবাব দিল না। মিল্টন বললো,

“ওহ বুঝেছি, তুমি আমার সঙ্গে কথা বলবে না।”

সূর্যমুখীর ক্ষেত পেরিয়ে তারা গোলাপের জমিতে নেমে পড়লো। গোলাপগুলো লাল রঙের। তবে পরিষ্কার ঝা চকচকে আলো না থাকায় সব সময় ফুলগুলো কালো হয়ে চোখে ধরা দেয়। মিল্টন অবাক হয়ে দেখলো, আজকের নিগুঢ় জোছনাতেও এগুলো চারিদিকে কালো হয়ে আছে। সে নাক দিয়ে নিঃশ্বাস টেনে মেয়েটিকে বললো,

“তুমি কি গোলাপ পছন্দ করো? এর গন্ধটা?”

মেয়েটি এবারেও কোন জবাব দিল না। মিল্টন বললো,

“আমি বুঝেছি, তুমি ফুল পছন্দ করো না।”

আরো কিছুক্ষণ এভাবে চলতে চলতে মিল্টন আবার তাকে বললো,

“আচ্ছা, তুমি কি পছন্দ করো?”

মেয়েটি জমির মধ্যে থাকা বাস এবং খড়ের তৈরি মাচানে উঠে বসে পা ঝুলিয়ে দিয়ে, আকাশের দিকে আঙ্গুল নির্দেশ করে বললো,

“চাঁদ এবং তার আলো।”

মিল্টন তার পাশে বসে তার চুলের মধ্যে একটা গোলাপ গুঁজে দিয়ে বললো,

“এবার বুঝেছি, তুমি হয়তো অন্ধকার পছন্দ করো।”

মেয়েটি তার চুলের মধ্যে আটকে থাকা গোলাপ ফুলটি সরিয়ে ফেলতে চাইলে মিল্টন তাকে বাধা দিয়ে বললো,

“এটা নেড়ো না। তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।”

মেয়েটি মনে হয় লজ্জা পেল। তার মুখে জমে উঠল গোলাপি রং। মিল্টন বললো,

“তুমি কোথায় থাকো?”

 মেয়েটি বললো,

“আমি হয়তো জানিনা।” 

মিল্টন বললো,

“এখন তোমার ভালো লাগছে?”

মেয়েটি মৃদুভাবে মাথা নাড়লো। তারপর সে নত হয়ে বললো,

“আমি কি সুন্দর?”

 মিল্টন বললো,

“হ্যাঁ অবশ্যই! তুমি খুব সুন্দর।”

সে বললো,

“আমি তোমার হাতটা ধরতে পারি?”

মিল্টন ইতস্তত করে বললো,

“তুমি যদি আমার বন্ধু হও। তাহলে পারো।”

 মেয়েটি মিল্টনের একটা হাত সঙ্গে সঙ্গে চেপে ধরে সরলভাবে বললো,

“বন্ধু মানে কি?”

 মিল্টন বললো,

“বন্ধু মানে হলো, যে তোমার সাথে…

মিল্টন কথাটা শেষ করতে পারল না। দূর থেকে হঠাৎ একটা তীর ছুটে এসে বিঁধল মেয়েটির বুকে। মেয়েটি ব্যথায় কাতর হয়ে গেল। কিন্তু সে মুখ দিয়ে কোন শব্দ উচ্চারণ করলূ না। ব্যথায় তার হাহাকার আর চিৎকার করার দরকার ছিল। কিন্তু সে মিল্টনকে হঠাৎ শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হাসি মুখে বললো,

“ আমি তোমার বন্ধু হতে চাই?”

মিল্টনের বুকের মধ্যেই সে সঙ্গে সঙ্গে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। মিল্টন কিছু বুঝে উঠতে পারল না। এতক্ষণ কি ঘটে গেল। এমন সময় হঠাৎ ফসলের ক্ষেত থেকে একজন লোক তীর ধনুক সমেত বেরিয়ে এসে জোরে বললো,

“খাইছি রে!”

 হতভম্ব মিল্টনের দিকে সে লন্ঠন নিয়ে এগিয়ে আসলো। মিল্টনের তার প্রতি খুব রাগ হলো। প্রচন্ড, প্রচন্ড রাগ। আলোর কাছাকাছি আসতেই লোকটি অবাক হয়ে বললো,

“মিল্টন তুই এখানে! এখানে কি করছিস?”

মিল্টন তাকে চিনলো, সে তার বন্ধু। এমন সময় আরো কতগুলো মানুষ মশাল এবং বর্ষা হাতে বেরিয়ে এলো। তাদের অনেকে উপস্থিত হলো মৃদঙ্গ এবং ঢোল বাজিয়ে। তার বন্ধু সবাইকে বললো,

“মিল্টনকে অন্ধকার ছুঁয়ে ফেলেছে।”

বাড়ির পথে বাজনা বাজিয়ে ফিরতে ফিরতে সকলে মিল্টনকে ঘিরে ধরলো। বললো,

“তুই এখনো কি করে বেঁচে আছিস! অন্ধকার তোকে মেরে ফেলেনি কেন?”

 মিল্টন চুপ করে থেকে বললো,

“আমি জানিনা। কিন্তু তোমরা সকলে এমনটা কেন করছো?”

একজন বৃদ্ধ বললো,

“অন্ধকারগুলো আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে। পুরুষের পরম্পরা অনুযায়ী তাই আমরা তাদের শিকারে বেরিয়েছি। তুমি কয়েকদিন ধরে মেয়ে দেখে বেরিয়েছো। তাই কিছুই জানো না।”

পাশ থেকে একজন বললো,

“সে কি সত্যি তোমায় ছুঁয়ে ছিল?”

 মিল্টন তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো,

“হ্যাঁ।”

সে তখন সকলকে বললো,

“আজ থেকে মিল্টন তাহলে, ছুঁয়া।”

তারা সকলে মিলে তখন একে অপরের বক্তব্যে ছুঁয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে লাগলো। মিল্টনের সেখানে ভালো লাগলো না। তার একবার পিছনে তাকাতে ইচ্ছে করলো। সেই মাচান এর দিকে। যেখানে সে এবং ওই মেয়েটা এতক্ষণ ধরে বসে ছিল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/273084/</link>
				<pubDate>Sat, 12 Sep 2026 00:43:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এমন একটা পৃথিবী যেখানে সব সময় রাত থাকে। পুরুষেরা বাচ্চা জন্ম দেয়। এবং নারীরা তাদের সেবা করে।</p>
<p>আজ বেশ জোস্না উঠেছে আকাশে। বাইরে সবকিছু ঝকঝকে পরিষ্কার। লন্ঠন নিয়ে না হাঁটলেও বোধ হয় সুন্দরভাবে পথ চলা যায়। অন্ধকারে চাঁদের আলোয় মাটিতে গাছের ছায়া পড়েছে। চোখ দিয়ে তা ধরা যাচ্ছে স্পষ্টভাবে। এমনটা অনেকদিন পর ঘটলো। চাঁদ আবার পূর্ণভাবে উঠে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-273084"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/273084/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>