<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | কপিল ঘোষ | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/kapil/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/kapil/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for কপিল ঘোষ.</description>
	<lastBuildDate>Fri, 12 Jun 2026 12:10:50 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">d5e08529fba1f6f7e759d9519c7b3f4f</guid>
				<title>বোহেমিয়ান যুদ্ধ জীবন 
(কিশোর উপযোগী ব্যতিক্রম ভ্রমণ ও মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস )

সারসংক্ষেপ :
     অসহযোগ আন্দোলনে দেশ তখন উত্তাল। বিংশ শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক। গ্রামের যে কিশোর ছেলেটি একা জেলা শহরেও যায়নি,  সে এমন আন্দোলনের এক দিনে পৌঁছে যায় রাজধানী শহর ঢাকায়- একা। তখন সে দশম শ্রেণিতে পড়ে। নগরজীবন সম্পর্কে কিছুই জানেনা গ্রামের ছেলেটি। কোথায় নেবে ঠাঁই, কী হবে ভবিষ্যৎ? সবই অজানা। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে সূর্যালো আসে। প্রথম আশ্রয় খুঁজে পায় শাহবাগ ফুলের দোকান। পরে ইংলিশ রোডের জুতার বাক্স তৈরীর কারখানায়। তারপর নীলক্ষেত। নানা স্তরে ঘোরে বোহেমিয়ান জীবন। 

      নীলক্ষেত বইয়ের দোকানগুলোয় সে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ঘ্রাণ পায়। এর আগে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের নাম শুনেছে- শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, বিশিষ্ট অভিনেতা হাসান ইমামসহ ছাত্র ইউনিয়ন নেতাদের বক্তৃতায়। বাংলার প্রধান আন্দোলনের উৎসস্থল বা অন্যতম স্থান ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়। মহান বাংলা ভাষার জন্যে আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার সরকার পতন আন্দোলন হয়ে চলমান অসহযোগ আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়। সেই বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে নীলক্ষেত। 

      গ্রামের স্বাধীনচেতা কিশোর ছেলেটি নিজেকে গর্বিত মনে করে- কারণ সে ঐতিহাসিক নীলক্ষেতে অবস্থান ও বিচরণ করছে। তার আগে তার গ্রামের আর কেউ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান করেনি। ততদিনে সে জেনেছে, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এলাকার একজন চায়ের দোকানদার, জুতা পলিশওয়ালা বা নরসুন্দর গ্রামের একজন শিক্ষিত লোকের চেয়েও অনেক বেশি জ্ঞানী। অনেক বেশি আধুনিক মানুষ। বিশ^বিদ্যালয় এলাকা ঘুরে দেখতে দেখতে নিজের দশম শ্রেণিতে পড়ার হীনমন্যতা কাটিয়ে ওঠে। 

একাত্তরের যুদ্ধকালের পর্যটকের মতো ছুটির দিনে সে নিজেকে রাজধানীর পর্যটক মনে করে। অসহযোগ আন্দোলনে তখন একাত্তরের মতো টালমাটাল অবস্থা। জ¦ালাও পোড়াও গোলাগুলি মিছিল বিক্ষোভ চলে প্রতিদিন। দেশের কোন এলাকা মৃত্যুর শীর্ষে তা দেখতে পত্রিকায় জন্য অপেক্ষা করতে হয়। মোড়ে মোড়ে রেডিওতে বিবিসি কিংবা ভয়েস অব আমেরিকার সংবাদ শোনার ভিড়। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এলাকায় কার্ফ্যু জারি হয়- একাধিক লোক পথে দেখলেই গুলি করবে শাসক প্রশাসন। এমন পরিবেশে একা পথে হাঁটতে তাঁর আনন্দ!

      ঘুরে ঘুরে দেখে অহযোগ আন্দোলনের রাজপথ, টিএসসি চত্বর, ঢাকা চারুকলা ইনস্টিটিউট, দোয়েল চত্বর, ঢাকা কলেজ, সংসদ ভবন চত্ত্বর সহ নানা জায়গা। নিউ সুপার মার্কেটের চার তলায় সেলাই মেশিনের শব্দযন্ত্রণার মধ্যে সে রাত্রিযাপন করে। পকেটের নোটবুকে নতুন যা দেখে তাই লেখে। লেখার দৃশ্য দেখে পথচারীরা পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যায়। হেঁটে হেঁটে যখন ক্লান্ত হয়। হাঁটা কিংবা কর্মক্লান্ত সময়ে তার রমনা পার্ককে মনে পড়ে। 

ক্লান্তি কাটিয়ে জীবনী শক্তি পেতে সে প্রকৃতির আশ্রয় নেয়। রমনা পার্কে যায়, গাছের শীতল ছায়ায় আশ্রয় নেয়। পার্কের বেঞ্চে শুয়ে শুয়ে দেখে ঘাসের উপর ফড়িং, প্রজাপতি। শোনে অসংখ্য পাখির কলতান। কখনো শাহাবাগ, কখনো নীলক্ষেতের দিক হতে গুলির শব্দ ভেসে আসে। গুলি এসে তার গায়ে লাগতে পারে- কিন্তু সে ভয় নেই তার। পাখিরা আকাশে উড়ে যায়। পাখির মতো পার্কের বেঞ্চে শুয়ে শুয়ে নোটবুকে নানা লেখা লেখে। লিখতে লিখতে সে ঘুমিয়ে পড়ে। নানা স্বপ্ন দেখে।  

      একদিন রমনা পার্কের বেঞ্চে ঘুমিয়ে সে স্বপ্নে দেখে সুন্দরবনের মুক্তিযুদ্ধ। পন্ডিতচন্দ্রের গ্রাম বাঁচাতে বন্দুক হাতে দাড়ায় তার মুসলমান বন্ধুরা। বন্ধু তো বন্ধুই; হিন্দু মুসলমান ধর্ম পার্থক্য দেখিয়ে সম্পর্ক আলাদা করতে চায় কূটকৌশলীরা। কিন্তু পারেনা। একদিন বাজুয়ার সুরেন বাবুর নেতৃত্বে  কয়েক হাজার নৌকা বহরে গ্রামবাসী এসে ভেড়ে পন্ডিতচন্দ্রের গ্রামে। বাজুয়ায় হানাদারদের অত্যাচার বেড়ে যাওয়ায় তারা দেশ ছাড়ছে। বাস্তুভূমি ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে যাওয়া পরিবারগুলোর ওপর পথে পথে হামলা চলে। সুরেন বাবুর সাথে পন্ডিতচন্দ্রের গ্রামবাসীও নৌকাবহর সাজায়। পন্ডিতচন্দ্রের মুসলমান বন্ধুরা বন্দুক হাতে এলাকার সীমানা পাহারা দিয়ে এগিয়ে দেয়। 

      সুন্দরবনের নদীতে সারিবেধে ভেসে চলে হাজার হাজার নৌকা, ভারত অভিমুখে। নৌবহরে দেশান্তরীদের ওপর হামলে পড়ে হানাদারেরা। একদিকে দেশান্তরী হওয়ার শোক, অপরদিকে হানাদারদের হামলা ও ছেলে-মেয়েদের ওপর অত্যাচার সইতে না পেরে অগ্নিমুর্তি ধারণ করেন এক মা। বটির কোপে এক হানাদারের মস্তক ছিন্ন করে ফেলে। ফিন্কি দিয়ে রক্ত ছোটে। তা দেখে বাকী হানাদারেরা পালায়। দেশের সীমানা ছাড়ার আগ মুহুর্তে পাকিস্তানী গানবোর্ড পুনরায় হামলা করে নৌবহরে। কত পরিবার নৌকাসহ সলিল সমাধি হয়েছিল, তার খবর নেই। মানুষের আহাজারিতে অসংখ্য পাখি উড়েছিল আকাশে। মানুষের কান্না, আহাজারিতে প্রাণীকুল অস্থির হয়ে উঠেছিল। 

