<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | mueheb samnun | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/muehebsamnun/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/muehebsamnun/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for mueheb samnun.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 26 Oct 2026 09:16:49 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">8d7caca9104cae4bdf06d5313eee20ae</guid>
				<title>বৃষ্টির ওপারে যে মেয়েটি দাঁড়িয়ে ছিল

​বিকেলের বৃষ্টি সব সময় এক নিয়মে নামে না। কোনো কোনো দিন আকাশ ভাঙা জল দেখে মনে হয়, ওপর থেকে কেউ বুঝি বালতি উপুড় করে দিচ্ছে। আবার কোনো কোনো দিন এমন একটা মায়াবী অন্ধকার চারপাশকে ঘিরে ধরে, মনে হয় বহু যুগের জমিয়ে রাখা কোনো দীর্ঘশ্বাস এতদিনে মেঘ হয়ে ঝরে পড়ছে।

​সেদিনও তেমনই একটা দিন ছিল।

​অরিন্দম যখন স্টেশনে পৌঁছাল, তখন লোকাল বাসটার পেছনের চাকা ধুলো আর ধোঁয়া উড়িয়ে চলে গেছে। গ্রামের এই একলা, জরাজীর্ণ স্টেশনঘরে তখন নিঝুম অন্ধকার। ভাঙা টিনের চালের ওপর বৃষ্টির শব্দ হচ্ছিল ঠিক যেন কোনো উন্মাদ জাদুকর হাজারটা আঙুল দিয়ে একসঙ্গে পিয়ানোর রিড চেপে ধরেছে। বাতাসে ভেজা মাটির একটা সোঁদা গন্ধ, তার সঙ্গে মিশে আছে স্টেশনের কাঠের স্লিপার আর মরচে পড়া লোহার একটা আদিম ঘ্রাণ।

​পকেটে হাত দিয়ে একটা সিগারেট খুঁজতে গিয়ে অরিন্দম থমকে গেল। প্ল্যাটফর্মের ঠিক শেষ মাথায়, যেখানে ল্যাম্পপোস্টের আলোটা আবছা হয়ে মরে গেছে, সেখানে কেউ একজন দাঁড়িয়ে।

​একটা মেয়ে।

​মেয়ের পরনে সাদা শাড়ি, পাড়টা গাঢ় নীল। আশ্চর্যের বিষয়, তার মাথায় কোনো ছাতা নেই, অথচ তাকে দেখে মনে হচ্ছে না সে ভিজছে। বৃষ্টির অবাধ্য ফোঁটাগুলো তার শরীরের ঠিক ইঞ্চিখানেক ওপর দিয়ে কেমন যেন অদৃশ্য হয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে।

​অরিন্দম চশমাটা খুলে শার্টের কোনায় মুছে নিল। চোখ কচকে আবার তাকাল। ভুল দেখেনি তো?

​ঠিক তখনই মেয়েটি ঘাড় ফেরাল। সেই মুখে কোনো চঞ্চলতা নেই, ভয় নেই। এক অদ্ভুত, হিমশীতল স্থিরতা।

​অরিন্দম পা বাড়াল। পায়ের নিচে ভেজা জুতো জোড়া চ্যাটচ্যাট শব্দ করছে। কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে সে দাঁড়াল। গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, &quot;এই অসময়ে এখানে? কারও জন্য অপেক্ষা করছেন?&quot;

​মেয়েটি একটু হাসল। সে হাসিতে আলো নেই, শুধু একটা ফ্যাকাশে বিষণ্ণতা লেগে আছে। বলল, &quot;অপেক্ষা তো এই পৃথিবীর সবাই করে। কেউ মানুষের জন্য হাত বাড়িয়ে থাকে, কেউবা স্রেফ একটু সময়ের জন্য।&quot;

​কথাটা শেষ করেই মেয়েটি আবার মুখ ফিরিয়ে নিল রেললাইনের দিকে। ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশটা চিরে একটা তীব্র বজ্রপাত হলো। এক সেকেন্ডের জন্য চারপাশটা খাঁ খাঁ সাদা আলোয় ভেসে গেল।

​আর সেই এক পলকেই প্ল্যাটফর্মের শেষ মাথাটা শূন্য।

​সেখানে কেউ নেই। শুধু বৃষ্টির জল বাতাসের তোড়ে আছাড় খাচ্ছে।

​রাতের দিকে স্টেশনমাস্টারের কোয়ার্টারে বসে যখন চা খাওয়া হচ্ছিল, তখন বাইরে ঝড় আরও জোরালো হয়েছে। বুড়ো স্টেশনমাস্টার হরেনবাবু চিনির বয়ামটা নাড়তে নাড়তে অরিন্দমের কথা শুনছিলেন।

