<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Rodoranjana Binte Anamika | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/rodoranjanabinteanamika/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/rodoranjanabinteanamika/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Rodoranjana Binte Anamika.</description>
	<lastBuildDate>Sun, 07 Jun 2026 23:17:35 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">1ba31cac983d81672c3e5c100b6a94a5</guid>
				<title>Rodoranjana Binte Anamika and শাহ্ আলম আল মুজাহিদ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/245851/</link>
				<pubDate>Fri, 24 Apr 2026 23:56:27 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">eaf17acb877618f549492853bc339a8c</guid>
				<title>Rodoranjana Binte Anamika and মোঃ আবু মুনিফ আল মুকিম। are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/243892/</link>
				<pubDate>Wed, 08 Apr 2026 16:42:24 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bb8f50f72a77eab49f79101083e0985b</guid>
				<title>আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমি যে উপন্যাসটি লিখছিলাম, অঙ্গীকারিহীন কুৎসা, এতে সহিংসতা এবং রাজনৈতিক আভাস থাকায় তুলটের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই এটি এখানেই স্থগিত রাখছি। শুরু থেকে আমি একটি ভিন্ন, সমকালীন, সহিংসতা-মুক্ত উপন্যাস লিখব, যেখানে কেবল সাহিত্যই প্রধান থাকবে। এছাড়াও এখানে কিছু ইংরিশ ছিল, যা তুলট পছন্দ করছে না—সম্পূর্ণ বাংলা প্ল্যাটফর্ম হওয়ায় তাই সব বাংলা ভাষায় রূপান্তর করেছি।
সবশেষে, তুলট কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। একজন সদস্য হিসেবে এখানে নিয়ম মানা আমার কর্তব্য, এবং আমি সত্যিই দুঃখিত। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখব।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/242901/</link>
				<pubDate>Fri, 03 Apr 2026 14:09:04 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমি যে উপন্যাসটি লিখছিলাম, অঙ্গীকারিহীন কুৎসা, এতে সহিংসতা এবং রাজনৈতিক আভাস থাকায় তুলটের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই এটি এখানেই স্থগিত রাখছি। শুরু থেকে আমি একটি ভিন্ন, সমকালীন, সহিংসতা-মুক্ত উপন্যাস লিখব, যেখানে কেবল সাহিত্যই প্রধান থাকবে। এছাড়াও এখানে কিছু ইংরিশ ছিল, যা তুলট পছন্দ করছে না—সম্পূর্ণ বাংলা প্ল্যাটফর্ম হওয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-242901"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/242901/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e6e186ee4a41e2b9e4a5295a8d997351</guid>
				<title>অঙ্গীকারিহীন কুৎসা
লেখিকা: রোদরঞ্জনা বিন্তে অনামিকা
পর্ব : ২

যদি বিরহ থাকে আমিও থাকি, কে বলো শেষ হবে আগে? কেন যে এত ভালোবাসা মরে যায়!
শুধু সময় মনে রাখে, এত শূন্যতা দেখে না কেউ তো—আর বলে, এসবই পাগলামি।
রূপালী চাঁদ মহীনির দিকে অপলক, অচিরে ঘোলাটে নয়নে তাকিয়ে আছে উষ্ণ, ওই চোখের ভাষা বোঝা বড্ড দায়। যখন বিষণ্নতায় ধরে, তখন হয়তো কেউ আশপাশের খেয়াল রাখে না—যেমন এই মুহূর্তে কেউ রাখছে না। তাদের কানের পাশে অচিরেই গিটারের টুংটাং সুর কানে আসছে, তবুও কারো প্রতিক্রিয়া নেই। উষ্ণের কম্পনরত কণ্ঠ বহু আগেই থেমেছে, তারপরেও কেমন খাপছাড়া লাগছে চারপাশটা তার কাছে। কথা হারাচ্ছে, অনুভূতিরা না—এই শব্দটা মিলিয়ে গিয়েছে তার থেকে। কেমন... থাক—তার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়। এ অনুভূতির প্রকাশ ভাষায় দেওয়া সম্ভব নয়।
আনমনা ভঙ্গিতে তখনও অনামিকা গিটারের সুর তুলছে, সেই সুর সকলের শ্রবণ হলেও হৃদ পর্যন্ত পৌঁছালো কিনা জানা নেই। শরৎ, নীল, হাবিব—তারা বাকহীন। কোনো সময় হলে হাসি, ঠাট্টা, আনন্দ—এই বৃষ্টি তোমার দেওয়া—গড়াগড়ি খেত; তাদের হাসির শব্দ ছড়িয়ে পড়তো বিস্তৃত মাঠ জুড়ে। অনুভূতিরা গন্তব্য হারাতে কেমন ফ্যাসফ্যাসে লাগছে চারপাশ। ঘড়ির কাঁটায় সময় হয়তোবা পৌনে একটা। মুখে হাত দিয়ে মাঠ থেকে দুবলা ছিঁড়ছে জয়ন্তী। তার হাবভাব ঠাউর করা যায় না। অন্য সময় হলে বিরক্তি প্রকাশ করত, ঘ্যানঘ্যান করে সবাইয়ের মাথা খেত। তবে এখন তার কোনো সাড়াশব্দ নেই।
অন্য সময় হলে জেসমিন হয়তো তাড়া দিত, খুব করে তাড়া দিত—বলত তার বাড়ি ফিরতে হবে, সংসার আছে। এখন সংসারের চিন্তা হারিয়ে সে উদাসীনতায় ডুবে তলিয়ে যাচ্ছে। তাই তো কপালে হাত দিয়ে বৃত্তশালী কৃষ্ণচূড়া বৃক্ষে শরীর ছেড়ে দিয়েছে। সবটা কেমন জানি এলোমেলো লাগছে। এর মাঝেই কার জানি কণ্ঠ ভেসে এল—উদাসভরে সেবন করায়; কেউ বুঝলো না কণ্ঠটা কার...
বিয়ে করছিস?
প্রশ্নটা আকস্মিক, তবে কেন জানি অতি সাধারণ। গিটারের সুর থামল। কেমন আলুথালু নয়নে অনামিকা চাইল উষ্ণের পানে।
তাচ্ছিল্য সুরে বলল—
ভুল, simultaneous marriage / joint wedding করছি।
জবাবটা ছোট ছিল, তবে এক মুহূর্তে সবাইকে এলোমেলো করে দিল।
কি হলো কে জানে? সবাই হো হো করে হেসে উঠলো। সে কী হাসি! সে হাসি কি কেউ দেখে না? কারো শ্রবণালী অব্দি সে সুর যায়?
জল এসে গিয়েছে সবার চোখে। অনামিকা তখন ছলছলে টলটলে চোখে কেমন করা সুরে জানাল—
মৃতাকে মৃত থাকতে দে।
&quot;কোথায় জানি শুনেছিলাম—জানিস তো অনু, যে তোমাকে ভালোবাসে তুমি তার হও; তুমি যাকে ভালোবাসো, তার কভু নয়। কারণ ইহাতে দুঃখ ব্যতীত সুখ বই মিলিবে না।&quot;
অনামিকা ফের হাসল—
ঝেড়ে কাশ! এটা কেবল একপক্ষী তথা one side loverদের জন্য, তবে বুঝলি তো নীল—না বোঝাতে হবে তোকে।
নীল কেমন করে তার নখগুলোর দিকে তাকাল, পরমুহূর্তে একগাল হেসে বলল—
কাউকে নিজের সর্বোচ্চ বিলিয়ে দিয়েছিস বুঝি? তাই এত বিরহ তোর, তাই না?
&quot;তাই যদি করতাম, শেষ অবলম্বন নিয়ে পালিয়ে যেতাম। সব ছেড়ে পালাতাম—সব… সব…
আর যদি অবলম্বন না থাকত, তবে আমি আর থাকতাম না…&quot;
বাকি কথা আর শেষ করতে পারল কোথায়! তাকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে নীল বলল—
এত বিরহ তোর কই থেকে আসে রে…
কখনো তো প্রেম করিস নি, কাউকে নিজের সর্বোচ্চ বিলিয়ে দিস নি, তবে? ভালোবাসিস কাউকে? তুই শুধু একবার বল—তুই কাউকে ভালোবাসিস, ভালোবেসে ছিলি। আমি… আমি আমার ভাইকে মরতে দেখতে রাজি, তবে তোর হাহাকার দেখতে নয়। তুই বল, তুই বললে আমি না হয় এ বিয়েটা ভেঙে দেবো।
তাকে আর কথা না বলতে দিয়ে অনামিকা বলল—
জানিস তো নীল, মানুষ সামাজিক জীব। এটা যাই হোক, এ সকল বাক্য আমার মতো সমাজবিরোধীদের জন্য নয়। তবে তোদের দিক থেকে বলতে গেলে এটাই সত্য। আর সামাজিকতা বলতে কিছু আছে; শুধু শুধু নিজের রেপুটেশন আর বাবার ইচ্ছা পানিতে চুবাতে পারবো না। আর… আমি দায়বদ্ধ। দায়বদ্ধতার জন্য হলেও আমাকে এটা করতে হবে—তা আমি চাই বা না চাই। লোকটার সঙ্গে তো কথা হলো; দেখে খারাপ মনে হয়নি। আর তুই …

