Profile Photo

Pritam BiswasOffline

  • Pritam-Biswas
  • Profile picture of Pritam Biswas

    Pritam Biswas

    1 year, 7 months ago

    কসমোলজি
    প্রীতম বিশ্বাস

    কসমোলজি, বা ‘মহাবিশ্ববিদ্যা’, মূলত মহাবিশ্বের উৎপত্তি, তার বিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গবেষণা। এক কথায়, এটি সেই বিজ্ঞান যা আমাদের বলে দেয়, এই বিশাল মহাবিশ্ব কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, কীভাবে চলছে, এবং এর শেষ কোথায় হতে পারে। সহজ ভাষায় বললে, এটি আমাদের আশেপাশের সবকিছু—আকাশের তারা, গ্যালাক্সি, গ্রহ, এমনকি সময় এবং স্থানকে নিয়েও চিন্তা করে। এটি ঠিক যেন আমাদের জীবন নিয়ে ভাবনা করার মতো ব্যাপার, তবে এখানে বিষয়টা আরও অনেক বড়—পুরো মহাবিশ্বের জীবন নিয়ে ভাবনা। চলুন, এর কয়েকটি মূল ধারণা উদাহরণ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি।

    প্রথমে আসি ‘বিগ ব্যাং তত্ত্বে’। ধরা যাক, আপনি একটি ছোট্ট বেলুন হাতে নিয়েছেন। সেটাতে একফোঁটা বাতাসও নেই। এখন আপনি বেলুনটাতে বাতাস ঢালতে শুরু করলেন। প্রথমে সেটা খুব ছোট ছিল, কিন্তু ক্রমশ বড় হতে থাকল। আমাদের মহাবিশ্বও অনেকটা এরকম। বিজ্ঞানীরা বলেন, প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্বও একটি ক্ষুদ্র বিন্দু থেকে বিস্ফোরণের মতো ঘটনার (যাকে ‘বিগ ব্যাং’ বলে) মাধ্যমে শুরু হয়। সেই বিস্ফোরণ থেকেই মহাবিশ্বের সমস্ত বস্তু ও শক্তি সৃষ্টি হয় এবং তা ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। যেমন আপনি বেলুন ফোলাতে থাকলে সেটি বড় হয়, ঠিক তেমনি আমাদের মহাবিশ্বও ‘বিগ ব্যাং’-এর পর থেকে ক্রমাগত বড় হচ্ছে।

    এখন ধরুন, আপনি একটি ঘরে আছেন যেখানে আলো নিভানো। আপনি হয়তো চোখের সামনে কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না, কিন্তু ঘরের চারপাশে চলাফেরা করলে আসবাবপত্রের সঙ্গে ধাক্কা লাগতে পারে, আর তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে ঘরে কিছু আছে। আমাদের মহাবিশ্বেও এমন কিছু অদৃশ্য পদার্থ রয়েছে, যেগুলো সরাসরি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু তারা অন্য বস্তুগুলোর ওপর প্রভাব ফেলে। বিজ্ঞানীরা এদের নাম দিয়েছেন ‘ডার্ক ম্যাটার’। মহাবিশ্বের বেশিরভাগ অংশই এই ‘ডার্ক ম্যাটার’ দিয়ে তৈরি। এর পাশাপাশি আছে ‘ডার্ক এনার্জি’, যেটা আরেকটি রহস্যময় শক্তি। এই ‘ডার্ক এনার্জি’ মহাবিশ্বকে ক্রমাগত দ্রুত গতিতে প্রসারিত করতে সাহায্য করে। ভাবুন, আপনি একটি গাড়ি ধাক্কা দিয়ে ঠেলছেন, সেই ধাক্কা দেওয়ার শক্তিটা যেন ‘ডার্ক এনার্জি’-র মতো।

    এরপর আসি ‘কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড’ বা সিএমবি নিয়ে। ধরুন, আপনি একটি পাত্রে দুধ ফুটিয়েছেন। যখন দুধ ঠাণ্ডা হয়, তখন পাত্রের ওপর একটা সর পড়ে। এখন দুধের সর দেখে আপনি বুঝতে পারেন যে এটা আগে গরম ছিল। তেমনি, আমাদের মহাবিশ্বের শুরুর দিকেও অনেক তাপ ছিল, আর সেই তাপের ছাপ এখনো মহাবিশ্বে থেকে গেছে। ‘সিএমবি’ হচ্ছে সেই প্রাচীন তাপের চিহ্ন, যা বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের প্রথম দিকে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বোঝার জন্য ব্যবহার করেন।

    আরেকটি মজার ব্যাপার হলো ‘মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ’। ১৯২০-এর দশকে বিজ্ঞানী এডউইন হাবল দেখান যে আমাদের মহাবিশ্ব ক্রমাগত বড় হচ্ছে। ধরুন, আপনি একটি রাবারের টুকরো হাতে নিয়েছেন এবং সেখানে কিছু বিন্দু এঁকেছেন। এখন যদি আপনি সেই রাবারটা টানতে থাকেন, দেখবেন বিন্দুগুলো একে অপর থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। মহাবিশ্বের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই ঘটছে। গ্যালাক্সিগুলো একে অপর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, আর মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে।

    এবার ভাবুন, মহাবিশ্বের আকার কেমন হতে পারে? এটি কি সমতল, গোল, নাকি উন্মুক্ত? এর উত্তর দেওয়া একটু কঠিন, কারণ এর জন্য আমাদের মহাবিশ্বের মোট ঘনত্ব জানা দরকার। বর্তমান পর্যবেক্ষণ থেকে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে মহাবিশ্ব সম্ভবত সমতল। কিন্তু এর আরও বিশদ গবেষণা চলছে।

    ‘মাল্টিভার্স ধারণা’ আরেকটি আশ্চর্য বিষয়। আপনি একটি বাগানে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু আপনার চারপাশে আরও অনেক বাগান থাকতে পারে যেগুলো আপনি দেখতে পাচ্ছেন না। ‘মাল্টিভার্স তত্ত্ব’ বলে, আমাদের মহাবিশ্বও হয়তো অনেকগুলো মহাবিশ্বের একটি মাত্র। অর্থাৎ, একাধিক মহাবিশ্ব থাকতে পারে, এবং আমরা শুধু আমাদেরটিকেই দেখতে পাই। যদিও এই ধারণা এখনো প্রমাণিত নয়, তবে বিজ্ঞানীরা এটি নিয়ে ভাবছেন এবং গবেষণা চালাচ্ছেন।

    সুতরাং, কসমোলজি হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা আমাদের পুরো মহাবিশ্বের গল্প বলে—যেভাবে একটি বইয়ের শুরু, মাঝখান, এবং শেষ থাকে, সেভাবে আমাদের মহাবিশ্বেরও এক অনন্য কাহিনী রয়েছে।

    Bibliography

    1. Hawking, Stephen. A Brief History of Time. Bantam Books, 1988, pp. 15-36.

    2. Weinberg, Steven. The First Three Minutes: A Modern View of the Origin of the Universe. Basic Books, 1977, pp. 22-45.

    3. Carroll, Sean. The Big Picture: On the Origins of Life, Meaning, and the Universe Itself. Dutton, 2016, pp. 59-82.

    4. Peebles, P. J. E. Principles of Physical Cosmology. Princeton University Press, 1993, pp. 123-145.

    5. Greene, Brian. The Fabric of the Cosmos: Space, Time, and the Texture of Reality. Alfred A. Knopf, 2004, pp. 85-101.

Skip to toolbar