       এদিকে, রক্তের ছিটেফোঁটা এসে পড়ে বোহেমিয়ানের মুখমন্ডলে, নোটবুকে এবং রমনা পার্কের বেঞ্চের পলেস্তরায়। বোহেমিয়ানের স্বপ্নভঙ্গ হয়। ধড়ফড়িয়ে উঠতে গিয়ে বেঞ্চ হতে গড়িয়ে পড়ে মাটিতে। হামাগুড়ি দিয়ে ওঠার সময় দেখে, সবুজ ঘাসের ওপর পড়ে আছে রক্তাক্ত কয়েকটি পাখির ছিন্নভিন্ন দেহ। কাঠঠোকরা, কোকিল, পাতকুয়া পাখি। লক্ষ্মীপেঁচাও ছিল। একটি হলুদ পাখির আহত দেহ তখনো দুরু দুরু করছে। বোহেমিয়ান উঠে গিয়ে তাকে কোমল পরশে তুলতে যায়। সে বার বার মুখ হা করে। পাশের লেক হতে শালপাতায় জল নিয়ে ফেরে। 

ততক্ষণে হলুদিয়া পাখির দেহ নিথর। বুক ফেঁটে যায়, তবু চিৎকার করে কাঁদতে পারেনা বোহেমিয়ান। দুর হতে থেমে থেমে দু’একটি গুলির শব্দ ভেসে আসছে। রমনা পার্কের যতদুর চোখ যায়, জনমানবের দেখা নেই- থমথমে! ঘুমিয়ে পড়ার আগে তো লোকজন অল্পবিস্তর ছিল! তবে কী সে অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছে? আসরের আজানের সুর ভেসে আসে। বেঞ্চের ওপর থাকা নোটবুক নিয়ে রওনা দিতে যাওয়ার মুহুর্তে পাখিগুলোর দিকে চোখ পড়ে। অদুরে পড়ে থাকা লোহার জংধরা রড কুড়িয়ে আনে। কাঠের বেঞ্চের নিচেয় মাটি খুঁড়ে পাখিগুলোকে গর্তে শুইয়ে দেয়। ছলছল চোখে নোটবুকটি হাতে নেয়। তার পৃষ্ঠায় পাখির রক্তের দাগ শুকিয়ে গেছে। পাখিদের সমাধির দিকে চেয়ে কান্না আসে। দৌড়ের মতো হেঁটে সে রমনা পার্কের সীমানা পেরিয়ে যায়! 
এভাবে এগিয়ে যায় ‘বোহেমিয়ান যুদ্ধ জীবন’র কাহিনী !</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/169928/</link>
				<pubDate>Mon, 31 Oct 2022 11:55:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বোহেমিয়ান যুদ্ধ জীবন<br />
(কিশোর উপযোগী ব্যতিক্রম ভ্রমণ ও মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস )</p>
<p>সারসংক্ষেপ :<br />
     অসহযোগ আন্দোলনে দেশ তখন উত্তাল। বিংশ শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক। গ্রামের যে কিশোর ছেলেটি একা জেলা শহরেও যায়নি,  সে এমন আন্দোলনের এক দিনে পৌঁছে যায় রাজধানী শহর ঢাকায়- একা। তখন সে দশম শ্রেণিতে পড়ে। নগরজীবন সম্পর্কে কিছুই জানেনা গ্রামের ছেলেটি। কোথায় নেব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-169928"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/169928/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ce4b0f4cdbd975f62810767a907867d0</guid>
				<title>কপিল ঘোষ and Neel tripura are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/62919/</link>
				<pubDate>Fri, 26 Nov 2021 19:09:31 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">106b71f187dc43876656ef76a1f01de4</guid>
				<title>কপিল ঘোষ and Syed Shahjada Alamgir are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/62458/</link>
				<pubDate>Fri, 26 Nov 2021 09:55:03 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">589b62e86b5f6bc7286c160afbb96b55</guid>
				<title>গুরু-শিষ্যে সুন্দরবন
(বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণ)
১.
হাঁটা পথে যাচ্ছি সুন্দরবন। কখনো কাঁধে চড়ছি, কখনো হাঁটছি। যাওয়া আসা প্রায় কুড়ি কিলোমিটার। যেতে একদিন, ফিরতে একদিন! তবু যেতে হবে। বইয়ে পড়েছি সুন্দরবন। দেখতে তো হবে, কেমন? বইয়ে যা পড়ালেন, তা দেখানোর দায়িত্ব নিয়েছেন শিক্ষক। ২০ কিলোমিটার হাঁটা পথে ছাত্রকে নিয়ে তিনি চললেন সুন্দরবন ভ্রমণে!  প্রায় তিন যুগ আগের সেই গল্প হবে আজ । এ যেন বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর যোগ-সন্ধিক্ষণ! এখন বিশ-কুড়ি (২০২০) সালে অমন শিক্ষক পাওয়া বিরল।
জায়গির শিক্ষক দীপু স্যার। ছাত্রের প্রতি গভীর ভালবাসায়- তাকে কাঁধে চড়িয়ে হাঁটা শুরু করলেন সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে! তাঁর দুই কাঁধে পা ঝুলিয়ে বসেছি। মাথা ধরেছি আলতোভাবে- যাতে ব্যথা না পান। হাঁটার তালে তালে আমিও নেচে চলেছি। দিগন্ত জোড়া মাঠ, দূরের গ্রামগুলোও নাচে। তখন আমি তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। ১৯৮৭-৮৮ সালের কথা। মাঠ পেরিয়ে গ্রাম। গোটা মাঠ জুড়ে চিংড়ি ঘের। চারিদিকে লবণাক্ত বাতাস। ঘেরের মাটির সরু রাস্তা ধরে হেঁটে গ্রামে উঠতে হয়। একটা গ্রামে ওঠার পর কিছু দূর এগিয়ে আবারো নতুন মাঠের সরু পথে এগোতে হয়। প্রথম গ্রামটিতে ওঠামাত্র বললাম, 
-স্যার এই কি সুন্দরবন?
গ্রামের ছায়াপথে আমাকে নামিয়ে হাঁফাতে হাঁফাতে উত্তর দেন দীপু প-িত, 
-আরে নাহ্। এ তো বাঁশতলী গ্রাম। আমরা শুরু করেছি বাঁশবাড়িয়া হতে। এমনি আরো কয়েকটি গ্রাম, বিলের মাঠ পার হলে সুন্দরবন। 
স্যারের মুখের দিকে হাঁ’হয়ে চেয়ে থাকি। তিনি হাতটি ধরে নিয়ে হাঁটা শুরু করেন। তাঁর হাতের আঙুল ধরে নতুন গ্রামের পথে যেতে যেতে ভাবি- আমায় কাঁধে নিয়ে আরো কতগুলো গ্রাম তাকে পাড়ি দিতে হবে। আমাকেও হাঁটতে হবে। সুন্দরবন দেখা মানে এত কষ্ট করা! মুখ ফসকে বেরিয়ে যায়, 
-থাক না স্যার, সুন্দরবন দেখবো না! 
তিনি আমার নিরুৎসাহ ভাব কাটাতে বলেন, 
-তুমি একবার ভাবো- তোমার বইয়ে যে সুন্দরবনের গল্প পড়েছো, বাঘ হরিণের ছবি দেখেছো- তাদের সাথে তোমার দেখা হয়ে গেল। কেমন লাগবে? আর তাছাড়া তোমার বয়সে তোমার গ্রামে আর কি কেউ সুন্দরবন দেখেছে? 
-আমার বয়সীরা তো দেখেই নি। বড়রা কেউ এলে নিশ্চয়ই গল্প শুনতাম। যেহেতু গ্রামের বড়রা কেউ সুন্দরবনের গল্প বলেনি, তাই তারা আমার আগে সুন্দরবনে আসেনি। আমাদের বাড়ির যে টালির ঘর, তার খুঁটিগুলো দেখেছেন- মোটা মোটা আর শক্ত। আর দালানঘরের জানালা-দরজাগুলো কত মজবুত। ওই ঘরগুলোর সব কাঠ-খুঁটি দাদু নাকি দক্ষিণেত্তে নৌকা বোঝাই করে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি নাকি কাঠের ব্যবসাও করতেন। আর বাড়িতে পুকুর কেটে, সেই পুকুরের মাটি দিয়ে ইঁট বানিয়ে, পুকুর পাড়ে ইঁটের পাঁজা বানিয়ে পুড়িয়ে- তারপর দালানঘর, পুকুরের সিঁড়ি-চেয়ার-বেঞ্চ বানিয়েছিলেন। আচ্ছা স্যার, এখান থেকে আমাদের বাড়ি কোনদিকে?
পাশ কাটিয়ে যাওয়া এক লোককে জিজ্ঞেস করেন স্যার,
-একটু শুনবেন? এখান থেকে বাগেরহাট শহর কোন দিকে?  
- সোজা উত্তরে। আপনাদের বাড়ি? 
-বাঁশবাড়িয়া।
-যাবেন কোথায়?  
-হলদিবুনিয়া।
-ও আচ্ছা।
লোকটি দ্রুত পা বাড়িয়ে চলে যায়। দীপু প-িত আঙুল নাচিয়ে হিসাব কষেন। 
-তার মানে আমরা এখন দক্ষিণে আছি। যাবো আরো দক্ষিণে। অর্থাৎ, তোমার দাদু সুন্দরবন হতে কাঠ নিয়েছিলেন। সেই কাঠেই তোমাদের ঘর। 
কী যেন দোলা দিয়ে গেল আমার হৃদয়কে। হাঁটার উদ্যম ফিরে পেলাম। ঝিমুনি ভাব কেটে যায়। শীতের হাঁটাপথ গ্রীষ্মের গরমের চেয়েও তেজি মনে হয়। রামপালের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুনীল মাস্টারের বড় ছেলে দীপু প-িত। মারাত্মক ডানপিটে ছেলে। ম্যাট্রিক পাসের আগেই রামপালের প্রভাবশালী এক নেতা ও ঘের মালিকের নজর কাড়ে দীপু। ভবিষ্যতে দীপু ঘের মালিকদের ‘বাড়া ভাতে ছাই’ দিতে পারে। নিষ্পেষিত সাধারণ জমির মালিকদের নিয়ে অধিকারের আন্দোলন শুরু করতে পারে। কৌশলে দীপুকে তাদের আয়ত্তে নিয়ে নেয়। 