বাকি কথাটা শেষ হওয়ার আগেই—
টিং!
নোটিফিকেশনের শব্দটা কানে যেতেই সবার মুখে হালকা বিরক্তি ফুটে উঠল।
শরৎ ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ রইল, তারপর ধীরে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
শান্ত গলায় বলল—
“আরমানের সাথে তোর কথা হয়েছে, অনু?”
অনামিকা নির্বিকার—
“হুম।”
“কি বলেছে?”
অনামিকা ঠোঁট বাঁকিয়ে, একটু নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল—
“পিপীলিকার ডানা গজায় মরিবার তরে।”
শরৎ ভ্রু তুলল—
“আর তুই?”
অনামিকা একই ভঙ্গিতে—
“জামাই আদরের ব্যবস্থা কর।”
কথাটা বলেই সে হালকা হাসল।
নীলের মুখে বিতৃষ্ণা ফুটে উঠল। মুখ সিটিয়ে বলল—
“এখন এসব না করলেই না?”
অনামিকা একটু থেমে, নিচু স্বরে বলল—
“পিপীলিকার কেবল কেবল ডানা গজিয়েছে… উড়তেও শিখছে।
বেশি স্বাধীনতা দিলে কখন যে উড়ে এসে তোর বিচি কামড় চলে যাবে, তুই টেরও পাবি না।”
নীল দাঁত কিঁড়মিঁড় করে উঠল—
“বেজন্মাদের চোদোন খাবার খুব শখ হইছে—শখ মিটাইতেছি, দাঁড়া!”
“দুই সপ্তাহ পর বিয়ে—ভাবছিলাম এর মধ্যে শান্তিতে থাকবো…
কিন্তু না, পিছন মারা ঝামেলা পিছু ছাড়ছে না।”
অনামিকা এবার একটু গম্ভীর হলো—
“রাগ কমা, নিলু।
এখন মাছি মারতে গিয়ে হাত নষ্ট করার দরকার নেই।
যুদ্ধ—সমানে সমানে হলেই ভালো লাগে।”
একটু থেমে আবার বলল—
“যাই হোক, বাড়ির কাজ এতদিনে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
আমি এই সপ্তাহে গিয়ে সব ঠিক করে আসবো।
তারপর নানু বাড়ি যেতে হবে—কাজিনরা আসবে…”
“আরমানকে বলেছি—সে আমার সাথে যাবে।”
তারপর সবার দিকে তাকাল—
“তোরা ঠিক কর—নীলের সাথে যাবি, না আমার গেস্ট হয়ে যাবি?”
এক মুহূর্তের নীরবতা।
শরৎ ধীরে বলল—
“ওসব পরে হবে। আগে কাজের কথা শুন।
ভ্রমরকে দিয়ে হাতের ঝামেলাগুলো সাফ করাবো—দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনায় হাত দিয়ে কি লাভ? ভ্রমরকে দিয়ে করলে ঝামেলা মিটে যাবে, আমাদেরও আর হাত নোংরা করতে হবে না।
তুই বাড়ি যা। যাওয়ার আগে আরমানকে নিয়ে যাবি—ওকে দিয়ে ফান্ডের জমিগুলো ফাইনাল করাস।
আসবাবপত্র এখান থেকে কিনে নিস।
তোর বাবাকে ডেকে নিয়ে একসাথে দেখে কিনে ফেল।
শেষ সপ্তাহে গিয়ে কাজিনদের সাথে সময় দিস—সব নরমাল হয়ে যাবে।”
উষ্ণ এবার হাত তুলে থামাল—
“আচ্ছা, তোরা থাম। কাল থেকে আমার ক্লাস শুরু।
লাইভ আছে দুটো, রেকর্ড করতে হবে আরও দুটো।
আমাকে কেউ ডাকিস না—ফোন সাইলেন্ট থাকবে। দরকার হলে হাবিব স্যারের সাথে কথা বলিস।”
একটু নীরবতা।
উষ্ণ আবার ধীরে বলল—
“এই সপ্তাহে মাত্র তিনটা ক্লাস নিতে পেয়েছি…
আর আমাদের এডুকেশনাল ফান্ড—ওটার কাজ কবে শুরু করবো?”
কেউ কিছু বলার আগেই অনামিকা বলল—
“এখন বড় প্রজেক্ট নেওয়া সম্ভব না। হাতে টাকা কম… সামনে বিয়ে।
তবে ঢাকা, চট্টগ্রাম—আর কয়েকটা জায়গায় জমি কেনা শুরু করা যায়।
পাবনায় তো লোক লাগানোই আছে… অনেকটা কাজ হয়ে গেছে, কিছু বাকি।”
সে হাবিবের দিকে তাকাল—
“স্যার…”
“জি?”
“আপনি কি সরাসরি যুক্ত হতে চান? ফান্ডে?”
হাবিব একটু ভেবে বলল—
“টাকা দিয়ে সাহায্য করতে পারবো… কিন্তু সরাসরি যুক্ত থাকা কঠিন। তবুও চেষ্টা করবো।”
অনামিকা মাথা নাড়ল—
“আচ্ছা।”
এবার নীল গম্ভীর গলায় বলল—
“এসব পরে হবে। সবারই রেস্ট দরকার।
চল, বাড়ি ফিরি।”
একটু থেমে—
“কাল কলেজে আসিস—সবাই।”
সবাই চুপচাপ মাথা নাড়ল।
উষ্ণ নিচু গলায় বলল—
“আমি নাও আসতে পারি… রেকর্ডিং আছে।”
কেউ আর কিছু বলল না।
হঠাৎ জেসমিনের কণ্ঠ—
“শুনেছি… মধ্য নিশিতে কথারা ফুরিয়ে আসে। বিষণ্নতা ধরলে—আমাদেরও কি তাই হলো?”
তার কথা শেষ হতে না হতেই এক ফোঁটা কৃত্রিম হাসি ছড়িয়ে পড়ল সবার মুখে।
হাসিটা—খুবই ফাঁপা। 


---------

চাঁদনী রাত। আকাশ ঝকঝকে ফক ফকে, আশপাশটা আপনার আলোয় পরখ করা যায়।
বাকি সবাই বিদায় নিয়েছে। পড়ে রয়েছে কেবল তারা তিনজন।
অনামিকা বিদায় নেওয়ার জন্য ধীরে পা বাড়াল।

কিন্তু তার ভুলকথ্য সংশোধন করতে নীল হঠাৎ ডেকে উঠল, গলা উঁচু করে—

“ওহে পথচারিনী, আপনি অতি বিভৎসরূপে পথভ্রষ্ট হয়েছেন!”

অনামিকা  ঘাড় ফেরিয়ে হালকা হাসি টেনে বলল—

“আজ লক্ষ্য করলি?”

