<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Ariyan Abir | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/ariyanabir/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/ariyanabir/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Ariyan Abir.</description>
	<lastBuildDate>Thu, 29 Oct 2026 06:30:24 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">657ef613ceb8ef15da7cf23e33db1bcf</guid>
				<title>নিজের ওপর বিরক্ত হয়ে সৈকত আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকল না। দ্রুত পায়ে সে ভেতরের বারান্দা পেরিয়ে শাহমীরের মায়ের ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। ড্রয়িংরুমে তখনো একটা থমথমে নীরবতা বিরাজ করছে। রশিদ চৌধুরী গম্ভীর মুখে সোফায় বসে কোনো একটা ফাইল দেখছেন, কিন্তু ওনার চোয়াল শক্ত হয়ে থাকা বলে দিচ্ছে ভেতরের ঝড় এখনো থামেনি।
​সৈকত উঁকি দিয়ে দেখল মামী রিমি চৌধুরী খাটের এক কোণে বসে আঁচল দিয়ে চোখ মুছছেন। শাহমীরের এমন হুট করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়াটা ওনাকে বেশ ভালোই আঘাত করেছে। সৈকত আলতো করে দরজায় টোকা দিয়ে ভেতরে ঢুকল।
​&quot;মামী, শাহমীর তো রাগের মাথায় বাইক নিয়ে বেরিয়ে গেল। ও তো এই অবস্থায় ঠিকমতো ড্রাইভও করতে পারবে না। আমি কি ওর পেছনে যাব?&quot; সৈকত একটু আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করল।
​রিমি চৌধুরী চোখের জল মুছে সৈকতের দিকে তাকালেন। ওনার কণ্ঠে একরাশ হতাশা আর ক্লান্তি, &quot;কোথায় যাবি ওরে খুঁজতে? ও তো ঢাকা যাওয়ার কথা বলে গেল। কিন্তু এই রাতের বেলা না খেয়ে, এভাবে রেগে ও কোথায় যাবে? তুই একটু ওরে ফোন দিয়ে দেখ তো বাবা, ফোনটা ধরছে কি না।&quot;
সৈকত পকেট থেকে ফোন বের করে শাহমীরের নাম্বারে ডায়াল করল। কিন্তু ওপাশ থেকে যান্ত্রিক কণ্ঠ জানিয়ে দিল—&quot;আপাতত সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।&quot; শাহমীর ফোনটা বন্ধ করে রেখেছে।
​সৈকত একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মামীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, &quot;মামী, তুমি চিন্তা করো না। ও তো আর ছোট বাচ্চা না। রাগ একটু কমলে ঠিকই ফোন অন করবে। আর আমি তো আছি, কাল সকালেই দরকার হলে আমি নিজে ওকে খুঁজে বের করব।&quot;
​রিমি চৌধুরী মাথা নাড়লেন, কিন্তু ওনার মন শান্ত হলো না। ওনার মাথায় তখন অন্য চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। আগামীকালকের বিয়েটা যদি শাহমীর কোনোভাবেই মেনে না নেয়, তবে রশিদ চৌধুরীর যে জেদ, তাতে এই পরিবারে একটা বড়সড় বিপর্যয় নেমে আসবে।
​~
এদিকে, পিচঢালা অন্ধকার গ্রামীণ রাস্তা দিয়ে শাহমীর তীব্র গতিতে বাইক চালিয়ে যাচ্ছে। রাতের ঠাণ্ডা বাতাস তার মুখে এসে লাগছে, কিন্তু তার ভেতরের রাগের আগুন তাতে বিন্দুমাত্র নিভছে না। মেডিক্যাল কলেজের এত বছরের সুনাম, তার প্রফেশনাল লাইফের পারফেকশন—সবকিছু যেন এক নিমেষে ধূলিসাৎ হতে চলেছে।
​&quot;একটা ক্লাস টেনের বাচ্চা! সিরিয়াসলি?&quot; শাহমীর দাঁতে দাঁত চেপে স্পিডোমিটারের দিকে তাকাল। স্পিড তখন আশির ওপরে।
​হঠাৎ করেই রাস্তার একটা বাঁক ঘুরতেই হেডলাইটের আলোয় সে দেখতে পেল সামনে একটা কালভার্ট। আর তার ঠিক পাশেই একটা ছোট মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যার পরনে সাধারণ একটা সুতির সালোয়ার-কামিজ, আর হাতে একটা টর্চলাইট। মেয়েটা তীব্র আলো দেখে চোখ দুটো হাত দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করছে।
​শাহমীর সজোরে বাইকের ব্রেক কষল। টায়ারের তীক্ষ্ণ শব্দে পুরো চারপাশ কেঁপে উঠল। কালভার্টের ঠিক দু-হাত দূরে এসে বাইকটা থামল। ঝাকুনি খেয়ে শাহমীর বাইক থেকে নেমে তীব্র গলায় চেঁচিয়ে উঠল,
​&quot;হোয়াট দ্য হেল! মাঝরাতে রাস্তার মাঝখানে এভাবে কেউ দাঁড়িয়ে থাকে? মরার শখ হয়েছে আপনার?&quot;
​মেয়েটি ভয় পেয়ে দু-পা পিছিয়ে গেল। টর্চের আলোটা শাহমীরের মুখের ওপর পড়তেই সে দেখতে পেল, মেয়েটির বড় বড় চোখ দুটোতে একরাশ আতঙ্ক আর জল ছলছল করছে। মেয়েটি কাঁপাকাঁপা গলায় বলল, &quot;আ... আমি তো রাস্তার মাঝে ছিলাম না। আমার মা খুব অসুস্থ, তাই ডাক্তার ডাকতে যাচ্ছিলাম...&quot;
মেয়েটির কথায় শাহমীরের রাগটা মুহূর্তেই স্তিমিত হয়ে গেল। পেশাগত দায়িত্ববোধ আর ভেতরের ডাক্তার সত্তাটা ওনার অবাধ্য ক্ষোভের ওপর আধিপত্য বিস্তার করল। ও চিনতে পারল না এই মেয়েটি কে বা কোথা থেকে এসেছে, তবে মাঝরাতে একটা মেয়ের এভাবে অসহায় অবস্থায় ছুটে চলাটা ওনাকে কিছুটা ভাবিয়ে তুলল।
​শাহমীর বাইক থেকে নেমে গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করল, &quot;আপনার মায়ের কী হয়েছে? আর এই রাতে ডাক্তার পাবেন কোথায়?&quot;
​মেয়েটি ওনার গম্ভীর কণ্ঠস্বরে কিছুটা ভরসা পেয়ে বলল, &quot;মায়ের খুব বেশি জ্বর, সাথে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। বিকেলের দিকে ওষুধ এনেছিলাম, কিন্তু এখন অবস্থা আরও খারাপ। বাজারের বড় ডাক্তারের চেম্বার তো বন্ধ, ওনার বাড়ির দিকেই যাচ্ছিলাম।&quot;
