<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | MD.khalid Saifullah Sade | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/md-khalidsaifullahsade/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/md-khalidsaifullahsade/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for MD.khalid Saifullah Sade.</description>
	<lastBuildDate>Sun, 21 Jun 2026 12:51:32 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">a8bbe29cb8d8552a2531ff7997357787</guid>
				<title>MD.khalid Saifullah Sade and রাদ আহমদ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/4963/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Mar 2021 07:58:10 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">57b7643267b53e35925a5cef5af4cac3</guid>
				<title>MD.khalid Saifullah Sade and Shahria are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/4798/</link>
				<pubDate>Mon, 22 Mar 2021 02:37:26 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b2daa08f7921b305b1a4c5861f990e87</guid>
				<title>MD.khalid Saifullah Sade and Mahmuda Sultana are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/4797/</link>
				<pubDate>Mon, 22 Mar 2021 02:02:58 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7df9de2b77a844c633424f6d4248848c</guid>
				<title>MD.khalid Saifullah Sade and BM Delowar are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/4780/</link>
				<pubDate>Sun, 21 Mar 2021 18:03:28 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6430eb05de15ba6587903c21ccf5808d</guid>
				<title>MD.khalid Saifullah Sade and Md.Masud ahmed are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/4766/</link>
				<pubDate>Sun, 21 Mar 2021 16:35:48 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">474f76e2f7a51e19114c070058647c7e</guid>
				<title>(ভৌতিক গল্প)
কে?
ফাহিম আবরার

ঘটনাটা একবার ঘটলে কথা ছিল না। কিন্তু পরপর দুই রাতের একই ঘটনা ইমাম মোবারক আলীকে বেশ দুশ্চিন্তায় ফেলে দিল। তাঁর দৈনন্দিন আমলে নিশ্চয় বিরাট কোনো ভুল হচ্ছে। আর এই ভুলের কারণেই বোধহয় তাঁর রাতের এবাদত কবুল হচ্ছে না। কেবলার দিক বাদ দিয়ে দক্ষিণ দিকে মুখ করে নামাজ পড়লে সেই এবাদত কবুল হয় কী করে!
ইমাম মোবারক আলী গভীর রাতে উঠে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে গিয়ে দিক নির্ণয় করতে পারেন না। পশ্চিম দিক মনে করে নামাজে দাঁড়াতেই অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পর তিনি টের পান যে তিনি দক্ষিণমুখী হয়ে আছেন।
ইমাম এশার নামাজ পড়িয়ে তওবা-ইস্তেগফার জপতে জপতে কাঁচা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। নিশুতি রাত। চারিদিকের গাঢ় অন্ধকার যেন জাপটে ধরেছে। চাঁদের দেখা নেই। বিশাল আকাশের এ-মোড় থেকে ও-মোড় পর্যন্ত অগুনতি তারা মিটিমিটি খেলায় মেতে উঠেছে। বর্ষার দিন প্রায় শেষের দিকে। বৃষ্টি-বাদলা কিছুটা ধরে এসেছে। এবড়ো-থেবড়ো রাস্তায় প্রায় হোঁচট খেতে খেতে চলতে হচ্ছে ইমাম মোবারক আলীকে।
শাহজাহান মিয়ার বাড়ি ঘেঁষে রাস্তাটা মোড় নিয়েছে। ওই বাঁকটা পেরিয়ে একটু সামনে এগুলেই বেত-ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ইমাম মোবারক আলীর দোচালা টিনের ঘরটা চোখে পড়বে। দিনের আলোতেও প্রথমবার কেউ এলে বাড়িটা ঠিক ঠিক চিনে বের করতে পারবে না।
বাড়ির উঠোনে পা রাখতেই কুপির কাঁপা কাঁপা আলো টের পেলেন ইমাম। তাঁর স্ত্রী রোখসানা স্বামীর জন্য ভাত বেড়ে শুয়ে পড়েছে। দরজার পাশেই বিরাট জলচৌকি পেতে রাখা আছে, সাথে পানিভর্তি গামলা। দুই পা সম্পূর্ণরূপে ঘঁষে-মেজে ধুয়ে তবেই ঘরে ঢুকতে পারবেন তিনি। বর্ষাকালে রোখসানার এটাই নিয়ম। আজ সারাদিন বৃষ্টি হয়নি, তবুও ইমামকে এই নিয়ম পালন করতে হবে।
রোখসানার বাতের ব্যামো আছে। রাতটা বড্ড জ্বালায়। সন্ধ্যার পরপরই সে খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে ব্যথায় কাতর রোখসানা চিৎকার করতে থাকে। ইমাম মোবারক আলী কী করবেন ভেবে পান না। তাঁকে তখন পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় প্রাণী বলে মনে হয়।
ইমাম খেতে বসেছেন। ডালের মধ্যে লবণ কম দেয়া হয়েছে। কেমন বিস্বাদ ঠেকছে। তবে এটা নিয়ে ভাববার সময় তিনি পাচ্ছেন না। তাঁর ভেতর বিরাট অস্থিরতা। আজ রাতেও কি সেই অদ্ভুত ঘটনা ঘটবে?
