Profile Photo

mahamuda khaunOffline

  • mahamuda
  • Profile picture of mahamuda khaun

    mahamuda khaun

    4 years ago

    #লাল_মোরগের_আপ্যায়ন
    #মাহামুদা_খাতুন
    আব্দুর রহমান একজন গরীব স্কুল মাস্টার। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে সে। তার বাবা আব্বাস আলি একজন দীনদার ব্যক্তি ছিলেন। ছোটবেলা থেকে তাকে সততার উপর বড় করেছেন। বলতেন কখনও অন্যায়ের সাথে আপোষ করবিনা। কারণ অন্যায়কে সমর্থন করাও একধরণের অন্যায়।
    আব্বাস আলির অবস্থা ভালই ছিল। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে মৌসুমি ফসল যা হত তা দিয়েই তার দিন ভাল ভাবেই চলে যেত। গরীব আত্মীয় ও দুস্থ প্রতিবেশিরাও তার দয়া থেকে বঞ্চিত হতোনা। হঠাৎ জমিদারের নজর পড়ল তার জমির উপর। সহজ সরল আব্বাস আলির সরলতার সুযোগ নিয়ে মসজিদ সহ মাদ্রাসা করবে বলে প্রায় ১০ বিঘা জমির মধ্যে অর্ধেক জমিই লিখে নিল। নেওয়ার সময় বলল, আল্লাহ্‌র ঘরের পেছনে খরচ করলে আল্লাহ্‌ই চালাবে, সাথে দুনিয়া ও আখিরাতের নেকী হাসিল হবে। সরল মনা আব্বাস তার কথা বিশ্বাসও করলো। কিন্তু বছর ঘুরলেও নির্ধারিত মসজিদের দেখা মিলল না। এদিকে নির্বুদ্ধিতার কারণে এতোগুলো জমি হারিয়ে আর্থিক অনটনে পড়ে গেলেন তিনি। এস এস সি পাশ করার পরে আব্দুর রহমানের লেখাপড়া চালানোই কষ্টকর হয়ে দাড়ালো। আব্বাস আলি অতি শোকে তিনি পাথর হয়ে গেলেন। তারপর হঠাৎ একদিন হৃদ-রোগে আক্রান্ত হয়ে পরপারে পাড়ি জমালেন।
    বাবার মৃত্যুর পর তার মা হোসনে আরা নিজের বোনের মেয়ে তাহেরা সুলতানার সাথে আব্দুর রহমানের বিয়ে দেয়। তখন তার বয়স সবে উনিশ বছর। ছাত্র পড়িয়ে যে টাকা উপার্জন করতো তা দিয়েই সে তার এইস এস সির পড়ালেখা শেষ করে ডিগ্রী ভর্তি হয়েছে। সম্পদের মধ্যে বাবার রেখে যাওয়া পাঁচ বিঘা জমি আর তাদের মাথা গোঁজার ভিটে বাড়িটাই অবশিষ্ট ছিল। দুই বছরের মাথায় তাদের কোল জুড়ে ফুটফুটে একটা মেয়ে হল। আব্দুর রহমানের চোখ পানিতে ভরে গেল। মনে পড়ে গেল তার বাবার কথা। তার বাবা আব্বাস আলি মেয়ে খুব পছন্দ করতেন। বলতেন আমদের সমাজে কন্যাসন্তান হলে মানুষ মুখ মলিন করে অথচ কোরআনে আল্লাহ্‌ তা’আলা কন্যা সন্তান হওয়াকে সুসংবাদ বলেছেন। (সূরা নাহল,আয়াত : ৫৮-৫৯)
    আব্বাস আলি বলত, ‘আমার যদি একটা নাতনি হয় তার নাম রাখব ফাতিমা’
    আব্দুর রহমান তাই মেয়ের নাম রেখে দিলেন ফাতিমা।
    হোসনে আরা বেগমের দুই চোখের মণি যেন নাতনি ফাতিমা। কিছুতেই চোখের আড়াল করতে চাননা।
    দেখতে দেখতে তিন বছরে পা দিল ছোট ফাতিমা। তখন তাহেরা সুলতানার কোল জুড়ে একটা ছেলে সন্তান আসলো। আব্দুর রহমান তার নাম রাখল আব্দুল্লাহ্‌ কারণ তার বাবা বলেছেন ছেলে হলে অবশ্যই নাম রাখবি ‘ আব্দুল্লাহ’। কারণ নামসমূহের মধ্যে আল্লাহ্‌র কাছে প্রিয় নাম প্রিয় হচ্ছে- আবদুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ্‌র বান্দা ও আব্দুর রহমান অর্থাৎ রহমানের বান্দা
    এজন্য তার বাবা তার নাম আব্দুর রহমান রেখেছে এবং নাতির নাম আব্দুল্লাহ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