​&quot;বাজারের ডাক্তার দিয়ে এখন আর লাভ হবে না। নেবুলাইজার বা অক্সিজেন লাগতে পারে,&quot; শাহমীর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে নিজের মনেই বলল। এরপর মেয়েটির দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল, &quot;আমি একজন ফিজিশিয়ান। চলুন, আপনার মাকে আমি গিয়ে দেখছি। বাইকে উঠুন।&quot;
​মেয়েটি প্রথমে কিছুটা ইতস্তত করল, কিন্তু মায়ের অবস্থার কথা চিন্তা করে আর দ্বিধা না করে বাইকের পেছনে গিয়ে বসল। শাহমীর বাইক ঘুরিয়ে মেয়েটির দেখানো পথ ধরে দ্রুত গতিতে একটা মাটির বাড়ির সামনে এসে পৌঁছাল।
​বাড়ির ভেতরে ঢুকে শাহমীর দেখল মাঝবয়সী একজন মহিলা বিছানায় শুয়ে ছটফট করছেন। ওনার শ্বাস নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। শাহমীর কোনো সময় নষ্ট না করে ওনার পালস চেক করল এবং স্টেথোস্কোপ না থাকলেও ওনার বুক ও পিঠের শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিক কিছু জরুরি ইনজেকশন আর ড্রপ (যা ওনার ইমার্জেন্সি কিট-ব্যাগে সবসময় থাকে) পুশ করল।
​প্রায় ঘণ্টাখানেক পর মহিলার শ্বাসকষ্ট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এল এবং তিনি ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়লেন। মেয়েটি এতক্ষণ এক কোণে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে কাঁদছিল। মায়ের শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হতে দেখে ও শাহমীরের দিকে কৃতজ্ঞ চোখে তাকাল।
​শাহমীর ব্যাগটা গুছিয়ে নিয়ে মেয়েটির উদ্দেশ্যে বলল, &quot;উনার কন্ডিশন এখন স্টেবল। ভোরের দিকে আমি কিছু প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়ে যাব, শহর থেকে ওষুধগুলো আনিয়ে নেবেন। এখন ওনাকে ঘুমাতে দিন।&quot;
​মেয়েটি ওনার সামনে এসে হাত জোড় করে বলল, &quot;আপনাকে কী বলে ধন্যবাদ দেব আমি জানি না। এই মাঝরাতে আপনি না এলে আমার মা হয়তো...&quot; ও আর বলতে পারল না, ওনার চোখ দিয়ে আবার জল গড়িয়ে পড়ল।
​শাহমীর আলতো করে মাথা নেড়ে বলল, &quot;এটা আমার দায়িত্ব ছিল। আপনি সাবধানে থাকুন।&quot; ও মেয়েটির নাম কিংবা পরিচয় জানার কোনো কৌতূহল দেখাল না। নিজের মনের বিক্ষিপ্ত চিন্তায় ও এতটাই মগ্ন ছিল যে, চারপাশের অন্য কোনো কিছু ওনাকে স্পর্শ করছিল না।
​বাড়ি থেকে বের হয়ে শাহমীর আবার বাইকে স্টার্ট দিল। ভোরের আলো ফুটতে আর মাত্র কিছুটা সময় বাকি। এতক্ষণের ধকল আর ঠাণ্ডা বাতাসে ওনার মাথার ভেতরের তীব্র জেদ আর রাগটা কিছুটা হলেও থিতিয়ে এসেছে। ও বুঝতে পারল, এই অবস্থায় হুট করে ঢাকা চলে যাওয়াটা কোনো সমাধান নয়, বরং বাড়িতে তার মা এবং বাকিরা ওনার জন্য ভীষণ দুশ্চিন্তা করছে।
নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পর ওনার মনের অস্থিরতা অনেকটাই কমে এল। তাই ও আর ঢাকার দিকে না গিয়ে বাইকের হ্যান্ডেলটা ঘুরিয়ে আবার ওনাদের ফুপাতো বাড়ির পথ ধরল। সকালের আলো ফোটার আগেই ও নিঃশব্দে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল, যাতে বাকি রাতটুকু একটু ঠান্ডা মাথায় পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাবা যায়।
~
ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি, চারপাশটা হালকা কুয়াশায় ঢাকা। শাহমীর যখন বাইক নিয়ে বাড়ির উঠোনে এসে দাঁড়াল, তখনো পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ। বাইকের ইঞ্জিন বন্ধ করে সে নিঃশব্দে বারান্দায় এসে বসল। ঠাণ্ডা হাওয়া আর রাতের ওই আকস্মিক মেডিকেল ইমার্জেন্সির ধকল শেষে তার মাথা এখন অনেকটাই শান্ত। তবে বিয়ের চিন্তাটা মাথায় আসতেই আবার কপালে ভাঁজ পড়ল।
​ঠিক তখনই সদর দরজা খোলার মৃদু শব্দ হলো। সৈকত চোখ ডলতে ডলতে বাইরে বেরিয়ে আসছিল। উঠোনে শাহমীরের বাইক আর বারান্দায় স্বয়ং শাহমীরকে বসে থাকতে দেখে তার চোখ দুটো চড়কগাছে উঠল। সে দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে নিচু গলায় বলল,
​&quot;কিরে! তুই না রাতে ঢাকা চলে গেলি? আবার ফিরে এলি যে? আর তোর ফোন বন্ধ কেন?&quot;
​শাহমীর ক্লান্ত চোখে সৈকতের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। পকেট থেকে ফোনটা বের করে অন করতে করতে বলল, &quot;রাস্তার মাঝে একটা ইমার্জেন্সি কেস ছিল। এক মাঝবয়সী মহিলার সিভিয়ার অ্যাজমা অ্যাটাক হয়েছিল, তাই আটকা পড়ে গিয়েছিলাম। আর রাগ? রাগ এখনো কমেনি রে সৈকত। কিন্তু পালিয়ে যাওয়াটা যে কোনো সলিউশন না, সেটা বুঝতে পেরে ফিরে এলাম।&quot;
​সৈকত একটু গম্ভীর হয়ে শাহমীরের পাশে বসল। তার কাঁধে হাত রেখে বলল, &quot;মামা কিন্তু ওনার সিদ্ধান্তে অনড়। তুই কী করবি ভেবেছিস? মাত্র ক্লাস টেনের একটা মেয়ে, যার সামনে এসএসসি পরীক্ষা—ওকে তুই কীভাবে মেনে নিবি? মামা তোকে বোঝানোর দায়িত্ব আমার ওপর দিয়ে গেছেন, কিন্তু সত্যি বলতে, আমি নিজেই এই ডিসিশনটা মেনে নিতে পারছি না।&quot;
