Profile Photo

Ahmed Moslem Kabir ArifOffline

  • ArifAhmedCox
  • Profile picture of Ahmed Moslem Kabir Arif

    Ahmed Moslem Kabir Arif

    4 years, 9 months ago

    “লাল-নীল আগুন আর কর্পোরেট মৃত্যু”

    সপ্তাহের শেষ দিন হওয়ায় দুপুরের পর অফিস এ লোকজন কম। সেলস পারসনরা সবাই বাইরে। স্বভাবতই বৃহস্পতিবারে ওরা একেবারেই বের হয়ে যায়, অফিসে আর ফেরেনা। আর যারা থাকেন দুদিনের বন্ধে বাড়ি যাবে বলে একটু আগেই বের হয়। অফিসে আছি সম্ভবত আমরা ৮-৯ জনের মত।
    ‘আবির- আসরের আজান হলোতো, নামাজে যাবেনা?’ সেলিম স্যার এর ডাক।

    টুপি খুঁজতে ব্যাগ খুলতেই দেখি রাজকন্যার ভাজ করা একখানা সাদা কাগজে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা- ‘বাবা- আসার সময় আমার জন্য আর্ট পেপার, রেড আর ইয়েলো হাইলাইটার নিয়ে আসবে কিন্তু, ভুলে যাবেনা…’

    ওয়াশ্ রুমে ঢুকেছি, শুনি বাইরে দৌড়া-দৌড়ীর ধুপধাপ শব্দ, ট্যাপ এর পানির শব্দে খানিকটা কম শুনলেও মনে হচ্ছিল কিছু একটা বোধহয় হয়েছে। ভাবলাম প্রায় সময়ের মত বোধহয় আমাদের অফিসের উপর তলায় কাজ হচ্ছে তার-ই শব্দ, এ আর নতুন কি, সকাল ৯ টা থেকে শুরু হয়, সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত চলে। পেটের অবস্থাও আজকে খুব একটা সুবিধের নয়, কাল রাত থেকেই পেট নেমে গেছে। অসহ্য এক জিনিস এই পেট নামা। কমসে কম ২০ মিনিটের এক নাগাড়ে বসে থাকা। উফফ..। অজু সেরে নামাজে যেতে হবে, সাপ্তাহিক রিপোর্ট শেষ করে মেইল করা, ২ দিনের বন্ধে প্রোজেক্ট সিডিউল- কত্ত কাজ। বাথরুমে বসে এসব ভাবছি আর ধীরে ধীরে বাইরের আওয়াজ বাড়ছে। আসলেই কি উপর তলার আওয়াজ, নাকি অন্যকিছু ? অজু শেষে তাড়াহুড়া করে বের হতে গিয়ে পিছলে পড়তে পড়তে বের হয়ে দেখি চারদিক আগুন আর ধোয়ায় আচ্ছন্ন। কিছু বুঝতে পারছিনা, শুধু আন্দাজ করতে পারছি আমরা আটকে গেছি, বের হওয়ার উপায় নেই, এই ভবনে এক্সিট গেট আছে ৯ তলা পর্যন্ত, বাকি ১৪ তলা পর্যন্ত ভরসা কেবল লিফট-ই।

    আগুন কখন লেগেছে, কোত্থেকে লাগলো কিছুই জানিনা, শুধু চিৎকার শুনছি, চারপাশটা আধো-আলো- অন্ধকারে আচ্ছন্ন। চৈত্র মাসের ভ্যাঁপসা গরমের বিকেল যেন আগুনের দিকে ছোঁটা পানিতে কালো-অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত হয়ে গেছে, মনে হচ্ছে ইসরাফিল শিঙ্গায় ফুঁ দিয়েছেন, এক্ষুনি ধ্বংস হবে এক এক করে সব। আমরা ৫ জনের মত আটকে আছি। ইউসুফ সাহেব, মামুন ভাই, সেলিম স্যার আর মতি মিয়া। চিৎকার করে কাঁদছে সবাই, আমি এক একজনের মুখের দিকে তাকাচ্ছি, মৃত্যু ভয়ে এক একজন ভয়ঙ্কর আচ্ছন্ন, আমরা কি তবে একটু পরেই মারা যাচ্ছি? নিচে রাস্তায়তো অনেক লোক, কেউ কি আসবে সুপারম্যান হয়ে আমাদের বাঁচাতে, আমাদের আকুতি কি কেউ শুনতে পাচ্ছে ?

