Profile Photo

মারুফ হুসেইনOffline

  • peranhafish
  • Profile picture of মারুফ হুসেইন

    মারুফ হুসেইন

    4 years, 7 months ago

    ভাড়ায় চালিত-২

    হাতিমঃ তাইলে মন খারাপ করে আছিস কেন? সামনে এক্সাম! টাকা রোজগার করে, মন খারাপ করে থেকে রেজাল্ট ভাল হবে?
    যোহানঃ রেজাল্ট দিয়ে কি হবে? পাশ করলেই হল!
    হাকিমঃ সেই পাশ করার জন্য হলেও তো পড়াশোনা করতে হবে! নাকি?
    যোহানঃ পাশ করার জন্যে যা লাগবে তা পড়া যাবে।
    হাকিমঃ ব্যবসা বন্ধ রাখবি পরীক্ষার কদিন?
    যোহানঃ না। ব্যবসা চলবে। ব্যবসাতে পরিশ্রম কম, রোজগার ভাল। আমার উপরের চাপ অনেক কমে গেছে রে!
    হাকিমঃ দেখ ভাই! যাই করিস না কেন, পড়াশোনা বাদ দিয়ে করিস না।
    যোহানঃ আচ্ছা। দেখা যাবে।

    _______
    কয়েকদিন বাদে সকাল বেলা ঐ মোড়ে গিয়ে বাইক নিয়ে দাঁড়ালো যোহান। খেয়াল করে দেখল, কাছেই আর একজন বাইক চালক দাঁড়িয়ে আছে। যোহান দেরি না করে কাছে গিয়ে বলল, ভাই, উবার নাকি?
    চালকঃ জ্বি, ভাই।
    যোহানঃ এখানে? এখানে তো লোকজন কম!
    চালকঃ এক আপু যায় রেগুলার। এর আগে দুদিন নিয়ে গেছি৷ দেখি আজো পাওয়া যায় কিনা।
    যোহানঃ ভাই এটা আমার হৃদয়ের মামলা। আপনি না থাকলে খুশি হতাম।
    যোহানের বলার ভঙ্গীতে লোকটা হেসে ফেললো। যেতে উদ্যত হয়ে বলল, ঠিক আছে, ভাই। যাচ্ছি।
    লোকটা গেলে যোহান অপেক্ষা করতে লাগল। বেশ কিছুদিন পর আজকে কল আসল। দুরুদুরু বুকে কল রিসিভ করল, বলল, হ্যালো।
    সিমিঃ কালো জ্যাকেট ভাই! আসুন তো!
    যোহানঃ আসছি।
    বাইক নিয়ে কাছে এসে দাঁড়ালে সিমি বলল, আপনি নিয়মিত আসেন না! তাই না?
    যোহানঃ (অভিমানী কণ্ঠে)আমি না আসলেই বা কি! দেশে বাইকারের অভাব নাকি!
    যোহানের কণ্ঠে অভিযোগ উথলে ওঠায় সিমির বুকের ভেতর থেকে একটা শিরশিরে সুখানুভূতি দমকা হাওয়ার মত উথলে উঠে ওকে নাড়িয়ে দিয়ে গেল। বলা যায়,ও একটা গভীর আত্বতৃপ্তি লাভ করল। কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে তিরস্কার করে মনে মনে বলল, ছি! একটা ড্রাইভারের মান অভিমানে তুই আনন্দ লাভ করছিস? ছি!
    মনে মনে ছি বললেও বাইকে উঠে বসল সিমি।
    কার্জনের হলের সামনে নেমে সিমি ভাড়া দিতে দিতে জিজ্ঞাসা করল, আপনি কি নিয়মিত বাইক চালান?
    যোহানঃ হুম।
    সিমিঃ (তাচ্ছিল্যের সুরে) বাইক ড্রাইভার হিসেবে আপনি ভাল! আমাকে প্রতিদিন আনতে পারবেন? একই সময়ে!
    যোহানঃ হুম।
    সিমিঃ শুধু হুম হুম করছেন কেন? আপনার নাম্বারটা দেন।
    নাম্বার নিয়ে সিমি হন হন করে হেটে গেল। মনে মনে নিজেকে বলল, শালী, তোর এত শখ কোথ থেকে আসলো? একটা মোটর বাইকারকে লাই দিয়ে মাথায় তুলতেছিস! খা…. মা…… নিজেকে গালিগালাজ করলেও সিমি অনুভব করলো এক জোড়া চোখ তার পিঠ আর নিতম্বে আবদ্ধ হয়ে আছে। একটা অদ্ভুত শিরশিরে অনুভুতি মেরুদণ্ড বেয়ে নীচে নেমে, তলপেট এসে বুকের ভেতর এসে উঠলো। সে এক জোড়ালো অনুভূতি! এই অনুভুতিটা তাকে গভীর এক তৃপ্তি এনে দিল। চাইলেই এই অনুভুতি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না।

