<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | S. Islam Asad | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/s-islam-asad/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/s-islam-asad/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for S. Islam Asad.</description>
	<lastBuildDate>Tue, 04 Aug 2026 08:22:40 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">18448cea8091442cb6f0f3c81c8b08e8</guid>
				<title>স্মৃতিকথার মাটি খুঁড়ে  
সিরাজুল ইসলাম আসাদ 
(১৯৬৮---????)

মহাসড়ক ধরে রিক্সা প্রাণপণে টেনে চলা রিক্সাচালকের 
নাকমুখ এঁটে গামছা বাঁধা দেখে হাসি পাচ্ছে রিকশায় মা&#039;র পাশে বাবার কোলে বসা তিন বছরের ছোট্ট কল্প&#039;র।
এদিকে রেবেকা তার শাড়ির আঁচলে নিজের ও নবজাতক মেয়ে পুষ্প&#039;র নাকমুখ ঢেকে রেখেছে এবং আরমান এক হাতে রুমালে নিজ নাক ঢেকে আরেক হাতে কল্প&#039;র নাক ধরে রাখায় আরও হাসি পাচ্ছে তার।
পথের ধারে পড়ে আছে সাড়িসাড়ি লাশ। রিক্সাচালক বললো  ১৪ ডিসেম্বর পাশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গুলি ক&#039;রে ফেলে রেখেছে ওখানে পাকবাহিনী। সাতদিন পার হয়ে গেলেও এ লাশগুলোর কোনো হিল্লে হয়নি। 

গ্রামে ছোটোবোনের বাড়িতে বেশ কিছুদিন স্বামী-সন্তানদের নিয়ে থেকে রেবেকা আজ ফিরছে ওদের শহরের বাসায়। দু&#039;জনেই সরকারী চাকুরীজীবি।১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পর আর বসে থাকা যায়না নয় মাস পালিয়ে পালিয়ে থেকে &#039;৭১ এর এই শেষদিকে। এবার চাকুরীতে যোগ দিতে হবে।

শহরে পাড়ায় ঢুকবার সাথেসাথে এক অজানা ভালো লাগা কাজ করলো আরমানের মনে। সারা গায়ের পশম দাঁড়িয়ে গিয়ে তার মনে হতে লাগলো ৭ই মার্চ রেসকোর্সের মাঠে সে দাঁড়িয়ে শোনা বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কথাগুলো,&quot;এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।&quot; অজান্তে বলে উঠলো সে, &quot;জয় বাংলা&quot;। কল্পও আধো বোলে বললো, &quot;দয় বাঙ্গা&quot;।

কোলে পুস্পকে  জড়িয়ে ধরে কণ্ঠ কেঁপে আসা কান্না থামাবার চেষ্টা করলো রেবেকা। কেবলি তার মনে হতে লাগলো ঢাকায় চাকুরীর ট্রেনিং এ গিয়ে অবরোধে আটকে পড়ে দেখা ২৫ মার্চ রাতে  পাকবাহিনীর ভহাবহ গণহত্যার কথা। মনে পড়ছে  সংগ্রামে  ঝাপিয়ে পড়লো বাঙালী ২৬ মার্চ আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল হান্নানের মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ ও ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতরকেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ার মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ শোনার পর। প্রাণের নেতা বঙ্গবন্ধু  বন্দী হয়ে পাকিস্তান কারাগারে প্রেরিত হলেন ২৫ মার্চ রাতের পর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে। চোখ ভিজে উঠলো রেবেকার।

