Profile Photo

মুসকান হিম্রাদিতা - ছদ্মনামOffline

  • FarhadLamisa
  • গল্পের নাম : ” সেই_রাত ”
    লেখনীতে : “মুসকান_হিম্রাদিতা”
    পর্ব – ১

    অন্ধকার ঘরের ভঙ্গুর চৌকির উপর নগ্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে শারমিন।গত তিন ঘন্টা যাবৎ তার সাথে নির্মম অত্যাচার হচ্ছিলো।টিউশনি করিয়ে বাসায় ফিরার পথে আচমকা পিছন থেকে মুখ চেপে ধরে টানতে টানতে রাস্তার পিছনে খালের পাড়ে বন্ধ ঘরে এনে তার সাথে অত্যাচার শুরু করা হয়।যখন খালের পাশ দিয়ে তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো তখন নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করার পর ও শারমিন তার থেকে নিজেকে ছাড়াতে পারেনি।আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছিলো নিজেকে রক্ষা করার।অনবরত মনে মনে আল্লাহ তা”আলার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছিলো যেন কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটে।যেন শেষ মুহূর্তে এসে নিজেকে বাচাতে পারে।কিন্তু না, ঘটেনি কোনো অলৌকিক কিছু।যখন বন্ধ ঘরে এনে শারমিনকে ধাক্কা মেরে চৌকির উপর ছুড়ে ফেলে দরজা কোনো রকম টেনে বন্ধ করে পিছনে ফিরে। জোরে ছুড়ে ফেলার কারনে চৌকির কোনার সাথে কোমরে ব্যাথা লাগে শারমিনের। কিন্তু নিজেকে বাচানোর জন্য আকুতি করেনি।বরং রক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে ছিল নরপিশাচের দিকে। ঠোঁট অনবরত কাপছে তার।চোখে পানি আটকে আছে।নরপিশাচ ঝাপিয়ে পড়ে তার শরীরের উপর। কুকুরের মত খুবলে খুবলে নিচ্ছে শরীরটাকে। জোরে জোরে খামচি দেওয়ায় শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে রক্ত জমাট বেধে গেছে।কিন্তু এতকিছুর পর ও শারমিন কোনো প্রতিবাদ করেনি।এমনকি বাধাঁ ও দেয়নি।নিজের শরীরকে সে একজন নরখাদক এর হাতে তুলে দিয়েছে।কিন্তু প্রতিটি সেকেন্ড সে আল্লাহকে ডেকেছে।তার সাথে ঘটা ঘটনার সাক্ষ্য দান করেছে আল্লাহ তা”আলা কে।টানা তিনঘন্টার পর সেই নরখাদক তার শরীর ছেড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে নিজেকে পোশাকে আবৃত করে।মুখে পিশাচী হাসি দিয়ে বলে – “এটা তার ২১ তম ধর্ষন।কিন্তু তুই কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাস নাই,তাই স্বাদটা ঠিকমতো মিটছিলো না।কিন্তু এখন মনপ্রান সব একদম ভরে গেছে ” – বলেই উচ্চস্বরে হাসা শুরু করে দিলো।আবার বলতে শুরু করলো – ‘এখন পুলিশের কাছে যাবি,আমার নামে নালিশ দিবি কিন্তু বিচার পাবি না।কেন জানস?আমি পুলিশ আমার পকেটে নিয়ে ঘুরি।যা যা বাসায় চলি যা।কেউ দেখে ফেললে আবার তোর উপর ক্ষিদা মিটাইতে আসবে।’ __হা হা হা___
    একলা সুয়ে আছে শারমিন। এখনো নগ্ন।ভাবছে এই মুহুর্তে কি করা উচিত ___!!পুলিশের কাছে গিয়ে তার সাথে ঘটা অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে নাকি যা হয়েছে তা নিয়তি ভেবে মেনে নিবে।মাথাটা বড্ড হালকা লাগছে।আজকে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার আগেও জানতো না তার আজ জীবন বদলে যাবে।অসহায়ের ন্যায় এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার জামা-কাপড়ের দিকে।মেয়েদের পোষাক ই তাদের সম্মান রক্ষা করে?যদি তা ই হয় তবে পোশাক এভাবে নিচে না ফেলে সেটা মাথায় বহন করা উচিত। এসব ভাবতে ভাবতেই উঠে দাড়ালো। সারা শরীর অসহ্যরকম ব্যথা।বাড়ি ফিরতে হবে। তার জন্য পরিবারের কোনো ক্ষতি হতে পারে না।