    যোহান তাকিয়েই রইল। যতক্ষণ দেখা যায় তাকে। একবারো পিছে ঘুরে তাকালো না মেয়েটা। আনমনে যোহান বলল, আমি চাইনা সে একবার ঘুরে তাকাক, আমি চাই সে প্রতিদিন আমার বাইকের পেছনে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসুক।

    _________
    এক্সাম শেষ করে যোহান রাস্তার পাশের চত্ত্বরে ঘাসের উপর এসে বসেছে। হাতিম পাশে এসে বসল।
    হাতিমঃ কিরে! আগে ভাগে বের হয়েছিস! এক্সাম কেমন হল? পাশ হবে?
    যোহানঃ তা হবে।
    হাতিমঃ কতগুলো আন্সার করেছিস?
    যোহানঃ সবগুলোই তো করলাম।
    হাতিমঃ কস কি?
    যোহানঃ আরে সব আন্সার করছি মানেই কি সব হইছে নাকি?
    হাতিমঃ হুহ! আমার কেমন হল জিজ্ঞাস করলি নে?
    যোহানঃ আমার নিজের কেমন হল সে বিষয়েও আমার কোন আগ্রহ নেই, তোরটা তো দূরের ব্যাপার।
    ঠিক এই সময়ে রিমা আর সিমি ওদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। কাছাকাছি আসতেই হাতিম বলল, কিরে! রিমা, সিমি, পরীক্ষা কেমন হল?
    সিমিঃ ভাল নারে!
    হাতিমঃ রিমা?
    রিমাঃ হয়েছে মোটামুটি!
    হাতিমঃ সিমি, ভাল না কেন?
    সিমিঃ হয় নি। পড়া কম হল। তোদের কেমন হল?
    হাতিমঃ হয়েছে মোটামুটি।

    যোহান কোন কথা বলল না।

    মেয়েদুটো কিছুদুর এগিয়ে গেলে রিমা বলল, ভাব দেখেছিস?
    সিমিঃ কার?
    রিমাঃ ঐ যে! যোহান নাকি নাম!
    সিমিঃ কিসের ভাব দেখলি?
    রিমাঃ ও মা! খেয়াল করিস নি! আমাদের সাথে কথাই বলল না!
    সিমিঃ হয়ত এক্সাম খারাপ হয়েছে।
    রিমাঃ ঘোড়ার আন্ডা! এক্সাম খারাপ হয়েছে বলে কথা বলবে না! তবে তোর দিকে কেমন যেন চোরাই দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল।
    সিমিঃ তুই না! কই, আমি তো দেখলাম না!
    রিমাঃ তা তো দেখবিই না।
    সিমিঃ তুই না! বেশি বেশি!ছেলেটা কত ভদ্র! চেহারায় একটা মায়া মায়া ভাব আছে!
    রিমাঃ হ। তুই প্রেম করবি? বলে দেব?
    সিমিঃ তোর মাথায় কি প্রেম ছাড়া কিছু নেই নাকি!
    রিমাঃ হ। আসল কথা বললেই দোষ।
    ঠিক এই সময়ে রাস্তায় সবুজের আগমন।
    রিমাঃ জনাব এসে গেছেন। আমি এখন কাবাব মে হাড্ডি না হয়ে কেটে পরি।
    সিমিঃ এই যাসনে।
    এই কথা না শুনে রিমা কেটে পরল। সবুজ লাজুক ভঙ্গীতে সিমির পাশাপাশি হেটে যেতে লাগলো।

    এদিকে ওদের পাশাপাশি হেটে যাওয়ার দিকে একমনে চেয়ে রইল যোহান!