দীপুর তখন কিশোর বয়স। সহজেই সে বিপথগামী হয়। 
তখন দানা বাঁধে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন। দেশ জুড়ে মিছিল, সভা, সমাবেশ, মারপিট চলছে। এরশাদ সরকার চারদিকে ধরপাকড় শুরু করে। রেডিওতে বিবিসি সংবাদ শোনার জন্য পাড়ার দোকানে ভিড় জমে যায়। ছেলের বিপথগামিতা টের পান বাবা সুনীল মাস্টার। তাকে ধরে-বেঁধে পাঠিয়ে দেন গোপন জায়গায়। 
দুর্গাপুর ঘোষ বাড়ির কড়া শাসনে দীপু লজিং থাকে। রাত-দিন লেখাপড়া করে। মাত্র তিন মাসের লেখাপড়ায় ম্যাট্রিক (এসএসসি) পাস করে। দীপুর বাবার ইচ্ছে ছেলে যেন আর গ্রামে না ফেরে। কানুলাল বাবুকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করেন যাতে ছেলেটার ভবিষ্যৎ গড়ে দেন। কানুলাল রাজি হন। দীপুকে ভর্তি করিয়ে দেন বাগেরহাটের চিতলমারী শেরে-বাংলা ডিগ্রি কলেজে। 
কানুলাল বাবুর ভূমিকায় দীপুর লজিং হয়ে যায়। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করানোর বিনিময়ে বাড়িতে একজনের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাকে বলে লজিং বা জায়গির। লজিং শিক্ষক সম্মানিত ব্যক্তি। যদিও শুরুর দিকে নতুন একটি পরিবারে, গ্রামে নিজেকে মানিয়ে নিতে অনেক কষ্ট-ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। তখনো নবগঠিত এই উপজেলায় লেখাপড়ার হার সম্মানজনক স্থানে পৌঁছেনি। সমাজে ব্রাহ্মণ, কায়স্থরা সম্মানিত ছিল। কারণ তারা অন্যদের তুলনায় ভদ্র, শিক্ষিত ও অনেক জায়গা সম্পত্তির মালিক ছিল। যদিও তখন দুর্গাপুর গ্রাম-ই কেবল নয় গোটা এলাকায় একজন এমএ পাস মানুষ ছিল দুষ্প্রাপ্য। কায়স্থদের মধ্যে যারা উচ্চ শিক্ষিত হয়েছেন তারাই গ্রাম ছেড়ে নগরে চলে গেছেন। অথচ নমঃশূদ্র শব্দে যাদেরকে উচ্চমর্যাদার আসন হতে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেই জাত-বংশের সন্তানেরা লেখাপড়া শেখা ও শেখানোর জন্য গ্রামে পড়ে থাকে বছরের পর বছর। শিক্ষার আলোয় ভাসতে প্রাণান্ত চেষ্টা চলে  গ্রামের পর গ্রামে।
দীপু স্যারের ¯েœহধন্য হয়ে কখনো কাঁধে, কখনো হেঁটে প্রায় আট কিলোমিটার পথ পাড়ি দেই। আমাদের চলার পথে মাঝে-মধ্যে দু’একটি গরুর গাড়ি আর অনেক বাই-সাইকেলের দেখা মেলে। ছাউনিহীন গরুর গাড়িগুলো মাছের ঘেরের উপকরণ নিয়ে যাচ্ছিল।  
হলদিবুনিয়া গ্রামে যখন পৌঁছাই তখন সূয্যিমামা পাটে নেমেছে। আজ সকালে পূর্বাকাশে কুয়াশাচ্ছন্ন সূর্যকে চাঁদের মতো দেখাচ্ছিল। বাঁশবাড়িয়া গ্রামে গোলপাতার ছাউনি দেয়া ঘরের বারান্দায় বসে স্যারের মা হরিণা চিংড়ির হরেক রান্না খাইয়েছিলেন। পথের খাবার ও মামাবাড়ির জন্য দিয়েছিলেন কাঁকড়া ঘিলুর পিঠা। যাত্রার সময় শঙ্খ, উলুধ্বনি দিয়ে সূর্য মামা আর বসুমতির নিকট আমাদের মঙ্গল কামনায় কলাপাতার ওপর ধান-দূর্বা-বেলপাতা-চন্দনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছিলেন।        
সূর্য মামা পশ্চিমে হেলেছে। সূর্যকে সামনে রেখে আমরা এগিয়ে চলেছি। গ্রামের মাটির রাস্তা হতে একটি পার্শ্ব-রাস্তা বামে বাড়ির দিকে এগিয়ে গেছে। বাড়ি ঢোকার পথে স্যার বললেন, 
-আমরা মামা বাড়ি এসে গেছি। মামা, ও মামা...। বাড়ির সব গেছে কই? তোমাদের সোনার ভাগ্নে এসে গেছে মামা...। 
বিশালাকৃতির উঠান। সাদা সাদা মেঘমালা আঁকা হয়েছে যেন উঠোনে। ঘর হতে বেরিয়ে এসেছে সবাই। তারা ভাগ্নে বরণে ব্যস্ত হয়ে উঠল। মামার পদধূলি নিলাম দুজনেই। ভাগ্নেকে জড়িয়ে ধরলেন। মামার সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিলেন। উঠোনের মেঘমালার দিকে তখনো চেয়ে আছি।
-ওই ছবিটা কে এঁকেছে?
হেসে বললেন মামা,  
-লবণজলে এঁকেছে।
-মানে? 
-যখন নদীতে জোয়ার আসে তখন এই গ্রামের বাড়ির উঠোনগুলো তলিয়ে যায়। ভাটায় জল নেমে গেলে উঠোনে অমন লবণের আবরণ পড়ে। দেখে মনে হয় যেন কেউ ছবি এঁকেছে। 
মামার কথা শুনে ক্লাসের রবীন স্যারের কথা মনে পড়ে। তিনি একদিন পাঠদানের সময় শ্রেণিকক্ষে এক বাটি লবণ এনে টেবিলের ওপর রাখেন। এরপর প্রাকৃতিকভাবে খাবার লবণ তৈরি সম্পর্কে বলেছিলেন, 
-বঙ্গোপসাগরে তীব্র লবণ। সাগর এলাকায় লবণ উৎপাদনের জায়গা আছে। সেখানে জোয়ারে আসা জল শেষ ভাটা পর্যন্ত আটকে রাখে। জলের সাথে আসা লবণ মাটিতে স্থিতি অবস্থান নেয়ার পর আটকানো জল ধীরে ছেড়ে দেয়। এরপর লবণ মিশ্্িরত মাটি খুলনার রিফাইনিং মেশিনে পরিশোধন করে মোটা দানার খাবার লবণ তৈরি হয়। সুন্দরবন এলাকায় এভাবে লবণ-মাটি সংগ্রহ করা হয়।
এই কি সেই লবণ মিশ্্িরত মাটি? বাঃ বেশ। আমরা কি তবে সুন্দরবন চলে এসেছি? 
সারাদিন ধরে হাঁটার ক্লান্তি কেটে গেছে। আমার দু’চোখ আশপাশের গাছে গিয়ে আটকায়। এই ধরনের গাছ আমাদের এলাকায় নেই। শুনেছি সুন্দরবনের গাছে বানর থাকে। মাঝে মধ্যে বানর, হরিণ, বাঘ মানুষের বাড়িতেও আসে। বিভিন্ন পাখি, অজগর সাপ নেচে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু কৈ একটা বানর ওতো দেখি না!    
মামা বাড়ির বারান্দা দীপু স্যারের মাথা পর্যন্ত উঁচু। মাটির পোতার উপর মোটা কাঠের খুঁটি। গোলপাতার ছাউনি। আটচালা ঘর। ঘরের বেড়া কাঠের। বিশাল বারান্দায় ঝুলছে কয়েকটি দোলনা। ফিতার দোলনা। দুই মাথা ঘরের আড়া ও খুঁটিতে বাঁধা। দোলনার মাঝে নৌকার মতো ঢেউ। ওই ঢেউয়ের ফাঁকে শুয়ে দুলতে হয়। কিন্তু এক বাড়িতে এতগুলো দোলনা কেন? দীপু স্যারদের গ্রামে বাড়িগুলোর বারান্দায় তো কোন দোলনা দেখিনি!
আমাদের এলাকায় যেসব বাড়িতে শিশুরা হামাগুড়ি দেয়- সেই বাড়িতে দোলনা থাকে। তাও আবার সব বাড়িতে নয়, যারা সমাজে আর্থিক সঙ্গতির কারণে মান্য, কেবলমাত্র তাদের বাড়িতেই দোলনা দেখা যায়। কাঠ বা বেতের চতুর্ভুজ আকৃতির দোলনা। ফিতার দোলনা এখানেই দেখলাম। আর দেখেছি দুই-একটি সিনেমায়। আরেক ধরনের দোলনা আছে যা বাগানে গাছের ডালে লম্বা গোছড় দড়ি ঝুলিয়ে তৈরি করা হয়। পাশের প্রত্যেক বাড়ির বারান্দায়ও দোলনা দেখি। তবে কি প্রত্যেক বাড়িতেই হামাগুড়ি দেয়া শিশু আছে? গ্রামের একটা পাড়ায় এতো হামাগুড়ি শিশু?     
মামা গিয়ে একটি দোলনায় শুয়ে দোল খেতে লাগলেন। বাড়ির সবার কুশল জিজ্ঞেস করলেন। দীপু স্যার একের পর এক তাঁর উত্তর দিতে থাকেন।
কাঁসার এক ঘটি জল এনে স্যার ও আমার পায়ের কাছে রাখেন ষোল-সতেরো বছর এবং ষাটোর্ধ্বে বয়সের দুই নারী। মাটিতে মাথা ছুঁয়ে প্রণাম করেন। তাদের এই ভক্তি দেখে ভয়ে আমি স্যারের হাত চেপে ধরি। আমার চেয়ে বয়স্করা আমাকে উদ্দেশ্য করে প্রণাম করছেন! বড়রা সম্মান জানাচ্ছেন ছোট্ট শিশুদের? -এটা ভাবা যায় না। আমাদের গ্রামে এমন দৃশ্য কোনদিনই দেখিনি আমি। স্যার আমার মাথায় হাত রাখায় স্বস্তিবোধ করলাম। পরে জানলাম স্যারের সামনে যিনি প্রণাম করেছেন তিনি সম্পর্কে তার মামাতো বোন। আর আমার সামনে ষাটোর্ধ্ব বয়সী যিনি প্রণাম করলেন, তিনি স্যারের দিদিমা। অর্থাৎ মামার মা।
কাঁসার ঘটির জলে দূর্বাঘাস ঘুরছে। দু’টি কাঠের হাতলওয়ালা চেয়ার নিয়ে এলো মামাতো ভাই শুভ ও শেখর। বাড়ির কর্তা মামা আমাদের চেয়ারে বসতে বললেন। গুরুজনদের সামনে চেয়ারে বসবো? দেখি আমার মতো স্যারও দাঁড়িয়ে হাত কচ্লে চলেছেন। দিদিমা বললেন, 