​শাহমীর সোজা হয়ে বসে শক্ত গলায় বলল, &quot;আমিও মানব না। বাবা যে জেদ ধরেছেন, আমি তার একটা মাঝপন্থা বের করেছি। যেহেতু বাবা ওনার মৃত বন্ধুর পরিবারকে দেওয়া কথা রাখতে চান, তাই বিয়েটা হবে। কিন্তু, সেটা হবে শুধুমাত্র কাগজে-কলমে। বিয়ের পর ওই মেয়ে এই বাড়িতে ওনাদের মেয়ের পরিচয়েই থাকবে, যেমনটা বাবা নিজেই বলেছিলেন। আমার প্রফেশনাল লাইফ বা পার্সোনাল স্পেসে ওই বাচ্চার কোনো স্থান থাকবে না। ও নিজের মতো পড়াশোনা করবে, বড় হবে। ব্যস, এর বেশি কিছু নয়।&quot;
​সৈকত শাহমীরের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। সে বুঝতে পারল, শাহমীর তার জেদ আর প্রফেশনাল ডিগনিটি বজায় রাখার জন্য একটা নিখুঁত চাল চেলেছে।
​সকাল গড়াতেই বাড়িতে বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেল। রশিদ চৌধুরীর কড়া নির্দেশে ধুমধাম না হলেও, ঘরোয়াভাবে আকদের সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হলো। শাহমীর পুরোটা সময় একবারে নির্বিকার রইল। তার চোখে-মুখে কোনো আনন্দ নেই, শুধু আছে এক অদ্ভুত উদাসীনতা।
​বিকেলের দিকে কাজি সাহেব এলেন। গ্রামের অল্প কিছু গণ্যমান্য মানুষের উপস্থিতিতে ড্রয়িংরুমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। শাহমীর যখন কাগজে সই করছিল, তখনো সে জানত না কার সাথে তার জীবনের এই অদ্ভুত চুক্তিটা হতে যাচ্ছে। কনের নাম যখন বলা হলো, শাহমীর সেদিকে বিন্দুমাত্র মনোযোগ দিল না। তার মাথায় তখনো ঘুরপাক খাচ্ছে ঢাকা ফেরার তাড়া।
​আকদ শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যায় যখন কনেকে ওনাদের বাড়িতে নিয়ে আসা হলো, তখনো শাহমীর ড্রয়িংরুমের এক কোণে ল্যাপটপ নিয়ে কলিগদের মেইল চেক করছিল। রিমি চৌধুরী নতুন বউয়ের হাত ধরে ঘরের ভেতরে নিয়ে এলেন।
​ঠিক তখনই সৈকত শাহমীরের কনুইয়ে একটা ধাক্কা দিয়ে ফিসফিস করে বলল, &quot;কিরে, অন্তত একবার তো চোখ তুলে দেখ তোর বউকে! ওনারা তো ভেতরে নিয়ে যাচ্ছেন।&quot;
​শাহমীর অত্যন্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে দরজার দিকে তাকাল। আর ঠিক তখনই তার পুরো শরীর যেন জমে বরফ হয়ে গেল।
​লাল বেনারসি আর ওড়নায় জড়ানো কনেটি যখন মাথা নিচু করে ওনার মায়ের সাথে ঘরের ভেতর যাচ্ছিল, তখন ওড়নার আড়াল থেকে তার মুখের একপাশ স্পষ্ট দেখা গেল। বড় বড় চোখ, শান্ত অবয়ব—এ তো সেই মেয়েটি! যাকে ও গত রাতে কালভার্টের পাশে অসহায় অবস্থায় পেয়েছিল, যার মায়ের চিকিৎসা ও নিজে করে এসেছে!
​শাহমীর নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। গতরাতের সেই অসহায় মেয়েটিই তাহলে তুবা বিনতে ইউসুফ! যাকে সে মনে মনে তীব্র অবহেলা করছিল, সে-ই এখন তার বিবাহিত স্ত্রী। তবে শাহমীর তার ভেতরের সমস্ত বিস্ময় আর ধাক্কাকে এক নিমেষে চেপে ফেলল। তার শীতল ও উদাসীন ভাবমূর্তিতে কোনো পরিবর্তন এল না।
​বিয়ের পরের দিনই রশিদ চৌধুরী এবং রিমি চৌধুরী তুবাকে সাথে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। শাহমীরের স্পষ্ট শর্ত মেনে তুবাকে এই বাড়িতে আপাতত রশিদ চৌধুরীর মেয়ের পরিচয়েই রাখা হলো। তুবার থাকার ব্যবস্থা হলো একদম আলাদা একটা গেস্ট রুমে। শাহমীর প্রথম দিনই ঠান্ডা গলায় তুবাকে পরিষ্কার জানিয়ে দিল,
​&quot;এই বাড়িতে তুমি শুধু আমার বাবার বন্ধুর মেয়ে হিসেবে আছ, তার বেশি কিছু নও। আমার পার্সোনাল স্পেস, আমার লাইফস্টাইল বা আমার কোনো জিনিসে তোমার যেন কোনো অধিকার না থাকে। নিজের পড়াশোনা নিয়ে থাকবে, ব্যস।&quot;
​তুবা মাথা নিচু করে চোখের জল আড়াল করল। শাহমীরের এমন কঠোর রূপ সে গতরাতে দেখেনি। তবে সে মুখ বুজে সব মেনে নিল। সামনে তার এসএসসি পরীক্ষা, তাই সে সারাদিন নিজের ঘরেই পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকত।
​কিন্তু বিপত্তিটা ঘটল সপ্তাহখানেক পর।
​শাহমীর তার মেডিক্যাল কলেজের অত্যন্ত জরুরি এবং লাইফ-সেভিং কিছু পেশেন্ট রিপোর্ট, কনফারেন্সের মূল থিসিস পেপার এবং তার দীর্ঘদিনের গবেষণার কিছু আসল নথিপত্র ড্রয়িংরুমের টেবিলে সাজিয়ে রেখেছিল। ওগুলো এতটাই সংবেদনশীল ছিল যে সেটার কোনো ডুপ্লিকেট কপি বা ব্যাকআপ ছিল না। বিকেলে তুবা পড়ার ফাঁকে ড্রয়িংরুমে একটু পানির জন্য এসেছিল। টেবিলের ওপর ওভাবে কাগজগুলো ছড়ানো দেখে সে ভাবল এগুলো হয়তো অপ্রয়োজনীয় পুরনো কাগজ। না বুঝেই সে ঘর পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে সেই অতি মূল্যবান গবেষণার নথিপত্রগুলো একসাথে করে ডাস্টবিনে ফেলে দেয় এবং ময়লাওয়ালা এসে বিকেলেই তা নিয়ে চলে যায়।
​সন্ধ্যায় শাহমীর যখন হাসপাতাল থেকে ফিরে ড্রয়িংরুমে ওগুলো খুঁজতে গেল, তখন কোথাও কাগজগুলো না পেয়ে তার পুরো মাথা গরম হয়ে গেল। সারা ঘরের সবাইকে জিজ্ঞেস করার পর তুবা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে এসে বলল, &quot;আ... আমি ওগুলো পুরনো কাগজ ভেবে ফেলে দিয়েছি...&quot;
​&quot;কী বললে?!&quot; শাহমীরের কণ্ঠ চিরে যেন সিংহ গর্জে উঠল। তার দীর্ঘ পাঁচ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম, শত শত রোগীর ডাটা আর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় থিসিস পেপার এই মেয়েটা এক মুহূর্তে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে!