    হাতিমঃ দেখলি! সবুজের সাথে ওর প্রেম চলছে।
    যোহানঃ (ব্যথিত কণ্ঠে)চলুক না! আমি কি করব চললে!
    হাতিমঃ তুই ওকে পছন্দ করিস না?
    যোহানঃ হুম করি৷ তো?
    হাতিমঃ ওকে জানাবি না?
    যোহানঃ জানানোর কি আছে? আমি তো ওকে ভালবাসি না৷ আর চাই-ও না।
    হাতিমঃ প্রতিদিন যে বাইকে নিয়ে আসিস!
    যোহানঃ ও কাছাকাছি থাকলে ভাল লাগে। তাছাড়া টাকাও তো পাই!
    হাতিমঃ শুধু টাকার জন্যেই?
    যোহানঃ শুধু টাকার জন্যে না! বললাম না! ও কাছাকাছি থাকলে আমার খুব ভাল লাগে৷
    হাতিমঃ এটাই তো প্রেম।
    যোহানঃ প্রেম হলে প্রেম।
    হাতিমঃ তাইলে বলে দেই গে!
    যোহানঃ বেশি বাল পাকনামো করিস না! আমি বলছি তোকে বলতে?
    হাতিমঃ তা বলোস নাই! তয় বন্ধু হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করা উচিৎ না?
    যোহানঃ অত দায়িত্ব পালন করতে হবে না, ভাই। চুপ যা।
    হাতিমঃ হু।

    _____
    যোহানের চলমান বাইকে সিমি বসে আছে। বাইকটি কার্জন হলের সামনে গিয়ে থামলো। ঐ দিন শেষ বারের মত সিমি বুক ভরে মিষ্টি গন্ধটা নিল। আসলে এই গন্ধটার জন্যেই ও নিয়মিত যোহানকে ফোন করে ডেকে নিয়ে বাইকে চরে ক্যাম্পাসে আসে। পারফিউমের নামটা জানা দরকার৷ কিন্তু নিজের ইগোর চাপাচাপিতে আর জিজ্ঞাসা করা হয় না! সিমি বাইক থেকে নেমে হেলমেট খুলতে খুলতে বলল, একটা প্রশ্ন করি?
    যোহানঃ করুন।
    সিমিঃ পারসোনাল প্রশ্ন। অন্য কিছু ভাববেন না।
    যোহানঃ আরে না না! কি ভাববো?
    সিমিঃ আপনি প্রতিদিন একই ড্রেস, একই হেলমেট পরেন কেন?
    যোহানঃ এটা আমার ইউনিফর্ম।
    সিমিঃ মানে?
    যোহানঃ স্কুলের বাচ্চারা যেমন ইউনিফর্ম পরে স্কুলে যায়, আমিও তেমন এগুলো পরে বাইক চালাই।
    সিমিঃ তাই বলে চেহারাটাও দেখাবেন না?
    যোহানঃ আমি অতি নগন্য মানুষ! চেহারা দেখে কি করবেন, ম্যাডাম!
    কথাটা বলে যোহান বাইক টান দেবার উপক্রম করল৷
    সিমিঃ এই শুনুন! লাস্ট একটা প্রশ্ন।
    যোহানঃ বলুন।
    সিমিঃ এটা অত্যন্ত পারসোনাল।
    যোহানঃ সমস্যা নেই।
    সিমিঃ(লাজুক কণ্ঠে) আপনি যে পারফিউম ব্যবহার করেন সেটার নাম কি?
    যোহানঃ তা তো জানি না!
    সিমিঃ অদ্ভুত! জানেন না মানে?
    যোহানঃ আমি আতরটা শিশি হিসেবে কিনে আনি!
    সিমিঃ আতর?
    যোহানঃ হ্যা। আচ্ছা। কাল আপনাকে একটা এনে দেব।
    সিমিঃ ওকে।

