<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | JOY BANIK | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/joybanik/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/joybanik/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for JOY BANIK.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 22 Jun 2026 19:17:54 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">3f7a145f99c76bf0db9837ac13804401</guid>
				<title>JOY BANIK changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/6111/</link>
				<pubDate>Wed, 07 Apr 2021 08:21:41 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">796df12de5a492109f8ff7771c2c6959</guid>
				<title>My glorious brothers :নিপীড়ক জায়নবাদী নয় ,নিপীড়িত ইহুদীর ইতিহাস
মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রসারণবাদী- জায়নিজ ইস্রায়েল রাষ্ট্রের ভূমিকার ফলশ্রুতি – ইহুদী আর দখলদার সমার্থক মনে হয়, অন্তত আমাদের এই অঞ্চলের বেশিরভাগ  মানুষের কাছেতো অবশ্যই। প্রায় প্রতিদিনই ইস্রায়েল ফিলিস্তিনের নতুন জায়গা দখল করছে, আবালবৃদ্ধবনিতা হয় কাঁদুনে গ্যাস নতুবা বুলেটের ঘায়ে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। জায়নবাদ প্রতিষ্ঠায় নিষ্ঠাবান ইসরাইল রাষ্ট্র আর তার সরকার রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে চলেছে। এই ভূমিকা স্বভাবতই ইহুদীদের প্রতি নেতিবাচক ধারণাই বদ্ধমূল করছে। জায়নবাদী নিপীড়ক ইহুদী (!) এই রাষ্ট্র একদা নিপীড়িত, রাষ্ট্রহীন ইহুদীদের বিপরীতেই অবস্থান করছে। যারা একসময় মিশরে দাস ছিল, পরবর্তীতে একটি স্থায়ী ঠিকানার জন্য বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেরিয়েছে, রোমান- গ্রীসের হাতে বিতাড়িত -নিহত- লাঞ্ছিত হয়েছে তাদের ধর্মের নামধারীরাই আজ নিপীড়ক, উদ্ধত সঙিন হাতে বিতাড়িত আর রাষ্ট্রহীন করে চলেছে ফিলিস্তিনীদের। ইতিহাসের উপহাস।(!) 
হাওয়ার্ড ফাস্টের “My glorious brothers”  আজকের জায়নবাদীদের নয়, যুডাইজম ধারণকারী যুগযুগ ধরে লাঞ্ছিত ইহুদীদের প্রতিরোধ- বীরত্ব-ত্যাগের আখ্যান। ইহুদী জাতির সুদীর্ঘ ইতিহাসের একটি পর্বের আধারে রচিত। এর উৎস বাইবেলে বর্ণিত কাহিনী। ফলে নতুন কোন ঘটনার সমাবেশ নয় এই উপন্যাস,  নতুনত্ব উপস্থাপনে, লেখার পিছনে ক্রিয়াশীল  চিন্তাতে। চিন্তাটি সপর্কে পরিচিত করে দেয় মূল বইয়ে ভূমিকার কয়েকটি লাইন, যেখানে লেখক লিখছেন “……  আমি সেই কাহিনীই নতুন করে বলবার চেষ্টা করেছি, কারণ আমার বিশ্বাস, আজকের এই অশান্তি ও তিক্ততাময় যুগে মানবজাতির সুপ্রাচীন মতাদর্শতার কথা স্মরণ করার আবশ্যক ও উপযোগিতা আছে। এই কাহিনী বলার ফলে যেটুকুই উপকার হোক না কেন, তার জন্য আমি বইয়ে উল্লেখিত প্রাচীন বিস্ময়কর জাতির কাছে ঋণী। কারণ নিজেদের ধর্ম,জীবনধারা আর দেশপ্রেমের মধ্যদিয়ে তাঁরা এই অপূর্ব নীতিকথার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যে, অত্যাচার প্রতিরোধ করা পরম ভগবৎ নিষ্ঠার সামিল।“।(অনুবাদ- প্রফুল্ল চক্রবর্তী)।  ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ে মানুষের মহৎকর্ম আগামীর ইতিহাস রচনায় সহায়ক, একটি বীরকর্মের উদাহরণ  আরেকটি বীরকর্মের অনুঘটক , ত্যাগের দৃষ্টান্ত আরো বৃহৎ ত্যাগের অনুপ্রেরণাদায়ী। লেখকেরএই উপন্যাস ইতিহাসের আলোকে   অত্যাচারিত মানুষদের পথ দেখানোর প্রচেষ্টা। 
