<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Rafiur Nishan | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/kurianonolatzi/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/kurianonolatzi/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Rafiur Nishan.</description>
	<lastBuildDate>Sat, 20 Jun 2026 23:19:49 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">e377eb857446072cf83bf416b20c68f0</guid>
				<title>&#039;উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ&#039;
&#039;উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ&#039;
&#039;উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ&#039;
&#039;উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ&#039;

আর ঘুমোতে পারলো না সাইফ, ঘুমের মাটি হয়েই গেলো। এমন হুটহাট স্বপ্নে অদ্ভুত ভাষায় এভাবে কেউ ধমক দিলে কীভাবে ঘুম থাকবে? আচ্ছা, কে ছিলো? চেহারা দেখা যাচ্ছিলো না, কিছুই বুঝা যাচ্ছিলো না, শুধু কথাগুলো শুনতে পাচ্ছিলো সে। এমন কেন হয়?
ভোর হয়ে গিয়েছে, জানালার অল্প এক ফুটো করা আছে, তা থেকে যতটুকু আলো পারে, যুদ্ধ করে ভিতরে আসে। সাইফ তাদের যুদ্ধ দেখে, আর হাসে, তার যুদ্ধ কি কম নাকি?
জায়নামাজ পেতে দাড়িয়ে পড়ে নামাজে সে। এ জিনিসটা ভালোই লাগে, প্রশান্তির। কিন্তু সবসময় একটা খটকা থেকে যায়। খটকা এই ইবাদত নিয়ে না, খটকা ঐ ফুটো নিয়ে। ওপাশটা কখনোই দেখেনি সে, কেমন দেখতে ওটা? রাতে ওপাশ পুরো অন্ধকার থাকে, দিনের বেলায় চোখ ধাধানো আলো, আর বাকি সময় সে কাজ করে বেড়ায়। দেওয়ালের ওপাশ দেখার কি আর ফুরসত থাকে?
সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ে সাইফ, আজকে একটু বেশি কাজ করা লাগবে। টাকা জমানো লাগবে, কিছু মসজিদ করছে সাহেবরা, হুজুররা বলেছে এগুলোই মুক্তির পথ। বেশি কামিয়ে এখানে দিতে হবে। 
বেরোতেই রাজুর সাথে দেখা, &#039;কীরে, এত সকালে কোথায় যাস?&#039;
রাজু বরাবরই চুপচাপ, সবসময়ই। কথা কম বলার চেষ্টা করে, এতেই নাকি সে শান্তি পায়, &#039;এইতো, ঘুম ভেঙে গেলো সকাল সকাল, তাই বের হলাম কাজে।&#039;
সাইফ আর কথা বাড়ালো না, নিজেদের মধ্যে যত কম কথা বলা যায়, ততই ভালো। আজকে তাড়াতাড়ি যাওয়া লাগবে, দেখা যাক আজ কোথায় কাজ পাওয়া। 
কোয়ানিপাড়ায় কত দিন ধরে আছে সে? তার মনে নেই, শুধু এটুকু মনে আছে যে সে এখানে কাজ করে। অনেকের থেকেই শুনেছে, এখানে নাকি মানুষ আসে জীবন খুজতে, জীবিকা খুজতে৷ তার জীবনই বা কোথায়, আর জীবিকাই বা কোথায়? 
ঘর থেকে বের হতেই সে এক ভয়ানক দুর্গন্ধ। অবশ্য প্রতিদিনই এই দুর্গন্ধ থাকে, নতুন কিছু না, কিন্তু সকাল সকাল এমন দুর্গন্ধ পেলে খুবই খারাপ লাগে, পেট গুলিয়ে আসে।
কাধে বোচকা নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাটতে থাকে সাইফ। বস্তিটা অনেক বেশি আপন হয়ে গিয়েছে তার। অলিগলি সে চিনে, মাঝে মাঝে দৌড়োতেও চায়, কিন্তু বড়দের এসব করা মানায় না। যারা টাকার জন্য দৌড়ায়, তাদের শক্তি বাচিয়ে রাখতে হয়, খোলা বাতাসে শূন্যতার পিছে দৌড়িয়ে কী লাভ? তাই সে এখন টাকার পিছে দৌড়ায়, দ্বীনের পিছনে দৌড়ায়।
এক বয়স্ক লোককে হেটে আসতে দেখলো সে, ক্লান্ত এক বয়স্ক। আনমনে দীর্ঘশ্বাস নিলো সে, এই লোকটাই তার একটা প্রতিচ্ছবি, তারও কি এমন হবে না একদিন? কোয়ানিপাড়ায় এমনই হয়, কাজ করতে করতে কোথায় হারিয়ে যায় সবাই, কেউ জানে না। এভাবেই একদিন বৃদ্ধ হতে হবে, তখন কী করবে সে? হুজুর বলেছে আখের গুছাতে। সে জানে না কীভাবে, সে শুধু টাকা দেয় মসজিদে। নিজের খাওয়ার জন্য অল্প রেখে বাকিটা দিয়ে দেয়, এটাই নাকি ভালো। 
লোকটাকে কাছে আসতে দেখে সে লোকটার দিকে তাকিয়ে হাসে, হাসতে তার ভালো লাগে, মাঝে মাঝে মানুষের দিকে তাকিয়ে কারণ ছাড়া হাসা ভালো।
লোকটা তার দিকে দুশ্চিন্তায় তাকিয়ে থাকে। সাইফ অবাক হয়, বুড়ো বয়সে আবার কীসের দুশ্চিন্তা? না খেতে পারার? বাসায় না যাওয়ার? নাকি বাসা খুজে না পাওয়ার?
