Profile Photo

মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন খান (পিন্টু)Offline

  • mosaddeque
  • বিচিত্র জীবন..
    ধারাবাহীক প্রথম পত্র

    আমার জন্ম পুরান ঢাকার লালবাগে ১৯৫৪ সনে, বাবা তৎকালিন পুর্ব পাকিস্তানের মিলিটারি একাউনটেন্ড অফিসে তখন জুনিয়র একাউন্টেন্ড। আমার দুই বছর বয়সে বাবা করাচি বদলি হয়ে গেলেন, তখন আমরা চার ভাইবোন, দুই ভাই দুই বোন। আমার ভালোভাবে বোধবুদ্ধি হয় নাই। একদিন গাট্ঠি পেটরা বেঁধে ঘোড়ার গাড়ী চড়ে তেজগাঁও পুরানো এয়ারপোর্টে রওয়ানা হোলাম। প্লেনে ঐ বয়সে প্রথম চড়লাম, তবে কিছুই মনে নেই। মায়ের কাছে শুনেছিলাম ,করাচি এয়ারপোর্ট থেকে ও একটা টম টম নামক ঘোড়ার গাড়ীতে ফেডারেল এরিয়ার একটা তিনতলা সরকারী কোয়ার্টারের দোতালায় উঠলাম। ঘোড়ার গাড়ীতে অনেক মালপত্র নেয়া যেত, আমাদের সংসারের প্রচুর মাল পত্র ছিল।
    আমার যখন পাচঁ বছর বয়স তখনকার কিছু স্মৃতি মনে আছে। একদিন আব্বার হাত ধরে স্কুলের পথে রওয়ানা হোলাম, বড় ভাইও ওই স্কুলে পড়তো ক্লাস থ্রিতে, আর আমার বড় বোন মেয়েদের আলাদা স্কুলে ক্লাস ওয়ানে পড়তো, আমাকে কেজি ওয়ানে ভর্তি করানো হোলো। বাংলা মিডিয়াম একটাই স্কুল ছিল। স্কুলের দ্বিতীয় দিন একটা কান্ড করলাম, আমার ছূটী আগে হোতো , স্কুল এর বাড়ান্দায় বসে বড় ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করতাম, সেদিন আমার খুব বাথরুম পেল, স্কুলে টয়লেট থাকে জানতাম না, তাই স্কুল” ছেড়ে বাড়ীর দিকে দৌড় দিলাম, বাড়ী চিনি না, পথেই হাফ প্যান্ট নষ্ট করলাম। ছুটছিলাম, এমন সময় একটা বিল্ডিং এর একতলায় একজন বাংগালী মহীলা নিজের ছেলের ফেরার অপেক্ষায় দাড়িয়ে ছিলেন., আমাকে দেখতে পেয়ে ছুটে এসে আমার হাত চেপে ধরে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কি হয়েছে খোকা?’ আমি কাঁদতে কাঁদতে প্যান্ট দেখালাম, মহীলা একজন মায়াময়ী মা ছিলেন , আমাকে পরম যত্নে পরিস্কার করলেন, গোছল করিয়ে তার ছেলের কাপড় চোপড় পরালেন, আদর করে খাওয়ালেন। আমি আবার ছোটবেলায় কেউ আদর করলে ভূলে যেতাম। উনি আমাকে কোথাও যেতে দিলেননা, উনার স্বামী ছেলেকে নিয়ে ফিরলে সব খূলে বললেন। ভদ্রলোক আমাকে নিয়ে সেখানকার থানায় গেলেন, তখনকার আমলে পুলিশ খুব ভালো ছিল, তখনি খোজ শূরু করলো। ওদিকে আমার মা-বাবা কান্নাকাটি খোজাখূজি শূরু করছেন, বাবা থানায় গেলেন , আর আমাকে দেখে জড়িয়ে ধরলেন। আমার বাবা খুব রাগী ছিলেন , কিন্তু সেদিন তার চোখে পানি দেখলাম।

    মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন খান (পিন্টু )
    ৪১/৪, চান মিয়া হাউজিং , রোড নাম্বার.. ১, মোহাম্মদপুর , ঢাকা-১২০৭.
    মোবাইল 01816803753

    3
    3 Comments
    • শৈশবের সেই বিপদেও লুকিয়ে ছিল অচেনা মানুষের নিঃস্বার্থ মমতার এক অটুট গল্প…..🤍🖤

    • মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন খান (পিন্টু), আপনার ছোটবেলার এই ঘটনাটা পড়ে একদম সিনেমার দৃশ্যের মতো মনে হলো। বিশেষ করে “আমার বাবা খুব রাগী ছিলেন, কিন্তু সেদিন তার চোখে পানি দেখলাম” – এই লাইনটা পড়ে খুব মায়া লাগলো। আপনি নিয়মিত অন্যদের পোস্টে রিঅ্যাক্ট আর কমেন্ট করবেন, তাহলে আমাদের গ্রুপটা অনেক প্রাণবন্ত থাকবে।

    • অতীতের সেই দিনলিপি আর অপরিচিত সেই মায়ের মমতার বর্ণনায় আপনার শৈশবের স্মৃতিগুলো বড়ই মায়াবী এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। আপনার এই লেখায় ফুটে ওঠা মানবিকতা যেন রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের মতোই আমাদের হৃদয়ে এক গভীর প্রশান্তি ও ভালোবাসার ছোঁয়া দিয়ে যায়। অন্যান্য সদস্যদের লেখায় নিয়মিত লাইক বা মন্তব্য করে আমাদের এই সুন্দর ছোট ঘরটিকে প্রাণবন্ত রাখতে আপনি কিন্তু একদম ভুলবেন না।

Friends

Profile Photo
Imran Nazir
@imrannazir
Profile Photo
MIZAN MR
@mizanmr
Profile Photo
MD Akram Hossein
@mdakramhossein
Profile Photo
Ahmed Haider
@ahmedhaider
Profile Photo
Moazzem Milton
@moazzemmilton
Profile Photo
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
Skip to toolbar