​রাগে, ক্ষোভে আর চরম উন্মাদনায় শাহমীরের ডাক্তার সুলভ সমস্ত ধৈর্য ও বিবেক এক সেকেন্ডে বিলীন হয়ে গেল। সে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে তুবার সামনে এসে দাঁড়াল। তুবা কিছু বুঝে ওঠার আগেই শাহমীর তার ডান হাতটা বাতাসে তুলল।
​ঠাস! ঠাস! ঠাস!
একে একে গুনে গুনে বাইশটি (২২) প্রচণ্ড থাপ্পড় সে তুবার নরম গালে বসিয়ে দিল। প্রতিটা থাপ্পড়ের আঘাতে তুবার কচি মুখটা একপাশ থেকে অন্যপাশে ছিটকে পড়তে লাগল। তুবা সামলাতে না পেরে মেঝেতে আছাড় খেয়ে পড়ল, ঠোঁটের কোণ ফেটে তাজা রক্ত গড়িয়ে পড়ল মেঝেতে। তার পুরো গাল মুহূর্তের মধ্যে কালশিটে পড়ে ফুলে উঠল। প্রচণ্ড ব্যথায় আর ভয়ে তুবা একটা শব্দও করতে পারল না, শুধু মেঝেতে কুঁকড়ে গিয়ে নিঃশব্দে কাঁদতে লাগল।
​হলঘরের এই ভয়াবহ আওয়াজ পেয়ে রিমি চৌধুরী আর সৈকত হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এল। সৈকত দ্রুত এসে শাহমীরকে পেছন থেকে শক্ত করে জাপটে ধরল, &quot;শাহমীর! তুই পাগল হয়ে গেছিস? কী করছিস এটা! ও একটা বাচ্চা মেয়ে!&quot;
​রিমি চৌধুরী তুবার এই রক্তাক্ত আর বিধ্বস্ত অবস্থা দেখে চিৎকার করে উঠলেন, &quot;শাহমীর! তুই একটা মেয়ের গায়ে এভাবে হাত তুললি? তাও আবার এত বড় শাস্তি!&quot;
​শাহমীর হাঁপাচ্ছিল, তার চোখ দুটো তখনো জবা ফুলের মতো লাল। সে সৈকতের বাঁধন ঝটকা মেরে সরিয়ে দিয়ে তুবার দিকে আঙুল উঁচিয়ে বরফশীতল কণ্ঠে বলল, &quot;আজ ও আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করেছে। ও যদি এই মুহূর্তে আমার সামনে থেকে দূর না হয়, তবে আমি এর চেয়েও খারাপ কিছু করে বসব!&quot;
​বলেই শাহমীর নিজের ঘরের দরজাটা সজোরে বন্ধ করে দিল। তুবা মেঝেতে পড়ে তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগল, তার চোখের জল আর ঠোঁটের রক্ত মিশে একাকার হয়ে গেল।
~
নিজের ঘরের দরজাটা সজোরে বন্ধ করে দেওয়ার পর শাহমীর ধপ করে বিছানায় বসে পড়ল। তার চারপাশটা যেন আচমকা স্তব্ধ হয়ে গেছে। হাতের তালুটার দিকে তাকাতেই সে দেখল তা এখনো কাঁপছে। তুবার নরম গালে ওই চটাচট বাইশটি থাপ্পড় মারার পর নিজের হাতটাই যেন এখন তার কাছে এক বিষাক্ত অস্ত্র বলে মনে হচ্ছে।
​ধীরে ধীরে রাগের পারদ নেমে আসতেই শাহমীরের ভেতরের পেশাদার ডাক্তার এবং একজন সচেতন মানুষ জাগ্রত হলো। সে দুই হাতে মাথা চেপে ধরল। নিজের গবেষণার নথিপত্র হারানোর ক্ষতিটা অপূরণীয়, সন্দেহ নেই; কিন্তু তাই বলে একটা ছোট মেয়ের ওপর এভাবে চড়াও হওয়া? তাও আবার গুনে গুনে বাইশটি থাপ্পড়! তুবার ওই রক্তাক্ত ঠোঁট আর কালশিটে পড়া মুখের ছবিটা চোখের সামনে ভেসে উঠতেই শাহমীরের বুকটা এক অজানা অপরাধবোধে মোচড় দিয়ে উঠল। সে মনে মনে নিজেকেই ধিক্কার দিল—&quot;ছিঃ শাহমীর! তুই একজন শিক্ষক, একজন ডাক্তার! রাগ তোকে এতটা পশুতুল্য বানিয়ে দিল?&quot; অনুতাপের এক চরম আগুনে পুড়তে পুড়তে সে ঘরের দেয়াল ঘেঁষে মেঝেতে বসে পড়ল।
​এদিকে ড্রয়িংরুমে রিমি চৌধুরী যখন তুবার ঠোঁটের রক্ত মুছে দিচ্ছিলেন, তখন তুবা যন্ত্রণায় কাঁপতে কাঁপতেই এক অদ্ভুত জেদ বুকে চেপে উঠে দাঁড়াল। সে বুঝতে পেরেছে, সে যা হারিয়েছে তা শাহমীরের জীবনের কতটা মূল্যবান সম্পদ ছিল। নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত তাকে করতেই হবে।
​তুবা রিমি চৌধুরীর হাতটা চেপে ধরে রক্তাক্ত ঠোঁটেই ফিসফিস করে বলল, &quot;মামী... বিকেলের ওই ময়লাওয়ালা কোন দিকে যায় আপনি জানেন? ওনাদের কোনো নির্দিষ্ট বসার জায়গা বা অফিস আছে এখানে?&quot;
​রিমি চৌধুরী অবাক হয়ে বললেন, &quot;এই অবস্থায় তুই ওসব কী বলছিস তুবা? আগে তোর গালে বরফ দিই, ওষুধ খাইয়ে দিই।&quot;
​&quot;না মামী, আমার কিচ্ছু হয়নি। প্লিজ আমাকে ওই ময়লাওয়ালার ঠিকানাটা দাও। আমি ওনার কাগজগুলো এনে দেবই,&quot; তুবার চোখে তখন এক দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।
​তুবার জোরাজুরিতে রিমি চৌধুরী বাধ্য হয়ে জানালেন যে, এই এলাকার ময়লা বহনের ভ্যানগুলো সন্ধ্যার পর অদূরেই একটা বড় ডাম্পিং স্টেশনে গিয়ে জড়ো হয় এবং সেখান থেকে বড় ট্রাকে করে ময়লা শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
​ঠিকানাটা শোনামাত্রই তুবা নিজের গালের তীব্র যন্ত্রণা উপেক্ষা করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। সৈকত তাকে থামাতে চেয়েও পারল না। রাতের অন্ধকার আর হালকা কুয়াশাকে তোয়াক্কা না করে, তুবা প্রায় ছুটতে ছুটতে সেই ডাম্পিং স্টেশনের দিকে রওনা হলো। তার মনে শুধু একটাই প্রার্থনা—কাগজগুলো যেন নষ্ট না হয়ে যায়, শাহমীরের ওই কঠোর চোখের অনুতাপ যেন সে দেখতে পায়।
~
ঘড়ির কাঁটা রাত দশটা পেরিয়ে এগারোটার ঘরে ছুঁইছুঁই, কিন্তু তুবা এখনো বাড়ি ফেরেনি। বাইরে অন্ধকার আরও গাঢ় হয়েছে, সাথে নামছে কনকনে ঠাণ্ডা। ড্রয়িংরুমে অস্থিরভাবে পায়চারি করছিল সৈকত। রিমি চৌধুরী সোফায় বসে আল্লাহর নাম জপছেন আর কাঁদছেন।
