<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Ahmed Moslem Kabir Arif | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/arifahmedcox/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/arifahmedcox/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Ahmed Moslem Kabir Arif.</description>
	<lastBuildDate>Thu, 11 Jun 2026 12:00:15 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">555cce6d8fc90d56426d5eb2cb9a97f5</guid>
				<title>&quot;লাল-নীল আগুন আর কর্পোরেট মৃত্যু&quot;

সপ্তাহের শেষ দিন হওয়ায় দুপুরের পর অফিস এ লোকজন কম। সেলস পারসনরা সবাই বাইরে। স্বভাবতই বৃহস্পতিবারে ওরা একেবারেই বের হয়ে যায়, অফিসে আর ফেরেনা। আর যারা থাকেন দুদিনের বন্ধে বাড়ি যাবে বলে একটু আগেই বের হয়। অফিসে আছি সম্ভবত আমরা ৮-৯ জনের মত।
&#039;আবির- আসরের আজান হলোতো, নামাজে যাবেনা?&#039; সেলিম স্যার এর ডাক।

টুপি খুঁজতে ব্যাগ খুলতেই দেখি রাজকন্যার ভাজ করা একখানা সাদা কাগজে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা- &#039;বাবা- আসার সময় আমার জন্য আর্ট পেপার, রেড আর ইয়েলো হাইলাইটার নিয়ে আসবে কিন্তু, ভুলে যাবেনা...&#039;
 
ওয়াশ্ রুমে ঢুকেছি, শুনি বাইরে দৌড়া-দৌড়ীর ধুপধাপ শব্দ, ট্যাপ এর পানির শব্দে খানিকটা কম শুনলেও মনে হচ্ছিল কিছু একটা বোধহয় হয়েছে। ভাবলাম প্রায় সময়ের মত বোধহয় আমাদের অফিসের উপর তলায় কাজ হচ্ছে তার-ই শব্দ, এ আর নতুন কি, সকাল ৯ টা থেকে শুরু হয়, সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত চলে। পেটের অবস্থাও আজকে খুব একটা সুবিধের নয়, কাল রাত থেকেই পেট নেমে গেছে। অসহ্য এক জিনিস এই পেট নামা। কমসে কম ২০ মিনিটের  এক নাগাড়ে বসে থাকা। উফফ..। অজু সেরে নামাজে যেতে হবে, সাপ্তাহিক রিপোর্ট শেষ করে মেইল করা, ২ দিনের বন্ধে প্রোজেক্ট সিডিউল- কত্ত কাজ। বাথরুমে বসে এসব ভাবছি আর ধীরে ধীরে বাইরের আওয়াজ বাড়ছে। আসলেই কি উপর তলার আওয়াজ, নাকি অন্যকিছু ? অজু শেষে তাড়াহুড়া করে বের হতে গিয়ে পিছলে পড়তে পড়তে বের হয়ে দেখি চারদিক আগুন আর ধোয়ায় আচ্ছন্ন। কিছু বুঝতে পারছিনা, শুধু আন্দাজ করতে পারছি আমরা আটকে গেছি, বের হওয়ার উপায় নেই, এই ভবনে এক্সিট গেট আছে ৯ তলা পর্যন্ত, বাকি ১৪ তলা পর্যন্ত ভরসা কেবল লিফট-ই।

আগুন কখন লেগেছে, কোত্থেকে লাগলো কিছুই জানিনা, শুধু চিৎকার শুনছি, চারপাশটা আধো-আলো- অন্ধকারে আচ্ছন্ন। চৈত্র মাসের ভ্যাঁপসা গরমের বিকেল যেন আগুনের দিকে ছোঁটা পানিতে কালো-অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত হয়ে গেছে, মনে হচ্ছে ইসরাফিল শিঙ্গায় ফুঁ দিয়েছেন, এক্ষুনি ধ্বংস হবে এক এক করে সব। আমরা ৫ জনের মত আটকে আছি। ইউসুফ সাহেব, মামুন ভাই, সেলিম স্যার আর মতি মিয়া। চিৎকার করে কাঁদছে সবাই, আমি এক একজনের মুখের দিকে তাকাচ্ছি, মৃত্যু ভয়ে এক একজন ভয়ঙ্কর আচ্ছন্ন, আমরা কি তবে একটু পরেই মারা যাচ্ছি? নিচে রাস্তায়তো অনেক লোক, কেউ কি আসবে সুপারম্যান হয়ে আমাদের বাঁচাতে, আমাদের আকুতি কি কেউ শুনতে পাচ্ছে ? 

