Profile Photo

মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন খান (পিন্টু)Offline

  • mosaddeque
  • বিচিত্র জীবন ( দ্বিতীয় পর্ব )

    এরপর যখন বাসায় এলাম আমার মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কি কান্না, আমার বড় বোনটাও খুব কান্না করছিল, আর আমার ছোট বোনটার বয়স তখন মাত্র তিন বছর, ও কিছূ না বুঝে আমাদের দেখছিল। আমরা দোতালায় থাকতাম, নিচে রাস্তা দিয়ে সব্জি ওয়ালা, মাছওয়ালা , ফলওয়ালারা সব সাইকেলে বা ছোট ঠেলাগাড়ী করে ডাকা ডাকি করে যাওয়া আসা করত। আমার মা দোতালার রেলিং থেকে ওদের ডেকে কেনা কাটা করে
    , রশি বেধে ব্যাগে জিনিষ কিনতেন, আবার একি ভাবে টাকা দিতেন। করাচির ফেডারেল এরিয়ার কলোনিতে বহু বাংলাদেশী থাকতেন। আমার মা একদিন ঐ মহীলাকে সপরিবারে দাওয়াত করলেন, যিনি আমাকে এত আদর যত্ন করে নিরাপদে থানায় পৌঁছে দিয়েছিলেন, ঐ মহীলাকে আমি জীবনে কোনোদিন ভুলবনা। উনারও আমার বয়সি একটা ছেলে ছিল। এরপর অনেক বার আমাদের যাওয়া আসা হয়েছিল । আমি ঢাকায় ফিরে এসে উনাদের অনেক খূজেছি, আর পাইনি। তখনতো এতো ফেইসবুক , হোয়াটস এপ ছিলনা। আমি ছোটবেলায় খূব পেটুক ছিলাম। আমাদের বিল্ডিং এর তিন তলায় একটি নব বিবাহিত পরিবার ছিল, মহীলার স্বামী আর্মিতে ছিলেন, তাই মাঝে মাঝে বাড়ী ফিরতেন না, তখন ঐ মহীলা একা ভয় পেতেন বলে আমার মাকে বলে আমাকে মাঝে মাঝে নিয়ে যেতেন, উনার ছেলেমেয়ে ছিল না তাই বাচ্চাদের খুব আদর করতেন। আমি যেতে চাইতামনা বলে, উনি পোলাও মাংস রান্না করে রাখতেন, আমাকে খাইনে খুব আনন্দ পেতেন, কারন আমিও খুব ভালো ভালো খাবার খেতে চাইতাম, কিন্তু আমার বাবা ডায়েট ফূড পছন্দ করতেন, তবে প্রচুর ফল আনতেন। ঐ মহীলা নিজে বেশী খেতেন না, তাই আমার মা’ কে বলতেন , তার বাসায় খাবার লোক নেই, তাই আমাকে খাইয়ে আনন্দ পেতেন । আমার ডাক নাম ছিল পিন্টু , উনি ডাকতেন পিনু বলে, পরে আমার মা’ ও আমাকে পিনু বলে ডাকতেন। তাকেও আমি আজ পর্যন্ত ভুলিনি।
    কিছূদিন পর ছিল কোরবানির ঈদ, ঈদের দিন আমাদের পাশের বিল্ডিং এ একটা অঘটন ঘটে গেল, এক বিহারির একটা ছেলে ও একটা মেয়ে ছিল, ৭/৮ বছর বয়সের, ওরা কসাইকে গরু জবাই করতে দেখে একজন আরেকজনকে ছুরি দিয়ে যখম করে ফেলল, মারা যায়নি কেউ যদিও, কান্নাকাটি , হাউকাউ চেচামেচি, ঈদের আনন্দটা অনেক টা মাটি হয়ে গেল। আরেকটা ঘটনা আজও ভুলি নাই, আমরা সপরিবারে করাচির চিড়িয়াখানা গিয়েছিলাম। সেখানে কয়েকটা কুমিরকে একটা কুপের মত পানি ভরা চৌবাচ্চায় রেখেছিল। এক মা ছোট বাচ্চা কোলে নিয়ে উপুর হয়ে দেখতে গিয়ে ঝটকা দিয়ে বাচ্চাটা কুপে পরে যায়, সে কি হূড়াহূড়ী, বাচ্চা টাকে বাচাবে কি, সবাই দেখার জন্য অস্থির । আমার মা’ও দেখলাম কেদেঁ ফেললেন । এসব ঘটনা আজও ভুলি নাই।

    মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন খান (পিন্টু )
    ৪১/৪, চান মিয়া হাউজিং , রোড নাম্বার.. ১, মোহাম্মদপুর , ঢাকা-১২০৭.
    মোবাইল 01816803753

    ,,.

    2
    3 Comments
    • শৈশবের সেই ছোট্ট স্মৃতিগুলোই থেকে যায় জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সঞ্চয় হয়ে…..🤍🖤

    • আপনার ছোটবেলার এমন অদ্ভুত সুন্দর আর কিছু ভয়াবহ স্মৃতির গল্পগুলো পড়ে একদম চোখের সামনে সব ভেসে উঠল।

    • আপনার শৈশবের ফেলে আসা দিনগুলোর এই জীবন্ত স্মৃতিচারণ পড়তে পড়তে আমি যেন সেই পুরোনো দিনের অলিগলিতেই হারিয়ে গিয়েছিলাম, আর আপনার সহজ-সরল বর্ণনার মাঝে যে মায়া ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তা সত্যিই এক দারুণ অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়; তাই এই চমৎকার লেখনীটুকু আরও একটু গুছিয়ে নিয়ে আপনি চাইলে স্মৃতির পাতা থেকে এমন আরও অমূল্য সব অভিজ্ঞতার কথা আমাদের মাঝে তুলে ধরতে পারেন।

Friends

Profile Photo
Imran Nazir
@imrannazir
Profile Photo
MIZAN MR
@mizanmr
Profile Photo
MD Akram Hossein
@mdakramhossein
Profile Photo
Ahmed Haider
@ahmedhaider
Profile Photo
Moazzem Milton
@moazzemmilton
Profile Photo
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
Skip to toolbar