    বাইক পার্কিং এ নিয়ে যাবার সময় যোহান মনে মনে বলল, সামান্য একটা আতর! মাত্র ৭০ টাকা দাম! তার প্রতি মেয়ে মানুষের এত আগ্রহ কেন? অদ্ভুত এই মেয়ে মানুষের মন! যাক! এত কিছু বুঝতে গেলে ওর মাথা নষ্ট হয়ে যাবে। এখন অনেক ব্যস্ততা।

    ________
    যোহান চেয়েছিল এক্সামের কটা দিন ভাড়ায় বাইক চালাবে না। কিন্তু একটা ট্রিপ নির্দিষ্ট ছিল। সিমিকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসতে হয়।
    ব্যবসাটা চালু রেখেছে। শাকিল চেয়েছিল পরীক্ষার কদিন বন্ধ রাখবে কিন্তু যোহান আর মজনু রাজী হয় নি; ওরা দুজনে এ কদিন চালাবে; দুজনে ইনভেস্ট করবে; যা লাভ হয় দুজনে ভাগ করে নেবে।

    শেষ পরীক্ষার দিন বাইক থেকে নেমে সিমি যোহানকে বলল, আপনি একটা মিথ্যুক!
    যোহানঃ কিভাবে?
    সিমিঃ আমাকে যে আতর দিয়েছেন ওটা আর আপনি যেটা ব্যবহার করেন সেটা এক না।
    যোহানঃ এক-ই তো! আমি তো এটাই ব্যবহার করি!
    সিমিঃ কিন্তু ওটা হাতের উপর নিয়ে গন্ধ নিলে এক রকম লাগে আর আপনার গায়ে মাখলে অন্য রকম লাগে কেন?
    যোহানঃ (অবাক হয়ে) তাই নাকি! তা তো জানি না! এটা কেন হবে?
    সিমি রেগে গিয়ে বলল, কেন হবে আপনি জানেন! আপনি দুই নম্বরি জিনিস দিয়েছেন আমাকে।। কথাটা বলে সিমি হনহন করে হেটে চলে গেল।

    এক্সাম শেষে রিমা আর সিমি কথা বলতে বলতে হেটে যাচ্ছিল।
    সিমিঃ আচ্ছা রিমা, একটা কথা বল তো!
    রিমাঃ কি?
    সিমিঃ একটা আতর হাতে নিয়ে গন্ধ নিলে একই গন্ধ কিন্তু কেউ গায়ে মাখলে আলাদা গন্ধ! এর কারণ কি?
    রিমাঃ ধুর ছাই! এর কারণ বুঝলি না!
    সিমিঃ না! কি কারণ তুই জানিস?
    রিমাঃ হুম। গায়ে ঘামের গন্ধ থাকে, কাপড় যদি নিয়মিত কাচা না হয় তাহলে ঘামের গন্ধ আর আতরের গন্ধ মিলে নতুন একটা বোটকা গন্ধ হয়ে যাবে!
    সিমিঃ কি বললি? গায়ের গন্ধ?
    রিমাঃ হুম! তুই এসব প্রশ্ন করছিস কেন? কি হয়েছে বলত?
    সিমিঃ আরে কিছু হয় নি!

    এই মুহুর্তে ওরা যে রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছে তার পাশেই মাঠে ঘাসের উপর যোহান বসে আছে। মুখ নিচু করে কি যেন পড়ছে। রিমা ওদিকে তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিল। সিমি যোহানের দিকে তাকিয়ে বলল, এক্সাম কেমন দিলে?
    যোহানঃ (গম্ভীর সুরে) মোটামুটি।
    কথাটা বলে যোহান একটা হাসি দিল। হাসিটা সরলতায় মাখা কিন্তু অত্যন্ত মিষ্টি। হাসিটা সিমির খুব ভাল লেগে গেল। কিন্তু যোহান ফিরতি কোন প্রশ্ন না করায় কথা না বাড়িয়ে সিমি আর রিমা চলে গেল।

    এদিকে যোহান হাফ ছেড়ে বাঁচলো। এতদিন সিমির সাথে কথা বলতে বলতে কণ্ঠটা বেশ পরিচিত হয়ে গেছে। ধরা খেলে বিপদ হত। মেয়েটা কাছে আসলে একটু ভাল লাগা কাজ করে সে কাছে আসাটাই বন্ধ হয়ে যেত।