সাইফ আস্তে করে লোকটাকে বললো, &#039;চাচা, বাসা হারায় ফেলছেন?&#039;
লোকটা একবারে কথা বুঝতে পারে না, সাইফ আবার বলে, লোকটা একটু কথা বলে উঠে, &#039;কোয়ানিপাড়া কোথায়?&#039;
অদ্ভুত তো! কোয়ানিপাড়ায় দাড়িয়ে বলে কোথায়, আসলেই সব ভুলে গিলে খেয়ে ফেলেছে, &#039;চাচা, এটাই তো কোয়ানিপাড়া।&#039;
লোকটা আশেপাশে তাকায়, যেন চিনতেই পারছে না, &#039;না না, এটা না, কোয়ানিপাড়া, ওটা কোথায়?&#039;
সাইফ হতভম্ব হয়ে পাশ কাটিয়ে হাটা শুরু করলো। এসব অদ্ভুত মানুষ থেকে একটু আলাদা থাকা দরকার। পোশাক আশাক দেখেই বুঝা যাচ্ছে যে এভাবেই কয়েক বছর কোয়ানিপাড়া খুজতে কোয়ানিপাড়াতে ঘুরে বেড়িয়েছে, হয়তো মাঝেমধ্যে পুলিশের হাতে পড়েছে, নাহলে এভাবে মানুষদেরকে তার মতো হতবুদ্ধি বানাতে চেয়েছে। 
সাইফ দ্রুত হাটতে শুরু করে, এসব রাস্তার সমাচার দেখতে গিয়ে তার তাড়াতাড়ি কাজ করা হলো না আজ, তার চেয়ে এখন দৌড়ানোই ভালো।
দৌড়ানোর ফলে একটা সুবিধা হলো, সময়মতো পৌছানো গেলো। লাইন এখনো ছোট, মানুষজন এখনো বেশি আসেনাই। যাক, ভালোই হলো দৌড়ানো, গায়ের কিছু গ্রাম চর্বি ঝরলো।
লাইনে এসে দাড়িয়ে রইলো সে, বেশিক্ষণ লাগলো না কাউন্টারে যেতে।

- নাম?
- সাইফ।
- লাস্ট কবে আসছিলে?
- কালকে।
- কালকে কী করছিলে?
- ড্রাইভার ছিলাম।
- আজকেও কি আগের কাজে যাবা?
- না ভাই, অন্য কিছু দেন।
- আচ্ছা, বসো।

একটা ছোট চেয়ারে বসলো সাইফ। খুব অবশ লাগছে, অবসাদও, তাড়াতাড়ি কোনো কাজ পেলেই হয়, কাজের আগের ক্লান্তি থেকে কাজের পরের ক্লান্তিতে মজা আছে।
একটু চোখ বন্ধ করলো সাইফ, খুব বেশি ক্লান্ত লাগছে। হয়তো দৌড়ানোর কারণে, এত বেশি দৌড়াদৌড়ি কখনো করেনি সে। 
চারপাশ অন্ধকার, সন্ধ্যা হয়ে গেলো নাকি? এত তাড়াতাড়ি? কীভাবে?
কাউকেই তো দেখতে পাচ্ছে না সে, এত বেশি অন্ধকার কেন? এতটা রাত হয়ে গেছে? সে কি কিছু কামিয়েছে?
সে আশেপাশে তাকালো, কোথাও কেউ নেই। একটু দূরে কেউ একজন বসে আছে, কেউ একজন, সে ঠিকমতো দেখতে পারছে না তাকে। কে এই লোকটা?
সাইফ উঁচু গলায় বললো, &#039;ভাই, এখন কার সিরিয়াল চলে?&#039;
লোকটা বলে উঠলো, &#039;উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ&#039;
সাইফ আঁতকে উঠলো, এসবের মানে কী? এমন কথা কেন?
