<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | ইহতেমাম ইলাহী | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/ihtemamelahi/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/ihtemamelahi/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for ইহতেমাম ইলাহী.</description>
	<lastBuildDate>Wed, 10 Jun 2026 10:30:17 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">1a1d0b267d2ddf2e1cd794122fbdbf13</guid>
				<title>Share Profile

Change Cover
Profile Photo
ইহতেমাম ইলাহী
Online
IhtemamElahi
toggle menu 38 Profile Photo
Profile picture of ইহতেমাম ইলাহী 
ইহতেমাম ইলাহী

• 18 days ago
হাসি

রাকিব বহুদিন ধরে টিভি নাটকে অভিনয় করার জন্য সুযোগ খুঁজছে। এর ওর কাছে ধরণা দিচ্ছে। সুযোগ পাচ্ছে না। এই ছোটাছুটির মধ্যে তার নিজের অভিনয় দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রাকটিস করবে- সেই সময় বের করাই দায়। রাকিবের হাতে এখন দুটি নাটকের কাজ। কিন্তু দুটিই যাবে ইউটিউব চ্যানেলে। এভাবে আর কতদিন? তার মন ভালো নেই। মন ভালো না থাকলে অভিনয় হয় আরো খারাপ। দুটি নাটকের একটিতেও পারফর্ম মনমত হচ্ছে না। আধাখেচড়া কাজ হচ্ছে বললে ভুল হবে না। এরকম কাজ দিয়ে যে ভবিষ্যত দেখা যায়, তা নিশ্চিত অন্ধকার। রাকিব তার ছোট্ট মেস ঘরের বিছানায় শুয়ে ভাবছে। তার দুই হাত মাথার নিচে গোঁজা। মুখ থমথমে। কতক্ষণ হলো সে এভাবে শুয়ে আছে। হঠাৎ সে শোয়া থেকে উঠে বসল। রাকিব ভাবছে সে আজ একটা সিদ্ধান্ত নেবে। কঠিন সিদ্ধান্ত। সরল অঙ্কের মত একটা যা তা ক্যারিয়ারে সে তৃপ্ত থাকবে না।

একসময় রাকিবের ক্যারিয়ার এদিকে ছিল না। সে ছিল আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র। তার মায়ের ইচ্ছা ছিল সে মাদ্রাসার শিক্ষক হবে। সেও সেরকমই ভেবেছিল। কিন্তু তার বন্ধু মঞ্জু একদিন বলল, একটা মঞ্চনাটক করবে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে। রাকিকবে একটা পার্ট নিতে হবে।
‘রাকিব তুই করবি পাকবাহিনীর জেনারেলের পার্ট! তোর চেহারা, হাইট যেমন! মানানসই।’
‘ধুর, এসব আমার দ্বারা হবে না।’

রাকিব মঞ্জুর কথা মোটেও পাত্তা দিল না। কিন্তু মঞ্জু নাছোড়বান্দা। এই ছেলেটা এমনই। ছোটবেলা থেকেই সবকিছুতে তার জিদ দেখে অভ্যস্ত রাকিব। শেষ পর্যন্ত মঞ্জুর জোড়াজুড়িতেই রাকিব পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর এক রাগী কমান্ডারের পার্টে অভিনয় করল। তার অভিনয় এত চমৎকার ও প্রাণবন্ত হলো যে দর্শক সারিতে হাততালির বন্যা বয়ে গেল। নাটক শেষে মঞ্জু বলল, আরে ব্যাটা! তুই তো জাত অভিনেতা রে! এই লাইনে আগায় যা।

সেই থেকে শুরু। রাকিবকে কী নেশাতে যেন পেয়ে বসেছে। সে মায়ের ম্লান মুখ, ধর্মীয় বাঁধা নিষেধ সব উপেক্ষা করে নাটক, সিনেমা, অভিনয় নিয়ে পড়ে থাকল। কঠোর পরিশ্রম আর আশা নিয়ে কেটে গেল বহু বছর। কিন্তু আশানুরূপ সাড়া সে পেল না। এখন পর্যন্ত টিভি নাটকে সুযোগই পাচ্ছেই না কোনোভাবে। তার চেহারা খারাপ না, হাইটও ভালো। সে মঞ্জুর সাথে দেখা করল পরদিন। পুরোনো বন্ধু বলে কথা। হতাশা ডিপ্রেশনের সময়টা তার সাথে কাটালে ভালো লাগবে।
রাকিব মঞ্জুকে বলল, বল তো কী করি দোস্ত?
মঞ্জু বলল, শোন রাকিব। এর কাছে ওর কাছে দৌড়ানো বাদ দে। প্রাকটিসে সময় বাড়িয়ে দে। অল্প যা অভিনয় করবি তা দিয়েই মাতিয়ে দিবি সবাইকে। নাটক, সিনেমাতে এমনিই ডাক পাবি একদিন।

রাকিব মঞ্জুর কথা খুব ইতিবাচক ভাবে গ্রহণ করল সেদিন। কথার যুক্তি আছে।

রাকিবের হাতের একটা নাটকের কাজ প্রায় শেষ। আরেকটা শুরু হবে। ১০ পর্বের নাটক। থ্রিলার, আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যাং কালচার, প্রেম ইত্যাদি থিম মিলিয়ে নাটক টা। রাকিবের পার্ট হলো একটা গ্যাং এর আদর্শিক গুরুর। এই গুরু মধ্যবয়স্ক। মাঠে কোনো কাজ করে না। কিন্তু আড়াল থেকে সুতা টানে। তার জীবনযাপণ অদ্ভুত। আধা-শয়তান প্রকৃতির মানুষ। তার আচরণ এমন যে তাকে বিশ্বাসও করা যায় না, আবার অবিশ্বাসও করা যায় না। আন্ডারগ্রাউন্ডের মেম্বাররা তাকে দেখতেও পারে না, আবার ফেলতেও পারে না । চরিত্র টা আধিভৌতিক। স্ক্রিপ্ট পড়ে রাকিব হাসছে– এই চরিত্র কোথায় পেল এই স্ক্রিপ্ট রাইটার! যাই হোক, এই চরিত্রের পার্ট টা করতে হবে মন দিয়ে।
রাত বারোটা। ঘুমোলে চলবে না। রাকিবের হাতে পুরো নাটকের সিকুয়েন্স, ডায়ালগ সব রেডি করা। পরিচালক বলেছে, প্রয়োজনে ডায়ালগে কিছু হেরফের করে নিতে পারে নিজের মত। পরে তাকে দেখিয়ে নিলেই হবে।
চরিত্রটার আসল নাম নাটকে আড়াল থাকবে। কারণ চরিত্র নিজের আসল পরিচয় আড়াল রাখতে চায়। ছদ্মনামেই তাকে চিনবে সবাই। ছদ্মনাম হলো গুরুজি। গুরুজি একটা বিল্ডিং এর আন্ডারগ্রাউন্ডের চেম্বারে বাস করে। এখানেই সবাই তার সাথে সাক্ষাত করে। সে বসে থাকে একটা নিচু আসনে। দুই পায়ের একটা বেশ উঁচু করে রাখে। সামনের দিকে ঝুঁকে থাকে। তার চেম্বারে অধিকাংশ সময়েই আলো-আঁধারি থাকে। পূর্ন আলো জ্বালানো হয় না।
এত ডিটেইলস লিখা স্ক্রিপ্টে! বাপরে বাপ– রাকিব ভাবে। সে পরিচালককে কল দিল।

-হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম। বস।
-হ্যাঁ, হ্যাঁ। রাকিব। বলো। কী বলবে বলো।
-স্ক্রিপ্ট পড়ছি বস। এত ডিটেইলস এই ক্যারেক্টার টা! আমারেই দিলেন এটা!
-আরে মিয়া, তোমার মধ্যে জিনিস আছে। অন্য কেউ পারবে না এই ক্যারেক্টার। প্রাকটিস করো! সবাইরে চমকায় দেও।

রাকিবের মুখে হাসি ছড়িয়ে পড়ে। পরিচালকের প্রশংসা তার ভালো লাগে। রাকিব শোয়া থেকে উত্তেজনায় উঠে বসে বিছানায়। প্রাকটিস করতে হবে, প্রাকটিস!

গুরুজির ক্যারেক্টারের খুব গুরুত্বপূর্ন একটা অংশ হলো তার আধিভৌতিক হাসি। এই হাসি সে মাঝে মাঝে হাসে না। কথার ফাঁকে ফাঁকে হাসে। হাসির অর্থ কী– তা বোঝা যায় না।
রাকিব রাত ৩ টা পর্যন্ত হাসি প্রাকটিস করল। আয়না দেখে দেখে। হাসিটা হতে হবে ভয়ঙ্কর আবার কিছুটা মিষ্টি । রাকিব ঠিকমত হাসিটা আনতে পারছে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো– নাটকে এই হাসি অনেক হাসতে হবে। গুরুজি ক্যারেক্টার যতক্ষন প্লে হবে, ততক্ষণই আলাপচারিতার মাঝে মাঝে হাসি আসবে। অর্থাৎ হাসিটা রাকিবেরও আয়ত্ব করে অভ্যাসের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। খুব কঠিন কাজ। শরীর ক্লান্তিতে ভেঙ্গে যাচ্ছে, কিন্তু রাকিবের চোখে ঘুম নেই। সে হাসি প্রাকটিস করেই যাচ্ছে। রাকিব ল্যাপটপ খুলল। নেটে অনেক ভিলেনের হাসির ছবি দেখতে হবে। দেখে দেখে এক্সপ্রেশন নিয়ে আসতে হবে নিজের মধ্যে।

রাকিব ঘুমাতে গেল ফযর আযান হওয়ার পর পর। আযানের পরে তার ঘুম আসতে লাগল। ঘুম তাকে কাবু করে ফেলল। নাহলে তার ঘুমাতেই ইচ্ছে করছিল না আজ।

পরদিন বিকেল। রাকিব ঘরের মধ্যেই। পরিচালক কল দিয়েছে। রাকিব ব্যাস্ত হয়ে কল ধরল।
– রাকিব! প্রাকটিস কেমন চলছে?
– দিনরাত চলছে বস!
– সুখবর আছে!
– কী সুখবর বস?
– টিভিতে যাবে আমাদের নাটক! এক পার্টির সাথে কথা হলো!
– What!
– Yes! মন দিয়ে কাজ করো।

উত্তেজনায় রাকিব প্রাকটিসে মনোযোগ দিতে পারছে না ঠিকমত। তার অভিনয় টিভিতে যাবে! এই প্রথম সে তার স্বপ্নের পথে একটা মাইলফলক স্পর্শ করবে! রাকিব মাথার পেছনে দুই হাত রেখে বিছানায় আছড়ে পড়ল। তার চোখে মুখে ভীষন আনন্দ। কয়েকদিন সে টানা ঘরেই অবস্থান করবে। দিন রাত প্রাকটিস। তার বহুদিনের কষ্টের ফল তাহলে এবার পেতে যাচ্ছে সে!

গুরুজি চরিত্রটা হাঁটে কিছুটা এলোমেলো ভাবে। এবরোথেবড়ো ভাবে। একটা সিকুয়েন্সে এরকম– এক পার্টি তার সাথে পার্সেন্টেজ ডিল করতে আসে। খুবই সাহস দেখিয়ে কথা বলে তারা। গুরুজি অত্যন্ত ভদ্রভাবে মাথা দোলায়। পার্টি ভাবে যে, তারা গুরুজিকে প্যাঁচে কাবু করে ফেলেছে । এরপর হঠাৎ গুরুজি প্রায় লাফ দিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। এলোমেলো ভাবে হাঁটতে থাকে। মদের গ্লাসে মদ ঢেলে এক চুমুক দিয়ে শব্দ করে গ্লাস টেবিলে রেখে দেয়। এরপর ঘার বাঁকিয়ে অন্যদের দিকে তাকিয়ে তার হাসিটা দেয়। গুরুজির হাসি থামে না। হাসতেই থাকে। হাসতেই থাকে। এরপর এলোমেলোভাবে আবার তার আসনের দিকে হেঁটে যায়। বসে পড়ে। আবার আগের ভদ্র চেহারায় ফিরে আসে। পার্টির ডিল মেনে নেয়। এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখে পার্টির লোকেরা অস্বস্তিতে ভোগে। গুরুজির আধভৌতিক আচরণে তারা কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। তারা গুরুজিকে ঠিক বুঝতে পারে না। একজন বলে, ব্যাটা শয়তান নাকি। বলে সে চেম্বার থেকে বেড়িয়ে যায়।

রাকিব এই সিকুয়েন্সটা আজ প্রাকটিস করছে। ভালো হচ্ছে না। এলোমেলো হাঁটাটা বেশ ভালোই হচ্ছে। কিন্তু হাসিটা তেমন হচ্ছে না। পার্টির সেই লোকের বলা শয়তান শব্দটা মনে করে রাকিব ভাবল এক কাজ করলে কেমন হয়? একটা শয়তান কীভাবে হাসে এটা কল্পনা করতে হবে। ধ্যানের মত। এরপর মগজের মধ্যে একটা ছবি এঁকে নিয়ে সেই হাসি নিজের চেহারায় নিয়ে আসতে হবে। বুদ্ধিটা ভালোই মনে হলো রাকিবের।

রাকিব বিছানায় বসে ধ্যান করছে। শয়তান কীভাবে হাসতে পারে, এই কল্পনা। সে চোখ বন্ধ করে আছে। ভাবছে, ভাবছে। প্রায় ১৫ মিনিট হলো সে বসে আছে। হঠাৎ সে হেসে উঠল। হাসিটা অদ্ভুত শোনালো। সে আয়নার সামনে দাঁড়াল। হাসল। এবার তার মনে হচ্ছে, হাসিটার মান (accuracy) ৭০% হয়েছে। সে খুশি হলো। আর কিছুদিন চেষ্টা করলে নিশ্চয়ই ১০০% হবে।

রাকিব আজও ফযরের আজানের পরে ঘুমাতে গেল। ঘুম থেকে উঠল ৩ ঘন্টা পর। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। অথচ আরও ঘুমানো দরকার। ঘুমের মধ্যে মনে হয়েছে তার শরীর অবশ হয়ে পড়ে ছিল শুধু। তার ব্রেইন ঘুমায় নি। ব্রেইনে হাসির রিহার্সেল চলেছে। সে ঘুমের মধ্যে কল্পনার গুরুজিকে দেখতেও পেয়েছে। এটা নিশ্চয়ই তার মনের খেয়াল।

রাকিব ঘুম থেকে উঠে দাড়িয়েই আয়নার সামনে গেল। হাসিটা দেয়ার চেষ্টা করল। হাসি দিয়েই সে আঁতকে উঠল। এ কি! এবার তার হাসিকে ১০০% মার্ক না দেয়া গেলেও ৯৫% তো দেয়া যায়! এক রাতের ব্যাবধানে এত উন্নতি, সে ভাবতেই পারে নি!
রাকিব গেল পরিচালকের সাথে দেখা করতে। উদ্দেশ্য হলো গুরুজি ক্যারেক্টারের কিছু অংশ অভিনয় করে দেখানো। পরিচালকের মতামত নেয়া। বিশেষ করে হাসিটা দেখাতে চায় সে।

রাত সারে বারোটার দিকে পরিচালক জিতু বসের সময় হলো। রাকিব তার চেম্বারে যেতেই তিনি বললেন, সময় নেই। প্লে কর।
রাকিব একটা সিকুয়েন্স প্লে করল।

জিতু বসকে দেখে মনে হলো তিনি রাকিবের অভিনয়ে সন্তুষ্ট হন নি। রাকিব বলল, বস, মার্কিং করেন।

পরিচালক জিতু রাকিবকে এভারেজ ৫০% মার্ক দিলেন। বললেন, হাসিতে ডার্ক (dark) ব্যাপারটা আনতে পারো নি। আরো কাজ করো।
রাকিব জিজ্ঞেস করল, ডার্ক বলতে কী বোঝাচ্ছেন, বস?
-‘ ক্রূরতা বোঝাচ্ছি। সিরিয়াল কিলারের মধ্যে যেমন ক্রূরতা থাকে সে লেভেলের। ক্রূরতার সাথে আরেকটা বিষয় আনতে হবে।’
-‘ কী?’
-‘negligence . negligence মানে দুনিয়ার হাল চাল সব কিছু সম্পর্কে চূড়ান্ত অবহেলা প্রদর্শন। অর্থাৎ মানুষের জীবন কাঠামো, সমাজকাঠামো, নীতি নৈতিকতা, দুঃখ-কষ্ট, অনুভূতি ইত্যাদির কোনো মূল্য ক্যারেক্টারের কাছে নাই। এক ধরণের ঔদ্ধত্য। এটা তার চেহারায় ফুটে উঠবে। হাসিতে মিশে থাকবে।’

রাকিব আরো বেশি বেশি প্রাকটিস ও গভীরভাবে ক্যারেকটার ধ্যান করার সংকল্প নিয়ে বাসায় ফিরল। তাকে টপ লেভেলের অভিনেতা হতেই হবে। No mercy.

প্রায় দুই মাস পর। রাকিব বসে আছে অন্যান্য অভিনেতাদের সাথে। আজ তাদের ১০ পর্বের নাটকের বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ। রাকিবের হাতে পেমেন্টের বিশাল অংকের টাকা। সে এতটা প্রত্যাশা করে নি। সেট প্যাক আপ করে সবাই আড্ডায় বসেছে। একজন রাকিবকে বলল, এই যে মিস্টার ডেভিল। অভিনয় তো যা করলা, ১০০ এর মধ্যে ১১০ পাবা। সবাই হেসে উঠল। একজন রাকিবের পিঠ চাপড়ে দিল। রাকিবও হাসল। কিন্তু…
রাকিব চেয়েছিল নিজের সাধারণ হাসিটা হাসতে। অথচ সেটা হয়ে গেল গুরুজি দ্যা ডেভিলের হাসি! সে কিছুটা আশ্চর্য্য হল। তার হাসি দেখে অন্য সবাই হেসে উঠল। কেউ কেউ হাত তালি দিল।
একজন মহিলা অভিনেতা বলল, রাকিব তুমি আমার বাসায় যেয়ো। আমার বাচ্চাটা অনেক দুষ্ট! তাকে তোমার হাসি দেখিয়ে ভয় পাওয়াতে হবে! কী যাবা? ভালো পেমেন্ট দিব, হা হা।
রাকিব হেসে ফেলল। এবারও সবাই গুরুজির হাসিই দেখল রাকিবের চেহারায়। কেউ কেউ ফিরতি হাসি দিল। কেউ কেউ থমকে গেল। বাদল ভাই বলল, রাকিব তুমি মনে হয় ক্যারেকটারের মধ্যে অনেক বেশি ঢুকে গেছ। কিছুদিন স্বাভাবিক লাইফ লিড করার চেষ্টা করো। এরপরের নাটকে নিশ্চয়ই ডেভিলের ক্যারেক্টার প্লে করতে হবে না! হা হা।

সবাই হাসল। হাসারই কথা। সবাই পার্টি মোডে আছে। রাকিব তাকালো পরিচালকের দিলে। তার ঠোঁটেও লুকোনো হাসি।

কয়েকদিন কেটে গেল। রাকিবের মনে হচ্ছে, কোথাও সমস্যা হয়েছে। কারণ সে স্বাভাবিক হতে পারছে না। সে সময়ে অসময়ে হাসছে। কথার মাঝে মাঝে হাসিটা আসছে। রাকিবের মনে হচ্ছে নিজের উপর তার নিয়ন্ত্রণ নেই। হাসিটা অনিচ্ছাকৃত আসছে। এবং সে তার স্বাভাবিক হাসি হাসতে পারছে না। গুরুজির হাসি হাসছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে রাতে। চোখে ঘুম আসে না তার । ফযরের আযানের পর পর কিছুটা ঘুম আসে। রাতে ইচ্ছা করলেও সে ঘুমাতে পারছে না। অনেক ক্লান্তি নিয়ে শুয়ে চোখ বন্ধ করলে একটু পরেই ঘুম চলে যাচ্ছে। চোখ বন্ধ করলেই তার চিন্তায় গুরুজির ক্যারক্টার চলে আসছে। সেই গুরুজি নাটকের কাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, নতুন নতুন সিকুয়েন্স প্লে করছে। ঘুমের মধ্যে রাকিবের মাথায় গুরুজি তার অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছে।

অনেকদিনের ঘুমহীনতা রাকিবের অস্বাভাবিকতা আরো বাড়িয়ে দিল। সে বেশ অসুস্থ্য বোধ করতে লাগল।

সপ্তাহ দুয়েক চেষ্টা করার পরেও রাকিব স্বাভাবিক হতে পারল না। ডাবল ঘুমের ওষুধ খেলেও তার ঘুম হয় না। যে দুই আড়াই ঘন্টা সে ঘুমায় সেটাকে ঘুম বলা চলে না। শরীর অবশ হয়ে পড়ে থাকে শুধু। আর মস্তিষ্ক গুরুজিকে নিয়ে নানান সিচুয়েশন তৈরি করতে থাকে। রাকিব খেয়াল করল তার বাস্তব জীবনেও সে গুরুজির মত আচরণ করছে। এবং সেটা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ভাবে। তার মনে হচ্ছে, গুরুজি নামক চরিত্র তার উপর ভর করে আছে। তার থেকে সে নিজেকে ছড়িয়ে নিতে পারছে না।

দিন গড়ায় আর রাকিবের মানসিক অশান্তি তীব্র হতে থাকে । গুরুজি তাকে পেয়ে বসেছে। তার মনে হচ্ছে দিনরাত সে গুরুজির ক্যারেক্টার প্লে করছে। রাতে কল্পনায় গুরুজি, স্বপ্নেও গুরুজির বিভিন্ন বৈচিত্রময় রূপ দেখছে সে। সে যেন সত্যি সত্যি নাটকেরই গুরুজি হয়ে উঠছে বাস্তব জীবনে। রাকিব গুরুজি থেকে মুক্তি খুঁজছে। সে কোনোকিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছে না। তার মনে হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে সে পাগল হয়ে যাবে। ইতোমধ্যেই তো আধাপাগল হয়েই গেছে বলতে গেলে।

রাকিব একজন সাইক্রিয়াটিস্ট এর সাথে এপয়েন্টমেন্ট নিল । ভদ্রলোক তার কথা আদোপান্ত শুনলেন । এরপর বললেন, আপনার সম্ভবত Pseudobulbar Affect (PBA) হতে পারে। অর্থাৎ নিজের উপর নিয়ন্ত্রণহীনতা। একটা মানসিক রোগ।
ডাক্তার কিছু ওষুধ দিয়ে দিলেন। বিশ্রাম নিতে বললেন। এক সপ্তাহ পরে আসতে বললেন।

রাকিব আজ গেল গুলশানের একটা রেস্টুরেন্টে। বাকা ভাই তাকে ডেকেছে । বাকা ভাই রাকিবের একজন গুরু। অভিনয় জগতের গুরু।

রাকিব আর বাকা ভাই বসে আছে একটা টেবিলের দু’পাশে। বাকা ভাই বলল, রাকিব, এইসব ছোটখাট ঝামেলা অভিনয় জগতে হয়। এসবকে পাত্তা দেয়া ঠিক না। একসময় এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।

বাকা ভাই পরামর্শ দিল drink করতে। বলল, লাল পানি খেয়ে ঘুম দে, রাকিব। জোরসে ঠিক হয়ে যাবি। হা হা।