নীল প্রসঙ্গ বদলিয়ে বলল—

“চল, তোকে তোদের ফ্ল্যাটে দিয়ে আসি। তারপর আমাদেরও ফ্ল্যাটে যেতে হবে। বেশি রাত হলে ভাইয়া রাগ করবে।”

-------

দুপুর ১২ বেজে চার মিনিট, সূর্যমামা অতি দাপটের সাথে তার তীক্ষ্ণ তেজস্ক্রিয় রোশনী ছড়িয়ে দিচ্ছে ধরনিতে। প্রখর সূর্যকে মাথায় নিয়ে গাড়ির আশায় কতক্ষণ যাবৎ ফুটপাতে দাঁড়িয়ে আছে অনামিকা। আজকে কলেজে তেমন একটা ক্লাস ছিল না। তাই দ্রুত বাসায় ফেরা, বাসায় ফিরে স্নান সেরে আবার একটা জায়গায় যেতে হবে—এই এক জীবনে ঝামেলারা তার পিছে ছাড়ে না। সুখ শান্তির বড্ড অভাবেই জীবনে।
অনামিকা পারলো না তার পবিত্র মুখ বন্ধ রাখতে ইচ্ছে করছে মুখ খুলে সূর্যকে এক বস্তা খানিক গালি দিতে। সূর্য মামার তেজ যতই হোক, অনামিকার তীক্ষ্ণতার আগে এই সূর্য হার মানবে। যার জন্য কতশত পাত্তা দেয় না এই সূর্যকে, তার অবশ্যই এক নিজস্বতা আছে। যাই সূর্য নেই, সে জানে আল্লাহ তাকে কোন এক বিশেষত দিয়ে এই দুনিয়াতে পাঠিয়েছে। যদিও সেই ব্যাপারটা প্রকাশ করতে চায় না তবুও সে জানে সে বিশ্বাস করে ।

অনেকক্ষণ চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকার পর এক রিক্সাওয়ালার দেখা মেলে। রিকশাওয়ালা যাবে কিনা জানতে চাওয়ায় ,রিক্সাওয়ালা দাপট দেখিয়ে বুক উঁচু খানিকটা গর্ব  করে বলে, “বেহেন আম্মা, এই রোদে তোমাকে একা নিয়ে যাচ্ছি। ভাড়া আমার বেশি চাই, ২০ টাকা না দিলে আমি যাবই না।” 
অনামিকার মুখটা একটু পাংশুটি হলেও গাড়িতে উঠে বসে। দশ টাকার রাস্তা নাকি তার বিশ টাকা দিয়ে যেতে হবে—সমস্যা নেই। এমন তার সাথে বহুবার হয়েছে। এই রিক্সাওয়ালারা বেশ ধান্দাবাজ; তার কারণে তার এদের পছন্দ হয় না। যদিও এই শহরে অনেকগুলো ভালো রিক্সাওয়ালাও আছে, তবুও এখন অপেক্ষা করার মতো কত শত ধৈর্য্যতার নেই—গাড়ির জন্য আরো দেড় ঘন্টা অপেক্ষা করবে, এটা তো তার দ্বারা সম্ভবই না।
বাড়ির সামনে পৌঁছাতেই গাড়ি ভাড়া মিটিয়ে, কোন দিকে না তাকিয়ে ব্যাগটা হাতে নিয়ে সরাসরি রুমে এসে ছুড়ে মারল। সে যতক্ষণ না বাসায় আসে, বাড়ির দরজাগুলো ততক্ষণ খোলা রাখা হয়—কারণ সবাই জানে, কোন কানে যদি ওর মুড খারাপ থাকে, বাসায় এসে যদি দরজা খোলা না পায় বা দরজা খুলতে দেরি হয়, তারা দরজা খুলতে এসে দেখে সে ইতিমধ্যেই রুমে প্রবেশ করে ফেলেছে।
আর কিভাবে রুমে এসেছে, সেটা তো তোমরা বুঝতেই পারলে। তোমাদের এবার মনে হতে পারে, তাই বলে দরজা ভেঙে ফেলবে—হ্যাঁ, ওইটাই করে। ওর থেকে এটাই আশা করা যায়; বেডি এক নাম্বারের ধৈর্যহীন।
-------
টাওয়েল দিয়ে মাথায়  মুছতে মুছতে।এইমাত্র স্নান করে বের হয়েছে অনামিকা,
দরজার সামনে দাঁড়াতেই প্রাণ পাখি উড়াল দেয় তার—নীলের পাশে একে বসে আছে। নীলের সাথে চোখে চোখে হতেই , নীলকে অনামিকা ইশারা দিয়ে বোঝায়, “গলা কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেবো তোকে, বেইমানের বাচ্চা।” পরবর্তী ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে। নীল এক পলক ভাইয়ের দিকে তাকায় , বাঁচা গেল&#039; না তার ভাই কিছু দেখেনি।
মনে মনে বির বির করে:
“মাঙ্গের নাতির হেডাম দেখো, নিজের ল্যাংটা হয়ে বেরোবে আর হেডাম দেখাবে আমায়। তোর কি ঠ্যাকা পড়ছিল রে—হাফপ্যান্ট আর ঐসব ঢিলা গেঞ্জি পড়তে, পেট নাভি, এমনকি নিচে যেটা পরছোস, ওইটা ফিতা ও দেখা গেল। ফ্যাশন মারায়।”
ঋতুকে ডেকে নীল ফিসফিশিয়ে বলেন, ওকে একটা শাড়ি দিয়ে আসতে। ঋতু মনে মনে বিড়বিড়ায়—&quot;শাড়ি, দিলে আপু আপনাকে কেটে টুকরো টুকরো করবে।” তাই সে নিজ ইচ্ছা মত কভাড থেকে একটা কুর্তি, ঢিলা সালোয়ার আর ম্যাচিং ওড়না নেয়। এটা মূলত একটা সেট ছিল। এটা পড়লে অনামিকাকে বেশ সুন্দর লাগে ।

দরজায় নক হতেই  অনামিকা দরজা খুলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।
কাপড়টা নিয়ে তাড়াতাড়ি বদলে ফেললো। চুল ভেজা হাওয়ায় হেয়ার ড্রায়ারের মাধ্যমে তা শুখিয়ে নিল। রুমে গিয়ে দ্রুত  আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পড়লো। তাড়াহুড়োর মাঝেও নিজের দিকে একবার তাকানো—এই অভ্যাসটা সে ছাড়তে পারে না। ঠোঁটে ব্রাউন লিপস্টিকের ওপর হালকা পিঙ্ক শেড বুলিয়ে নিল, গালে একটু ন্যাচারাল পিক ব্লাশ। তার মেকআপটা এখন হেবি কিছু করার টাইম নেই তার হাতে ।চোখে চশমা চাপিয়ে ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিল। তখনই তার মনে পরল চুলে চিরুনি চালানো হয়নি দ্রুত হাতে চিরুনি করে । তারা দিল নিজেকে ,
“যেতে হবে… এখনই।”

দরজা খুলে বাইরে পা রাখতেই—
হঠাৎ!
পেছন থেকে শক্ত করে কেউ তার কব্জিটা ধরে ফেললো।
অনামিকার বুক ধক করে উঠলো। শরীরটা এক সেকেন্ডের জন্য জমে গেল।
—“কোথায় যাচ্ছ?”
গলার স্বরটা শান্ত হলেও কেমন যেন প্রশ্নতুর কন্ঠ
অনামিকা হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে ,চোখ না ঘুরিয়েই বলল—
—“বাইরে।”
—“আমার আগে?”
প্রশ্নচিত্র বোধগম্য হওয়া সত্ত্বেও উত্তর দেয়ার প্রয়োজন মনে করল না তবুও ভদ্রতার খাতিরে বলল 
—“আমার যাওয়াটা জরুরি। পরে কথা বললে হয় না?”
লোকটা একটু ঝুঁকে এলো, হাতের গ্রিপটা বেশ জোরালো পরলো , যেন ছেড়ে দিলে সে পালাবে।
—“প্রয়োজনের কথা বলছ? তোমার প্রয়োজনের আগে কি আমি নই।”