    ১৫ বছর পর_____

    -মামা,মাল দুইডারে দেহো!
    – হ, সেই মাল! ট্যাহা পাই নাই ত কি হইছে, খাবার ত পাইছি – বলেই উচ্চস্বরে ৪/৫ জনের একটা দল হাসতে হাসতে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই নারীর নিকট এগোতে লাগলো।
    – আম্মু আমাকে বাচাও,আম্মু!
    – ওরে ছেড়ে দেন বলছি,ছাড় শয়তান।
    – আরে তোমার ছেড়ীরে কি বাচাইবা তুমি,তোমারে কে বাচায় হেইডা ভাবো।
    – ছাড়েন ভাই, দয়া করে ছাড়েন।আমি কিন্তু… আমি পুলিশে খবর দিবো।১০ বছরের জেল হয়ে যাবে কিন্তু আপনাদের সবার।
    – আরে পুলিশের ভয় দেখায় কামাল ভাই।ওরে বাবা আমি ত ভয় পাচ্ছি খুব।হা..হা..হা,পুলিশ আমি পকেটে নিয়ে হাটি বুঝছো – বলেই চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে স্বপ্নাকে বিছানায় ফেলে একটানে শাড়ি বুকের থেকে সরিয়ে সামনে হুইল চেয়ারে বসে থাকা ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে গগন কাপানো হাসি দিলো।
    সামনে বসে থাকা ব্যক্তিটি নিজের সাথে চেষ্টা করেও রক্ষা করতে পারেনি তাদের।তারই চোখের সম্মুখে তার স্ত্রী এবং কন্যাকে একদল জানোয়ার এসে হত্যা করে গেলো তাদের সম্মান।স্বপ্না কোনোরকম উঠে শরীরে কাপড় জড়িয়ে তার উলঙ্গ মেয়ের নিকট বসলো।মেয়ে মাকে পেয়ে জড়িয়ে ধরে চোখের পানি দিয়ে নিজের সাথে হওয়া অন্যায়ের ধিক্কার জানাতে লাগলো।

    গত একসপ্তাহ পুলিশের কাছে ঘুরে ও ন্যায় পায়নি স্বপ্না ও রুপা।ন্যায় পাওয়া ত দুরের কথা ধর্ষকদের ধরার জন্য পুলিশের কোনো আগ্রহ প্রকাশ পায়নি।নিরুপায় চোখের জল ফেলা ছাড়া তাদের আর কিছু করার ছিলো না।কত মিডিয়া, কত বিজ্ঞাপন প্রচার হয়েছে।কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।উল্টো ধর্ষিতা হওয়ার কারনে রাস্তায় বের হলে কটুবাক্য শুনতে হয়েছে।কিছু মানুষের কথা শুনে মনে হয়েছিল তারা ইচ্ছা হয়ে ধর্ষিত হতে চেয়েছিলো।তাদের মাথায় ই এলো না মেয়েটার বয়স মাত্র ১৩ বছর।এত ছোট বয়সে এইরকম ধাক্কা সে সইতে পারছে না।এসব কিছু স্বপ্না তার স্বামীর হাটুর উপর মাথা রেখে চিন্তা করছিলো। হঠাৎ টেলিফোনের শব্দ কানে এলো।স্বপ্না নিজেকে সামলে নিয়ে টেলিফোনটা রিসিভ করলো।ওপাশে কি নিয়ে কথা হচ্ছে তার কিছুই শুনতে পেলো না তন্ময়।হুট করে স্বপ্নার মুখে হাসি দেখে বেশ অবাক হলো সে। স্বপ্না টেলিফোনটা নামিয়ে রেখে দৌড়ে এসে তন্ময়ের পায়ের কাছে বসে বলল – ” ঔ জানোয়ারগুলোকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ”