​কথা শেষ হতে হরেনবাবু হাতের চামচটা টেবিলটির ওপর রেখে দিলেন। তাঁর চোখের পলক পড়ছে না। নিচু গলায় জিজ্ঞেস করলেন, &quot;শাড়ির রংটা কী বললেন?&quot;

​&quot;সাদা। পাড়টা নীল।&quot;

​হরেনবাবুর বয়েসের চামড়া কুঁচকানো আঙুলগুলো কাঁপতে শুরু করল। চায়ের কাপটা তুলতে গিয়েও তিনি নামিয়ে রাখলেন। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, &quot;আজ থেকে ঠিক পনেরো বছর আগের কথা। ঠিক এই রকম এক শ্রাবণের রাতে একটা মেয়ে এসে দাঁড়িয়েছিল ওইখানটায়। ডাউন ট্রেনটার থামার কথা ছিল না, সিগন্যালও ছিল ডাউন। মেয়েটা বোধহয় খেয়াল করেনি...&quot;

​&quot;তারপর?&quot; অরিন্দমের বুকের ভেতরটা কেমন যেন খচখচ করে উঠল।

​&quot;পরদিন সকালে ডাউন লাইনের ধারে তাকে পাওয়া যায়। মুখটা চেনা যাচ্ছিল না, শুধু ওই নীল পাড়ের শাড়িটা অক্ষত ছিল।&quot;

​চায়ের কাপ থেকে তখনো ধোঁয়া উঠছে। অথচ অরিন্দমের মনে হলো, তার নিজের হাতের আঙুলগুলো বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। জানলার বাইরে তখন বাঁশঝাড়ের মাথাগুলো বাতাসে আছাড় খাচ্ছে।

​সেই রাতেই স্টেশন লাগোয়া পুরোনো কোয়ার্টারের একটা ঘরে অরিন্দমের থাকার ব্যবস্থা হলো।

​ঘুম আসার কোনো লক্ষণ নেই। ঘরের কোণায় একটা লণ্ঠন জ্বলছে, তার মৃদু আলোয় ছায়াগুলো দেওয়ালে নাচানাচি করছে। জানলার কাঁচ বেয়ে জলের ফোঁটাগুলো একের পর এক গড়িয়ে নামছে, ঠিক যেন কোনো কান্নার দাগ।

​ঠিক মাঝরাতে, যখন চারপাশ একদম নিঝুম, তখন অরিন্দম শুনল—

​টুপ... টুপ... টুপ...

​শব্দটা ওপর থেকে পড়ছে না। বারান্দার কাঠের মেঝেতে কেউ যেন ভেজা পায়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। খুব সাবধানে, যেন কেউ জেগে না ওঠে।

​অরিন্দম বিছানায় উঠে বসল। কপালে একবিন্দু ঘাম। সে পায়ে পায়ে দরজার ছিটকিনিটা খুলল। বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার, কেউ কোথাও নেই।

​কিন্তু লণ্ঠনের আলোটা যখন মেঝেতে গিয়ে পড়ল, অরিন্দমের শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠাণ্ডা স্রোত নেমে গেল। মেঝেতে স্পষ্ট একজোড়া পায়ের ছাপ। ভেজা জলের দাগ।

​পদচিহ্নগুলো বারান্দা থেকে ঘরের ভেতর ঢুকে সোজা গিয়ে থেমেছে ড্রেসিংটেবিলের ওই পুরোনো, পারদ চটা আয়নাটার সামনে।

​অরিন্দম আয়নার দিকে তাকাল। কাঁচের ভেতর তার নিজের পাংশুটে মুখের ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছে আবছা একটা অবয়ব। একটা চেনা মুখ, চেনা শাড়ির আঁচল।

​সে ঝট করে পেছনে ঘুরে তাকাল। শূন্য ঘর। কেউ নেই।

​আবার যখন আয়নায় চোখ ফেরাল, ততক্ষণে কাঁচের ভেতরের ছায়াটা কুয়াশার মতো মিলিয়ে গেছে। রয়ে গেছে শুধু অরিন্দমের নিজের একা, পরিশ্রান্ত প্রতিবিম্ব।

​পরদিন সকালে অরিন্দম আর কলকাতা ফিরে গেল না। তার ভেতরের জেদটা চেপে বসেছে। সে হরেনবাবুকে ধরে স্টেশনের পুরোনো রেকর্ড রুমটা খোলালো। ধুলো আর উইপোকার রাজত্ব সেখানে।

​হলদে হয়ে যাওয়া একটা পুরোনো রেজিস্টারের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে হঠাৎ একটা বিবর্ণ, কোণ ছেঁড়া ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ছবি মেঝেতে খসে পড়ল।