রাকিব লাল পানি খেল। তার নিজেকে লাগছে আধাপাগল। একটা ঘোর এসে গেছে। পা গুলো মনে হচ্ছে আড়ষ্ট। হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এই হাঁটার মধ্যে এক ধরণের আনন্দ আছে। রাকিব ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে পরিচালক জিতু বসের অফিসের দিকে । সেখান থেকেই সে বাসায় ফিরবে। সে হাঁটছে এলোমেলো ভাবে। তার মাথায় খেলা করছে গুরুজি। গুরুজি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে এলোমেলো ভাবে। মাঝে মাঝে হেসে উঠছে। রাকিব খেয়াল করল, সে হাসছে। বারবার হাসছে। মনে হচ্ছে সে-ই গুরুজি। গুরুজি দ্যা ডেভিল।

রাত প্রায় ১ টা। অভিনয় লাইনে রাত ১ টা কিছুই না। বলা যায় রাতের প্রথমভাগ। জিতু বসের চেম্বারে আরো কয়েকজন ছিল। রাকিবকে কয়েকজন জিজ্ঞেস করল, এই অবস্থা কেন? রাকিবের হয়ে উত্তর দিল জিতু বস। রাকিবের অবস্থা শুনে চেম্বারের কেউ কেউ সহানুভূতি দেখাল। কিন্তু জিতু বসের চেহারা কেমন হাসি হাসি। বলল, আরে ঠিক হয়ে যাবা, সমস্যা নাই। রাকিব মাথা ঝাঁকালো। জিতু বস রাকিবের দিকে হাতের আঙ্গুল দিয়ে একটা সাইন দেখালো । সাইন দেখেই রাকিবের চোখ কেমন জ্বলে উঠল। ভেতর থেকে কে যেন হেসে উঠল। সেই হাসি রাকিবের চেহারায় প্রকাশিত হল। রাকিব হেসেই যাচ্ছে, সে যেন অনেক উত্তেজিত। কিন্তু এটা রাকিব না। রাকিবের ভেতরে থাকা গুরুজি। গুরুজি দ্যা ডেভিল। রাকিব ওরফে গুরুজি দ্যা ডেভিল! হাসছে সে! রাকিবের দিকে তাকিয়ে পরিচালক জিতুও হেসে যাচ্ছে। দুদিকে দুজনের হাসির মধ্যে কোথায় যেন একটা মিল। অদ্ভুত এক মিল। চেম্বারের অন্যরা আগ্রহ নিয়ে সেই হাসি দেখছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/249676/</link>
				<pubDate>Wed, 20 May 2026 11:03:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>Share Profile</p>
<p>Change Cover<br />
Profile Photo<br />
ইহতেমাম ইলাহী<br />
Online<br />
IhtemamElahi<br />
toggle menu 38 Profile Photo<br />
Profile picture of ইহতেমাম ইলাহী<br />
ইহতেমাম ইলাহী</p>
<p>• 18 days ago<br />
হাসি</p>
<p>রাকিব বহুদিন ধরে টিভি নাটকে অভিনয় করার জন্য সুযোগ খুঁজছে। এর ওর কাছে ধরণা দিচ্ছে। সুযোগ পাচ্ছে না। এই ছোটাছুটির মধ্যে তার নিজের অভিনয় দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-249676"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/249676/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5005b6c47fcc767b20dd72054c78195d</guid>
				<title>টাইম টেবিল



সাইকেল চালিয়ে বাড়িতে আসছি দোলাবাড়ি থেকে। আমাদের এদিকে ফসলের ক্ষেতকে দোলাবাড়ি বলে। দুষ্ট কিছু মানুষ দুপুরের দিকে ছাগল ঢুকিয়ে দেয় ধান ক্ষেতে। এই সময় মানুষ গোসল করে, নামাজ পরে। চারটা খেয়ে ঘুম দেয়। এই সুযোগটাই কাজে লাগায় ছাগলের মালিক। ক্ষেত খাইয়ে দেয়। আমাদের ধান ক্ষেত ঘুরে এলাম। চারপাশ ঘুরে দেখলাম, ছাগল নেই ।  এখন বোধয় দুপুর সারে বারোটা বাজে। তপ্ত রোদে ফতুয়া ভিজে গায়ের সাথে লেপ্টে আছে। সাইকেল দ্রুত চালাচ্ছি। বাড়ি গিয়েই গোসল দিব। এইত আর ১০০ মিটার হবে বাড়ি। গলাটা শুকিয়ে গেছে। এমন ঝাঁঝালো রোদ!
সাইকেল চালাতে চালাতেই হঠাৎ করে আমার হাঁপানির টান উঠে গেল। আমার এরকম হয় মাঝে মধ্যেই। ইনহেলার থেকে গ্যাস নিলেই আলহামদুলিল্লাহ ঠিক হয়ে যায়। কিন্ত, সাথে ইনহেলার নেই । বাড়ি গিয়ে গ্যাস নিলেই হবে। সাইকেল একটা গর্তের উপর দিয়ে উঠে গেল। খেয়াল করি নি। বেশ ধাক্কা লাগল শরীরে ! কাশতে লাগলাম আমি। উফ! বুক কেমন যেন চেপে আসছে। 

কিভাবে বাড়ি এসে পৌঁছালাম হুঁস নেই। সাইকেল ফেলে আমার মেয়েকে ডাক দিলাম।       
   আসমা। 
   আসি, বাবা। 
   আয়রে  মা। ইনহেলার টা নিয়ে আয়। 

আসমা আমার দিকে তাকিয়ে দৌড়ে এল। আমি বারান্দার পিলার ধরে দাঁড়িয়ে আছি। মেয়েটা চিৎকার করে উঠল। আমার শরীরের খিঁচুনি দেখে সে মনে হয় ভয় পেয়ে গেছে। মেয়ের  মা’ও দৌড়ে এল। ইনহেলার হাতে নিয়ে মুখে নিব। পারলাম না। শরীর দুলতে লাগল। আমি পড়ে গেলাম। মেয়ের মা ইনহেলার  মুখে দিয়ে পাম্প করে অনেকগুলো গ্যাস ভরে দিল। আমি চোখে অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি । পুরো শরীর কাঁপছে। চোখের সামনের অন্ধকার আরও গাঢ় হচ্ছে। পৃথিবীটা দুলছে মনে হয়। ভীষন এই দুলুনি। কতক্ষণ সময় গেল জানি না। অনেক মানুষের চিৎকারের শব্দ শুনতে পাচ্ছি। আশপাশের বাড়ি থেকে অনেকই বোধয় দৌড়ে আসছে। সেই দৌড়ানোর শব্দ পাচ্ছি। আমি শ্বাস নিতে পারছি না। কানও মনে হয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে । আমার চারদিক অন্ধকার আর শব্দহীন হয়ে যাচ্ছে । আমার খুব পিপাসা পেয়েছে। রোদ থেকে এসে পানি  খাই নি। গলা শুকিয়ে কাঠ। পিপাসার কথা কাউকে বলতেও পারছি না। সেই বোধ আমার নেই। সামান্য একটু পানি মুখে ঢেলে দিয়ে কেউ যদি গলাটা  ভিজিয়ে দিত! সামান্য একটু পানি ! তবে আমি এখন পানির থেকেও অক্সিজেনের প্রয়োজন বেশি অনুভব করছি। শ্বাস নিতে পারছি না। বুক চেপে যাচ্ছে। আহ, সারা শরীরে ভীষন কষ্ট । আমি কি আজ মারা যাব? আল্লাহ, আল্লাহ। আল্লাহ, রক্ষা করো আল্লাহ। আমি  নিঃশব্দ আর্তনাদ করছি । কেউ না শুনলেও আল্লাহ নিশ্চয়ই শুনতে পাচ্ছেন। 
 

আমি এখন কোথায় বুঝতে পারছি না। ফ্যান ঘোড়ার শব্দ শুনতে পাচ্ছি। সম্ভবত আধশোয়া হয়ে আছি বা কেউ আমাকে ধরে রেখেছে।  আমার বুক উঠানামা করছে কি না বুঝতে পারছি না। আমার শরীর নিথর। আশপাশে যদি কেউ থাকে, তারা অন্তত তাই ভাবছে। কিন্তু, ভেতরে আমি তো জেগে আছি। হ্যাঁ, প্রাণপন জেগে আছি। আমার ফুসফুস অক্সিজেন নেয়ার জন্য পাগল হয়ে আছে। আমার শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে এক পাশ আরেক পাশের সাথে মিলেই গেছে মনে হয় । ফুসফুস অক্সিজেন পাচ্ছে না, শরীরের কোষগুলোতে অক্সিজেন যাচ্ছে না। আমি চাচ্ছি প্রবল চিৎকার করে উঠে বসতে, নাক মুখ খুলে বুক ভরে শ্বাস নিতে। কিন্তু প্রাণপণ চেষ্টা করেও আমি আমার চোখ দুটিই খুলতে পারছি না। আমার অন্তরাত্মা উন্মাদ হয়ে গেছে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে। মনে হচ্ছে এই কষ্টের চেয়ে মৃত্যু স্বস্তির। মৃত্যুতে অন্তরাত্মা মুক্তি পাবে। আমি শ্বাস পাচ্ছি না, আমি শ্বাস পাচ্ছি না। আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি। আমি কি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ… পড়ব? পড়াই মনে হয় উচিত হবে। বেঁচে থাকার আশা কি আছে? আমি কাঁদছি। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি– আমার চোখের কোণা দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব? আমি তো চোখ বুজে আছি। এই অবস্থায় তো চোখের পানি দেখা সম্ভব নয়। আচ্ছা, আমাকে কি হাসপাতালে নেয়া হয় নি? হাসপাতালে নেয়া হলে তো নাকে অক্সিজেন দিত? আমি শান্তি পেতাম। একটা বড় শ্বাস নেয়ার শান্তি। আর কিছু না। আর কিছু না। আল্লাহ, আল্লাহ। 

আমার চেতনা কমে যাচ্ছে। আর কিছু ভাবতে পারছি না। জগতটা ধূসর লাগছে। মনে হলো আমার মেয়েটা দৌড়ে এল। আহ, প্রিয় মুখ। প্রিয় মুখটা ফিকে হয়ে আসছে। আরেকটু দেখি। আরেকটু। আর কিছু দেখছি না। মনে হয় বুকের উপর ১০ মণের পাথর চাপা দেয়া। এই পাথরের ওজন বাড়ছে ধীরে ধীরে। কষ্ট, কষ্ট। অকল্পনীয় কষ্ট। আহ। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। 


চারপাশে কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। সাদা ধোঁয়ার মত মনে হচ্ছে সবকিছু । আবছা দৃষ্টিতে দেখছি। শরীরের কষ্ট আর নেই। মনে হচ্ছে শূন্যে ভাসছি। মরে যাওয়ার পরে কি এমন লাগে? কানে কার কথা যেন ভেসে আসছে? কে কথা বলছে? আমার মত মৃত কেউ? আমার দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে গেল। গাঢ় ধুসর দেখছি। কুয়াশা কুয়াশা। ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে। 

এই তো রোগী চোখ খুলে আছে! আলহামদুলিল্লাহ।
স্পষ্ট শুনতে পেলাম। মানে কী? আমি মরে যাই নি? সাদা এপ্রন পরে একটা মাঝবয়সী মানুষ এগিয়ে আসছে। তার মুখ হাসি হাসি। হ্যাঁ! আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। লোকটা মনে হয় ডাক্তার। আমার চোখ পরীক্ষা করছে। আমি তার হাতের স্পর্শ পেলাম। এইতো বাম চোখটা দেখছে এখন। আল্লাহু আকবার। আমি তাহলে মরি নি। হাতের নাড়ি দেখে লোকটা চলে গেল। এখন আমি একা। এটা মনে হয় হাসপাতালের কোনো রুম। এটা আমাদের উপজেলা হাসপাতাল? আমাদের বাড়ি থেকে ৪ কিলোমিটার দূরেই। আমার স্ত্রী ও মেয়ের গলা শুনতে পাচ্ছি। এইতো তারা ঘরে ঢুকছে। দুজনই কাঁদো কাঁদো স্বরে কী যেন বলছে! তারা এসে বসল আমার দু দিকে। দুজন দুটো হাত ধরে থাকল। আমার মনে হলো– জীবন কত আনন্দের! এর প্রতিটা মুহুর্ত কত ঐশ্বর্য্যময়! আমি আমার স্ত্রী কন্যাকে বলতে চাইলাম– তোমরা আল্লাহর প্রশংসা করো!  মুখ খুলতে চাইলাম। পারলাম না। দেখি– দুজনেই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি হাসলাম। এই হাসি মনে হয় আমার চেহারায় ফুটে উঠল না। 


আমি এখন বেশ ভালো আছি। উপজেলা হাসপাতাল থেকে আমাকে জেলা হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এখান থেকে আজ রিলিজ দেবে। আলহামদুলিল্লাহ, খেতে পারছি। অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়াই শ্বাস নিতে পারছি। আত্মীয় স্বজন আমাকে ঘিরে আছে। তাদের পাশেই উপজেলা ডিউটি ডক্টরকেও দেখতে পেলাম। আশ্চর্য্য ! উনি কেন এখানে?

  বদরুল, আমাদের ডাক্তার সাব যা করছে! তোমার নিজের ভাই  হলে যা করত, তাই করছে। আজকে দেখতে আসছে তোমাকে। 
আমার মামাত ভাই আনাস বলল। 

   আসসালামু আলাইকুম, ডাক্তার সাহেব!
   ওয়া আলাইকুমুস সালাম! এখন কেমন বোধ করছেন?
    আলহামদুলিল্লাহ ভালো। 
  আপনাকে যখন হাসপাতালে নেয়া হলো, ইমার্জেন্সি সিচুয়েশন। অক্সিজেন সিলিন্ডারও দেখি কাজ করছে না। আমার মাথা খারাপের মত হয়ে গেল। একজনকে সেটা ঠিক করতে দিয়ে দ্রুত কিছু থেরাপি দিলাম। আল্লাহর ইচ্ছায়, সিলিন্ডার, মাস্ক ঠিক হলো। মাস্ক পরানোর পরেও আপনার শ্বাস ঠিক হচ্ছিল না। হাত পা কিছুটা স্টিফ হয়ে যাচ্ছিল। আল্লাহর দয়া, আপনার হায়াত ফিরে পেয়েছেন। হাসপাতালের দায়িত্ব ছিল আমার, আর অক্সিজেন সিলিন্ডার নষ্ট। আপনার হায়াত মৃত্যু অবস্থা। নিজের মধ্যে একটা অপরাধবোধ কাজ করছিল।একটা কাজে এসছি সদরে। ভাবলাম দেখে যাই আপনাকে । 

আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ। আপনার অনেক শুকরিয়া। 
ডাক্তার দ্রুত বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। 
আনাস বলল, বদরুল ভাই। ডাক্তার সাহেবরে দাওয়াত দেওন লাগবে বাড়িতে। তারে আমি আগে থেকে চিনি। খুবই ভালো ডাক্তার। এখনকার যুগে এমন ভালো ডাক্তার পাওয়া মুশকিল। 
আমি বললাম, ওনার বাড়ি কোথায়? 
    বাড়ি ঘোড়াঘাটে। এলাকারই মানুষ । 



দু’ সপ্তাহ পর। আজ বাড়িতে ফকির মিসকিন খাওয়ানো হবে। আল্লাহ আমার জীবন ফিরিয়ে দিয়েছেন এই উপলক্ষে। খাসি জবেহ দেয়া হয়েছে। পাড়া, প্রতিবেশি, আত্মীয় স্বজন অনেকেই আসবে। দুপুর বারোটা পেরিয়ে গেছে । রান্না বসানো হয়েছে আগেই । বাবুর্চি ডেকে বলল, বদরুল ভাই, খাসিটা নধর। কচি খাসি। মাংস হবে নরম। খেতে এত মজা হবে! মুখে দিলেই গলে যাবে। একজনই এক কেজি নামায় দিতে পারবে! হা হা। 
      ভালো করে রাঁধো!  শ’দেড়েক মানুষ হবে। মাংস কম পড়বে নাকি?
      গরুর মাংস ২০ কেজি, খাসির মাংস ২০ কেজি। কম পড়ত না, ইন শা আল্লাহ। 
      ইন শা আল্লাহ। 

ডাক্তার সাহেবকে একবার কল দিই। দেখি উনি বের হয়েছেন কি না। ডাক্তার সাহেবকে দাওয়াত দেয়া হয়েছে তার পুরো পরিবার সহ। তার সাথে কথা বলেই দাওয়াতের তারিখ ঠিক করেছি । আজ তার ছুটির দিন পড়েছে । আমি বলেছিলাম, গাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে নিয়ে আসব । কিন্তু তিনি না করলেন। নিজে থেকে আসবেন বলেছেন।  
রিং হচ্ছে। ওপাশ থেকে ধরল না । আরেকবার দিই । ব্যস্ত মনে হয়। এবার না ধরলে এখন আর কল দেয়া যাবে না। মানী লোককে বিরক্ত করা ঠিক না। নিজের মত যখন খুশি আসুক। 
বাবুর্চি আবার ডাক দিল, বদরুল ভাই, রোস্ট টা খাইয়া দেখেন কেমুন হইছে!
 আসি। 
হাকিম বাবুর্চির এই এক সমস্যা। ক্ষনে ক্ষনে ডেকে কথা শোনাবে। তবে রান্নায় ফার্স্ট ক্লাস । রোস্ট ভালো হয়েছে।  রাস্তায় মিশুকের আওয়াজ শোনা গেল। এইতো, আসমার মামারা এসেছে বোধয় । 
আত্মীয় স্বজন আসতে শুরু করবে ধীরে ধীরে । বাবুর্চিকে বললাম, যুহরের নামাজের পরপরই খানা লাগানো যাবে না? 
 ইন শা আল্লাহ যাবে।
 ইন শা আল্লাহ, আমি আসমার মামার সাথে দেখা করে আসি। মাংসের ঘ্রাণ ভালোই ছড়িয়েছে দেখি!
   হ্যাঁ! মশলা বেছে বেছে কিনছি বদরুল ভাই!

ফোন বেজে উঠল। ডাক্তার সাহেব কল দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ। তার জন্যই অপেক্ষা!
    আসসালামু আলাইকুম, ডাক্তার সাব। আপনি কোথায়? 
   ওয়া আলাইকুমুস সালাম! আমি ডাক্তার না। তার চাচাতো ভাই। ভাইজান মারা গেছেন কিছুক্ষণ আগে! আপনি কে বলছেন?

একটা কমবয়সী ছেলের কন্ঠ। কী বলে এই ছেলে? দুষ্টুমি করছে নাকি? 

 ‘এই, কী বলেন আপনি ভাই?’
 ‘হ্যাঁ। ডাক্তার ভাই মারা গেছে। বাজার থেকে আসার পরে হার্ট এটাক করছে। সুন্দর মানুষটা হঠাৎ করে নাই হয়ে গেল…’

ছেলেটা এবার সত্যি কেঁদে ফেলল। আশ্চর্য্য, সেই কান্নায় মৃত্যুর শোক আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম! 
‘হ্যালো। হ্যালো।‘
‘ভাইজান মারা গেছে। রাখি।‘
‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজীঊন।‘
 আমার মুখ থেকে অস্ফুট উচ্চারণ হল।


ফোন পাঞ্জাবির পকেটে রেখে দিলাম। কিন্তু আমি কী শুনলাম!  ডাক্তার সাহেব মারা গেছেন?  মোবাইল বের করে ঘড়ি দেখলাম, সারে বারোটা বাজে। ঐদিনও তো ছিল ভর দুপুর! যেদিন আমার ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল । আজ ডাক্তারের ঘটনা ঘটে গেল? যিনি আমার মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসা করিয়েছেন! হায় আল্লাহ! আমার মাথা কেমন শূন্য হয়ে যাচ্ছে । নিজেকে অনুভূতিহীন লাগছে। শরীর দুলতে শুরু করেছে হঠাৎ। ঠিক সেইদিনের মত। কে যেন আমাকে ডাকছে, আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি না। মনে হয় হাকিম বাবুর্চি চিৎকার করল, বদরুল ভাই, বদরুল ভাই। দৌঁড়ে আসছে সে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/249105/</link>
				<pubDate>Tue, 19 May 2026 04:05:34 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>টাইম টেবিল</p>
<p>সাইকেল চালিয়ে বাড়িতে আসছি দোলাবাড়ি থেকে। আমাদের এদিকে ফসলের ক্ষেতকে দোলাবাড়ি বলে। দুষ্ট কিছু মানুষ দুপুরের দিকে ছাগল ঢুকিয়ে দেয় ধান ক্ষেতে। এই সময় মানুষ গোসল করে, নামাজ পরে। চারটা খেয়ে ঘুম দেয়। এই সুযোগটাই কাজে লাগায় ছাগলের মালিক। ক্ষেত খাইয়ে দেয়। আমাদের ধান ক্ষেত ঘুরে এলাম। চারপাশ ঘুরে দেখলাম, ছাগল নেই ।  এখন বোধয় দু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-249105"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/249105/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">eea2f88c1fc50c924518be7d50b558a8</guid>
				<title>সুদর্শন


        ‘ঘুম আসছে না?’
        ‘নাহ! সকাল সকাল বাসের দুলুনিতে অনেক্ষণ ঘুমিয়েছি।‘
       ‘যুহরের পর থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত কিন্তু আর বিশ্রাম নিতে পারবি না। না ঘুমালেও চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাক।‘
         ‘সমস্যা নেই। একটা গল্প শোন। যুহরের আরও ঘন্টাখানেক সময় বাকি।‘

আমরা একটা মাদ্রাসার মেহমানখানায় দুই বন্ধু। দুই বিছানায় দুজন মুখোমুখি শুয়ে আছি। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়। গ্রাম্য এলাকায় ভালোই শীত পড়েছে। শীতের বস্ত্র বিতরণ শুরু হবে যুহরের পর থেকেই। অনেক জায়গায় যেতে হবে। আমার শরীরে ক্লান্তি। কিন্তু বন্ধু জহির মনে হয় একটু ঘুমোতে দেবে না আমাকে। গল্প শোনাবে। অনেক দিন পর দেখা হলো আমাদের। না করতে পারছি না। কিন্তু আমার শরীরে ক্লান্তি। আমি অনাগ্রহের সাথে বললাম, বল তোর গল্প। 

জহির গল্প বলা শুরু করল। “জানিস তো? ক্লাস টেনে আমি রংপুরের একটা মেসে থাকতাম?” 
   হ্যাঁ, জানি। 
   আমার রুমে আমরা থাকতাম দুজন। আরেকজন ছেলে ছিল পঞ্চগড়ের। সে ছেলেই হলো গল্পের নায়ক ! তার নামটা বলছি না। গীবত হয়ে যাবে। একটা ছদ্মনাম দেয়া যাক। আচ্ছা নাম তুই-ই দে!
     হা হা। আচ্ছা, ধরা যাক নাম হলো, আশিক।
     আশিক ! হা হা হা…

আমার দেয়া নাম শুনে জহির হাসতে শুরু করল। পুরো শরীর ঝাঁকুনি দিচ্ছে ওর। কি হলো? আমি আশ্চর্য্য হয়ে তাকিয়ে আছি। দেখলাম জহির হাসি সামলাতে না পেরে মুখ চেপে ওপাশ ঘুরল। বললাম, কী হলো ভাই? সে জবাব না দিয়ে কিছুক্ষণ পর নিজেকে সামলিয়ে এপাশ ঘুরল। বলল, নামটা যুতসই হয়েছে। গল্পের সাথে মানানসই। বললাম, কীভাবে? জহির বলল, গল্প টা আশিক জিনের! 

