<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Nashid Tahsin | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/nashidtahsin/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/nashidtahsin/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Nashid Tahsin.</description>
	<lastBuildDate>Sun, 21 Jun 2026 08:05:08 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">4b1b1da5dc026f01542b256ff64b4b86</guid>
				<title>গল্পের নামঃ ঝিঁঝিঁপোকা 

শৈবালসত্য সদা গরিষ্ঠ। বাবা আমাকে বাস্তবতা শিখাতে তার বানানো এই প্রবাদ আমাকে শুনাতেন। আমি ভাবি, শৈবালসত্যই কী সহজ নয়? অথচ, বলবার সময় নগ্ন সত্যি বলে যাই। কেননা শৈবালসত্য গরিষ্ঠের দলে। আর আমি লঘিষ্ঠ। 

অফিস থেকে বাসায় সবসময় হেঁটেই যাই। খুব বেশি দূরে নয়। হাটতে ভালোই লাগে। চতুর্দিক দেখতে দেখতে যাই। ফুটপাতের পাশে কয়েক ফুট নিচে থাকা নর্দমায় উপরে থাকা ছোট পাইপ থেকে পড়তে থাকা পানির আওয়াজ মধুর লাগে। ভাবি, বৃষ্টি তো হলো না, তারপরও, পানি? বাড়ি আমাদের ব্যস্ত শহর থেকে কিছুটা দূরে। নির্জন, তেমন গাড়ির আওয়াজ নেই, গাড়ি চালায় এমন কেউ নেই। ছোট একটা গলি। সহজে সেখানে রোদও আসে না। চলা পথে প্রায়ই পুরাতন দেয়ালে দেখি পানিতে ভিজে আছে। আমি চুপচাপ ওখানে দাঁড়িয়ে দেখি। লোকজন আমার দিকে তাকিয়ে আছে? থাকুক। আমি তাকিয়ে থাকি। চারিদিকে ঝিঁঝিঁর আওয়াজে কেমন যেন দিশা হারিয়ে যায়। হুশ ফিরলে কোনোমতে বাড়ি ফিরি। কী লাভ ওখানে গিয়ে? ঘর তো নয় যেন এক ক্রোধবিদ্ধ কূয়া। 

হাটছি। হাটছি। হাটছি। হাটছি। হাটছি। হাটছি। কিন্তু কেনো হাটছি? আজ সারাদিন, এখানে, এভাবে, একা যদি দাঁড়িয়েই থাকি? কেউ কী আসবে? কেউ কী জানবে?

বাড়ি গিয়ে ক্লান্তি লাগায় জুতা বক্সে না ঢুকিয়ে আগে মোজা খুলে নিলাম। কোথা থেকে মনে হলো ভাঙা যন্ত্রের একটা আওয়াজ পেলাম। তাকিয়ে দেখি স্নেহা, আমার স্ত্রী, সামনে। তার কিছুদূরে আমার মা।। ঝিঁঝিঁপোকা ডাকছে। এতো জোরে এদের ডাক খুব কমই শোনা যায়। নৈরাজ্যের মাঝে এক সৌন্দর্য আছে, যা যে জন্ম থেকে সৌন্দর্যের অতিশয় যত্নে বড় হয়েছে সে বুঝবে। আচ্ছা, সবাই বলে ঝিঁঝিঁপোকা নাকি দেখতে বিশ্রী। কিন্তু ওদের দেখতেও যেমন সুন্দর ওদের  ঝিঁ ঝিঁ ডাকটাও কী সুন্দর। কেমন যেনো এক প্রাকৃতিক বাদ্য। শুনতে কী মধুর লাগে। মনে হয় ওদের যদি ঝাঁক ধরে পালতে পারতাম। শুধু ওদের পাখনার তৈরি গান শুনে যেতে পারতাম। ওদেরকে……

“এইযে জনাব, কিছু শুনছেন? এভাবে তো থাকা সম্ভব না আর”, হুঙ্কার দিয়ে বলে উঠলো স্নেহা।