    যে কোন দিন রেজাল্ট হয়ে যেতে পারে। সবুজ খুব উচ্ছ্বসিত। ডিপার্টমেন্টে প্রথম সেমিস্টারে ওর থেকে একটিভ স্টুডেন্ট ম্যাথ ডিপার্টমেন্টে এবার ভর্তি হয় নি। সবাই ধরে নিয়েছে ও ফার্স্ট হবে। ইন-কোর্স গুলোতে ও এগিয়ে আছে। ওর পরেই রবিন নামের একটা ছেলের অবস্থান। রবিন শুধু রেজাল্ট নয়, সিমির আশেপাশে ঘুর ঘুর করে। মানে সবুজের নাম্বার ওয়ান প্রতিদ্বন্দ্বী!
    এক দিন সবুজ আর সিমি হলের বারান্দায় বেঞ্চে বসে কিছু প্রব্লেম সলভ করছে। কিছু সময় পর পর সিমি নাক সিটকে উঠছে। একটা বোটকা গন্ধ নাকে আসছে। সিমির এরকম ভাব দেখে সবুজ বলল, কোন সমস্যা?
    সিমিঃ না! তেমন কোন সমস্যা না।
    সবুজঃ মনে হচ্ছে একটা সমস্যা ফেস করছ!
    সিমিঃ কিছু মনে করবে না। একটা প্রশ করি?
    সবুজঃ অবশ্যই!
    সিমিঃ না মানে! তুমি কি পারফিউম ব্যবহার করো?
    সবুজঃ ফগ ইউজ করি।
    সিমিঃ এক মিনিট।
    সিমি ব্যাগ থেকে বাইক ড্রাইভারের দেওয়া আতর বের করে সবুজকে দিয়ে বলল, এটা লাগাও তো গায়ে।
    সবুজ বিনা বাক্য ব্যয়ে আতরের শিশি থেকে গায়ে আতর মাখলো। এবং সিমিকে আতরের শিশিটা ফেরত দিল।
    কিছুক্ষণ পর গন্ধ শুকে রিমি মনে মনে বলল, নাহ! সেই গন্ধটা পাওয়া যাচ্ছে না।
    সবুজঃ কি করলে আর কি বুঝলা আগামাথা কিছু মাথায় ঢুকল না।
    সিমিঃ ও তোমার বোঝা লাগবে না।
    _____
    প্রথম সেমিস্টারের রেজাল্ট পাবলিশ হয়েছে৷ সিমি, রিমা, সবুজ একসাথে দাঁড়িয়ে আছে। সবুজের মনটা বিষন্ন হয়ে আছে। সে প্রথম হতে পারেনি। সিমি, রিমা প্রথম দশ জনের মধ্যে নেই কিন্তু ভাল ফলাফল করেছে। ওরা খুশি কারণ ওরা প্রথম দিকে থাকতে চায়নি। সবুজের মন খারাপ দেখে রিমা বলল, আরে ধুর! মন খারাপ করছিস কেন?
    সবুজঃ মন খারাপ করব না! এত কষ্ট করে পড়লাম!
    সিমিঃ দেখ! এটাই তো চুড়ান্ত ফলাফল না! সামনে সমস্ত সেমিস্টারগুলো পরে রয়েছে! ভাল করে পড়তে থাকো!
    সবুজঃ (একটু আশাপ্রদ হয়ে) তা ঠিক বলছ! কিন্তু ফার্স্ট হল কে?
    রিমাঃ যোহান আহমেদ নামের একটা ছেলে!
    সবুজঃ যোহান কে?
    সিমিঃ (রিমার দিকে চেয়ে)ঐ যে হাতিমের সাথে বসে ছিল?
    রিমাঃ হ্যা!
    সিমিঃ বলিস কিরে!
    সবুজঃ তুমিও চেন! অথচ আমি চিনি না!
    সিমিঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তুমি কারো সাথে কথা বলো যে চিনবে!
    সবুজঃ হুম। তা ঠিক। আচ্ছা, পরিচয় করিয়ে দিও তো!
    রিমাঃ এখন পরিচয় করিয়ে দিয়ে কি লাভ? ও তো তোর শত্রুই হয়ে গেল!
    সবুজঃ শত্রুর হবার কি আছে?
    রিমাঃ কিছু নেই কিন্তু আমার কেন যেন মনে হচ্ছে জব্বর ফাইট একটা হবে।

