<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Sohana Khatun | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/sohana-khatun/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/sohana-khatun/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Sohana Khatun.</description>
	<lastBuildDate>Sat, 13 Jun 2026 01:19:39 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">35541473b69503cccc0676bcd9e5ffb1</guid>
				<title>#ছোটগল্প
অপেক্ষা

এক পশলা বৃষ্টির অপেক্ষায় বানুর জীবনটা এভাবেই কেটে গেল।
ভরসন্ধ্যায় গাঁয়ের ওপ্রান্তে বুড়ো বটের মাথায় ঘন মেঘের আড়ালে সূর্যের বিরক্তি।
মনে হতো, হারু ব্যাপারীর ছাইরঙা শালটা কেউ টাঙ্গিয়ে দিয়েছে, 
ঠিক যেমন দিয়েছিল বানুর বিয়েতে।
চ্যালারা লাঠি হাতে পাহাড়ায় ছিল।
লাঠির মাথায় ঝুলে ছিল অসহায় বাবার অপারগতা। 
বানুর তবু কপাল ভালো।
চাইলে হারু ব্যপারী কত কিছুই করতে পারত।
হারু ব্যাপারীর মেহেদী লাগানো লালচে চুল তেল চকচক করছিল বানুর লাল গাইটার মতো।
চাদরের দুই পাড়ে দুই জীবন মওলানার যুগপুরনো কেরামতিতে এক হয়।
মাত্র একবছর আগে বানু আর মতিনের দুটো হাত সে এভাবেই এক করেছিল।
সে কুৎসিত রাতটা আরও বীভৎস হতে পারত।
বানুর তবু কপাল ভালো, হারু ব্যাপারী মানুষ ভালো।
সে রাতেই বানুকে সে গেঁরে দিতে পারত মধুমতির চরে, যেভাবে মতিনকে দিয়েছিল। 
আজও বানু চরের বুকে কান পেতে মতিনের আর্তনাদ শোনে।
যেদিন মতিনের শক্ত মুঠোয় বানুর কাঁচের চুড়ি ঝুরঝুরিয়ে পড়েছিল নৌকার পাটাতনে, দুটো হৃৎপিন্ডের ধুকপুকানি হারিয়ে গিয়েছিল ভাঙ্গা ছৈয়ের নিচে, সেদিনও মতিনের বুকে কান পেতে ছিল সে ভালোবাসার আকুতি শুনবে বলে।
সেই আকুতির ভার বানু আজও বয়ে চলে।
হারু ব্যাপারী টের পায়, চোখে ভেসে ওঠে মতিনের ভয়ার্ত অসহায় মুখ।
কুৎসিত হাসিতে ফেটে পড়ে।

আজ মধুমতিতে বান ডেকেছে, ধরণির সব কলুষ তলিয়ে যাবে।
মধ্য রাতে হারু ব্যাপারীর চিৎকারে ঘুম ভাঙ্গে বানুর।
সিন্দূক কাঁধে ছুটছে সে।
বানু হাসে।
আজ তার দিন।
মতিন যে নিতে এসেছে তাকে।
অন্ধকারে হাত ধরে কে যেন তাকে টেনে নিয়ে যায় ভাঙ্গনের পথে।
বানু নিশ্চিত নির্ভরতায় নিজেকে সঁপে দেয় জলের কাছে, মতিনের কাছে।
বিজলির আলোয় মেহেদী রাঙ্গা চুলের এক ঝলক চোখে পড়ে বানুর, জলের তোড়ে ভেসে চলেছে।
চেতনা ফিরলে দেখে বটগাছটার ডালে ঝুলে রয়েছে তার অসার দেহ।
মতিনের উপরে বড্ড অভিমান হয় তার।
কেন তাকে ফেলে গেল?
দিন গেলেই টের পায় শরীরে তার অন্য ভার।
পেটটা দিনকে দিন ফুলে ফেঁপে ওঠে।
মতিন আবার আসে, &quot;এই ভার যে তোর বাইতেই হবে রে, বানু!&quot;
তীব্র অস্বীকৃতিতে ঘাড় নাড়ে বানু। 
ধারালো হেঁসে দিয়ে ঝেরে ফেলতে চায় শরীরের সে ভার।
মতিন ওকে শক্ত করে জাপটে ধরে।
চোখের জলে বালিশ ভেজে।
সময় হলো। 
মতিন আজ আবার এসেছে। 
বানু বিদায়ের প্রস্তুতি নেয়। 
মধুমতির পথে পা বাড়াতেই চটুল শিশু ছুটে এসে জড়িয়ে চুমু খেয়ে বলে, &quot;কই যাও মা, আমারে থুইয়া!&quot;
বানু টলমল করে।
মতিন হাসে।
মেঘ জমে মধুমতির বুকে।
জলের বুকে তার ছায়ায় দিগন্ত বিলীন হয়।
সে মেঘে শুধু অন্ধকার থাকে আকাশ ছেয়ে।
সে বন্ধ্যা মেঘে কখনও বৃষ্টি নামেনা।
আর সেই সীমাহীন দিগন্তে হাসতে হাসতে বিলীন হয় মতিন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/8641/</link>
				<pubDate>Thu, 22 Apr 2021 13:53:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ছ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ছ</a>োটগল্প<br />
অপেক্ষা</p>
<p>এক পশলা বৃষ্টির অপেক্ষায় বানুর জীবনটা এভাবেই কেটে গেল।<br />
ভরসন্ধ্যায় গাঁয়ের ওপ্রান্তে বুড়ো বটের মাথায় ঘন মেঘের আড়ালে সূর্যের বিরক্তি।<br />
মনে হতো, হারু ব্যাপারীর ছাইরঙা শালটা কেউ টাঙ্গিয়ে দিয়েছে,<br />
ঠিক যেমন দিয়েছিল বানুর বিয়েতে।<br />
চ্যালারা লাঠি হাতে পাহাড়ায় ছিল।<br />
লাঠির মাথায় ঝুলে ছিল অসহায় বাবার অপারগতা।<br />
বানুর তবু কপাল ভাল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-8641"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/8641/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>