যখন সাইফের ঘুম ভাঙলো, ভরদুপুর চলছে। সে তার চেয়ারে বসেই আড়মোড়া ভাঙলো। 
খেয়াল করলো, তার হাতে আজকের ওয়ার্কপ্লেসের কাগজ হাতে ধরায় দিয়ে গেছে। 
কাগজটা খুলে দেখলো, ঠিকানা দেওয়া। ক্লাস নাইনের এক মেয়ে, পড়াতে হবে।
খুশি হয়ে গেলো সাইফ। এটায় যদি ঠিকমতো দেখাতে পারে, তাহলে পার্মানেন্ট হয়ে যেতে পারবে, অন্ততপক্ষে কয়েকমাসের জন্য। 
তাড়াতাড়ি উঠে হাতমুখ ধুয়ে নিলো সাইফ। ক্লাস নাইনের কিছু মনে আছে? কী ছিলো? পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, হ্যা হ্যা, মনে পড়েছে। এটাই সুযোগ, নিজের আখের গুছিয়ে নেওয়ার।
এড্রেসটায় পৌছোতে খুব বেশিক্ষণ লাগলো না। খুবই নিরিবিলি বাসা, দরজায় যেতেই রাজুকে দেখতে পেলো সে।
সাইফ খুবই অবাক হলো, সে রাজুকে এখানে দেখবে এমন ভাবেনি, &#039;কীরে, এখানে কাজ পড়ছে?&#039;
রাজু মাথা নাড়ালো, &#039;হ্যা, মালিকের মেয়েকে পড়াতে হবে।&#039;
আরো বড় খটকা লাগলো সাইফের, &#039;আমাকেও তো বললো মেয়েকে পড়াতে।&#039;
দুজনই হতভম্ব হয়ে দরজায় দাড়িয়ে রইলো। তাদের হতভম্ব সময় ঘুচিয়ে দিতে দরজা খুললো বাসার মালিক।
মালিক ফোনে কারো সাথে কথা বলছিলো, &#039;...হ্যা হ্যা, দুজনই এসেছে...আচ্ছা...আচ্ছা ওদের বলছি, আপনি তাড়াতাড়ি ডিসিশন দেন...আচ্ছা, দ্রুত...রাখি, আসসালামু আলাইকুম।&#039;
লোকটা তাদের বললো, &#039;তোমরা কোয়ানিপাড়া থেকে এসেছো, না?&#039;
দুজনই মাথা নাড়লো। লোকটা একটু কেশে বললো, &#039;ওরা কল দিয়েছিলো, বললো যে ভুলে নাকি দুজনকেই এক জায়গায় এসাইন করে ফেলেছে। এখন ওরা ডিসিশন নিবে যে এটা নিয়ে কী করবে, ততক্ষণ তোমরা এই উঠানে বসো, ওপাশে চেয়ার রাখা আছে।&#039;
কী আর করার, আপাতত উঠানেই বসে রইলো দুজন।
সাইফ বুঝতে পারছে না, আজকে ঠিক কতটা এলোমেলো লাগছে তার। নিজের মতো কাজ করতো, কামাই করতো, কিছু নিজের, কিছু আল্লাহের জন্য, নেকি কামানোর জন্য। জীবনটা ভালো ছিলো। হঠাৎ বেশি পাওয়ার চেষ্টা, তার উপর সেই বয়স্ক লোকটা, সবকিছুই আজ এলোমেলো লাগছে। 
সাইফ ভাবলো, এই রাজু ছেলেটা কেমন? তাকে কখনো এতটা কথা বলতে দেখেনি সে। সবসময় চুপচাপ, নিজের মতো। মনে হয় না তার কোনো মাথাব্যথা আছে এসবে, তার টাকা কামানোর মতো একটা পথ পেলেই হয়। কিন্তু সাইফ, তার এটাই লাগবে, কিছু মাসের জন্য হলেও পার্মানেন্ট হওয়া লাগবে। 
সাইফ আস্তে করে রাজুকে বললো, &#039;আচ্ছা, একটা হেল্প করবি?&#039;
রাজু তার দিকে তাকালো।
সাইফ তার দিকে ঝুকলো, &#039;আচ্ছা, আমার এই কাজটা পাওয়া অনেক বেশি দরকার রে। দেখ, তুই এটা ছেড়ে দে। আমি খুব বিপদে আছি রে, এমন কোনো কাজ পেলে একটু সেটেল হতে পারবো, দেখ, প্লিজ।&#039;
রাজু কিছু না বলে মাথা নাড়ালো। সম্মতির মাথা নাড়ানো এটা, খুশি হলো সাইফ। &#039;আমি তাহলে স্যারকে বলে আসি, দাড়া,&#039; বলে উঠে পড়ে সে। কিছুদূর যেতেই রাজু বলে উঠে, &#039;সাইফ।&#039;
সাইফ পিছনে ফিরে তাকায়।
রাজু নিচে তাকিয়ে বললো, &#039;তুই কি কখনো অদ্ভুত স্বপ্ন দেখিস?&#039;
সাইফ দাড়িয়ে রইলো, সে তো দেখে। সেই অদ্ভুত লোক, সেই অদ্ভুত ভাষা। 