ইউসুফ সাহেব- 
৪৯ বছর বয়সেও চাকরি করে যাচ্ছেন, কি আর করবেন, ২ ছেলের ২ জনেই সামর্থ্যবান, তাও বাবাকে দেখেনা, খোঁজ ও নেয় না, ১টা মেয়ে আছে, বিয়ে দিয়েছেন দুবছর হলো। সে উনাকে অসম্ভব ভালবাসেন, আব্বা কি করেন, বেলায় বেলায় ফোন, &#039;আব্বা খাইছেন? আব্বা- বাসায় যাইবেন না?&#039; ইউসুফ সাহেবও মেয়েকে অসম্ভব ভালবাসেন। যে ক-টাকা বেতন পান তার অর্ধেকেরও বেশি তুলে দেন মেয়ের হাতে, পোয়াতি মেয়ে, জামাই হয়তো তাকে ভালবাসে কিন্তু মা- হারা এই মেয়ের এই বাবা ছাড়া আর তো কেঊ-ই নেই, আজ তার মা বেঁচে থাকলে তাকে কত কিছুই না করতো। এই আজকেই নাতি হবার খবরটা দেন ইউসুফ সাহেব। 
&#039;আবির বাবা- এই নাও-  মিষ্টি খাও&#039;, 
&#039;কিসের মিষ্টি?&#039; 
ইউসুফ সাহেবের চোখে- মুখে উপচে পরা আনন্দের ছাপ- &#039;নানা হইতাছি আমি... এই লন আপনি একটা বেশি-ই খান, কাশিয়ানির বেনু গোপালের মিষ্টি- সে-ই স্বাদ...&#039;

ইউসুফ সাহেব কাঁদছেন, তার চিৎকার করে দরুদ শরিফ এর সাথে উঠা কান্নার আওয়াজে তার নাতির মুখ দেখাবিহীন পৃথিবী ছাড়ার কষ্ট স্পষ্ট ...

মামুন ভাই- 
সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার। বিয়ে করেছেন গত মাসে। বেশ ধুমধামের বিয়ে, পুরো অফিস দাওয়াত খেয়েছিল। ময়মনসিংহ সদরে মামুন ভাইয়ের বাবাকে একনামে চেনে সবাই। একমাত্র সন্তান হওয়াতে আদরের চাদর গায়ে জড়িয়ে বড় হওয়াটা মোটেই অস্বাভাবিক নয়, পালা করে প্রতিদিন সবাই কে হাজিরা দিতে হয় ফোন কলে- &#039;মা- আমি ভালো আছি, খেয়েছি, তোমাদের বৌমা আমার বেশ খেয়াল খাত্তি করছে, বাবা অলরেডি উনি ৪ বার আমাকে কল দিয়েছেন, উনাকে জানিয়ো আমি ভালো আছি, ঝাল কম খাচ্ছি আর বাইরের খাবার একদম-ই খাচ্ছিনা&#039; এই তার দৈনিক হাজিরা।  নিজের বউ কে ভালবাসেন পাগলের মত, দিনের বেলাতেও ফিস্ফিসিয়ে কথা বলেন বউয়ের সাথে ফোনে- রুটিন মাফিক প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় বউয়ের খোঁজও রাখেন। তার ডেস্কের ডানপাশে ছোট করে বউয়ের পাসপোর্ট সাইজের সাদা কালো পোট্রেট ছবি পেস্ট করা, ল্যাপটপ এর স্ক্রিন আর তার মানিব্যাগ- বউয়ের-ই ছবি। সময়ের সাথে সাথে আজকাল যেখানে ভালবাসার রঙ ফিকে হয়ে যাচ্ছে, নিখাদ ভালবাসা যেখানে আমাদের কিনতে হয় বিনিময়ে, সেখানে মামুন ভাই একজন সত্যিকারের ভালবাসার মানুষ-ই।  আমরা বলি- মামুন ভাই- আপনার জব করার দরকার কি? উনি হেঁসে বলেন- ভাই আমার এক্সপেরিয়েন্স দরকার। এই মামুন ভাই ই ডিপার্টমেন্ট এর টপ এমপ্লয়ী..