কেমন জানতে চাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করলো লোকটা, সবটা ঘোলাটে হয়ে এলো অনামিকার কাছে। লোকটার প্রশ্নের ব্যাকলতার জব এর আগে ই হাতে টান পড়ায় সেদিকে পা বাড়ালো অনামিকা 
লোকটা তাকে একটি রুমে নিয়ে এসেছে , তাকে 
বিছানায় বসিয়ে কেমন ঘোর লাগা বৃষ্টিতে তার দিকে তাকালো
অনামিকা মুখে এবার স্পষ্ট অস্থিরতা । চুলগুলো অবাধ্য হয়ে মাখে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, চশমার কাঁচটা বেশ ঘোলাটে 
লোকটা সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো।
তারপর ধীরে হাত বাড়িয়ে চুলগুলো সরিয়ে দিল কানের পেছনে।
চশমাটা খুলে নিয়ে আপন হাতের মুঠোই রাখলো 
ঠিক তখনই—
ঋতু ট্রেতে করে চা-নাস্তা রেখে গেল।
ঋতু বের হতেই লোকটা আবার এগিয়ে এলো।
আঙুল দিয়ে অনামিকার থুতনিটা আলতো তুলে ধরলো।
—“তাকাচ্ছ না কেন?”
তবুও অনামিকা পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া কিংবা তার সেই মাধুর্য ভরা দৃষ্টির তার নয়নের স্থির না হয় বেশ হতাশা বোধ করল  সে তবুও অনামিকার থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়ার আশায় , হঠাৎ ই সে এক অদ্ভুতরে কাণ্ড করে বসে ,
আকস্মিক অনামিকাকে টেনে নিজের দিকে নিয়ে এলো।
অনামিকা ভারসাম্য হারিয়ে প্রায় তার উপর পড়ে গেল।
—“কি করছেন—”
কথা শেষ হওয়ার আগেই সে তাকে বসিয়ে নিল নিজের কোলে।
অনামিকার শরীর শক্ত হয়ে গেল। হাত দিয়ে সরতে চাইল, কি
অথচ লোকটার হাত তার বাঁকানো কোমর চেপে ধরেছে বহু আগেই —ব্যাপারটা এমনই ভয়ানক যা কল্পনার অতীত । বিষয়ের ভয়াবহতা এমন ধারালো যে অনামিকা কেমন ফাঁকা অনুভব করল।
সে একটু ঝুঁকে এসে অনামিকার কানের কিছুটা নিচে ঠোঁট ছোঁয়ানো , সে স্থানে ঠোঁট রেখেই বলল  
—“এত পালাও কেন?”
গলার স্বরটা প্রায় ফিসফিসানির মত অনুভব হলো ।
অনামিকা এবার সত্যিই অস্থির হয়ে গেল। শ্বাসটা একটু ভারী হয়ে এসেছে।
—“আমার… সময় নেই। আমাকে যেতে হবে।”
—“সত্যি?”
—“হ্যাঁ। শরৎ হয়তোবা আমার জন্য অপেক্ষা করছে ।”
লোকটা কেমন শান্ত নির্বিকার সুরে বলল  
—“আমি বলেছি তুমি দেরি করবে।”
নিলকে দিয়ে বলে দিয়েছি তোমার যেতে দেরি হবে ।
অনামিকার ভিতরটা রাগে  গজগজ করে উঠলো।
মনে মনে দাঁত চেপে বলল—
“শুয়োরের বাচ্চা তোর দালালি আমি বের করব একবার ছাড়া পাই “ 
তার ভাবনার মাঝে হঠাৎ এই লোকটা তাকে লজ্জা ভয় অস্বস্তি জড়তা দ্বিধা এবং ভয়ানক অসহায় অনুভব করলে   ,
_ তাকে হালকা  উঁচু করে তোর ঘরে হাত দিয়ে প্রায় তার ঠোঁটে ঠোঁট ছুই ছুই করতে চাইলে । 

লজ্জা ভয় বিধায় হাঁসফাঁস করে উঠলো অনামিকা ছিটকে সরে যেতে চাইলো তখনই লোকটা তাকে বিছানার সঙ্গে ঠেসে ধরল কেমন মোহনীয় নয়নে তার দিকে তাকালো অনামিকা ভিন্ন অনুভূতির মিশ্রণরত চেহারা দেখে সে ঠোঁট ভেজালো শুকনো  ঢোক গিলে নিজেকে সামলানো আলতো ফিসফিসিয়ে বলল_ 
যাও  তবে ফিরতে রাত করবে না । 
বলে তাকে হালকা আগলা করে দেয় বাকি কথা শেষ করার আগেই 
 সুযোগ পেয়ে অনামিকা এক ছুটে পালায় 
লোকটা কেবল চাতক পাখির ন্যায় চেয়ে রয় 
মনে মনে বিড়বিড়ায় _ আর মাত্র কিছুদিন 


-----


&quot;ইহার চেয়ে হতাম যদি &quot;বাক্যটা মনে মনে কতবার আওড়ালো, তবুও তার বাক অর্থ ঠিক উদ্ধার হতে দেখা গেল না। বিরক্তিতে ঠোঁট কামড়ে ,রেলিঙে থুতনি ঠেকাতে দেখা গেল , অনামিকার মুখশ্রী কেমন বিষন্ন , মন ছোট করে সে ভ্রু কুচকে আছে
ব্যাপারটা স্পষ্ট। অন্য সময় হলে এই বিরক্তের রেশ কারো না, কারো উপর ঢেলে দিত। করা গলায় আপন পবিত্র মুখের পবিত্র বাণী শুনিয়ে দিত তাকে ,তবে আশেপাশে কেউ না থাকায় বেশ রক্ষা হয়েছে সেই মানুষটার ,  তার এ রূপ নীরবতার মধ্যেই কারো উপস্থিতি উপলব্ধি করল সে, কানের কাছে ভেসে এলো তারই কর্কষ অথচ তেজী কন্ঠ   _
_ &quot; আমি কি খুব বেশি বুড়ো হয়ে গিয়েছি, একটু অসুস্থ বলে এভাবে আমাকে বোকা বানাবি তোরা&quot; ?

প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে অনামিকা ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো, বেশ রাগ নিয়ে বলল_ _ &quot;দেখো একদম যেচে এসে ঝগড়া করবে না আমার সাথে   &quot;

ওয়াদুজ্জামান চৌধুরী ভ্রু কুচকে তাকালেন অনামিকার দিকে, বুঝতে পারল মেয়েটা বেজায় চটে আছে, তাই শান্ত কণ্ঠে একটু আদর করে ডাকলো_ _  &quot;কি হয়েছে তোর বলতো তুই তো সচরাচর এমন করিস না তোর বাপ ফোন দিয়েছিল জানিস ,   &quot;

_&quot;বালের ক্যাচাল কইরো না তো ভালো লাগতাছে না&quot; ।

অনামিকার কথায় ওয়াদুদ সাহেব বুঝলো  নিশ্চয়ই কোন বড় ধরনের ঝামেলা হয়েছে, না হলে তার সাথে এরকম দুর্ব্যবহার করার মেয়ে অনামিকা ।

_ &quot;অনু আম্মু বলতো কি হয়েছে তোর &quot;।

ওয়াদুদ সাহেবের কাতর কন্ঠ কর্ণ গজর হতেই অনামিকাকে কিছুটা শান্ত হতে দেখা গেল ,তারপরেও কেমন অশান্ত ভঙ্গিতে  একরাশ বিরক্তি নিয়ে বলল _
_&quot;গজবের একটা জীবন পাইছি আল্লাহ দিলে ,  গজবের ঝামেলা পিছু ছাড়ে না। যে দিকেই যায় ঠাডা পরা গজব এসে হাজির হয়  । আর তার ওপর নতুন সমস্যা মারা দিতে আসে খালি আমি একা এক মেয়ে হয়ে কতগুলা ঝামেলা কে মারা দিব। দেখো না কেমনে একটার পর একটা এসে সিরিয়াল ধরছে।

_&quot;তোর এমন রসের রস ভরা রসিকতার কথা শুনে বেশ খুশি হলাম । তবে তোর সমস্যাটা বেশ ক্রিটিকাল, এ ধরনের ক্রিটিকাল মুসিবত খুব কম মানুষের উপরে নাযিল হয় ,তবে তোর মত বহুরূপী আর বেশধারীনের জন্য এ ধরনের সমস্যা নাযিল হওয়াটা বড্ড স্বাভাবিক তো সমস্যাটা বললে খুশি হতাম সমাধান দিতে আরও সুবিধা হত আর আমাকে অসুবিধা ফেলার মত মেয়ে তো তুই না   ।
ওয়াদুদ সাহেবের কথা শুনে অনামিকা কপাল কুচ কালো
নিজেকে শান্ত করতে বলল _
_&quot;উষ্ণ কোথায় জানি সস্তায় সোনা পাইছে ,সেই সোনা কুড়াইতে যাবে আমারে নিয়ে ,আর তুমি তো বেশ ভালোই জানো উষ্ণ হলো; &#039;সস্তায় বস্তা ভরা পার্টি &#039;

_&quot;তুই এ সামান্য বিষয় নিয়ে এমন রেগে আছিস&quot; ?
_&quot;পুরোটা তো শুনবে&quot;?
&quot;ধৈর্য হারিয়েছিলাম শুরু কর&quot;
এবার
অনামিকা বিরক্তিকর মুখভঙ্গি করে বলতে শুরু করলো _
অনামিকার কথা এতক্ষণ বেশ মনোযোগ দিয়ে শুনেছে, ওয়াদুদ সাহেব তার কথা প্রতিক্রিয়া স্বরূপ জানতে চাইলো
_&quot;এখন কি করবি তুই &quot;?

ওয়াদুদ সাহেবের প্রশ্নে অনামিকা তার দিকে সরাসরি তাকিয়ে বলল_
_&quot;তুমি সমাধান দিবে না আমি কোন কিছু ভাববো &quot;  ?