‘বুঝলি হাসান, আশিক ছেলেটাকে সুদর্শন বললে কম বলা হবে। এই বয়সেই তার দাড়ি গজিয়েছিল। আমি ক্লাস টেনে পড়ার সময়ের কথা বলছি কিন্তু । সে খোঁচা খোঁচা দাড়ি রাখত। ফর্সা অর্ধগোলাকৃতির চেহারা। পোশাক আশাকের ব্যাপারে তার সূচিবায়ুর মত ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে কাপড় ইস্ত্রী করত। অল্প বয়সেই তাকে সুপুরুষ লাগত। কিন্তু সমস্যা কী জানিস? কমবয়সী ছেলেদের রূপই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। চরিত্র খারাপ হয়ে যায়। আমি এক বছরে আশিককে ৮ টা মেয়ের সাথে প্রেম শুরু ও ব্রেক আপ করতে দেখেছি…’

জহিরের গল্প কোন দিকে যাচ্ছে বুঝতে পারছি না। বিস্তারিত খুঁটিনাটিসহ ঘটনার বর্ণনা জহিরের অদ্ভুত একটা বৈশিষ্ট্য। কিন্তু আজ তাকে সাঁয় দেয়া যাবে না। সময় কম। কিছুক্ষণ হলেও ঘুমাতে হবে। আমি বললাম, জহির মূল গল্পে যা। একটানা বলতে থাক। আমার প্রতিক্রিয়া শোনার অপেক্ষায় থাকার দরকার নাই । জহির বলল, আচ্ছা, আচ্ছা। 

গল্প আবার শুরু করল জহির । 

‘তো, আমার রুমমেট আশিক প্লেবয় টাইপের হয়ে গেছিল। প্রতিটা নতুন প্রেম শুরু করার সময় বলত, জহির, আর না। এটাই আমার শেষ প্রেম। এই মেয়েকেই বিয়ে করব। 
কিন্তু আমি জানি আশিক থেমে থাকার ছেলে না। শেষে দেখলাম একসাথে দুইটা প্রেম চালাচ্ছে। তার সাথে থাকা ছিল বিরক্তিকর। সে জানত তার এই স্বভাব আমার ভালো লাগে না। কিন্তু সে আমাকে তার প্রেমের গল্প শোনাবেই। নতুন প্রেমিকার গুন-বৈশিষ্ট্য, কথা বলার স্টাইল, হাঁটার স্টাইল ইত্যাদি। প্রেম করতে করতে আশিক নানান চক্রে জড়িয়ে গেছিল। নানান হাঙ্গামা, অন্য ছেলের সাথে মারামারি পর্যন্ত। যেই মেয়েকে অন্য কোনো ছেলে আগে থেকে পছন্দ করে, সে মেয়ের প্রতি তার আবার বেশি আগ্রহ। 

একদিন ফযরের নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছি। রুম অন্ধকার। আলো জ্বালাই নি। আশিক সাধারণত এত সকালে উঠে না। সেদিন মনে হয় জেগেই ছিল। আমাকে হঠাৎ ডাক দিল। বলল,  জহির, নামাজে যাবি?
আমি বললাম,   হ্যাঁ, চল তুইও চল। জেগেই আছিস। 
সে বলল, চাইলেও যেতে পারছি না বন্ধু। আমি বললাম, আচ্ছা।

তো আমি উঠে যাচ্ছিলাম। আশিক হাত ধরে আমাকে বসিয়ে দিল। বলল, শোন। আজ রাতে স্বপ্নে এক পরী আসছিল। আমার সাথে প্রেম করতে চায়। 

ফযর ওয়াক্তে আশিকের এই ফাইযলামি আমার ভালো লাগল না। আমি কিছু না বলে উঠে গেলাম। কিন্তু দিনের বেলা সে আমাকে ধরে পড়ল। সে আমাকে বিশ্বাস করাবেই তার পরী প্রেমের কাহিনী। তার ভাষায় সে আজ পর্যন্ত যত মেয়ে দেখেছে তারা এই পরীর নকের সমান সুন্দর না। পরী যখন আসে তখন চারপাশ অদ্ভুত রকম আলোকিত হয়ে যায়। 

আমি আশিকের ভুংচুং কথায় কান দিলাম না। 

একদিন রাতে। রাত বারোটা হবে। আমি ঘুমাই নি। আশিক বলল, এই যে ও চলে আসছে। আমি বললাম, কে? আশিক বলল, পরী। ওর নাম মেহের। আমি বললাম, ফালতু কথা বন্ধ কর। 

আমি খুব বিরক্ত হচ্ছিলাম। ভাবছিলাম সামনের মাসেই এই রুম ছেড়ে অন্য রুমে উঠব। আশিকের সাথে এক রুমে আর থাকব না। মাসের আর ১০ দিন বাকি। 
দিন পাঁচেক পর হবে হয়ত, আশিক বলল, তুই বিশ্বাস করছিস না আমার কথা ? আজ বিশ্বাস করতেই হবে। রাত প্রায় ১২ টা। রুম অন্ধকার। আশিক অন্য চৌকিতে। আমি আমার বিছানায়। আশিক এটা সেটা বলছে আমাকে । এর মধ্যেই আমার মাথায় কে যেন একটা থাবরা দিল। আশিক হেসে উঠল। বললাম, এই মধ্যরাতে দুষ্টুমি না করলে হয় না আশিক? আশিক বলল, এক কাজ কর। আমার দুই হাত চেপে ধরে থাক। 

আশিক এগিয়ে এল। আমি ওর দুই হাত ধরে থাকলাম। এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মাথায় আবার থাবরা খেলাম। থাবরার জোড় বেশি ছিল না। কিন্তু আমার শরীর ঝিম ঝিম করতে লাগল। ভয়ের স্রোত শরীরে বয়ে গেল। আমি আশিকের হাত ছেড়ে দিলাম। আশিক হা হা করে হাসছিল। আমি উঠে সুইচবোর্ডের দিকে আগালাম। আলো জ্বালাবো। আশিক বলল, না না। আলো জ্বালাবি না। সে হিঁস হিঁস করে উঠল। কিন্তু আমার এত ভয় আর অস্থির লাগছিল যে, বাতি জ্বালাতেই হত। বাতি জ্বালালাম। ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজলাম। না, রুমে অন্য কেউ নেই। আশিক বলল, তুই একটা ফালতু। ও আজ রাতে আর আসবে না। চলে গেছে। 

সারারাত বাতি জ্বালিয়ে ঘুমালাম সেদিন। 

এরপরে আমি গ্রামের বাড়ি চলে গেলাম। 

কয়েকদিন পরে ফিরে এলে সে রাতেই ঘটনাটা ঘটল। রাত তিনটা পার হয়ে গেছে। হঠাৎ চাপা আওয়াজ পেয়ে জেগে উঠলাম। আশিককে ডাকলাম। তার বিছানা থেকে গোঙ্গানির মত আওয়াজ আসছে। লাফ দিয়ে বিছানা থেকে উঠে বাতি জ্বালালাম। যা দেখলাম সেটা কখনোই কাঙ্ক্ষিত ছিল না। আশিক বিছানায় হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে আছে। তার নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। চেহারা লাল হয়ে আছে। স্পষ্ট মারের দাগ। পা ফুলে আছে। ঠোঁট কেটে গেছে। আশিকের চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে। এত রাতে কী করব বুঝতে পারছিলাম না। ওকে ধরে আধশোয়া করে দিলাম। শরীরে হাত লেগে মনে হয় সে ব্যাথা পেল। ব্যাথায় ককিয়ে উঠল। পানি খাওয়ালাম তাকে। 


সকালে ওকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী হয়েছিল রাতে? আশিক বলল, হাঁটু পর্যন্ত লুঙ্গি পরা এক বিশাল লোক আমার বুকের উপরে এসে বসল। আমি ছিলাম আধো ঘুমে। ঘুমের মধ্যে দেখছি। পরে দেখলাম লোকটা আমার উপরে না, একটা বড় পাথরের উপরে বসে আছে। এরপর কথা নাই বার্তা নাই আমাকে শুরু করল মার। তার পরে তো জানিস কী অবস্থা হল আমার। 

আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেন মারল তোকে? আশিক বলল, রাতে যখন মেহের চলে যাচ্ছিল, ঘরের পাশে আরও কয়েকটা জিন দেখলাম। বিশাল লম্বা। মোটাসোটা। চেহারা অবশ্য মানুষদেরই মত। তবে আবছা। স্পষ্ট কিছু  না। একজন আমাকে বলছিল, মেহেরের সাথে সম্পর্ক না রাখতে। সে নাকি মেহেরের ভাই। মেহের হাসছিল। আমাকে বলল, ওর কথা পাত্তা দিও না। বলেই সে চলে গেল। আমি ঘুমিয়ে গেলাম। এরপরে তো এক বুড়ো এসে মেরে টেরে গেল। বুড়ো মনে হয় মেহেরের বাবা । আমার ধারণা।

আমি আশিককে বললাম, আশিক যা হওয়ার হইছে। তুই এখন পরী প্রেম ছাড়! আশিক অসুস্থ্য শরীর নিয়েও হাসল। সেই হাসির অর্থ আমি বুঝতে পারলাম না। 

কিছুদিন পর আশিকের অসুস্থ্যতা বেড়ে গেল । তাকে দেখলেই মনে হয় সে একটা ঘোরের মধ্যে আছে। প্রতি রাতে দুঃস্বপ্ন দেখতে লাগল। হাঁটু পর্যন্ত লুঙ্গি পরা বৃদ্ধ তাকে কোথায় যেন নিয়ে যায় । হঠাৎ একদিন দেখল রংপুরের একটা রাস্তা। ঐ রাস্তার আশেপাশে সে ঘোরাফেরা করত বেশি। একটা বকুল গাছ সেখানে। বৃদ্ধ বলল, এখানে আমরা থাকি। হঠাৎ দেখল যন্তুর মত চেহারার একটা মেয়ে। বৃদ্ধ বলল, এটা মেহের! আশিকের স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল। এরপর প্রতি রাতে নানান দুঃস্বপ্ন দেখতে লাগল সে। মানসিক ভাবে প্রায় অসুস্থ্য হয়ে গেল। 

আমি ওকে মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে নিয়ে গেলাম।  ইমাম সাহেব তাকে পবিত্র থাকতে বললেন সবসময় । গান না শুনতে, আর মেয়েদের ব্যাপারে কিছু না ভাবতে। তাদের সাথে সম্পর্ক না রাখতে। ইমাম সাহেবের ভাষায়– তিনি কিছু কেইস দেখেছেন যেগুলোতে, ঐ ছেলেরাই মহিলা জিন দ্বারা আক্রান্ত হয়, যারা মেয়েদের ব্যাপারে খুব বেশি লালায়িত থাকে। 

আসলে ইমাম সাহেবের কথাই ঠিক। আশিক সারাক্ষণ হেডফোনে গান শুনত। ইমাম সাহেব বলেছিলেন, গান শুনলে মানুষের অন্তর খুব এলোমেলো, দুর্বল হয়ে যায়। এই অবস্থায় জিনরা সহজে শিকার করতে পারে। তিনি আরও বললেন, পরী বলতে আসলে কিছু নেই। মহিলা জিনকে সাহিত্যে পরী বলা হয়। এবং তাদেরকে অতি রূপবতি ধরা হয়। কিন্তু বাস্তবে তা না। জিনরা মানুষের মত না। অতি সুন্দরও না। তারা অন্য প্রানীদের মত এক ধরণের প্রানী। হতে পারে তাদের শিং থাকে। পায়ে খুড় থাকে। তবে জিনরা যেহেতু অন্যদের রূপ ধারণ করতে পারে, এজন্য সুন্দরী কোনো মহিলার রুপ ধরতে পারে। কোনো জিনকে তাদের আসল রুপে কখনোই দেখা সম্ভব না। ইত্যাদি ইত্যাদি। 

ইমাম সাহেবের কথায় আশিকের মধ্যে পরিবর্তন কিছু হয়েছিল। সে আমার সাথে নামাজে যেত। গান শোনা ছাড়তে পারে নি। কিন্তু অনেক কমিয়ে দিয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ। ’

জহির একটা বড় নিঃশ্বাস ছাড়ল । বলল, গল্প শেষ।
মনে হয় গল্পটা বলতে পেরে ওর ভালো লাগছে।

আমি বললাম, ভালোই গল্প!
সে বলল, এখন ঘুমা । সময় আছে।
আমি বললাম, যা গল্প শুনলাম, এখন ঘুম ছুটে গেছে। 
তো, কী করবি?
আমি সত্যিকারের একটা কাহিনী বলি তোকে! জিনের গল্পই বলা চলে। 

জহির আমার গল্প শুনতে রাজি হয়ে গেল। আমি শুরু করলাম। 
গল্পের প্রধান চরিত্র একজন তরুনী। বুঝেছিস? জহির বলল, বুঝলাম। 
  আচ্ছা। 

‘তরুনী মেয়েটি বিয়ের উপযুক্ত বয়সে পৌঁছালে তার পরিবার তার জন্য উপযুক্ত পাত্র খুঁজতে লাগল। একটি পরিবারে মেয়ের বিয়ে নিয়ে দুই ধরণের অনুভূতি বিরাজ করে। মেয়েকে ভালো পাত্রস্থ করার আনন্দ। অপরদিকে মেয়ে বাড়ি থেকে চলে যাবে– এই বিরহ বেদনা। কিন্তু এই দুই অনুভূতির সাথে তরুনীটির পরিবারে আরেক ধরণের অনুভূতি যুক্ত  হয়েছিল । কারণ মেয়েটির মধ্যে হঠাৎ অসংলগ্নতা দেখা যায় । দিন দিন রোগা হয়ে পড়ছিল সে । রাতে ঘুম থেকে কখনো কখনো আতঙ্কিত হয়ে জেগে উঠে। চিৎকার করে। বিড়বিড় করে। কয়েকদিন পরে দেখা গেল মেয়েটি এখন হাসছে পরেই আবার  কাঁদছে । সবার ধারণা হলো জিনের আছর। আর ঐ বাড়ি আর বাড়ির আশপাশের বাঁশঝাড়ে জিনের উৎপাত নিয়ে সবাই জানত কম বেশি । তরুনীটির বাবা ছিলেন একজন আলেম। তিনি নিজেই দুআ কালাম পড়ে মেয়ের চিকিৎসা শুরু করলেন। এভাবেই দিন যাচ্ছিল। কিন্তু মেয়ের অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। একদিন মেয়ে তার বড় বোনকে বলল, সে নিয়মিত দুঃস্বপ্ন দেখছে। স্বপ্নে এক জিন বৃদ্ধ এসে বলেছে, সে এই এলাকার জিনের প্রধান। সে চায় তার জিন পুত্রের সাথে তাকে বিয়ে দিতে। অন্য কারও সাথে সে বিয়ে হতে দেবে না। 
মেয়ের স্বপ্নের কথা শুনে বাড়ির মহিলা মহলে কান্নার রোল পড়ে গেল। 
ইতিমধ্যেই একটা ভালো সম্মন্ধ এলো। মেয়েকে অসুস্থ্য অবস্থাতেও পছন্দ করল তারা। এরপর থেকেই মেয়ের অসুখ আরও বেড়ে গেল।  সম্মন্ধ আগালো না। মেয়ে এখনই স্বাভাবিক তো এখনই অচেতন। থেকে থেকে চিৎকার করে উঠছে। 

একদিন ইশার ওয়াক্তের পরের ঘটনা। মেয়েটা গুরুতর অসুস্থ্য । অচেতন। তার মাথায় পানি ঢালা হচ্ছে। হঠাৎ জ্ঞান ফিরে মেয়ে চিৎকার করে উঠল। বলল, আমাকে নিয়ে যেতে চায়, আমাকে নিয়ে যেতে চায়। পরিবারের সবাই তাকে ঘিরে ধরে দাঁড়িয়ে ছিল । হঠাৎ ঘরের পাশের বাঁশঝাড় প্রচন্ড ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল। প্রচন্ড দুলুনি শুরু করল বাঁশঝাড়ের মাথা। মেয়েটি সেদিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল। সাথে সাথে অচেতন হয়ে গেল। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। আতঙ্কে মেয়ের এক খালাত বোনও অচেতন হয়ে পড়ে গেল। 
সত্যিই পরিবারটি দূর্দশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছিল। 

পরিবারটির দূরবস্থা প্রায় বছর খানেক স্থায়ী হল। অনেক চিকিৎসা করেও মেয়ে সুস্থ্য হচ্ছিল না। জিন বারবার মেয়েকে সপ্নে বলছে, তাদের সাথেই সম্পর্ক করতে হবে। এবং তারা ভালো জিন। ইমানদার। নামাজ কালাম পড়ে। 
মেয়েটির পরিবারের আত্মীয়স্বজন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে শুরু করল যে, জিনের সাথেই মেয়ের বিয়ে দেয়া উচিৎ কি না। 
কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেয়ের বাবা এই সিদ্ধান্ত নাকচ করে দিলেন। বললেন তার মেয়েকে যেভাবে হোক ভালো ছেলে খুঁজে বিয়ে দেবেন। বিয়ে দিলেই জিনের এসব সমস্যা চলে যাবে। ইন শা আল্লাহ।  

নতুন গতিতে পাত্র খোঁজা শুরু হল। আল্লাহর রহমতে কয়েকমাসের মধ্যে মেয়ের বিয়েও হয়ে গেল। সবাই খুবই আনন্দিত  ছিল।  নতুন এই দম্পতীর জন্য দুআ করছিল ।  চেহারা, সুরতে তেমন না হলেও তরুনীটির স্বামী ছিল চমৎকার একজন মানুষ। সবার সাথে তার আচরণ ছিল অত্যন্ত দিলখোলা। 

দিন গড়ায় । থেকে থেকে মেয়েটির জিন জনিত সমস্যাও দেখা দেয় মাঝে মাঝে । কিন্তু তার স্বামীর পরিবার খুব একটা প্রতিক্রিয়া দেখায় নি। মেয়েটির পরিবারও ছিল কৃতজ্ঞ। কিন্তু সমস্যা হলো– মেয়েটি তার স্বামী, শ্বাশুরীর সাথে ভালো আচরণ করত না। জিনের সমস্যাটা কমে যাচ্ছিল দিন দিন । কিন্তু স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক দিন দিন খারাপ হতে থাকে। বছর ঘুরতেই তাদের একটা কন্যা সন্তান হয় এবং এর মাস ছ’য়েকের মধ্যেই তালাক হয়ে যায়। বলা যায় মেয়ের উদ্যোগেই তালাক। মেয়েটি তালাকের দিন কোর্টে স্বামীর প্রতি অত্যন্ত উগ্র আচরণ করল। মেয়ে পক্ষের অনেকেও আফসোস করল ব্যাপারটা নিয়ে। যদিও মেয়ের আচরণ অন্য সবার সাথে অত্যন্ত ভালো। কিন্তু সে শুধু স্বামীকে দেখতে পারে না।  সবাই জিনের আছরের ব্যাপারটি নিয়ে খুবি উদ্বিগ্ন হলো। কীভাবে দুষ্ট জিন একটা সংসার ভেঙ্গে দিল। কত খারাপ হতে পারে তারা!&#039;

জহির বলল, গল্প শেষ? আমি বললাম, না। কিছুটা বাকি আছে। আমি শোয়া থেকে আধশোয়া হলাম। জহির আরও গুটিয়ে গেল বিছানায়। গল্প আবার শুরু করলাম। 

&#039;বুঝলি জহির? মেয়েটার ডিভোর্সের ২ বছর পর তার জন্য একটা বিয়ের প্রস্তাব আসে নতুন করে। মেয়ের পরিবার রাজি হল না, যদিও রাজি হওয়া উচিত ছিল, কারণ তাদের মেয়ে ডিভোর্সি। প্রস্তাবের ছেলেটির বাবা ছিল প্রান্তিক পর্যায়ের একজন দরিদ্র মানুষ। ছেলেও তখন অনার্স পাশ করে অল্প বেতনের একটা চাকরী করছে কেবল । অন্যদিকে মেয়ের ফ্যামিলি অনেক ধনী ও সমাজে সুপরিচিত ছিল। সামাজিক মর্যাদায় আকাশ পাতাল পার্থক্য। কিন্তু সবাইকে আশ্চর্য্য করে দিয়ে, মেয়েটি বিয়েতে রাজি হয়ে গেল। মেয়েকে ধরে পড়ল বাড়ির সবাই। কাহিনী কী? সে জানাল, ছেলেটির সাথে সে একসাথে পড়ত। দুজন দুজনকে পছন্দ করত। এখন যেহেতু প্রস্তাব এসেছে তাই বিয়ে করতে চায়। মেয়েটি সম্মন্ধটা এগিয়ে নেয়ার জন্য জিদ করতে শুরু করল। অবশেষে পরিবার মেনে নিল। পরিবারের কেউই তেমন উৎফুল্ল না হলেও মেয়েটি ছিল বেশ আনন্দিত। কিছুদিন পরে ছোট আয়োজনে তাদের বিয়ে হয়ে গেল। মেয়েটির নতুন স্বামী ছিল বেশ ফর্সা, সুদর্শন। এরপরে তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছে বলে জানি। সুখের সংসার।  আগের ঘরের সন্তানটিকে মেয়েটির নতুন স্বামী নিজের মেয়ের মতই দেখেন বলে শুনেছি। আল্লাহ তাদের ভালো করুন। ’

জহির বিছানায় উঠে বসল। বলল, হাসান।
  হুম, বল।
  তুই কি বলতে চাচ্ছিস যে, মেয়েটি আগে থেকেই তার দ্বিতীয় স্বামীকে অনেক পছন্দ করত। কিন্তু পরিবারে বলতে পারছিল না। যেহেতু ছেলেটির পরিবার দরিদ্র । ছেলের বয়স কম। কিছু করে না। তো মেয়েটি যা করল তা হলো, জিনে ধরা রোগীর অভিনয়? যেন তার বিয়ে কয়েক বছরের জন্য বন্ধ থাকে? তাই না? বল।

জহিরের কন্ঠে বেশ উত্তেজনা। সে স্থীর চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি পাত্তা দিলাম না। বললাম,  আমি তো সেরকম কিছু বলি নি, জহির!
 হা হা হা।  
জহির হাসছে। বলল, শুধু শুধু জিনের গল্প বলার ছেলে তুই  না, হাসান ।
আমি বললাম, আসলে মেয়েটির অভিনয়ের সম্ভবনা অস্বীকার করা যায় না। তবে, ঘটনাটা পূনরায় পর্যবেক্ষণ আর বিশ্লেষনের সুযোগও নেই। তাই হলফ করে কিছু বলা যায় না। তবে বাস্তবে এরকম অভিনয়ের ঘটনা কিন্তু মাঝে মধ্যেই শোনা যায় ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/248403/</link>
				<pubDate>Sun, 17 May 2026 04:24:01 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সুদর্শন</p>
<p>        ‘ঘুম আসছে না?’<br />
        ‘নাহ! সকাল সকাল বাসের দুলুনিতে অনেক্ষণ ঘুমিয়েছি।‘<br />
       ‘যুহরের পর থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত কিন্তু আর বিশ্রাম নিতে পারবি না। না ঘুমালেও চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাক।‘<br />
         ‘সমস্যা নেই। একটা গল্প শোন। যুহরের আরও ঘন্টাখানেক সময় বাকি।‘</p>
<p>আমরা একটা মাদ্রাসার মেহমানখানায় দুই বন্ধু। দুই বিছানায় দু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-248403"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/248403/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a8d9a9c20fb0166a903f1bc7c45506d2</guid>
				<title>ভুতের টাকার খোঁজে