ঘটলে তার করণীয় কী?
ইমাম হাত-মুখ ধুয়ে দ্রুত বিছানায় গেলেন। তাঁর ভেতর দলা-পাকানো ভাতের মতো ভয়টা ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করেছে। তিনি মনে মনে ঠিক করলেন, আজ রাতে এবাদতের জন্যে ঘুম থেকে উঠবেন না। তাহাজ্জুদ নফল এবাদত। এক রাত ছেড়ে দিলে অসুবিধার কিছু নেই। তবুও দীর্ঘদিনের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে ভেবে মনটা খারাপ হয়ে গেল।
শেষ-রাতের দিকে হঠাৎ ঘুম চটে গেল ইমামের। চব্বিশ বছরের পুরনো অভ্যাস। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম ত্যাগ হতে বাধ্য। ইমাম চোখ মেলে সিলিংয়ের দিকে চেয়ে রইলেন। যদিও সিলিং দেখা যাওয়ার কোনো উপায় নেই, মিশমিশে অন্ধকারে নিজের হাতটা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। ইমাম সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন, তিনি নামাজে দাঁড়াবেন। সমস্যা হলো অজুর জন্য যেতে হবে কলপাড়ে। টিউবওয়েলটার অদূরেই বিরাট বেলগাছ। গাছটার ব্যাপারে লোকমুখে নানা কথা শোনা যায়। ইমাম সেগুলো বিশ্বাস না করলেও জায়গাটা ভয় পান। ভুল হয়েছে, সন্ধ্যা রাতেই এক বদনা পানির ব্যবস্থা করে রাখলে ভালো হতো। রোখসানা চিৎ হয়ে বেঘোরে ঘুমোচ্ছে। ইমাম হারিকেনের আলোটা চড়িয়ে দিয়ে রোখসানার গায়ে ফেললেন। ওর মুখটায় মায়া মায়া একটা ভাব লেগে আছে। ঘুমন্ত অবস্থায় কঠিন হৃদয়ের মানুষকেও কোমল বলে মনে হয়।
রোখসানা কিন্তু তাঁর সাথে মোটেও মায়াবী আচরণ করে না। সকাল-বিকাল তাঁর একটাই কাজ, অযথা চিৎকার করে বাড়ি মাথায় তোলা আর তার বাপ কেন এই গেঁয়ো লোকটার কাছে তাকে বিয়ে দিল এটা নিয়ে বাপকে শাপ-শাপান্ত করা। রাতে তার দুটি কাজ, মরার মতো ঘুমানো আর মাঝে মাঝে বাতের ব্যথায় কঁকানো। শেষবার কবে রোখসানার হাসিভরা মুখ দেখেছিলেন মনেই করতে পারলেন না ইমাম মোবারক আলী।
