Profile Photo

Rafiur NishanOffline

  • kurianonolatzi
  • Profile picture of Rafiur Nishan

    Rafiur Nishan

    2 years, 2 months ago

    ‘উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ’
    ‘উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ’
    ‘উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ’
    ‘উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ’

    আর ঘুমোতে পারলো না সাইফ, ঘুমের মাটি হয়েই গেলো। এমন হুটহাট স্বপ্নে অদ্ভুত ভাষায় এভাবে কেউ ধমক দিলে কীভাবে ঘুম থাকবে? আচ্ছা, কে ছিলো? চেহারা দেখা যাচ্ছিলো না, কিছুই বুঝা যাচ্ছিলো না, শুধু কথাগুলো শুনতে পাচ্ছিলো সে। এমন কেন হয়?
    ভোর হয়ে গিয়েছে, জানালার অল্প এক ফুটো করা আছে, তা থেকে যতটুকু আলো পারে, যুদ্ধ করে ভিতরে আসে। সাইফ তাদের যুদ্ধ দেখে, আর হাসে, তার যুদ্ধ কি কম নাকি?
    জায়নামাজ পেতে দাড়িয়ে পড়ে নামাজে সে। এ জিনিসটা ভালোই লাগে, প্রশান্তির। কিন্তু সবসময় একটা খটকা থেকে যায়। খটকা এই ইবাদত নিয়ে না, খটকা ঐ ফুটো নিয়ে। ওপাশটা কখনোই দেখেনি সে, কেমন দেখতে ওটা? রাতে ওপাশ পুরো অন্ধকার থাকে, দিনের বেলায় চোখ ধাধানো আলো, আর বাকি সময় সে কাজ করে বেড়ায়। দেওয়ালের ওপাশ দেখার কি আর ফুরসত থাকে?
    সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ে সাইফ, আজকে একটু বেশি কাজ করা লাগবে। টাকা জমানো লাগবে, কিছু মসজিদ করছে সাহেবরা, হুজুররা বলেছে এগুলোই মুক্তির পথ। বেশি কামিয়ে এখানে দিতে হবে।
    বেরোতেই রাজুর সাথে দেখা, ‘কীরে, এত সকালে কোথায় যাস?’
    রাজু বরাবরই চুপচাপ, সবসময়ই। কথা কম বলার চেষ্টা করে, এতেই নাকি সে শান্তি পায়, ‘এইতো, ঘুম ভেঙে গেলো সকাল সকাল, তাই বের হলাম কাজে।’
    সাইফ আর কথা বাড়ালো না, নিজেদের মধ্যে যত কম কথা বলা যায়, ততই ভালো। আজকে তাড়াতাড়ি যাওয়া লাগবে, দেখা যাক আজ কোথায় কাজ পাওয়া।
    কোয়ানিপাড়ায় কত দিন ধরে আছে সে? তার মনে নেই, শুধু এটুকু মনে আছে যে সে এখানে কাজ করে। অনেকের থেকেই শুনেছে, এখানে নাকি মানুষ আসে জীবন খুজতে, জীবিকা খুজতে৷ তার জীবনই বা কোথায়, আর জীবিকাই বা কোথায়?
    ঘর থেকে বের হতেই সে এক ভয়ানক দুর্গন্ধ। অবশ্য প্রতিদিনই এই দুর্গন্ধ থাকে, নতুন কিছু না, কিন্তু সকাল সকাল এমন দুর্গন্ধ পেলে খুবই খারাপ লাগে, পেট গুলিয়ে আসে।