শহরে বাসার কাছে আসার পর আরেক কান্ড দেখতে পেলো ওরা। এদেশেরই  মানুষ একে অন্যের বাড়ি থেকে  এটা ওটা ঘাড়ে মাথায় ক&#039;রে নিয়ে এদিক ওদিক পালাচ্ছে। বাসার সামনে রিক্সা দাঁড় করালো আরমান। এতোদিন পর বসতবাড়ি দেখতে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়লো স্বামী-স্ত্রী। পুষ্পকে সাবধানে কোলে ধরে নামলো রিক্সা থেকে রেবেকা। এ শরীরে দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে সারা শরীর অবশ মনে হচ্ছে তার, আর তলপেটে প্রচণ্ড ব্যাথা করছে। রেবেকাকে ধরে বাসার সামনে বাচ্চাসহ বসিয়ে দিলো আরমান। এরপর রিক্সাভাড়া মিটিয়ে কল্পকে হাতে ধরে বাসার দরজার কাছে দাঁড়ালো সে। ততক্ষণে রেবেকা পুষ্পকে কোলে নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে আরমানের পেছনে। দরজা ভেড়ানো। এক অজানা ভয় কাজ করলো দু&#039;জনের মনেই। দরজার গায়ে মাকড়সার জাল জমেছে। আরমান চাপ দিতেই &#039;ক্যাঁ&#039;---- শব্দ ক&#039;রে খুলে গেলো দরজা। আরমান বাড়ির ভেতরে পা রাখতেই পেছন থেকে আরমানের শার্ট খামচে ধরলো রেবেকা, ধীর পায়ে মেয়েকে কোলে সেও ঢুকলো স্বামীর পেছনে পেছনে। ঢুকতেই একটা প্রচণ্ড বোটকা গন্ধ নাকে এসে লাগলো ওদের। কল্প বাবার হাত ধরে ঢোকার সময় ভয় পেলেও ঢুকেই সে উঠোনে দৌড়ে গেলো বড় বড় ঘাসের ভেতর বলের মতো গোলাকার কিছু দেখে। পেছন থেকে ছেলের হাত চেপে ধরলো আরমান। কল্পকে দেখে রাখতে বলে রেবেকাকে পুষ্প ও কল্প সহ বসতে বললো বারান্দার সিঁড়িতে। সে ঘরের দরজা চাপ দিতেই আরো বেশী বোটকা গন্ধ এসে ধাক্কা দিলো ওদের নাকে। ঘরে ঢুকে শিউরে উঠলো আরমান।

কাঠের খোলা খাটের ওপর রক্তের ছোপ্ ছোপ্ দাগ আর জং ধরা দা চাকু ছোড়া ছেটানো খাটে ও মেঝেতে। শরীর শক্ত হয়ে গেলো তার। ঘাড় বেয়ে একটা হিম অনুভূতি বয়ে গেলো তার শিরদাঁড়া দিয়ে। চোখ ঝাপসা হয়ে মাথা টোলে কোনরকমে সামলে নিলো সে নিজেকে। হঠাৎ কান্নার বিলাপ শুনে ঘরের বাইরে এসে দেখে রেবেকা দু&#039; সন্তানকে বুকে চেপে ধরে কাঁদছে। মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে ফিরে না আসা ভাইয়ের নাম বলতে বলতে কাঁদছে সে। কোলের অবুঝ পুষ্প ফ্যাল্ ফ্যাল্ ক&#039;রে তাকিয়ে আছে মা&#039;র দিকে, আর শব্দ ক&#039;রে মা&#039;র সাথে কেঁদে চলেছে কল্প। মনে পড়ে গেলো আরমানের কিভাবে তার স্কুলশিক্ষক বাবাকে রাজাকাররা ডেকে নেবার পর আর ফিরে আসেননি তিনি। গলা ঠেলে আসা কান্না আটকাবার জন্য দ্রুতপায়ে উঠোনে চলে যায় সে। দেখে ঘাসে প্রায় ঢেকে থাকা কাদামাখা শক্ত বলাকৃতির জিনিসগুলো আর কিছুই নয়, মানুষের মাথার খুলি। ওগুলো নিয়ে দৌড়ে চলে আসে সে বাড়ির পিছনে। দু&#039; হাতে সজোড়ে কাদামাটিতে পুঁতে ফেলে সে মাথার খুলিগুলো। এরপর প্রচণ্ড চীৎকারে তার বুক ফেটে বেরিয়ে আসে কান্না। নিজেকে ধিক্কার দিতে থাকে সে যুদ্ধে না গিয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছে বলে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/162769/</link>
				<pubDate>Sat, 15 Oct 2022 04:27:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>স্মৃতিকথার মাটি খুঁড়ে<br />
সিরাজুল ইসলাম আসাদ<br />
(১৯৬৮&#8212;????)</p>
<p>মহাসড়ক ধরে রিক্সা প্রাণপণে টেনে চলা রিক্সাচালকের<br />
নাকমুখ এঁটে গামছা বাঁধা দেখে হাসি পাচ্ছে রিকশায় মা&#8217;র পাশে বাবার কোলে বসা তিন বছরের ছোট্ট কল্প&#8217;র।<br />
এদিকে রেবেকা তার শাড়ির আঁচলে নিজের ও নবজাতক মেয়ে পুষ্প&#8217;র নাকমুখ ঢেকে রেখেছে এবং আরমান এক হাতে রুমালে নিজ নাক ঢেকে আরেক হাতে কল্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-162769"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/162769/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>