    স্ত্রী, মা আর দুই সন্তান ফাতিমা আর আব্দুল্লাহকে নিয়ে ভালই কাটছিল আব্দুর রহমানের দিন।
    ফাতিমা আর আবদুল্লাহ্‌ এখন স্কুলে যায়। ফাতিমা প্রথম এবং আবদুল্লাহ্‌ শিশু শ্রেণিতে পড়ে।
    হঠাৎ একদিন ফাতিমা দাদুর কাছে বায়না ধরলো, ‘ দাদু আমাকে একটা পাখি কিনে দাওনা, আমি পাখি পুষবো’
    নাতনীর কোন বায়না তার কাছে ফেলনা না। সঙ্গে সঙ্গে আব্দুর রহমানকে দিয়ে বাজার থেকে ছয়টা মুরগীর বাচ্চা এনে দিল।
    পড়লেখার বাইরে এখন ওদের কাজ মুরগীদের দেখাশুনা করা।
    একদিন আব্দুল্লাহ একটা মুরগীর বাচ্চা আদর করতে গিয়ে একটা বাচ্চা মেরেই ফেলল। ফাতিমা তো কাঁদতে কাঁদতে অস্থির গেল। অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে তারপর ঠাণ্ডা করা হল।
    দেখতে দেখতে শেষপর্যন্ত অসুখে মরে, বিড়ালে খেয়ে আর মাত্র একটা লাল মোরগের বাচ্চা বেচে থাকল।
    দিন দিন লাল মোরগটা তাদের দুই ভাইবোনের চোখের মণি হয়ে দাড়ালো।
    দুজনেই স্কুলে যাওয়ার সময় মোরগের সাথে দেখা করে, স্কুল থেকে এসে মোরগের সাথে দেখা করে আর যেদিন ছুটি থাকে সেদিনতো কথাই নাই, মোরগের সাথেই কাটে দিনের বেশিরভাগ সময়।
    বাড়ির উঠানে মোরগটার সাথে খেলাধুলা করতে আবদুল্লাহর খুব পছন্দ। মাঝে মাঝে মোরগটাও ওদের সাথে মজা করার জন্য লুকিয়ে থাকে।
    একদিন তো কি অবস্থা!
    কোথাও মোরগটাকে পাওয়া যাচ্ছেনা। কেঁদে কেটে দুই ভাইবোন নাওয়া খাওয়া বন্ধ করে দিল। মোরগ না পাওয়া পর্যন্ত তারা খাওয়া দাওয়া করবেনা বলে জানিয়ে দিল।
    হোসনে আরা বেগম তো চিন্তায় পড়ে গেলেন। কোথায় খুঁজবেন মোরগটাকে? মোরগ না পেলে তো তার আদরের নাতি নাতনি খাওয়া দাওয়া করবেনা।
    খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে গেল সবাই। শেষমেশ মোরগটা পাওয়া গেল ফাতিমার বিছানার কাঁথার নীচে।
    এভাবেই চলছিল আব্দুর রহমানের সুখের সংসার। এদিকে দিন দিন হোসনে আরা বেগমের শরীর খারাপ হতে শুরু করেছে। প্রতিদিন রাতে গাঁ কাপিয়ে জ্বর আসে। গ্রামের ডাক্তারের পাঠ চুকিয়ে শহরে নিয়ে যাওয়া হল। চিকিৎসা করতে গিয়ে বাবার কাছ থেকে পাওয়া শেষ ধানি জমিটাও বিক্রি করে দিতে হল তাকে। কিন্তু শেষ অব্দি হোসনে আরা বেগমকে আর বাঁচানো গেল না। মারা যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে ক্যানসার ধরা পড়ল, যখন আর করার কিছুই ছিল না।
    ধানি জমি থেকে প্রতি বছর যা ধান পেত আব্দুর রহমান, তা দিয়েই তাদের বছর চলে যেত, আবার বাবার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা অনুযায়ী তার থেকে গরীবদেরকেও দিতে ভুলতনা। কিন্তু মায়ের চিকিৎসার জন্য জমিটা বিক্রী করার পর এখন শুধু সামান্য বেতনের টাকাই সম্বল।
    এখন আর বাচ্চাদের আগের মত ভাল খেতে দিতে পারেনা আব্দুর রহমান। স্ত্রী তাহেরা সুলতানার চরিত্র তাকে অবাক করে। এত কষ্টেও তার মুখ থেকে কখনও হাসি বিলীন হয়না।
    একদিন আব্দুর রহমান স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন, তাহেরা, আমি যে ঠিকমত বাচ্চাদের আর তোমাকে খাওয়াতে পারিনা, তুমি কি আমার উপর রাগ হওনা? তুমি সারাক্ষণ এতো হসিখুশি থাকো কীভাবে?