মুখে স্বীকার না করলেও ওয়াদুদ সাহেবের সমাধান বেশ মনে ধরেছে অনামিকার কারণ তার ধারণার সাথে সম্পূর্ণ মিলে গিয়েছে মিলবে না এমনটা খুব কমই হয়েছে।

_&quot;তাহলে তুমি বলছো ঘুরে আসবো &quot;?
_&quot;ঘুরে আয়&quot;।

&quot;নবজাতক শিশু সামলানোর তাড়নায় পড়ে রান্না চাপানো ভুলে যখন শিশুকে সামলাতে মনো ব্যস্ত গৃহিনীর তার ব্যস্ততা ঝাপিয়ে উটকো গন্ধ নাকে হানা দিতেই তার প্রতিক্রিয়া যেমন হয় ঠিক একই প্রতিক্রিয়ায় ওয়াদুদ সাহেব জানতে চাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন  ছুঁড়ে _
_&quot;ওই রূপবান কেরে&quot;?
_&quot;এমন ভাবে বলছো যেন পৃথিবীর সকল সৌন্দর্য সেতার দেহে লেপটে বসে আছে &quot;?
_&quot;অথচ তো বুঝি না তাহলে ওই কি&quot;?
_হুম

_&quot;এরপরেও?
_হুম।
_&quot;তুই কি মানুষ&quot;?
_&quot;unfortunately &quot;!
&quot;তোকে আর কি বলবো তা এসেছিল ...
বাকি কথা সম্পূর্ণ হলো না তার আগেই অনামিকা বিরক্তি নিয়ে বলল
_&quot;দেখো মন মেজাজ যাব একটু ভালো হয়েছিল! ওই লোকটার কথা মনে করিয়ে দিয়ে সেটুকু নাই হয়ে গেল!
ওয়াদুদ সাহেব কতক্ষণ অনামিকার বিরক্তিকর মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল তারপর বলল _
_&quot;এর আগে যতবার দেখা করেছিলে ততবার তো জানতে চাইলে বলেছিলে &#039;খারাপ না&#039; তবে আজকে এমন কি করেছে যে এমন বলছিস &quot;?
_&quot;তো বলবো না বলছো? আরে আমি রেপ হতে হতে বেঁচেছি&quot;!
_&quot;এএএহহহহ্!!!!!??”


------


শ্বশুরবাড়ি পরিদর্শনে এসেছিল নীল।
পাকঘরের দিক থেকে আসা ধারালো শব্দে কপালে হালকা ভাঁজ পড়ল তার।
ধুপ… ধুপ…
মাংস কাটার শব্দ।
কৌতূহলটা দমিয়ে রাখতে পারল না।
পা টেনে এগিয়ে গেল।
নিয়ন আলোয় ভেজা ঘরটা কেমন অদ্ভুত লাগছিল—
সেখানে দাঁড়িয়ে একজন, অদ্ভুত স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে কাজ করছে।
অদক্ষ হাত—তবু কেমন নিখুঁত ছন্দে ছুরি চলছে।
নীল থেমে একবার তাকাল।
তারপর ঠোঁটের কোণে হালকা টান পড়ল।
সে বুঝলো এ ব্যক্তি
আরমান ছাড়া আর কেউ না।
পাশের চেয়ারে টেনে বসল সে।
ঝুড়ি থেকে একটা টসটসে আপেল তুলে নিয়ে দাঁত বসালো।
রসালো আপেলটার দিকে
কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল—
তারপর প্রশ্ন ছুঁড়ল—
— “তুমি যে এখানে এদের পিছনে মারছো… এটা কি তোমার ম্যাডাম জানে?”
আরমানের তখনও হেলদোল নেই,
ছুরির চলা একই রকম steady।
— “সাদা কাপড়ে দাগ পছন্দ করে না আমার ম্যাডাম…
তাই ময়লা তুলছি।”
কিছুক্ষণ থেমে ফের ঠোঁট নারালো_
— “এতে উনি অসন্তুষ্ট হবেন বলে মনে হয় না।”
নীল এক পলক হাতে থাকা আপেলটার দিকে চাইলো।
তারপর হঠাৎই সেটা পাশে ছুঁড়ে ফেলল।
চোখ সোজা আরমানের দিকে এক করে প্রশ্ন করল
— “আর যদি দাগ তুলতে গিয়ে কাপড়টাই ছিঁড়ে যায়?”
ঠোটের কোণে মিষ্টি একটা হাসি টানলো , ঠোঁট কামড়ে কাজে মনোযোগ দিল পরক্ষণেই ঠোট নারালো
— “তাহলে নতুন কাপড় আনবো…”
একটু থেমে,  নিচু স্বরে —
— “ইনশাআল্লাহ।” 

নীল চোখ কুঁচকে অন্য দিকে তাকাল।
সে জানে—এই ছেলের সঙ্গে কথায় সে পারবে না।
অতএব, অত পাত্তা না দিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করল—
— “সারারাত এখানে মারা দিলে … কাল ভোরের আগে লোকেশনে পৌঁছাতে পারবি?
তোর ম্যাডাম তোকে ঠিক সময়মতো না পেলে… ডিম থেরাপি দিবে।
থেরাপি নিতে পারবি তো ?”

কথা বলে যেন বেশ আনন্দ অনুভব করল নীল আরমানের দিকে তাকাতে বুঝলো সে এখনো হাতের কাজ সারতে ব্যস্ত ঠোটের কোন লেগে আছে হালকা হাসি
— “দ্রুত হাতের কাজ শেষ করে রওনা দেব।
নীল ঠোঁট উলটে বলল _
প্রথমে ভাবেছিলাম ওদের সঙ্গেই যাচ্ছিস…

বলেই নিলকে পায়ের উপর পা উঠিয়ে পাও দোলাতে দেখা গেল
হাতের কাজ শেষ হয়েছে আরমানের এবার নীলের দিকে পূর্ণ দৃষ্টি দিলেন

— “যাওয়ার কথা ছিল, হঠাৎ দেখলাম ম্যাডামের আশেপাশে একটা মাছি খুব বেশি ঘ্যানঘ্যান করছে।
মরার জন্য খুব লাফাচ্ছিল, তাই আর কি
হাতের কাজ শেষ—এগুলো সার্ভ করবে ভ্রমণ।”

এবার একটু কণ্ঠ নিচু করে বলল—
— “স্যার থাকবেন না? আমার সাথেই যাবেন?
নীল জিব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে হালকা ঠোট কামড়ে বলতে শুরু করল _
— “লোকেশন অনুযায়ী অনুর নানুবাড়ি পেঁচবে, তাই আমাকে নিতে পারবে না।
আমাকে আবার পার্টি অফিসে যেতে হবে।
সুখ-শান্তি আছে—আমাদের বাবুনি একটু অসুস্থ, তাই তার বদলে আমি যাচ্ছি।
এখন বাসায় গিয়ে না ঘুমালে সকালে আর উঠতে পারব না।”
বলেই একটা  হাই দিল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/242893/</link>
				<pubDate>Fri, 03 Apr 2026 13:53:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অঙ্গীকারিহীন কুৎসা<br />
লেখিকা: রোদরঞ্জনা বিন্তে অনামিকা<br />
পর্ব : ২</p>
<p>যদি বিরহ থাকে আমিও থাকি, কে বলো শেষ হবে আগে? কেন যে এত ভালোবাসা মরে যায়!<br />
শুধু সময় মনে রাখে, এত শূন্যতা দেখে না কেউ তো—আর বলে, এসবই পাগলামি।<br />
রূপালী চাঁদ মহীনির দিকে অপলক, অচিরে ঘোলাটে নয়নে তাকিয়ে আছে উষ্ণ, ওই চোখের ভাষা বোঝা বড্ড দায়। যখন বিষণ্নতায় ধরে, তখন হয়ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-242893"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/242893/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3362af55f970c97265a2af405e7de626</guid>
				<title>Rodoranjana Binte Anamika and MD HAFIZUR RAHMAN are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/242828/</link>
				<pubDate>Fri, 03 Apr 2026 09:38:00 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f338fa00fa3f914ae2aa5dd6640a8fb3</guid>
				<title>অঙ্গীকারহীন কুৎসা
লেখিকা : রোদরঞ্জনা বিন্তে অনামিকা 

পর্ব - ১ (খন্ডা অংশ )