    কাধে বোচকা নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাটতে থাকে সাইফ। বস্তিটা অনেক বেশি আপন হয়ে গিয়েছে তার। অলিগলি সে চিনে, মাঝে মাঝে দৌড়োতেও চায়, কিন্তু বড়দের এসব করা মানায় না। যারা টাকার জন্য দৌড়ায়, তাদের শক্তি বাচিয়ে রাখতে হয়, খোলা বাতাসে শূন্যতার পিছে দৌড়িয়ে কী লাভ? তাই সে এখন টাকার পিছে দৌড়ায়, দ্বীনের পিছনে দৌড়ায়।
    এক বয়স্ক লোককে হেটে আসতে দেখলো সে, ক্লান্ত এক বয়স্ক। আনমনে দীর্ঘশ্বাস নিলো সে, এই লোকটাই তার একটা প্রতিচ্ছবি, তারও কি এমন হবে না একদিন? কোয়ানিপাড়ায় এমনই হয়, কাজ করতে করতে কোথায় হারিয়ে যায় সবাই, কেউ জানে না। এভাবেই একদিন বৃদ্ধ হতে হবে, তখন কী করবে সে? হুজুর বলেছে আখের গুছাতে। সে জানে না কীভাবে, সে শুধু টাকা দেয় মসজিদে। নিজের খাওয়ার জন্য অল্প রেখে বাকিটা দিয়ে দেয়, এটাই নাকি ভালো।
    লোকটাকে কাছে আসতে দেখে সে লোকটার দিকে তাকিয়ে হাসে, হাসতে তার ভালো লাগে, মাঝে মাঝে মানুষের দিকে তাকিয়ে কারণ ছাড়া হাসা ভালো।
    লোকটা তার দিকে দুশ্চিন্তায় তাকিয়ে থাকে। সাইফ অবাক হয়, বুড়ো বয়সে আবার কীসের দুশ্চিন্তা? না খেতে পারার? বাসায় না যাওয়ার? নাকি বাসা খুজে না পাওয়ার?
    সাইফ আস্তে করে লোকটাকে বললো, ‘চাচা, বাসা হারায় ফেলছেন?’
    লোকটা একবারে কথা বুঝতে পারে না, সাইফ আবার বলে, লোকটা একটু কথা বলে উঠে, ‘কোয়ানিপাড়া কোথায়?’
    অদ্ভুত তো! কোয়ানিপাড়ায় দাড়িয়ে বলে কোথায়, আসলেই সব ভুলে গিলে খেয়ে ফেলেছে, ‘চাচা, এটাই তো কোয়ানিপাড়া।’
    লোকটা আশেপাশে তাকায়, যেন চিনতেই পারছে না, ‘না না, এটা না, কোয়ানিপাড়া, ওটা কোথায়?’
    সাইফ হতভম্ব হয়ে পাশ কাটিয়ে হাটা শুরু করলো। এসব অদ্ভুত মানুষ থেকে একটু আলাদা থাকা দরকার। পোশাক আশাক দেখেই বুঝা যাচ্ছে যে এভাবেই কয়েক বছর কোয়ানিপাড়া খুজতে কোয়ানিপাড়াতে ঘুরে বেড়িয়েছে, হয়তো মাঝেমধ্যে পুলিশের হাতে পড়েছে, নাহলে এভাবে মানুষদেরকে তার মতো হতবুদ্ধি বানাতে চেয়েছে।
    সাইফ দ্রুত হাটতে শুরু করে, এসব রাস্তার সমাচার দেখতে গিয়ে তার তাড়াতাড়ি কাজ করা হলো না আজ, তার চেয়ে এখন দৌড়ানোই ভালো।
    দৌড়ানোর ফলে একটা সুবিধা হলো, সময়মতো পৌছানো গেলো। লাইন এখনো ছোট, মানুষজন এখনো বেশি আসেনাই। যাক, ভালোই হলো দৌড়ানো, গায়ের কিছু গ্রাম চর্বি ঝরলো।
    লাইনে এসে দাড়িয়ে রইলো সে, বেশিক্ষণ লাগলো না কাউন্টারে যেতে।