    তাহেরা সুলতানা বলল,রাগ করবো কেন? এ অবস্থার জন্য তো তুমি বা আমি দায়ী না। এটাই আমাদের জন্য বরাদ্দ তাকদীর। সকল অবস্থায় শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ।
    ‘মু’মিনের অবস্থা ভারী অদ্ভুত। সকল কাজই তার জন্য কল্যানকর। মু’মিন ছাড়া অন্য কেউ এই কল্যান লাভ করতে পারেনা। তারা সুখ-শান্তি লাভ করলে শুকরিয়া আদায় করে আর অস্বচ্ছলতা বা বিপদে মুসীবতে সবর করে। সবই তার জন্য কল্যাণকর। এটা হাদিসের কথা।
    ফাতিমার এখন বয়স সাত বছর শেষ হয়ে আট চলছে। প্রতিদিন ভোরে তার বাবা তাকে সালাত আদায়ের জন্য ঘুম থেকে উঠিয়ে দেয়। কিন্তু মাঝে মাঝে সে নিজেও মোরগের ডাক শুনে ঘুম থেকে উঠে পড়ে
    অভাবের কারণে ছেলেমেয়েদের তেমন ভাল কিছু খাওয়াতে না পারলেও ওদের কোন অভিযোগ নেই। তার স্ত্রী তাহেরা বেগম সন্তানদের সবসময় সবরের শিক্ষা দেয়।
    এইতো সেদিন আব্দুল্লাহর খুব ইচ্ছা হল গোস্ত খাওয়ার কিন্তু আব্দুর রহমানের সাধ্যে কুলালোনা। ধার করে খাওয়ানো তার একদমই পছন্দ না তাই ধারও করলেননা। আব্দুর রহমান বললেন,তাহলে মোরগটার তো বয়স হয়ে গেছে, ওকে জবাই করে দেই। পরে না হয় সুযোগ হলে আর একটা কিনে দিব।
    দুই ভাইবোন একসাথে বলে উঠলো থাক আমাদের গোস্ত খাওয়া লাগবেনা। আমরা আমাদের প্রিয় মোরগের গোস্ত খেতে পারবোনা।ওর যখন মরার সময় হবে মরে যাবে।

    একদিন রাতের ঘটনা। বাচ্চারা খেয়ে ঘুমিয়ে গেছে।আব্দুর রহমান আর তাহেরা সুলতানা ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমনসময় তাদের বাসায় মেহমান এসে হাজির। যেন তেন মেহমান না খোদ আব্বাস আলি অর্থাৎ আব্দুর রহমানের বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
    এসেই ডাকল, আব্দুর রহমান, বাড়িতে আছো নাকি?
    জি আছি, আপনি কে বলছেন?