তিনি আয়াতুল কুরসি পড়তে পড়তে টিউবওয়েল চাপছেন। টিউবওয়েলের বিশ্রী ক্যাচ ক্যাচ শব্দ রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে দিয়ে বিরাট জঙ্গলের ভেতর হারিয়ে যাচ্ছে। চারপাশটা যেন কোনোকিছুতে হঠাৎ আটকে গেছে। বাতাস থেমে আছে। লম্বা লম্বা বাঁশগাছগুলো ঠায় দাঁড়িয়ে। ইমামের হঠাৎ মনে হলো বেলগাছের পাতলা ডালগুলো যেন একটু নড়ছে। বাতাস নেই মোটেও। গাছের ডাল নড়ার প্রশ্নই আসে না। প্রচণ্ড ভয়ে ইমাম আয়তুল কুরসি ভুলে গেলেন। তাঁর মনে হলো, আড়াল থেকে কেউ তাঁকে গভীর দৃষ্টিতে দেখছে। বিরাট বিপদ। কোনোরকম পা ভিজিয়ে ঘরে এসে খিল দিলেন।
পশ্চিম দিকের আলমারিটা ভালোভাবে দেখে নিয়ে ওই বরাবর জায়নামাজ বিছালেন ইমাম। কতক্ষণ নামাজে দাঁড়িয়ে ছিলেন জানেন না, হঠাৎ রোখসানার গলার স্বর পেলেন।
‘এ্যাই, এ্যাই…’
ইমামের শরীরের সমস্ত লোম দাঁড়িয়ে গেল। গত দুইরাতের ঘটনা আবার ঘটতে যাচ্ছে। রোখসানা আবার বলে উঠল, ‘এ্যাই, তুমি…তুমি…’
এবার সে খিলখিল করে হাসছে। হাসির দমকে মুখ থেকে আওয়াজ বেরোচ্ছে না।
শীতল, ঠান্ডা একটা স্রোত ইমামের শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে গেল। তাঁর প্রচুর পিপাসা, তৃষ্ণায় বুক ফেটে যাচ্ছে।
রোখসানা এবার পেছন থেকে রীতিমতো ধাক্কা দিতে শুরু করেছে। ‘এ্যাই, তুমি দক্ষিণ দিকে মুখ কইরা নামাজ পড়তাছ কেন?’
আবারও হাসি।
ইমাম মোবারক আলীর পরিষ্কার মনে আছে তিনি কাঁঠাল-কাঠের পুরনো আলমারি বরাবর জায়নামাজ বিছিয়েছিলেন। গত চব্বিশ বছর ধরে আলমারিটার পিঠ পশ্চিম দিক করে রাখা। তিনি যে পশ্চিম দিকে ফিরেই নামাজে দাঁড়িয়েছেন এ ব্যাপারে তাঁর কোনো সন্দেহ নেই। পেছন থেকে রোখসানা ঠেলেই যাচ্ছে, সাথে দাঁত বের-করা ভয়ানক খিলখিল হাসি। এত বছরের সংসারে রোখসানাকে কখনো এভাবে হাসতে দেখেননি তিনি।
ইমাম সেজদার দিক থেকে চোখ তুলে কাঁধ না ঘুরিয়েই ভয়ে ভয়ে চারপাশটা দেখে নিলেন। কয়েক মুহূর্তের জন্য যেন তাঁর হার্টবিট থেমে গেল। তিনি আবিষ্কার করলেন তাঁর জায়নামাজ দক্ষিণ দিকের খোলা জানালা বরাবর হয়ে আছে। মরচে-পড়া শিকের ফাঁক গলে হু হু করে পাগলা বাতাস ঢুকে পড়ছে ঘরে। বাতাসে তাঁর জায়নামাজের এক কোণ উল্টে আছে। না, এ হতে পারে না। এটা অসম্ভব। তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না দক্ষিণমুখী তিনি হলেন কী করে!