রাজু বললো, &#039;দেখিস।&#039;
সাইফ বললো, &#039;হ্যা, দেখি। কেউ একজন আমাকে কিছু একটা বলেছে, অন্য ভাষায়।&#039;
রাজু জিজ্ঞেস করলো, &#039;কী বলে?&#039;
সাইফ বললো, &#039;উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ&#039;
রাজু ভাবে, &#039;তোর কি কখনো মনে হয় না, কেন দেখি এটা আমরা?&#039;
সাইফ চুপ করে রইলো।
রাজু বলে চললো, &#039;তোর কি তোর ছোটবেলার কথা মনে আছে?&#039;
সাইফ বললো, &#039;না তো, মনে নেই।&#039;
রাজু দীর্ঘশ্বাস ফেললো, &#039;বলতো, আমাদের রুমে যে ফুটো থাকে আলো দেওয়ার জন্য, সেটার ওপাশে কী থাকে?&#039;
সাইফ চুপ করেই রইলো।
রাজু বলছে, &#039;কখনো কি মনে হয়েছে, তুই কি আসলেও মুসলিম কিনা?&#039;
সাইফ বললো, &#039;এমন কেন মনে হবে?&#039;
রাজু ভাবলো, &#039;তোর নিজের ছোটবেলার কথা মনে নেই। মানে তোর শুধু মনে আছে কোয়ানিপাড়ায় আসার পর থেকে হওয়া সবকিছু, এর আগে তুই কেমন ছিলি, তোর ধর্ম কী ছিলো, মনে আছে?&#039;
সাইফ চুপ করে রইলো, আসলেও তো কিছু মনে নেই।
রাজু বলে চললো, &#039;এখন আমরা একটা প্রোবাবিলিটি নিয়ে আছি যে আমরা এই জীবনটা বেছে নিয়েছি। আমরা ধরে নিয়েছি যে আমরা নিজেরাই এখানে নিজ ইচ্ছায় এসেছি। অন্য কোনো পসিবিলিটি ভাবি না কেন?&#039;
সাইফ কিছু বলতে পারলো না।
রাজু বলতে থাকলো, &#039;আচ্ছা, তোর স্বপ্নের ওগুলো, ওগুলো কি হিন্দুদের পূজো করার শ্লোকের মতো না? সব ধর্মেই কিন্তু বলে যে উপরওয়ালা আছে। তুই ধর্ম নিজে বেছে নিতে পারবি, কিন্তু তুই কি আদৌ ইসলাম বেছে নিয়েছিস?&#039;
সাইফ দাড়িয়েই রইলো। আসলেও তো সে এটা বেছে নেয়নি। সে জানেও না সে কিভাবে মুসলিম। জন্মসূত্রে? জন্মেরই তো কথা মনে নেই।&#039;
রাজু উঠে দাড়ালো, &#039;একবার ভেবে দেখ, তোর মুসলিম হওয়ায় ফায়দা কাদের? কোয়ানিপাড়ার। কেন? তুই ওখানে পার্মানেন্টলি থাকিস। তোর তাদের মসজিদেই যাওয়া লাগে, তাদের ওখানেই টাকা দেস। টাকাটা কোথায় যায়, ভেবেছিস? আমি কখনোই বলি না যে ইসলাম খারাপ, তবে কিছু স্বার্থান্বেষী মুসলিম যে নেই, তার কোনো গ্যারান্টি আছে?&#039;
সাইফ তার দিকে তাকালো, &#039;তাহলে আমরা?&#039;
রাজু দীর্ঘশ্বাস ফেললো, &#039;আমি জানি না, আমি তো এটাও জানি না যে কোয়ানিপাড়া কী, এটার পিছনে কী চলছে। আমি জাস্ট ভাবলাম, এমন পসিবিলিটি থাকতে পারে না? বাট ক্ষতি কাদের হচ্ছে? আমাদের, যারা শুধু একদিকে বিশ্বাস করে এগোচ্ছে।&#039;
সাইফ চুপ রইলো।
রাজু বললো, &#039;নিজেকেই দেখ। তোর স্বপ্নের কথাগুলো যদি তোর ধর্ম হয়, তাহলে কি তুই ভুল করছিস না? আমি জানি না ওটা সত্য কিনা, কিন্তু যদি সত্য হয়, তাহলে তুই ভুল লক্ষ্যে যাচ্ছিস না? এত পরিশ্রমের লাভ কী?&#039;
সাইফ আর কিছু বুঝতে পারলো না, সে দৌড়ে ওখান থেকে বেরিয়ে এলো।
রাজু ভুল বলেনি। সাইফ কোনো প্রমাণ ছাড়াই বিশ্বাস করে, এটা যদি মিথ্যা হয়, তাহলে তার উপরওয়ালা তার উপর রাগ করবে না? তার জীবনের লক্ষ্য কী? সে এখানে কেন? কোয়ানিপাড়া কী? দেওয়ালের পিছে কি ছিলো, যা ফুটো দিয়ে দেখা যেতো না? সে কোথায় আছে? কোয়ানিপাড়া কোথায়? কোথায়?

