-
তনয়া
আবু নাঈম
পার্ট :-২
খুব ভোরে আই সি ইউর গ্লাসে ছোখ রাখলাম, আনিতার কাপড়ে ঢাকা দেহ আর পবিত্র মুখটা দেখেই মনে মনে ভাবছি কি শান্তিতেই না ঘুমাচ্ছে সে।
আজ ড.কামাল সাহেব একটু তাড়াতাড়ি এলেন, আমাকে সহ নিয়ে আনিতার কাছে গেলেন। পাল্স, নার্ভ দেখলেন, তারপর বললেন চলুন রোহান সাহেব।
আমি ড.কামাল সাহেবের অফিসে বসে, ঠান্ডা গলায় বললেন আপনি আজকেই বাসায় ফিরতে পারেনন। আমি সব শেষ করে আপনাকে জানাচ্ছি।
সেদিনই সকাল এগারোটার সময় আমরা ক্লিনিক ছাড়লাম, আনিতা আমাদের সাথে আসেনি, শুধু ওর দেহটাই নিয়ে এসেছিলাম।
শেষ মুহুর্তে যখন আমার কোলে শুভ্র তোয়ালে মোড়ানো ছোট্ট তনয়া এলো, আমি যেন আকাশে চাঁদটাকেই দুহাতে আগলে ধরেছিলাম। আনন্দে আমার বাঁক রুদ্ধ। স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতায় আমার তনুমন নুয়ে এলো। হাজার ধন্যবাদ আনিতার প্রতি উৎসর্গ হচ্ছিলো। আর ঠিক তখনি জানতে পারলাম আমরা তিনজন হতে পারিনি, দু’জনই হয়েছি আবার। পুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে এলো আমার, কাঁচের মতো ভেঙ্গে পড়লো যেন আকাশটা। নিজের শরীরে ওজন হ্রাস পেলো আর তনয়াকে পাহাড়ের ছেয়ে ভারী মনে হচ্ছিলো।
ফ্লোরে বসে পড়লাম ধপ করে।
বাসায় আসার পর থেকে তনয়ার কান্না বন্ধ হওয়ার কোন লক্ষণই দেখিনা। কি করবো ভেবে কোন কিনারা করতে পারছিনাম না, কি দিবো একে, কি খাওয়াবো আমি???
অনেক চেষ্টার পর ধীরে ধীর থেমে এলো কান্নার জোয়ার।
গভীর রাত হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গলো বাচ্চার কান্নায়, জেগে দেখি আমার হাতের নিচে ছোট্ট মেয়েটা চাপা পড়ে আছে, নিশ্বাস নিতে পারছিলো না। হাত সরাতেই লম্বা শ্বাস নিলো। ভাবলাম আমাকে আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, কারন আমি এখন একজন বাবা। না, শুধু বাবা তো নই সাথে মা ও।
দু’হাতে তুলে নিলাম ওকে, ঠান্ডা হয়ে আছে একদম। বিছানা ও ভেজা, আগেই পাল্টানোর দরকার হয়েছিলো বুঝতে পারিনি। হাতের কাছে কিছু পেলামনা, সবকিছু আনিতা কোথায় রেখেছে কাল খু্জে দেখতে হবে।
আপাতত আমার গায়ের কাঁথাই ভরসা।
এক সপ্তাহ পর তনয়াকে নিয়ে বের হলাম, বন্ধুর বাসায় ওকে রেখে আমি অফিসে গেলাম। সোজা এমডি স্যারের কক্ষে, কুশল বিনিময়ের পর পকেট থেকে একটা খাম বের করে স্যারের সামনে টেবিলে রাখলাম।
জানতে চাইলেন, এটা কি মিঃ রোহান?
স্যার, আমার ছুটি চাই, কিছুদিন ছুটি লাগবে আমার।
স্যার বললেন কতদিন লাগবে আপনার?
বললাম মিনিমাম ছয় মাস তো লাগবে স্যার।
বিষ্পোরিত চোখে তাকালেন আমার দিকে, বললেন কি বলছেন আপনি?