মনোয়ারা বেগম পুরো বাড়ি দাপিয়ে ছুটছেন। কখনো পুকুর পারে দৌড়ে যাচ্ছেন তো কখনো কুয়ার পারে। তার পিছু পিছু যাচ্ছে তার দুই ননদ। সাথে কিছু শিশুর দল। মনোয়ারা বেগম হঠাৎ একেকটা জায়গায় দেখিয়ে দিয়ে বলেন, এই যে এই যে। তার পিছের মহিলাদের দল উৎসুক চোখ নিয়ে তাকায়। বলে, কই কই? মনোয়ারা বেগম বলেন, এই যে এই যে। বলে তিনি সেখানে স্থির থাকেন না। আরেক জায়গায় দৌঁড়ে যান। দৌঁড়ানোর মাঝে মাঝে হঠাৎ খুন খুন করে কাঁদতে থাকেন। কখনো বা হাসতেই থাকেন, মনে হয় হিস্টিরিয়ার রোগী। হাসি আর থামতে চায় না। পুরো পাড়ার লোক এসে ভিড় করে এই বাড়িতে, খোঁজ নিয়ে যায় যে যখন সুযোগ পায়।

মনোয়ারা বেগমের স্বামী বাতেন মিয়া উঠানের বেঞ্চিতে বসে আছেন। তার চোখে কৌতুহল খেলা করছে । দেখে মনে হবে, স্ত্রীর পাগলামিতে তিনি আনন্দ পাচ্ছেন। যদিও অন্য সময় স্ত্রীর কথায় কাজে পান থেকে চুন খসলেই মা বাপ তুলে গালাগালি করেন। কিন্তু এখন অবস্থা ভিন্ন। মনোয়ারার উপর জিন ভর করেছে। মনোয়ারা বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় স্বর্নের পয়সা দেখতে পাচ্ছে। বেশি দেখতে পাচ্ছে কুয়ার পাড়ের বড়ই গাছের নিচে। সেখানে খুড়লেই পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু তার বউ মাঝে মাঝে যাচ্ছে পুকুর পারে। সেখানেও নাকি টাকা দেখতে পাচ্ছে। বাতেন মিয়া অপেক্ষায় আছেন। এত তাড়াহুড়োর কিছু নাই। কাজে নামতে হবে গভীর রাতে। পাড়ার লোককে বুঝতে দেয়া যাবে না। সব কিছু সবার জন্য না। সে হচ্ছে বিশেষ সৌভাগ্যবান। চখি পাড়ার নেজারুলের কথাই ধরা যাক। বিষোহরির জঙ্গলে ভুত তাকে ডেকে নিয়ে গেল। স্বর্নের টাকা ভরা ডেগ দেখালো। ভুত বলল, তোকে খুব পছন্দ হয়। তোরে এই ধন দিব। আরো দিব। নেজারুল কাঁপতে কাঁপতে বলল, দেন। এত বড় ডেগ একা নিতে পারব না। লোক নিয়ে আসি। ভুত বলল, আর কাউরে জানাবি তো জানে মাইরা ফেলব। শোন, স্বর্নের মোহর নিবি তো তোর ব্যাটা ছাওয়ালটাক নিয়ে আয়। আমার কাছে দিয়া দে। সব মোহর নিয়ে যা। নাহলে পাবি না। দেখ মোহর কেমন জ্বলজ্বল করে। দেখ, দেখ!  নেজা মিয়া ছুটল বাড়িতে। তার চোখে মুখে ধক ধক করে জ্বলছে লোভ। বাড়িতে এসে দেখল তার ৩ মাসের ছেলে সন্তান খুব কাঁদছে। সে স্ত্রীকে সব খুলে বলল। আল্লাহ আরো ছেলে সন্তান দিবে। এত চিন্তার কি আছে? এইটারে ভুতের কাছে দিয়া দিতে হবে। ডেক ভরা স্বর্ণের মোহর নিয়ে প্রথমে বানানো হবে বিল্ডিং বাড়ি । এরপর জমি কিনবে ১০০ বিঘা।  নেজারুলের বউ স্বামীর কথা শুনে বিকট চিৎকার দিয়ে উঠল। কোলের সন্তানকে জড়িয়ে ধরল শক্ত করে। বলল, আমার জীবন থাকতে এ হবে না। নেজা মিয়া কথা বাড়ালো না। সে বুঝেছে তার বউ কথা শুনবে না। বউয়ের চোখে জিদের আগুন। নেজারুলে সেবার ভুতের টাকা না পাওয়ার দুঃখে বাড়ি ছেড়ে বের হয়ে গেল। দিনের পর দিন যায় তার খোঁজ নেই। সপ্তাহ খানেক পরে সে ফিরল উস্কখুস্ক চেহারা নিয়ে। বাতেন ভাবছে, নেজারুল বড়লোক হতে পারল না। যে বড়লোক হলে রসগোল্লা দিয়ে ঢিল ছুড়ে কুকুর তাড়ানো যায়। অবশ্য আশ্চর্য্য ব্যাপার হলো, নেজারুলের আর কোনো সন্তান হয় নি পরবর্তীতে। তার একমাত্র ছেলে এখন বাপের সাথে গরুর দালালির ব্যাবসা করে বেড়ায়। বাতেনের দুই বাড়ি পরের যে অশিদুল। সেই গন্ডমূর্খটার কথা ভাবলেই শরীর জ্বলে যায় আবার হাসিও পায় বাতেনের। অশিদুলের ঘরে ভুত এসে স্বর্ণের কলসি দিয়ে গেল। কলসি ভড়া মোহর। ভুত বলল, সব তোর। যা ইচ্ছা খরচ কর, খা। খালি গরুর গোশত খাবি না। অশিদুল সপ্তাহখানেক গরুর গোশত না খেয়ে থাকতে পারল। শুক্রবার হাটে গিয়ে আর সামলাতে পারল না। গরুর মাংস কিনে ফেলল। সে ধনী হয়েছে আবার গরুর মাংস খাবে না কেমন কথা? গরুর মাংস-ভাত পেট ভরে খেয়ে ঘুম দিলে সে। এক ঘুমে রাত কাবার। সকালে উঠে দেখল, স্বর্নের কলস নেই, মোহরও নেই। অশিদুলের কোনো আফসোস দেখা গেল না। গরুর গোশত না খেয়ে থাকা তার পক্ষে সম্ভব না। ভাগ্য আসে সেই ভাগ্য সবাই রাখতে পারে না। বাতেন মিয়া ভাবছে, এবার ভাগ্যকে ধরতে হবে। তার স্ত্রী এখন বাড়ির বাইরে হম্বি তম্বি করছে। দেখে আসা যাক কি হচ্ছে সেখানে। বাতেন উঠে দাড়াল। 

উঠানে পাড়ার লোকের জটলা। দক্ষিণ বাড়ির রমজানও এসেছে। লম্বা, খটখটে, বদরাগী একটা মানুষ। তাকে দেখলেই মনোয়ারার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। সম্পর্কে ভাসুর জন্য কিছু বলা যায় না কখনো। কিন্তু আজ মাফ নেই। রমজান মনোয়ারাকে বলছে, কই স্বর্নের মোহর কই ? খালি ঢঙ করিস এই দিনের বেলা? মনোয়ারার চোখ ধক করে জ্বলে উঠল। সে বাড়ির ভেতরে দৌড়ে গেল। সবাই ভাবল স্বর্ণের মোহর দেখাতে যাচ্ছে । কিন্তু মনোয়ারা চুলার পাড় থেকে মোটা দেখে একটা লাকড়ি তুলে নিল। তেড়ে গেল রমজানের দিকে। সাহসী রমজানের হঠাৎ কি হলো কে জানে। সে উল্টা ঘুরে কষে দৌড় দিল। মনোয়ারা লাকড়ি নিয়ে ছুটছে তার পেছনে। থামাথামির নাম নেই। তার চোখে আগুন। মুখে বলছে, খাড়া রমজান, তুই খাড়া। রমজান মিয়া কোনোমত দৌড়ে তার বাড়ি গিয়ে ঘরে ঢুকল। দরজা আটকিয়ে বসে থাকল। দিন গড়িয়ে বিকাল হলো। বাতেন মিয়ার বাড়িতে নানান কান্ড কারখানা ঘটতেই থাকল। সন্ধ্যা হলে জ্ঞান হারালো মনোয়ারা। চেহারায় পানি দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা বৃথা গেল। এবার মরিচ পুরে তার নাকের কাছে ধরা হলো। জ্ঞান না ফিরে উপায় আছে? জ্ঞান ফিরেই মনোয়ারা পানি চাইল। পানি খেয়েই সে ঘুমিয়ে পড়ল। সারারাত ঘুমালো মরার মত। বাতেন কয়েকবার জিজ্ঞেস করল, ভুতের টাকা কোন জায়গায়? মনোয়ারার কোনো জবাব নেই। ঘুমের মধ্যেই সে হাসে। কখনো কাঁদে। 
খুব সকালবেলা ঘুম থেকে উঠল মনোয়ারা। রান্নাঘরে গিয়ে এক গামলা পান্তা ভাত খেল। সরিষার তেল, লবন, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ। ধীর পায়ে হেঁটে পুকুর পারে গিয়ে সে বসল। তার চোখে উদাস ভাব প্রবল। তার ইচ্ছে হচ্ছে, কোথাও একদিকে বেরিয়ে যায়। তার যাবার জায়গা নেই। বাবা বেঁচে নেই। ভাই বিশাল সংসার টেনেটুনে কোনোমতে চালায়। স্বামীর বাড়িতে সে উদ্বাস্তুর মত হয়ে পড়েছে।  সে তাকালো তার হাতের দিকে। তার গায়ের রং ঘন কালো। বিয়ের পরে এই বাড়িতে যখন প্রথম এল। দেখল তার স্বামী খুব রাগারাগি করছে। কারণ বাতেন মিয়াকে মেয়ে না দেখিয়েই বিয়ে দিয়েছে তার পরিবার। যৌতুকের লোভে। বিয়ের পর মেয়ে দেখে একদম পছন্দ করল না বাতেন। বৌয়ের সাথে দেখা করে না, কথাও বলে না। মনোয়ারা যে এই দুঃখে কাঁদবে সেই সাহসও পায় নি। ভয়ে সে কুঁকড়ে থাকত, স্বামীর পরিবারের অন্যদের রাগও কম না।  একের পর এক কাজ করতে বলে। উঠতে বসতে খোঁটা । তার সন্তান যখন হলো তার বাবা পানাতুল্লাহ দেখতে এলেন। ব্যাগে কিছু পান সুপারি নিয়ে। গ্রামে আনন্দের সময় মানুষ পান সুপারি খেতে পছন্দ করত। পান চিবাবে আর হাসি মুখে গল্প করবে। সেই পান সুপারির ব্যাগ বাতেনের পছন্দ হলো না। সবার সামনেই সে ব্যাগ পুকুরে ছুড়ে মারল। মনোয়ারার বাবা পানাতুল্লাহ মেয়ে-জামাইর বাড়ি থেকে মাথা নিচু করে বের হয়ে গেলেন। মনোয়ারা অসুস্থ্য শরীর নিয়ে গেল বাবার পিছু পিছু । সামনের মোড়ে বাস আসে কতক্ষণ পর পর। সেখান থেকে ১ টাকা ভাড়া। বাস না আসা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকল বাপ মেয়ে। বাস এল। পানাতুল্লাহ উঠে গেলেন বাসে। বাবাকে অশ্রু চোখে বিদায় দিয়ে মনোয়ারা ধীরে ধীরে হেঁটে বাড়ি ফিরল । এই তো সেদিনের কথা। এরপরে তার বাবা আর বেশিদিন বাঁচে নি। বাবার কথা মনে পড়তেই কাঁদতে শুরু করল মনোয়ারা। মাথা ঝুলিয়ে সে কাঁদছে। 
বাতেন মিয়া ঘুম থেকে উঠে স্ত্রীকে পেল না। সে মনোয়ারাকে খুঁজতে খুঁজতে এল পুকুর পারে। দেখল মনোয়ারা মাথা ঝুলিয়ে কাঁদছে। বাতেন মনোয়ারার পেছনে দাঁড়িয়ে বলল, কই টাকা কোন জাগাত? ক দেখি।
মনোয়ারা চুপ করে আছে। সে কান্নার বেগ সামলানোর চেষ্টা করছে।
‘কি? ভুতে কিছু কয় নাই?’
‘কইছে।‘ 
‘কী কইছে?”
“আমারে স্বর্ণের মোহর দিবে, সিন্দুক ভরা মোহর।‘
“সিন্দুক দেখা যায়?’”
‘হ্যাঁ, সোনার পয়সা জ্বল জ্বল করে।‘
“ধরা যায় না?”
“ধরিবার গেলে নাই।“
“আর কি কইছে ভুতে।“
“কইছে, স্বপ্নে আমারে জায়গা চিনাইবে।“
“কিছু করতে কইছে? সিন্দুক পাওয়ার জন্য?”
“কইছে, সে আমারে খুব ভালো পায়। আমারে অনেক কিছু দিবে।“
“আচ্ছা।“

বাতেন মিয়া বেশ খুশি মনে বাড়ির দিকে ফিরে গেল। তার অস্থির বোধ হচ্ছে। সে শুনেছে ভুতের নাকি শোল মাছ খুব পছন্দ। সে ভাবল পুকুরে নামবে, শোল মাছ ধরার চেষ্টা করবে। মাছ পাওয়া গেলে সেই মাছ দুপুরে রান্না করে মনোয়ারাকে খেতে দিবে। দেখা যাক কি হয়। সে কুয়াপাড়ে গেল দাঁত মাজতে। 

সকাল গড়িয়ে যাচ্ছে। মনোয়ারা পুকুর পার থেকে উঠছে না।  বাতেন সবাইকে বলে দিয়েছে, মনোয়ারাকে যেন বিরক্ত করা না হয়। পারার লোকেরা চুপচাপ আসছে যাচ্ছে। মনোয়ারা তেমন একটা কথা বলছে না। দুপুর হতে না হতেই তার শ্বাশুরী তাকে ডেকে নিল রান্নাঘরে। শোল মাছ দিয়ে ভাত খেতে দিল। মনোয়ারা কোনো কথা না বলে খাওয়া শুরু করল। তার পাশে ৪ বছর বয়সী মেহনাজ। মনোয়ারার কন্যা। সে মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে ভয় ভয় চোখে। মনোয়ারা মেয়ের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে শ্বাশুরীর দিকে তাকিয়ে একটা বিদঘুটে হাসি দিল। শ্বাশুরী ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেল। বলল, আমারে কিছু করবা না কইলাম। মনোয়ারা বলল, করব না কিছু। 
“তোমার ভুত কি গেছে?”
“চাইরপাশে খালি ঘুরে, আমারে ত্যাক্ত করে।“
“শুনো, আমার পুতে তোমারে তালাক দিবার চায়, এই কথা সত্য না। মরদ লোক মেজাজের চোটে এইটা সেইটা কয়, সেইসব গায়ে মাখান যায় না।‘
“শোল মাছের মাথাটা দেন খাই।‘ 
“খাও, মানা করছে কেডা।“
মনোয়ারার দিকে তাকিয়ে আছে তার শ্বাশুরী। মনোয়ারাও চোখ তুলে তাকালো শ্বাশুরীর দিকে। বুড়ির চোখে খেলা করছে ধকধকে লোভ। সিন্দুক ভরা স্বর্নের মোহরের লোভ। মনোয়ারা ভাত খাচ্ছে গপ গপ করে। শোল মাছটার যা স্বাদ হয়েছে। যদি সে সব মাছ খেতে চায়, আজ দেয়া হবে। সে ভাবছে, খেয়েদেয়ে একটা লম্বা ঘুম দিবে। কারণ বিকাল থেকে আবার শুরু করতে হবে নাটক। যেই নাটকের বুদ্ধি দিয়েছেন রসুনি বেগম। তার বৃদ্ধা মা। বুদ্ধিটা মোটেও খারাপ মনে হচ্ছে না মনোয়ারার। তার মায়ের নানান অভিনয়ও সে ছোটবেলা থেকে দেখেছে। সে সেই মায়ের মেয়ে। আর তার বাবা পানাতুল্লাহ বশর। যাকে এক জোছনা রাতে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল মানুষের বেশ ধরা জিন। মাছ ধরার লোভ দেখিয়ে। মাছ ধরার যথেষ্ঠ লোভ পানাতুল্লাহ বশরের ছিল। জঙ্গলের পাশে জলা জায়গায় সেই রাতে পাওয়া যাচ্ছিল বড় বড় মাগুর আর কই মাছ। পানাতুল্লাহ হঠাৎ দেখল তার সাথীজনের পা লম্বা লম্বা। উল্টা দিকে ঘুরা। পানাতুল্লাহ এক সেকেন্ড অপেক্ষা না করে জলা থেকে উঠে দেয় এক দৌড়। জিনটা ডাক পেড়ে বলে, আইজ বাঁচলি রে পানাতুল্লাহ, বাঁচলি। না হয় পানিতে চুবায়া মারতাম তোকে। পানাতুল্লাহ বেঁচেছিলেন সেদিন। তার মেয়ে মনোয়ারাকেও বাঁচতে হবে। ভুতে ধরা আর ভুতের টাকা পাওয়ার অভিনয় করে হলেও বাঁচতে হবে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/247231/</link>
				<pubDate>Sun, 10 May 2026 06:08:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভুতের টাকার খোঁজে</p>
<p>মনোয়ারা বেগম পুরো বাড়ি দাপিয়ে ছুটছেন। কখনো পুকুর পারে দৌড়ে যাচ্ছেন তো কখনো কুয়ার পারে। তার পিছু পিছু যাচ্ছে তার দুই ননদ। সাথে কিছু শিশুর দল। মনোয়ারা বেগম হঠাৎ একেকটা জায়গায় দেখিয়ে দিয়ে বলেন, এই যে এই যে। তার পিছের মহিলাদের দল উৎসুক চোখ নিয়ে তাকায়। বলে, কই কই? মনোয়ারা বেগম বলেন, এই যে এই যে। বলে তিনি সেখানে স্থির থাকেন না। আ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-247231"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/247231/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d3287aab57ef12a4b07ea0c33cd34f00</guid>
				<title>বিস্বাদ


বা রে, আমাক বাঁচাও রে। 
একটা কন্ঠস্বর ভেসে আসছে। কন্ঠস্বরের মালিক এদিকেই ছুটে দৌঁড়ে আসছে মনে হয়। হতভম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে গেল লাবু মাস্টার। রাত প্রায় ১ টা বাজে। এমপি সাহেবের বাড়ির এলাকায় কে বলছে– আমাকে বাঁচাও রে?

আ… আ… আ… আমাক বাঁচাও রে! 
লাবু মাস্টার আবার হতভম্ভ হয়ে গেল। এমপি মহোদয় সাকলাইন চৌধুরী রাস্তায় দৌড়াচ্ছেন । বোঝা যাচ্ছে লোকটা মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় আছে। দৌড়ানোর ভঙ্গি এলোমেলো। একটু পেছনেই দেখা গেল, এমপি সাহেবের স্ত্রী বড় একটা বটি নিয়ে ধাওয়া করছে তাকে !
এমপি সাহেবের স্ত্রীর কন্ঠ শোনা গেল— তোরে আইজ মাইরা ফালামু। প্রতি রাইতে, নতুন নতুন **মেয়ে লাগে তোর। বুড়া শুয়োর। 

এমপি সাহেব দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন । তার পা আর চলছে না। পেছনে তার স্ত্রীকে দেখতে পাচ্ছে লাবু মাস্টার। মহিলার চোখের দৃষ্টি ভয়ানক। আজ মনে হয় খুনোখুনি হবে। 

রাস্তায় লাফিয়ে এগিয়ে গেল লাবু মাস্টার। তাকে দেখে এমপি সাহেব জড়িয়ে ধরে বললেন, বাঁচা রে লাবু, বাঁচা। 

লাবু মাস্টার এমপিকে এক পাশে আড়াল করে বলল, ভাবী থামেন, থামেন। ভাবী থামেন। 


সাদা রং এর দোতলা একটা বাড়ির উপরে ভোরের শীতল আলো পড়েছে। এই বাড়িটার আশপাশে আর বাসা-বাড়ি নেই। কয়েকশ মিটারের মধ্যে। জায়গাটা শহরতলি থেকে ভিতরে হওয়ায় নিরিবিলি। এদিকে মানুষের আনাগোনাও কম। সকাল থেকেই আকাশে মেঘ করেছে। তবে বৃষ্টি হচ্ছে না। আবহাওয়া কেমন গুমট। সাদা বাড়িটার সামনে লোহার গেট। ভেতরে খেয়াল করে তাকালে দেখা যায়, একজন দারোয়ান বসে আছে। চারপাশ গাছগাছালিতে ভরা। তাই বাড়ির ভেতরটা বেশি অন্ধকার মনে হয়। বাড়িটির বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভেতরে কি হচ্ছে। এটা এমপি সাকলাইনের বিশেষ প্রাইভেট চেম্বার। মিটিং রুমের উঁচু উঁচু শোকেসে সারি সারি বিদেশী মদ সাজানো। চেম্বারের চারদিকে সোফা। বিশেষ বিশেষ লোকেরা এখানে আসে। আড্ডা দেয়। আজ চেম্বারে লাবু মাস্টার সহ কয়েকজন বসে আছে। এমপি সাহেব জরুরী তলব করেছেন সবাইকে। কারো মুখে কোনো কথা নেই। এমপি সাকলাইনের চোখ বন্ধ। তিনি বন্ধ চোখ মাঝে মাঝে খুলছেন, মদের গ্লাসে চুমুক দিচ্ছেন। আবার চোখ বন্ধ করে ফেলছেন। হঠাৎ তিনি নিজের গ্লাস সরিয়ে নতুন একটা গ্লাসে মদ ঢাললেন। লাবু মাষ্টারের দিকে এগিয়ে দিলেন। বললেন, খা রে লাবু।

লাবু মাস্টার মদ খায় না। সে সাকলাইন খানের প্রতিষ্ঠিত প্রাইভেট স্কুলের হেডমাস্টার। এককালে রাজনীতি করত। ছিল জেলা সরকারী কলেজের ছাত্র সংগঠনের লিডার। সরকার পরিবর্তনের পর র&#x200d;্যাবের অভিযান শুরু হলে তাকে ৪ বছর নানার বাড়িতে লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল । এরপর একসময় আবার সরকার পরিবর্তন হয়। রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ হয় লাবুর। কিন্তু সে কানে ধরে তাওবা করেছে, রাজনীতি আর করবে না। সুন্দরমত বৌ-বাচ্চা নিয়ে জীবন কাটাবে। তাই চলছে। কিন্তু পুরাতন রাজনীতির জের ধরে এমপি সাকলাইন তাকে এখনো দাম দেয়। 