“ তোমাকে কেউ থাকতেও বলেনি। যদি মনে হয় এ ঘরের নিয়ম মানতে পারবে না, তাহলে এখান থেকে চলে যাওয়াই শ্রেয়”, মা ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলে উঠলো।

স্নেহা আমার হাত ধরে পালটা চিৎকার করে বললো, “তোমার সামনে এভাবে অপমান করছে আর তুমি নাটক দেখছো?”। আচ্ছা, ঝগড়া হয়েই, আবারো সেই ঠিকই হবে। ঘরছাড়া করার এই বিরক্তিকর তর্ক তারা আগেও বহুবার করেছে। আমি কী করতে পারি? কিছু হলেই আমাকে টানা হয় কেনো? আমাকে কী একা থাকতে দেয়া যায়না? এরা কী আমাকে ছেড়ে যেতে পারে না?

এক সেকেন্ড। আমি কী এদের মৃত্যু কামনা করলাম? না, এটাকে মৃত্যু কামনা তো বলা যায় বলে মনে হয় না। আবারো! প্রায়ই এমন হয়। মনে হয় দুনিয়ায় সবাইকে খুন করে একা নীল আকাশের নিচে বসে দুনিয়াটাকে প্রকৃতরূপে দেখি। মনে হয় আমি যদি একা….কিন্তু মা। মা কে কী এভাবে মেরে ফেলা…..।

আমি তাদের তর্কে জড়ালাম না। কাপড় বদলে টেবিলে পেপার নিয়ে বসলাম। আচ্ছা, পেপারে থাকে কী নেতিবাচক সংবাদ ছাড়া? ছোটবেলায় গুরুজনদের দেখতাম ছুটির দিনে পেপার নিয়ে বসতে। অথচ পেপার খুললেই চোখে পড়ে খালি দুঃসংবাদ। আচ্ছা, আমি তো এসে এই ক্লান্ত শরীরে ঘুমাতে পারতাম। তাহলে এখানে বসে আছি কেনো?.....ওহ, রাতের খাবারের সময় উঠতে না পারলে যে আবারো চাচামেচি শুরু হবে। আমি বসে থাকলাম, খাবার এলো, খাবার খেলাম। কেউ বসলো না আমার সাথে। সবাই ঝগড়া করে নিজ কক্ষে না জানি কোন লড়াইয়ের আকাঙ্খায় বসে আছে। আমি আর আমার রুমে গেলাম না। সেখানে নিঃসন্দেহে স্নেহা ঝগড়ার আরৎ নিয়ে বসে আছে। খাওয়া শেষে আমার মতো করে বসার ঘরে ঘুমিয়ে গেলাম। বিষয়টা নতুন না। চাইলে মান্ধাতা আমলের সাথে এর অস্তিত্বকালের তুলনা করা যাবে।

কথা কাটাকাটি বা অকারণে গায়ে পড়ে কথা বলতে যাওয়া আমার ভালো লাগে না। সাত সকালে অফিসে গেলাম। নিত্যদিনের স্বরূপ তর্কপ্রেমী বস হয়তো, আমার সাথে তর্ক জুড়ে দিতেই আবারও কাজের ভুল, দেরিতে আসা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড শুরু করে দিয়েছে। কী কাজ এখানে এসে? তবুও আসি। রাগের মাথায় আমার টেবিলে থাকা ফাইলে জোরে একটা চাপড় মারলেন। ফাইলটা লাল রঙে ভিজে গেলো। এখন? আমি এটাকে পরিষ্কার করবো কীভাবে? 