​অরিন্দম ছবিটা তুলে নিল। বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল তার।

​একই টানা চোখ, চিবুকের কাছে সেই চেনা তিল। ছবির পেছনে সস্তা কালিতে, কাঁপানো হাতের অক্ষরে লেখা—

​&quot;বৃষ্টি নামলেই আমি ফিরে আসব।&quot;

​নিচে কোনো নাম নেই, কোনো তারিখ নেই। লেখাটা কার, বোঝার উপায় নেই।

​বিকেলের দিকে মেঘ আবার ঘন হতে শুরু করল। হরেনবাবু বললেন, &quot;আজকের শেষ ট্রেনটা ধরে চলে যান অরিন্দমবাবু। এই স্টেশনের বাতাস ভালো না।&quot;

​অরিন্দম শুনল না। সন্ধ্যার ঠিক আগে, যখন প্রথম ফোঁটাটা টিনের চালে টোকা দিল, সে সোজা গিয়ে দাঁড়াল প্ল্যাটফর্মের সেই শেষ মাথায়।

​বৃষ্টির বেগ বাড়ছে। আর ঠিক তখনই, অন্ধকারের বুক চিরে মেয়েটি আবার এসে দাঁড়াল। সে যেন কোথাও থেকে হেঁটে আসেনি, বৃষ্টির জলকণাগুলো জমাট বেঁধেই তার শরীরটা তৈরি হয়েছে।

​&quot;আপনি কে?&quot; অরিন্দম এবার সোজা জিজ্ঞেস করল। তার গলায় ভয়ের চেয়ে কৌতূহল বেশি।

​মেয়েটি কোনো উত্তর দিল না। তার সেই শান্ত চোখ দুটো দিয়ে সে অরিন্দমের দিকে তাকাল। তারপর খুব মৃদু স্বরে পালটা প্রশ্ন করল, &quot;আপনি কি জীবনে কাউকে হারিয়েছেন?&quot;

​অরিন্দম স্তব্ধ হয়ে গেল।

​তার মায়ের মৃত্যুর পর দীর্ঘ দশটা বছর কেটে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে সে কাউকে জানতে দেয়নি যে, আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামলেই তার বুকের বাঁ দিকে একটা ভীষণ খালি খালি ভাব তৈরি হয়। এই মেয়েটি কীভাবে জানল?

​&quot;যাদের কান্না কোনোদিন শেষ হয় না,&quot; মেয়েটি আকাশের দিকে মুখ তুলে বলল, &quot;বৃষ্টি আসলে তাদের কথা জমিয়ে রাখে। আমি সেই জমানো কথার পাহারাদার।&quot;

​হঠাৎ একটা দমকা হাওয়া এসে অরিন্দমের চশমাটা প্রায় উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই বহুদূর থেকে একটা ট্রেনের চিল চিৎকার শোনা গেল। হুইসেলের শব্দে কান পাতা যায় না।

​কিন্তু এই লাইনে তো এখন কোনো ট্রেন আসার কথা নয়!

​রেললাইনটা কাঁপছে। একটা তীব্র, হলুদ হেডলাইট অন্ধকারের বুক চিরে ধেয়ে আসছে প্ল্যাটফর্মের দিকে। অরিন্দম ভয়ে এক পা পিছিয়ে গেল।

​ট্রেনটা যখন প্রচণ্ড গতিতে প্ল্যাটফর্ম পার হচ্ছে, অরিন্দম জানলার দিকে তাকিয়ে আতঙ্কে জমে গেল। ট্রেনের ভেতরের প্রতিটি সিটে মানুষ বসে আছে। কিন্তু কারও কোনো চোখ-নাক-মুখ নেই। শুধু ফাঁকা, ধোঁয়াটে কিছু সাদা অবয়ব জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।

​এক নিমেষে ট্রেনটি চলে গেল। কোনো আওয়াজ নেই, শুধু একটা হিম বাতাস রেখে গেল পেছনে।

​চারপাশ আবার নিঝুম। মেয়েটি আর নেই।

​তবে সে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, ঠিক সেখানটায় মেঝের ওপর পড়ে আছে একটা তাজা শিউলি ফুল। চারদিকের মেঝেটা জলে ভাসছে, অথচ আশ্চর্যের বিষয়—ফুলটির গায়ে একটাও জলের ফোঁটা লাগেনি। একদম শুকনো, যেন এইমাত্র গাছ থেকে ঝরে পড়েছে।

​কয়েকটা মাস কেটে গেছে। শীত পেরিয়ে আবার যখন বর্ষা নামল, অরিন্দম নিজেকে আর আটকে রাখতে পারল না। সে আবার ফিরে এল সেই স্টেশনে।