    ইউসুফ সাহেব-
    ৪৯ বছর বয়সেও চাকরি করে যাচ্ছেন, কি আর করবেন, ২ ছেলের ২ জনেই সামর্থ্যবান, তাও বাবাকে দেখেনা, খোঁজ ও নেয় না, ১টা মেয়ে আছে, বিয়ে দিয়েছেন দুবছর হলো। সে উনাকে অসম্ভব ভালবাসেন, আব্বা কি করেন, বেলায় বেলায় ফোন, ‘আব্বা খাইছেন? আব্বা- বাসায় যাইবেন না?’ ইউসুফ সাহেবও মেয়েকে অসম্ভব ভালবাসেন। যে ক-টাকা বেতন পান তার অর্ধেকেরও বেশি তুলে দেন মেয়ের হাতে, পোয়াতি মেয়ে, জামাই হয়তো তাকে ভালবাসে কিন্তু মা- হারা এই মেয়ের এই বাবা ছাড়া আর তো কেঊ-ই নেই, আজ তার মা বেঁচে থাকলে তাকে কত কিছুই না করতো। এই আজকেই নাতি হবার খবরটা দেন ইউসুফ সাহেব।
    ‘আবির বাবা- এই নাও- মিষ্টি খাও’,
    ‘কিসের মিষ্টি?’
    ইউসুফ সাহেবের চোখে- মুখে উপচে পরা আনন্দের ছাপ- ‘নানা হইতাছি আমি… এই লন আপনি একটা বেশি-ই খান, কাশিয়ানির বেনু গোপালের মিষ্টি- সে-ই স্বাদ…’

    ইউসুফ সাহেব কাঁদছেন, তার চিৎকার করে দরুদ শরিফ এর সাথে উঠা কান্নার আওয়াজে তার নাতির মুখ দেখাবিহীন পৃথিবী ছাড়ার কষ্ট স্পষ্ট …

    মামুন ভাই-
    সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার। বিয়ে করেছেন গত মাসে। বেশ ধুমধামের বিয়ে, পুরো অফিস দাওয়াত খেয়েছিল। ময়মনসিংহ সদরে মামুন ভাইয়ের বাবাকে একনামে চেনে সবাই। একমাত্র সন্তান হওয়াতে আদরের চাদর গায়ে জড়িয়ে বড় হওয়াটা মোটেই অস্বাভাবিক নয়, পালা করে প্রতিদিন সবাই কে হাজিরা দিতে হয় ফোন কলে- ‘মা- আমি ভালো আছি, খেয়েছি, তোমাদের বৌমা আমার বেশ খেয়াল খাত্তি করছে, বাবা অলরেডি উনি ৪ বার আমাকে কল দিয়েছেন, উনাকে জানিয়ো আমি ভালো আছি, ঝাল কম খাচ্ছি আর বাইরের খাবার একদম-ই খাচ্ছিনা’ এই তার দৈনিক হাজিরা। নিজের বউ কে ভালবাসেন পাগলের মত, দিনের বেলাতেও ফিস্ফিসিয়ে কথা বলেন বউয়ের সাথে ফোনে- রুটিন মাফিক প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় বউয়ের খোঁজও রাখেন। তার ডেস্কের ডানপাশে ছোট করে বউয়ের পাসপোর্ট সাইজের সাদা কালো পোট্রেট ছবি পেস্ট করা, ল্যাপটপ এর স্ক্রিন আর তার মানিব্যাগ- বউয়ের-ই ছবি। সময়ের সাথে সাথে আজকাল যেখানে ভালবাসার রঙ ফিকে হয়ে যাচ্ছে, নিখাদ ভালবাসা যেখানে আমাদের কিনতে হয় বিনিময়ে, সেখানে মামুন ভাই একজন সত্যিকারের ভালবাসার মানুষ-ই। আমরা বলি- মামুন ভাই- আপনার জব করার দরকার কি? উনি হেঁসে বলেন- ভাই আমার এক্সপেরিয়েন্স দরকার। এই মামুন ভাই ই ডিপার্টমেন্ট এর টপ এমপ্লয়ী..