    ——————-

    -আমি তোমার সাথে যেতে চাই।
    – কি দরকার বলো তো…
    – এমনি
    – বেশ,তবে চলো।

    গাড়ি থেকে কালো রঙের কোট পরা এক পুরুষের সাথে শাড়ি পরা এক মহিলাকে দেখতে পেলো রুপা।তারা তাদের বাসার নিচে দাঁড়িয়ে আছে। তারা উপরে তাকাতেই ছিটকে দূরে সরে গেলো সে।এখন আর কাউকে নিজের মুখ দেখাতে ইচ্ছা করে না তার।স্কুলে বান্ধুবিদের সাথে মজা করে অনেক কথা বলার কারনে বেশ বুঝতে পারে সেদিন রাতে তার সাথে কি হয়েছিলো।সেদিনের ঘটনার পর থেকে প্রয়োজনে ছাড়া ঘর থেকে বের হয়নি আর কাউকে ঢুকতে ও দেয়না।বাসায় কত লোকজন এসেছিলো এ কয়দিনে।কিন্তু তাদের সামনে রুপা যায়নি।আজ যে দুইজন নিচে দাঁড়িয়ে আছে তারাও যে তাদের বাসায়ই আসবে সেটা সে ভালোভাবেই জানে।

    কলিং বেলের শব্দে দরজা খুলে দিলো স্বপ্না।দেখলো সামনে একজন যুবকের সাথে যুবতী দাঁড়িয়ে আছে।যুবক হাসিমুখে প্রশ্ন করলো – আপনিই কি স্বপ্না?
    – জী।কিন্তু…
    – ‘এডভোকেট আকাশ চৌধুরী আর এই আমার ওয়াইফ মিসেস শারমিন চৌধুরী। ‘

    বাহিরে রোদের খা খা তাপ যেন ঢাকা শহরের সর্বত্রে ছড়িয়ে গেছে।অবশ্য এজন্য মানুষই দায়ী।মানুষ যদি প্রকৃতিকে রক্ষা করতে না পারে তবে প্রকৃতিই বা কি করার রয়েছে।সূর্যের ফিনকী আলো রুপার চোখের উপর পড়ছে।ছবিতে যে চাঞ্চল্যের আভাস দেখেছিলো সামনা-সামনি দেখে মনে হচ্ছে যেন বহুদিন ধরে গোপন কোনো রোগে আক্রান্ত। চোখের নিচে এই কয়দিনেই প্রচুর কালি জমেছে।চুল উসকোখুসকো। মনে হয়,বহুদিন তেল পড়েনি।চেহারার উপর ও কালো আবরন পড়েছে।শারমিন এতক্ষন খুটিয়ে খুটিয়ে রুপা কে দেখছিলো।এবার সাহস করে কাছে যেতেই রুপা ছিটকে দূরে সরে গেলো।
    -ভয় পেয়ো না, আমি তোমার মায়ের বন্ধু।
    কথাটা শুনে হয়ত একটু স্বস্তি পেয়েছিলো কিন্তু পরক্ষণেই আবার রেগে বলল – কেনো এসেছো?আমাকে পশুরা কেমন ক্ষতবিক্ষত করেছে তা দেখতে এসেছো।বেরিয়ে যাও।তোমরা পুলিশেরা শুধু ক্ষতের পরিমান জানতে চাও।ক্ষতের চেহারা দেখে সংবাদ করবে তারপর আবার শেষ। এই যাও তো বেরিয়ে যাও এই ঘর থেকে। ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিতে গেলে স্বপ্না এসে দাড়ালে আবার চুপ হয়ে যায় রুপা।
    চলবে….

    (গল্পটি কেমন লেগেছে জানাবেন।যদি ভালো লাগে তাহলে পরের পর্ব নিয়ে আসবো।যদি গল্প ভালো লাগে তাহলে গল্প শেয়ার করবেন কিন্তু দয়া করে কপি করবেন।ধন্যবাদ সবাইকে)

Skip to toolbar