উপন্যাসের সময়কাল খৃস্টপূর্ব দেড়শ শতক। মিশর থেকে প্রত্যাগত মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদীরা এই উপন্যাসের প্রধান পাত্র-পাত্রী। উপন্যাসের প্রায় সমগ্র অংশ্যই উত্তম পুরুষে রচিত। সাইমন এখানের বক্তা। তাঁর ভাষ্যেই আমরা জানতে পারি তাঁর ভাই জুদাসের নেতৃত্বে একদল কৃষক যারা ইহুদী ধর্ম অনুসারী, গ্রীসের শাসকদের বিরুদ্ধে লড়েছিল অসম সাহসের সাথে। জুদাস পথপ্রদর্শক, নেতা, একজন ম্যাক্কাবি। এই ম্যাক্কাবি কোন রাজা বা তার সমগোত্রীয় কিছু নয় কারণ ইহুদী সমাজ রাজাদের সমস্ত দুর্দশার মূল বলে মনে করে তাই ইহুদী সমাজ রাজা পদটিকে অস্বীকার করে (  যুগের নিরিখে এই চিন্তা বিস্ময়কর)।   ম্যাক্কাবি হল জনগণের ভিতর হতে জনগন নির্বাচিত ব্যক্তি। তিনি জনগণের শাসক নন, জনগণেরই অংশ। প্রয়োজনই ম্যাক্কাবি সৃষ্টি করে। কি ছিল সেই প্রয়োজন?  প্রতিরোধের আগেও জুদিয়ার  ( উপন্যাসের ঘটনা প্রবাহে স্থান, যা গ্রীস দ্বারা দখলকৃত) ইহুদীরা গ্রীসের শাসকদের প্রতনিধি এবং ভাড়াটে দ্বারা নিগৃহীত হত। তখন পর্যন্ত একমাত্র একেশ্বরবাদী ধর্মের অনুসারী হওয়ায়,  গ্রীসের পৌত্তলিক শাসক এবং তাদের বংশবদ দ্বারা অত্যাচার হওয়া ছিল নিয়মিত ঘটনা।  সাধ্যের অতীত কর ধার্য্য করে এই অঞ্চলের ইহুদীদের জীবন ক্রমাগত কঠিন করে তুলছিল। তবুও ইহুদীদের মধ্যে থেকে কোন প্রতিবাদ উঠেনি। তাঁরা নিজেদের পেশা এবং ধর্মীয় বোধ নিয়ে জীবন যাপন করছিলো।  কতগুলো নীতি আবশ্যিক পালনীয় ছিল- যেমন প্রতি সপ্তম দিনে তারা পবিত্র দিন হিসেবে পালন, একাধয়ারে কোন জমি ছয় বছর চাষ করার পর সপ্তম বছর অনাবাদী রাখা,  সাত বছর দাসকে মুক্ত করা ইত্যাদি। তাদের এই ধর্মীয় বশ্বাস তারা নিষ্ঠার পালন করে যাচ্ছিল নিষ্ঠার সাথে। যেকোন  যুদ্ধের তারা বিরোধী তাদের কোন সৈন্যবাহিনী ছিল না ( আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ইসরাইলি সৈন্যের কথা ভাবুন একবার), তাদের রাজ্যে কোন সীমানা প্রাচীর ছিল না.(  ভাবুন  ইসরাইলি কাটাতারের সীমানার কথা)। এই মৌলিক।বিশ্বাস আর। আচরণ নিয়ে তারা নিজেদের স্বকীয় করে তুলেছিল সমকালীন অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী থেকে।  এই স্বকীয়তাকে হেলেনীয় করাকে দখলদার গ্রীসের সম্রাট এবং তার প্রতিনিধিরা পবিত্র কর্তব্য বলে মনে করেছিল।  তাদের চিন্তায় এ ছিল অসভ্য ইহুদী জাতিকে সভ্য করা( যেমনটি সকল সাম্রাজ্যবাদীই মনে করে)। এই হেলেনীয়করণের বিরুদ্ধে ইহুদীদের নীরব প্রতিরোধ ছিল যা গ্রীস সম্রাটের পছন্দ হয়নি। ফলে তারা ইহুদীদের ধর্মীয় স্থান সিনাগগকে,  অপবিত্র করে তাদের ধর্মীয় বই পুড়িয়ে দেয়। এতদিনের নীরব প্রতিরোধ এই ঘটনার প্রকাশ্য রূপ নেয়। যে ইহুদিরা এতদিন ছিল যুদ্ধবিরোধী তারা এইবার অস্ত্র তুলে নেয় শক্তিশালী গ্রীস সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে। নেতা হিসেবে সামনে আসে জুদাস, জনগণের নির্বাচিত ম্যাক্কাবি। এই প্রতিরোধ চলে ত্রিশ বছর, জুদাস শহীদ হয়। কিন্তু আত্মদান বৃথা যায় না। ইহুদীদের সাথে সন্ধি করতে বাধ্য হয় শক্তিশালী গ্রীস, ইহুদীরা ফিরে পায় স্বকীয়তার অধিকার।