​সৈকত আর থাকতে না পেরে শাহমীরের ঘরের দরজায় জোরে জোরে ধাক্কা দিল। শাহমীর দরজা খুলতেই সৈকত চেঁচিয়ে উঠল, &quot;শাহমীর, তোর কি একটুও বিবেক নেই রে? রাত এগারোটা বাজে, ওই অসুস্থ মেয়েটা এখনো একা একা বাইরে! তুই তো ওকে মেরে তাড়ালি, এখন যদি ওর কিছু হয়ে যায়? চল, ওকে খুঁজতে বের হই!&quot;
​শাহমীর নিজের ভেতরের অপরাধবোধটা আড়াল করে মুখ শক্ত করে বলল, &quot;আমি যাব না। ও নিজের বোকামির জন্য গেছে, ও নিজেই ফিরবে। আমার থিসিস পেপার হারানোর পর ওর জন্য করুণা দেখানোর মুড আমার নেই।&quot;
​&quot;তুই একটা আস্ত পাথর!&quot; সৈকত রাগ দেখিয়ে একাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল ওকে খুঁজতে।
​সৈকত চলে যাওয়ার পর শাহমীর ঘরে এসে দাঁড়াল। কিন্তু তার মন আর স্থির থাকল না। দেয়াল ঘড়ির টিকটিক শব্দ যেন তার ভেতরের অনুতাপকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিল। বাইরে এত রাত, তুবার ওই রক্তাক্ত মুখ, আর এই অচেনা শহর—সব মিলিয়ে শাহমীরের ডাক্তার মন আর কিছুতেই সায় দিল না। সে আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে নিজের গাড়ির চাবিটা তুলে নিয়ে একাই অন্ধকারের মধ্যে বেরিয়ে পড়ল।
​শাহমীর গাড়ির গতি বাড়িয়ে পুরো শহর চষে বেড়াতে লাগল। ডাম্পিং স্টেশন, বড় বড় রাস্তা, গলির মোড়—কোথাও সে তুবাকে দেখতে পেল না। যতই সময় যাচ্ছিল, শাহমীরের বুকের ভেতর এক অজানা আতঙ্ক দানা বাঁধছিল। সে হন্যে হয়ে প্রতিটি হাসপাতাল আর চেনা পথের মোড়ে মোড়ে তুবাকে খুঁজতে লাগল।
​~
​এদিকে তুবা ডাম্পিং স্টেশনে গিয়ে ময়লার স্তূপ ঘেঁটে বহু কষ্টে শাহমীরের সেই মূল্যবান ফাইল আর থিসিস পেপারগুলো উদ্ধার করেছে। সেগুলো বুকে জড়িয়ে ধরে সে যখন ক্লান্ত পায়ে একটা নির্জন, অন্ধকার গলি দিয়ে ফিরছিল, তখন তার শরীর আর চলছিল না। গালের ক্ষতটা ঠাণ্ডা বাতাসে আরও তীব্রভাবে টনটন করছে।
​ঠিক তখনই গলির মোড় থেকে তিন-চারজন বখাটে ছেলে তার পথ আগলে দাঁড়াল। তুবার বিধ্বস্ত অবস্থা আর এত রাতে একা দেখে তারা নোংরা ইঙ্গিত করতে লাগল। তুবা ভয়ে পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই একটা ছেলে তার হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দিল। অন্য একটা ছেলে তার ওড়না ধরে টান মারল এবং তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা (ফিজিক্যাল হ্যারাজ) করতে শুরু করল। তুবা কান্নায় ভেঙে পড়ে চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু একটা ছেলে তার মুখ চেপে ধরল। কাগজের ফাইলগুলো তার হাত থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে গেল।
​&quot;ছাড়ো আমাকে! প্লিজ ছাড়ো!&quot; তুবা কোনোমতে গোঙানির স্বরে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিল।
​ঠিক সেই মুহূর্তে অন্ধকার গলিটা তীব্র হেডলাইটের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠল। একটি গাড়ি প্রচণ্ড গতিতে এসে বখাটেদের ঠিক সামনে ব্রেক কষল। গাড়ি থেকে নামল শাহমীর।
​তুবার এই অবস্থা দেখে শাহমীরের চোখের মণি যেন মুহূর্তের মধ্যে রক্তবর্ণ হয়ে গেল। সে কোনো কথা না বলে বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল ওই ছেলেদের ওপর। একজন প্রফেসরের চশমা পরা শান্ত রূপ নিমেষেই উধাও হয়ে গেল; সে লাথি আর ঘুষিতে একেকটাকে মাটিতে শুইয়ে দিল। শাহমীরের এমন ভয়ংকর মারমুখী রূপ দেখে বাকি ছেলেরা প্রাণভয়ে যে যেদিকে পারল পালিয়ে গেল।
​শাহমীর হাঁপাতে হাঁপাতে তুবার সামনে এসে দাঁড়াল। তুবা তখন মাটিতে বসে কাঁপছিল। শাহমীর নিচু হয়ে মাটিতে পড়ে থাকা ধুলোবালি মাখা ফাইলগুলো আর তুবাকে একসাথে নিজের পাজাকোলা করে তুলে নিল। তুবা ভয়ে আর ক্লান্তিতে শাহমীরের বুকের ওপরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলল।
​~
​মাঝরাতে শাহমীর যখন তুবাকে কোলে নিয়ে বাড়িতে ঢুকল, তখন বসার ঘরে রশিদ চৌধুরী এসে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি এতক্ষণ জরুরি কাজে বাইরে ছিলেন এবং বাড়ি ফিরে রিমি চৌধুরীর কাছ থেকে সব ঘটনা শুনেছেন।
​তুবাকে সোফায় শোয়াতেই রশিদ চৌধুরীর চোখ গেল মেয়ের রক্তাক্ত ঠোঁট আর ফুলে যাওয়া কালশিটে গালের দিকে। ওনার দীর্ঘদিনের বন্ধুর আমানত, এই ছোট মেয়েটার ওপর এমন পাশবিক অত্যাচার দেখে ওনার পিতৃত্বের অহংকার আর ন্যায়বিচারবোধ গর্জে উঠল।
​রশিদ চৌধুরী সোজা শাহমীরের সামনে এসে দাঁড়ালেন। ওনার চোখ দিয়ে রাগের আগুন ঝরছিল। শাহমীর কিছু বলার আগেই রশিদ চৌধুরী ওনার ওপর চড়াও হলেন—শাহমীরের কলার শক্ত করে চেপে ধরে ওনাকে ঝাকুনি দিয়ে বজ্রকণ্ঠে বললেন, &quot;তোকে আমি এত বড় ডাক্তার বানিয়েছি একটা বাচ্চার ওপর এভাবে হাত তোলার জন্য? এই তোর শিক্ষা? এই তোর পুরুষত্ব? ও না বুঝে কাগজ ফেলেছে, আর তুই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ওকে পশুর মতো পিটিয়েছিস!&quot;
​শাহমীর মাথা নিচু করে রইল, বাবার এই চড়াও হওয়া সে নীরবে মেনে নিল।