মামুন ভাই পুরো শরীর দুলিয়ে কাঁদছেন, হাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ফোন আর মাথায় প্যাঁচানো মতি মিয়ার ভেজা গামছা, অতি আদর আর চারপাশটা ভালবাসায় জড়ানো এই মানুষটার চোখে সম্মুখ মৃত্যু ভয়।

সেলিম স্যার- 
একাউন্টস ম্যানেজার। একটু বেশিই কথা বলেন। পেটের উপরে বেল্ট পড়ে আর মাথার উপর অর্ধেক মাথা ঢাকা টুপি। সারাদিন রেগে থাকা আর ঘন কথা বলা মানুষ তিনি, তার সবচে বেশি রাগ এমডি স্যার এর উপর। তার ভাষ্যমতে এমডি স্যার ব্যবসা-ই নাকি জানেন না, আর রাগে গজরাতে গজরাতে বলতে থাকেন- &#039;সারাদিন বাসায় বসে বসে- এই এটা হলো, ওটা হলো??? আর দিনে ৪ বার উনাকে হিসেব পাঠাও, ঘোড়ার আণ্ডা ব্যবসা বুঝেন। এই আমি- আমি সেলিমকে পেয়েছিল বলে, হুম- উনি জানে কি করে ব্যবসা করতে হয়?&#039; গজরাতে গজরাতে বাথরুমের দিকে যান আর ফিরে অবধারিত ভাবে মতি মিয়ার গালে সশব্দে চড়। &#039;তোরে হাজার দিন করে বলেছি ১০ মিনিট পরপর বাথরুম পরিষ্কার করবি, আমার কথা তোমার কানে যায়না? কানে যাবে কেম্নে? কানে তো থাকে হেডফোন, আজকে তোর হেডফোন আমি তোর ... মধ্যে ভরে দিব দাড়া.. 
ঠিক তার ১৫-২০ মিনিট পর আবার স্যার এর ডাক- &#039;মতি- বাবা এক কাপ চা দিয়ে যা, টি ব্যাগ মিশাবি না..&#039;
কোমর ভাঙ্গা মানুষ সেলিম স্যার। বিয়ের ৪ বছরের মাথায় উনার বউ মারা যান, কোন সন্তানও নেই, বিয়েও আর করেন নি। স্যার অবশ্য উনার বাবা-মা&#039;র ব্যাপারে কিছুই বলেন না- যেটুকু জানি- ভালবেসে পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিলেন বলে ঘরছাড়া হয়েছিলেন স্যার। আর ফেরেন্নি নাকি। এই সেলিম স্যার যে কত ভালো মানুষ যেদিন জানতে পারি মতি মিয়া কে স্যার ই লালন- পালন করেন। মা হারা সৎ মায়ের কারনে ঘর ছাড়া মতি মিয়া কে স্যার পেলেছেন, বড় করেছেন, পড়ালেখাও শিখিয়েছেন যতটুকু সম্ভব, কিন্তু পড়ালেখায় তার অতিশয় অনাগ্রহের কারনে ক্লাস সিক্স এর বেশি সে এগুতে পারেনি, সেলিম স্যারও হাল ছেড়ে দিয়েছেন। একে দিয়ে আর হবে না, পিওন এর চাকরি দিয়েছেন আগেও ২ জায়গায়, একটা ব্যাংক আরেকটা ইনসিওরেন্স কোম্পানিতে, মতি থাকতে পারেনি, প্রথম টাতে কাকে জানি মারধর আর দ্বিতীয়টাতে কারনে- অকারনে বেতন কাটা। অগত্যা এই প্রতিষ্ঠানেই নিয়ে আসলেন স্যার মতিকে। আমরা খুব অল্প সংখ্যক-ই জানি সেলিম স্যার আর মতির ব্যাপারটা, মতি মিয়াও বোধহয় জানেনা যে আমরা এটা জানি। ভাগ্য বিড়ম্ভিত কিছু মানুষ আছে যারা আর কিছু দিয়ে না হোক, নিখাদ ভালবাসা দিয়ে পুষিয়ে দেন তার পারত পক্ষের সীমাবদ্ধতা। সেলিম স্যার আর মতি মিয়া দুজনেই এমন ধরনের মানুষ। 