যদি তাকে ভালবাসত, তবে আঘাত করতে পারত না।
অভিমানে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে। টু শব্দও করে না।
এ পর্যায়ে মনের দুঃখগুলো অশ্রু আকারে ঝরে যেতে লাগলো।
ততক্ষণে বইয়ের পাতা থেকে চোখ সরিয়ে মেয়ের দিকে তাকায় প্রেম।
বলিষ্ঠ ও শক্তপোক্ত দুই হাতে মেয়ের চোখের পানি মুছে দেয়।
উঠে গিয়ে মেয়েকে শক্ত করে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে।
নরম সুরে বলে,
“বাবাই সরি, আমি বুঝতে পারিনি। প্রচুর রাগ হয়ে গিয়েছিল। বাবাকে কি ক্ষমা করবে? না, আমার উচিত ছিল ঠান্ডা মাথায় তোমাকে বোঝানো।
এখন আমি যদি তোমার জন্মদাত্রীকে নিয়ে ব্যাট কমেন্ট করি, তোমার কেমন লাগবে?
নিশ্চয়ই প্রচুর খারাপ লাগবে। আমারও তখন অনেক খারাপ লেগেছিল।
সে শুধু আমার জন্মদাত্রী নয়, আমার পথপ্রদর্শক।
তুমি হয়তো বুঝবে না, কারণ আমি তোমাকে সঠিক পথ দেখাতে পারিনি।
আমি বাপ হিসেবে ব্যর্থ। আমি জানি না কিভাবে আমার ভুল সংশোধন করতে হবে এই মুহূর্তে।
কিন্তু যদি Mom থাকতো, হয়তো আজ আমি একজন ভালো বাবা হতে পারতাম।
আমি জানি না তুমি তার সম্পর্কে এত বাজে কথা কোথা থেকে জেনেছ।
কিন্তু সে আসলে তোমার জানা মতে নয়।”
প্রেম বুঝতে পারছে না সে তার মেয়েকে কিভাবে বোঝাবে।
এ পর্যায়ে তার মনে পড়ল—সে যখন তার মায়ের উপর অভিমান করত, তখন তার মা তার মাথার চুলের মধ্যে হাত বুলিয়ে দিত, কপালে ঠোঁট ছোঁয়াতো, নিজের হাতের মজার মজার খাবার বানিয়ে খাওয়াত।
সেইভাবেই মেয়েকে মানানোর সিদ্ধান্ত নিল।
মেয়েকে কোলে তুলে নিল প্রেম।
এবার লক্ষ্য করল, মেয়েটা খুবই ছোট।
এটা কেন? সে তো এই বয়সে অনেক লম্বা ছিল।
শুধু তাই না, তার স্ত্রীও প্রচুর লম্বা।
মেয়ে এতটা শর্ট কিভাবে?
কিন্তু বিষয়টিকে অত পাত্তা দিল না।
মেয়েকে কাছে টেনে নিল নিজের কোলের ওপর বসিয়ে।
চুলের মাঝে হাত বুলিয়ে দিল। কপালে পরপর চুমু খেল।
নরম সুরে বলল,
“আমার আম্মু এখন আমার ওপর মন খারাপ করে থাকবে।
তোমার জন্য আমি নতুন নতুন চকলেট নিয়ে আসব।
তুমি জানো, আমি একটা স্পেশাল রেসিপি জানি।
তোমার অনেক পছন্দ হবে, তোমাকে বানিয়ে খাওয়াবো।
আর কালকে সম্ভবত বিকেলের দিকে মেলা বসবে।
সেখানে তোমাকে নিয়ে যাব আমার সাথে।”
কথাগুলো বলে , প্রেম আবার আদরে সুরে বলল তুমি না আমার মিষ্টি মামনি বাবা তোমাকে কত ভালবাসি তোমায় বাবার উপর এভাবে অভিমান করে থাকবে চলো আমরা ঘুরে আসি তুমি জানো আমি যখন মন খারাপ করে থাকতাম আমার mom আমাকে নিয়ে  হাঁটতে বের হতো রাতের বেলা হাটা কতটা স্বস্তিদায়ক তুমি জানো চলো তোমাকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসি।
প্রেমীর ফুপিয়ে কেঁদে ওঠে।

_ও..ও…ও
ও আমার আদুরে বাচ্চাটা এভাবে কাঁদে কেন? খুব ব্যাথা লেগেছে বুঝি দেখি, কোথায় ব্যাথা লেগেছে কথাটি বলেই প্রেম প্রেমির থাপ্পর পড়া গালে ঠোট ছোঁয়ায় ।

প্রেমে আদুরে আহ্লাদ ে হাত পা ছুড়তে থাকে প্রেমী  কাঁদতে কাঁদতে বলে, _   যাবো না তোমার সাথে কোথাও যাবো না তুমি আমাকে একটুও ভালোবাসো না, তুমি আমাকে মেরেছ যখনই আসে তখনই একটু আমাকে সময় দিতে চায় না ।সারাক্ষণ কাজ করে । তুমি চলে যাও, আমার রাগ তোমার ভাঙাতে হবে না তুমি তোমার কাজের জায়গা চলে যাও ,থাকতে হবে না আমার কাছে । তোমরা কেউই আমাকে ভালোবাসো না কেউ না চাচ্চু ও ভালোবাসে না চাচী মনিও ভালোবাসে না অহিন আমার সাথে কেমন কেমন করে ও আমাকে পছন্দ করে না ।তোমার বউ আমাকে আদর করে না ও তো একটা রাক্ষসী ও তোমার সংসার ভেঙেছে ওর ভালোবাসা আমার চাই না ,ওর জন্য আমার বড়মা কত কষ্ট পেয়েছে । তুমিও চলে যাও তুমি আমাকে ভালোবাসো না।
আমার রাগ কখনো ভাঙবে না। আমাকে কাছে থাকতে হবেনা।”
রাগ করলে যদি তুমি এভাবে রাগ ভাঙিয়ে আমার কাছে থাকো, তবে আমি অধীরনা জায়নাব প্রেমী আজীবন রাগ করে থাকতে প্রস্তুত।

প্রেম শান্ত দৃষ্টি দিয়ে তার মেয়ের দিকে তাকায়।
নরম সুরে বলে,_ 
“কাজ তো করতে হবে, সোনা। তোমাকে সময় দিব।
কিন্তু বোঝার চেষ্টা করো—কাজ না করলে খাওয়াবো কী?” বাকি কথা বলার আগে ,
প্রেমী এবার ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে বাবার দিকে তাকায়।
হিসহিসিয়ে বলে,_
“একটু আগে না, নিজের মায়ের সম্পর্কে বড়াই করছিলে?
তাহলে নিজের ছেলে সারাজীবন পায়ের উপর পা তুলে খাবে, এমন উপার্জন রেখে যায়নি।”
প্রেম ঠোঁট টিপে হাসে,
“বাপ্পা, এত বড় বড় কথা বলতে শিখে গেছো।”
প্রেমী তখনও প্রেমের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল।
প্রেম তার মেয়ের মাথা নিজের বুকে রেখে হাত তার মাথায় বুলিয়ে দেয়।
নরম গলায় বলে,
_“আমি তো কখনো জানতামই না আমার আম্মা এত রাগ করতে পারে। এ আল্লাহ, আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছি।

প্রেমী এখন শান্ত হয়েছে প্রেমের বুকে ঘাপটি মেরে পড়ে আছে । প্রেম ততক্ষনে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে ।

কিছু মুহূর্ত সম্মুখের দৃশ্যটা নিজের চোখের কুঠুরিতে বন্দি করে রাখার চেষ্টা করল প্রেম। সামনে যে দৃশ্যটা ছড়িয়ে আছে, সত্যিই তা বড় সুমধুর। মনে প্রশ্ন জাগে—এমন একটা জায়গা এই যান্ত্রিক শহরে কীভাবে রয়ে গেল?
ঢাকা শহর মানেই কোলাহল, ট্রাফিকের ঝঞ্ঝাট, মানুষের অবিরাম ছুটে চলা। কিন্তু এই সবকিছুর মাঝেও একটি জায়গা আছে যেখানে এসে যেন একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলা যায়। প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়া যায়। সেই জায়গাটার নাম হাতিরঝিল।
শহরের এত যান্ত্রিকতার ভেতর এই জায়গাটা যেন একটু আলাদা। এখানে দাঁড়ালে অদ্ভুত একটা শান্তি কাজ করে। তাই হয়তো এই স্থানটাকে একটু দার্শনিকও মনে হয়—যেন শহরের কোলাহল পেরিয়ে মানুষের মনকে একটু থামতে শেখায়।
প্রেম নিঃশব্দে নদীর দিকে তাকিয়ে রইল। নদীর দুই ধারে দাঁড়িয়ে আছে দুটো বড় কৃষ্ণচূড়া গাছ। তাদের ছায়া হালকা করে পড়েছে জলের ওপর। প্রেম এসে দাঁড়াল নদীর পাড়ে, কৃষ্ণচূড়ার গাছ দুটির মাঝখানে।
প্রেমী ধীরে ধীরে চোখ মুছে নিল। তারপর মাথাটা এনে রাখল প্রেমের কাঁধে।
আকাশে তখন এক ফালি বড় সোনালি চাঁদ উঠেছে। চারপাশে তার নরম আলো ছড়িয়ে পড়েছে। দৃশ্যটা সত্যিই সুন্দর।
এতক্ষণ বাবার বুকে মুখ গুঁজে থাকায় এত কিছু খেয়াল করেনি সে। এবার যখন ধীরে ধীরে মাথা তুলল, সামনে তাকিয়ে রইল অনেকক্ষণ। মুখে কোনো কথা নেই।
থাকবেই বা কীভাবে? কথা তো অনেক আগেই হারিয়ে গেছে তার।
এত সুন্দর আবহাওয়া, এত শান্ত দৃশ্য—এর আগে কখনো সে ঠিক এভাবে উপভোগ করেনি। সারাক্ষণ ফ্ল্যাটের ভেতরে থাকতে থাকতে বাইরের পৃথিবীটা যেন অচেনাই থেকে গেছে। তেমন বন্ধু নেই, কোথাও ঘোরাঘুরিও হয়নি। বাবা-মাকেও কাছে খুব বেশি পাওয়া হয়নি কখনো।
তাই এইসব নতুন দৃশ্য তার কাছে যেন একেবারেই অন্যরকম।
অবাক হয়ে চারপাশটা দেখছে সে। ধীরে ধীরে সেই অবাক হওয়ার মধ্যেই ডুবে যাচ্ছে।
হঠাৎ সামনে থাকা ব্রিজটার দিকে আঙুল তুলে বলল—
—ওদিকে যাব, বাবাই।
প্রেম একবার তার দিকে তাকাল, তারপর মৃদু হাসল।
কোনো কথা না বলে সে সেই দিকেই হাঁটা ধরল।