তাঁর কি নামাজ ছেড়ে দেয়া উচিত? সূরা ফাতিহাতেও ভুল হচ্ছে। এভাবে নামাজ পড়লে সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ হওয়ার কথা।
ইমাম নামাজ ছেড়ে দিয়ে পেছনে তাকালেন। রোখসানা উধাও। দূরে শোবার ঘরে ঢিমেতালে জ্বলতে-থাকা হারিকেনের আবছা আলোয় তিনি দেখলেন, একটা কায়া যেন দ্রুত সরে গেল। তিনি সোজা শোবার ঘরে এসে দাঁড়ালেন। রোখসানা চিৎ হয়ে ঘুমোচ্ছে। ঠিক যেমনটি তিনি অজু করতে যাওয়ার আগে দেখে গিয়েছিলেন। সজোরে একটা ধাক্কা দিতেই ধড়ফড় করে বিছানায় উঠে বসল রোখসানা। চেহারায় ঘুমের ছাপ স্পষ্ট। চোখমুখ কুঁচকে আছে। বোঝাই যাচ্ছে হঠাৎ ঘুম থেকে ডেকে তোলায় সে বেশ বিরক্ত।
‘কী হইল, ডাকছেন কেন?’
‘ভাত তো বাইড়া রান্ধাঘরে থুয়া দিছি, সেখানে গিয়া খায়া লন।’
‘তুমি আমারে নামাজের পেছনে আইসা ধাক্কা দিলা কেন? আবার জোরে জোরে হাসলাও!’
‘আফনার মাথা-টাথা কি খারাপ হইছে নি? কী কন এইসব আবুল-তাবুল? আমি আমার পায়ের বেদনায় বাঁচি না। মাইঝরাইতে উইঠা আফনার সাথে রঙ-তামাশা করতে যামু কোন দুক্কে?’
‘তাইলে পিছন থাইকা আমার সাথে কথা বলল কে?’
রোখসানা ততক্ষণে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়েছে। কাঁথার ভেতর থেকেই অস্ফুট আওয়াজ এলো—‘আমি জানি না, কে।’

Md. Khalid saifullah sade kurigram

khalidsaifullahalmamuni849@gmail.com</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/4760/</link>
				<pubDate>Sun, 21 Mar 2021 16:22:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>(ভৌতিক গল্প)<br />
কে?<br />
ফাহিম আবরার</p>
<p>ঘটনাটা একবার ঘটলে কথা ছিল না। কিন্তু পরপর দুই রাতের একই ঘটনা ইমাম মোবারক আলীকে বেশ দুশ্চিন্তায় ফেলে দিল। তাঁর দৈনন্দিন আমলে নিশ্চয় বিরাট কোনো ভুল হচ্ছে। আর এই ভুলের কারণেই বোধহয় তাঁর রাতের এবাদত কবুল হচ্ছে না। কেবলার দিক বাদ দিয়ে দক্ষিণ দিকে মুখ করে নামাজ পড়লে সেই এবাদত কবুল হয় কী করে!<br />
ইমাম মোবারক আলী&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-4760"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/4760/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2de991a970d0b6ef55f77c03b51ab801</guid>
				<title>অনুবাদগল্প
রঙ
মূল : আদহাম আদিল
অনুবাদ : মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ সাদি

ছেলেটি জন্ম থেকেই অন্ধ। জন্মের এক বছর না পেরোতেই ডাক্তার তার মাকে জানায়, ‘দুঃখিত মহোদয়া, আপনার ছেলে অন্ধ।’
এরপর পেরিয়ে যায় কয়েক বছর। এক সকালে ছেলেটি তার মাকে প্রশ্ন করে, ‘মা, আমাকে বলো তো রঙ কী?’
ক্ষণিকের জন্য হতভম্ব হয়ে যান মা। দ্বিধান্বিত কণ্ঠে জবাব দেন, ‘রঙ তো রঙই বাবা!’
‘তা তো জানিই। কিন্তু আমি জানতে চাইছি রঙ দেখতে হয় কেমন?’
মা এক ভরাট দীর্ঘশ্বাসমাখা দৃষ্টিতে তাকান তার ছেলের দিকে। ছেলের চোখে ধরা পড়ে না তা। অতঃপর বলেন, ‘রঙ হচ্ছে বস্তুর নাম। যেমন ধরো, লাল রঙ হচ্ছে গিয়ে টুপির রঙ। হলুদ হচ্ছে জামার রঙ। নীল হচ্ছে পাজামার রঙ। সাদা হচ্ছে জুতার রঙ। সবুজ হচ্ছে জ্যাকেটের রঙ আর কালো হচ্ছে গিয়ে বোরকার রঙ।’
এবারে খানিকটা নীরবতা ছেলেটির মুখে। একটুপর সে বলে উঠে, ‘কিন্তু আমি জানতে চাইছি এই রঙ প্রকাশ পায় কীভাবে?’