​কিন্তু এসে সে চিনতেই পারল না জায়গাটা। পুরোনো কাঠের স্টেশনঘর ভেঙে এখন চুনকাম করা ইঁটের নতুন বিল্ডিং হয়েছে। চায়ের দোকান বসেছে দুটো। হরেনবাবু চাকরি থেকে অবসর নিয়ে কোথায় যেন চলে গেছেন, কেউ বলতে পারল না।

​সেই রহস্যময়ী মেয়ের কথা জিজ্ঞেস করতেই নতুন স্টেশনমাস্টার হেসেই উড়িয়ে দিলেন, &quot;আরে মশাই, ওসব গাঁজাখুরি গল্প। স্টেশন ভাঙার সময় কত পুরোনো কাগজ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, ওসব কিছু না।&quot;

​অরিন্দম আর কিছু বলল না। সে পায়ে পায়ে গিয়ে দাঁড়াল প্ল্যাটফর্মের সেই নতুন ঢালাই করা শেষ মাথায়।

​বিকেলের আকাশটা ধীরে ধীরে কালচে বেগুনি রঙ নিল। প্রথম বৃষ্টির একটা বড় ফোঁটা যখন অরিন্দমের কপালে এসে ছুঁল, ঠিক তখনই তার কানের খুব কাছে একটা চেনা, রেশমি কণ্ঠস্বর ফিসফিস করে বলে উঠল—

​&quot;সব অপেক্ষার তো শেষ দেখা হয় না। কিছু অপেক্ষা শুধু মনে রাখার জন্য বেঁচে থাকে...&quot;

​অরিন্দম চট করে ঘুরে দাঁড়াল।

​কেউ নেই। চারপাশ একদম ফাঁকা।

​কিন্তু এবার আর অরিন্দমের বুকে কোনো ভয় কাজ করল না। একটা অদ্ভুত শান্তি তাকে গ্রাস করল। সে যখন স্টেশন থেকে বেরোনোর জন্য পা বাড়াল, তখন লক্ষ্য করল—কংক্রিটের ভেজা মেঝেতে তার নিজের জুতোর ছাপের ঠিক পাশেই, একজোড়া খালি পায়ের ভেজা চিহ্ন পাশাপাশি হেঁটে চলেছে।

​সে পেছনে তাকালে কিছু দেখা যায় না। কিন্তু সামনে তাকালে পদচিহ্ন দুটো তার সঙ্গেই এগিয়ে চলে। তারপর ধীরে ধীরে ধুয়ে যাওয়া বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে যায়।

​চারপাশে তখন শুধু ঝুম বৃষ্টি। আর অরিন্দমের মনে হতে লাগল, কিছু কিছু মানুষের হয়তো আসলেই মৃত্যু হয়, কিন্তু তাদের অনন্ত অপেক্ষা কোনোদিন শেষ হয় না। তারা রয়ে যায় বৃষ্টির ফোঁটায়, বাতাসের টানে।

--সামনুন হোসেন মুইহেব

এই গল্পটা আমার পেইজ Transloom থেকে নিয়েছি। Transloom আমার একটি ফেইসবুক পেইজ। আমি এই পেইজে বিভিন্ন রকমের সাইক্লোজিক্যাল এবং থ্রিলার টাইপের গল্প লিখি। আপনারা যারা আমার এই গল্পটি পড়বেন, তারা দয়া করে আমার পেইজ Transloom দেখে আসতে পারেন। এবং, আমার পেইজ Transloom এ যদি follow দেন, আমি খুবই কৃতজ্ঞ থাকবো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264592/</link>
				<pubDate>Sat, 22 Aug 2026 11:45:30 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বৃষ্টির ওপারে যে মেয়েটি দাঁড়িয়ে ছিল</p>
<p>​বিকেলের বৃষ্টি সব সময় এক নিয়মে নামে না। কোনো কোনো দিন আকাশ ভাঙা জল দেখে মনে হয়, ওপর থেকে কেউ বুঝি বালতি উপুড় করে দিচ্ছে। আবার কোনো কোনো দিন এমন একটা মায়াবী অন্ধকার চারপাশকে ঘিরে ধরে, মনে হয় বহু যুগের জমিয়ে রাখা কোনো দীর্ঘশ্বাস এতদিনে মেঘ হয়ে ঝরে পড়ছে।</p>
<p>​সেদিনও তেমনই একটা দিন ছিল।</p>
<p>​অরিন্দম যখন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-264592"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/264592/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c755e2a29c5040e0732151045bad5f0c</guid>
				<title>আজ থেকে অনেক বছর আগে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কুয়াশাচ্ছন্ন কোনো শীতের  সকালে যখন ট্রেনের অপেক্ষায় চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিলাম, ঠিক তখনই লক্ষ করলাম প্লাটফর্মের এক কোণে বসে থাকা আট বছরের একটি ছেলে শেষ হয়ে যাওয়া কাগজের কাপগুলো কুড়াতে শুরু করেছিল।  