লাবু গ্লাস সরিয়ে রেখে বলল, খাই না এখন বস। এমনিই লিভারের জায়গায় ব্যাথা হয়। ভয় লাগে, কখন মরে যাই।

এমপি সাকলাইন চোখ খুলে মুচকি হাসলেন। আবার চোখ বন্ধ করে ফেললেন। তার চেহারায় চিন্তার ছাপ দেখা গেল। সামনে আবার ইলেকশন। সবাইকে হাতে রাখতে হবে। লাবু মাস্টার রাজনীতি ছেড়ে দিলেও খুবই বিশ্বাস্ত লোক। গতকাল রাতে তাকে বাঁচিয়েছে সে। অবশ্য বাঁচানোর মালিক আল্লাহ। সাকলাইন চৌধুরী মনে মনে ভাবছেন । 
এমপি সাকলাইন একটা মাঝারি সাইজের ব্যাগ বের করে এগিয়ে দিলেন সবার সামনে। 
একজন ব্যাগের চেইন খুলে দেখল হাজার টাকা নোটের অনেকগুলো বান্ডেল।
সাকলাইন বললেন, ভাগ করে নে সবাই।  
এমপি সাকলাইনের মুখে হাসি লেগেই থাকে। টাকার ব্যাগ বাড়িয়ে দেয়ার পরে সেই হাসি আরো বিস্তৃত হলো। তার টাকার কমতি নেই। গত ৪ বছরে শত শত কোটি টাকার সম্পত্তি, ব্যাবসা হয়েছে । যদিও সরকারী দলের এমপিদের সম্পদের তুলনায় এটা কিছুই না। সাকলাইন শরীক দলের এমপি। এজন্যই তার আয়ের কমতি আছে । এই কমতি তিনি সামনের বার পুষিয়ে নিতে চান । 

সবাই এমপির চেম্বার থেকে বেরিয়ে গেছে। তবে সাকলাইন নিজে যান নি। তিনি গত কয়েকদিন ধরে শহরের বাসায় থাকছেন না। থাকছেন না বললে ভুল হবে। তাকে তার স্ত্রী থাকতে দিচ্ছে না। স্ত্রী হুমকি দিয়েছে, দেখা মাত্রই বটি দিয়ে কোপ দিবে। নিজের স্বামীকে কুপিয়ে মারবে। এজন্য এই চেম্বারেই বসবাস । এমপির আফসোসও হচ্ছে, আবার রাগও হচ্ছে। কিন্তু কী করার আছে? আর তার স্ত্রীর অভিযোগ মিথ্যা নয়। আসলেই তার প্রতিরাতে নতুন নতুন **মেয়ে প্রয়োজন হয়। চমৎকার কিছু সাপ্লায়ার আছে। দূর দূরান্ত থেকে তারা সাপ্লাই দেয়। মোটা অংকের টাকা দিয়ে পুষতে হয় তাদের। সাকলাইন চৌধুরী ভেবেছিলেন, জীবনে তো মোজ মাস্তির প্রয়োজন আছে! এবারই প্রথম এমপি হয়েছেন। কত রিস্ক নিয়ে তাকে রাজনীতি করতে হয়েছে, গত সরকারের মেয়াদে ৩ বছর জেল খাঁটতে হলো । সামনের বার সরকার পরিবর্তন হলে আবার জেলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। রাজনীতি করতে হলে এক পা জেলে রেখে রাজনীতি করতে হয়। রিস্ক যেমন লাভও তেমন! অবশ্য সামনের বার সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। সরকারী দল নানান ফন্দি করে একতরফা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মানে হলো, এমপি সাকলাইন যদি তার আসনে মনোনয়ন পেয়ে যান, তাহলেই কেল্লা ফতে! তাই কেন্দ্রীয় নেতাদের খুশি রাখার কোনো বিকল্প নেই। নিজ দলের চেয়ারম্যানের সুনজরে তিনি আছেন। নিয়মিত ‘বখরা’ পাঠাচ্ছেন। চেয়ারম্যানও তাকে বিশেষ স্নেহ করেন। এমপি সাকলাইনের মন খুশি খুশি। মদের নেশা তাকে বেশ ধরেছে। মনে হয় চেয়ারেই ঘুমিয়ে পড়বেন। হাত পা কেমন অসার লাগছে।

পড়ন্ত বিকেল। চেম্বার ফাঁকা। একা একা ভালো লাগছে না এমপির । তিনি গ্লাসে মদ ঢেলে নিলেন। মদই ইদানিং তার সঙ্গী হয়ে উঠছে। এ নিয়ে চৌদ্দ গ্লাস। তার হঠাৎ মনে হলো, নাহ! মদ খাওয়া বেশি হয়ে যাচ্ছে। অবশেষে লিভার নষ্ট হয়ে আবার হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরতে হবে। কিন্তু নেশা ছাড়া কি সহজ? মদের নেশা বড় নেশা। আর তার চেয়ে বড় নেশা নতুন নতুন তরুনী **মেয়ের নেশা। হা হা। আবার রাজনীতির নেশা বড়ই নেশা! এমপি হওয়ার নেশা বড়ই নেশা! হা হা। হা হা। সাকলাইন চৌধুরী ভাবছেন, মদ কি তাকে মাতাল করে ফেলল? এরকম মাতলামি কথা ভেবে যাচ্ছেন কেন তিনি বারবার? নিজের উপর নিয়ন্ত্রন হারালে তো চলবে না! রাজনীতি করতে হলে জাতে মাতাল তালে ঠিক থাকতে হবে! না ভুল হয়েছে। বরং মদে মাতাল তালে ঠিক থাকতে হবে! হা হা। হা হা হা। এমপি সাকলাইন হাসি থামাতে পারছেন না। ভাবলেন পাশের ডিভানে গিয়ে শুয়ে থাকবেন। এমন সময় কলিং বেল এর আওয়াজ হলো।

এমপি সাহেবের চেম্বারে গোল করে বসেছে এমপির খাস লোকেরা। তার মধ্যে একজন লোক একটা খবর শোনালো। খারাপ খবরই বলা চলে। যা শুনে সাকলাইন চৌধুরীর কান কেমন ভোঁ ভোঁ করছে। চেহারায় লাল আভা ফুটে উঠছে। তিনি ঘন ঘন মদের গ্লাসে চুমুক দিচ্ছেন। লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, কী বললি… আবার বল।

একপাশ থেকে লোকটি বলল, কনফার্ম খবর এমপি সাব। পার্টির চেয়ারম্যানের আপন ভাগনে বিদেশ থেকে দেশে আইতাছে। দেশেই থাকব। আপনার আসনে তারে মনোনয়ন দিব চেয়ারম্যান স্যারে। নিজের ভাগনে বলে কথা। খবর পাক্কা।
পাক্কা খবরের কথা শুনে এমপি সাহেব ঝিম মেরে গেলেন। হঠাৎ দাঁড়িয়ে বললেন, যেকোনভাবেই হোক, যেকোনো শর্তেই হোক, আমার এমপি থাকা লাগবে। চেয়ারম্যান স্যারের সাথে সাক্ষাত করার ব্যাবস্থা কর। বড় মিটিং করার মত সময় লাগবে। যা, সবাই যা। 
সবাই বের হয়ে গেল। 
এমপি সাহেব তার খাস বেয়ারাকে বললেন, এই টেলিফোন নিয়ে আয়। তার গলা হালকা কাঁপছে। কন্ঠস্বরে ক্ষোভ ও উত্তেজনার মিশ্রন।

মাস পার হয় নি। এক ঝাঁ ঝাঁ রোদে ভরা দুপুর। চারপাশের গাছে থাকা কাকগুলোর কা কা আওয়াজ শুনে মনে হচ্ছে তাদের গলা ভীষন শুকনো। সাকলাইন চৌধুরী খুব ভারাক্রান্ত মন নিয়ে নিজ পার্টির চেয়ারম্যানের চেম্বার থেকে বের হয়ে আসছেন। তার পাশে ৪ জন খাস লোক। তারা পিছু পিছু বের হচ্ছে। সাকলাইনের বুকে ব্যাথা হচ্ছে। কুৎসিত গালি দিতে ইচ্ছে করছে পার্টির চেয়ারম্যানকে। কিন্তু না। ধৈর্য্য ধরতে হবে। ধৈর্য্য। চেয়ারম্যান তাকেই মনোনয়ন দিতে রাজি হয়েছে, এটাই বড় বিষয়। কিন্তু পেপারমিল ছাড়া তার শত শত কোটি টাকার সব সম্পত্তি লিখে দিতে হবে চেয়ারম্যানের নামে। এই হলো শর্ত। এমপির খাস লোকেরা তাকে পরামর্শ দিয়েছে এবার মনোনয়ন না নিতে। কিন্তু সাকলাইন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, এমপি তাকে আবারো হতেই হবে। সব সম্পত্তি লিখে নেবে তো কি হয়েছে। পরের বার এমপি হয়ে গেলে, সব পুষিয়ে নিতে পারবে। সমস্যা হবে না।
এমপি সাকলাইন দ্রুত পদে হেঁটে নিজের গাড়িতে উঠে গেলেন। বাইরের তীব্র রোদে ভালো লাগছে না তার। গাড়িতে এসি আছে। ঠান্ডা। যদিও তার মন ঠান্ডা নেই। খচখচ করছে। 

কয়েকদিনের মধ্যে সাকলাইন চৌধুরী তার সব সম্পত্তি লিখে দিলেন পার্টির চেয়ারম্যানের নামে। 

দিন গড়াল। মাস পেরিয়ে গেল। নির্বাচনের সময় এসে পড়ল। সারাদেশের সব আসনে মনোনয়ন প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। এমপি সাকলাইনের আসনে নাম এসেছে বাংলাদেশ গ্রামবাংলা পার্টির চেয়ারম্যানের আপন ভাগনে ‘সাদাব নাহিয়ান খানের’। সাকলাইন চৌধুরী একা তার চেম্বারে বসে আছেন। তার চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে। তিনি এক হাতে মদের গ্লাস উঠানামা করছেন। আরেক হাতে চোখের পানি মুছছেন। 
পরিস্থিতি তিনি এখনো মানসিক ভাবে মেনে নিতে পারেন নি। তার মনে হচ্ছে, ভুল হয়েছে কোথাও, ভুল হয়েছে। তিনি আবার চেয়ারম্যানের কাছে যাবেন। স্মরণ করিয়ে দেবেন সেই মিটিং এর কথা। চুক্তির কথা। না, এখনই ভেঙ্গে পরার কারন নেই। সময় আছে এখনো। সময় আছে। 

কিছুক্ষন পরেই সাকলাইন চৌধুরীর মন পরিবর্তন হলো। তিনি পরিস্কার বুঝতে পারছেন, তার আর কিছু করার নেই। তিনি নিজ দলের বুড়ো চেয়ারম্যানের কাছে চরম ভাবে ঠকেছেন। এখন তার সম্পদ বলতে আর কিছুই নেই। সব ভোগ করবে পার্টির চেয়ারম্যান। আর তার ভাগনে হবে নতুন এমপি। সাকলাইন চৌধুরী নিজের বাড়িটিও করেছিলেন স্ত্রীর নামে। সেই বাড়িতে স্ত্রী তাকে খুন করার জন্য ওঁত পেতে থাকে। কী ভয়ানক ব্যাপার! 

এমপি মহোদয় সাকলাইন চৌধুরী নিজ চেম্বারেই বসে আছেন। তিনি মাথা নিচু করে কঠিন কঠিন অভিশাপ বানী উচ্চারণ করছেন নিজ দলের চেয়ারম্যানের নামে। তার বুক হাহাকার করে উঠছে। বারবার মনে হচ্ছে, তিনি আর এমপি নন। তিনি আর এমপি নন। এই চরম বাস্তবতা মেনে নিতে তার খুব কষ্ট হচ্ছে। ভাবা যায়? এই এমপি হওয়ায় জন্য তিনি কত কিছু করেছেন ছাত্রাবস্থা থেকে? কত কিছু! এমনকি খু* … ! না, না থাক। এখন এসব চিন্তা করার সময় নয়। এমপি বিড়বিড় করছেন, না কোনো অন্যায় তার তার দ্বারা হয় নি। তিনি মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন। এমপি হয়ে মানুষের সেবা করেছেন। অন্যায় আর মুনাফেকী যদি কেউ করে থাকে তাহলে সেই ব্যক্তি হলো তার পার্টির চেয়ারম্যান। তার শত কোটি টাকার সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে পথের ভিখারী বানিয়ে ছেড়েছে এই শয়তান। 

এমপি সাকলাইন নিজেকে সামলাতে পারছেন না। তার শরীর ভেঙ্গে কান্না আসছে। সুস্বাদু মদও কেমন বিস্বাদ লাগছে ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/247229/</link>
				<pubDate>Sun, 10 May 2026 06:05:33 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বিস্বাদ</p>
<p>বা রে, আমাক বাঁচাও রে।<br />
একটা কন্ঠস্বর ভেসে আসছে। কন্ঠস্বরের মালিক এদিকেই ছুটে দৌঁড়ে আসছে মনে হয়। হতভম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে গেল লাবু মাস্টার। রাত প্রায় ১ টা বাজে। এমপি সাহেবের বাড়ির এলাকায় কে বলছে– আমাকে বাঁচাও রে?</p>
<p>আ… আ… আ… আমাক বাঁচাও রে!<br />
লাবু মাস্টার আবার হতভম্ভ হয়ে গেল। এমপি মহোদয় সাকলাইন চৌধুরী রাস্তায় দৌড়াচ্ছেন । বোঝা যাচ্ছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-247229"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/247229/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">be5833167125e703bf986ca62723fd08</guid>
				<title>জিন ও ভুতের মিশ্রন


আজমল চাচার আজও দেখা নেই। যুহরের নামাজ শেষ। মসজিদের চারদিক ফিরে ফিরে দেখছে ফিরোজ। না কোথাও নেই লোকটা। কোথায় যাবে? মসজিদে না এসে বাসায় বসে থাকার লোক আজমল চাচা না। তার সন্তান সন্ততি নেই। তাই কোনোকিছুতে ব্যাস্ততাও নেই। বাসা ভাড়া তোলা আর খাওয়া। আর দিনরাত জিন ভুত নিয়ে গবেষণা। আছে একটা আজীব গবেষনাগার। নানান বোতল আর শিশিতে ভরা। অদ্ভুত গন্ধ। 

ফিরোজ আজমল চাচার বাড়ির দিকে রওনা দিল। লোকটা অসুস্থ্য নয়তো? তাহলে সাওয়াব হাসিল করার এটাই সময়। ফিরোজ হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিল। দুই মিনিটের রাস্তা । 

পাশাপাশি দুইটা বাড়ি। একটা দোতলা আরেকটা ছয় তলা। দোতলাটায় আজমল চাচা থাকেন। ছয় তলাটা তার ভাড়া দেয়া। দোতলা বাড়ির ছাদ থেকে ঘন লতাগুল্মের ঝোপ ঝুলে আছে । সামনে ভাড়ি লোহার গেট। গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকতে ফিরোজের জান বেরিয়ে যাওয়ার জোগাড় হলো। গেটের কলকব্জায় যে একটু তেল দিবে সেই খেয়ালও থাকে না চাচার। ফিরোজ হাঁপাচ্ছে। খানিকটা বিরক্ত সে। এই বাড়িতে মনে হয় কলিং বেলও নেই। সে ডাক দিল।
“আজমল চাচা, আছেন বাড়িতে?”
কোনো সাড়াশব্দ নেই। 
“বাড়িতে আছেন? আজমল চাচা।?‘
দরজা খুলে গেল। কিন্তু কাউকে দেখতে পাচ্ছে না ফিরোজ। একটা নারীকন্ঠ শোনা গেল,
‘কে ফিরোজ? তোমার চাচার যা জ্বর! আল্লাহ বাঁচায় রাখুক তাকে। কথা বলার শক্তি পর্যন্ত নাই।“
‘আসসালামু আলাইকুম, চাচি। বলেন কি?’
“ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ রে বাবা। ভিতরে আসো।‘

ফিরোজ ভেতরে ঢুকে বামদিকের ঘরটায় গেল। সালাম দিল। কিন্তু কোনো উত্তর পেল না। সে দেখল মশারির ভেতরে সরলরেখার মত একটা শরীর কাঁথায় ঢাকা। ফিরোজ চেয়ার টেনে বসল। এমন সময় মশারির ভেতর থেকে সরলরেখাটা হঠাৎ হেসে উঠল। 
‘হা হা হা। হা হা।‘
ফিরোজ বলল, কি হয়েছে চাচা, হাসছেন কেন?
চাচির রাগত কন্ঠ শোনা গেল, ডাক্তার দেখানোর নাম নাই। যত সব ঢঙ!
মশারির ভেতর থেকে আবার হাসি শোনা গেল। 
‘হা হা হা। ওহ সরি। সালাম নিতে ভুলে গেছি। ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ফিরোজ, বিজ্ঞানীরা যে অকাট মুর্খ, সেটা কি তারা বোঝে না? তোমরা নিজ গ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণী জিনকে খুঁজে পাও না। আবার মহাবিশ্বের গ্রহে গ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণী খুঁজে বেড়াও। ভাব নাও?“
ফিরোজ বলল, ‘চাচা, আপনার না জ্বর। চলেন ডাক্তার দেখাই।“
“হ্যাঁ, জ্বরে শরীর পুরো কাহিল। কিন্তু ব্রেইন হয়েছে ৩ গুন সচল!’
“সচল ব্রেইন দিয়ে করেন কী?’
‘জিন নিয়ে ভাবি। জিন বাস করে তিন ডাইমেনশনে। দৈর্ঘ, উচ্চতা আর সময়ের ডাইমেনশন। আর মানুষ বাস করে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা আর সময়- চার ডাইমেনশনে। ভিন্ন ডাইমেনশন হলো একই জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন জগৎ। আরে মূর্খ বিজ্ঞানীরা! মহাবিশ্বের অন্য গ্রহে যদি তিন ডাইমেনশনের প্রাণী থাকে তাহলে তো তাদের দেখতে পাবে না। যেমন দেখতে পাও না নিজ গ্রহের জিনকে। কিন্তু এত ভাব কেন তোমাদের?’’
“চাচা, হয়েছে তো। কথা বলতে কষ্ট, তাও কথা বলছেন?”
“জ্বরের ঘোরে ভাবনা আসে অটোমেটিক। ঘুমিয়ে গেলে স্বপ্নেও নানান জিনিস দেখি।‘ 
‘কী দেখেন?’
“যা ভাবি তাই ভিজুয়াল দেখি! সপ্ন আর বাস্তব একাকার হয়ে গেছে আমার। স্বপ্ন আর বাস্তবতাও ভিন্ন ভিন্ন ডাইমেনশন। এই দুই ডাইমেনশনের মাঝের দেয়াল জ্বরের ভয়ানক তাপে গলে গেছে। হা হা হা। এখন আমার স্বপ্ন আর বাস্তবতা প্রায় একাকার। এখন দেখতে পাচ্ছি আমার কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। গরম ধোঁয়া। হা হা হা।”

ফিরোজ হঠাৎ আতঙ্কিত বোধ করছে। কারণ সে এই মাত্র নিশ্চিত হয়েছে আজমল চাচা প্রচন্ড জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকছেন। মশারি উঠিয়ে সে চাচার শরীরে হাত দিয়ে আঁতকে উঠল। জ্বর ১০৩/৪ ডিগ্রির কম নয়। শরীর ফেটে যাওয়ার জোগাড়। খুব দ্রুত তাপ ঠান্ডা না করলে কেলেংকারি হয়ে যাবে। শিশুদের এরকম তাপমাত্রায় খিচুনি উঠে যায়। মুখ দিয়ে ফেনা ছুটে। 

আজমল চাচাকে বসানো হয়েছে বাথরুমের ট্যাপের নিচে। তার মাথায় শরীরে প্রচন্ড গতিতে পানি পড়েছে। তিনি চোখ বুজে আছেন । মাঝে মাঝে চেহারা থেকে পানি মুছছেন। শ্বাস নেয়ার জন্য মুখ হা করছেন। ফিরোজ দাঁড়িয়ে আছে বাথরুমের দরজায়। সে ভাবছে কি বিপদে পড়া গেল? সে ফোন নিয়ে বের হয় নি। আজমল চাচাকে হাসপাতালে নিতে হবে। তার বাসা ফিরতে অনেক দেরি হতে পারে। বাসায় কোনোভাবে জানানো গেলে ভালো হত। বাবা নিশ্চয়ই রাগ করবেন। কিন্তু হঠাৎ তার সম্বিত ফিরল। আজমল চাচার ফোন দিয়েই তো বাসায় কল দেয়া যায়! অস্থিরতায় তার মাথাও মনে হয় ঠিক ঠাক কাজ করছে না। পনের মিনিট পার হয়ে গেছে। অবশেষে আজমল চাচা বললেন, শীত লাগছে। আমাকে তোলো। আজমল চাচাকে তোলা হলো না। ট্যাপ বন্ধ করে চাচি তার শরীর মুছতে গেলেন। ফিরোজ বাইরে গিয়ে দাঁড়ালো। চাচার কাপড় চেঞ্জ হয়ে গেলেই হাসপাতালে যেতে হবে। 
ফিরোজের হঠাৎ চোখ গেল দোতলার ব্যালকনিতে। সেখানে চোঙ্গা আকৃতির কিছু যন্ত্র ফিট করা। চোঙ্গা গুলো পাইপ দিয়ে জুড়ে দেয়া। পাইপ আবার উঠে গেছে ছাদে। ব্যালকনির দুই পাশ দিয়ে। ছাদে তারজালির মত কিছু দেখা যায়। ফিরোজ ইন্টারমেডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে উঠেছে। সাইন্সে। সে অত্যন্ত ভালো ছাত্র। রসায়ন তার প্রিয় সাবজেক্ট। কিন্তু আজমল চাচার এই অদ্ভুত যন্ত্রের আগামাথা সে কিছুই বুঝছে না। বুঝবে কীভাবে? আজমল চাচা তো জিন গবেষক। ফিরোজ তাকিয়ে আছে ছাদের বিশাল তারজালির দিকে। হঠাৎ হা হা হা হাসিতে সে চমকে উঠল । না, ছাদ থেকে কোনো জিন হাসছে না! আজমল চাচা বের হয়েছেন ঘর থেকে। পরিপাটি পোশাকে তার হাসিমুখ দেখা যাচ্ছে। তিনি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। ফিরোজ তাকে ধরতে এগিয়ে গেল। 
“চাচা, ছাদে আর ব্যালকনীতে এসব কি?”
“জিন আর ভুতের বিশেষ মিশ্রন তৈরীর প্রক্রিয়া।“
“কি যে বলেন, চাচা! আপনার কোনো কথাই আর বিশ্বাস হয় না। আজগুবি চিন্তায় আপনার মাথা ভরে আছে।“
“আরে না সত্যিই।“
“চাচা শুনুন, ডাক্তারকে গিয়ে আবার জিন ভুত নিয়ে কিছু বলবেন না। যা জিজ্ঞেস করে সোজাসুজি উত্তর দিবেন।‘
“আচ্ছা, ঠিক আছে।“