মায়ের গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে নীরব অশ্রু। তাঁকে ঘিরে নেয় হীমশীতল নীরবতা। এ প্রশ্নের উত্তর তাঁর জানা নেই। জানা ছিল না কখনও।
মা কড়া নাড়েন এক ব্যক্তির দরজায়। লোকেরা বলেছে, তিনি মাদরাসায় শিশুদেরকে পড়ান। দেখা গেল লোকটি দেখতে খাটো হলেও তাঁর আকৃতি বিশাল। যেভাবে ভূমির প্রান্তকে ছুঁয়ে যায় নদীর জল, তেমনি করে বার্ধক্য ছুঁয়েছে তাঁকে। নাকের উঁচুতে ছোট্ট একটি চশমা আর সামনে খুলে রাখা ঢাউস সাইজের একটি বই।
‘কী ব্যাপার নিয়ে এসেছেন জনাবা?’ ভদ্রলোক অত্যন্ত মোলায়েম কণ্ঠে কথাটি বললেন।
মা তখন ব্রীড়াবনত। পেছনে তাঁর সন্তান। বিনীত কণ্ঠে জবাব দিলেন, ‘জনাব, আমার অসহায় ছেলেটির প্রশ্নের কোনো সমাধান আছে কি আপনার কাছে?’
‘কী তার প্রশ্ন? শুনি তো!’ মুচকি হেসে বললেন লোকটি।
মা পেছন থেকে তার ছেলেকে এগিয়ে আনলেন। কাঁধে আদর করে কথা বলতে বললেন তাকে।
‘আমি জানতে চাই রঙ কী?’
প্রশ্নটি করার সময় ছেলেটির দৃষ্টি ছিল পার্শ্ববর্তী দরজাটির দিকে।
লোকটি ভাবনার সাগরে দিলেন ডুব। দীর্ঘক্ষণ পর জবাব দিলেন, ‘বাছা, রঙ হচ্ছে আমাদের অস্তিত্বের নানাবিধ প্রকৃতি। যেমন, লাল হচ্ছে রক্তের রঙ। হলুদ হলো সূর্যের রঙ। নীল রঙ আকাশের। চাঁদের রঙ সাদা। গাছের রঙ সবুজ। আর রাতের রঙ হচ্ছে কালো।’
ছেলেটি তার মেয়ের আঁচল ধরে ফিস ফিস করে বলল, ‘আমাকে নিয়ে যাও এখান থেকে । কিছুই বুঝিনি আমি।’
এক প্রতিবেশী মাকে বললেন, আমি এক জ্যোতিষীর কথা জানি। যিনি দূরের ঐ গ্রামটিতে এক প্রাচীন মন্দিরে থাকেন। তিনি জানেন আকাশ-মাটির রহস্য আছে যত। মা তার অন্ধ ছেলেকে কোলে করে নিয়ে যান সেই দূরের গ্রামে। ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই জ্যোতিষীর দরজায় নাড়েন কড়া।
জ্যোতিষী দেখতে কাঠির মতো ক্ষীণকায়। শুভ্র পরিপক্ক কেশের আড়ে পাহাড়ের মতো লম্বা তার ঝুঁটি। চোখ দুটো কোটরাগত। সরু নাক, কৃষ্ণকায় মুখাবয়ব। শরীরে আঁকা উলকি। পৃথক করা যায় না কোনটি তার বুক, কোনটি তার পেট। তার শরীরজুড়ে অলংকারের দোকান। নববধূর শরীরেও থাকে না এত অলংকার তার অভিসারের রাতে।
মা অভিবাদন জানালেন তাকে। সে মাথা ঝুঁকে প্রত্যুত্তর জানাল। অতঃপর কান্নাভেজা কণ্ঠে মা বললেন, ‘ওহে সাধু, আপনার কাছে আমার অসহায় ছেলেটির প্রশ্নের আছে কি কোনো উত্তর?’