-ও দাদুভাই, তোমরা অতিথি। অতিথি ভগবান নারায়ণ স্বরূপ। কত পথ তোমরা হেঁটে এসেছো। মা বসুন্ধরা মাটিকে বয়ে এনেছো। ওড়াকান্দির মেলায় গেছো কখনো? 
দিদিমার প্রশ্নের উত্তরে মাথা নেড়ে না-সূচক উত্তর দেই। এরপর তিনি আবার বলতে শুরু করেন। 
-ওড়াকান্দি হচ্ছে সাধক হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরের জন্মস্থান। সেখানে প্রতি চৈত্র মাসে মেলা হয়। ভক্তরা শত শত মাইল পথ হেঁটে যায় সেখানে। পাপ মোচন হয় পুণ্য¯œানে। তেমনি আজ তোমরা সেই সকাল থেকে হাঁটতে হাঁটতে জ্ঞান অর্জনে এসেছো। তোমরা শান্ত না হলে তো এ-বাড়ি ও-বাড়ির কেউ শান্তি পাবে না।
(এটা যখনকার গল্প সেই সময় মোবাইল ফোন বাজারে আসেনি। তাই বাড়িতে পৌঁছে-সংবাদ দেয়ার আর কোন পদ্ধতি ছিল না। লোকায়ত ধারণা ছিল- এমনিভাবে হাত-পা ধুইয়ে শরীর শান্ত হলে, প্রাণ-আত্মার শান্তির বার্তা পৌঁছে যায় নিকটাত্মীয়দের কাছে)।
দিদিমা বলতে থাকেন,
-বসো, চেয়ারে বসো। এখন তোমরা অতিথি নারায়ণ! ও দীপু, তুইও যে কেমন কেমন করছিস, এসব জানিস না? 
-না মানে! 
কাঁচুমাচু দীপু স্যার চেয়ারে বসে মোড়াতে লাগলেন। এটা দেখে দিদিমা ধমক্ দিলেন।
-সোজা হয়ে বয়। স¤্রাটদের মতো। প্রভু নারায়ণ কী কখনো কাঁচুমাচু করে নাকি?
কেঁপে উঠলাম। থতমত খেয়ে বসে পড়লাম হাতলওয়ালা চেয়ারে। বসামাত্র পায়ের কাছ থেকে হালকা হাওয়া বয়ে গেল। মানুষের বিশ^াস, ভক্তি, ছোটদের প্রতি বড়দের সম্মান এবং শিক্ষা দানের এই সংস্কৃতি বংশ পরম্পরায় চলে এসেছে। এটা যুগ-যুগান্তের ধারা।
স্যারের মামাতো বোন শুভ্রা। তিনি স্যারের পায়ের কাছ থেকে কাঁসার ঘটিটি একদিকে সরিয়ে রাখলেন। কালো পাথরের বড় একটি থালা এগিয়ে দিলেন পায়ের কাছে। এরপর পা হতে ধুলোমাখা স্যান্ডেলটি খুলে একপাশে সরিয়ে রাখেন। মামার সাথে গল্প চালিয়ে যাচ্ছেন স্যার। শুভ্রাদি মাটিতে গেড়ে বসলেন। স্বযতেœ উঁচু করে স্যারের পায়ের পাতা দুটি এক হাতের তালুর উপর রাখেন। অন্য হাতে পাথরের থালাটি এগিয়ে দেন পা সোজাসুজি। তার উপর রাখেন ধুলোর আবরণে পূর্ণ কাঁচা হলুদ রঙা পায়ের পাতা দুটি। ঘটির জল পাতা দুটির উপরে ঢালতে শুরু করেন। ধুলো-জল নদীর চরের স্বরমাটির রূপ নেয়। হাতের পরশে পায়ের পাতা ধুয়ে দেন। শিরাগুলো জেগে ওঠে। ধুলো-ঘোলাজল পাশের পিতলের গামলায় ঢেলে রাখেন। হাত মুখ ধোয়ার চিলমচি এগিয়ে দেন। ঘরের ভিতর থেকে মাথায় ঘোমটা দেয়া আরো দুই নারী আসেন। তাদের কপালে সিঁদুর, হাতে শঙ্খের শাঁখাসহ নানা নকশার চুড়ি। তাদের একজন মামী, অন্যজন বৌদি। খাবারের পসরা এনে রাখেন টেবিলে।  
টের পাই ভার হয়ে থাকা আমার পায়ের জুতার ফিতা কেউ খুলছে। কাজটি করছেন দিদিমা। তটস্থ আমি তাকে বাধা দিতে গেলে দিদিমা দুষ্টুমির সুরে বলেন,
-উহুঁ! তুমি না আমার স্বামীতুল্য দাদুভাই। তোমার সেবা না করলে যে গৃহস্থের অমঙ্গল হবে! স্বামীই যে শিবঠাকুর গো।
আমি সেদিন তাঁর কথার মর্মার্থ ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। বয়স্ক মানুষ ছোট মানুষের পা ধরেছেন- তাই পা সরিয়ে নিই। পাশ থেকে স্যার বলে ওঠেন, 
-এমন করতে নেই। বাড়ি অতিথি এলে তার হাত-পা ধুয়ে দিতে হয়। পানীয় জল দিতে হয়। সম্পর্ক স্থাপনের রীতি হচ্ছে পা ধুয়ে পরিচ্ছন্ন করিয়ে দেয়া। তোমাকে প্রত্যেক এলাকার নিয়মরীতি সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে হবে।
স্যারের এই কথার পর আমি নীরবে বসে থাকি। দিদিমা পায়ের জুতা-মোজা খুলে সাবান দিয়ে আমার পা গন্ধমুক্ত করেন। সারাদিন বাতাস না লেগে পা ফুলে গেছে। স্যারের পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখি তাঁর পা স্বাভাবিক আছে। পরে বুঝেছি স্যান্ডেল পায়ে বাতাস ও ধুলো-মাটি লাগার কারণে স্যার স্বাভাবিক আছেন। পা ধোয়ানো শেষ হয়। এই পর্ব শেষে তারা দুজন আবারো মাটিতে প্রণাম করে উঠে দাঁড়ায়। তাদের অনুসরণ করে আমরাও বাস্তুভূমিতে মাথা ছোঁয়ানো মাত্র গোটা শরীর শীতল হয়ে যায়। ক্লান্তি বাসা বাঁধে। খাবার খেয়ে চাঙ্গা হয়ে উঠি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/62454/</link>
				<pubDate>Fri, 26 Nov 2021 08:27:30 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গুরু-শিষ্যে সুন্দরবন<br />
(বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণ)<br />
১.<br />
হাঁটা পথে যাচ্ছি সুন্দরবন। কখনো কাঁধে চড়ছি, কখনো হাঁটছি। যাওয়া আসা প্রায় কুড়ি কিলোমিটার। যেতে একদিন, ফিরতে একদিন! তবু যেতে হবে। বইয়ে পড়েছি সুন্দরবন। দেখতে তো হবে, কেমন? বইয়ে যা পড়ালেন, তা দেখানোর দায়িত্ব নিয়েছেন শিক্ষক। ২০ কিলোমিটার হাঁটা পথে ছাত্রকে নিয়ে তিনি চললেন সুন্দরবন ভ্রমণে!  প&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-62454"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/62454/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">95087cf2f9ddba8eba32038eb7981121</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/58008/</link>
				<pubDate>Wed, 17 Nov 2021 16:05:56 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">54e71d04c64afc3c3895b06651329502</guid>
				<title>কপিল ঘোষ changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/58004/</link>
				<pubDate>Wed, 17 Nov 2021 16:00:12 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">70849456f24b1653a14bf9414ec64478</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/58003/</link>
				<pubDate>Wed, 17 Nov 2021 15:58:15 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">be18106ade79dc198cc1ce2d230c91b6</guid>
				<title>সুন্দরবনে বিস্ময়: দুবলারচরে রাস পূর্ণিমা 
কপিল ঘোষ
ঢাকার শ্রাবণ প্রকাশনীর ‘সুন্দরের টানে মঙ্গল শত্রু’  বইতে সুন্দবনাঞ্চলের ৫০ বছরের গল্পগুলো উঠে এসেছে। সেই বইয়ে প্রকাশিত ভ্রমণ বিষয়ক লেখা ‘সুন্দরবনে বিস্ময়!’ আসন্ন রাস পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল। 
সুন্দরবনের ‘দূর্বাচর’ কিংবা ‘দুবলারচর’এ রাস পূর্ণিমার উৎসব ঠিক কবে কখন শুরু তা নিশ্চিতভাবে এখনো জানা যায়নি। তবে এখানে দেশী-বিদেশী লাখো পুণ্যার্থীর মিলনমেলায় পরিণত হয়। নতুন আলোয় নৃত্য করে দুবলারচর আলোরকোল। অনেক মানুষ তীর্থের অনুভূতি নিয়ে সেখানে যায়। প্রকৃত তীর্থযাত্রীরা পূর্ণিমা তিথিতে নিরামিষ ভোজন করেন। সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরের প্রতি কৃতজ্ঞতায় মাথা নত করে। বন, মাটি, নদী-সাগরের প্রতি প্রবল বিশ^াসী স্থানীয় মানুষের সাথে ঢাকা ও চট্টগ্রামের একদল তরুণ ফিল্মমেকার গিয়েছিল রাস পূর্ণিমার উৎসবে। স্থানীয় মানুষের বিশ^াস ও বাঘের থাবায় মানুষের প্রাণপাত সহ এই ভ্রমণকালের নানা বিষয় নাগরিক জীবনে অভ্যস্থ মনকে বিস্মিত করে তোলে। ২০১১ সালের এই তীর্থযাত্রার নিজস্ব অভিজ্ঞতা এবং ঘটনার আলোকে এই লেখা - 