উপলব্ধি করলাম - আসলে এই অসহনীয় দারিদ্র এক নিরেট বাস্তবতা,  যা প্রতিদিন এই হতভাগা দেশের আনাচে কানাচে নিঃশব্দে নিঃশ্বাস ফেলে। আমরা মনে করি,  অভাব মানে বুঝি কেবল একবেলা না খেয়ে থাকা। কিন্তু অভাবের সবচেয়ে নিষ্ঠুর রূপ হলো--  মানুষের স্বপ্ন দেখার অধিকারটুকুকে সবার আগে কেড়ে নেয়। একটা শিশু যখন পেটের ক্ষুধায় বইয়ের পাতার বদলে ডাস্টবিনের ময়লা ঘাঁটতে বাধ্য হয়, তখন বুঝতে হবে সমাজ হিসেবে আমরা ভেতরে ভেতরে কতটা দেউলিয়া হয়ে পড়েছি।

​অদ্ভুত এক বৈপরীত্যের দেশ, আমাদের এই বাংলাদেশ। একদিকে কাঁচের দেয়ালঘেরা বহুতল ভবন আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, আর ঠিক তার পাদদেশেই পলিথিনের ছাদ টাঙিয়ে বাঁচার অদম্য চেষ্টা চালায় একেকটি পরিবার। যে হাতগুলো দিয়ে বিশাল সব অট্টালিকা গড়ে ওঠে, সেই হাতগুলোই দিনশেষে দিনমজুরির সামান্য টাকার জন্য হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে থাকে। জীবন আর জীবিকার এই অসম লড়াইয়ে মানুষ কেবল পেটের ক্ষিদে মেটাতে মেটাতে নিজের আত্মসম্মান আর বিবেককেও হারিয়ে ফেলেছে। বিত্তবানদের কাছে যা কেবল অলস বিকালের বিলাসিতা, দরিদ্রের কাছে সেটাই টিকে থাকার বেঁচে থাকার কঠিনতম সংগ্রাম।

​প্রকৃতির নিয়ম নাকি বড় অদ্ভুত! কিন্তু মানুষের তৈরি এই সামাজিক বৈষম্য তো প্রকৃতির চেয়েও নির্মম। দারিদ্র্য একটা মানুষকে নিঃস্ব করেই ক্ষান্ত হয় না , তার আত্মাকে চিরতরে শেষ করে দেয়।  যে দেশে হাজার কোটি টাকার অপচয় চোখ এড়িয়ে যায়, সেখানে এক লোকমা ভাতের জন্য অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। 

সামনুন হোসেন মুইহেব</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264313/</link>
				<pubDate>Fri, 21 Aug 2026 12:38:34 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আজ থেকে অনেক বছর আগে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কুয়াশাচ্ছন্ন কোনো শীতের  সকালে যখন ট্রেনের অপেক্ষায় চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিলাম, ঠিক তখনই লক্ষ করলাম প্লাটফর্মের এক কোণে বসে থাকা আট বছরের একটি ছেলে শেষ হয়ে যাওয়া কাগজের কাপগুলো কুড়াতে শুরু করেছিল।  </p>
<p>উপলব্ধি করলাম &#8211; আসলে এই অসহনীয় দারিদ্র এক নিরেট বাস্তবতা,  যা প্রতিদিন এই হতভাগা দেশের আনাচে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-264313"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/264313/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c87eb4bf04c59d0ceb35dfa3c94818cc</guid>
				<title>আজিমপুর গোরস্থানের সোঁদা মাটির গন্ধটা শাফিনের রক্তে মিশে আছে।

​তার জন্মের তিন মাস পরই একটা এক্সিডেন্টে বাবা মা দুজনেই চলে যান। শাফিনের শৈশবের পুরোটা আর কৈশরের অর্ধেক টা কাটে তার বিধবা দাদির সাথে। বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই শাফিন  প্রতি শুক্রবার বাবার কবরের পাশে এসে দাঁড়াত। দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় দাদিও পরপারে চলে গেলেন। জীবনের একমাত্র আশ্রয়টুকু হারিয়ে শাফিন বুঝেছিল, যাকে সে ভালোবেসে আকড়ে ধরতে চায়, সে-ই বুঝি এই নিঃসঙ্গ পৃথিবী ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবু দাদির রেখে যাওয়া সামান্য সঞ্চয় আর বাবার পেনশনের টাকায় টেনেটুনে পড়ালেখা শেষ করে একটা সাধারণ চাকরি জোগাড় করেছিল সে।