পরিশিষ্টঃ
চায়ের কাপের দিকে তাকিয়ে আছে রাজু। কী একটা অদ্ভুত দিনটাই না গেলো।
পাশে বসা ইরা জিজ্ঞেস করলো, &#039;কী ভাবছেন ভাইয়া?&#039;
রাজু তার দিকে হেসে বললো, &#039;আজাইরা জিনিস ভাবছিলাম। তোমার অংক কতদূর?&#039;
ইরা বললো, &#039;আগে বলেন কী ভাবছিলেন?&#039;
রাজু তার দিকে ফিরে বসলো, &#039;তিনটা লাইফ লেসন। প্রথমত, প্রত্যেক মানুষের একটা না একটা উইয়ার্ড ড্রিম থাকে। দ্বিতীয়ত, সব রুমেই ভেন্টিলেশনের জন্য রাস্তা থাকে, এটাকে বড় কিছু ভাবার দরকার নাই। তৃতীয়ত, একজন মানুষ যদি চায়, সহজেই যেকোনো কাউকে ম্যানিপুলেট করতে পারে।&#039;
ইরা হাসলো, &#039;তা ভাইয়া হঠাৎ এগুলো মাথায় আসলো কেন?&#039;
রাজু বললো, &#039;এক ফ্রেন্ডের কথা মনে পড়লো, কী জানি বলে বেড়ায়, উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ, অদ্ভুত।&#039;
ইরা মাথা চুলকালো, &#039;এতে উইয়ার্ডের কী আছে? এটা তো সংস্কৃত ভাষা।&#039;
রাজু অবাক হলো, &#039;তাই নাকি? অর্থ কী এটার?&#039;
ইরা কিছুক্ষণ ভাবলো, &#039;উমম, অর্থ হলো, উঠুন, জাগুন, এবং দৌড়াতে থাকুন, যতক্ষণ না ইচ্ছেপূরণ হয়।&#039;
রাজু চুপ রইলো। উঠুন, জাগুন, দৌড়ান? ব্যাপক কাকতালীয় ব্যাপার।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/211144/</link>
				<pubDate>Mon, 01 Apr 2024 12:51:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8216;উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ&#8217;<br />
&#8216;উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ&#8217;<br />
&#8216;উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ&#8217;<br />
&#8216;উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ&#8217;</p>
<p>আর ঘুমোতে পারলো না সাইফ, ঘুমের মাটি হয়েই গেলো। এমন হুটহাট স্বপ্নে অদ্ভুত ভাষায় এভাবে কেউ ধমক দিলে কীভাবে ঘুম থাকবে? আচ্ছা, কে ছিলো? চেহারা দেখা যাচ্ছিলো না, কিছুই বুঝা যাচ্ছিলো না,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-211144"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/211144/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d9060fe5848e90fcfb141fb36368a060</guid>
				<title>স্বর্গের কান্না

&#039;কতক্ষণ হলো?&#039;
&#039;কয় ঘণ্টা?&#039;
&#039;কত মাস?&#039;
আস্তে আস্তে চোখ খুললো নীরব। অবশ্য চোখ খুলে খুব একটা লাভ হলো না, চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার। এমন অন্ধকার শেষ কবে দেখেছিলো সে? মনে নেই।
হয়তো এক রাত্রে, তার ছোটবেলার রাত। সে সবসময় ভয় পেতো, অন্ধকারের ভয়। সেই রাত্রেও ভয় পেয়েছিলো। তারপর থেকে আর দেরিতে ঘুমোতে যায়নি সে। কী হয়েছিলো সেদিন রাতে? তার মনে নেই।
অথবা সেই রাত? সেই এক স্মরণীয় ক্যান্ডেললাইট ডিনার। সে, সাথে আনিকা। রাতটার মাঝে এক অন্যরকম সখ্যতা আছে তার। তার এক বোকামি, আনিকার এক ঝাড়ি, আনিকার চুল থেকে কালো ক্লিপটা খুলে রিং বানানো, সেই দুই টাকার রিং দিয়ে তাকে সারাজীবনের জন্য চাওয়া। রাতটার সাথে সখ্যতাটা নিঃসন্দেহে গভীর। এটা শেষ অন্ধকার রাত? তার মনে নেই।
তার শুধু একটাই রাত মনে পড়ে। সে রাত অতটা গভীর ছিলো না, অতটা অন্ধকার ছিলো না। রাতটা এক সাদামাটা রাত ছিলো। শাহরিয়ারের বিয়ে ছিলো, নীরবের বন্ধুদের মধ্যে শেষ বিয়ে, শেষবারের মতো বাচ্চাদের মতো জুতো লুকোনো, জুতো খোঁজা। 
বিয়ে শেষে গাড়িতে করে আসছিলো নীরব আর আনিকা। দিনটা ভালো ছিলো, রাতটা আরো সুন্দর। আনিকা সবসময়ের মতো চঞ্চল, নীরব সবসময়ের মতোই ঘুমন্ত। 
রাত, তারা দুজন, আর একটা মাঝারি গাছের গুড়ি। এটাই বারবার মনে পড়ছে নীরবের। সে দূর থেকে গুড়িটা দেখতে পায়নি। আনিকা দেখেছিলো, চিৎকার দিয়েছিলো। নীরব বুঝতে পারেনি চিৎকারের মর্মার্থ, যতক্ষণে বুঝেছে, ততক্ষণে দুর্ঘটনার প্রথম পর্যায় শুরু। 
আর কিছুই মনে নেই নীরবের। সে কোথায় ছিলো, আনিকা কোথায় ছিলো, কিছুই মনে নেই। 
এখানে এত অন্ধকার কেন? অন্ধকারকে খুব মোহনীয় লাগে তার মাঝে মাঝে। এই যে অন্ধকার, এটার শুরুটা কোথায়? এটার উৎপত্তিই বা কোথায়?