সে চিৎকার করে চলেছে। কিছুক্ষণ পর দেখি ছাদে কোথা থেকে চুয়ে চুয়ে পানি পড়ছে। তাকিয়ে দেখি ফাইলের উপর পানি পড়ে সাদা কাগজে কলনের কালি মিশে গিয়ে কেমন বেগুনি হয়ে গিয়ছে। দেখতে মন্দ নয়। তাছাড়া ফোটা ফোটা পানি এমন শক্ত কাগজে পড়ার যে খট খট শব্দ তাও খুব শোনার মতো।

“ইউ আর ফায়ার্ড”, চিৎকার করে বলে উঠলো বস। তার মানে? আমাকে এখন সারাদিন বাসায় বসে থাকতে হবে? না, এ হতে পারে না। মরে গেলেও তা হতে দিতে পারিনা। আমি বাসায় যেতে পারবো না। চাকরির কথা বলতে পারবো না। চাকরির কথা বলে চুপচাপ বসে থাকতে পারবো না। আমাকেও নিজেকে রক্ষা করতে পাল্টা জবাব দিতে হবে। ঝগড়ার শেষ কোথায় হবে বলতে পারবো না। কিন্তু শেষে যে আমি হেরে যাবো এবং তার জন্য নতুন রকমের খাটনি থাকবে তা আমি আবার নতুন করে সইতে পারবো না। মরে যাওয়া ভালো। আমি বসের পা ধরে বসলাম। মনে হলো কেঁদেও ফেললাম। কিন্তু কিছুতেই কাজ হলো না। কয়েকজন মনে হলো ভিডিও করলো। 

বাসায় গিয়ে আজ এ বিষয়ে ঘুনাক্ষরেও কিছু বলা যাবে না।

সাত সকালে দরজায় কড়া নাড়লো কারা যেনো। গিয়ে দেখি পুলিশ। পুলিশ? এই সকালে? আমাদের বাসায়? আবারও এখন তুলকালাম কাণ্ড শুরু হবে ঘরে। পুলিশ ঘরে ঢুকলো। আমার নাম জিজ্ঞেস করলো। আজব, বাড়িতে কারো কোনো আওয়াজ নেই। পুলিশের জিজ্ঞেসাবাদে খেয়াল করে দেখলাম আমার কালকে চাকরি চলে যাওয়ার বিষয়টাই মূখ্য। কিন্তু আমি তো কিছুই করিনি। কাল বাসায় এসে নিজের মতো যা করার করেছি যাতে কেউ না বুঝে। 

জিজ্ঞেসাবাদ শেষে পুলিশ চলে গেলে আমি কৌতূহলবশত স্নেহাকে ডাকলাম। কেউ জবাব দিলো না। ঘর খুঁজে কোথাও পেলাম না। আমার রুমে গিয়ে খুঁজলাম। রুমের পাশের ড্রেসিং টেবিল, তার ওপর রাখা আমার আর স্নেহার ফ্রেমে রাখা ছবি। ছবির পাশে কাপড় সবই আছে। তাহলে তারা কোথায়? ছবির পাশে কাপড় কী মনে করে সরাতে গিয়ে দেখি আমাদের ছবিতে স্নেহার ছবির অংশ কে যেনো নখর দিয়ে আচড়ে রেখেছে। হঠাৎ মনে হলো খবর দেই পুলিশে। 

মনে তো পড়ে ফোন করেছিলাম পুলিশে, আবার মনে পড়ে করিনি।।

 টিভিতে পর্যন্ত বসের মৃত্যুর  সংবাদ এসে গেছে। মনে হয় সবাই ঘুরতে গিয়েছে কোথাও। 

টেবিলে খেতে বসতে গিয়ে দেখি অপর প্রান্তে কেমন শব্দ হচ্ছে। তাকাতেই যেনো চমকে উঠতে গিয়েও উঠলাম না। এক বিভৎস রূপের এক মানুষ। শরীর কালো পোকায় আবৃত। এতো পরিমাণ পোকা যে তার চামড়ার একটা অংশ দেখা যাচ্ছে না। চুপচাপ এক চেয়ারে বসে ছুরি দিয়ে আপেল ছিলছে। আর আপেল থেকে লাল রক্তের মতো পড়ছে কিছু।