    আমি তোমার বাবার বাল্যবন্ধু, গিয়াস উদ্দিন।
    আব্দুর রহমান দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসল। অন্ধকারে সামনে দাঁড়ানো লোকটা চেনার চেষ্টা করলো।
    গিয়াস উদ্দিন হেসে বলল, কি অবাক হলে কোনদিন দেখনি বলে? চিনতে পারছোনা তো? তোমার চেনার কথাও না। তুমি তখন অনেক ছোট, এই ধর সাত কি আট বছর তখন আমি এই গ্রাম ছেড়ে চলে বিদেশ চলে যাই। তারপর আর তোমার বাবার সাথে আমার দেখা হয়নি। আব্বাস আমার খুব ভাল বন্ধু ছিল। এখন গ্রামে আমাদের কেউ থাকেনা। সবাই জমিজমা বিক্রি করে কেউ শহরে, আবার কেউ বিদেশে স্থায়ী নিবাস গড়েছে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললো,
    দেশে এসে খুব গ্রামের জন্য টান অনুভব করলাম তাই চলে এলাম। ভাবলাম আব্বাসের সাথেও দেখা হবে আবার গ্রামও ঘোরা যাবে। কিন্তু এখানে এসে আব্বাসের মৃত্যুর খবর শুনে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। তোমরা যদি কিছু মনে কর তাহলে আমি রাতটা এখানে কাটিয়ে সকালেই চলে যেতাম।
    আব্দুর রহমান কিন্তু গিয়াস উদ্দিনকে ঠিকই চিনেছে। সাত আট বছর বয়সে দেখা মানুষকে মনে থাকে। তাছাড়া তার স্মরণশক্তিও আলহামদুলিল্লাহ্‌ প্রখর। একবার কাউকে দেখলে আর সহজে ভোলেনা।
    আব্দুর রহমান বলল, না চাচা আমরা বিরক্ত হব কেন? আপনাকে দেখে খুব খুশি হয়েছি। বাবা-মা মারা গেলে তার আত্মীয় ও বন্ধুদের সাথে সদাচার করা সন্তানের কর্তব্য। বলতে পারেন এক প্রকার আদেশ। আমি অন্য কথা ভাবছিলাম। তারপর বিনয়ের সাথে বলল, আপনি নিশ্চয় ক্ষুধার্ত। কিন্তু আমাদের রাতের খাবার শেষ হয়ে গেছে। আপনি যদি আমাদের কিছু মনে না করতেন তাহলে আমরা চটজলদি আপনার খাবারটা তৈরি করে দিতে পারতাম।
    না না আমার খাবারের জন্য তোমাদেরকে ব্যস্ত হতে হবেনা।
    কি বলেন চাচা, আপনি হলেন আমার বাবার বন্ধু, আপনার সর্বোচ্চ যত্ন করা আমাদের দায়িত্ব। আপনি বিশ্রাম নেন। আমাদের বেশিক্ষণ লাগবেনা।
    আব্দুর রহমান স্ত্রীকে এসে বলল, বাসায় তো রান্না করার মতো কিছুই নেই, চল আমরা মোরগটা জবাই করে ফেলি কারণ এ ছাড়া আমদের আর কোন উপায় নেই।
    তাহেরা বলল, আমিও তোমাকে তাই বলব ভাবছিলাম। কারণ মেহমানদারী ইসলামের এক অনন্য সৌন্দর্য।
    তারপর তারা দুজন আলাহ্‌র নাম নিয়ে মোরগটাকে জবাই করে ফেলল।
    খাবার পেয়ে গিয়াস উদ্দিন এমন গোগ্রাসে খেল মনে হয় অনেকদিন তিনি খাবার খাননি।খাওয়া শেষে বললেন নিশ্চয় বাড়ির পোষা মুরগী? গোস্তটা খুবই সুস্বাদু। রান্নাটাও খুব মজা হয়েছে। তারপর তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন।
    সকালে ঘুম থেকে উঠে মোরগের ডাক শুনতে না পেয়ে ফাতিমা তার মাকে জিজ্ঞাসা করল, মা, আজকে আমার মোরগের কোন ডাক শুনলামনা। ভাবলাম হয়তো আগে ডেকেছে, এখন চুপ আছে। কিন্তু ওর খোপে গিয়ে দেখি দরজা খোলা আর ভেতরে মোরগটা নেই। চোরে নিয়ে গেল নাকি?