​রশিদ চৌধুরী কলার ছেড়ে দিয়ে সোফায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকা তুবার মাথায় হাত রাখলেন। ওনার কণ্ঠ বুজে এল, &quot;আমি বেঁচে থাকতে এই এতিম মেয়েটার ওপর কোনো অন্যায় হতে দেব না শাহমীর। তুই যতই বড় প্রফেসর হস না কেন, তুবার প্রতি আজ তুই যে অন্যায় করেছিস, তার বিচার তোকে এই সংসারেই দিতে হবে। আজ থেকে তুই ওর ডাক্তার হতে পারিস, কিন্তু ওর কোনো স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার তোর নেই!&quot;
​শাহমীর কোনো উত্তর দিল না। সে শুধু এক দৃষ্টিতে তুবার শান্ত, রক্তাক্ত মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তার হাত উদ্ধার হওয়া থিসিস পেপারগুলোর চেয়েও যেন তুবার এই যন্ত্রণাকাতর অবয়বকে বেশি অনুভব করছিল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/273144/</link>
				<pubDate>Sat, 12 Sep 2026 06:13:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নিজের ওপর বিরক্ত হয়ে সৈকত আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকল না। দ্রুত পায়ে সে ভেতরের বারান্দা পেরিয়ে শাহমীরের মায়ের ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। ড্রয়িংরুমে তখনো একটা থমথমে নীরবতা বিরাজ করছে। রশিদ চৌধুরী গম্ভীর মুখে সোফায় বসে কোনো একটা ফাইল দেখছেন, কিন্তু ওনার চোয়াল শক্ত হয়ে থাকা বলে দিচ্ছে ভেতরের ঝড় এখনো থামেনি।<br />
​সৈকত উঁকি দিয়ে দেখল মামী রি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-273144"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/273144/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">189d90162116ab972db246bb62b73a6f</guid>
				<title>Ariyan Abir changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/272351/</link>
				<pubDate>Thu, 10 Sep 2026 04:25:11 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">90e0b1cfb0fd981ab697bcc6686a577e</guid>
				<title>​&quot;আমি মেডিক্যাল কলেজের একজন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, আর তোমরা কোনো আলোচনা ছাড়াই ক্লাস টেন-এ পড়া একটা বাচ্চার সাথে আমার লাইফ জড়িয়ে দিতে চাইছ? তোমাদের ডিসিশনটা কি আদেও নরমাল?&quot;
​শাহমীরের তীব্র আপত্তির মুখে তার মা বেশ বিরক্ত হয়ে জবাব দিলেন,
​&quot;আমার ওপর রাগ দেখিয়ে লাভ নেই শাহমীর। যা বলার তোমার বাবাকে সরাসরি গিয়ে বলো। আর মেয়েটার তো আর মাত্র কয়েকটা দিন পর এসএসসি পরীক্ষা। তারপর তো ও কলেজে উঠবেই, তখন আর পিচ্চি থাকবে না। এত অস্থির হওয়ার কিছু নেই।&quot;
​শাহমীর রাগে ফেটে পড়ার মতো অবস্থায় পৌঁছে গেছে। উনত্রিশ বছরের একজন সুপ্রতিষ্ঠিত পুরুষ সে, ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত। বিয়ে সে করবে না—এমন গোঁয়ার্তমি কখনো করেনি। কিন্তু তাই বলে এত কম বয়সী একটা মেয়েকে এই মুহূর্তে নিজের স্ত্রী হিসেবে মেনে নেওয়া? ভাবতেই তার পুরো শরীর গুলিয়ে উঠছে। অসম্ভব, এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
​ডান হাতের দুই আঙুল দিয়ে সে কপালে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু ঘাম আর বিরক্তি লেপ্টে দিল। অবাধ্য কিছু চুলের গোছা কপাল ছুঁয়ে তার চোখের ওপর এসে পড়েছে। শার্টের হাতা দুটো কনুই পর্যন্ত গুটানো। রাগের চোটে হাতের চওড়া রগগুলো চামড়ার ওপর স্পষ্ট ভেসে উঠেছে। কপাল থেকে হাত সরিয়ে মাথার চুলে আঙুল চালিয়ে নিজেকে শান্ত করার একটা শেষ চেষ্টা করল সে, যদিও তার ভেতরের ঝড় তাতে বিন্দুমাত্র কমল না।
​হঠাৎ করেই সোফা ছেড়ে ঝটকা মেরে দাঁড়িয়ে পড়ল শাহমীর। ঘরের থমথমে ভাবটা ভেঙে বেশ চড়া আর ক্ষুব্ধ গলায় বলল,
​&quot;আই সিরিয়াসলি থিংক, তোমাদের দুুজনেরই মেন্টাল চেকআপ দরকার। তা না হলে এত বড় একটা ইললজিক্যাল সিদ্ধান্ত তোমরা আমার ওপর চাপিয়ে দিতে পারতে না। তোমরা রেডি হও, কাল সকালেই আমি নিজে তোমাদের ভালো কোনো সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে নিয়ে যাচ্ছি। দ্যাটস ফাইনাল!&quot;
​ছেলের এমন মারমুখী আর ক্ষ্যাপাটে রূপ দেখে মা রিমি চৌধুরী পুরো হতভম্ব হয়ে গেলেন। নিজের কানকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না। একটা সামান্য বিয়ের কথা শুনে ছেলে তাদেরই পাগল বানিয়ে দিচ্ছে? এবার নিজের রাগ ধরে রাখতে না পেরে তিনিও চেঁচিয়ে উঠলেন,
​&quot;নিজের সীমানা ছাড়িয়ে যাচ্ছ শাহমীর! বড়দের সাথে কথা বলার কোনো ম্যানার্স শেখোনি? তোমার বাবার ছোটবেলার বন্ধু বিপদের দিনে কতটা পাশে দাঁড়িয়েছিল, সেটা তোমার ধারণা নেই। আজ সেই মানুষটা দুনিয়ায় নেই, তার পরিবারটা অথৈ সাগরে পড়েছে। বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আর ওই পরিবারটার দায়িত্ব নেওয়া কি আমাদের কর্তব্য নয়? একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখো।&quot;