আমি চুপচাপ ওর সামনে গিয়ে বসি। ও আমার দিকে তাকায়। আমার দিকে ছুরিটা এগিয়ে দেয়। লাল রক্তে ভরা। ছুরিটা নিয়ে লোকটার দিক তাকিয়ে দেখি তার শরীর আসলে কালো পোকা নয়। ঝিঁঝিঁপোকা দিয়ে আবৃত। 

আমি তার দিকে তাকিয়ে থাকি আর ভাবি, এমন সৌন্দর্যও কী আমার প্রাপ্য নয়?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/254368/</link>
				<pubDate>Mon, 15 Jun 2026 07:13:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পের নামঃ ঝিঁঝিঁপোকা </p>
<p>শৈবালসত্য সদা গরিষ্ঠ। বাবা আমাকে বাস্তবতা শিখাতে তার বানানো এই প্রবাদ আমাকে শুনাতেন। আমি ভাবি, শৈবালসত্যই কী সহজ নয়? অথচ, বলবার সময় নগ্ন সত্যি বলে যাই। কেননা শৈবালসত্য গরিষ্ঠের দলে। আর আমি লঘিষ্ঠ। </p>
<p>অফিস থেকে বাসায় সবসময় হেঁটেই যাই। খুব বেশি দূরে নয়। হাটতে ভালোই লাগে। চতুর্দিক দেখতে দেখতে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-254368"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/254368/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2c06f2af643c93af76043e8355dbe8e3</guid>
				<title>(ছোট গল্প)
গল্পের নাম: আষাঢ়ের তুষার 

ভাদ্রের শুরু প্রাক্তন নৈরাজ্য দিয়ে। “আচ্ছা শোনো, আমি তোমার সাথে পরে কথা বলবো”, বলে উঠলো গোল হয়ে থাকা বাবরি চুল আর চশমা পরা ছেলেটা। খন্দকারের তাতে যায় আসে না। চার দেয়ালের গণ্ডির ওপার ছুয়েই আবার চলে আসে ভেতরে। তাই বাস থেকে নেমে বিনা বার্তায় সোজা ঘরে উঠে যান। বলা হয়ে থাকে, মানুষ যা বোঝে না তা তারা সাধারণত ভয় পেয়ে থাকে। ভেতরের ফসল বাহিরে যাবার নয়, বাহিরের ফসল নয় আসার। সূচনার সমাপ্তি দিয়ে তার সমাপ্তির সূচনা। খন্দকার এককালে সাহেব বলে সম্বোধিত হতো। এখন সে খুনি। অন্তঃপুরের নৈরাজ্য এতটাই আপন যে তা বাহির জগতে নিস্তব্ধতা। সূচনা-সমাপ্তির মধ্যকার নৈরাজ্যের একটা বিনিময় আছে। আর সেইজন্যই বুঝি খন্দকার প্রত্যেক বিকেলে গাছ কাটার আয়োজন করে। তার ওপর দিয়ে নিষেধাজ্ঞা অনেক আগেই উঠে গেছে। নৈরাজ্য, নিষেধাজ্ঞা, নিরবতা। সমাপ্তি।

আশ্বিন আসে নিষেধাজ্ঞার কারণের অবকাশ হয়ে। তবে অন্তঃপুরের ইতিবাচকতা-নেতিবাচকতা চলমান। কান পেতে থাকলে চিৎকার শোনা যায়, “আমাকে দয়া করে মেরে ফেলো”। তিন দেয়ালের মানুষের কাছে চার দেয়াল আগন্তুক, যার কারণে খন্দকার তার সাহেব খেতাব হারায়। ঋতুর প্রতিকূলতা তার স্বর্গ রূপি নরক। তাই এসময় তার দেখা মেলে কম। 