সেলিম স্যার মতি মিয়া কে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন, আর মতি মিয়া কিছুক্ষণ পর পর অর্ধেক ভাঙ্গা কাঁচের জানালা দিয়ে হাত বের করে- বাঁচান- আমগোরে বাঁচান- বলে চিৎকার করছে…।। ফায়ার ব্রিগেড পানি ছুঁড়ছে অনবরত, কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না, আগুন ছড়িয়ে গেছে পাঁশের বিল্ডিংয়েও। সবার সামনে কুণ্ডলী পাকা কালো ধোঁয়া, পুড়ে মরার আগেই আমরা নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছি....। 

সেলিম স্যার কাঁদছেন মতি মিয়াকে জড়িয়ে ধরে, ১৩ তলায় লাগা এই আগুনে নিঃশেষ হচ্ছেন এক রক্তের সম্পর্কহীন অথচ রক্তের সম্পর্কের চেয়েও বেশি পিতা- পুত্র। যেখানে বাস্তবতার দোহায় দিয়ে অনেকে আজ নিজের রক্তের সন্তানকে অস্বীকার করে অনায়াসে, সেখানে এই রক্তের সম্পর্কহীন পিতা- পুত্রের একে অপরকে জড়িয়ে ধরে মৃত্যুর অপেক্ষা ছাড়িয়ে যায় সব..। আহ সম্পর্ক!!

সম্ভবত ফায়ার ব্রিগেড এর আরো কিছু গাড়ি যোগ হয়েছে, হেলিকেপ্টার এর আওয়াজ ও পাওয়া যাচ্ছে। এয়ার লিফটও বোধহয় এসেছে, আমাদের কি বাঁচাবে ওরা? আচ্ছা আমার মেয়ে কি করছে এ সময়? ওর মা কি করছে? নিশ্চয়ই আমাকে ফোন করছে, নিশ্চয় পাগলের মত দৌড়ে ওরা অন্য হাজার মানুষের মত নিচে দাড়িয়ে কান্না করছে। 

আজ বাসায় ফিরে মেয়েটাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা, গত ৩ দিন ধরে কেবল জর আসছে আর যাচ্ছে। কাল রাতেও জ্বরের ঘোরে কেঁদেছে। আমার মেয়েটার চেহারা অবিকল আমার মায়ের মত। মায়াভরা দুটো চোখ যার খুউব অল্পে চোখ দিয়ে পানি পড়ে। 

আমি বাবা হারিয়েছি ১৯ বছর আর মা হারাই ৪ বছর আগে, এতিম এই আমার এই দুনিয়াতে খুব বেশি কিছু চাওয়ার নেই। আমার যে একটা পরীর মত রাজকন্ন্যা আছে.., প্রতিদিন বাসায় ফিরে কলিং বেল চাপতেই  দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে উঁকি দেয়া যার কাজ, আমার ব্যাগ যার কাছে জাদু-য় মোড়া এক টুকরো আনন্দ- বাবা খালি হাতে আসতেই পারেন না.. সারাদিনের খুনসুটি এক এক করে সে বলতে থাকে, আমার ক্লান্তিতে তার কিচ্ছু আসে যায় না, আর রাতে আমার গলা জড়িয়ে ধরে না ধরলে তার ঘুমই আসে না, ঘুম পাড়াতে হবে তার পিঠে হাল্কা হাল্কা করে হাত বুলিয়ে.......এর চেয়ে আমার আর বেশি কিছু কি ই বা চাওয়ার আছে? আমার আম্মা প্রায়-ই আমাকে ফোন করে অভিমান করে বলতেন- &#039;তোর কি আমার কথা মনে থাকে, তোর তো এখন আরেকটা আম্মা আছে না.....। 

এই রোবটময় কর্পোরেট শহরে আমার মত মধ্যবিত্তের গৎবাঁধা এইতো জীবন... মাস শেসে কটা মাইনে, বছর শেসে প্রমোশন আর আমার রাজকন্যা কে মানুষের মত মানুষ করা। আমি ছাড়া যে ওর আর কেউ-ই নেই... 