    – নাম?
    – সাইফ।
    – লাস্ট কবে আসছিলে?
    – কালকে।
    – কালকে কী করছিলে?
    – ড্রাইভার ছিলাম।
    – আজকেও কি আগের কাজে যাবা?
    – না ভাই, অন্য কিছু দেন।
    – আচ্ছা, বসো।

    একটা ছোট চেয়ারে বসলো সাইফ। খুব অবশ লাগছে, অবসাদও, তাড়াতাড়ি কোনো কাজ পেলেই হয়, কাজের আগের ক্লান্তি থেকে কাজের পরের ক্লান্তিতে মজা আছে।
    একটু চোখ বন্ধ করলো সাইফ, খুব বেশি ক্লান্ত লাগছে। হয়তো দৌড়ানোর কারণে, এত বেশি দৌড়াদৌড়ি কখনো করেনি সে।
    চারপাশ অন্ধকার, সন্ধ্যা হয়ে গেলো নাকি? এত তাড়াতাড়ি? কীভাবে?
    কাউকেই তো দেখতে পাচ্ছে না সে, এত বেশি অন্ধকার কেন? এতটা রাত হয়ে গেছে? সে কি কিছু কামিয়েছে?
    সে আশেপাশে তাকালো, কোথাও কেউ নেই। একটু দূরে কেউ একজন বসে আছে, কেউ একজন, সে ঠিকমতো দেখতে পারছে না তাকে। কে এই লোকটা?
    সাইফ উঁচু গলায় বললো, ‘ভাই, এখন কার সিরিয়াল চলে?’
    লোকটা বলে উঠলো, ‘উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ’
    সাইফ আঁতকে উঠলো, এসবের মানে কী? এমন কথা কেন?
    যখন সাইফের ঘুম ভাঙলো, ভরদুপুর চলছে। সে তার চেয়ারে বসেই আড়মোড়া ভাঙলো।
    খেয়াল করলো, তার হাতে আজকের ওয়ার্কপ্লেসের কাগজ হাতে ধরায় দিয়ে গেছে।
    কাগজটা খুলে দেখলো, ঠিকানা দেওয়া। ক্লাস নাইনের এক মেয়ে, পড়াতে হবে।
    খুশি হয়ে গেলো সাইফ। এটায় যদি ঠিকমতো দেখাতে পারে, তাহলে পার্মানেন্ট হয়ে যেতে পারবে, অন্ততপক্ষে কয়েকমাসের জন্য।
    তাড়াতাড়ি উঠে হাতমুখ ধুয়ে নিলো সাইফ। ক্লাস নাইনের কিছু মনে আছে? কী ছিলো? পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, হ্যা হ্যা, মনে পড়েছে। এটাই সুযোগ, নিজের আখের গুছিয়ে নেওয়ার।
    এড্রেসটায় পৌছোতে খুব বেশিক্ষণ লাগলো না। খুবই নিরিবিলি বাসা, দরজায় যেতেই রাজুকে দেখতে পেলো সে।
    সাইফ খুবই অবাক হলো, সে রাজুকে এখানে দেখবে এমন ভাবেনি, ‘কীরে, এখানে কাজ পড়ছে?’
    রাজু মাথা নাড়ালো, ‘হ্যা, মালিকের মেয়েকে পড়াতে হবে।’
    আরো বড় খটকা লাগলো সাইফের, ‘আমাকেও তো বললো মেয়েকে পড়াতে।’
    দুজনই হতভম্ব হয়ে দরজায় দাড়িয়ে রইলো। তাদের হতভম্ব সময় ঘুচিয়ে দিতে দরজা খুললো বাসার মালিক।
    মালিক ফোনে কারো সাথে কথা বলছিলো, ‘…হ্যা হ্যা, দুজনই এসেছে…আচ্ছা…আচ্ছা ওদের বলছি, আপনি তাড়াতাড়ি ডিসিশন দেন…আচ্ছা, দ্রুত…রাখি, আসসালামু আলাইকুম।’
    লোকটা তাদের বললো, ‘তোমরা কোয়ানিপাড়া থেকে এসেছো, না?’
    দুজনই মাথা নাড়লো। লোকটা একটু কেশে বললো, ‘ওরা কল দিয়েছিলো, বললো যে ভুলে নাকি দুজনকেই এক জায়গায় এসাইন করে ফেলেছে। এখন ওরা ডিসিশন নিবে যে এটা নিয়ে কী করবে, ততক্ষণ তোমরা এই উঠানে বসো, ওপাশে চেয়ার রাখা আছে।’
    কী আর করার, আপাতত উঠানেই বসে রইলো দুজন।
    সাইফ বুঝতে পারছে না, আজকে ঠিক কতটা এলোমেলো লাগছে তার। নিজের মতো কাজ করতো, কামাই করতো, কিছু নিজের, কিছু আল্লাহের জন্য, নেকি কামানোর জন্য। জীবনটা ভালো ছিলো। হঠাৎ বেশি পাওয়ার চেষ্টা, তার উপর সেই বয়স্ক লোকটা, সবকিছুই আজ এলোমেলো লাগছে।
    সাইফ ভাবলো, এই রাজু ছেলেটা কেমন? তাকে কখনো এতটা কথা বলতে দেখেনি সে। সবসময় চুপচাপ, নিজের মতো। মনে হয় না তার কোনো মাথাব্যথা আছে এসবে, তার টাকা কামানোর মতো একটা পথ পেলেই হয়। কিন্তু সাইফ, তার এটাই লাগবে, কিছু মাসের জন্য হলেও পার্মানেন্ট হওয়া লাগবে।
    সাইফ আস্তে করে রাজুকে বললো, ‘আচ্ছা, একটা হেল্প করবি?’
    রাজু তার দিকে তাকালো।