কার্তিক এক হলদে রাঙা রবি-রোদ্দুর। খন্দকার যেনো মনের ভুলেও এ বর্ণে দৃষ্টি না দেয়। তবে খাটনি শুরুর জন্য ঋতুটি শ্রেয়। দাবানলের আভা বয়ে আনতে আনতে খন্দকারের পিছে নরম কণ্ঠে কে যেনো জিজ্ঞেস করে ওঠে, “ভেবেছো জলের আশায় আগুন বয়ে আনলেই নিষ্পাপ হয়ে যাবে?” খন্দকার কেপে উঠে পিছে তাকায়। আরশি। মুখে মৃদু হাসি, চোখে রাগ। বরাবরই খন্দকারের কাছে এককালের ঐশ্বর্যিক দর্শন। হয়তো সেকারণেই সে দ্রুত চোখ সরিয়ে নেয়। আপনমনে সমাপ্তির সরলরেখা ধাবন করে চলে। “যতই করো। আমরা কখনো তোমাকে নিচ্ছি না। তোমার কুকর্মের কালো অসারই পাবে তুমি”। খন্দকার তার গোফ-দাড়ির ওপর দিয়ে গামছা চালিয়ে যায়। তালহা বলে ওঠে, “আমার সেই কাঠের ঘর”? খন্দকার তার কাটা গাছগুলো আস্তেধীরে রেখে দিলো।

অগ্রহায়ণের নিরবতা বড়ই নিঠুর। খয়ে পড়া আগুনের ফুলকি বাদে দিন-রাত অপরাধবোধে কাটে। আরশির তিক্ত আঘাত তালহার কাঠের ঘরের আকাঙ্খাকেও উপেক্ষা করে যায়। ধুসর যেনো বিন্দু বর্ণের শেষ চিহ্নও মুছে দিতে চায়। খন্দকার তবুও আধারকে সেই ধুসর ছেড়ে বহন করে কোনোমতে চালিয়ে যায়। আরশিতে নিজের অবয়ব শূন্য। শূন্য তার নাম গৃহে। ধুসরবাহি আরশি প্রতিনিয়তই তাকে লালসার দ্বোর দেখিয়ে যায়। আর ধুসরে ছায়ার চাহিদা, তালহা। খন্দকার চালিয়ে যায় তার গাছ কাটা। 

বৃত্ত-বন্দী ধূসরকে স্রোত বানিয়ে নীড় থেকে কুড়িয়ে আনে পৌষ আর মাঘ। অসারের শেষ চিহ্নটুকুও ডুবিয়ে নিয়ে যায় তা। কাঠের কারুকার্যের প্রায় সমাপ্তি। নিলয়ের বিরতি পর্যায়ে নির্ধারিত সেই অসার প্রায়েই উঁকি দেয়। মনে করিয়ে দেয় সেই ঝাপসা আকাশ। খন্দকার কখনো কখনো ঝাপসা আকাশের স্মৃতিতে কালো সেই অসারের সৌন্দর্যকে খুঁজে পায়। আর সেই কালোর টোপকে আঁকড়ে ধরেই নিদ্রা থেকে ঝিঁঝিঁপোকার গানের আসরে চলে যায় খন্দকার। আলো কখন অন্ধকার হয়ে যায় তার আর হদিস থাকে না।

ফাল্গুন আর চৈত্র নিঠুর না হয়েও এক কণ্টকাঘাত। চারিদিকের নিস্তব্ধতা বসন্তের রঙকেও খেয়ে ফেলে। কান পেতে থাকলে শোনা যাবে এতদিনে খন্দকার এলাকার বাচ্চাদের কাছে ভূতের নোলকের হাতিয়ার হয়ে গেছে। কারো চক্ষুনজরে পড়লেই নরক-ভয়ে চোখ সরিয়ে নেয়। চারিদিকের কালোর মাঝেও ধুসর অন্তত দৃষ্টিপাত উপযোগী দেখে কালোর সড়কে ঐ ধুসরের দেখা পেতে আপনমনে আর বাকি দিনের মতো নিজের কাজ করে যায় খন্দকার। জগতের খেলা বহু দেখেছে সে।