সবাই যেখানে চিৎকার করে কাঁদছে সেখানে কেন জানি আমার গলা রুদ্ধ। কোন শব্দই বের হচ্ছে না। আমার চোখের সামনে আমার রাজকন্যার নিষ্পাপ মুখ, আজকের পর হয়তো আর কোনদিন আমার মেয়ের জন্য তার বাবা আর জাদুর ব্যাগে করে আনন্দ বয়ে নিয়ে যাবেনা, আজকের পর হয়তো অজান্তে ভুলে যাওয়া বায়নার আবদার অপুরনে অভিমানে আমার মেয়ের মুখভার আর আমি আর দেখব না, আজকের পর হয়তো আর কোনদিন আমার মেয়ে সারাদিনের অভিমানের খুনসুটি শেষে আমার গলা জড়িয়ে ঘুমুবেনা...

সশব্দে সবার চিৎকার- মামুন ভাই দৌড়ে বিল্ডিঙের  কার্নিশ বেয়ে ঝুলে থাকা ইলেক্ট্রিক ক্যাবল ধরে নেমে যেতে ছুটে গেছেন.....

বিধ্বস্ত এই কর্পোরেট অফিসে আমরা কেবল ৪ জন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ জপছে সবাই- আর কাঁপা- ভাঙ্গা গলায়- বাঁচানোর আকুতি আমাদের, আমরা জানি মৃত্যু আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ায় সর্বক্ষণ, কিন্তু তুচ্ছ হলেও নুন্যতম নাগরিক দোহাই- &quot;প্লিজ আমাদের একটু কেউ কি বাঁচাবেন? কেউ কি আছেন...&quot;

কালো ধোয়ায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে, জড়সড় হয়ে থাকা আশে পাঁশের কাউকে আর স্পষ্ট করে দেখতেও পাচ্ছি না, হঠাৎ মনে হল আমার &#039;মা&#039; সামনে দাড়িয়ে। প্রায়শ দেখা স্বপ্নের মত করে মা-কে নিয়ে হাঁটছি, কিন্তু কোথায় যাচ্ছি জানিনা। আর পিছন ফিরে দেখি আমার রাজকন্যা.. ওর গাল বেয়ে টপ টপ করে অশ্রু পড়ছে, আর বাড়ছে আমাদের সাথে এক একজনের দূরত্ব, এক মায়ের হাত ধরে অন্য মা’কে ছেড়ে চলে যাচ্ছি…।। 

কানে বাজছে ইউসুফ সাহেব এর কাঁপা- ভাঙ্গা গলার দরুদ শরিফ- 
&quot;লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ..&quot;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/30280/</link>
				<pubDate>Wed, 01 Sep 2021 05:44:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;লাল-নীল আগুন আর কর্পোরেট মৃত্যু&#8221;</p>
<p>সপ্তাহের শেষ দিন হওয়ায় দুপুরের পর অফিস এ লোকজন কম। সেলস পারসনরা সবাই বাইরে। স্বভাবতই বৃহস্পতিবারে ওরা একেবারেই বের হয়ে যায়, অফিসে আর ফেরেনা। আর যারা থাকেন দুদিনের বন্ধে বাড়ি যাবে বলে একটু আগেই বের হয়। অফিসে আছি সম্ভবত আমরা ৮-৯ জনের মত।<br />
&#8216;আবির- আসরের আজান হলোতো, নামাজে যাবেনা?&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-30280"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/30280/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">78bf2eaa819cb31f2abe50558c07641a</guid>
				<title>Ahmed Moslem Kabir Arif changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/30246/</link>
				<pubDate>Wed, 01 Sep 2021 04:52:13 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d6c28589af6f7e4e56a8c1306b706bf1</guid>
				<title>​​“নীল বৃষ্টি”
​
​আমার ক্ষীন আশা ছিল পারুলকে দেখব। মামুনের কাছে শুনেছি পারুল আজ তার বরকে নিয়ে বেরুবে। নিউমার্কেট মোড়ে অনেকক্ষন দাড়িয়ে রইলাম একা একা। চোখে জল আসবার মত কষ্ট হল। অনেকদিন পারুলকে দেখিনা।