না, মাথা ধরছে খুব। একটু চোখ বুজে থাকা উচিৎ। আবার চোখটা বন্ধ করলো নীরব। অবশ্য চোখ খুললেও অন্ধকার, বুজলেও। তার চেয়ে চোখটাকে কিছুক্ষণ শান্তি দেওয়া যাক। 
বেশিক্ষণ অন্ধকার মতো রইলো না। সে চোখ বন্ধ করেই বুঝতে পেলো, বাইরে ব্যাপক আলোকিত হচ্ছে চারপাশ। কেন? কী এলো? সে চোখ খুললো না। চোখ খুললে হঠাৎ অলোর উপস্থিতিতে চোখ ঝলসে যেতে পারে। তার চেয়ে কিছুক্ষণ বন্ধ রেখে আলোয় অভ্যস্ত হিয়ে খুবই ধীরে সুস্থে চোখ খুলা যাবে।
হঠাৎ সে শুনলো, &#039;নীরব, আছো?&#039;
কণ্ঠটা পরিচিত, কণ্ঠটা আনিকার।
নীরব নিজেকেই বিশ্বাস করতে পারলো না। হারিয়ে গেলো চোখের ঝলসে যাওয়া, হারিয়ে গেলো অন্ধকারের আহাজারি। নীরব চোখ খুললো।
নীরব দেখলো, আনিকা তার পাশে বসে আছে, তার দিকে তাকিয়ে আছে। সেই একই আনিকা, সেই পুরোনো চঞ্চল মনের আনিকা, দেখতে একই, কোনো পার্থক্য নেই। 
আনিকা বললো, &#039;ঘুম ভাঙলো?&#039;
নীরব বললো, &#039;তুমি? এখানে?&#039;
আনিকা হাসলো, &#039;কেন? আমার থাকার কথা না? সব ভুলে গেছো?&#039;
নীরব উত্তর দিলো, &#039;হ্যা, ভুলে গিয়েছি।&#039;
আনিকা আরেকটু ঝুকে বসলো, &#039;কী মনে পড়ে?&#039;
নীরব মাথা চুলকালো, &#039;আমরা গাড়িতে ছিলাম, তোমার চিৎকার, এক্সিডেন্ট।&#039;
আনিকা বললো, &#039;আচ্ছা, অনেক মনে আছে। বাকিটা আমি বলছি। সেই এক্সিডেন্টে আমি, উম, আমি মারা গেছি।&#039;
নীরব একটু নড়ে উঠলো। মানে কী? মারা গেছে আনিকা মারা গেছে? তা-তাহলে এটা কে?
আনিকা তার মুখের ভাব দেখে বুঝতে পারলো, &#039;আসলেও আমি মারা গিয়েছি নীরব। কিন্তু তুমি মারা যাওনি, একটুর জন্য বেচে রয়েছো। বেচে থাকা আর মরে যাওয়ার মাঝে রয়েছো। তুমি হাসপাতালে এডমিটেড, তুমি কোমায় আছো।&#039;
নীরবের কাছে সব কথা কেন জানি ঝাপসা মনে হচ্ছিলো। আসলেও কি এগুলো সত্যি?
নীরব জিজ্ঞেস করলো, &#039;এটা কোন জায়গা তাহলে?&#039;
আনিকা বললো, &#039;এটা আমার জায়গা। আমি এখন এখানেই থাকি। চলো দেখাই।&#039;
নীরব না করলো না। না করার কিছু নেই, যতই হোক, আনিকা না হয়ে তার এক সত্তা, তার তৃপ্ত আত্মা হলেও নীরব খুশি। 
এতক্ষণে আলো আসার উৎস দেখতে পেলো নীরব। একটা দরজা, দরজার ওপাশে অনেক আলো, দরজার হালকা ফাঁক দিয়ে আলোগুলো এসে অন্ধকারে ভিড় জমাচ্ছে। অন্ধকার কিছুটা ধুসর দেখাচ্ছে ওখানে। 
তারা দরজার দিকে হাটতে থাকলো, নীরব আনিকার দিকে তাকালো। মেয়েটা মারা গিয়েছে? দুর্ঘটনায়? নীরবের দোষে?
দরজার কাছে এসে ভেতরে ঢুকলো তারা। ঢুকেই চমকে উঠলো নীরব। এ এক অন্যরকম পৃথিবী। আশেপাশে গাছপালা আছে, পাখি আছে, সৌন্দর্য আছে ভরপুর। মানুষজনের কলরবে মুখর এই পৃথিবীটা। কিন্তু কোনো বেদনা নেই কারো মাঝে, সবাই খুশি, সবাই পরিপূর্ণ। সবাই তার নিজের, তার আশেপাশের মানুষজনের প্রতি সন্তুষ্ট। এটা এক ইউটোপিয়ার মতো। এটা একটা, এটা একটা স্বর্গ!