    মেয়ের উদ্বেগ দেখে তাহেরা তার মাথায় হাত দিয়ে শান্ত করলেন। তারপর মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললেন, এখন আমি তোমাকে এমন একটা কথা বলবো তা শোনার পর তুমি মন খারাপ করবেনা কিন্তু।
    মায়ের কথা শুনে তার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকলো ফাতিমা।
    মেয়ের কপালে একটা চুমু দিয়ে বললেন, জানো কাল রাতে আমাদের বাসায় তোমার দাদা ভাইয়ের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু এসেছে। উনি ক্ষুধার্ত ছিলেন। বাসায় উনাকে রান্না করে খাওয়ানোর মতো কিছু ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে তোমার আদরের মোরগটা জবাই করে রান্না করে তাকে আপ্যায়ন করেছি।
    মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো ফাতিমার। তার শখের মোরগটা এখন খাদ্য। কীভাবে থাকবে সে মোরগটা ছাড়া। কান্নায় তার চোখ ভিজে আসছে কিন্তু মাকে বুঝতে দিতে লজ্জা করছে।
    নামাজের বিছানায় বসে ভাবছে ফাতিমা, তার দাদীর স্মৃতিটা আর থাকলোনা। মাথায় মায়ের হাতের স্পর্শে পেছন ফিরে তাকাল।
    মোরগটার জন্য মন খারাপ না? বাসায় মোরগটা ছাড়া আর কিছু ছিলনা। এমন অবস্থায় মেহমানকে খাওয়ানোর জন্য তুমি কি করতে? মেহমানদারিতা ইসলামের সৌন্দর্য। তারপর আবার বললেন, দেখ মা মোরগটা তো একদিন মরতই। কিন্তু তুমি তোমার প্রিয় মোরগের মাধ্যমে কত সুন্দর আল্লাহ্‌কে সন্তুষ্টু করতে পারলে।
    আজকে তোমাকে মেহমানদারীতা নিয়ে এক অসাধারণ গল্প শোনাই, শুনবে?
    ফাতিমা কিছুটা ধাতস্থ হলো। বলল, শুনবো।
    একদিন একজন লোক রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আমার খুব ক্ষুধা পেয়েছে। তিনি তার স্ত্রীদের নিকট খাবারের সন্ধানে লোক পাঠালেন। তারা বলল, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য সহ পাঠিয়েছেন। আমাদের নিকট পানি ব্যতীত অন্য কোন খাদ্য নেই। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে এর মেহমানদারী করবে? আল্লাহ তার প্রতি দয়া করবেন। তখন আনছারী সাহাবী আবু তালহা (রাঃ) বললেন, আমি করব। অতঃপর তিনি তাকে সাথে নিয়ে তার স্ত্রীর নিকট গেলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহর মেহমানকে সম্মান কর। কোন খাদ্য জমা রাখবে না। স্ত্রী বলল, আল্লাহর কসম! শিশুদের জন্য রাখা খাদ্য ব্যতীত আমাদের নিকট কোন খাদ্য নেই। আবু তালহা স্ত্রীদের না খাইয়ে ঘুমা পাড়িয়ে দিতে বললেন। তিনি মেহমানকে নিয়ে খেতে বসার সময় কৌশলে বাতি নিভিয়ে ঘর অন্ধকার করে দিলেন এবং নিজেও তার সাথে খাওয়ার ভান করলেন। কিন্তু সে রাতে তারা সবাই ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত্রি যাপন করল। অতঃপর সকালে সে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট গমন করলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, গত রাতে মেহমানের সাথে তোমাদের উভয়ের কর্মকান্ড দেখে আল্লাহ হেসেছেন বা অবাক হয়েছেন এবং আয়াত নাযিল করেছেন। (হাশর ৫৯/৯)। (বুখারী হা/৩৭৯৪)।
    ফাতিমা মুগ্ধ হয়ে তার মায়ের কথা শুনলো। তার চোখ দিয়ে পানি পড়ে গেল। আল্লাহকে শতবার ধন্যবাদ দিতে লাগল এমন বাবা মায়ের জন্য।
    সকাল বেলা নাস্তা করে গিয়াস উদ্দিন চলে গেছে। ফাতিমা উঠানে বসে বসে আদরের ছোট ভাইকে মায়ের কাছে থেকে শোনা অসাধারণ মেহমানদারীর গল্পটা যখন আবদুল্লাহ্‌কে শোনালো সেও মূহুর্তের মোরগের শোক ভুলে গেল।
    ফাতিমার মনে এক অসাধারণ অনুভূতি কাজ করছে। যখনই তাদের মন খারাপ হয় বাবা-মা ঠিক সময়ের উপযোগী একটা গল্প শুনিয়ে তাদের মন ভালো করে দেয়। এতো অপূর্ব তাদের ধর্ম। নাহ্‌ ধর্ম বলা যাবেনা মা বলেছে ইসলামকে ধর্ম না বলে দ্বীন বললে এর সঠিক মর্যাদা হয়।
    কি নেই ইসলামে !স্কুল খুললে এই মেহমানদারীতার গল্প সবাইকে শোনাতে হবে।
    সমাপ্ত

Skip to toolbar