পারুলের সাথে আমার সম্পর্ক অল্পদিনের। একবার আমার বন্ধূ মামুন আমাকে কি মনে করে বলল- “তোকে একটা নাম্বার দেই তুই ফাও ফোন কর”। কৌতুহলবশত্ ফোন করে পারুলকে অনেক কিছু বলে ভড়কে দিলাম। এরপর কেবল অকারনেই পারুলকে অসংখ্যবার বিরক্ত করেছি। তখন খুব মজা পেতাম এই কাজটায়। একটা সময় কাজটা আপনিতেই বন্ধ হয়ে গেল। এর অনেক অনেক দিন পর একবার একটা নাম্বারে টিপতে গিয়ে ভুলে পারুলের নাম্বারে পড়ে গেল। অথচ এতবার বিরক্তের পরে ও সেবার পারুল আমার সাথে বেশ ভালই আচরন করল। পারুলের সহজ-সরল ব্যবহার ও চমৎকার কন্ঠস্বর শুনে খানিকটা অবাক হয়ে গেলাম। আমি কিছু না বললে ও পারুলের জোরের মুখে ওর সাথে দেখা করলাম। যতবারই ওকে দেখি ততবারই বিস্মিত হই। একজন অচেনা-অজানা মানুষ যার নাম এবং ফোন নাম্বার ছাড়া সে কিছুই জানেনা তাকে কেউ এত আপন করে নেয় ?
পারুল আসলেই অন্যরকম। একবার কি মনে করে ওকে বললাম-“পারুল তুমি কি একবার নীল শাড়ী পরে আমার সামনে আসবে?” বলেই আমার কান ঝাঁ ঝাঁ করতে লাগল। কিন্তু কত সহজেই না সেবার সে আমায় বললÑ“ অবশ্যই। বল কখন দেখতে চাও ?”

পারুলকে নিয়ে আমি অন্য কিছু ভাবতে লাগলাম। ঘুমোতে গেলেই পারুলকে স্বপ্নে দেখি। একবার দেখলাম পারুল আর আমি দৌড়াচ্ছি। অনেকদুর আসার পর একটা অচেনা জায়গায় এসে পারুল আমায় বলল- “এই ছেলে- তুমি কি জান যে আমি মারা গেছি?” আমি পারুলের দুহাত চেপে ধরে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলাম। ঘুম ভেঙে দেখি আমি তখনো কাঁদছি।

একবার পারুলের কাছ থেকে আনা বইয়ের ভেতর থেকে একটা পাখির পালক পড়ে গেল। আমি কুড়িয়ে নিয়ে এলাম। পালকটির রঙ লালচে সাদা। যতবারই পালকটি আমি ছুইঁ ততবারই গা শিরশির করে উঠে। পালকে পারুলের স্পর্শ লেগে আছে ভাবতেই কেমন জানি মনে হয়। বুঝেই গেলাম পারুলকে আমি ভালবেসে ফেলেছি। চিন্তা করলাম যে করেই হোক পারুলকে “ভালবাসি” কথাটা বলবোই। ফোন করলাম, কিন্তু হাজারো চেষ্টাতে ও পারুলকে কেন জানি বলতে পারলাম না। ঠিক করলাম পরেরদিন বিকেলে বলবো। কিন্তু পুরো ২ ঘন্টা দুজন একসাথে কাটিয়েও ওকে বলতে পারিনি। বারবার একটা কথাই কেবল মনে হত- পারুল অনেক বড়লোকের একমাত্র মেয়ে আর আমার পৃথিবীতে বাবা-মা এমনকি নিজের বলার মত কোন জায়গা-জমি ও নেই যেখানে পারুলকে নিয়ে সুখের সংসার গড়বো। টিউশনি আর পার্টটাইম চাকুরি করে নিজেকে চালাই। আমার মত হতভাগার আবার পারুলের মত মেয়েকে ভালবাসার স্বপ্ন দেখা !
 
তারপরেও মনের অস্ফুট স্পন্দন থামাতে পারিনা। তীব্র ভালাবাসা কাকে বলে বুঝতে পারি সেদিনই যেদিন পারুল আমাকে না জানিয়ে হঠাৎ করেই সিলেট চলে যায়। পারুলকে ফোনে না পেয়ে আমি পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে যাই। অগোছালো দিন সঙ্গে নিয়ে পাগলের মত ঘুরতে থাকি পুরোটা সময়। খাওয়া, ক্লাশ, টিউশনি সবকিছুতেই ছেদ পড়ে। ভেঙে পড়ে শরীর আর তাতেই আবিষ্কার করি আমার পুরোটা জুড়ে পারুলের অস্তিত্ব।
 