বৈশাখ আর জৈষ্ঠ্য। নিরবতা, নিষেধাজ্ঞা আর নৈরাজ্য। এবারে নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য উবে গেলো। কিন্তু আগের সেই নিরবতাটা আর নেই। কী যেনো গান গাইছে। খন্দকারের চোখে কালোর দ্বিতীয় অবয়ব। বুঝে নিয়েছে সে, এক আকাঙ্খার সমাপ্তি আরেক আকাঙ্খার মুখোশ। চোখ বন্ধ করে গান শুনে যায় আরশির। কালো অসারের অগ্রসরকের কাছে তা স্বর্গীয়। 

আষাঢ়-শ্রাবণ।।   তোমাকে হয়তো কখনো বলা হয়নি যে তুমি এক সৌন্দর্যের রূপক। তাই হয়তো অভিমান করেই রাতে চুপটি করে থাকতে। কিন্তু বিশ্বাস করো, আমি তোমার কুহেলিকার উষ্ণতা ছাড়া আর কিছুই চাইনি। আমি একাকিত্বতেই ছিলাম, কিন্তু একাকিত্বতে থাকতে চাইনি। তোমার চোখ যখনি পলক ফেলতো, সময় যেনো থেমে যেতো। আর আমি তোমার চেতনার আড়ালে মন ভরে দেখে নিতাম। কয়েদখানার কনিষ্ঠ জগতে আমি বড় হয়েছি। তাই দুই ঠোঁটের ভেতর থেকে কণ্ঠ হয়তো এ হাওয়াও তেমন শোনেনি। না, আমি তোমার কাছে করুনা চেতে আসিনি, শুধু তালহার পত্র-প্রদীপ চাইছি। ক্ষমা চাওয়ার যোগ্য আমি নই। তবুও যদি পারো, কালোর উপর ধুসরের আচ্ছাদন দিয়ে আমার দেখার সুযোগ করে দিও। আমি কোনো আশা রাখি না। শুধু দম নেয়ার কাজ থেকে উপসংহার চাই।।    

বছর ঘুরে আষাঢ় আসে। মেরু তার দিক বদল করে। আকাশ যখন ঘন মেঘে কালোর আশ্রয় নেয় তখন কোনো একদিন খন্দকার মুক্তি পেয়ে যায়। বিশাল এক গাছের নিচে চোখ নুয়ে যায়। কালো হয়ে আসে সবকিছুই। একটা সময় খন্দকার তালহার খোঁজ পায়। আষাঢ়ের কালো থেকে কী যেনো ছায়া পড়ছে। খন্দকারের শরীর শীতল হয়ে যায়। আর তালহার ছায়া যেনো তুষারপাত চালিয়ে যাচ্ছে। চোখ খুলতেই আরশির দেখা মেলে। তার মাঝে যেনো নিজেরই চেনা সেই অসারের দেখা। খন্দকার উঠে দাঁড়ায় আর তুষারপাতের মধ্য দিয়েই আরশিকে কবুল করে নিয়ে নিজ অজান্তে হেটে যায়। কে জানে, হয়তো আকাশের কালো মেঘ নিশ্রিত বৃষ্টি হয়তো তার শুদ্ধ জল দিয়ে কালোকে ধুয়ে নিয়ে গিয়েছে, নয়তো তুষার তা অসারের অগোচরেই চাপা দিয়ে দিয়েছে। যার পুনরাবৃত্তি অনিশ্চয়তার উপমা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/249955/</link>
				<pubDate>Thu, 21 May 2026 07:52:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>(ছোট গল্প)<br />
গল্পের নাম: আষাঢ়ের তুষার </p>
<p>ভাদ্রের শুরু প্রাক্তন নৈরাজ্য দিয়ে। “আচ্ছা শোনো, আমি তোমার সাথে পরে কথা বলবো”, বলে উঠলো গোল হয়ে থাকা বাবরি চুল আর চশমা পরা ছেলেটা। খন্দকারের তাতে যায় আসে না। চার দেয়ালের গণ্ডির ওপার ছুয়েই আবার চলে আসে ভেতরে। তাই বাস থেকে নেমে বিনা বার্তায় সোজা ঘরে উঠে যান। বলা হয়ে থাকে, মানুষ যা বোঝে না তা তারা সাধারণত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-249955"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/249955/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f3b82487a032f1eeafba9241bdbe44c9</guid>
				<title>(ছোট গল্প)
গল্পের নামঃ নিশ্বাসে প্রতিশ্বাস