ইচ্ছেটা ছিল অনেকদিনের। নারকেলের ছোবড়ায় ঝিমিয়ে পড়া আগুনে ধুপ ছিটিয়ে দেয় নলিয়ানের বন্ধুরা। শিবসা নদ’র কুলে নলিয়ান জনপদ গড়ে ওঠে প্রায় দু’শ বছর পূর্বে। নলিয়ান পশ্চিম-সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ এক ফরেস্ট স্টেশন। খুলনার দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নে এর অবস্থান। সেখানের একঝাঁক তরুণ মনে করিয়ে দেয়- ‘দাদা, রাস পূর্ণিমা আইসছে, মেলায় কিন্তু যাতি হবে।’ সেই ইচ্ছে পূরণে অবশেষে যাত্রা শুরু হলো। তীর্থযাত্রা!

	প্রথম দিন :
রাস পূর্ণিমায় সমূদ্র¯œান হবে ১০ নভেম্বর। দুর্বাচর (দুবলারচর) আলোর কোলে, আমাদের সুন্দরবনের বেলাভূমিতে। আর্টফিল্ম মেকার ঢাকার বন্ধুরা আসলো। সুন্দরবনের কোলের গ্রামগুলোর স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে রাস পূর্ণিমায় দুর্বাচরে যাওয়ার অনুভুতি তো ভিন্ন। এখানে রয়েছে তাঁদের সুন্দরবনের প্রতি বিশ্বাস, আচার, অনুষ্ঠান, প্রথার নানা বিষয়। ফিল্মমেকার বন্ধুদের দলে যোগ হয় মোল্লাহাটের রামায়ন গানের দল। প্রথমে গাজীর গানের জন্য বাগেরহাটের দেপাড়া গ্রামের রফিকের দল ঠিক ছিল। তাদের বায়নার টাকা বেশি, যার যোগান দিতে আমরা অপারগ। শেষ পর্যন্ত তাদের অপারগতায় মহাভারতের নাম উচ্চারণ! 
বাতাসে দোতরা, বেহালা, বাঁশের বাঁশি, ঢোল, করতাল, গীটারের সুর-শব্দ আর স্বরের খেলা শুরু হয়। রামপালের দোতরা বাদক অমল ঘোষাল স্বদলবলে তীর্থসঙ্গী হয়ে বোহেমিয়ানের পথে পা রাখেন। চেপে বসেন সমূদ্রমুখি ইঞ্জিন নৌকায়। দিনটি ছিল ৮ নভেম্বর, ২০১১ দুপুর আড়াইটা। ট্রলারের ভটভটানি শব্দযন্ত্রণায় কাতর হয়ে রামায়ন গানের শিল্পী কলা-কুশলীরা তাদের বাদ্যযন্ত্র কাপড়ে বন্ধি করে রাখেন। তাদের চোখ আটকে যায় সুন্দরবনের সবুজ আলোয়। একপাশে লোকালয় আর অপরপাশে সুন্দরবন- আমরা ভেসে চলেছি ভদ্রানদীর বুক বেয়ে। 
এসব দৃশ্যাদি ক্যামেরা বন্ধি করছে ফিল্মমেকার বন্ধু। এই যাত্রায় আমার ভূমিকা অনুঘটকের। রামপালের ভাগা গ্রাম হতে চালনা, দাকোপ, কালীনগর, শ্রীনগর হয়ে সুতারখালীর কালাবগী গ্রামে পৌঁছাই সন্ধ্যা ছয়টার দিকে। কালাবগী গ্রামের অরুণ মন্ডল, মমতা রানী, স্থানীয় মহিলা মেম্বার বিউটি রানীসহ কালাবগী গ্রামবাসী আমাদের স্বাগত জানালেন। নদীতে তখন ভাটা। ট্রলারের নির্দিষ্ট কোন ঘাট নেই। দীর্ঘদিন পর নদীচরের কাদামাটিতে একাকার হলাম। শীতল হলো শরীর।  