    মামুন ভাই পুরো শরীর দুলিয়ে কাঁদছেন, হাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ফোন আর মাথায় প্যাঁচানো মতি মিয়ার ভেজা গামছা, অতি আদর আর চারপাশটা ভালবাসায় জড়ানো এই মানুষটার চোখে সম্মুখ মৃত্যু ভয়।

    সেলিম স্যার-
    একাউন্টস ম্যানেজার। একটু বেশিই কথা বলেন। পেটের উপরে বেল্ট পড়ে আর মাথার উপর অর্ধেক মাথা ঢাকা টুপি। সারাদিন রেগে থাকা আর ঘন কথা বলা মানুষ তিনি, তার সবচে বেশি রাগ এমডি স্যার এর উপর। তার ভাষ্যমতে এমডি স্যার ব্যবসা-ই নাকি জানেন না, আর রাগে গজরাতে গজরাতে বলতে থাকেন- ‘সারাদিন বাসায় বসে বসে- এই এটা হলো, ওটা হলো??? আর দিনে ৪ বার উনাকে হিসেব পাঠাও, ঘোড়ার আণ্ডা ব্যবসা বুঝেন। এই আমি- আমি সেলিমকে পেয়েছিল বলে, হুম- উনি জানে কি করে ব্যবসা করতে হয়?’ গজরাতে গজরাতে বাথরুমের দিকে যান আর ফিরে অবধারিত ভাবে মতি মিয়ার গালে সশব্দে চড়। ‘তোরে হাজার দিন করে বলেছি ১০ মিনিট পরপর বাথরুম পরিষ্কার করবি, আমার কথা তোমার কানে যায়না? কানে যাবে কেম্নে? কানে তো থাকে হেডফোন, আজকে তোর হেডফোন আমি তোর … মধ্যে ভরে দিব দাড়া..
    ঠিক তার ১৫-২০ মিনিট পর আবার স্যার এর ডাক- ‘মতি- বাবা এক কাপ চা দিয়ে যা, টি ব্যাগ মিশাবি না..’
    কোমর ভাঙ্গা মানুষ সেলিম স্যার। বিয়ের ৪ বছরের মাথায় উনার বউ মারা যান, কোন সন্তানও নেই, বিয়েও আর করেন নি। স্যার অবশ্য উনার বাবা-মা’র ব্যাপারে কিছুই বলেন না- যেটুকু জানি- ভালবেসে পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিলেন বলে ঘরছাড়া হয়েছিলেন স্যার। আর ফেরেন্নি নাকি। এই সেলিম স্যার যে কত ভালো মানুষ যেদিন জানতে পারি মতি মিয়া কে স্যার ই লালন- পালন করেন। মা হারা সৎ মায়ের কারনে ঘর ছাড়া মতি মিয়া কে স্যার পেলেছেন, বড় করেছেন, পড়ালেখাও শিখিয়েছেন যতটুকু সম্ভব, কিন্তু পড়ালেখায় তার অতিশয় অনাগ্রহের কারনে ক্লাস সিক্স এর বেশি সে এগুতে পারেনি, সেলিম স্যারও হাল ছেড়ে দিয়েছেন। একে দিয়ে আর হবে না, পিওন এর চাকরি দিয়েছেন আগেও ২ জায়গায়, একটা ব্যাংক আরেকটা ইনসিওরেন্স কোম্পানিতে, মতি থাকতে পারেনি, প্রথম টাতে কাকে জানি মারধর আর দ্বিতীয়টাতে কারনে- অকারনে বেতন কাটা। অগত্যা এই প্রতিষ্ঠানেই নিয়ে আসলেন স্যার মতিকে। আমরা খুব অল্প সংখ্যক-ই জানি সেলিম স্যার আর মতির ব্যাপারটা, মতি মিয়াও বোধহয় জানেনা যে আমরা এটা জানি। ভাগ্য বিড়ম্ভিত কিছু মানুষ আছে যারা আর কিছু দিয়ে না হোক, নিখাদ ভালবাসা দিয়ে পুষিয়ে দেন তার পারত পক্ষের সীমাবদ্ধতা। সেলিম স্যার আর মতি মিয়া দুজনেই এমন ধরনের মানুষ।