আচ্ছা, শিয়ালেরা যখন হাক পাড়ে তখন কী কেউ শুনেছে যে তার উপসংহার পূর্বক মূহুর্তে কেমন যেন এক মুক্ত হাহাকারময় আবেগ প্রকাশ করে? কেউ কী কখনো শুনে দেখেছে পূব-বাগানের ঐ শেয়ালগুলোর ডাক? আমি শুনেছি, আর ভেবেছি, তাদের এই মুক্তি উল্লাস, নীরবে জীবন নামের তিক্ত গোলকেরও প্রকাশ হতে পারে।

চার দেয়ালের রঙের মাঝে ভিতরে যে বেরঙা শূন্য আছে তাও আমি দেখি। আমি দেখি পর্দার মাঝে সূতা-সাজের ঐ অপরিপক্ক সমাপ্তি। দেখে এসেছি লোহার হলুদ থেকে গাঢ় বাদামী হওয়া। আর দেখে চলেছি আমার বন্দী-সীমানায় দিনের পর দিন গভীর হতে থাকা আবছায়া। লোকে যদিও তারে ছাপ পড়ে যাওয়া বলে। তবে আমার কাছে এ এক আবছায়ারই আরেক নাম। 

মেঝের কঠোর শীতলতাও এক ভিন্ন কাটার বাগান। লুকাতে চাওয়া গোলক পিণ্ডকে ঠুকরিয়ে বের করাই যেনো তার লক্ষ্য। দীর্ঘসই নোনা জীবনের শিকার এখন আমার নিজেরই একটা পরিচয়। আচ্ছাদনের ছোয়াও এই নোনা জীবন উপেক্ষা করে যায়। তাই বুঝি স্পর্শ কী তাও ভুলে গেছি। ভুলে গেছি নীল দেখতে কেমন। যাচ্ছা বেদনায় ওদের আগ্রহ আমি দেখিও নি কখনো। আচ্ছা, তবে নিশিও কী এমন রিক্ত দেহি শিকার? কবে যে নিশির দেখা পেয়েছিলাম তাও পরিষ্কার করতে পারি না। শুধু বিভীষিকা বায়ুর গ্রহণ, আর কলুষিত বায়ুর বর্জন।

আচ্ছা, শিয়ালেরা যখন হাক পাড়ে তখন কী আসলেই তাতে মুক্তি-ভাব মেলে? যদি তারা শিকার না পেয়ে শিকার হয়ে যায় তখন কী তাদের কান্না কেউ আলাদা করে বোঝে? বোঝে যে চোখের নোনাজলও কোনো একসময় মিঠা হয়ে ওঠে? চার দেয়ালের মধ্যখান আজ আমার একমাত্র চৌহদ্দি। 

তবুও, প্রবেশদ্বারের চাহনিতে নীলের আশা কী আমাকে মানুষ বলে মানে না?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/249900/</link>
				<pubDate>Thu, 21 May 2026 05:30:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>(ছোট গল্প)<br />
গল্পের নামঃ নিশ্বাসে প্রতিশ্বাস</p>
<p>আচ্ছা, শিয়ালেরা যখন হাক পাড়ে তখন কী কেউ শুনেছে যে তার উপসংহার পূর্বক মূহুর্তে কেমন যেন এক মুক্ত হাহাকারময় আবেগ প্রকাশ করে? কেউ কী কখনো শুনে দেখেছে পূব-বাগানের ঐ শেয়ালগুলোর ডাক? আমি শুনেছি, আর ভেবেছি, তাদের এই মুক্তি উল্লাস, নীরবে জীবন নামের তিক্ত গোলকেরও প্রকাশ হতে পারে।</p>
<p>চার দেয়ালের রঙের মাঝে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-249900"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/249900/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>