-
জিন ও ভুতের মিশ্রন
আজমল চাচার আজও দেখা নেই। যুহরের নামাজ শেষ। মসজিদের চারদিক ফিরে ফিরে দেখছে ফিরোজ। না কোথাও নেই লোকটা। কোথায় যাবে? মসজিদে না এসে বাসায় বসে থাকার লোক আজমল চাচা না। তার সন্তান সন্ততি নেই। তাই কোনোকিছুতে ব্যাস্ততাও নেই। বাসা ভাড়া তোলা আর খাওয়া। আর দিনরাত জিন ভুত নিয়ে গবেষণা। আছে একটা আজীব গবেষনাগার। নানান বোতল আর শিশিতে ভরা। অদ্ভুত গন্ধ।
ফিরোজ আজমল চাচার বাড়ির দিকে রওনা দিল। লোকটা অসুস্থ্য নয়তো? তাহলে সাওয়াব হাসিল করার এটাই সময়। ফিরোজ হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিল। দুই মিনিটের রাস্তা ।
পাশাপাশি দুইটা বাড়ি। একটা দোতলা আরেকটা ছয় তলা। দোতলাটায় আজমল চাচা থাকেন। ছয় তলাটা তার ভাড়া দেয়া। দোতলা বাড়ির ছাদ থেকে ঘন লতাগুল্মের ঝোপ ঝুলে আছে । সামনে ভাড়ি লোহার গেট। গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকতে ফিরোজের জান বেরিয়ে যাওয়ার জোগাড় হলো। গেটের কলকব্জায় যে একটু তেল দিবে সেই খেয়ালও থাকে না চাচার। ফিরোজ হাঁপাচ্ছে। খানিকটা বিরক্ত সে। এই বাড়িতে মনে হয় কলিং বেলও নেই। সে ডাক দিল।
“আজমল চাচা, আছেন বাড়িতে?”
কোনো সাড়াশব্দ নেই।
“বাড়িতে আছেন? আজমল চাচা।?‘
দরজা খুলে গেল। কিন্তু কাউকে দেখতে পাচ্ছে না ফিরোজ। একটা নারীকন্ঠ শোনা গেল,
‘কে ফিরোজ? তোমার চাচার যা জ্বর! আল্লাহ বাঁচায় রাখুক তাকে। কথা বলার শক্তি পর্যন্ত নাই।“
‘আসসালামু আলাইকুম, চাচি। বলেন কি?’
“ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ রে বাবা। ভিতরে আসো।‘ফিরোজ ভেতরে ঢুকে বামদিকের ঘরটায় গেল। সালাম দিল। কিন্তু কোনো উত্তর পেল না। সে দেখল মশারির ভেতরে সরলরেখার মত একটা শরীর কাঁথায় ঢাকা। ফিরোজ চেয়ার টেনে বসল। এমন সময় মশারির ভেতর থেকে সরলরেখাটা হঠাৎ হেসে উঠল।
‘হা হা হা। হা হা।‘
ফিরোজ বলল, কি হয়েছে চাচা, হাসছেন কেন?
চাচির রাগত কন্ঠ শোনা গেল, ডাক্তার দেখানোর নাম নাই। যত সব ঢঙ!
মশারির ভেতর থেকে আবার হাসি শোনা গেল।
‘হা হা হা। ওহ সরি। সালাম নিতে ভুলে গেছি। ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ফিরোজ, বিজ্ঞানীরা যে অকাট মুর্খ, সেটা কি তারা বোঝে না? তোমরা নিজ গ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণী জিনকে খুঁজে পাও না। আবার মহাবিশ্বের গ্রহে গ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণী খুঁজে বেড়াও। ভাব নাও?“
ফিরোজ বলল, ‘চাচা, আপনার না জ্বর। চলেন ডাক্তার দেখাই।“
“হ্যাঁ, জ্বরে শরীর পুরো কাহিল। কিন্তু ব্রেইন হয়েছে ৩ গুন সচল!’
“সচল ব্রেইন দিয়ে করেন কী?’
‘জিন নিয়ে ভাবি। জিন বাস করে তিন ডাইমেনশনে। দৈর্ঘ, উচ্চতা আর সময়ের ডাইমেনশন। আর মানুষ বাস করে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা আর সময়- চার ডাইমেনশনে। ভিন্ন ডাইমেনশন হলো একই জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন জগৎ। আরে মূর্খ বিজ্ঞানীরা! মহাবিশ্বের অন্য গ্রহে যদি তিন ডাইমেনশনের প্রাণী থাকে তাহলে তো তাদের দেখতে পাবে না। যেমন দেখতে পাও না নিজ গ্রহের জিনকে। কিন্তু এত ভাব কেন তোমাদের?’’