হ্যাঁ স্যার, আমি একা মানুষ ছোট বাচ্চাটা কোথায় কি করবো?
আমি আপনার সমস্যা বুঝতে পারছি, তা আপনি বাচ্চার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করছেন না কেন? তাছাড়া কোম্পানীর এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আপনার মতো একজন এমপ্লয়ীর এত দীর্ঘ ছুটি সম্ভব নয়।
আপনি কি আমার সমস্যা বিবেচনা করবেন না স্যার?
আপনি যাই বলেন ছুটি এখন সম্ভব নয়, আপনি চাইলে আপনাকে অন্যকোন ভাবে সাহায্য করতে পারি।
ঠিক আছে স্যার তবে তাই করুন আপনি বলে পকেট থেকে একি রকম আরেকটা খাম টেবিলে রাখলাম। দেখতে একি খাম হলেও ভিতরটা আলাদা। বেরিয়ে এলাম অফিস থেকে, জানার ইচ্ছে ও হলোনা আমার রেজিগনেশান গ্রহন হলো কি হলোনা।
ফেরার পথে তনয়াকে নিয়ে এলাম, শুরু হলো আমার নতুন এক জীবনের পথচলা।
আমার জগত আমার পৃথিবী সবকিছুই এখন থেক তনয়া।
তনয়ার বয়স আজ এক মাস, ও তার তমা আন্টির কোলে, খুব হাসছে মেয়টা।
তমা আমাদের বাসার নিচতলায় উঠেছে আজ থেকেই,তাই দেখা করতে এলো।
সেদিন বাসা ভাড়ার সাইন টানিয়েছিলাম, সেই সুবাধে একজন লোক আমার সাথে দেখা করলেন, লোকটা দেখতে শুনতে ভালোই। একটা প্রাইভেট ফার্মে জব করেন, ফ্যামিলি বলতে তিনি, তার ওয়াইফ আর দু’বছর বয়সী একটা বাচ্চা।
তাদের উঠে যেতে বললাম, আর আজ বাসায় উঠলো।
নিচতলায় ওরা আর উপর তলায় আমরা, ভালোই চলে যাচ্ছে আমাদের ছোট ছোট দুটো সংসার।
তমা অবাধেই উপর নিচ করে, অদ্ভুদ মায়াবী মেয়েটা। খুব সহজেই কতো আপন হয়ে গেলো আমাদের। একটু একটু করে আমরা একটা পরিবারে পরিণত হতে থাকলাম।
সকাল বেলা নাস্তা পঠানো যেন তমার রুটিন হয়ে দাঁড়ালো।
দেখতে দেখতেই দুটো বছর কেটে গেলো, তনয়া এখন অনেক কথা বলতে পারে। ঘরময় ইদুর দৌড় খেলে, কাঁচ ভাঙ্গা শব্দের হসিটা আমার সব কষ্ট মুছে দেয়।
খাটের তলায়, আলনার পিছনে বা আলমিরার পাশে লুকিয়ে থেকে বাবা বাবা বলে ডাকতে থাকে।
রান্না করতে গেলে সব ছড়িয়ে ফেলা, খাওয়ার সময় লুকোচুরি করা, আর পড়তে গেলে আমার বই ছিড়ে ফেলা আর রাতের বেলা চুপ করে বাবার বুকে শুয়ে পড়া এসব করতে করতেই বাবা-মেয়ের সময়গুলো যেন দ্রুতই কেটে যেতে লাগলো।
সেদিন বাজার করে এসে দেখি তনয়া খাটের পাশে ফ্লোরে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছে, আর পাশেই কাঁচের জগটা কয়েক টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়া……
#চলবে………3 Comments
Friends
বাহার উদ্দিন আহমেদ (শ্রাবণ)
@bahar3244
আব্দুল্লাহ
@g-m-abdulah
ভাস্কর
@vaskarchou
ভাস্কর
@vaskarchou
ভাস্কর
@vaskarchou
ভাস্কর
@vaskarchou
ভাস্কর
@vaskarchou
ভাস্কর
@vaskarchou
ভাস্কর
@vaskarchou



বেশ,,,😊 অপেক্ষায় থাকবো