	দ্বিতীয় দিন :
০৯ নভেম্বর, ২০১১ বিকেল সাড়ে চারটা। বাংলাদেশের দক্ষিণে লোকালয়ের শেষ একটি জনপদ কালাবগী গ্রাম। এ গ্রামের ওপারেই সুন্দরবন। গ্রামের পূর্ব-দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ইংরেজী ইউ আকৃতির নদীর বাক- কুমিরের আবাসস্থল ভদ্রা নদী ও শিবসা নদ’র মিলন হয়েছে এখানে।   
কালাবগী গ্রামের পূর্বপাড়ে সুন্দরবন। ওপারে গিয়ে সুন্দরবনের মা বনবিবি’র থানে মানত করে এলেন স্থানীয় বাওয়ালী ফনিভূষণ। সহজসরল স্বভাবের সুঠামদেহী ফনিভূষণই আমাদের দুবলারচর যাত্রাপথের কান্ডারী। অথচ তিনি নিরক্ষর-প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার তিনি ধার ধারেন না। সুন্দরবনের প্রতি অগাধ বিশ্বাসে দিন-রাত অবলীলায় পড়ে থাকেন সুন্দরবনের গহীনে। দু’চোখ তাঁর উজ্জ্বল-তীক্ষè, সারাক্ষণ হাসিভরা মুখ। সে কখনো ক্ষেপলে তাকে নাকি থামানো দায় হয়ে পড়ে। আমাদের যাত্রার সময় ঘনিয়ে আসে। 
রামপাল হতে নিয়ে আসা আমাদের বড় ট্রলারের সাথে যুক্ত হলো কালাবগীর ছোট একটি ট্রলার। মহিলা মেম্বার বিউটিরানীসহ কালাবগী গ্রামের তীর্থযাত্রী গৃহস্থবাড়ির শিশু, গৃহবধু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণরা সঙ্গী হল। অরুণ আলোয় কালাবগী গ্রামের প্রথা অনুযায়ী, বাস্তুভিটা ও নদীঘাটের মাটি-সিঁদুর-তেল-জল কপালে ছুঁইয়ে দু’টি ইঞ্জিন নৌকা ঘাট ছাড়ল। বেজে উঠলো শঙ্খ-কাঁসা আর উলুধ্বনী।
দলবেধে নৌকায় ভেসে ছুটছে তীর্থযাত্রীরা। আমরাও ভাসছি শিবসা নদ’র ঢেউয়ের তালে। ওয়াপদা বেড়িবাধে কালাবগী জনবসতির ঝুলন্ত টংঘরগুলো ধীরে ধীরে দুরে চলে যায়। সুন্দরবনের যে নদীতে কুমির, হাঙ্গর আছে- বইতে পড়েছি, এই সেই ভদ্রা নদী। এখনো দেখা মেলে কুমিরের, মাঝেমধ্যে। ভদ্রাকে ফেলে এসেছি কালাবগীর পূর্ব প্রান্তে। সুন্দরবনের বুকে শিবসা নদ-এ ভাসতে ভাসতে লোকালয় জনপদ চোখের আড়াল হয়।
দু’পারে সুন্দরবন। সবুজ অরণ্য। সুন্দরবনের বাইরের অংশে বাঘের চাপ বেড়েছে সম্প্রতি। বাঘের ডাক-হুঙ্কারে, আনাগোনায় এবার অনেক বাওয়ালি মধুসংগ্রহে যেতে পারেনি। মৌচাক, কাঁকড়া বাঘের প্রিয় খাবারের তালিকার শীর্ষে। সেখানে ভাগ বসিয়েছে মানুষ। এখন বাঘ, কুমিরসহ সবাই ক্ষুধার্ত! অনেকটা বাধ্য হয়ে-ই তাই তারা দু’একটা মানুষ ধরে, লোকালয়েও আসে। আর ওদিকে সমূদ্র রেগে উঠেছে। সিডর-আইলা আরো কতনামে সে ফুঁসে উঠছে মাঝে মাঝে। 
এমনি এক পরিস্থিতিতে সাপের চলার মতো পথে জলের স্রোতে ভাসছে মানুষ। সারিবাধা শত নৌকা-ট্রলার-লঞ্চে তারা সমূদ্র অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে। সুন্দরবনের দুবলারচর আলোরকোলে এবার সমূদ্রমন্থন হবে কি-না জানিনা, তবে এটুকু জানি- প্রতিবছরের ন্যায় এবারো প্রচলিত জাত-ধর্ম নির্বিশেষে হাজার হাজার পূণ্যার্থী তাদের সমূদ্রের কাছে করা ‘মানত মাঙ্তে’ যাচ্ছে। দেশি-বিদশী শত শত পর্যটকও মিলে গেছে এই তীর্থযাত্রীদের বহরে। 