​যৌবনের নি:সঙ্গতায় জীবন তাকে একটাই উপহার দিয়েছিল—তুবা। তুবাকে ঘিরেই শাফিনের বেঁচে থাকার সবটুকু আলো জমা হয়েছিল। চাকরীটা স্থায়ী হওয়ার পর শাফিন আর তুবা মিলে একটা ছোট্ট ছিমছাম সংসার শুরু করল। কিন্তু,  সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে হাসপাতালের হিমশীতল ঘরে তুবা যখন শাফিনের হাত ছেড়ে দিল, চারপাশের সব আলো এক লহমায় নিভে গেল।

হতভাগ্য শাফিনের মনে পড়ে গেল কৈশরের  এক শুক্রবারের কথা। বাবার কবরের পাশে গিয়ে সে দেখেছিল, অন্য এক অচেনা মানুষের লাশ তার বাবার কবরে ঢুকে যাচ্ছে। গোরস্থানের লোকটা সহজ গলায় বলেছিল, &quot;টাকা দিয়ে তো জমি কেনা নাই।  তাই, পুরনো কবরে নতুন লাশ উঠবে। এটাই নিয়ম।&quot;

​তুবাকে মাটি দিতে পারলেও, তুবার জন্য কবরের জমি কেনার সামর্থ নেই শাফিনের। কিন্তু কোনো এক দিন কাফনে মোড়ানো এই নিথর দেহটার ওপর আরেকটা অচেনা মানুষের লাশ শুইয়ে দেওয়া হবে—ভাবতেই শাফিনের সারা শরীর গুলিয়ে উঠল। সে তুবাকে মাটি দেবে না। ঘর থেকে বের হতে দেবে না।

​শুক্ল পক্ষের রাতের দ্বিতীয় প্রহর চলছে । রূপালি জোছনার ঢেউ জানালা দিয়ে ঢুকে সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়। ঘরের এক কোণে শাফিন তুবার লাশের পাশে হাঁটু মুড়ে বসে অপ্রকৃতিস্থের মত কাদছে। ঘরজুড়ে কর্পূরের গন্ধ।

​হঠাৎ বাতাসে হালকা গোলাপ জলের সুবাস ভেসে এল। ঘরের এক কোণে আলো আধারির মহাজাগতিক আলোয় শাফিন দেখতে পেল বিয়ের লাল শাড়ি পরা তুবা সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। সমুদ্রের বাতাসের মত মায়াবী তার মুখ। চোখে হালকা কাজল। ঠোটে লেগে আছে অপার্থিব মৃদু হাসি। 

​তুবা খুব শান্ত, পরম মমতায় হিম শীতল ঠান্ডা হাতে শাফিনের গাল দুটো স্পর্শ করল। কন্ঠে অদ্ভুত মায়া নিয়ে বলল -  &quot;শাফিন... মাটির নিচে তো শুধু আমার এই প্রাণহীন  শরীরটা যাবে। ওটা একটা জড় বস্তু ছাড়া আর কিছুই না। একটু পর পচে গলে মাটির সাথে মিশে যাবে। আত্মা তো অমর। সত্যি বলতে, আমি তো এক মুহূর্তের জন্যও তোমার পাশ থেকে সরিনি।&quot;

​তুবা আলতো করে হেসে বলল, - &quot;ওই মাটিটুকুর জন্য অনর্থক কেন কষ্ট পাচ্ছ? প্রাণহীন জড়বস্তু শরীরটাকে বিদায় দাও, চিন্তা কর না, আমি সবসময়ই তোমার সাথে আছি।&quot;

​হতবিহবল শাফিন তুবার দিকে তাকিয়ে রইলো। 
হ্যা, তুবা কখনই শাফিন কে ছেড়ে যাবে না।

​পরদিন ভোরে আজিমপুরের ভিজে মাটিতে শাফিন নিজ হাতে তুবা নামের মায়াটুকুকে শুইয়ে দিল। চারপাশ নিঃশব্দ, কিন্তু শাফিনের বুকের ভেতরটা আজ আর খালি মনে হচ্ছে না।

সামনুন হোসেন মুইহেব</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264106/</link>
				<pubDate>Thu, 20 Aug 2026 17:46:19 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আজিমপুর গোরস্থানের সোঁদা মাটির গন্ধটা শাফিনের রক্তে মিশে আছে।</p>
<p>​তার জন্মের তিন মাস পরই একটা এক্সিডেন্টে বাবা মা দুজনেই চলে যান। শাফিনের শৈশবের পুরোটা আর কৈশরের অর্ধেক টা কাটে তার বিধবা দাদির সাথে। বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই শাফিন  প্রতি শুক্রবার বাবার কবরের পাশে এসে দাঁড়াত। দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় দাদিও পরপারে চলে গেলেন। জীবনের একমাত্র আশ্রয়টুক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-264106"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/264106/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b91acd2f2c8fba43dc7a0184315c97e0</guid>
				<title>বৃষ্টির গন্ধটা বাতাসে ছিল, কিন্তু বৃষ্টি নামেনি।  ভ্যাপসা গরম আর স্যাতসেতে আর্দ্রতা মিশে চারপাশটা যেন একটা থমথমে নাটকের মঞ্চ হয়ে উঠেছিল।