“চাচা, হয়েছে তো। কথা বলতে কষ্ট, তাও কথা বলছেন?”
“জ্বরের ঘোরে ভাবনা আসে অটোমেটিক। ঘুমিয়ে গেলে স্বপ্নেও নানান জিনিস দেখি।‘
‘কী দেখেন?’
“যা ভাবি তাই ভিজুয়াল দেখি! সপ্ন আর বাস্তব একাকার হয়ে গেছে আমার। স্বপ্ন আর বাস্তবতাও ভিন্ন ভিন্ন ডাইমেনশন। এই দুই ডাইমেনশনের মাঝের দেয়াল জ্বরের ভয়ানক তাপে গলে গেছে। হা হা হা। এখন আমার স্বপ্ন আর বাস্তবতা প্রায় একাকার। এখন দেখতে পাচ্ছি আমার কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। গরম ধোঁয়া। হা হা হা।”ফিরোজ হঠাৎ আতঙ্কিত বোধ করছে। কারণ সে এই মাত্র নিশ্চিত হয়েছে আজমল চাচা প্রচন্ড জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকছেন। মশারি উঠিয়ে সে চাচার শরীরে হাত দিয়ে আঁতকে উঠল। জ্বর ১০৩/৪ ডিগ্রির কম নয়। শরীর ফেটে যাওয়ার জোগাড়। খুব দ্রুত তাপ ঠান্ডা না করলে কেলেংকারি হয়ে যাবে। শিশুদের এরকম তাপমাত্রায় খিচুনি উঠে যায়। মুখ দিয়ে ফেনা ছুটে।
আজমল চাচাকে বসানো হয়েছে বাথরুমের ট্যাপের নিচে। তার মাথায় শরীরে প্রচন্ড গতিতে পানি পড়েছে। তিনি চোখ বুজে আছেন । মাঝে মাঝে চেহারা থেকে পানি মুছছেন। শ্বাস নেয়ার জন্য মুখ হা করছেন। ফিরোজ দাঁড়িয়ে আছে বাথরুমের দরজায়। সে ভাবছে কি বিপদে পড়া গেল? সে ফোন নিয়ে বের হয় নি। আজমল চাচাকে হাসপাতালে নিতে হবে। তার বাসা ফিরতে অনেক দেরি হতে পারে। বাসায় কোনোভাবে জানানো গেলে ভালো হত। বাবা নিশ্চয়ই রাগ করবেন। কিন্তু হঠাৎ তার সম্বিত ফিরল। আজমল চাচার ফোন দিয়েই তো বাসায় কল দেয়া যায়! অস্থিরতায় তার মাথাও মনে হয় ঠিক ঠাক কাজ করছে না। পনের মিনিট পার হয়ে গেছে। অবশেষে আজমল চাচা বললেন, শীত লাগছে। আমাকে তোলো। আজমল চাচাকে তোলা হলো না। ট্যাপ বন্ধ করে চাচি তার শরীর মুছতে গেলেন। ফিরোজ বাইরে গিয়ে দাঁড়ালো। চাচার কাপড় চেঞ্জ হয়ে গেলেই হাসপাতালে যেতে হবে।
ফিরোজের হঠাৎ চোখ গেল দোতলার ব্যালকনিতে। সেখানে চোঙ্গা আকৃতির কিছু যন্ত্র ফিট করা। চোঙ্গা গুলো পাইপ দিয়ে জুড়ে দেয়া। পাইপ আবার উঠে গেছে ছাদে। ব্যালকনির দুই পাশ দিয়ে। ছাদে তারজালির মত কিছু দেখা যায়। ফিরোজ ইন্টারমেডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে উঠেছে। সাইন্সে। সে অত্যন্ত ভালো ছাত্র। রসায়ন তার প্রিয় সাবজেক্ট। কিন্তু আজমল চাচার এই অদ্ভুত যন্ত্রের আগামাথা সে কিছুই বুঝছে না। বুঝবে কীভাবে? আজমল চাচা তো জিন গবেষক। ফিরোজ তাকিয়ে আছে ছাদের বিশাল তারজালির দিকে। হঠাৎ হা হা হা হাসিতে সে চমকে উঠল । না, ছাদ থেকে কোনো জিন হাসছে না! আজমল চাচা বের হয়েছেন ঘর থেকে। পরিপাটি পোশাকে তার হাসিমুখ দেখা যাচ্ছে। তিনি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। ফিরোজ তাকে ধরতে এগিয়ে গেল।
“চাচা, ছাদে আর ব্যালকনীতে এসব কি?”