    সাইফ তার দিকে ঝুকলো, ‘আচ্ছা, আমার এই কাজটা পাওয়া অনেক বেশি দরকার রে। দেখ, তুই এটা ছেড়ে দে। আমি খুব বিপদে আছি রে, এমন কোনো কাজ পেলে একটু সেটেল হতে পারবো, দেখ, প্লিজ।’
    রাজু কিছু না বলে মাথা নাড়ালো। সম্মতির মাথা নাড়ানো এটা, খুশি হলো সাইফ। ‘আমি তাহলে স্যারকে বলে আসি, দাড়া,’ বলে উঠে পড়ে সে। কিছুদূর যেতেই রাজু বলে উঠে, ‘সাইফ।’
    সাইফ পিছনে ফিরে তাকায়।
    রাজু নিচে তাকিয়ে বললো, ‘তুই কি কখনো অদ্ভুত স্বপ্ন দেখিস?’
    সাইফ দাড়িয়ে রইলো, সে তো দেখে। সেই অদ্ভুত লোক, সেই অদ্ভুত ভাষা।
    রাজু বললো, ‘দেখিস।’
    সাইফ বললো, ‘হ্যা, দেখি। কেউ একজন আমাকে কিছু একটা বলেছে, অন্য ভাষায়।’
    রাজু জিজ্ঞেস করলো, ‘কী বলে?’
    সাইফ বললো, ‘উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ’
    রাজু ভাবে, ‘তোর কি কখনো মনে হয় না, কেন দেখি এটা আমরা?’
    সাইফ চুপ করে রইলো।
    রাজু বলে চললো, ‘তোর কি তোর ছোটবেলার কথা মনে আছে?’
    সাইফ বললো, ‘না তো, মনে নেই।’
    রাজু দীর্ঘশ্বাস ফেললো, ‘বলতো, আমাদের রুমে যে ফুটো থাকে আলো দেওয়ার জন্য, সেটার ওপাশে কী থাকে?’
    সাইফ চুপ করেই রইলো।
    রাজু বলছে, ‘কখনো কি মনে হয়েছে, তুই কি আসলেও মুসলিম কিনা?’
    সাইফ বললো, ‘এমন কেন মনে হবে?’
    রাজু ভাবলো, ‘তোর নিজের ছোটবেলার কথা মনে নেই। মানে তোর শুধু মনে আছে কোয়ানিপাড়ায় আসার পর থেকে হওয়া সবকিছু, এর আগে তুই কেমন ছিলি, তোর ধর্ম কী ছিলো, মনে আছে?’
    সাইফ চুপ করে রইলো, আসলেও তো কিছু মনে নেই।
    রাজু বলে চললো, ‘এখন আমরা একটা প্রোবাবিলিটি নিয়ে আছি যে আমরা এই জীবনটা বেছে নিয়েছি। আমরা ধরে নিয়েছি যে আমরা নিজেরাই এখানে নিজ ইচ্ছায় এসেছি। অন্য কোনো পসিবিলিটি ভাবি না কেন?’
    সাইফ কিছু বলতে পারলো না।
    রাজু বলতে থাকলো, ‘আচ্ছা, তোর স্বপ্নের ওগুলো, ওগুলো কি হিন্দুদের পূজো করার শ্লোকের মতো না? সব ধর্মেই কিন্তু বলে যে উপরওয়ালা আছে। তুই ধর্ম নিজে বেছে নিতে পারবি, কিন্তু তুই কি আদৌ ইসলাম বেছে নিয়েছিস?’
    সাইফ দাড়িয়েই রইলো। আসলেও তো সে এটা বেছে নেয়নি। সে জানেও না সে কিভাবে মুসলিম। জন্মসূত্রে? জন্মেরই তো কথা মনে নেই।’
    রাজু উঠে দাড়ালো, ‘একবার ভেবে দেখ, তোর মুসলিম হওয়ায় ফায়দা কাদের? কোয়ানিপাড়ার। কেন? তুই ওখানে পার্মানেন্টলি থাকিস। তোর তাদের মসজিদেই যাওয়া লাগে, তাদের ওখানেই টাকা দেস। টাকাটা কোথায় যায়, ভেবেছিস? আমি কখনোই বলি না যে ইসলাম খারাপ, তবে কিছু স্বার্থান্বেষী মুসলিম যে নেই, তার কোনো গ্যারান্টি আছে?’
    সাইফ তার দিকে তাকালো, ‘তাহলে আমরা?’
    রাজু দীর্ঘশ্বাস ফেললো, ‘আমি জানি না, আমি তো এটাও জানি না যে কোয়ানিপাড়া কী, এটার পিছনে কী চলছে। আমি জাস্ট ভাবলাম, এমন পসিবিলিটি থাকতে পারে না? বাট ক্ষতি কাদের হচ্ছে? আমাদের, যারা শুধু একদিকে বিশ্বাস করে এগোচ্ছে।’
    সাইফ চুপ রইলো।
    রাজু বললো, ‘নিজেকেই দেখ। তোর স্বপ্নের কথাগুলো যদি তোর ধর্ম হয়, তাহলে কি তুই ভুল করছিস না? আমি জানি না ওটা সত্য কিনা, কিন্তু যদি সত্য হয়, তাহলে তুই ভুল লক্ষ্যে যাচ্ছিস না? এত পরিশ্রমের লাভ কী?’
    সাইফ আর কিছু বুঝতে পারলো না, সে দৌড়ে ওখান থেকে বেরিয়ে এলো।
    রাজু ভুল বলেনি। সাইফ কোনো প্রমাণ ছাড়াই বিশ্বাস করে, এটা যদি মিথ্যা হয়, তাহলে তার উপরওয়ালা তার উপর রাগ করবে না? তার জীবনের লক্ষ্য কী? সে এখানে কেন? কোয়ানিপাড়া কী? দেওয়ালের পিছে কি ছিলো, যা ফুটো দিয়ে দেখা যেতো না? সে কোথায় আছে? কোয়ানিপাড়া কোথায়? কোথায়?