প্রতিরোধের এই ইতিহাস আজো প্রাসঙ্গিক। দখলদার কর্তৃক মানবতার অপমান চলছেই। তাই প্রতিরোধের বিকল্প নেই।আবার এটিও মনে রাখতে হবে জুডাইজম এবং জায়নবাদ এক না হলেও জুডাইজমকে যখন রাজনৈতিক এবং রাষ্ট্রীয় রূপ দেয়া হয় তখনই আসে জায়নবাদ। একসময় যে জুডাইজম ছল দখলদারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রেরণা, রাজনৈতিক রূপ নিয়ে সেটাই হয় জায়নবাদ, দখলদারের হাতিয়ার।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/6110/</link>
				<pubDate>Wed, 07 Apr 2021 08:11:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>My glorious brothers :নিপীড়ক জায়নবাদী নয় ,নিপীড়িত ইহুদীর ইতিহাস<br />
মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রসারণবাদী- জায়নিজ ইস্রায়েল রাষ্ট্রের ভূমিকার ফলশ্রুতি – ইহুদী আর দখলদার সমার্থক মনে হয়, অন্তত আমাদের এই অঞ্চলের বেশিরভাগ  মানুষের কাছেতো অবশ্যই। প্রায় প্রতিদিনই ইস্রায়েল ফিলিস্তিনের নতুন জায়গা দখল করছে, আবালবৃদ্ধবনিতা হয় কাঁদুনে গ্যাস নতুবা বুলেটের ঘায়ে ক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-6110"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/6110/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cfac69149a70a81be0a7b536fd1c84f7</guid>
				<title>জর্জ ফ্লয়েড অথবা “  Freedom Road”:  মুক্তি কত দূর?
গণতন্ত্রের স্বঘোষিত রক্ষাকর্তা মার্কিনমুলুকে নিগ্রো হত্যা করা খুবই সাধারণ ঘটনা। নিগ্রোদের বঞ্চনার ইতিহাস সেদেশে বহু পুরানো।  লিঞ্চ সেখানে নৈমিত্তিক ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ঘটনা। এই হত্যার পর পুরো মার্কিন মুলুকে ছড়িয়ে পড়েছিল প্রতিবাদের ঝড়। যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ বঞ্চনার ইতিহাসের সাথে এর প্রতিবাদের ইতিহাসও পুরানো। কৃষ্ণাঙ্গদের মুক্তির জন্য সংগ্রামের অতীত ইতিহাসকে হাওয়ার্ড ফাস্ট “ Freedom Road“ উপন্যাসে দরদী বয়ানে তুলে ধরেছেন।
এই উপন্যাসের ব্যপ্তি ১৮৬৭ হতে পরবর্তী কয়েকবছর । সময়টি আমেরিকার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। লিঙ্কন ক্ষমতায় আসার পর ১৮৬০ সালে দাসপ্রত্থা বিলোপের আইন পাশ করেন। আমেরিকার উত্তরের শিল্পে অগ্রসরমান অঞ্চলের মানুষ এবং মানবতাবাদীরা এই আইনকে সমর্থন জানালেও দক্ষিণের শিল্পে অনগ্রসর অঞ্চল যার অর্থনৈতিক মূলভিত্তিই ছিল দাসবৃত্তি, সে অঞ্চলের দাস মালিকরা এটির বিরোধীতা করে। তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা হয়ে কনফেডারেশন  গঠন করে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে সরকার দক্ষিণের অঞ্চলে সৈন্য পাঠালে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ দাসেরা এই যুদ্ধে কেন্দ্রীয় ফেডারেল  বাহিনীতে যোগ দেয় দাসত্ব হতে মুক্তির আশায়। এই যুদ্ধের ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চল ছিল দক্ষিণ ক্যারোলিনা । উপন্যাসের স্থানও দক্ষিণ ক্যারোলিনার একটি অঞ্চল কারওয়েল।  অবশেষে কনফেডারেশন বাহিনীর পরাজয়ের মধ্যদিয়ে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। কৃষ্ণাঙ্গ  দাস এবং মানবতাবাদীরা স্বপ্ন দেখতে থাকেন দাসপ্রথা- বর্ণপ্রথা মুক্ত সমমর্যাদা দানকারী এক নতুন মানবিক আমেরিকার। কিন্তু সে স্বপ্ন কি আদৌ বাস্তবায়িত হয়েছিল?