দুঃসাহসিকতা!
রাতভর চলল আমাদের ট্রলার। রাতের পথে আছে ডাকাতের ভয়। চারপাশে সুন্দরবন আর নদীর চোরাগলিপথ। নদীতে কুমির-হাঙ্গর আর ডাঙ্গায় বাঘ-সাপ আরো কতো কী! ভোররাতের জোৎ¯œার আলো, মৃদু-কুয়াশায় সবনদীপথ যেন একাকার হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে আমরা যেন ঘুরেফিরে একপথেই চলছি। যা চলে চলুক, ট্রলার থামানো যাবেনা। অপরিচিত অন্য কোন ট্রলারকেও পাশে ঘেঁষার সুযোগ দেয়া যাবে না। কে জানে কোন ট্রলারে আছে সুন্দরবনের ডাকাতদের সেই লোকেরা। 

প্রত্যেকটি ট্রলার এমন সতর্কতার সাথে দুরত্ব বজায় রেখে ছুটছে। শিশুরা ঘুম। নারীরা ট্রলারের খোলে নিরামিষ রান্নার কাজে ব্যস্ত। সমূদ্র¯œানের আগে কেউ মাছ-মাংস খাবেনা।  স্থানীয় যুবকদের হাতের কাছে রয়েছে দা-লাঠি, সদা সতর্ক তারা। কিন্তু তাদের এই সতর্কতা বাইরের অতিথিদের কোনভাবেই বুঝতে দিতে চায়না। প্রতিবছর এভাবেই যাত্রা করায় তাদের আনন্দ। মাঝে মধ্যে দুর হতে সার্জলাইট জালিয়ে ফরেস্টার কিংবা কোস্টগার্ডের বোট দ্রুত ছুটে যেতে দেখা যায়। 
টাইগার পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছে হঠাৎ আমাদের বড় ট্রলারটি ডুবোচরে আটকে গেল। ধাক্কায় চিৎকার করে উঠলো সবাই। ভয় পেলাম। পেছন দিক হতে দ্রুত ছুটে আসে কালাবগীর সেই ছোট্ট ট্রলারটি। চলন্ত অবস্থায় বড় টলারের হেলপারের কাছে দড়ি ছুড়ে দিয়ে বাধতে বলে। তার ভাব এমন যে, চরে আটকে যাওয়া ট্রলার এক ধাক্কাতেই সে ছাড়িয়ে নেবে। পেছন থেকে এসে আমাদের পাশ কাটিয়ে দড়ি দিয়ে দ্রুত গতিতে সে ছুটে যায় ডানদিকে। ঘটনা যা ঘটার তাই ঘটল। হাতির মতো বিশালদেহীকে কী আর চুনোপুঁটি নড়াতে পারে? বিকট শব্দে ছোট-ট্রলারের ইঞ্জিন বন্ধ হল, ছুটে গেল দড়ি- উল্টেপড়ার হাত থেকে একটুর জন্য রক্ষা পেল তারা। 
অতঃপর কী আর করা। ঝটপট ট্রলারে গলুই ধরে নেমে পড়লেন নলিয়ানের আসলাম ভাই। যত দেরি হবে ততই চরের বেলেমাটিতে আটকে যাবে, আর তা হলে দুবলারচরে সূর্য্যােদয়, সমূদ্র¯œান আর হবেনা! রয়েছে আরো নানা বিপদ-আপদ। চারিদিকে নদীর ঢেউ, অন্যান্য ট্্রলারগুলো পাশে না ঘেঁষে আরো দুর সরে ছুটে যাচ্ছে। আসলামের দেখাদেখি আরো কয়েকজন নেমে দ্রুত ট্রলারের তলদেশ হতে মাটি সরিয়ে পেছনদিকে ঠেলে গভীর পানিতে ভাসলো। ততক্ষণে ছোট ট্রলারের ইঞ্জিন চালু হয়েছে। এবার বন্ধু তৌফিক, অপুসহ আমরা কয়েকজন হো হো করে হেসে উঠলাম। আমাদের হাসির শব্দে ছোট ট্রলারের লোকরা যোগ দিল আনন্দে। 
সূর্য্যরশ্মির দেখা মিলল সুন্দরবনের পূর্ব-আড়াল হতে। যাত্রা আবার শুরু হলো।  
  
শেষ দিন ১০ নভেম্বর। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সমূদ্র¯œান। নারী, পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ, যুবক-যুবতী কয়েক লক্ষ পূণ্যার্থীর ঢল। হাজার হাজার নৌকার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে ভাসছে জাহাজ, পর্যটকদের লঞ্চ। 
ব্যতিক্রমী মানত দেখি এখানে- কচুরমুখি, কচুরগাটি অথবা কচু কেটে সাগরের প্রতি নিবেদন করে প্রসাদ। কেউ কেউ পাঠাও (খাসি) ভাসিয়ে দেয়। এরপর অন্যান্য আচারাদি সম্পন্নের পর শুরু হয় সমূদ্র¯œান। তারপর মেলা দেখে নৌযানে বাড়ি ফেরার পালা। আরো অনেক কিছু রয়েছে লেখার স্বল্প পরিসরে আজ আর নাই-বা বললাম। 
প্রতিবারের ন্যায় এবারো কালাবগী-নলিয়ানের তীর্থযাত্রীরা নীলকমল ফরেস্ট অফিস থেকে রাজস্বের পাস করবেন বলে ভেবেছিলেন। লোকালয় চোখের সীমানা পেরিয়ে যেতেই, দূর থেকে একটি স্পীডবোট ছুটে এলো কাছে। 
স্থানীয়রা বললেন, 
এটি ডিএফও’র (বিভাগীয় বন কর্মকর্তা) বোট। তাঁরা এসেই তীর্থযাত্রী ২টি ট্রলারের লোকদের ধমক শুরু করলেন- পাস না পেয়ে। স্থানীয় মহিলা মেম্বার বিউটি রানী, কালাবগী পন্ডিতচন্দ্র রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অরুণ রায়সহ অন্যান্যরা যতই তাদের বোঝাতে চাইলেন- প্রতিবার তো নীলকমল থেকে পাস কাটা হয়। কিন্তু তারা শুনতে নারাজ। এরপর তারা ২টি নৌকার পাস (রাজস্ব) কাটলেন- একটিতে ২৩ জন পূর্ণবয়স্কের জন্য প্রায় ৩১শ’ টাকা, অন্যটিতে ৫জন শিশুসহ ১৮ জনের জন্য ২৭শ’ ১৩ টাকা। রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকার মধ্য থেকে তীর্থে যাচ্ছে- এই আইন তো মানতেই হবে! 

অরুণ বাবু ও বিউটি দিদি জানান, এর আগে জনপ্রতি ৫০ টাকা ও ট্রলার প্রতি ৫শ’ টাকা দিতে হতো, শিশুদের জন্য কোন ফি’ দেয়া লাগতো না। কিন্তু এবার শিশুদের জন্যও টাকা দিতে হলো! ট্রলার প্রতি নিল ৮শ’ টাকা, অবস্থান ফি-৬শ’ টাকা, আরো কী যেন! তারা আরো বলেন, আমরা তো আর পর্যটক নই। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে প্রতিবছর মানত মাঙতে যাই। তীর্থযাত্রীদের সাথে এহেন আচরণ, আর্থিক নিষ্পেষণ হলে কিভাবে চলবে? মনটাই তো ভেঙ্গে যায়! দুবলারচরে আসা অন্যান্য তীর্থযাত্রীরাও বনবিভাগ ও নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড সদস্যদের অশোভন আচরণ এবং অতিরিক্ত অর্থ (রাজস্ব) আদায়ের ব্যাপারে অভিাযোগ করেন।