    সেলিম স্যার মতি মিয়া কে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন, আর মতি মিয়া কিছুক্ষণ পর পর অর্ধেক ভাঙ্গা কাঁচের জানালা দিয়ে হাত বের করে- বাঁচান- আমগোরে বাঁচান- বলে চিৎকার করছে…।। ফায়ার ব্রিগেড পানি ছুঁড়ছে অনবরত, কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না, আগুন ছড়িয়ে গেছে পাঁশের বিল্ডিংয়েও। সবার সামনে কুণ্ডলী পাকা কালো ধোঁয়া, পুড়ে মরার আগেই আমরা নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছি….।

    সেলিম স্যার কাঁদছেন মতি মিয়াকে জড়িয়ে ধরে, ১৩ তলায় লাগা এই আগুনে নিঃশেষ হচ্ছেন এক রক্তের সম্পর্কহীন অথচ রক্তের সম্পর্কের চেয়েও বেশি পিতা- পুত্র। যেখানে বাস্তবতার দোহায় দিয়ে অনেকে আজ নিজের রক্তের সন্তানকে অস্বীকার করে অনায়াসে, সেখানে এই রক্তের সম্পর্কহীন পিতা- পুত্রের একে অপরকে জড়িয়ে ধরে মৃত্যুর অপেক্ষা ছাড়িয়ে যায় সব..। আহ সম্পর্ক!!

    সম্ভবত ফায়ার ব্রিগেড এর আরো কিছু গাড়ি যোগ হয়েছে, হেলিকেপ্টার এর আওয়াজ ও পাওয়া যাচ্ছে। এয়ার লিফটও বোধহয় এসেছে, আমাদের কি বাঁচাবে ওরা? আচ্ছা আমার মেয়ে কি করছে এ সময়? ওর মা কি করছে? নিশ্চয়ই আমাকে ফোন করছে, নিশ্চয় পাগলের মত দৌড়ে ওরা অন্য হাজার মানুষের মত নিচে দাড়িয়ে কান্না করছে।

    আজ বাসায় ফিরে মেয়েটাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা, গত ৩ দিন ধরে কেবল জর আসছে আর যাচ্ছে। কাল রাতেও জ্বরের ঘোরে কেঁদেছে। আমার মেয়েটার চেহারা অবিকল আমার মায়ের মত। মায়াভরা দুটো চোখ যার খুউব অল্পে চোখ দিয়ে পানি পড়ে।