“জিন আর ভুতের বিশেষ মিশ্রন তৈরীর প্রক্রিয়া।“
“কি যে বলেন, চাচা! আপনার কোনো কথাই আর বিশ্বাস হয় না। আজগুবি চিন্তায় আপনার মাথা ভরে আছে।“
“আরে না সত্যিই।“
“চাচা শুনুন, ডাক্তারকে গিয়ে আবার জিন ভুত নিয়ে কিছু বলবেন না। যা জিজ্ঞেস করে সোজাসুজি উত্তর দিবেন।‘
“আচ্ছা, ঠিক আছে।“হাসপাতাল থেকে ফিরতে অনেক দেরি হলো। কয়েকটা টেস্ট করাতে হলো সিরিয়াল দিয়ে। আজমল চাচাকে আপাতত বাড়িতে রেখে ফিরোজ বাসায় ফিরছে। হঠাৎ সে থমকে দাঁড়ালো। তার মনে হলো, আজ তার কপালে শনি আছে। যুহরের নামাজের আগে সে বাসা থেকে বের হয়েছিল।এখন বিকাল গড়িয়ে গেছে। বাসায় কল করে জানাতে সে বেমালুম ভুলে গেছে। বাবার রাগী চেহারা ভাবতেই ফিরোজের মনে ভয় জেঁকে ধরছে। সে বাসার সিঁড়ি দিয়ে উঠছে মাথায় হাত দিয়ে । চারতলায় তাদের বাসা। ফিরোজের চেহারায় আতঙ্ক।
ফিরোজের আতঙ্ক মিথ্যা হলো না। তার উপর বিশেষ আইন জারি করলেন তার বাবা। কড়াকড়ি বেড়ে গেল। তার বাবার কথা হলো, ছেলেকে মেডিকেল চান্স পেতেই হবে। সেজন্য তাকে চান্স না পাওয়া পর্যন্ত ইতিকাফে বসার মতো পড়তে হবে। নো ফাঁকিবাজি। ফিরোজ ঘরে বসে পড়ালেখা করে। আর তার বাবা দরজার বাইরে পায়চারি করেন। কিন্তু ফিরোজ পড়েছে একটা যন্ত্রনায়। যতবার সে রসায়ন বই খুলছে, তার চোখে ভাসছে আজমল চাচার আশ্চর্য্য যন্ত্রের দৃশ্য। জিন আর ভুতের কি এক মিশ্রণের কথাও মনে পড়ছে। সে চেষ্টা করেও ভালোমত মন বসাতে পারছে না পড়ায়।
বাবার কড়া শাসনে ফিরোজ কিছুদিন আজমল চাচার খোঁজও নিতে পারল না। ফিরোজের মা একবার আজমল চাচার বিষয়ে কথা উঠালো। তাতেই ফিরোজের বাবা যে দৃষ্টি নিয়ে তার মায়ের দিকে তাকালেন– তাকে অগ্নিদৃষ্টি বললে কম বলা হবে। বরং মিসাইল দৃষ্টি বলা যায়। ফিরোজও সবকিছু মিলে খুবই শান্ত। খাওয়া, নামাজ, আর পড়া। কিন্তু পরদিন ফজর নামাজের পরপর একটা ঘটনা ঘটল।
মসজিদ থেকে বের হতেই একটা আর্তনাদের মত শোনা গেল। আর্তনাদ কীসের বুঝা যাচ্ছে না। মুসল্লিরা সবাই উৎকর্ণ হয়ে আছেন। একটু সামনে এগোতেই পরিস্কার শোনা গেল, ‘চোর চোর চোর, ছাদের উপরে চোর।‘ এই ভোর বেলা চোর? ফিরোজ দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেল আওয়াজের দিকে। চার তলা বাসাটার নিচে ততক্ষণে লোক জমে গেছে। কয়েকজন মিলে ছাদ থেকে একজন লোককে পাঁজাকোলা করে নামাচ্ছে। ফিরোজ এগিয়ে গিয়ে দেখল, লোকটা আর কেউ না, আজমল চাচা। আরো কয়েকজন লোক চিনতে পেরেছে তাকে। আজমল চাচার সেন্স নেই। তার চেহারায় পানি ঢেলেও সেন্স ফেরানো যাচ্ছে না। লোকেরা ধরে হাসপাতালের দিকে নিয়ে গেল। ফিরোজ এবার আর হাসপাতালের দিকে গেলো না। দ্রুত বাসার দিকে চলে গেল চাচার জন্য দুআ করতে করতে। ফিরোজের মনে প্রশ্ন, চাচা এই বাসার ছাদে কেন এলেন? কিন্তু আসল ঘটনা কী হয়েছে তা জানার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নাই।
সময়ঃ পাঁচ দিন পর। শনিবার। যুহরের নামাজের পর। স্থানঃ মসজিদ। চরিত্রঃ আজমল চাচা ওরফে বিশিষ্ট জিন গবেষক ও ফিরোজ।