​তিনতলার ছাদ। ঠিক মাঝখানটায় পড়ে আছেন রহিম সাহেব। চোখ দুটো আধবোজা, যেন অনন্তকালের কোনো বিস্ময় দেখছেন। গলায় কালচে ফাঁসের দাগটা প্রদীপের আলোর নিচে একটা কুৎসিত শুঁয়োপোকার মতো লেপ্টে আছে। পাশে একটা কাঠের চেয়ার ওল্টানো, একটা পায়া ভাঙা। আত্মহত্যার এত নিখুঁত আয়োজন সচরাচর দেখা যায় না।

​গোয়েন্দা স্যামুয়েল হোসেন—যাকে সবাই স্যাম বলে ডাকে—ধীরে ধীরে দোতলা থেকে নেমে এলেন। দোতলার ঘরটায় ঘুটঘুটে অন্ধকার, অথচ সিন্দুকের ভারী পাল্লাটা হাঁ করে খোলা, ভেতরটা শূন্য। যেন একটা তৃষ্ণার্ত মুখ।

​নিচতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন রহিমের ছোট ভাই ফারুক। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম, হাতের আঙুলগুলো অনবরত কাঁপছে। স্যামকে দেখেই ওড়না দিয়ে মুখ মোছার মতো করে হাত দিয়ে কপালটা মুছলেন। তারপর জড়ানো গলায় বললেন, &quot;দাদা... মানে, ভাইয়া তো রাতে রোজই ছাদে হাঁটতে যান। আজকেও গিয়েছিলেন। আমি ভাবলাম...&quot;

​স্যাম কোনো কথা বললেন না। তার দৃষ্টি তখন ছাদের রেলিংয়ের দিকে। স্যামের চোখে একটা উদাসীন কিন্তু তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। তিনি নিচু হয়ে ফারুকের জুতোর সোলের দিকে তাকালেন।

​&quot;আজ সারাদিন এ শহরে এক ফোঁটা বৃষ্টি হয়নি, তাই না ফারুক সাহেব?&quot; স্যামের গলাটা অনেক শান্ত শোনাল।

​ফারুক থতমত খেয়ে গেলেন, &quot;না... মানে, মেঘ করেছিল...&quot;

​&quot;অথচ আপনার জুতোর নিচে টাটকা ভেজা কাদা লেগে আছে।&quot; স্যাম একটু হাসলেন, সেই হাসিতে  একটা রহস্যময় উদাসীনতা ছিল। &quot;ছাদের এক কোণে টবের গাছগুলোয় আজ বিকেলে জল দেওয়া হয়েছিল। মাটিগুলো এখনো থিকথিক করছে। আপনি যখন রহিম সাহেবকে পেছন থেকে এসে জড়িয়ে ধরলেন, তখন তিনি বাঁচার জন্য ছটফট করছিলেন। ধস্তাধস্তির সময় আপনার পা চলে গিয়েছিল ওই টবের মাটিতে।&quot;

​ফারুকের মুখের সমস্ত রক্ত যেন এক সেকেন্ডে কেউ শুষে নিল। তার কাঁধ দুটো ঝুলে পড়ল।

​স্যাম পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে না ধরিয়েই আঙুলের ফাঁকে ঘোরাতে ঘোরাতে বললেন, &quot;টাকার লোভ বড় অদ্ভুত জিনিস, ফারুক সাহেব। দোতলার সিন্দুকটা খালি করে যখন পালাচ্ছিলেন, তখন মাথায় এল আত্মহত্যার নাটক সাজানোর কথা। দড়িটা গলায় পেঁচিয়ে, চেয়ারটা উল্টে দিয়ে ভাবলেন কাজ শেষ? কিন্তু ওই যে... প্রকৃতির একটা নিজস্ব নিয়ম আছে। আপনার জুতোর ভেজা মাটি রয়ে গেল ছাদের শুকনো মেঝেতে। রহিম সাহেবকে আপনি ঠেলে ফেলেননি ঠিকই, কিন্তু তাকে ঝুলিয়ে দেওয়ার পর যখন তাড়াহুড়ো করে নামছিলেন, নিজের পায়ের ছাপগুলো মুছে যেতে ভুলে গেছেন।&quot;