প্রেম তার মেয়েকে ব্রিজের ল্যান্ডিংয়ের ওপর আলতো করে বসিয়ে দিল। তারপর তার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় জিজ্ঞেস করল—
—আমার সোনামনি কি এখনো রেগে আছে?
মেয়েটি তখনো বাবার গলা জড়িয়ে ধরে ছিল। ধীরে ধীরে মুখ তুলে বাবার মুখের দিকে তাকাল। তারপর একটু ঝুঁকে বাবার গালে আলতো করে একটা চুমু দিল।
নরম স্বরে বলল—
—একটুও না… তুমি বলো, তুমি আমায় ফেলে আর যাবে না? তুমি আমাকে ভালোবাসো… তাই না, বাবা?
প্রেম কিছুক্ষণ চুপ করে নিজের মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। চোখে যেন অনেক কথা জমে আছে, কিন্তু মুখে আসছে না। মনে প্রশ্ন জাগল—এত কথা সে শিখল কোথা থেকে?
একটু ভাবুক হয়ে পড়ল প্রেম। বাক্যগুলোর রেশ যেন অদ্ভুতভাবে চেনা লাগছে তার।
হঠাৎ করেই মনে পড়ে গেল সেই দিনের কথা।
তার mom একদিন বলেছিল—
“তুমি তোমার ভালোবাসা অকপটে স্বীকার করো না। কিন্তু মনে রেখো, একদিন তোমাকে তোমার ভালোবাসা অকপটে স্বীকার করতেই হবে।”
সেই কথাটা যেন আবার কানে ভেসে উঠল।
ভাবনার ভেতর ডুবে ছিল প্রেম। হঠাৎ মেয়ের কণ্ঠ তাকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনল—
—বাবা… বলো না…
প্রেম ধীরে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল।
—হুম… বাসি তো।
—তবে অবসানপ্রাপ্ত সূর্যের ন্যায়।
মেয়েটি আবার বাবার বুকে মুখ লুকিয়ে ফেলল। বাবার কথার গভীর অর্থ বোঝার মতো বয়স এখনো তার হয়নি। “অবসানপ্রাপ্ত সূর্যের ন্যায়”—এই কথার অর্থ উদ্ধার করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
তাই সে কিছুই বলল না। শুধু চুপ করে বাবার বুকে মাথা রেখে রইল। কতক্ষণ চুপ থেকে মাথা তুলে আনম মনে হয় বলল;

—আচ্ছা বাবাই… তোমার mom ওই রকম অদ্ভুত, বিটকুটে কথাগুলো কেন লিখেছিল?
একটু থামল সে। যেন ঠিক শব্দ খুঁজে পাচ্ছে না।
তারপর আবার বলল—
—কেন জানি, ওই কথাগুলো মনে পড়লেই আমার ভেতরটা কেমন হাঁসফাঁস করে ওঠে… মনে হয় দম বন্ধ হয়ে আসছে। এমন কেন হয়, বাবাই?
প্রেম কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ধীরে বলল—
—তার তখন ঐরকমই অসহায় লাগত। যদিও সেই অসহায়তার মাঝেই সে যেন একরকম প্রশান্তি খুঁজে পেত… আর সেই কারণেই হয়তো লিখেছিল।
মেয়েটি সাথে সাথে মুখ কুঁচকে বলল—
—ছি! ওসব কি বুঝি প্রশান্তি বলে?
একটু থেমে আবার বলল—
—আমার না কথাগুলো এখনো ভুলতে পারছি না… বারবার মাথার মধ্যে ঘুরছে।
মেয়ের কথা শুনে প্রেম মৃদু স্বরে বলল—
—তবে বলে ফেলো। বললে হয়তো একটু হালকা লাগবে।
মেয়েটি একটু চুপ করে রইল। তারপর একটা দীর্ঘ শ্বাস নিল। যেন মনে মনে কথাগুলো গুছিয়ে নিচ্ছে।
এরপর ধীরে ধীরে বলা শুরু করল_
**“বদ্ধ ঘরের আলো-আঁধারের খেলাটা এক অন্যরকম শান্তির… তাই না?
আলোর সঙ্গে অস্পষ্ট ছায়ার যে মিশ্রণ, তা হয়তো অবর্ণনীয়।
ছাইরঙা আলোর মিশেলে যেন এক অদ্ভুত আবহ তৈরি হয়।
সেই নিঃশব্দ আলোচারণে যেন একটা গভীর সুর বাজে—
যেটা আমাকে ভীষণ আকর্ষণ করে।
এই নিঃসঙ্গ পরিবেশে মাঝে মাঝে মনে হয়,
অজানা খেয়ালী তোমায় বলছি এলোমেলো খেয়ালগুলো।
যেগুলো অদেখা, অজানা—
সেগুলো কেন হারিয়ে দাও আমার অস্পষ্টতায়?
তবে কি তাদের ধরা উচিত?
নাকি ছেড়ে দেওয়া উচিত?
এই খেয়ালগুলো নিয়েই তো এত ভাবনা, এত বিশ্লেষণ…
তবে কি এই ভাবনাগুলোর কোনো পরিণতি আছে?
মনে হয়—নেই।
তাই তো সবাই আমাকে ‘মজার পাত্র’ ভেবে হেসে উড়িয়ে দেয়।
কিন্তু না—আমি কোনো মজা নই।
আমি একদৃষ্টে চেয়ে থাকি নিজের রুমের পর্দার দিকে।
রুমটা খুব ছোট—একটা বড় খাট, এক পাশে পড়ার টেবিল, আরেক পাশে ড্রেসিং টেবিল।
এই তিনটি আসবাবেই গঠিত আমার ছোট্ট জগৎ।
এতটুকুতেই আমি সন্তুষ্ট।
সারাদিন একা থাকতে থাকতে একাকীত্বটাই যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে আমার কাছে।
এই মুহূর্তে মনে কোনো চিন্তা নেই—
শুধু একরাশ শূন্যতা ধীরে ধীরে জমে আছে বুকের ভেতর।
…আমি কতটা পাগল হলে, নিজের অতীতকে কল্পনা করে লিখে ফেলি।
বোকা আমি…
কবে যে এই কল্পনার জগৎ থেকে মুক্তি পাব…”**
কথাগুলো বলার পর মেয়েটি চুপ করে গেল। যেন শেষ শব্দটার সঙ্গে সঙ্গে ভেতরের সবটুকু ভারও বেরিয়ে গেছে।
নদীর ধারে আবার নীরবতা নেমে এল। শুধু দূরে জলের হালকা শব্দ শোনা যাচ্ছে।
প্রেম স্থির হয়ে বসে রইল—চোখের সামনে যেন ভেসে উঠছে বহুদিন আগের সেই মানুষটা।