সাধু-শান্তকণ্ঠে জবাব দিলেন, ‘বলুক সে, কী তার প্রশ্ন?’
মায়ের কোল থেকে নেমে ভূমির পৃষ্ঠ ছুঁয়ে ছেলেটি বলল, ‘আমি জানতে চাই রঙ কী?’
সাধু ক্ষণিকের জন্য নীরব থেকে জবাব দিলেন, ‘রঙ হচ্ছে গিয়ে আওয়াজ। লাল হচ্ছে চিৎকারের আওয়াজ। হলুদ আওয়াজ বাতাসের। বৃষ্টির আওয়াজ নীল। শিশুর আওয়াজ সাদা। নিঃশ্বাসের আওয়াজ সবুজ। আর কালো হচ্ছে মৃত্যুর আওয়াজ। এবার বুঝেছ?’
ছেলেটি জড়িয়ে ধরলো তার মাকে। বলল, ‘নিয়ে যাও আমাকে এখান থেকে মা। এই লোকটি আমাকে ভয় দেখাচ্ছে।’
এবার মা তাঁর ছেলেকে রাখলেন বাচ্চাদের গাড়িতে। তাকে নিয়ে চললেন এক জাদুকরের কাছে। দূরের এক কেল্লায় থাকে সে। লোকমুখে শোনা যায়, সে জানে মৃত্যুর মহলের কথা। বরযখের জগতে শাস্তির মুখোমুখি রুহগুলোর হতভম্বকারী প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেয় সে। কিন্তু প্রশ্নের উত্তরের বিনিময়ে সে নেয় মানুষের প্রাণ। প্রশ্নের উত্তরের বিনিময়ে মা নয় তো ছেলে, যে কারও প্রাণের মায়া ছাড়তে হবে এখন। জাদুকরের দাঁড়িয়ে থাকা আর ঝুঁকে থাকা এক সমান মনে হয়। সে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে আবৃত করে রেখেছে এক বৃহৎ ঢোলা চাদর দিয়ে। মাথায় তার বিরাট এক টুপি। শরীর থেকে শুধুমাত্র দুটি হাতই পাচ্ছে পৃথিবীর মুক্ত বাতাস। যে দুটি হাতের আঙুলে আছে দানবীয় নখ।
মা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বললেন, ‘ওহে বিরাট জাদুকর! আমি এসেছি সেই দূরদেশ থেকে। জানতে চাই আমার অন্ধ ছেলেটির প্রশ্নের জবাব আপনার কাছে’।
‘এর মূল্যে কী দিতে হবে জানা আছে কি তোমার?’
টুপির ভেতর থেকে এক ভীতি-জাগানিয়া কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত হলো শব্দগুলো।
‘আমি তা ভালো করেই জানি!’ ছেলেকে শেষবারের মতো আলিঙ্গন করতে করতে উত্তর দিলেন মা। ছেলের গালে লেপে দিলেন মমতার চুম্বন। চোখজুড়ে তাঁর কান্নার ঢল। ছেলেকে মাটিতে বসিয়ে দিয়ে মা মনোযোগী হলেন জাদুকরের দিকে। জাদুকর খুলে দিল তার ঢোলা চাদরের গৃহের দরজা। মা প্রবেশ করলেন তাতে। অতঃপর চাদর দিয়ে চেপে ধরা হলো তাঁকে। ক্ষণিকের চিৎকারের পর মূর্ছা গেলেন তিনি। উড়ে গেল তার প্রাণ বায়ু ধরা ত্যাগ করে।
এবার জাদুকর তাকালেন ভূমির কোলে বসা ছেলেটির দিকে। বজ্রসম কণ্ঠে তাকে বললেন, ‘বলো, কী তোমার প্রশ্ন?’
ছেলেটি শব্দের উৎসের প্রতি লক্ষ্য করে উত্তর দিল, ‘আমি জানতে চাই রঙ কী?’