    আমি বাবা হারিয়েছি ১৯ বছর আর মা হারাই ৪ বছর আগে, এতিম এই আমার এই দুনিয়াতে খুব বেশি কিছু চাওয়ার নেই। আমার যে একটা পরীর মত রাজকন্ন্যা আছে.., প্রতিদিন বাসায় ফিরে কলিং বেল চাপতেই দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে উঁকি দেয়া যার কাজ, আমার ব্যাগ যার কাছে জাদু-য় মোড়া এক টুকরো আনন্দ- বাবা খালি হাতে আসতেই পারেন না.. সারাদিনের খুনসুটি এক এক করে সে বলতে থাকে, আমার ক্লান্তিতে তার কিচ্ছু আসে যায় না, আর রাতে আমার গলা জড়িয়ে ধরে না ধরলে তার ঘুমই আসে না, ঘুম পাড়াতে হবে তার পিঠে হাল্কা হাল্কা করে হাত বুলিয়ে…….এর চেয়ে আমার আর বেশি কিছু কি ই বা চাওয়ার আছে? আমার আম্মা প্রায়-ই আমাকে ফোন করে অভিমান করে বলতেন- ‘তোর কি আমার কথা মনে থাকে, তোর তো এখন আরেকটা আম্মা আছে না…..।

    এই রোবটময় কর্পোরেট শহরে আমার মত মধ্যবিত্তের গৎবাঁধা এইতো জীবন… মাস শেসে কটা মাইনে, বছর শেসে প্রমোশন আর আমার রাজকন্যা কে মানুষের মত মানুষ করা। আমি ছাড়া যে ওর আর কেউ-ই নেই…

    সবাই যেখানে চিৎকার করে কাঁদছে সেখানে কেন জানি আমার গলা রুদ্ধ। কোন শব্দই বের হচ্ছে না। আমার চোখের সামনে আমার রাজকন্যার নিষ্পাপ মুখ, আজকের পর হয়তো আর কোনদিন আমার মেয়ের জন্য তার বাবা আর জাদুর ব্যাগে করে আনন্দ বয়ে নিয়ে যাবেনা, আজকের পর হয়তো অজান্তে ভুলে যাওয়া বায়নার আবদার অপুরনে অভিমানে আমার মেয়ের মুখভার আর আমি আর দেখব না, আজকের পর হয়তো আর কোনদিন আমার মেয়ে সারাদিনের অভিমানের খুনসুটি শেষে আমার গলা জড়িয়ে ঘুমুবেনা…

    সশব্দে সবার চিৎকার- মামুন ভাই দৌড়ে বিল্ডিঙের কার্নিশ বেয়ে ঝুলে থাকা ইলেক্ট্রিক ক্যাবল ধরে নেমে যেতে ছুটে গেছেন…..

    বিধ্বস্ত এই কর্পোরেট অফিসে আমরা কেবল ৪ জন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ জপছে সবাই- আর কাঁপা- ভাঙ্গা গলায়- বাঁচানোর আকুতি আমাদের, আমরা জানি মৃত্যু আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ায় সর্বক্ষণ, কিন্তু তুচ্ছ হলেও নুন্যতম নাগরিক দোহাই- “প্লিজ আমাদের একটু কেউ কি বাঁচাবেন? কেউ কি আছেন…”

    কালো ধোয়ায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে, জড়সড় হয়ে থাকা আশে পাঁশের কাউকে আর স্পষ্ট করে দেখতেও পাচ্ছি না, হঠাৎ মনে হল আমার ‘মা’ সামনে দাড়িয়ে। প্রায়শ দেখা স্বপ্নের মত করে মা-কে নিয়ে হাঁটছি, কিন্তু কোথায় যাচ্ছি জানিনা। আর পিছন ফিরে দেখি আমার রাজকন্যা.. ওর গাল বেয়ে টপ টপ করে অশ্রু পড়ছে, আর বাড়ছে আমাদের সাথে এক একজনের দূরত্ব, এক মায়ের হাত ধরে অন্য মা’কে ছেড়ে চলে যাচ্ছি…।।

    কানে বাজছে ইউসুফ সাহেব এর কাঁপা- ভাঙ্গা গলার দরুদ শরিফ-
    “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ..”

    5
    3 Comments

AHMED MOSLEM KABIR ARIF

Skip to toolbar