হাসপাতাল থেকে ফিরতে অনেক দেরি হলো। কয়েকটা টেস্ট করাতে হলো সিরিয়াল দিয়ে। আজমল চাচাকে আপাতত বাড়িতে রেখে ফিরোজ বাসায় ফিরছে। হঠাৎ সে থমকে দাঁড়ালো। তার মনে হলো, আজ তার কপালে শনি আছে। যুহরের নামাজের আগে সে বাসা থেকে বের হয়েছিল।এখন বিকাল গড়িয়ে গেছে। বাসায় কল করে জানাতে সে বেমালুম ভুলে গেছে। বাবার রাগী চেহারা ভাবতেই ফিরোজের মনে ভয় জেঁকে ধরছে। সে বাসার সিঁড়ি দিয়ে উঠছে মাথায় হাত দিয়ে । চারতলায় তাদের বাসা। ফিরোজের চেহারায় আতঙ্ক।

ফিরোজের আতঙ্ক মিথ্যা হলো না। তার উপর বিশেষ আইন জারি করলেন তার বাবা। কড়াকড়ি বেড়ে গেল। তার বাবার কথা হলো, ছেলেকে মেডিকেল চান্স পেতেই হবে। সেজন্য তাকে চান্স না পাওয়া পর্যন্ত ইতিকাফে বসার মতো পড়তে হবে। নো ফাঁকিবাজি। ফিরোজ ঘরে বসে পড়ালেখা করে। আর তার বাবা দরজার বাইরে পায়চারি করেন। কিন্তু ফিরোজ পড়েছে একটা যন্ত্রনায়। যতবার সে রসায়ন বই খুলছে,  তার চোখে ভাসছে আজমল চাচার আশ্চর্য্য যন্ত্রের দৃশ্য। জিন আর ভুতের কি এক মিশ্রণের কথাও মনে পড়ছে। সে চেষ্টা করেও ভালোমত মন বসাতে পারছে না পড়ায়। 

বাবার কড়া শাসনে ফিরোজ কিছুদিন আজমল চাচার খোঁজও নিতে পারল না। ফিরোজের মা একবার আজমল চাচার বিষয়ে কথা উঠালো। তাতেই ফিরোজের বাবা যে দৃষ্টি নিয়ে তার মায়ের দিকে তাকালেন-- তাকে অগ্নিদৃষ্টি বললে কম বলা হবে। বরং মিসাইল দৃষ্টি বলা যায়। ফিরোজও সবকিছু মিলে খুবই শান্ত। খাওয়া, নামাজ, আর পড়া। কিন্তু পরদিন ফজর নামাজের পরপর একটা ঘটনা ঘটল। 

মসজিদ থেকে বের হতেই একটা আর্তনাদের মত শোনা গেল। আর্তনাদ কীসের বুঝা যাচ্ছে না। মুসল্লিরা সবাই উৎকর্ণ হয়ে আছেন। একটু সামনে এগোতেই পরিস্কার শোনা গেল, ‘চোর চোর চোর, ছাদের উপরে চোর।‘ এই ভোর বেলা চোর? ফিরোজ দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেল আওয়াজের দিকে। চার তলা বাসাটার নিচে ততক্ষণে লোক জমে গেছে। কয়েকজন মিলে ছাদ থেকে একজন লোককে পাঁজাকোলা করে নামাচ্ছে। ফিরোজ এগিয়ে গিয়ে দেখল, লোকটা আর কেউ না, আজমল চাচা। আরো কয়েকজন লোক চিনতে পেরেছে তাকে। আজমল চাচার সেন্স নেই। তার চেহারায় পানি ঢেলেও সেন্স ফেরানো যাচ্ছে না। লোকেরা ধরে হাসপাতালের দিকে নিয়ে গেল। ফিরোজ এবার আর হাসপাতালের দিকে গেলো না। দ্রুত বাসার দিকে চলে গেল চাচার জন্য দুআ করতে করতে। ফিরোজের মনে প্রশ্ন, চাচা এই বাসার ছাদে কেন এলেন? কিন্তু আসল ঘটনা কী হয়েছে তা জানার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নাই। 

সময়ঃ পাঁচ দিন পর। শনিবার। যুহরের নামাজের পর। স্থানঃ মসজিদ। চরিত্রঃ আজমল চাচা ওরফে বিশিষ্ট জিন গবেষক ও ফিরোজ।
ফিরোজ শ্রোতা। আজমল চাচা বলে যাচ্ছেন। 
‘ছাদের উপর আমি বহুদিন খেয়াল করছি । কালো কালো ছায়া নামে আবার চলে যায়। বিশ্বাস করবা না। বৃষ্টির রাতে বেশি করে আসে। ছায়া নামে আবার উড়ে চলে যায়। বিশ্বাস করবা না। আমি গত ৭ বছর ধরে খেয়াল করছি ছাদের উপর। একদিন ভিডিও করার জন্য ক্যামেরা বসালাম। কিন্তু সমস্যা হলো অন্ধকারে তো ভিডিও হবে না। আলো জ্বালালে তো আবার চলে না। নাহলে রেকর্ড করে রাখতাম। খেয়াল করছি, পশ্চিম দিকে মুখ করে দাঁড়ালে হাতের বাম দিকে কোণে কিছু ছায়া নামে খুবই অস্থির প্রকৃতির। আবার হাতের ডান দিকের কোণে কিছু ছায়া নামে তারা খুব শান্ত ধরণের। কোনোদিন ব্যতিক্রম হয় নি। অস্থির প্রকৃতির ছায়াগুলো কোনোদিন ডান দিকের কোণে নামে নি। আমি অপেক্ষায় থাকি বৃষ্টির। এক রাতে ঘটনা ঘটে গেল। প্রচন্ড বৃষ্টি। আমি ছাদের দিকে খেয়াল করলাম। দুই কোণেই কালো ছায়া নেমেছে। ছায়াগুলোর গা বেয়ে বৃষ্টির পানি পরে। সেই পানি তারজালি বেয়ে বেয়ে আমার ব্যালকনির জারে জমা হয়। ১ মিনিটেরও কম সময় হবে। ভালোই পানি সংগ্রহ হলো। হঠাৎ ছায়াগুলো উধাও হয়ে গেল। ডান দিকের ছায়ার গা বেয়ে পড়া পানি এক জারে । বামদিকের গুলো এক জারে। আমি মনের আনন্দে সেগুলো নিয়ে ঘরে যাচ্ছি। হঠাৎ ভেজা মেঝেতে পিছলে গিয়ে সর্বনাশ হয়ে গেল। দুই জারের পানি এক জায়গায় হয়ে গেল। অদ্ভুত গন্ধে বাড়ি গেল ভরে!  তোমার চাচি ঘুম ভেঙ্গে ভয়ে পেয়ে এসে বলল, গন্ধ কীসের? আমি বলি, কিছু না ঘুমাও। বলে আমার গবেষণাগারে ঢুকে গেলাম। সেই মিশ্র পানি নিয়েই বহুদিন গবেষণা করছি। আমার গবেষণাগারে যে অদ্ভুত গন্ধ পাও। এই হলো গন্ধের রহস্য। সপ্তাহ খানেক আগে ঠিক একই রকম তীক্ষ্ণ গন্ধ পেলাম ছাদের উপরে। বৃষ্টি হচ্ছিল রাতে। আমার প্রবল ধারণা হলো, তাহলে ডান আর বাম দিকের ছায়াগুলো কি একসাথ হয়েছে? ছাঁদে উঁকি দিলাম! বললে বিশ্বাস করবা না। ৭ বছর পর দেখলাম দুই দিকের ছায়া এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। আমি তো আগেই বুঝেছি গন্ধ পেয়ে! আমি আনন্দে নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। পা টিপে টিপে গিয়ে ছাদের দরজা খুলে ফেললাম। কাছ থেকে দেখার জন্য। বিশ্বাস করো কোনো শব্দ করি নি। কিন্তু ছায়াগুলো হঠাৎ আমার দিকে ফিরে তাকালো। একসাথে। ভয়ে আমার কলিজা শুকিয়ে কাঠ। হঠাৎ দেখি ছায়াগুলো ঘূর্ণির মত উড়া শুরু করেছে। ৫ টা ছায়া। ১ টা ছায়ার ঘূর্ণি এসে আমাকে সহ উড়াল দিল। এরপর আর কিছু মনে নাই আমার। পরে দেখি সালাহুদ্দীন হাসপাতালে শুয়ে আছি আমি। তোমার চাচি পাশে বসে বসে কাঁদছে।“
ফিরোজঃ চাচা, আপনি এমনভাবে সবকিছু বলেন যে বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে। কিন্তু আপনার এই আজগুবি ঘটনা কে বিশ্বাস করবে? আপনি আপনার যন্ত্র দিয়ে জিন আর ভুতের মিশ্রণ তৈরি করেছেন? এর চেয়ে হাস্যকর কথাবার্তা পৃথিবীতে আছে? 
আজমল চাচাঃ তুমি আমার কথা বিশ্বাস করছ না?
ফিরোজঃ (ফিরোজের চেহারায় মৃদু রাগের আভা, সে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। কি যেন ভাবল। এরপর বলল,) চাচা আপনি বলছিলেন আপনার সন্তান সন্ততি নাই কিন্তু আপনার মনে এজন্য কোনো দুঃখও নাই। কিন্তু আজ বুঝলাম সন্তান না থাকার  দুঃখেই আপনি যত হাবিজাবি কাজকর্ম করে সময় কাটান। ছাদের পানি নিয়ে গবেষণা করেন। হতাশ মানুষের পুরো লক্ষণ আপনার মাঝে। কি অস্বীকার করবেন?
আজমল চাচাঃ (আমতা আমতা করছেন) 
ফিরোজঃ এগুলো ছেড়ে দেন। বলেন ছাড়বেন?
আজমল চাচাঃ ছেড়ে দিব? এতবছর ধরে গবেষণা এগদূর আগালো। 
ফিরোজঃ চাচা শুনেন, প্রিয় জিনিস কুরবানী বা ত্যাগ করে সেই উসিলায় আল্লাহর কাছে দুআ করলে আল্লাহ দুআ কবুল করেন। জানেন এটা?
আজমল চাচাঃ কীভাবে?
ফিরোজঃ বাদশাহ বাবর তার নিজের জীবনের বিনিময় দিয়ে সন্তান হুমায়ুনের জীবন ভিক্ষা চেয়েছিলেন আল্লাহর কাছে। ইতিহাস তো জানেনই। হুমায়ুন এরপরে মৃত্যু রোগ থেকে বেঁচে ফেরে। আপনি আপনার এই এক যুগের হাবিজাবি গবেষণা ছাড়েন। চাচিকেও একটু মানসিক শান্তি দেন। তিনি আপনার এইসব কাজকর্মে ত্যাক্ত। বাড়ির মধ্যে ভুতের কারখানা বানিয়ে রাখছেন। সব পানিতে ফেলে দেন। আল্লাহকে ডাকেন বেশি করে। তিনি সন্তান দেওয়ার মালিক। 
আজমল চাচাঃ (নিশ্চুপ)
ফিরোজঃ যান চাচা, বাসা গিয়ে বিশ্রাম করেন। 

আরও সপ্তাহখানেক পর। আজমল চাচা ফিরোজকে ডেকে নিয়েছেন বাসায়। তিনি জিন গবেষণাগার সাফ করতে পিকাপ গাড়ি ডেকে লোড করে ফেলেছেন। ঘর পরিস্কার। তবে তিনি নাকি জিন ও ভুতের মিশ্রনের পানিটা ফিরোজের কাছে গচ্ছিত রাখতে চান। ফিরোজ এ কথা শুনে অতি বিরক্ত হয়েছে। সেই এই জিনিস নিতে মোটেও রাজি না। কিন্তু এই বিপদজনক পানি কি করা যায় তা নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর হচ্ছে না আজমল চাচার। তার ভ্রু কুঞ্চিত। হাতে ধরে রেখেছেন বিশেষ জার। এমন সময় চাচি এসে একটা কান্ড ঘটালেন। জারটা চাচার হাত থেকে নিয়ে সোজা রাস্তায় ছুড়ে মারলেন তিনি! চাচা আ আ করে দৌঁড়ে গেলেন। কিন্তু জার ফেটে পানি গরাচ্ছে ততক্ষণে। রাস্তা ভিজে গেছে। অদ্ভুত গন্ধে ভরে যেতে শুরু করেছে চারপাশ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246966/</link>
				<pubDate>Thu, 07 May 2026 06:22:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জিন ও ভুতের মিশ্রন</p>
<p>আজমল চাচার আজও দেখা নেই। যুহরের নামাজ শেষ। মসজিদের চারদিক ফিরে ফিরে দেখছে ফিরোজ। না কোথাও নেই লোকটা। কোথায় যাবে? মসজিদে না এসে বাসায় বসে থাকার লোক আজমল চাচা না। তার সন্তান সন্ততি নেই। তাই কোনোকিছুতে ব্যাস্ততাও নেই। বাসা ভাড়া তোলা আর খাওয়া। আর দিনরাত জিন ভুত নিয়ে গবেষণা। আছে একটা আজীব গবেষনাগার। নানান বোতল আর শি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-246966"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/246966/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c4203a38456a989c7a5fcb245b0ad56a</guid>
				<title>ফজু মিয়া

দুপুর গড়িয়ে গেছে। সূর্য প্রায় হেলে পড়েছে। গ্রামের এক প্রান্তে থাকা টিনে ঘেরা বাড়িটিতে বিরাজ করছে শুনশান নিরবতা। ফজু মিয়া খালি গায়ে উঠানে বসে আছে। উদাস মনে বাড়ির পেয়ারা গাছটার দিকে তাকিয়ে কী যেন দেখছে সে। দৃষ্টিতে একটা ছন্নছাড়া ভাব। তার বড় ছেলেটা সজ্জাসায়ী, অসুস্থ্য । বিছানায় শুয়ে থেকে থেকে কেঁদে উঠছে সে। 
ফজু মিয়ার স্ত্রী সকাল থেকে কিছুটা শব্দ করে কাঁদছিল। এখন বোধয় কাঁদছে না, অথবা নিঃশব্দে কাঁদছে। ফজু মিয়া তার স্ত্রীর চলাফেরার শব্দ শুনছে। মাঝে মধ্যেই দুই সন্তানের মা– এই মেয়েটি কল পাড় যাচ্ছে। কী যেন ধুচ্ছে। আবার ঘরে যাচ্ছে। টুংটাং আওয়াজ হচ্ছে। মনে হচ্ছে সে কাজের মধ্যেই আছে। যদিও আজ তার কাজ থাকার কথা না। মেয়ে মানুষের কাজ বলতে তো রান্নাবাড়া করা। কিন্তু ঘরে আজ কিছু নেই যে রান্নাবাড়া হবে । ফজু মিয়ার ছোট বাচ্চাটি কোলের শিশু। এই বাচ্চাটিও হয়ত ঘুমিয়ে আছে। কারণ তার কান্না শোনা যাচ্ছে না। হঠাৎ কি ভেবে ফজু মিয়ার বুকটা ছ্যাত করে উঠল। সে ভাবল, এটা কি মাস? চৈত্র মাস। কত তারিখ এটা মনে পড়ছে না তার। সে স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করল,
   রিফাতের মা। আজি মাসের কত তারিখ?
   চৈত মাসের ১৭ তারিখ আজি।
   হামার (আমাদের) সুমাইয়ার আজি ৬ মাস হইছে না?
   হুম।

ফজু মিয়া হতভম্ভ হয়ে গেল। তার মনে হচ্ছে শরীরের উপর অতি ভারী কোনো কিছু চেপে বসেছে। সে না পারছে বসে থাকতে, আবার না পারছে উঠে দাঁড়াতে। তার পেটে ক্ষুধা জানান দিচ্ছে। সকালের দিকে তার ছেলেটা দুইটা বিচি কলা খেয়েছে শুধু । আর তারা স্বামী স্ত্রী আছে পানি খেয়ে। আজ মেয়েটার ৬ মাস হলো। সে এখন দুধের পাশাপাশি অন্য খাবার খেতে পারবে, কিন্তু আজ ঘরে কোনো খাবার নেই। ফজু মিয়ার অসহ্য বোধ হচ্ছে। 
দিনমজুর ফজু মিয়ার সংসারে দিন আনি দিন খাই অবস্থা। দুইবেলা ঠিকমত খাবার জোটে। এতেও আনন্দ ছিল। তার স্ত্রী বাড়ির উঠোনে হাস মুরগী পালত। এটা ওটা সবজি লাগাত। ভালোই দিন যাচ্ছিল। কিন্তু ছেলেটার হঠাৎ টাইফয়েড জ্বর হওয়ার পর থেকে সব এলোমেলো হয়ে গেল। হাসপাতাল, ডাক্তার, ওষুধ সব মিলে প্রচুর খরচ। বাড়ির সব কিছু বিক্রি করে দিতে হলো। সে দিন পনের’ কোনো কাজে যেতে পারল না। ফলে বেশ ধার-দেনা হয়ে গেল। সেই দেনাও শোধ করা যায় নি ঠিকমত। দেনা শোধ করতে গেলে পেটের ভাত আর জুটছে না। এমনই অবস্থা তার।  এর ওর বাড়ি থেকে চাউল ধার করে এনে বেশ কয়েকদিন চলেছে। কিন্তু এভাবে আর কত দিন? মানুষের কাছে চাইতে গেলে তারা মুখ অন্ধকার করে ফেলে। তার স্ত্রী এজন্য আজ সকাল থেকে কাঁদছে। সে বলেছে, ছেলে-মেয়ে নিয়ে না খেয়ে মারা যাবে, তবু কারও বাড়ি যাবে না।
ফজু মিয়া সকাল থেকে এদিক ওদিক ঘুরে কোনো কাজ জুটাতে পারে নি। আশাহত হয়ে বাড়ি ফিরে এসেছে সে । তার ছেলেটা এখনও অসুস্থ্য, দূর্বল । ওষুধ তো দূরে থাক। তিন বেলা খাওয়াই জুটছে না তার। ফজু মিয়ার চোখের পেছনে হঠাৎ কষ্টের মত কি যেন ঝিলিক দেয়। চোখ পানিতে ভরে উঠতে চায়। কিন্তু সে শক্ত পোক্ত মানুষ। তার চোখে পানি আসে না। 

বাচ্চা মেয়েটা হঠাৎ কেঁদে উঠল। ফজু মিয়ার স্ত্রী তাকে নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে। বাচ্চাটার কান্না থামছেই না। হয়ত ক্ষুধা লেগেছে তার। তার মা তাকে চুপ করানোর চেষ্টা করছে– কান্দে না মা, কান্দে না। ফজু মিয়া অবাক হয়ে খেয়াল করল, তার স্ত্রীর কন্ঠেও কান্না খেলা করছে। বাচ্চাটার কান্না চুপ হয়ে গেল একসময়। 
ফজু মিয়া তার স্ত্রীকে ডাকল। স্বামীর কথা শুনে ভদ্রমহিলা ঘর থেকে বাচ্চাসমেত বের হয়ে এল। ফজু বলল, রিফাতের মা! তোমরা কয়টা দিন রিফাতের নানার বাড়িতে গিয়া থাকো। আমি কাম কাইজ কইরা কিছু ক্যাশ করি। কি কও?
রিফাতের মা উত্তর দেয়, বাপের বাড়ি যে যামু, তার ভাড়ার টাকা কই? ছোট পোলাপান নিয়া হাঁইটা হাঁইটা যামু?   
স্ত্রীর কথা শুনে ফজু মিয়ার মেজাজটা চড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে উত্তরে কি বলবে খুঁজে পাচ্ছে না। তার স্ত্রীর কথা ভুলও না। আগামীকাল সে বাপের বাড়ি যাবে কিন্তু আজ কি তার ছেলেটা জ্বর গায়ে না খেয়ে থাকবে? মেয়েটার বয়স ৬ মাস হলো আজই। তার জন্য কোনো খাবার নাই। ফজু মিয়ার এত কষ্ট অনুভব হচ্ছে যে, তার শরীরের প্রতিটা কোষেই কষ্টময় ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে। অথচ কেমন পাথরের মত বসে আছে সে।

ফজু মিয়ার স্ত্রী তার পেছনে এসে দাঁড়াল। সে হয়ত কিছু বলতে চায়। ফজু মিয়া মাথা ঘোরাল না। 
ফজু মিয়ার স্ত্রী বলল, ভাড়ার টাকাটা জোগাড় করে দেন। কাইল সকাল সকাল রিফাতের নানার বাড়ি যামু। আপনে কয়টা দিন কষ্ট কইরা থাকেন। 
স্ত্রীর সহজ কথাগুলো শুনেও ফজু মিয়ার রাগ হচ্ছে। অথচ রাগ হওয়ার মত কথা তার স্ত্রী বলে নি। মনে চাচ্ছে দু কথা শুনিয়ে দেয়। 
ফজু মিয়া ঘরে গিয়ে একটা শার্ট গায়ে দিল। 
তার স্ত্রী জিজ্ঞেস করল, কই যান? 
ফজু মিয়া উত্তর দেয় না। সে হনহন করে বাইরে বেড়িয়ে যায়। 
ফজু মিয়ার স্ত্রী দেখছে তার স্বামীর চেহারা শুকনো, চোখগুলো রক্ত বর্ণ। শুন্য ক্ষুধার্ত পেট নিঃশ্বাসের সাথে উঠানামা করছে। স্বামীর জন্য তার মায়া অনুভব হয়। 

ফজু মিয়া যাচ্ছে গ্রামের ছোট বাজারটার দিকে। ওখানে গিয়ে বসে থাকবে। এ ছাড়া আপাতত কোনো কাজ নেই। সন্ধ্যা হলে সেখানে কৃষাণ, মজুর শ্রেণির লোকেরা আসে। চা খায়, আড্ডা দেয়। দল বেঁধে এটা সেটা গল্প করে। হয়ত তাদের কাছে কোনো কাজের খবর পাওয়া যাবে। ভাগ্য ভালো থাকলে হয়ত আগামীকালের কাজ মিলে যাবে। ফজু মিয়া দ্রুত পায়ে হাঁটছে। তার দৃষ্টি মাটির দিকে নিবদ্ধ। 
ফজু মিয়ার পেটে ক্ষুধা জানান দিচ্ছে। তার হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। ছোট মাসুম বাচ্চা ছেলেটার জন্য রাতের কি খাবার জোগাড় করা যায়? নিজেরাই বা কি খাবে? তার মাথায় রাজ্যের চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। স্ত্রী, পুত্র-কন্যার শুকনো মুখ হঠাৎ হঠাৎ চোখে ভেসে উঠে । ফজু মিয়ার অন্তর খুবই বিগলিত হয়ে পড়ে। তার কান্না আসছে। কিন্তু সে হঠাৎ কি মনে করে হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিল।  
এই ফজু মিয়া! 
কে যেন ডাকল। কোনো মহিলার কণ্ঠস্বর। 
ফজু মিয়া ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। দেখল ওজুমা বু’জি (দাদি) ডেকেছে। ফজু এগিয়ে গেল।
    এই ফজু! কিছু কাঠ আছে চিড়ে (ফেঁড়ে) দিতে পারবি? দেড়-দুই মণ হবে। চিড়ে দে, ১০০ টাকা নিস!
ফজু মিয়ার চেহারা হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে উঠে। সে জিজ্ঞেস করে, দের দুই মণ? বৃদ্ধা জবাব দেয়, আরো আছে। আইজ পারবি না। কাইল চিড়িস (লাকড়ির জন্য ফেঁড়ে দেয়া) একসময়। 
ফজু উত্তর দেয়, বু’জি আড়াই-তিন মণ আইজ চিড়ে দিমু। দুইশটা টাকা দিবেন। কাইল কোন কাইজ-কাম থাকে, কাইলকার কথা কওন যায় না। 
বৃদ্ধা জবাব দেয়, আচ্ছা। আয়, কাঠ গোলাঘরে আছে। সব বের কর ধীরে ধীরে। ফজু বলে, আচ্ছা।

কুড়ালের ফলাটি মধ্যম আকৃতির। চকচকে ফলা। বাঁশের শক্ত লাঠির হাতল পরানো হয়েছে। ফজু মিয়া উল্টে পাল্টে দেখল কুড়ালটা। “হেইরে আল্লাহর নাম!” বলে কুড়ালটা মাথা বরাবর উঠিয়ে দিল এক কোপ। লাকড়ি ফাঁড়ি করা শুরু হয়ে গেছে । ধুপ ধাপ আওয়াজ হচ্ছে। ওজুমা বু’জি দূরে দাঁড়িয়ে আছে। কাঠের টুকরা দ্রূত বেগে ছিটকে আসে কখনো কখনো। এজন্য সাবধান থাকতে হয়। কাঠগুলো চেড়াই করা হচ্ছে তীব্র গতিতে। গরম লাগছে ফজুর। সে শার্ট খুলে ফেলল। কুড়াল উঠালো। দিল এক কোপ। বৃদ্ধা ওজুমা বলে উঠল, কিরে ফজু, কিছু খাইস নাই রে? পেট দেখি হ্যাক হ্যাক করে তোর। এই শরীলে (শরীরে) কুড়াল চালাচ্ছিস কি মনে করে? 