    এই সময় ওদের পাশ দিয়ে হাতিম হেটে যাচ্ছিল।
    রিমাঃ এই হাতিম! কোথায় যাস? যোহান কোথায় রে?
    হাতিমঃ রেজাল্ট দেখতে যাই। যোহানকে কি দরকার? ও আজ আসেনি।
    রিমাঃ তুই জানিস না?
    হাতিমঃ কি জানবো?
    সিমিঃ যোহান প্রথম সেমিস্টারে ফার্স্ট হয়েছে।
    হাতিমঃ ফার্স্ট! যোহান!
    রিমাঃ হ্যা!
    হাতিমঃ ধুর বাল! কি যে কইস তোরা! যোহান কেন ফার্স্ট হবে? এটা অবিশ্বাস্য! ওকে আমি কোনদিন বই নিয়ে বসতে দেখিনি!
    রিমাঃ বিশ্বাস না হলে গিয়ে দেখ!
    হাতিমঃ( ফোন কানে ধরে এগিয়ে যেতে যেতে) যাই তো! দেখি কি অবস্থা।
    সবুজঃ নকল টকল করেনি তো!
    সিমিঃ আরে ধুর! নকল করে কি ফার্স্ট হওয়া যায় নাকি? নকল যারা করে ওরা পাশ করার জন্যে নকল করে! বড়জোর কিছুটা ভাল রেজাল্ট করা যায়। 3′
    সবুজঃ তুমি সব কিছু জানো না।
    রিমাঃ আমার একটু নীলক্ষেত যেতে হবে। (বাঁকা হাসি হেসে) তোরা একত্রে সময় কাটা, আমি যাই।
    সিমিঃ আরে তুই একা যাবি কেন? আমিও যাই!
    সবুজঃ না ও যাক। তোমার সাথে আমার কথা আছে।
    সিমিঃ (অপ্রস্তুত ভাবে) কি কথা?
    রিমাঃ আচ্ছা। তোরা থাক আমি আসি।
    রিমা দ্রুত হেটে চলে গেল।
    সিমিঃ কি কথা বলবে বলো।
    সবুজ মুখটা ভীষণ করুন করে মাথা নীচু করল।
    সিমিঃ কি হল? আবার মন খারাপ করলে?
    সবুজঃ হুহ!
    সিমিঃ কি বলবে তাই বলো!
    সবুজঃ কথাটা যে কিভাবে বলি…….
    সিমিঃ এমন কিছু বলবে না যাতে আমাদের সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে যায়!
    সবুজঃ তোমাকে আমার ভাল লাগে!
    সিমিঃ এটা বলতে চেয়েছিলে?
    সবুজঃ হ্যা।
    সিমিঃ তোমাকেও আমার ভাল লাগে!
    সবুজঃ (একটু হেসে) সত্যিই!
    সিমিঃ সত্যি নয়ত কি? ভাল না লাগলে কি তোমার সাথে মিশতাম নাকি? বন্ধুত্ব করতাম?
    সবুজঃ (একটু দমে গিয়ে) শুধু বন্ধুত্বই?
    সিমিঃ হুম।
    সবুজঃ আমি আসলে অন্যরকম বন্ধুত্বের কথা বলছিলাম।
    সিমিঃ আমি বুঝেছি। কিন্তু ওটা এখন আমি চিন্তা করছি না। বিশেষ করে তোমাকে নিয়ে নয়। যদি ভবিষ্যতে তোমাকে নিয়ে এরকম চিন্তা মাথায় আসে তো জানাবো।
    সবুজঃ অপেক্ষায় থাকবো।
    সিমিঃ অপেক্ষায় থাকলে কিছু পাবে না। না থাকলে পেতেও পারো!
    সবুজঃ মানে?
    সিমিঃ এর কোন মানে নেই। এখন যাই। কাল এসো। দেখা হবে।