খুলনার প্রবীণ সাংবাদিক ও শিশু সাহিত্যিক জ্যোতির্ময় মলি¬ক। আবেগজড়ানো ভাষায় স্মৃতিচারণ করেন তিনি। ১৯৬৬ সালের দিকে আমিও দুবলারচর রাস পূর্ণিমায় সমূদ্র¯œানে গেছি। আমরা গেছি কাঠের পানসি নৌকায় চড়ে, কারুকার্য খচিত বিশাল আকৃতির সে নৌকা। ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ছিলনা। আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। এখনকার করমজল ফরেস্ট অফিসের নিকটস্থ ঢাংমারী খালের পাশে ছিল কুদকাটার (রাজস্ব) অফিস। তীর্থযাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি কুদ (রাজস্ব) নিয়েছিল আড়াই (২.৫০/=) টাকা -পরিস্কার মনে আছে, আর নৌকা কিংবা অন্য কোন কিছুতেই খরচ ছিলনা। 

	প্রচলিত রীতিনীতি:
সনাতন তীর্থস্থান সুন্দরবনের দুর্বাচর ওরফে দুবলারচর। এই মিলনমেলায় কোন জাতি-ধর্মের ভেদাভেদ নেই মেলায়। ঠিক কবে হতে দুর্বাচরে বা দুবলারচরে সমূদ্রøান শুরু হয়েছে তা সঠিক বলা যায় না। তবে মানুষের বিশ্বাস, তারা মনোবাসনা পূর্ণ করতে যে মানত করে, তাই পূরণ হয়- বিশ্বাসটা চাই অটুট ! 
কেউ কেউ মনে করে- তার যত পাপ সব ভাসিয়ে দিতেই এখানে সমূদ্র¯œানে আসতে হয়। নিজের সন্তানকে নিবেদন করছে- এই মনে করেও অনেকে কাটা কচু, ডাব অন্যান্য ফলমূল নিবেদন করে- গঙ্গা, বনবিবি ও রাধাকৃষ্ণকে! 
সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া স্বামীর প্রতিক্ষায় থাকা কোন গৃহবধু মানত করে স্বামীর প্রাণ যেন তার কাছে ফিরে আসে! সন্তান কামনায় মানত করে কোন নারী। দুরারোগ্য কোন ব্যাধি সারাতেও মানত করে অনেকে। নদ-নদীতে যেন এবার বেশি মাছ পাওয়া যায়- সেজন্য মানত মাঙতে ব্যতিব্যাস্ত থাকে জেলেরা। 
কালাবগীর ঘাট থেকে যাত্রা শুরুর সময় মানত করে মাটিতে কপাল ছুঁইয়েছিলেন বাওয়ালী ফনিভূষণ, সঙ্গে অন্য তীর্থযাত্রীরাও। নীলকমল হয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় দুবলার চরে নামলাম। মূল মন্দিরের দিকে পা বাড়াতেই ফনি কানের কাছে এসে বললেন,‘সোয়া ১০ টাকার ৩  টোপলা ভোগ দিও মন্দিরে।’ আছলাম ভাইয়ের হাত ধরে মন্দিরের কাছে পৌঁছাতেই মনে প্রশ্ন জাগলো- কার কান জন্য ৩ টোপলা ভোগ? উত্তর দিলেন আছলাম- ‘গঙ্গা, মা বনবিবি এবং রাধা-কৃষ্ণের জন্যে।’ রাধাকৃষ্ণের রাসলীলার দিন এটি, তাই বনে নামা নিষেধ!

	বাঘের থাবায় মানুষের প্রাণ !
কাকতালীয় না-কি অন্যকিছু সেটা ঠিক বলতে পারবো না। কিন্তু এটাই সত্যি- বাঘের শিকার হলো ছেলেটি! নাম বেলাল (১৭), বাড়ি সুতারখালী। পুরো পা-টিই তার খেয়ে ফেলেছে বাঘে। থাবাটা বসিয়েছিল গলায়, ঘাড়টা ভেঙ্গে কাত হয়ে পড়েছিল লাশের। মাছ ধরার জন্য সুন্দরবন চরেরখালের খাদে মাছ ধরার জন্য জাল মাটিতে পুতছিল ওরা ৩ জন পুরুষ। পাশে থামানো নৌকার ছঁইয়ের সামনে বসে একজন মধ্য বয়সী নারী শিবসায় বর্শি ফেলে থিতু হয়ে বসে আছে সেদিকে চেয়ে। পেছনটা তার বনের দিকে। ৩০/৩৫ হাত দূরে আরেকটি নৌকা থামানো, সেখানেও অপর ৩ পুরুষ একইভাবে জাল গুজে চলেছে বনের মাটিতে। 
তখন ভাটি, সন্ধ্যা নামবে। পশ্চিমে সূর্যের রক্তিম আভা, ১০ নভেম্বর,২০১১। তীর্থ  থেকে সংসারমুখি আমাদের নৌযানের বন্ধুদের, বিশেষত ঢাকার বন্ধুদের মনটা ভীষণ খারাপ। কারণ- সুন্দরবনের ভিতরের মাটিতে হাঁটা হয়নি। যখনই যেতে চেয়েছে, তখনই বাওয়ালী ফনিভূষণ বাধ সেধে বলেছেন- ‘রাস পূর্ণিমার দিন, মালে উঠতে নেই!’ সকাল থেকে সারাদিনের ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গে গেল জেলেদের বনে নেমে মাছ ধরার দৃশ্য দেখে। অনেকেই বাওয়ালীকে উপহাস-বিদ্রুপের বাক্যবান ছুড়লো, কেউ কেউ উৎসাহিতও করলো বনে নামার জন্য। কিন্তু ফনি বাওয়ালী অনঢ়। শুধু হেসে দিয়ে নিজের ভাষায় বললেন,‘বিশ্বাসে মেলায় বস্তু তর্কে বহুদূর!’ 
সুন্দরবনের এপারে ঝুলন্ত ঘরগুলোর পাশে নলিয়ানের আছলাম ও বাওয়ালী ফনিভূষণ নেমে পড়লেন- হেঁটে আগেভাগে বাড়ি যাবেন বলে। আধাঘন্টার মাথায় কালাবগীর ঘাটে আমাদের নৌযান ভিড়লো। পাড়ে দাড়িয়ে আমাদের অপেক্ষায় ফনি বাওয়ালী। ট্রলারের শব্দ থামতেই তিনি জানালেন, যাদের মাছ ধরতে দেখে এসেছি- তাদের মধ্য থেকে সুতারখালির একটি ছেলেকে বাঘে নিয়ে গেছে কিছুক্ষণ আগে! 
আমাদের পেছনের ট্রলারটি এলো, নিমাই জানালো- ঘটনা সত্যি, নদীর পাড়ে যারা ছিল তাদের একজনকে নিয়েছে। বাকীরা নৌকায় উঠে এসেছে। সন্ধ্যা হয়ে গেছে তাই বনে কেউ ঢুকতে সাহস করেনি। কথাগুলো তখনো গল্প মনে হচ্ছিল। কিন্তু পরদিন এলাকার লোকজন গিয়ে যখন ছেলেটির লাশ নিয়ে এলো তখন লাশটি দেখলাম। লাশ দেখার জটলায় অনেকের ভিড়ে ফনি বাওয়ালীও ছিলেন। ট্রলারে বসে বার বার উচ্চারিত শব্দগুলো মনে পড়ছিল- ‘বিশ্বাসে মেলায় বস্তু তর্কে বহুদুর!’ # লেখক : কপিল ঘোষ, সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী,</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/57999/</link>
				<pubDate>Wed, 17 Nov 2021 15:51:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সুন্দরবনে বিস্ময়: দুবলারচরে রাস পূর্ণিমা<br />
কপিল ঘোষ<br />
ঢাকার শ্রাবণ প্রকাশনীর ‘সুন্দরের টানে মঙ্গল শত্রু’  বইতে সুন্দবনাঞ্চলের ৫০ বছরের গল্পগুলো উঠে এসেছে। সেই বইয়ে প্রকাশিত ভ্রমণ বিষয়ক লেখা ‘সুন্দরবনে বিস্ময়!’ আসন্ন রাস পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল।<br />
সুন্দরবনের ‘দূর্বাচর’ কিংবা ‘দুবলারচর’এ রাস পূর্ণিমার উৎসব ঠিক কবে কখন শুর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-57999"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/57999/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>