​ছাদের ওপর তখন একটা রাতচরা পাখি ডেকে উঠল। ফারুকের ঠোঁট দুটো কাঁপছিল, কিন্তু কোনো শব্দ বের হলো না। অপরাধের ওজন ততক্ষণে তাকে গ্রাস করে নিয়েছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/248978/</link>
				<pubDate>Mon, 18 May 2026 13:43:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বৃষ্টির গন্ধটা বাতাসে ছিল, কিন্তু বৃষ্টি নামেনি।  ভ্যাপসা গরম আর স্যাতসেতে আর্দ্রতা মিশে চারপাশটা যেন একটা থমথমে নাটকের মঞ্চ হয়ে উঠেছিল।</p>
<p>​তিনতলার ছাদ। ঠিক মাঝখানটায় পড়ে আছেন রহিম সাহেব। চোখ দুটো আধবোজা, যেন অনন্তকালের কোনো বিস্ময় দেখছেন। গলায় কালচে ফাঁসের দাগটা প্রদীপের আলোর নিচে একটা কুৎসিত শুঁয়োপোকার মতো লেপ্টে আছে। পাশে একটা কাঠের চেয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-248978"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/248978/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3b38c6fa8c617009c6d54b8c3fe63435</guid>
				<title>mueheb samnun changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/248976/</link>
				<pubDate>Mon, 18 May 2026 13:26:08 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f1cdd1608171dcd3b7f235b56261f063</guid>
				<title>রাত ঠিক দুটো। হঠাৎ করেই ঘুমটা ভেঙে গেল। ঘর অন্ধকার, শুধু জানলা দিয়ে বাইরের ল্যাম্পপোস্টের আবছা আলো এসে পড়েছে ঘরের কোণে। তাকিয়ে দেখি, বিছানার ঠিক পাশেই বসে আছে কুকুরটা। একদম স্থির, কোনো নড়চড় নেই। শুধু ওর চোখ দুটো অন্ধকারে অদ্ভুত একটা লালচে আভায় জ্বলছে।
​অথচ আজ সন্ধ্যায় যখন ওকে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনলাম, কী নরম, কী নিরীহ লাগছিল দেখতে! একটু আদর করতেই কেমন কুণ্ঠিত হয়ে লেজ নাড়ছিল।
​গায়ে একটু কাঁটা দিল। ধড়ফড়ানিটা চেপে ফিসফিস করে বললাম, “কী রে, ঘুমা...”
​কথাটা শুনেই সে মাথাটা আলতো করে কাত করল। তারপর... তার ঠোঁটের কোণ দুটো দুপাশে প্রসারিত হতে শুরু করল। খুব ধীরে ধীরে, একটা কুৎসিত হাসি ফুটে উঠল ওর মুখে।
​বুকটা ধক করে উঠল। কুকুর তো হাসে না!
​এক মুহূর্তও আর ওই ঘরে থাকতে ইচ্ছে করল না। শরীর ঝাঁকিয়ে বিছানা থেকে নামতে গেলাম, কিন্তু পারলাম না। কোমর থেকে পা পর্যন্ত পুরো অবশ হয়ে গেছে, যেন পাথরের মতো ভারী।
​ঠিক তখনই, একদম আমার খাটের তলা থেকে একটা চেনা কণ্ঠস্বর ফিসফিস করে উঠল। আমার নিজের গলার আওয়াজ, হুবহু আমি! ভেতর থেকে কেউ একজন আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে বলছে— “চুপ কর... ও এখনো ঘুমায়নি!”
​শরীরের শেষ রক্তবিন্দু যেন জমে বরফ হয়ে গেল। খাটের নিচের মানুষটা যদি আমি হই, তবে আমার সামনে বসে থাকা এই জিনিসটা কে? না, ও আমার দিকে চেয়ে হাসছে না... ও আসলে নিজের দিকেই তাকিয়ে হাসছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/248650/</link>
				<pubDate>Sun, 17 May 2026 15:18:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রাত ঠিক দুটো। হঠাৎ করেই ঘুমটা ভেঙে গেল। ঘর অন্ধকার, শুধু জানলা দিয়ে বাইরের ল্যাম্পপোস্টের আবছা আলো এসে পড়েছে ঘরের কোণে। তাকিয়ে দেখি, বিছানার ঠিক পাশেই বসে আছে কুকুরটা। একদম স্থির, কোনো নড়চড় নেই। শুধু ওর চোখ দুটো অন্ধকারে অদ্ভুত একটা লালচে আভায় জ্বলছে।<br />
​অথচ আজ সন্ধ্যায় যখন ওকে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনলাম, কী নরম, কী নিরীহ লাগছিল দেখতে! একটু আদর করতে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-248650"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/248650/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>