-
• 4 years, 9 months agoতানভীর আলম হীরা• 4 years, 9 months ago
মানবতার দেয়াল
যখন প্রথম এটার প্রচলন ঘটে আমাদের দেশে, আমি টিটকারির ছলে বলেছিলাম, চোরের দেশে আবার মানবতার দেয়াল।
অত:পর, গতকাল, কোন এক এলাকার মানবতার দেয়াল এর পাশের চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলাম। দেখছি, মানবতার দেয়ালে শীতকালের পোশাক উঠেছে। দুইজন রিকশাওয়ালা এবং একজন ভিক্ষুক পছন্দ করে নিচ্ছে। আর একজন দোকানদার এর মত মাপ নিচ্ছে।
চা ওয়ালা কে প্রশ্ন করলাম, কাপড় চুরি যায়না? বা রাত হলে কেও কি কাপড় গুলো নিয়ে যায় আবার সকালে নিয়ে আসে এমন?
সে উত্তরে বলল, না এভাবেই থাকে, চুরি যায়না।
আমি বললাম, কি আজব ব্যাপার, কম্বল চোর এর দেশে কাপড় চুরি হয়না??
চা ওয়ালার স্টল এ এক ট্রাফিক পুলিশ ও ছিল, উনি বললেন, ঐ যে একটা ছোট ছেলেকে দেখছেন, যে ঐ মানবতার দেয়ালের ঐ ৩ কাস্টমার এর গায়ে কাপড় পরিয়ে দিয়ে মাপ দেখছে, সে এই এলাকার ছিনতাই কারি, বাস থেকে মোবাইল, নেকলেস নিয়ে দৌড়ে দেয়। বেধম পিটিয়েছিও অনেক। কিন্তু ৩ দিন ধরে দেখছি, এই মানবতার দেয়াল সে পাহারা দিচ্ছে।
রোজ রাতেই আরেক লোক আসে, সে ভাবে সব কাপড় নিয়ে এই দৌড় দিবে। দাঁড়িয়ে থাকে সুযোগ সন্ধানের অপেক্ষায়। কিন্তু কেন যেন সে নেয়না। আমি চেকপোস্ট থেকে উকি দিয়ে দেখি। সে নেয়না। একদিন জিজ্ঞেস করি, কিরে শালার চোর, কাপড় নিবি নিয়া যা, সব নিয়া যা। তোদের জন্যই রাখা। নিয়ে যা।
উত্তরে সে লোক বলল, আমার আব্বার শার্ট টা এখন ও ঝুলানো, কেও নেয়না কেন? না নিয়ে ভালই হয়েছে, আমি রোজ আসি, এই মানবতার দেয়ালে আব্বার শার্ট এর ঝুলে থাকাটা দেখে যাই। মনে হয় সয়ং আব্বা দাঁড়িয়ে আছে। তাকিয়ে থাকি। আমার আব্বা। আমি ই এই শার্ট এখানে ঝুলিয়েছি, পরের দিন ভেবেছিলাম, ফেরত নিয়ে যাই, আব্বার গায়ে এটাই ছিল, আব্বা যেদিন মারা যায়। নিতে এসে নিতে পারিনা, ভাবছি, যতদিন থাকবে আমি শুধু দেখবো, যে এখান থেকে এই শার্ট নিয়ে গায়ে দেবে, আজীবন তাকেও দেখবো, এই অপেক্ষায় দাড়িয়ে থাকি স্যার। 🙂
শেষে, চা ওয়ালা বলল, মানুষ ভাল হয় ভাই, যদি তাকে আপনি ভাল পরিবেশ দিতে পারেন।
এলাকার ছোট্ট একটি অংশ নয়, মানবতার দেয়াল হোক পুরো দেশ।