    _______
    পরদিন সকালে যোহান সিমিকে কার্জন হলে নামিয়ে দিল।
    সিমি চলে যাবে, এমন সময় যোহান বলল, কিছু মনে না করলে একটা কথা বলি?
    সিমিঃ বলুন!
    যোহানঃ আপনার মন খারাপ কেন?
    সিমিঃ আমার মন খারাপ কে বলল?
    যোহানঃ চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছে।
    সিমিঃ মন খারাপ না। মেজাজ খারাপ!
    যোহানঃ কেন জানতে পারি?
    সিমিঃ একটা প্রশ্নের জবাব দিবেন?
    যোহানঃ বলুন।
    সিমিঃ একটা ছেলের সাথে মিশলেই কি তার সাথে প্রেম করতে হবে?
    যোহানঃ কি হয়েছে না জানলে কিভাবে বলব?
    সিমিঃ(ঝটকা মেরে চলে যেতে যেতে) আপনি একটা বাইক ড্রাইভার! আপনাকে কেন এত কথা বলছি! ধুর! যত্তসব!

    সিমি চলে গেল। অথচ যতক্ষণ ওখানে ছিল, যোহানের পাশে, একটা অদ্ভুত ভাললাগা কাজ করছিল। ওর মেজাজ খারপটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাছাড়া থেকে থেকে একটা মিষ্টি গন্ধ আসছিল। পাগল করা ঐ গন্ধটা ওকে বিবশ করে দিচ্ছিল। একটা আচ্ছন্ন ভাল লাগা মেজাজ খারাপকে ছাপিয়ে যাচ্ছিল। সেটা থেকে এড়িয়ে যেতেই ঝটকা মেরে সরে গেল ও। যেতে যেতে নিজেকে বলল, ধুর! একটা বাইক ড্রাইভারের সঙ্গ এতটা ভাল লাগবে কেন তোর? খানকি একটা! এত জ্বালা গায়ে! দেশে লোকের অভাব পরছে? সবুজও তো এর থেকে কত ভাল! ও কে না করে দেবার জন্যে আজ- সরি বলবি! শালী কুত্তী!!
    মনে মনে নিজেকে খিস্তি দিতে দিতে ক্লাসে ঢুকে পরল। পেছনের দিকের একটা বেঞ্চে গিয়ে বসলো। কিছু সময় বাদে যোহান ক্লাসে ঢুকল। ও ক্লাসে ঢুকতেই সবাই কেমন যেন চুপ হয়ে গেল। তাতে যোহান অপ্রস্তুত হয়ে এক কোনার দিকে গিয়ে বসল। হাতিম গিয়ে ওর পাশে গিয়ে বসল।
    যোহানঃ কিরে! সবাই আমাকে দেখে অমন রিয়াক্ট কেন করল রে?
    হাতিমঃ কেন করবে না?
    যোহানঃ কেন? কি হয়েছে?
    হাতিমঃ কি হয়েছে পরে বলছি। আগে বল কাল তোর ফোন অফ কেন ছিল।
    যোহানঃ চার্জ ছিল না।
    হাতিমঃ রাতে? রাতে কেন অফ ছিল?
    যোহানঃ ফোন বাসায় রেখে আমি উত্তরা গিয়েছিলাম। রাত বারোটার পর ফোন খুলেছি।
    হাতিমঃ তুই জানিস না!
    যোহানঃ কি জানবো?
    হাতিমঃ তুই ফার্স্ট হয়েছিস!
    যোহানঃ ফার্স্ট? আমি?
    হাতিমঃ হ্যা! কিভাবে করলি? তুই তো পড়িস নি!
    যোহানঃ পড়ি নি, তা না। কিন্তু ফার্স্ট হবার মত পড়িনি।
    হাতিমঃ যাই হোক! তুই ফার্স্ট হয়েছিস!
    যোহানঃ কি জানি! হতেও পারে! আমি অঙ্কে কোনদিন ১০০ এর মধ্যে কম পাইনি। ইন্টারেও ১০০% মার্ক ক্যারি করেছি। অঙ্ক আমার প্রিয়। অংক আমার প্রথম প্রেম! আমি অঙ্ক নিয়ে খেলতে ভালোবাসি।

Skip to toolbar