আনিকা তার দিকে তাকালো, &#039;কী মনে হয়? যেটা মনে হয়, সেটাই। এটা আমার থাকার পৃথিবী এখন। এটা আমার স্বর্গ।&#039;
নীরব তাকিয়ে রইলো তার দিকে। কত খুশি আনিকা! মানুষ মরে গিয়েও এতটা খু্শি হতে পারে? কীভাবে?
তারা হাটতে থাকলো। এখানকার গাছগুলো কেমন যেন জীবন্ত সবুজ, রংগুলো খুবই সুন্দর। 
আনিকা নীরবকে নিয়ে এক বেঞ্চে গিয়ে বসলো।
নীরব আনিকাকে দেখলো। আনিকা দেখতে আগের মতোই, তাও যেন কিছু একটা নেই। কী নেই? কী হারিয়ে গিয়েছে?
নীরব আনিকার দিকে তাকালো, &#039;আমাকে চিনতে পেরেছো কীভাবে এখানে?&#039;
আনিকা হাসলো, &#039;চিনবো না কেন? আমার মেমরি হারিয়ে যায়নি তো।&#039;
নীরব হাসলো। বোকার মতো প্রশ্ন ছিলো এটা আসলেও। 
নীরব আনিকার কাছে হাত পাতলো, অনেকদিন আনিকার হাতে হাত ধরে গল্প করা হয় না। শেষ কবে গল্প করেছিলো এভাবে মনে নেই।
আনিকা বুঝতে পারলো না, সে অবুঝের মতো নীরবের দিকে তাকিয়ে রইলো। নীরবের জাছে অদ্ভুত লাগলো। আনিকার হয়েছে কী? এমন আগে কখনো হতো না, কখনোই না। আনিকা এমন ছোট ছোট সংকেত বুঝতো, নিজেই দিতো। 
নীরব বললো, &#039;হাতটা দিবে একটু? অনেকদিন ধরা হয়নি।&#039;
আনিকা তাকালো তার দিকে, &#039;কাল ধরেছিলে।&#039;
নীরব অবাক হলো। কাল? কখন? কাল কী হয়েছিলো? 
আনিকা কিছু বললো না, তার হাত নীরবের হাতের উপর রাখলো। নীরব আর কিছু নিয়ে ভাবতে পারলো না। আনিকার সেই হাত, হাতে এখনো আংটিটা রয়েছে। এ হাতের উষ্ণতা, এ স্পর্শ নীরবের চেনা। এই পরিচয়ে এমন হাজার স্বর্গসময় কাটাতে পারে সে।
সে আনিকার দিকে তাকালো। আনিকার মাঝে যেন কিছুই নেই, সে খুশিও নয়, দুঃখীও নয়। সে যেন এক জড়, এক অদ্ভুত জড়বস্তু।
নীরব জিজ্ঞেস করে, &#039;পৃথিবীকে মিস করো?&#039;
আনিকা বলে উঠলো, &#039;না।&#039;
নীরব অনেক বেশি অবাক হলো, &#039;না? একটুও না?&#039;
আনিকা তার দিকে তাকালো, &#039;নীরব, আমি কাউকেই মিস করি না।&#039;
নীরব চুপ রইলো, তার নামের আসলেও এক সার্থকতা আছে।
আনিকা বলে চললো, &#039;যখন আমি পৃথিবীতে ছিলাম, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসতাম। তোমার কথা ভাবতাম, বাবা মায়ের কথা ভাবতাম। সবার কথা ভাবতাম। আমার সাথে সেই পৃথিবীর সব সম্পর্ক চুকে গিয়েছে। এখন আমি এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। এখানে কারো কোনো ইমোশন নেই, সবাই খুশি। সবাই তৃপ্ত, সবাই নিজের অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট। এখানে কোনো অভাববোধ নেই, কিছুই নেই। আমি জানি তোমাকে আমি কতটা ভালোবাসতাম আগে, কিন্তু, এখন তুমি আমার কাছে শুধুই এক পরিচিত আগন্তুক।&#039;
নীরবের হাত থেকে হাত সরিয়ে নিলো আনিকা। নীরব আবারো শূন্যতা অনুভব করতে পারলো তার হাতের মাঝে। এ শূন্যতা তার কাছে খুবই খারাপ লাগে।
আনিকা উঠে দাড়ালো, &#039;চলো, আরো কিছুক্ষণ হাটি।&#039;
নীরবও উঠে দাড়ালো, হাটতে থাকলো আনিকার সাথে, সেই আগের পথে, সেই অভিশপ্ত দরজার পিছনে।
আনিকা বলে উঠলো, &#039;জানো, স্বর্গে সবাই সুখে থাকে কেন?&#039;
নীরব জানালো, &#039;অভাববোধ নেই বলে?&#039;
আনিকা হাসলো, &#039;না, পিছুটান নেই বলে। পিছুটান নেই বলে সে নিজের মতো থাকে। সম্পর্কের টান নেই বলে সে নিজের সাথে গল্প করতে পারে।&#039;
নীরব দীর্ঘশ্বাস নিলো, &#039;আচ্ছা, তোমরা কাঁদতেও পারো না?&#039;
আনিকা বললো, &#039;না, সে অভিশাপ থেকেও আমরা মুক্ত। এখানে কোনো কান্না নেই, শুধু শান্তি।&#039;
আনমনেই হাসলো নীরব। এটা শান্তি? তাহলে এ শান্তি পেয়ে লাভ কী?