উত্তর দিতে গিয়ে হয়রান হয়ে গেল জাদুকর। পেল না এই প্রশ্নের কোনো উত্তর। হতাশ হয়ে কাছের বৃক্ষটির ঢালে বসে থাকা বিরাটাকারের ঈগলটিকে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করল ছেলেটিকে ছোঁ মেরে নিয়ে যেতে। ঈগলটি মুহূর্তেই ছোঁ মেরে নিয়ে গেল তাকে। অতঃপর নিক্ষেপ করল তার গ্রামের বিলে।
এরপর নিজ গৃহে একাকী ক্রন্দনরত জীবন কাটল ছেলেটির কয়েক বছর। অপেক্ষায় ফিরে আসবে তার মা। নিয়ে আসবে তার কাঙ্ক্ষিত প্রশ্নের উত্তর। কিন্তু তার প্রশ্নের আসে না কোনো উত্তর। হারিয়ে যাওয়া মা আর আসে না ফিরে। এক বিকেলে সে বসেছিল বিলের ধারে এক কাকতাড়ুয়ার পাশে। এমন সময় এক অপরিচিতা মেয়ে তাকে বলল, ‘কাকতাড়ুয়ার পাশে বসে আছ কেন?’
‘সে যে আমারই মতো’।
‘তা কী করে হয়?’
‘কারণ, সে পারে না কথা বলতে। আর আমি পারি না দু চোখ দিয়ে দেখতে। এই পৃথিবীর উঠোনে আমরা দুজন কেবলই পুতুল’।
‘তুমি কেনই-বা দেখতে চাও?’
মেয়েটি বুঝতে পারল সে খুবই অবান্তর এক প্রশ্ন করেছে। তাই সে দূরে সরে যায় নীরবে।
ছেলেটি জবাব দেয়, ‘কারণ আমি জানতে চাই, কী সেই রঙ?’
‘এটি জানা কি এতই গুরুত্বপূর্ণ?’
‘নিঃসন্দেহে। এর জন্য আমি হারিয়েছি আমার মাকে।’
পথ চলতে চলতে কথা বিনিময় হচ্ছে তাদের। দু কদম হাঁটার পর মেয়েটি চিৎকার করে বলল, ‘থামো, অচিরেই আমি তোমাকে জানিয়ে দেব রঙ আসলে কী?’
ছেলেটি দাঁড়াল। অঙ্গভঙ্গিতে তার নৈরাশ্য। বিদ্রুপমাখা কণ্ঠে সে বলল, ‘সত্যিই?’
মেয়েটি এসে দাঁড়াল ছেলেটির সম্মুখে। চেহারাকে ছেলেটির আরেকটু কাছে নিয়ে গিয়ে প্রক্ষেপণ করলো এক গভীর নিঃশ্বাস। একগোছা চুল এনে ছড়িয়ে দিল ছেলেটির নাকের উপর। ঠোঁট দুটোকে এগিয়ে এনে গভীর অনুরাগে ফিস ফিস করে বলল, ‘কিছু কি টের পাচ্ছ?’
ছেলেটি জবাব দিল, পেন্ডুলামের মতো দুরুদুরু বুকে, রুদ্ধশ্বাস কণ্ঠে, ‘আমি টের পাচ্ছি। আমার বুকের ভেতর প্রবলভাবে দুলে উঠছে কিছু’।
‘এটিই হচ্ছে লাল রঙ।’
ছেলেটি এক ঝটকায় সরিয়ে দিল মেয়েটিকে। আরেকটু হলেই মেয়েটি পড়ে যেত মাটিতে। মেয়েটি সজোর বলে উঠে, ‘ওহে নরাধম অন্ধ।’ অতঃপর ক্ষুরের মতো ধারালো কণ্ঠে সে বলে, ‘এখন তুমি কেমনবোধ করছ?’