    পরিশিষ্টঃ
    চায়ের কাপের দিকে তাকিয়ে আছে রাজু। কী একটা অদ্ভুত দিনটাই না গেলো।
    পাশে বসা ইরা জিজ্ঞেস করলো, ‘কী ভাবছেন ভাইয়া?’
    রাজু তার দিকে হেসে বললো, ‘আজাইরা জিনিস ভাবছিলাম। তোমার অংক কতদূর?’
    ইরা বললো, ‘আগে বলেন কী ভাবছিলেন?’
    রাজু তার দিকে ফিরে বসলো, ‘তিনটা লাইফ লেসন। প্রথমত, প্রত্যেক মানুষের একটা না একটা উইয়ার্ড ড্রিম থাকে। দ্বিতীয়ত, সব রুমেই ভেন্টিলেশনের জন্য রাস্তা থাকে, এটাকে বড় কিছু ভাবার দরকার নাই। তৃতীয়ত, একজন মানুষ যদি চায়, সহজেই যেকোনো কাউকে ম্যানিপুলেট করতে পারে।’
    ইরা হাসলো, ‘তা ভাইয়া হঠাৎ এগুলো মাথায় আসলো কেন?’
    রাজু বললো, ‘এক ফ্রেন্ডের কথা মনে পড়লো, কী জানি বলে বেড়ায়, উতিস্থতঃ জাগ্রতঃ, প্রাপ্য ভরন্নিবোধতঃ, অদ্ভুত।’
    ইরা মাথা চুলকালো, ‘এতে উইয়ার্ডের কী আছে? এটা তো সংস্কৃত ভাষা।’
    রাজু অবাক হলো, ‘তাই নাকি? অর্থ কী এটার?’
    ইরা কিছুক্ষণ ভাবলো, ‘উমম, অর্থ হলো, উঠুন, জাগুন, এবং দৌড়াতে থাকুন, যতক্ষণ না ইচ্ছেপূরণ হয়।’
    রাজু চুপ রইলো। উঠুন, জাগুন, দৌড়ান? ব্যাপক কাকতালীয় ব্যাপার।

    6
    3 Comments
    • ‘উঠুন, জাগুন, এবং দৌড়াতে থাকুন, যতক্ষণ না ইচ্ছেপূরণ হয়।’
      – চমৎকার গল্প। শেষটা ভালো হয়েছে।

    • চমৎকার একটা ম্যাসেজ আছে গল্পটায়! ভালো লাগলো খুব!

    • পড়তে পড়তে কথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছিলাম। অসাধারণ লেখা।

Skip to toolbar