ফিরোজ শ্রোতা। আজমল চাচা বলে যাচ্ছেন।
‘ছাদের উপর আমি বহুদিন খেয়াল করছি । কালো কালো ছায়া নামে আবার চলে যায়। বিশ্বাস করবা না। বৃষ্টির রাতে বেশি করে আসে। ছায়া নামে আবার উড়ে চলে যায়। বিশ্বাস করবা না। আমি গত ৭ বছর ধরে খেয়াল করছি ছাদের উপর। একদিন ভিডিও করার জন্য ক্যামেরা বসালাম। কিন্তু সমস্যা হলো অন্ধকারে তো ভিডিও হবে না। আলো জ্বালালে তো আবার চলে না। নাহলে রেকর্ড করে রাখতাম। খেয়াল করছি, পশ্চিম দিকে মুখ করে দাঁড়ালে হাতের বাম দিকে কোণে কিছু ছায়া নামে খুবই অস্থির প্রকৃতির। আবার হাতের ডান দিকের কোণে কিছু ছায়া নামে তারা খুব শান্ত ধরণের। কোনোদিন ব্যতিক্রম হয় নি। অস্থির প্রকৃতির ছায়াগুলো কোনোদিন ডান দিকের কোণে নামে নি। আমি অপেক্ষায় থাকি বৃষ্টির। এক রাতে ঘটনা ঘটে গেল। প্রচন্ড বৃষ্টি। আমি ছাদের দিকে খেয়াল করলাম। দুই কোণেই কালো ছায়া নেমেছে। ছায়াগুলোর গা বেয়ে বৃষ্টির পানি পরে। সেই পানি তারজালি বেয়ে বেয়ে আমার ব্যালকনির জারে জমা হয়। ১ মিনিটেরও কম সময় হবে। ভালোই পানি সংগ্রহ হলো। হঠাৎ ছায়াগুলো উধাও হয়ে গেল। ডান দিকের ছায়ার গা বেয়ে পড়া পানি এক জারে । বামদিকের গুলো এক জারে। আমি মনের আনন্দে সেগুলো নিয়ে ঘরে যাচ্ছি। হঠাৎ ভেজা মেঝেতে পিছলে গিয়ে সর্বনাশ হয়ে গেল। দুই জারের পানি এক জায়গায় হয়ে গেল। অদ্ভুত গন্ধে বাড়ি গেল ভরে! তোমার চাচি ঘুম ভেঙ্গে ভয়ে পেয়ে এসে বলল, গন্ধ কীসের? আমি বলি, কিছু না ঘুমাও। বলে আমার গবেষণাগারে ঢুকে গেলাম। সেই মিশ্র পানি নিয়েই বহুদিন গবেষণা করছি। আমার গবেষণাগারে যে অদ্ভুত গন্ধ পাও। এই হলো গন্ধের রহস্য। সপ্তাহ খানেক আগে ঠিক একই রকম তীক্ষ্ণ গন্ধ পেলাম ছাদের উপরে। বৃষ্টি হচ্ছিল রাতে। আমার প্রবল ধারণা হলো, তাহলে ডান আর বাম দিকের ছায়াগুলো কি একসাথ হয়েছে? ছাঁদে উঁকি দিলাম! বললে বিশ্বাস করবা না। ৭ বছর পর দেখলাম দুই দিকের ছায়া এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। আমি তো আগেই বুঝেছি গন্ধ পেয়ে! আমি আনন্দে নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। পা টিপে টিপে গিয়ে ছাদের দরজা খুলে ফেললাম। কাছ থেকে দেখার জন্য। বিশ্বাস করো কোনো শব্দ করি নি। কিন্তু ছায়াগুলো হঠাৎ আমার দিকে ফিরে তাকালো। একসাথে। ভয়ে আমার কলিজা শুকিয়ে কাঠ। হঠাৎ দেখি ছায়াগুলো ঘূর্ণির মত উড়া শুরু করেছে। ৫ টা ছায়া। ১ টা ছায়ার ঘূর্ণি এসে আমাকে সহ উড়াল দিল। এরপর আর কিছু মনে নাই আমার। পরে দেখি সালাহুদ্দীন হাসপাতালে শুয়ে আছি আমি। তোমার চাচি পাশে বসে বসে কাঁদছে।“
ফিরোজঃ চাচা, আপনি এমনভাবে সবকিছু বলেন যে বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে। কিন্তু আপনার এই আজগুবি ঘটনা কে বিশ্বাস করবে? আপনি আপনার যন্ত্র দিয়ে জিন আর ভুতের মিশ্রণ তৈরি করেছেন? এর চেয়ে হাস্যকর কথাবার্তা পৃথিবীতে আছে?