ফজু হাসে। তার কুড়াল চালানো থামে না। তার হাসি চেহারায় ছড়িয়ে যায়। এই হাসিতে বিষাদ বা কষ্ট মিশে নেই। বরং নিঃখাদ আনন্দ। না খাওয়া শরীর তার কেমন যেন দুলছে, ঝিম ঝিম লাগছে। এই ঝিম ঝিম দুলুনি তার কুড়াল চালানোয় নতুন একটা ছন্দ এনে দিচ্ছে।
ঘন্টা পেরিয়ে যায়। ফজু মিয়া থামে না। তার দৃষ্টি মোটা মোটা কাঠে নিবদ্ধ। কুড়াল উঠছে, সজোরে আছড়ে পড়ছে কাঠের উপর। দু ভাগ হয়ে যাচ্ছে নিমিশেই। ফজু মিয়া কাজে নিমগ্ন। তার নিমগ্ন চোখ দুটিতে আনন্দময় এক স্বপ্ন খেলা করছে। সেই স্বপ্নে আজ রাতে তার স্ত্রী পুত্র পেট ভরে খাবার খায়। তার সদ্য ৬ ছয় মাসে পা দেয়া শিশু কন্যাটির বাড়তি খাওয়ার সূচনা হয়। আনন্দময় এই স্বপ্নদৃশ্য ফজুকে আচ্ছন্ন করে রাখে। তার কুড়াল চালানোর গতি বাড়তে থাকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246961/</link>
				<pubDate>Thu, 07 May 2026 04:32:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফজু মিয়া</p>
<p>দুপুর গড়িয়ে গেছে। সূর্য প্রায় হেলে পড়েছে। গ্রামের এক প্রান্তে থাকা টিনে ঘেরা বাড়িটিতে বিরাজ করছে শুনশান নিরবতা। ফজু মিয়া খালি গায়ে উঠানে বসে আছে। উদাস মনে বাড়ির পেয়ারা গাছটার দিকে তাকিয়ে কী যেন দেখছে সে। দৃষ্টিতে একটা ছন্নছাড়া ভাব। তার বড় ছেলেটা সজ্জাসায়ী, অসুস্থ্য । বিছানায় শুয়ে থেকে থেকে কেঁদে উঠছে সে।<br />
ফজু মিয়ার স্ত্রী সকাল থেকে ক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-246961"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/246961/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ec10f25e9826f6a2f6c1be45739894df</guid>
				<title>হাসি
 
রাকিব বহুদিন ধরে টিভি নাটকে অভিনয় করার জন্য সুযোগ খুঁজছে। এর ওর কাছে ধরণা দিচ্ছে। সুযোগ পাচ্ছে না। এই ছোটাছুটির মধ্যে তার নিজের অভিনয় দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রাকটিস করবে- সেই সময় বের করাই দায়। রাকিবের হাতে এখন দুটি নাটকের কাজ। কিন্তু দুটিই যাবে ইউটিউব চ্যানেলে। এভাবে আর কতদিন? তার মন ভালো নেই। মন ভালো না থাকলে অভিনয় হয় আরো খারাপ। দুটি নাটকের একটিতেও পারফর্ম মনমত হচ্ছে না। আধাখেচড়া কাজ হচ্ছে বললে ভুল হবে না। এরকম কাজ দিয়ে যে ভবিষ্যত দেখা যায়, তা নিশ্চিত অন্ধকার। রাকিব তার ছোট্ট মেস ঘরের বিছানায় শুয়ে ভাবছে। তার দুই হাত মাথার নিচে গোঁজা। মুখ থমথমে। কতক্ষণ হলো সে এভাবে শুয়ে আছে। হঠাৎ সে শোয়া থেকে উঠে বসল। রাকিব ভাবছে সে আজ একটা সিদ্ধান্ত নেবে। কঠিন সিদ্ধান্ত। সরল অঙ্কের মত একটা যা তা ক্যারিয়ারে সে তৃপ্ত থাকবে না। 

একসময় রাকিবের ক্যারিয়ার এদিকে ছিল না। সে ছিল আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র। তার মায়ের ইচ্ছা ছিল সে মাদ্রাসার শিক্ষক হবে। সেও সেরকমই ভেবেছিল। কিন্তু তার বন্ধু মঞ্জু একদিন বলল, একটা মঞ্চনাটক করবে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে। রাকিকবে একটা পার্ট নিতে হবে। 
‘রাকিব তুই করবি পাকবাহিনীর জেনারেলের পার্ট! তোর চেহারা, হাইট যেমন! মানানসই।’
‘ধুর, এসব আমার দ্বারা হবে না।’ 

রাকিব মঞ্জুর কথা মোটেও পাত্তা দিল না। কিন্তু মঞ্জু নাছোড়বান্দা। এই ছেলেটা এমনই। ছোটবেলা থেকেই সবকিছুতে তার জিদ দেখে অভ্যস্ত রাকিব। শেষ পর্যন্ত মঞ্জুর জোড়াজুড়িতেই রাকিব পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর এক রাগী কমান্ডারের পার্টে অভিনয় করল। তার অভিনয় এত চমৎকার ও প্রাণবন্ত হলো যে দর্শক সারিতে হাততালির বন্যা বয়ে গেল। নাটক শেষে মঞ্জু বলল, আরে ব্যাটা! তুই তো জাত অভিনেতা রে! এই লাইনে আগায় যা। 

সেই থেকে শুরু। রাকিবকে কী নেশাতে যেন পেয়ে বসেছে। সে মায়ের ম্লান মুখ, ধর্মীয় বাঁধা নিষেধ সব উপেক্ষা করে নাটক, সিনেমা, অভিনয় নিয়ে পড়ে থাকল। কঠোর পরিশ্রম আর আশা নিয়ে কেটে গেল বহু বছর। কিন্তু আশানুরূপ সাড়া সে পেল না। এখন পর্যন্ত টিভি নাটকে সুযোগই পাচ্ছেই না কোনোভাবে। তার চেহারা খারাপ না, হাইটও ভালো। সে মঞ্জুর সাথে দেখা করল পরদিন। পুরোনো বন্ধু বলে কথা। হতাশা ডিপ্রেশনের সময়টা তার সাথে কাটালে ভালো লাগবে। 
রাকিব মঞ্জুকে বলল, বল তো কী করি দোস্ত?
মঞ্জু বলল, শোন রাকিব। এর কাছে ওর কাছে দৌড়ানো বাদ দে। প্রাকটিসে সময় বাড়িয়ে দে। অল্প যা অভিনয় করবি তা দিয়েই মাতিয়ে দিবি সবাইকে। নাটক, সিনেমাতে এমনিই ডাক পাবি একদিন। 

রাকিব মঞ্জুর কথা খুব ইতিবাচক ভাবে গ্রহণ করল সেদিন। কথার যুক্তি আছে। 

রাকিবের হাতের একটা নাটকের কাজ প্রায় শেষ। আরেকটা শুরু হবে। ১০ পর্বের নাটক। থ্রিলার, আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যাং কালচার, প্রেম ইত্যাদি থিম মিলিয়ে নাটক টা। রাকিবের পার্ট হলো একটা গ্যাং এর আদর্শিক গুরুর। এই গুরু মধ্যবয়স্ক। মাঠে কোনো কাজ করে না। কিন্তু আড়াল থেকে সুতা টানে। তার জীবনযাপণ অদ্ভুত। আধা-শয়তান প্রকৃতির মানুষ। তার আচরণ এমন যে তাকে বিশ্বাসও করা যায় না, আবার অবিশ্বাসও করা যায় না। আন্ডারগ্রাউন্ডের মেম্বাররা তাকে দেখতেও পারে না, আবার ফেলতেও পারে না । চরিত্র টা আধিভৌতিক। স্ক্রিপ্ট পড়ে রাকিব হাসছে–  এই চরিত্র কোথায় পেল এই স্ক্রিপ্ট রাইটার! যাই হোক, এই চরিত্রের পার্ট টা করতে হবে মন দিয়ে। 
রাত বারোটা। ঘুমোলে চলবে না। রাকিবের হাতে পুরো নাটকের সিকুয়েন্স, ডায়ালগ সব রেডি করা। পরিচালক বলেছে, প্রয়োজনে ডায়ালগে কিছু হেরফের করে নিতে পারে নিজের মত। পরে তাকে দেখিয়ে নিলেই হবে। 
চরিত্রটার আসল নাম নাটকে আড়াল থাকবে। কারণ চরিত্র নিজের আসল পরিচয় আড়াল রাখতে চায়। ছদ্মনামেই তাকে চিনবে সবাই। ছদ্মনাম হলো গুরুজি। গুরুজি একটা বিল্ডিং এর আন্ডারগ্রাউন্ডের চেম্বারে বাস করে। এখানেই সবাই তার সাথে সাক্ষাত করে। সে বসে থাকে একটা নিচু আসনে। দুই পায়ের একটা বেশ উঁচু করে রাখে। সামনের দিকে ঝুঁকে থাকে। তার চেম্বারে অধিকাংশ সময়েই আলো-আঁধারি থাকে। পূর্ন আলো জ্বালানো হয় না। 
এত ডিটেইলস লিখা স্ক্রিপ্টে! বাপরে বাপ– রাকিব ভাবে। সে পরিচালককে কল দিল।

    -হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম। বস। 
    -হ্যাঁ, হ্যাঁ। রাকিব। বলো। কী বলবে বলো।
    -স্ক্রিপ্ট পড়ছি বস। এত ডিটেইলস এই ক্যারেক্টার টা! আমারেই দিলেন এটা!
    -আরে মিয়া, তোমার মধ্যে জিনিস আছে। অন্য কেউ পারবে না এই ক্যারেক্টার। প্রাকটিস করো! সবাইরে চমকায় দেও। 

রাকিবের মুখে হাসি ছড়িয়ে পড়ে। পরিচালকের প্রশংসা তার ভালো লাগে। রাকিব শোয়া থেকে উত্তেজনায় উঠে বসে বিছানায়। প্রাকটিস করতে হবে, প্রাকটিস!      

গুরুজির ক্যারেক্টারের খুব গুরুত্বপূর্ন একটা অংশ হলো তার আধিভৌতিক হাসি। এই হাসি সে মাঝে মাঝে হাসে না। কথার ফাঁকে ফাঁকে হাসে। হাসির অর্থ কী– তা বোঝা যায় না। 
রাকিব রাত ৩ টা পর্যন্ত হাসি প্রাকটিস করল। আয়না দেখে দেখে। হাসিটা হতে হবে ভয়ঙ্কর আবার কিছুটা মিষ্টি । রাকিব ঠিকমত হাসিটা আনতে পারছে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো– নাটকে এই হাসি অনেক হাসতে হবে। গুরুজি ক্যারেক্টার যতক্ষন প্লে হবে, ততক্ষণই আলাপচারিতার মাঝে মাঝে হাসি আসবে। অর্থাৎ হাসিটা রাকিবেরও আয়ত্ব করে অভ্যাসের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। খুব কঠিন কাজ। শরীর ক্লান্তিতে ভেঙ্গে যাচ্ছে, কিন্তু রাকিবের চোখে ঘুম নেই। সে হাসি প্রাকটিস করেই যাচ্ছে। রাকিব ল্যাপটপ খুলল। নেটে অনেক ভিলেনের হাসির ছবি দেখতে হবে। দেখে দেখে এক্সপ্রেশন নিয়ে আসতে হবে নিজের মধ্যে। 

রাকিব ঘুমাতে গেল ফযর আযান হওয়ার পর পর। আযানের পরে তার ঘুম আসতে লাগল। ঘুম তাকে কাবু করে ফেলল। নাহলে তার ঘুমাতেই ইচ্ছে করছিল না আজ। 

পরদিন বিকেল। রাকিব ঘরের মধ্যেই। পরিচালক কল দিয়েছে। রাকিব ব্যাস্ত হয়ে কল ধরল। 
 - রাকিব! প্রাকটিস কেমন চলছে?
 - দিনরাত চলছে বস!
 - সুখবর আছে!
 - কী সুখবর বস?
 - টিভিতে যাবে আমাদের নাটক! এক পার্টির সাথে কথা হলো!
 - What! 
 - Yes! মন দিয়ে কাজ করো। 

উত্তেজনায় রাকিব প্রাকটিসে মনোযোগ দিতে পারছে না ঠিকমত। তার অভিনয় টিভিতে যাবে! এই প্রথম সে তার স্বপ্নের পথে একটা মাইলফলক স্পর্শ করবে! রাকিব মাথার পেছনে দুই হাত রেখে বিছানায় আছড়ে পড়ল। তার চোখে মুখে ভীষন আনন্দ। কয়েকদিন সে টানা ঘরেই অবস্থান করবে। দিন রাত প্রাকটিস। তার বহুদিনের কষ্টের ফল তাহলে এবার পেতে যাচ্ছে সে!                                                                               

গুরুজি চরিত্রটা হাঁটে কিছুটা এলোমেলো ভাবে। এবরোথেবড়ো ভাবে। একটা সিকুয়েন্সে এরকম– এক পার্টি তার সাথে পার্সেন্টেজ ডিল করতে আসে। খুবই সাহস দেখিয়ে কথা বলে তারা। গুরুজি অত্যন্ত ভদ্রভাবে মাথা দোলায়। পার্টি ভাবে যে, তারা গুরুজিকে প্যাঁচে কাবু করে ফেলেছে । এরপর হঠাৎ গুরুজি প্রায় লাফ দিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। এলোমেলো ভাবে হাঁটতে থাকে। মদের গ্লাসে মদ ঢেলে এক চুমুক দিয়ে শব্দ করে গ্লাস টেবিলে রেখে দেয়। এরপর ঘার বাঁকিয়ে অন্যদের দিকে তাকিয়ে তার হাসিটা দেয়। গুরুজির হাসি থামে না। হাসতেই থাকে। হাসতেই থাকে। এরপর এলোমেলোভাবে আবার তার আসনের দিকে হেঁটে যায়। বসে পড়ে। আবার আগের ভদ্র চেহারায় ফিরে আসে। পার্টির ডিল মেনে নেয়। এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখে পার্টির লোকেরা অস্বস্তিতে ভোগে। গুরুজির আধভৌতিক আচরণে তারা কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। তারা গুরুজিকে ঠিক বুঝতে পারে না। একজন বলে, ব্যাটা শয়তান নাকি। বলে সে চেম্বার থেকে বেড়িয়ে যায়। 

রাকিব এই সিকুয়েন্সটা আজ প্রাকটিস করছে। ভালো হচ্ছে না। এলোমেলো হাঁটাটা বেশ ভালোই হচ্ছে। কিন্তু হাসিটা তেমন হচ্ছে না। পার্টির সেই লোকের বলা শয়তান শব্দটা মনে করে রাকিব ভাবল এক কাজ করলে কেমন হয়? একটা শয়তান কীভাবে হাসে এটা কল্পনা করতে হবে। ধ্যানের মত। এরপর মগজের মধ্যে একটা ছবি এঁকে নিয়ে সেই হাসি নিজের চেহারায় নিয়ে আসতে হবে। বুদ্ধিটা ভালোই মনে হলো রাকিবের। 

রাকিব বিছানায় বসে ধ্যান করছে। শয়তান কীভাবে হাসতে পারে, এই কল্পনা। সে চোখ বন্ধ করে আছে। ভাবছে, ভাবছে। প্রায় ১৫ মিনিট হলো সে বসে আছে। হঠাৎ সে হেসে উঠল। হাসিটা অদ্ভুত শোনালো। সে আয়নার সামনে দাঁড়াল। হাসল। এবার তার মনে হচ্ছে, হাসিটার মান  (accuracy) ৭০% হয়েছে। সে খুশি হলো। আর কিছুদিন চেষ্টা করলে নিশ্চয়ই ১০০% হবে। 

রাকিব আজও ফযরের আজানের পরে ঘুমাতে গেল। ঘুম থেকে উঠল ৩ ঘন্টা পর। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। অথচ আরও ঘুমানো দরকার। ঘুমের মধ্যে মনে হয়েছে তার শরীর অবশ হয়ে পড়ে ছিল শুধু। তার ব্রেইন ঘুমায় নি। ব্রেইনে হাসির রিহার্সেল চলেছে। সে ঘুমের মধ্যে কল্পনার গুরুজিকে দেখতেও পেয়েছে। এটা নিশ্চয়ই তার মনের খেয়াল। 

রাকিব ঘুম থেকে উঠে দাড়িয়েই আয়নার সামনে গেল। হাসিটা দেয়ার চেষ্টা করল। হাসি দিয়েই সে আঁতকে উঠল। এ কি!  এবার তার হাসিকে ১০০% মার্ক না দেয়া গেলেও ৯৫% তো দেয়া যায়! এক রাতের ব্যাবধানে এত উন্নতি, সে ভাবতেই পারে নি! 
রাকিব গেল পরিচালকের সাথে দেখা করতে। উদ্দেশ্য হলো গুরুজি ক্যারেক্টারের কিছু অংশ অভিনয় করে দেখানো। পরিচালকের মতামত নেয়া। বিশেষ করে হাসিটা দেখাতে চায় সে। 

রাত সারে বারোটার দিকে পরিচালক জিতু বসের সময় হলো। রাকিব তার চেম্বারে যেতেই তিনি বললেন, সময় নেই। প্লে কর।
রাকিব একটা সিকুয়েন্স প্লে করল। 

জিতু বসকে দেখে মনে হলো তিনি রাকিবের অভিনয়ে সন্তুষ্ট হন নি। রাকিব বলল, বস, মার্কিং করেন। 

পরিচালক জিতু রাকিবকে এভারেজ ৫০% মার্ক দিলেন। বললেন, হাসিতে ডার্ক (dark) ব্যাপারটা আনতে পারো নি। আরো কাজ করো। 
রাকিব জিজ্ঞেস করল, ডার্ক বলতে কী বোঝাচ্ছেন, বস? 
 -‘ ক্রূরতা বোঝাচ্ছি। সিরিয়াল কিলারের মধ্যে যেমন ক্রূরতা থাকে সে লেভেলের। ক্রূরতার সাথে আরেকটা বিষয় আনতে হবে।’ 
  -‘ কী?’
  -‘negligence . negligence মানে দুনিয়ার হাল চাল সব কিছু সম্পর্কে চূড়ান্ত অবহেলা প্রদর্শন। অর্থাৎ মানুষের জীবন কাঠামো, সমাজকাঠামো, নীতি নৈতিকতা, দুঃখ-কষ্ট, অনুভূতি ইত্যাদির কোনো মূল্য ক্যারেক্টারের কাছে নাই। এক ধরণের ঔদ্ধত্য।  এটা তার চেহারায় ফুটে উঠবে। হাসিতে মিশে থাকবে।’ 

রাকিব আরো বেশি বেশি প্রাকটিস ও গভীরভাবে ক্যারেকটার ধ্যান করার সংকল্প নিয়ে বাসায় ফিরল। তাকে টপ লেভেলের অভিনেতা হতেই হবে। No mercy. 