প্রায় ১৬ দিন পরে পারুল যেদিন ঢাকা এসে আমায় ফোন করে আমি তখন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে বেডে। প্রচন্ড জ্বর নিয়ে ভর্তির ৪ দিনের মাথায় পারুল আমাকে দেখতে আসে। অনেকটা হতবাক আর শূণ্য দৃষ্টিমাখা পারুলের দুটি চোখে অল্প অশ্র“বিন্দু দেখে কেন জানি আমি আমার ছবি দেখতে পাই। কিন্তু আমার অনুমান কিংবা স্পর্শের বাইরের কিছু আমাকে বাস্তবতার মুখোমুখি করে যখন পারুলের পাঠানো একটি সাদা খাম পাই যার উপরে লেখা- ফাহিম (তোমার জন্য)। বুভূক্ষের মত খামের মুখ ছিড়ে দেখি পারুলের বিয়ের কার্ড। সৌদি প্রবাসী জনৈক ব্যবসায়ীর সাথে পারুলের বিয়ে।
​
পারুলের বিয়েতে আমি যাইনি। অথচ বিয়ের আগেরদিন মনে মনে ঠিক করেছিলাম পারুলকে শুধু একটি বারের জন্য হলেও দেখতে যাব। কিন্তু যাইনি। পারুল আমাকে বিয়ের দিনই ফোন করে বলল-“ ফাহিম- আমি নীল শাড়ী পড়েছি। তোমার খুব প্রিয় রংয়ের শাড়ী। তুমি কি সত্যিই আমাকে দেখতে আসবেনা ? ”
 
অনেকদিন পর পাগলের মত হাউমাউ করে কাঁদলাম। পাশের রুমের আনিস সাহেব আমার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললেন- “ভাইসাহেব মনটা শক্ত করেন। দয়ালের উপর ভরসা রাখেন। তিনিই সব।”
 
মাঝে মাঝে প্রচন্ড বৃষ্টির রাতে ঘুম ভেঙে যায়। মনে হয় কেউ একজন খুব জোরে দরজা ধাক্কায় আর আমি দরজা খুলে দেখি পারুল। পারুল আমায় বলে যায়- “এমন রাতে তুমি ঘুমাও কি করে?” আমার হাত ধরে সে বৃষ্টিতে নেমে পড়ে। আমি পারুলকে নিয়ে কল্পনার বৃষ্টিতে ভিজতে থাকি আর অবাক হয়ে দেখি বৃষ্টির রং গাঢ় নীল আর পারুলের পরনেও নীল রঙের শাড়ী। আমার নীলপরী পারুল পাগলের মত ভিজতে থাকে সেই নীল রঙের বৃষ্টিতে আর আমি অবাক হয়ে আমার নীল পরীর দিকে তাকিয়ে থাকি॥</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/22515/</link>
				<pubDate>Tue, 20 Jul 2021 18:59:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>​​“নীল বৃষ্টি”<br />
​<br />
​আমার ক্ষীন আশা ছিল পারুলকে দেখব। মামুনের কাছে শুনেছি পারুল আজ তার বরকে নিয়ে বেরুবে। নিউমার্কেট মোড়ে অনেকক্ষন দাড়িয়ে রইলাম একা একা। চোখে জল আসবার মত কষ্ট হল। অনেকদিন পারুলকে দেখিনা।</p>
<p>পারুলের সাথে আমার সম্পর্ক অল্পদিনের। একবার আমার বন্ধূ মামুন আমাকে কি মনে করে বলল- “তোকে একটা নাম্বার দেই তুই ফাও ফোন কর”। কৌতুহলবশত্ ফোন ক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-22515"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/22515/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">887135285383f812213acf09c95eae65</guid>
				<title>Ahmed Moslem Kabir Arif and অভিমানী মন are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/22513/</link>
				<pubDate>Tue, 20 Jul 2021 18:52:22 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">887135285383f812213acf09c95eae65</guid>
				<title>Ahmed Moslem Kabir Arif and Neel tripura are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/22512/</link>
				<pubDate>Tue, 20 Jul 2021 18:52:22 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">887135285383f812213acf09c95eae65</guid>
				<title>Ahmed Moslem Kabir Arif and Drako Shajib are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/22511/</link>
				<pubDate>Tue, 20 Jul 2021 18:52:22 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">887135285383f812213acf09c95eae65</guid>
				<title>Ahmed Moslem Kabir Arif and চাঁদ সদাগর are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/22510/</link>
				<pubDate>Tue, 20 Jul 2021 18:52:22 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>