‘আমি বুঝেছি, তুমি খুবই নীচ একটি মেয়ে।’ কণ্ঠে তার ভীষণ রাগ।
মেয়েটি জবাব দিল দৃঢ়তার সাথে, ‘এই হচ্ছে হলুদ রঙ।’
এবার মেয়েটি ছেলেটির কাছে এসে বসল। হাতের তালু স্থাপন করল ছেলেটির মাথায়। ভালোবাসায় হাত বুলাতে লাগলো তার চুলে। কণ্ঠে ঢেলে মমতা সে বলল, ‘কান পেতে শোনো ঐ দূরে চড়ুই পাখিদের কিচিরমিচির ধ্বনি।’
ছেলেটি মাথা তুলে তার কর্ণকুহরকে পূর্ণ মনোযোগী করল সেদিকে। মেয়েটি পূর্ণ করল তার কথা, ‘এবার কেমন অনুভব করছ?’
‘প্রশান্তি!’ শান্ত কণ্ঠে ছেলেটির জবাব।
মেয়েটির কন্ঠে তখন উৎফুল্লতা। বলল সে, ‘এটিই হচ্ছে নীল রঙ।’
মেয়েটি এবার তাকালো ছেলেটির বসার ভঙ্গির দিকে। তার ভেতরজুড়ে বয়ে গেল ভীষণ এক মরু সাইমুম। আকাশ ভেঙে কান্না এলো তার। ফোঁটায় ফোঁটায় গড়িয়ে পড়ল তপ্তাশ্রু। ভিজে গেল ছেলেটির হাত। সে হাত উঠিয়ে আনল মেয়েটির গালে। অনুভব করতে তার অশ্রুর কথা। সে বলল, ‘তুমি কি আমাকে দেখে কাঁদছ? আমি আসলেই জানি না, এখন আমি কেমন বোধ করছি?!’
মেয়েটি খিলখিল করে হেসে উঠল এবার। হাসির দ্যুতির সাথে একাকার হয়ে গেল অশ্রুর জল। বলল, ‘এই হচ্ছে সাদা রঙ।’
মেয়েটি এবার দিগন্তে তাকিয়ে দেখে অস্তাচলের লালিমা নিয়ে এসেছে সূর্যাস্তের বার্তা। অতঃপর মৃদু হাসিমাখা কণ্ঠে ছেলেটির কানে কুচক্রীর মতো ফিসফিস করে বলল সে, ‘যখন তুমি বাবা হবে তখন বুঝবে সবুজ রঙ কী?’
এবার বিদায়ের পালা। সে বিদায় জানাল ছেলেটিকে। একটু দূর গিয়ে হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেল। যেন আচমকা মনে পড়েছে কিছু। ছেলেটির দিকে তাকিয়ে দূর থেকেই চিৎকার করে বলল, ‘যখন তুমি প্রথমবার তোমার মাকে হারিয়েছিলে, মনে আছে কি তখন তোমার কেমন লেগেছিল?’
‘হ্যাঁ। আমার তা খুব মনে আছে’। চিৎকার করে জবাব দিল ছেলেটি।
‘সেটিই হচ্ছে কালো রঙ।’
এ কথা বলেই মেয়েটি মিশে যায় অন্ধকারের সাথে।

নবধ্বনি, ঈদসংখ্যা ২০২০-এ প্রকাশিত

khalidsaifullahalmamuni849@gmail.com.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/4484/</link>
				<pubDate>Thu, 18 Mar 2021 10:56:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অনুবাদগল্প<br />
রঙ<br />
মূল : আদহাম আদিল<br />
অনুবাদ : মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ সাদি</p>
<p>ছেলেটি জন্ম থেকেই অন্ধ। জন্মের এক বছর না পেরোতেই ডাক্তার তার মাকে জানায়, ‘দুঃখিত মহোদয়া, আপনার ছেলে অন্ধ।’<br />
এরপর পেরিয়ে যায় কয়েক বছর। এক সকালে ছেলেটি তার মাকে প্রশ্ন করে, ‘মা, আমাকে বলো তো রঙ কী?’<br />
ক্ষণিকের জন্য হতভম্ব হয়ে যান মা। দ্বিধান্বিত কণ্ঠে জবাব দেন, ‘রঙ তো রঙই বাবা!’<br />
‘ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-4484"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/4484/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>