প্রায় দুই মাস পর। রাকিব বসে আছে অন্যান্য অভিনেতাদের সাথে। আজ তাদের  ১০ পর্বের নাটকের বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ। রাকিবের হাতে পেমেন্টের বিশাল অংকের টাকা। সে এতটা প্রত্যাশা করে নি। সেট প্যাক আপ করে সবাই আড্ডায় বসেছে। একজন রাকিবকে বলল, এই যে মিস্টার ডেভিল। অভিনয় তো যা করলা, ১০০ এর মধ্যে ১১০ পাবা। সবাই হেসে উঠল। একজন রাকিবের পিঠ চাপড়ে দিল। রাকিবও  হাসল। কিন্তু…
রাকিব চেয়েছিল নিজের সাধারণ হাসিটা হাসতে। অথচ সেটা হয়ে গেল গুরুজি দ্যা ডেভিলের হাসি! সে কিছুটা আশ্চর্য্য হল। তার হাসি দেখে অন্য সবাই হেসে উঠল। কেউ কেউ হাত তালি দিল।  
একজন মহিলা অভিনেতা বলল, রাকিব তুমি আমার বাসায় যেয়ো। আমার বাচ্চাটা অনেক দুষ্ট! তাকে তোমার হাসি দেখিয়ে ভয় পাওয়াতে হবে! কী যাবা? ভালো পেমেন্ট দিব, হা হা। 
রাকিব হেসে ফেলল। এবারও সবাই গুরুজির হাসিই দেখল রাকিবের চেহারায়। কেউ কেউ ফিরতি হাসি দিল। কেউ কেউ থমকে গেল। বাদল ভাই বলল, রাকিব তুমি মনে হয় ক্যারেকটারের মধ্যে অনেক বেশি ঢুকে গেছ। কিছুদিন স্বাভাবিক লাইফ লিড করার চেষ্টা করো। এরপরের নাটকে নিশ্চয়ই ডেভিলের ক্যারেক্টার প্লে করতে হবে না! হা হা। 

সবাই হাসল। হাসারই কথা। সবাই পার্টি মোডে আছে। রাকিব তাকালো পরিচালকের দিলে। তার ঠোঁটেও লুকোনো হাসি। 


কয়েকদিন কেটে গেল। রাকিবের মনে হচ্ছে, কোথাও সমস্যা হয়েছে। কারণ সে  স্বাভাবিক হতে পারছে না। সে সময়ে অসময়ে হাসছে। কথার  মাঝে মাঝে হাসিটা আসছে। রাকিবের মনে হচ্ছে নিজের উপর তার নিয়ন্ত্রণ নেই। হাসিটা অনিচ্ছাকৃত আসছে। এবং সে তার স্বাভাবিক হাসি হাসতে পারছে না। গুরুজির হাসি হাসছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে রাতে। চোখে ঘুম আসে না তার । ফযরের আযানের পর পর কিছুটা ঘুম আসে। রাতে ইচ্ছা করলেও সে ঘুমাতে পারছে না। অনেক ক্লান্তি নিয়ে শুয়ে চোখ বন্ধ করলে একটু পরেই ঘুম চলে যাচ্ছে। চোখ বন্ধ করলেই তার চিন্তায় গুরুজির ক্যারক্টার চলে আসছে। সেই গুরুজি নাটকের কাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, নতুন নতুন সিকুয়েন্স প্লে করছে। ঘুমের মধ্যে রাকিবের মাথায় গুরুজি তার অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছে। 

অনেকদিনের ঘুমহীনতা রাকিবের অস্বাভাবিকতা আরো বাড়িয়ে দিল। সে বেশ অসুস্থ্য বোধ করতে লাগল। 

সপ্তাহ দুয়েক চেষ্টা করার পরেও রাকিব স্বাভাবিক হতে পারল না। ডাবল ঘুমের ওষুধ খেলেও তার ঘুম হয় না। যে দুই আড়াই ঘন্টা সে ঘুমায় সেটাকে ঘুম বলা চলে না। শরীর অবশ হয়ে পড়ে থাকে শুধু। আর মস্তিষ্ক গুরুজিকে নিয়ে নানান সিচুয়েশন তৈরি করতে থাকে। রাকিব খেয়াল করল তার বাস্তব জীবনেও সে গুরুজির মত আচরণ করছে। এবং সেটা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ভাবে। তার মনে হচ্ছে, গুরুজি নামক চরিত্র তার উপর ভর করে আছে। তার থেকে সে নিজেকে ছড়িয়ে নিতে পারছে না। 

দিন গড়ায় আর রাকিবের মানসিক অশান্তি তীব্র হতে থাকে । গুরুজি তাকে পেয়ে বসেছে। তার মনে হচ্ছে দিনরাত সে গুরুজির ক্যারেক্টার প্লে করছে। রাতে কল্পনায় গুরুজি, স্বপ্নেও গুরুজির বিভিন্ন বৈচিত্রময় রূপ দেখছে সে। সে যেন সত্যি সত্যি নাটকেরই গুরুজি হয়ে উঠছে বাস্তব জীবনে। রাকিব গুরুজি থেকে মুক্তি খুঁজছে। সে কোনোকিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছে না। তার মনে হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে সে পাগল হয়ে যাবে। ইতোমধ্যেই তো আধাপাগল হয়েই গেছে বলতে গেলে। 

রাকিব একজন সাইক্রিয়াটিস্ট এর সাথে এপয়েন্টমেন্ট নিল ।  ভদ্রলোক তার কথা আদোপান্ত শুনলেন । এরপর বললেন, আপনার সম্ভবত Pseudobulbar Affect (PBA) হতে পারে। অর্থাৎ নিজের উপর নিয়ন্ত্রণহীনতা। একটা মানসিক রোগ।
ডাক্তার কিছু ওষুধ দিয়ে দিলেন। বিশ্রাম নিতে বললেন। এক সপ্তাহ পরে আসতে বললেন। 

রাকিব আজ গেল গুলশানের একটা রেস্টুরেন্টে। বাকা ভাই তাকে ডেকেছে । বাকা ভাই রাকিবের একজন গুরু। অভিনয় জগতের গুরু।

রাকিব আর বাকা ভাই বসে আছে একটা টেবিলের দু’পাশে। বাকা ভাই বলল, রাকিব, এইসব ছোটখাট ঝামেলা অভিনয় জগতে হয়। এসবকে পাত্তা দেয়া ঠিক না। একসময় এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। 

বাকা ভাই পরামর্শ দিল drink করতে। বলল, লাল পানি খেয়ে ঘুম দে, রাকিব। জোরসে ঠিক হয়ে যাবি। হা হা। 

রাকিব লাল পানি খেল। তার নিজেকে লাগছে আধাপাগল। একটা ঘোর এসে গেছে। পা গুলো মনে হচ্ছে আড়ষ্ট। হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এই হাঁটার মধ্যে এক ধরণের আনন্দ আছে। রাকিব ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে পরিচালক জিতু বসের অফিসের দিকে । সেখান থেকেই সে বাসায় ফিরবে। সে হাঁটছে এলোমেলো ভাবে। তার মাথায় খেলা করছে গুরুজি। গুরুজি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে এলোমেলো ভাবে। মাঝে মাঝে হেসে উঠছে। রাকিব খেয়াল করল, সে হাসছে। বারবার হাসছে। মনে হচ্ছে সে-ই গুরুজি। গুরুজি দ্যা ডেভিল। 

রাত প্রায় ১ টা। অভিনয় লাইনে রাত ১ টা কিছুই না। বলা যায় রাতের প্রথমভাগ। জিতু বসের চেম্বারে আরো কয়েকজন ছিল। রাকিবকে কয়েকজন জিজ্ঞেস করল, এই অবস্থা কেন? রাকিবের হয়ে উত্তর দিল জিতু বস। রাকিবের অবস্থা শুনে চেম্বারের কেউ কেউ সহানুভূতি দেখাল। কিন্তু জিতু বসের চেহারা কেমন হাসি হাসি। বলল, আরে ঠিক হয়ে যাবা, সমস্যা নাই। রাকিব মাথা ঝাঁকালো। জিতু বস রাকিবের দিকে হাতের আঙ্গুল দিয়ে একটা সাইন দেখালো । সাইন দেখেই রাকিবের চোখ কেমন জ্বলে উঠল। ভেতর থেকে কে যেন হেসে উঠল। সেই হাসি রাকিবের চেহারায় প্রকাশিত হল। রাকিব হেসেই যাচ্ছে, সে যেন অনেক উত্তেজিত। কিন্তু এটা রাকিব না। রাকিবের ভেতরে থাকা গুরুজি। গুরুজি দ্যা ডেভিল। রাকিব ওরফে গুরুজি দ্যা ডেভিল! হাসছে সে!  রাকিবের দিকে তাকিয়ে পরিচালক জিতুও হেসে যাচ্ছে।  দুদিকে দুজনের হাসির মধ্যে কোথায় যেন একটা মিল। অদ্ভুত এক মিল। চেম্বারের অন্যরা আগ্রহ নিয়ে সেই হাসি দেখছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246545/</link>
				<pubDate>Sat, 02 May 2026 08:31:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হাসি</p>
<p>রাকিব বহুদিন ধরে টিভি নাটকে অভিনয় করার জন্য সুযোগ খুঁজছে। এর ওর কাছে ধরণা দিচ্ছে। সুযোগ পাচ্ছে না। এই ছোটাছুটির মধ্যে তার নিজের অভিনয় দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রাকটিস করবে- সেই সময় বের করাই দায়। রাকিবের হাতে এখন দুটি নাটকের কাজ। কিন্তু দুটিই যাবে ইউটিউব চ্যানেলে। এভাবে আর কতদিন? তার মন ভালো নেই। মন ভালো না থাকলে অভিনয় হয় আরো খারাপ।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-246545"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/246545/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">32aa7fda09f7385df4120bd33f76abfa</guid>
				<title>জিন ডাক্তার

আলী স্যার। ছিলেন আমাদের গণিতের শিক্ষক। তার বাড়ি ছিল গ্রামের একটা নির্জন জায়গায়। ধান ক্ষেতের ঠিক মাঝামাঝি। লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন বললে খুব একটা ভুল হবে না। আলী স্যার এবং তার কয়েক চাচার পরিবার মিলে একত্রে বসবাস। পাশে লম্বা লম্বা সুপারি গাছের বাগান। আমার স্পষ্ট মনে পড়ে। বহুদিন স্যারের বাসায় পড়তে গিয়েছি ছোট বয়সে। বাড়ির আশপাশ জুড়ে ছিল কাগজি লেবুগাছের ঝোপ। যে ঘরটায় স্যার আমাকে পড়াতেন তার পেছনের পুকুর পারে একটা সুবিশাল দারুচিনি গাছ। একটু দূরে বাঁশের ঝোপ। তাদের বাড়ির আবহ খুব একটা ভৌতিক বলা যায় না। তবে স্যারের এক চাচির ছিল ধবল রোগ। বৃদ্ধা মহিলা। যখন দেখতাম সাদা কালো ছোপ ছোপ শরীর, তখন চমকে যাওয়ার মত একটা অনুভুতি হত। স্যারের দাদি বেঁচে ছিলেন। অনেক বয়স হয়েছে। তার কী যেন রোগ হয়েছে। প্রায় এ নিয়ে কথা শুনতে পাই। তার নাকি মরমর অবস্থা। কিন্তু মরছেন না। আবার সুস্থ্যও হচ্ছেন না। অনেক ডাক্তার অষুধ করা হয়েছে কিন্তু তার অবস্থার উন্নতি নেই। বৃদ্ধ বয়সে কষ্ট পাচ্ছেন শুধু শুধু। সব চিকিৎসা যখন করা হয়ে গেল তখন বাদ রইল কেবল জিন চিকিৎসা। আমি প্রায় ২০ বছর আগের কথা বলছি। তখন গ্রামের কারো রোগ না সারলে আত্মীয়দের কেউ কেউ জিন চিকিৎসার পরামর্শ দেবে না তা কখনো হয় নি। স্যারের দাদিকেও জিন দিয়ে চিকিৎসা করানোর সিদ্ধান্ত হলো। তো জীন চিকিৎসা হবে কীভাবে? মানুষের মাঝে যেমন ডাক্তার থাকে। জিনদের মাঝেও তেমনই থাকার কথা। তবে চিকিৎসার ধরণ কেমন সে সম্পর্কে বলা মুশকিল। হয়ত গাছ গাছরার লতা-পাতা চিকিৎসা হতে পারে। সে যাই হোক, জিন ডাক্তার তো আর চেম্বার খুলে বসে থাকে না। যে তার চেম্বারে গেলেই তাকে পাওয়া যাবে। বরং তাকে আনতে হত ডেকে।  সবাই আবার তাদের ডাকতে পারে না। বিশেষ বিশেষ লোকই এই কাজ পারে। আমাদের এলাকায় এই বিশেষ শ্রেণির লোকদের বলা হত মাহান। শহরে এসে জানলাম তাদের কবিরাজ বলে। আমাদের এলাকায় বেশ কিছু কবিরাজ ছিল। এদের নাম—জহির মাহান, সাদেক মাহান, কাছুয়া মাহান ইত্যাদি। এখন ভাবি মাহান শব্দটা কি কোনোভাবে মহান শব্দ থেকে এসেছে কি না? এর উত্তর মনে হয় নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবে না। মূল গল্পে যাই। 
আমার সন্দেহ ছিল যে, স্যারের বাড়িতে জিন ডাকার ব্যাপারটা আসলেই ঘটবে কি না। কারণ আমাদের আলী স্যার, গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। চিন্তাভাবনায় কিছুটা প্রগতিশীল। তার বাড়িতে এসব হবে—এ নিয়ে সংশয় থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে জিন ডাকার ঘটনা যে ঘটেছিল তা আমাকে জানালেন মেরাজ চাচা। ঘটনার পরদিন রাতে । বরাবরই ছোটদের কাছে এই  ব্যাপারগুলো গোপন রাখা হত। কিন্তু মেরাজ চাচা জিন ঘটিত ব্যাপার নিয়ে থাকেন অতি মাত্রায় উৎসাহী । সেই ঘটনা আবার ছোটদের কাছে বর্ণনা করে ভয় দেখান। তাও রাতের বেলা। মোটেও দিনের বেলা নয়। সেদিন ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতে আমরা বসে আছি আম গাছের নিচে। বাড়ির উঠানেই আম গাছ। সেখানে বেঞ্চ পাতা। বারান্দায় একটা হারিকেন জ্বলছে। মেরাজ চাচা গল্প শুরু করলেন। 

“বুঝলা ইহতেমাম? মাহান আসছিল তিনজন। কালো কুটকুটা রাইত। আর ভ্যাপসা গরম। সবাই ঘামছে দরদর করে। তোমার আলী স্যারের বাড়ির আঙিনায় আমরা দাঁড়ায় আছি। মাহান তিনজন এসে বেঞ্চে বসল। হায় হায় হায়। বেঞ্চে বসা মাত্রই বলল, বাড়ির সব বাতি নিভায়া দেও!

মাহান তিনজন মন্তর (মন্ত্র) পড়া শুরু করল। শুধু কানেই শুনি। চোখে কিছু দেখি না। আমাবস্যার রাইতের মতন কালো রাইত। বাতি তো সব নেভানো।  কি যে জবরযং জবরজং পড়ল কিছুক্ষণ কে জানে।”

আমি বললাম, চাচা এরপর? চাচা বললেন, এরপর বলতেছি। কিন্তু আমাকে এভাবে জড়ায় ধরছ কেন? ছাড়ো। গরমে শরীর ঘেমে গেছে। আমি চাচাকে ছেড়ে দিলাম। তবে তার হাত ধরে থাকলাম শক্ত করে। চাচা আবার শুরু করলেন। 
“তিনজন মাহানই মন্ত্র পড়তেছে। খুব স্পিড। কি পড়ছে বোঝা যায় না। পড়েই যাচ্ছে। পড়েই যাচ্ছে। এক নিঃশ্বাসে। মনে হচ্ছে দম  বন্ধ হয়ে যাবে, তবু মন্ত্র ছাড়বে না। হঠাৎ করে একজন মাহান মন্ত্র পড়া বন্ধ করল। অন্যরা চালিয়ে যাচ্ছে। বুঝলাম সাদেক মাহান পড়া বন্ধ করেছে। সে করল কী। হঠাৎ বিকট একটা চিৎকার দিয়ে উঠল!   কেমন লাগে? আমরাও ভয়ে চিৎকার দেয়ার অবস্থা।  বাড়ির মহিলারাও আর্তনাদ করে উঠল। সাদিক মাহান বলল, থামেন সবাই থামেন। সবাই শান্ত হলো। এরপরেই সাদেক মাহানের কন্ঠে গান শোনা গেল, 
আয়রে বহর আয়। দোহাই লাগে তোর, আয়। আয়রে বহর আয়। 

গানের অদ্ভুত সুর। সাথে অন্য দুইজন জন মাহান উন্মাদের মত মন্ত্র পড়ছে। সাদেক মাহান গান গাচ্ছে, 

আয়রে বহর আয়
এই ডাক ফেলতে পারবি না রে, আয়
আয়রে বহর আয়।
আয় আয় আসি পড়, আয়
ওরে বহর আয়।
দোহাই লাগে আয়।” 
(সতর্কতাঃ আসলে কুফরী মন্ত্র পড়ে জিনকে ডাকা হত। এ ব্যাপারে তখন আমার ধারণা ছিল না। ছোটবেলার ঘটনা, কিছু স্মৃতি থেকে আর কিছু বানিয়ে লিখছি।)

মেরাজ চাচা এ পর্যন্ত গল্প বলে থামলেন। তিনি খেয়াল করলেন আবার আমি তাকে জড়িয়ে ধরেছি। আমাকে হুমকি দিলেন, গরমের দিনে এভাবে জড়ায় ধরলে আর গল্প বলব না। আমি চাচাকে ছেড়ে দিলাম। তিনি বললেন, “শোনো মাহান শা*রা কুফরি কালাম পড়তেছে দেখে মনটা চাচ্ছিল পিছন থেকে লাথি মেরে ফেলে দেই।  কিন্তু সেই সাহস তখন আমার নাই। মন্ত্র আর  গান চলতেই আছে। থামাথামি নাই। ভাবতেছিলাম জিন কীভাবে আসবে? কে একজন বলছিল যে, জিন নাকি সাদা ঘোড়ার পিঠে চড়ে আসে। কই জিন তো আসে না। আর মাহানরা মন্ত্র পড়েই যাচ্ছে। গান গেয়েই যাচ্ছে। আমার বিরক্তি লাগতেছিল। মনে মনে তাওবা করতেছি, আল্লাহ আর এগুলাতে আসব না। এমন সময় শুনি পাশের বাঁশ ঝাড়ে শো শো শো শো বাতাসের আওয়াজ! 
ঘটনা কী? ভয়ংকর আওয়াজ। কালবৈশাখী ঝড় যেমন। বাঁশের আগা পাগলের মত একটার সাথে আরেকটা বারি খাচ্ছে। মনে হচ্ছে কোনো মাতাল দৈত্য মাতলামি করতেছে। আসলেই কি জিন সে বাঁশঝাড়েই এলো? ভয়ে আমার শরীর তখন ঝিম মেরে গেছে। মুর্তির মত দাঁড়িয়ে আছি। বাঁশঝাড়ে ঝড়ের শব্দ বেড়েই চলছে। হচ্ছে টা কী? 
মাহানরা হঠাৎ মন্ত্র পড়া থামিয়ে দিল। সাদেক মাহান চিৎকার দিয়ে দিয়ে বলতে লাগল, থামরে বহর থাম। থাম। দোহাই তোর থাম। 
বহর সম্ভবত জিনটার নাম। সেই বাঁশঝাড়ে এসে মাতলামি করছে। জিনেদের ডাক্তার যে এত মাতাল হয় জানা ছিল না। সাদেক মাহানের কথায় বহর মাতলামি কমালো না, থামলও না। কেবল জায়গা বদল করল।  কারণ খেয়াল করলাম বাঁশঝাড়ের উন্মাদ বাতাস আর দুলুনি এসে ভর করেছে আমাদের পাশের আমগাছটায়। বলো কেমন লাগে? আমি আর তোমার স্যার আতঙ্কে প্রায় লাফ দিয়ে উঠলাম। আম গাছটা এমন দুলছে যে মনে হয় ভেঙে পড়বে আমাদের উপর। সাদেক মাহান চিৎকার দিয়ে বলল, থামরে থাম। অন্য দুজন আবার মন্ত্র পড়া শুরু করল। আর ততক্ষণে আমি ভাবছি, আম গাছটা দৈত্যের মাতলামি সহ্য করতে পারবে নাকি ভেঙ্গে পড়বে মাথার উপর?
এরপর মিনিট ২-৩ হবে। উন্মাদনা বন্ধ হতে শুরু করল। খেয়াল করলাম ধীরে ধীরে আম গাছের দুলুনি কমে যাচ্ছে।  
আম গাছ শান্ত হলো। সাদেক মাহান কথা বলা শুরু করল বহরের সাথে। 
আমার শরীর, শার্ট, লুঙ্গি ততক্ষণে ভিজে ঘাম দিয়ে গোসল করার অবস্থা। তোমার স্যার পাথরের মত সোজা হয়ে দাঁড়ায় আছে। হয়ত ভাবতেছে, এই জিন ভুত আর জীবনে ডাকতে দিবে না।”

গল্পের এই পর্যায়ে মেরাজ চাচা একটু থামলেন। বললাম, এরপরে কী হলো ? কিন্তু কী হলো তা চাচার আর বলার সুযোগ হলো না। আমি বিকট চিৎকার দিয়ে লাফ মেরে উঠলাম। কারণ সম্ভবত ভুতে আমার পা কামড়ে ধরেছে! চিৎকার যখন থামালাম শুনতে পেলাম, হা হা হা বিকট হাসির শব্দ আসছে। আমার ছোট চাচা। তিনি হেসে হেসে গড়িয়ে পড়ছেন মেরাজ চাচার উপর। আমি নিশ্চিত হলাম, তাহলে ভুত নয় ছোট চাচা আমার পায়ে খামচি দিয়েছেন। চিৎকার আর হাসির শব্দে ততক্ষণে বাড়ির বড়রা ঘর থেকে বের হয়ে এসেছে। আমাদের বকা ঝকা দেয়া শুরু করেছে। এরপর কি আর গল্প জমে? আমি মন খারাপ করে বসে আছি। মা আমাকে ঘরে যেতে ডাকলেন। আমি মেরাজ চাচাকে দ্রুত গল্প শেষ করার তাগাদা দিলাম, কী হলো তারপর? 

“এরপর নানান অষুধ পাতি দিল। কি তাবিয কবয করতে বলল। বহর জিনকে প্রথম যেমন উন্মাদ দৈত্য মনে হয়েছিল। কথা শুনে তেমন মনে হলো না। তার কন্ঠ কেমন স্যাঁতস্যাতে। কিন্তু উগ্র। দেমাগী। আলীর দাদীর ব্যাপারে অনেক কথা হলো। কথাবার্তা শেষ হলে সাদেক মাহান আমাকে ডাক দিল, ওয় (ওহে) মেরাজ, বহরক (বহরকে) কিছু পুছিবার (জিজ্ঞেস করার) থাকিলে পুছ। বুঝতে পারলাম না। আমি আবার কি জিজ্ঞাসা করব?
গলা কোনোমত পরিস্কার করে বললাম, আপনে জিন না কি তা বুঝি কেমনে? আসলেই জিন হয়া থাকলে আমাকে তার নমুনা দেবেন। 
বহরের কন্ঠ শোনা গেল। স্যাঁতস্যাঁতে কন্ঠ। যা, নমুনা পাবি।
রাইত তখন ৩ টা। ভাবলাম আর না। বাড়ি চলে যাই। আমি বাড়ি চলে আসলাম দোয়া দরুদ পড়তে পড়তে। বাড়ি এসে দেখি নারিকেল গাছটার একটা কাঁচা ঢোনা (ডাল) ভেঙ্গে পড়ে আছে। আমের গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়ে আছে। অথচ কোথাও কোনো ঝড় বাতাস নাই। এত রাতে কেউ গাছেও উঠবে না। বুঝলাম, জিন নমুনা দিয়া গেছে। ইহতেমাম, কাল সকালে তোমাকে গাছের ভাঙ্গা ডাল দেখাবো। ”
মেরাজ চাচা আমাকে পরদিন সকালে নারিকেল গাছের ভাঙা ঢোনা আর আম গাছের ডাল দেখালেন। আমি দেখে খুবই আশ্চর্য্য হলাম। যখন একটু বড় হয়েছি। হাই স্কুলে পড়ি। বাড়ির সবাই বলত, ইহতেমাম ভালো করে পড়াশোনা করো। তোমাকে ডাক্তার হতে হবে। কিন্তু সমস্যা হয়ে গেল কি। ডাক্তারের হওয়ার কথা বললেই আমার মতে পড়ে যেত সেই জিন ডাক্তারের কথা। উন্মাদ জিন ডাক্তার। যার নাম ছিল বহর।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246492/</link>
				<pubDate>Fri, 01 May 2026 14:02:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জিন ডাক্তার</p>
<p>আলী স্যার। ছিলেন আমাদের গণিতের শিক্ষক। তার বাড়ি ছিল গ্রামের একটা নির্জন জায়গায়। ধান ক্ষেতের ঠিক মাঝামাঝি। লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন বললে খুব একটা ভুল হবে না। আলী স্যার এবং তার কয়েক চাচার পরিবার মিলে একত্রে বসবাস। পাশে লম্বা লম্বা সুপারি গাছের বাগান। আমার স্পষ্ট মনে পড়ে। বহুদিন স্যারের বাসায় পড়তে গিয়েছি ছোট বয়সে। বাড়ির আশপাশ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-246492"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/246492/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">76bc563acbcc7254fbdb51f3c09bf05d</guid>
				<title>Assalamu alaikum. 
আমি একজন ছোটগল্প ও উপন্যাস লিখি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246451/</link>
				<pubDate>Fri, 01 May 2026 05:25:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>Assalamu alaikum.<br />
আমি একজন ছোটগল্প ও উপন্যাস লিখি।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f166efa2be7e7f58b93fca62c312edb7</guid>
				<title>ইহতেমাম ইলাহী changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246450/</link>
				<pubDate>Fri, 01 May 2026 05:20:14 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>