উপন্যাসের শুরু হয় দক্ষিণ ক্যারোলিনা অঞ্চলের কারওয়েল নামক আপাত শান্ত এক জনপদে। এই দক্ষিন ক্যারোলিনা গৃহযুদ্ধের সময় ছিল ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গিডিওন কারওয়েল থেকে জনগণের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হয় রাষ্ট্রীয় গঠনতন্ত্র মূলক অধিবেশনের জন্য। এই অধিবেশনে এমন এক গঠনতন্ত্র রচনা করতে চায়- যেখানে কালো- সাদা নির্বিশেষে সবাই সমান মর্যাদা লাভ করবে, মুক্ত মানুষের মর্যদা। এই প্রত্যাশাও ছিল গৃহযুদ্ধে লড়াই করা দাসপ্রথা বিরোধী মানুষদের। গিডিওন নিজেও এই যুদ্ধের একজন সৈনিক যে যুদ্ধের পূর্বে ছিল একজন দাস। অন্যান্য দাসদের মত তার জীবনও ছিল বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সকল মানবিক অধিকার বঞ্চিত। শিক্ষার স্পর্শ পায়নি ইতিপূর্বে। স্বভাবতই এমন গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে যোগ দেয়ার পূর্বে সে ভীত ছিল, তবুও প্রতিদিন নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে থাকে, নিজ প্রচেষ্টায় হয়ে উঠে স্বশিক্ষিত, একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।  
উপন্যাসের আরেকটি চরিত্র স্টিফেন হমস। পুরো উপন্যাসে এই চরিত্রের উপস্থিতি খুব বেশী নয়, কিন্তু তাৎপর্যবাহী। হফস সাবেক দাস মালিক, গৃহযুদ্ধ তার সাবেকী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে, কমিয়ে দিয়েছে তার প্রতিপত্তি অনেকাংশে। অর্থাৎ গৃহযুদ্ধে আপাতভাবে হেরে যাওয়া দাসমালিকদের স্বার্থরক্ষাকারী অংশের প্রতিনিধি সে। যেমনটি ইতিহাসে আমরা সবসময় দেখি, একটি মহৎ সংগ্রামে জয় লাভের পরপরই  আপাত পরাজিত প্রতিক্রিয়াশীলরা আবার সচেষ্ট হতে থাকে তাদের পুরানো অভিসন্ধি বাস্তবায়ন করতে, এখানেও হফস তার অভিসন্ধি নিয়ে পরকল্পিত ভাবে এগুতে থাকে।  সেও গঠনতন্ত্র মূলক অধিবেশনে যোগ দেয়, বলাবাহুল্য কোন মহতী উদ্দেশ্য নিয়ে এই যোগদান নয়, এটি ছিল পরিকল্পনারই একটি অংশ।  হফসের পরিকল্পনার কথা আমরা শুনতে পাবো তারই জবানে এক সান্ধ্যকালিন ভোজনে।  বাহ্যিকভাবে ভদ্রস্থ মুখোশের নীচে চরম বর্ণবিদ্বেষী এক চরিত্র হফস। এরাই আমেরিকান রাষ্ট্রের কর্ণধার পরবর্তীকালে।
উপন্যাস যত এগুতে থাকে আমরা দেখি গিডিওনকে আরো পরিণত হতে, জনগণের নেতা হয়ে উঠতে। সমান্তরালে হফসরা সংঘবদ্ধ হতে থাকে, কু- ক্ল্যান গঠন করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে থাকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিয়ে। যে রিপাবলিকান দল একসময় ছিল দাসপ্রথা বিরোধী, যার পিছনে দাঁড়িয়েছিল প্রগতিশীল মানুষ- নিপীড়িত দাসেরা,  সে রিপাবলিকান দল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য প্রতিক্রিয়াশীল সাবেক দাসমালিকদের সাথে হাত মেলায়। মুক্তির স্বপ্ন ক্রমশ ফিকে হয়ে আসে। অবাধে চলতে থাকে লিঞ্চিং, ক্লু- ক্ল্যানের তাণ্ডব। উপন্যাসের পরিণতিতে আমরা দেখি গিডিয়ন এবং তাঁর সহযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মদদে ক্লু- ক্ল্যানদের আক্রমণে মারা যেতে।  এই মৃত্যু দৃশ্য হতে পারতো একটি করুণ পরিণতির আখ্যান। হতে পারতো একটি মহৎ স্বপ্ন অথবা সংগ্রামের পরাজয়ের গ্লানিময় উপস্থাপন।  কিন্তু লেখক সে পথে হাটেন নি।  