​শাহমীর দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে দেওয়ালে পিঠ ঠেকাল। তীব্র উপহাসের সুরে বলল,
​&quot;অদ্ভুত! বাবা নিজের বন্ধুত্বের ঋণ শোধ করবে, আর সেটার জন্য কোরবানি হতে হবে আমাকে? যদি এতই দায়বদ্ধতা থাকে, তবে বাবা নিজেই দায়িত্ব নিক না কেন! আমি কোনো স্কুলের বাচ্চাকে বিয়ে করে ঘরে এনে তার লোকাল গার্ডিয়ান সেজে বসে থাকতে পারব না। অসম্ভব!&quot;
​রিমি চৌধুরী এবার সত্যি সত্যি চোখ বড় বড় করে তাকালেন। ছেলের মুখে এত বড় ধৃষ্টতা তিনি আশা করেননি। কড়া গলায় ধমকে উঠলেন,
​&quot;মুখ সামলে কথা বলো শাহমীর! কি বলছ নিজের কি কোনো হুঁশ আছে?&quot;
কথাটা মুখ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর শাহমীর নিজেও কিছুটা থতমত খেয়ে গেল। রাগের মাথায় যে সে চরম একটা বেফাঁস কথা বলে ফেলেছে, সেটা বুঝতে পেরে নিজের ওপরই চটল। চোখ দুটো শক্ত করে বুজে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মাথা নিচু করল সে। ঠিক তখনই পেছন থেকে তার বাবা রশিদ চৌধুরীর গম্ভীর ও ভারী কণ্ঠস্বর ভেসে এল,
​&quot;সিদ্ধান্ত যা হওয়ার হয়ে গেছে শাহমীর। এই বিয়েটা তোমাকে করতেই হবে। চাইলে তোমার দু-একজন কাছের বন্ধুকে খবর দিতে পারো। আগামীকাল রাতের মধ্যেই আমরা নতুন বউকে সাথে নিয়ে এখান থেকে রওনা দেব।&quot;
শাহমীর অবিশ্বাস্য চোখে তার বাবার দিকে তাকাল। গ্রামের এই বাড়িতে ফুপুর আমন্ত্রণে তারা মাত্র দুদিন আগে এসেছে। শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু ছুটি কাটাতে আসা। কিন্তু এখানে এসে তাকে এমন একটা অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে জানলে সে কোনোদিন এমুখো হতো না। বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে এবার সোজা সাপটা বলে দিল,
​&quot;বাবা, তুমি কি একবারও ভেবে দেখেছ আমি যেখানে পড়াই, সেখানে যদি এই খবর জানাজানি হয় তবে আমার প্রফেশনাল লাইফটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? একজন প্রফেসরের এমন বিয়ে সমাজ বা কলেজ কেউ ভালো চোখে দেখবে না। জেনেবুঝে কেন আমার ক্যারিয়ারটা নষ্ট করতে চাইছ?&quot;
​রশিদ চৌধুরী ছেলের যুক্তিটা একেবারে উড়িয়ে দিতে পারলেন না। কিছুক্ষণ চুপ থেকে গম্ভীর মুখে ভাবলেন। তারপর শান্ত গলায় বললেন,
​&quot;তোমার মেডিক্যাল কলেজের লোকজনের এই প্রত্যন্ত গ্রামের খবর রাখার কোনো দরকার নেই। আপাতত ও আমাদের বাড়িতে আমাদের মেয়ের পরিচয়েই থাকবে। যখন ওর বয়স হবে, পড়াশোনা শেষ করবে, তখন সামাজিকভাবে বড় করে অনুষ্ঠান করা যাবে।
​



আর তোমার কলেজের কলিগরা তো আর রোজ রোজ তোমার ড্রয়িংরুমে এসে খোঁজ নেবে না, তাই না?&quot;
​শাহমীর নিজের হাত দুটো শক্ত করে মুষ্টিবদ্ধ করল। রাগে আর অপমানে তার পুরো শরীর কাঁপছে। বাবার জেদের সামনে আর কোনো কথা না বাড়িয়ে শুধু বলল,
​&quot;আমি কোনো বাচ্চার লাইফ পার্টনার হতে পারব না। আই অ্যাম সরি। আমি আজ রাতেই ঢাকা ফিরে যাচ্ছি।&quot;
​বলেই আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে হনহন করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল সে।
​~
​&quot;তোর বাইকের চাবিটা দে তো জলদি!&quot;
​শাহমীরের এমন হুট করে এসে চাবি চাওয়ায় সৈকত বেশ অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। সে বাড়ির সামনের ল্যাম্পপোস্টটার নিচে দাঁড়িয়ে ছিল, একটু বাজারের দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। সৈকত আর শাহমীর দুজনেই সম্পর্কে মামাতো ভাই, আবার একই সাথে শহরের নামকরা মেডিক্যাল কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর। এবার ছুটির সুযোগে শাহমীরদের সাথেই সে গ্রামে বেড়াতে এসেছে। কথা ছিল আগামীকাল দুজনে একসাথেই শহরে ফিরবে।
​পকেট থেকে চাবিটা বের করে শাহমীরের দিকে এগিয়ে দিয়ে সৈকত জিজ্ঞেস করল,
​&quot;আমিও তো বাজারের দিকেই যাচ্ছিলাম। তুই হঠাৎ বাইক নিয়ে কোথায় যাচ্ছিস? কিছু হয়েছে?&quot;
​শাহমীর কোনো উত্তরের ধার ধারল না। সৈকতের হাত থেকে চাবিটা প্রায় ছিনিয়ে নেওয়ার মতো করে নিয়ে বাইকে উঠে স্টার্ট দিল। সৈকত ভ্রু কুঁচকে লক্ষ করল শাহমীরের চোখ-মুখ লাল হয়ে আছে, চরম ক্ষিপ্ত সে। বাইকের পেছনে বসার জন্য সৈকত যেই না এক পা বাড়িয়েছে, অমনি শাহমীর বাইকের এক্সিলারেটরে সজোরে মোচড় দিল।
​হুট করে বাইক টেনে দেওয়ায় সৈকত সামলাতে না পেরে ছিটকে মাটিতে পড়তে পড়তে বেঁচে গেল। কোনোমতে নিজের ভারসাম্য ধরে রেখে সে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল ধুলো উড়িয়ে চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া বাইকটার দিকে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আজ আর আস্ত থাকত না। রাস্তার মাঝখানে এভাবে আছাড় খেলে সম্মানের বারোটা বেজে যেত। দাঁত কিড়মিড় করে সে মনে মনে শাহমীরকে আচ্ছা করে গালি দিল। কার ওপর রাগ আর কে এসে খেসারত দিল!