আজমল চাচাঃ তুমি আমার কথা বিশ্বাস করছ না?
ফিরোজঃ (ফিরোজের চেহারায় মৃদু রাগের আভা, সে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। কি যেন ভাবল। এরপর বলল,) চাচা আপনি বলছিলেন আপনার সন্তান সন্ততি নাই কিন্তু আপনার মনে এজন্য কোনো দুঃখও নাই। কিন্তু আজ বুঝলাম সন্তান না থাকার দুঃখেই আপনি যত হাবিজাবি কাজকর্ম করে সময় কাটান। ছাদের পানি নিয়ে গবেষণা করেন। হতাশ মানুষের পুরো লক্ষণ আপনার মাঝে। কি অস্বীকার করবেন?
আজমল চাচাঃ (আমতা আমতা করছেন)
ফিরোজঃ এগুলো ছেড়ে দেন। বলেন ছাড়বেন?
আজমল চাচাঃ ছেড়ে দিব? এতবছর ধরে গবেষণা এগদূর আগালো।
ফিরোজঃ চাচা শুনেন, প্রিয় জিনিস কুরবানী বা ত্যাগ করে সেই উসিলায় আল্লাহর কাছে দুআ করলে আল্লাহ দুআ কবুল করেন। জানেন এটা?
আজমল চাচাঃ কীভাবে?
ফিরোজঃ বাদশাহ বাবর তার নিজের জীবনের বিনিময় দিয়ে সন্তান হুমায়ুনের জীবন ভিক্ষা চেয়েছিলেন আল্লাহর কাছে। ইতিহাস তো জানেনই। হুমায়ুন এরপরে মৃত্যু রোগ থেকে বেঁচে ফেরে। আপনি আপনার এই এক যুগের হাবিজাবি গবেষণা ছাড়েন। চাচিকেও একটু মানসিক শান্তি দেন। তিনি আপনার এইসব কাজকর্মে ত্যাক্ত। বাড়ির মধ্যে ভুতের কারখানা বানিয়ে রাখছেন। সব পানিতে ফেলে দেন। আল্লাহকে ডাকেন বেশি করে। তিনি সন্তান দেওয়ার মালিক।
আজমল চাচাঃ (নিশ্চুপ)
ফিরোজঃ যান চাচা, বাসা গিয়ে বিশ্রাম করেন।আরও সপ্তাহখানেক পর। আজমল চাচা ফিরোজকে ডেকে নিয়েছেন বাসায়। তিনি জিন গবেষণাগার সাফ করতে পিকাপ গাড়ি ডেকে লোড করে ফেলেছেন। ঘর পরিস্কার। তবে তিনি নাকি জিন ও ভুতের মিশ্রনের পানিটা ফিরোজের কাছে গচ্ছিত রাখতে চান। ফিরোজ এ কথা শুনে অতি বিরক্ত হয়েছে। সেই এই জিনিস নিতে মোটেও রাজি না। কিন্তু এই বিপদজনক পানি কি করা যায় তা নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর হচ্ছে না আজমল চাচার। তার ভ্রু কুঞ্চিত। হাতে ধরে রেখেছেন বিশেষ জার। এমন সময় চাচি এসে একটা কান্ড ঘটালেন। জারটা চাচার হাত থেকে নিয়ে সোজা রাস্তায় ছুড়ে মারলেন তিনি! চাচা আ আ করে দৌঁড়ে গেলেন। কিন্তু জার ফেটে পানি গরাচ্ছে ততক্ষণে। রাস্তা ভিজে গেছে। অদ্ভুত গন্ধে ভরে যেতে শুরু করেছে চারপাশ।
3 Comments
Friends
মো: নাজমুল আখতার
@faith
Ashik Mokami
@ashikmokami
Poly Alam
@butterflywords
অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
@arghyadeep2000
মো: শাহ জালাল
@jalalcm03gmail-com
Tahin Bhuiyan Chayapothik
@tahinbhuiyanchayapothik
Drako Shajib
@drako
নীরব মোস্তফা
@nirobota33gmail-com
খান মোঃ এমদাদুল হক নিসু
@khannisu


সায়েন্স ফিকশন এবং গ্রাম্য রহস্যের এক দারুণ সংমিশ্রণ।