আনিকা বললো, &#039;তুমি একটা জিনিস জানো? তুমি এমন এক জায়গায় এক অভিশাপ। তুমি মারা গেলে এখানে আসতে পারবে কিনা জানি না। কিন্তু তুমি এখনো মারা যাওনি। তাই তোমার মধ্যে এখনো ইমোশন আছে, ফ্ল আছে, সব আছে। এমনকি তোমার মেমরিও ফল্টি। জানো, আমি তোমাকে গত কয়েক বছর ধরে এভাবেই প্রতিদিন ডাকি, তোমার কিছুই মনে থাকে না, তুমি আমার সাথে এসে স্বর্গ দেখো, আমার থেকে এই কঠিন সত্যগুলো শুনো, আবার ঘুমিয়ে যাও। আবার পরেরদিন উঠে পড়ো। তোমার কারণে এই স্বর্গে এক ইমোশনাল এটাচমেন্ট তৈরি হচ্ছে। কথাটা পেইনফুল, তবে সত্য। তাই আশা করি, হয়তো তুমি দ্রুত ঠিক হয়ে উঠবে, আবার আগের মতো পৃথিবীতে হাটবে, চলবে। আর নাহলে মারা গিয়ে স্বর্গ বা নরকে ঠাই করে নিবে। যেটাই হোক, দ্রুত হলেই ভালো। আশা করি তুমি যা চাইবে, তাই হবে।&#039;
নীরব কী চায়? সে তো আনিকাকেই চায়। তাকে কি আর পাবে? স্বর্গে এলেও সে নিজেও অনুভূতিহীন হয়ে পড়বে। তখন কি আর আনিকার অভাবটা তার মাথায় থাকবে?
দরজার কাছে চলে এলো তারা। নীরব আনিকার দিকে তাকালো, &#039;আসি তবে। আমি চেষ্টা করবো যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে যাই। তোমার আর বারবার আমাকে বলার কষ্ট করা লাগবে না।&#039;
আনিকা বলে উঠলো, &#039;অথবা মরে গেলেও এখানে আসতে পারবে। আমরা আবার একসাথেই থাকবো।&#039;
নীরব এক ফাঁকা হাসি দিলো, &#039;না, মরলেও এ স্বর্গে আমার ঠাই হবে না। আমার অভিশাপগুলোর জন্য অভিশপ্ত পৃথিবীটাই ভালো।&#039;
নীরব বের হয়ে এলো দরজা দিয়ে, একইভাবে। আবার অন্ধকার, এখনো ধুসর। সে পিছনে তাকালো। দরজায় আনিকা দাড়িয়ে আছে, হাসিমুখে৷ হয়তো তাকে একটিবার এক ফোঁটা চোখের জলে ভাসতে দেখলেও আবার গিয়ে জড়িয়ে ধরতো নীরব, কিন্তু না, এখানে যে কান্নার বাধা রয়েছে। 
দরজা বন্ধ হয়ে গেলো।
আবারো একই অন্ধকার, আবারো নীরব একা। নীরব খেয়াল করলো, তার নিজের চোখে জল। না, এই মধুর অভিশাপ এখনো রয়ে গেছে, ভালোই তো।
সে হাটু গেড়ে বসে পড়লো, সময়ের সামনে, অসহায় হয়ে। যদি দুর্ঘটনাটা না হতো, কী হতো? একই সাথে বয়স হারাতো তারা দুজন, সুখে, আনন্দে, ঝগড়ায়, ভালোবাসায়।
নীরব চোখ বুজলো। তার আর আলোর দরকার নেই। তার এই আঁধারেই শান্তি, অনেক শান্তি।
সে এক মন ভোলানো ঘুম দিলো।

&#039;কতক্ষণ হলো?&#039;
&#039;কয় ঘণ্টা?&#039;
&#039;কত মাস?&#039;
আস্তে আস্তে চোখ খুললো নীরব। অবশ্য চোখ খুলে খুব একটা লাভ হলো না, চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার। এমন অন্ধকার শেষ কবে দেখেছিলো সে? মনে নেই.....</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17551/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Jul 2021 12:46:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>স্বর্গের কান্না</p>
<p>&#8216;কতক্ষণ হলো?&#8217;<br />
&#8216;কয় ঘণ্টা?&#8217;<br />
&#8216;কত মাস?&#8217;<br />
আস্তে আস্তে চোখ খুললো নীরব। অবশ্য চোখ খুলে খুব একটা লাভ হলো না, চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার। এমন অন্ধকার শেষ কবে দেখেছিলো সে? মনে নেই।<br />
হয়তো এক রাত্রে, তার ছোটবেলার রাত। সে সবসময় ভয় পেতো, অন্ধকারের ভয়। সেই রাত্রেও ভয় পেয়েছিলো। তারপর থেকে আর দেরিতে ঘুমোতে যায়নি সে। কী হয়েছিলো সেদিন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-17551"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/17551/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>