​ঠিক তখনই ভেতর থেকে তার মামার গম্ভীর ডাক শুনে সৈকত একটু নড়েচড়ে বসল। রশিদ চৌধুরী বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে বেশ শক্ত গলায় বললেন—
“ তোমার ভাইকে বুঝাবে, কাল যেন আমার সম্মান রাখে সে ”
সৈকত মাথা চুলকাল, মানে পরিস্থিতিটা ধরতে পেরেছে। কিন্তু আসল রহস্যটা কোথায় সেটাই তো মাথায় ঢুকল না। একটু ইতস্তত করে আমতা আমতা করে জানতে চাইল,
“ ইয়ে মানে, বলছিলাম কি মামা, শাহমীরকে কি বোঝানো লাগবে? ”
রশিদ চৌধুরী ভেতরের ঘরের দিকে পা বাড়াতে বাড়াতে পেছন ফিরে সংক্ষিপ্ত উত্তর দিলেন,
​&quot;আগামীকাল এই গ্রামেরই একটা মেয়ের সাথে শাহমীরের আকদ। এটাই ওকে মেনে নিতে বলো।&quot;
​সৈকতের চোখ দুটো এবার চড়কগাছে উঠল, মুখটা বিস্ময়ে গোল হয়ে গেল। সে মনে মনে বলে উঠল,
​&quot;ওরেব্বাস! এতক্ষণে আসল কাহিনি মাথায় ঢুকল। বাপ আর ছেলের মধ্যে তাহলে এই এলাহী কাণ্ড চলছে! একজন বিয়ে করিয়েই ছাড়বে, আর অন্যজনের সাতপাঁচ ভেবে ছাদনাতলায় বসার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই। আর মামাও যে কী, ছেলের মনটা একটু বোঝার চেষ্টাও করল না! করবেই বা কেন, দুজনেই তো একই ধাতুতে গড়া। এক ইঞ্চি ছাড় দেওয়ার পাত্র কেউ নয়। একজনের জেদ বিয়ে সে দেবেই, আর অন্যজনের পণ সে কিছুতেই রাজি হবে না। এখন দেখার বিষয় এই সেয়ানে সেয়ানে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে জেতে!&quot;
​খানিকটা সময় চুপ থেকে সে কপালে হাত দিয়ে গভীর চিন্তায় মগ্ন হলো। এরপর নিজে নিজেই বিড়বিড় করতে লাগল,
​&quot;মামা তো হুকুম জারি করে চলে গেলেন, কিন্তু বেড়ালের গলায় ঘণ্টাটা কীভাবে বাঁধব, সেই বুদ্ধি তো দিয়ে গেলেন না! নিজের ছেলেকে নিজের মতোই একগুঁয়ে আর ঘাড়ত্যাড়া বানিয়ে বড় করেছেন, আর এখন তাকে সোজা করার কঠিন দায়িত্বটা চাপালেন আমার কাঁধে। এটা কোনো বিচার হলো? এই দুই বাপ-বেটা মিলে সারাজীবন আমার মামীটার জান কয়লা করে দিল। ইশ, মামীর জন্য সত্যি খুব মায়া হয়! কোথা থেকে যে এই দুটো হুবহু এক রকমের একরোখা মানুষ এসে ওনার কপালে জুটল!&quot;
​কথাগুলো আপনমনে আউড়াতে আউড়াতে হঠাৎ করেই সৈকতের খেয়াল হলো সে কী বলে ফেলছে। চট করে সে নিজের মুখে হাত চেপে ধরল। স্বগতোক্তি করার স্বরে বলল, &quot;ধ্যাত! আজ আমার মুখ দিয়ে এত উল্টোপাল্টা কথা বের হচ্ছে কেন বল তো? কোনোভাবে যদি এই দুই বাপ-বেটা আমার মনের কথা টের পায়, তবে আমাকে একসাথে ধরে তুলোধুনো করবে। তখন যে আমি কোন গর্তে পালাব, তারও ঠিকানা থাকবে না!”</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/272350/</link>
				<pubDate>Thu, 10 Sep 2026 04:23:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>​&#8221;আমি মেডিক্যাল কলেজের একজন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, আর তোমরা কোনো আলোচনা ছাড়াই ক্লাস টেন-এ পড়া একটা বাচ্চার সাথে আমার লাইফ জড়িয়ে দিতে চাইছ? তোমাদের ডিসিশনটা কি আদেও নরমাল?&#8221;<br />
​শাহমীরের তীব্র আপত্তির মুখে তার মা বেশ বিরক্ত হয়ে জবাব দিলেন,<br />
​&#8221;আমার ওপর রাগ দেখিয়ে লাভ নেই শাহমীর। যা বলার তোমার বাবাকে সরাসরি গিয়ে বলো। আর মেয়েটার তো আর মাত্র কয়েকটা দিন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-272350"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/272350/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>