লেখক এই সংগ্রামের অন্তর্নিহিত সুরটি ধরতে চেয়েছেন। সাধারণেত চোখে যা অদৃশ্য, শিল্পী তাকেই দৃশ্যমান করে তুলেন। মৃত্যুও মহৎ হয়, পরাজয়ও হতে পাতে বীরত্বের আরেক রূপ যদি তার মূলে থাকে মানবিকবোধের উদ্দীপনা। “ Freedom Road” আমাদের সে বোধটিই জাগিয়ে দেয়। একই সাথে এটিও মনে করিয়ে দেয় পরিপূর্ণ মুক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত সুদূর পরাহত যতক্ষণ পর্যন্ত এর পরিপূরক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা সৃষ্টি না হয়। একটি আন্দোলন অনেকদূর এগুনোর পরও থমকে যেতে  পারে  যখন সামনে দাঁড়ায় প্রতিক্রিয়াশীল – জনবিরোধী রাষ্ট্রীয় কাঠামো। এই ধরণের রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তন ব্যতিরেকে কোন মহৎ স্বপ্নই বাস্তবায়ন হবে না, প্রকৃত মুক্তি আসবে না। বব ডিলানের একটি বিখ্যাত গান “Blowin’ in the wind” একটি প্রশ্ন ছিল- 
                            “Yes, &#039;n&#039;   many years can some people exist
                              Before they&#039;re allowed to be free?” 
এই প্রশ্নের উত্তর উপন্যাসটির মধ্যেই লুকায়িত। গিডিয়নের আপাত পরাজয়ই, মুক্তির পথটি দেখিয়ে দেয়। জনবিরোধী রাষ্ট্র কখনোই মুক্তি এনে দিতে পারে না। তার উদাহরণ অসংখ্য,আমেরিকার সাম্প্রতিক ঘটনাই এর প্রমাণ। গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা আমেরিকান সরকারই একদিন পিকস্কিলে পল রবসনকে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্র আর জনগণ দুটো ভিন্ন। রাষ্ট্র চেয়েছে হত্যা করতে, আর জনগণ পল রবসনকে রক্ষা করেছে সম্মিলিত ভাবে। লেখকের আরেকটি বই “ Peekskill, USA”   বইয়ে এই ঘটনার বর্ণনা আছে যেখানে লেখকও ছিলেন  প্রতিরোধকারীদের মাঝে। জনগণের সম্মিলিত শক্তি যা শুভবোধে উদ্দীপ্ত – তার স্বাক্ষর আমরা নিগ্রো হত্যা পরবর্তী সাদা- কালো নির্বিশেষে সবমানুষের মিলিত প্রতিবাদে। 
যারা হাওয়ার্ড ফাস্টের “ Spartacus” বইটি পড়েছেন তারা “ Freedom Road”   এর গিডিয়নের মাঝে স্পার্টাকাসকেই দেখতে পাবেন।  স্পার্টাকাসের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় যেন গিডিয়নের আগমন। স্পার্টাকাসের বিদ্রোহের মতই গিডিয়নের প্রতিরোধ সম্মিলিত, কালো মানুষের সাথে নিপিড়িত সাদা মানুষ কাধে কাধ মিলিয়ে রয়েছে, সৃষ্টি করেছে ইতিহাস। স্পার্টাকাসের মত গিডিয়নের মৃত্যুও লড়াই করতে করতে। মানুষের সৌন্দর্য্য যেন সমস্তটাই আত্মস্থ করে  গিডিয়ন আর স্পার্টাকাসের সাথীরা এগিয়ে গেছে সামনের দিকে। 

জয় বনিক
৯৮৪,পূর্ব নাসিরাবাদ,  লিচুবাগান,
চট্রগ্রাম – ৪০০০।
ফোন - ০১৬৮১৬৯১১৪৮</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/5922/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Apr 2021 18:18:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জর্জ ফ্লয়েড অথবা “  Freedom Road”:  মুক্তি কত দূর?<br />
গণতন্ত্রের স্বঘোষিত রক্ষাকর্তা মার্কিনমুলুকে নিগ্রো হত্যা করা খুবই সাধারণ ঘটনা। নিগ্রোদের বঞ্চনার ইতিহাস সেদেশে বহু পুরানো।  লিঞ্চ সেখানে নৈমিত্তিক ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ঘটনা। এই হত্যার পর পুরো মার্কিন মুলুকে ছড়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-5922"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/5922/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0d6eda0bdc6b37f8c5fa81e915aaf8c2</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/5919/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Apr 2021 17:53:51 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>