-------

এইমাত্র বাড়িতে ফিরেছে প্রেম ও প্রেমী। ভোরের কাঁটা তখন চারটা ছুঁইছুঁই। আকাশে ফিকে আলো উঠতে শুরু করেছে।
মেয়েকে নিয়ে রুমে ঢুকতে যাবে—ঠিক তখনই পেছন থেকে প্রার্থী বলে উঠল—
—মেয়ের মান ভাঙাবেন বললেই তো হতো। আমাকে আলাদা থাকতে কেন বললেন? ওর সঙ্গে থাকার অধিকার কি আমার নেই? ও কি আমার অংশ নয়?
প্রেম কিছু বলার আগেই প্রেমী খেঁকিয়ে উঠল—
—একদম মাঝে আসবি না, রাক্ষসী! তুই আমার বাবার সংসার খেয়েছিস। তোর জন্য আমার বড় মা অনেক কষ্ট পেয়েছে। লজ্জা করে না, বিবাহিত পুরুষকে ফুসলাতে?
প্রেমী আর কিছু বলার আগেই প্রেম তাড়াতাড়ি তার মুখ চেপে ধরল।
ক্ষীণ স্বরে বলল—
—থাম আমার মা থাম,  যেটা জানিস না সেটা নিয়ে কেন কথা বলিস? দিলি তো পাগল ক্ষেপিয়ে…
কথা শেষ করে সামনে তাকাতেই দেখে—পার্থী আর সেখানে নেই।

------

বিকেল সাড়ে চারটা।
মেলার গেটের কাছে এসে দাঁড়াতেই চারপাশের হট্টগোল তাদের কানে এসে বিধল।
মাইকে ভেসে আসছে কোনো অচেনা গানের সুর; সাথে সাথে শিশুদের হাসি, বেলুনওয়ালার ডাক, খেলনার টুংটাং শব্দ।
প্রেম এক মুহূর্ত থেমে যায়—হাতের মুঠোয় প্রেমীর ছোট্ট হাতটা আরও শক্ত করে ধরে।
প্রেমী প্রথমে চোখ নামিয়ে রাখে।
রাগটা এখনো বুকের ভেতর গুটিশুটি হয়ে বসে আছে।
কিন্তু মেলার ভেতর ঢুকতেই তার চোখ দুটো আপনাআপনি উঁচু হয়ে যায়।
রঙিন কাগজের পতাকা বাতাসে উড়ছে।
কাঁচের ভিতর সাজানো খেলনা পুতুল, বাঁশির দোকান, চুড়ির ঝনঝন শব্দ—সবকিছু একসাথে চোখে পড়ে।
হঠাৎ প্রেমী থেমে যায়।
একজন লোক বাতাসে সাবানের ফেনা ছুড়ে দিচ্ছে।
ফেনার ভেতর রঙধনু।
প্রেমী অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
প্রেম কিছু না বলে টিকিট কিনে দেয়।
লোকটা ফুঁ দিতেই চারদিকে ছোট ছোট ফেনার গোলা উড়ে যায়।
প্রেমী একটাকে ধরতে গিয়ে ব্যর্থ হয়।
দ্বিতীয়বার ধরতে গিয়ে হেসে ফেলে।
এই হাসিটা অজান্তেই প্রেমের চোখে পড়ে যায়।
আরেকটু এগোতেই বেলুনের দোকান।
লাল, নীল, হলুদ, কার্টুন আঁকা।
— কোনটা?
প্রেমী কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে,
— ওই লালটা… ছোটটা।
প্রেম নিজে হাতে বেলুনটা বেঁধে দেয়।
সুতোয় গিঁট দিতে গিয়ে আঙুল ছুঁয়ে যায়।
প্রেমী এবার হাতটা সরায় না।
চলতে চলতে নাগরদোলার সামনে আসে তারা।
লোহার দোলটা উঠছে, নামছে।
হাওয়ায় চুল উড়ছে; মানুষের চিৎকারে মেলা গমগম করছে।
প্রেমী তাকিয়ে থাকে।
চোখে ভয়, মুখে কৌতূহল।
— ভয় পাচ্ছিস?
প্রেমী মাথা নাড়ে।
কিন্তু জামার কোণটা শক্ত করে ধরে।
দোলায় উঠে পড়ে তারা।
দোল ওঠার সাথে সাথে প্রেমীর হাত কাঁপে।
প্রেম হাতটা ঢেকে রাখে—একদম শক্ত করে নয়, শুধু উপস্থিতির মতো।
নামার পর প্রেমের মুখটা উচ্ছ্বাসে, উৎফুল্লতায় পরিপূর্ণ ছিল।
— আরেকবার?
প্রেম হালকা হেসে বলে,
— পরে।
এরপর ফুচকার দোকান।
ঝাল–মিষ্টির গন্ধে বাতাস ভারী।
প্রেম নিজের হাতে ফুচকা বানাতে বলে।
প্রেমীর জন্য কম ঝাল, একটু বেশি টক।
প্রথম কামড়ে প্রেমীর চোখ কুঁচকে যায়।
দ্বিতীয় কামড়ে সে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
তৃতীয়টার সময় আর কিছু বলে না।
পাশে একটা শুটিং গেম।
টিনের বোতল সাজানো।
প্রেম কয়েন দেয়।
দুইটা বোতল ফেলে দেয়।
দোকানদার একটা ছোট পুতুল এগিয়ে দেয়।
প্রেম সেটা প্রেমীর হাতে দেয়।
— এটা তো আমি চাইনি।
— এখন চাইতে পারিস।
প্রেমী পুতুলটা শক্ত করে ধরে।
এবার প্রেম কোথা থেকে একটা বড়সড় পুতুল নিয়ে আসে।
পুতুলটার উচ্চতা পাঁচ ফুটের বেশি হবে মনে হয়।
প্রেমী অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকে পুতুলটার দিকে।
অবাক সুরে বলে,
— এটা?
তার কথা কেড়ে নিয়ে প্রেম বলে,
— বেশি ভাবতে হবে না। এটা তোমাকে ঘুষ দিলাম।
প্রেমী গাল ফুলিয়ে বলে,
— আমাকে তোমার ঘুষখোর মনে হয়? কোন আহ্লাদে আমাকে ঘুষ দিলে?
— তোকে একটা জায়গায় নিয়ে যাব জানিস?
ওইখানে একটা মস্ত বড় পুতুল আছে, যেটা দেখলে তুই ওটা নিতে চাইবি।
কিন্তু ওটা তো তোর জন্য না। আমি চাইলেও তোকে দিতে পারবো না।
তাই এটা তোকে দিলাম। এবার এটা নিয়ে খুশি থাক।
প্রেমের কথায় প্রেমীকে একটু উচ্ছ্বসিত দেখা গেল।
নতুন জায়গায় যাবে বলে হয়তো মেয়েটা একটু খুশি।
হাঁটতে হাঁটতে তারা মেলার একপাশে এসে বসে।
সেখানে একটু ফাঁকা।
আকাশে সূর্য ঢলে পড়ছে।
চা আর বাদাম কিনে আনে প্রেম।
প্রেমী প্রথমে না করে, পরে বাদাম নেয়।
প্রেমী আর কথা বাড়ায় না।
ধীরে ধীরে মাথাটা বাবার কাঁধে ঠেকিয়ে দেয়।
সন্ধ্যার বাতাসে বেলুনটা দুলে ওঠে।
প্রেম সুতোটা আবার ঠিক করে দেয়।
মেলার বাতি একে একে জ্বলে ওঠে।
রঙিন আলোয় প্রেমীর মুখটা অন্যরকম লাগে।
এই প্রথমবার—
প্রেমীর মনে হয়,
এই মেলাটা শুধু ঘোরার না।
এই মেলাটা স্মৃতি হয়ে থাকবে।
বাবাকে নিয়ে তার এমন স্মৃতি কি আগে কখনো ছিল?
ছিল না।
এই পনেরো বছরে তার বাবা তাকে একটুও সময় দেয়নি।
অথচ কাল রাতের পর থেকে কতটা বদলে গিয়েছে তার বাবা।
তাকে কতটা সময় দিচ্ছে, তাকে কতটা ভালোবাসছে।
এটা তো তার প্রাপ্য ছিল।
তবে এতদিন কেন তাকে তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে তার পরিবার?
প্রেম একবার তাকায় আকাশকুসুম ভাবতে থাকা প্রেমীর পানে।
এ মেয়েটা এত শর্ট—কই? সে ও তার স্ত্রী তো লম্বা। তবে কার বান পেয়েছে এই মেয়ে?
ছোট্ট মেয়েটা আজ হাঁটু–সমান একটা টপ পড়েছে। তার ওপর জ্যাকেট, নিচে স্ট্রেট জিন্স আর স্নিকার্স।
প্রেমীর চুলগুলো খোলা—কোমর ছাড়িয়ে যাওয়া লম্বা চুলের দুই সাইডে দুটো ক্লিপ লাগানো। দেখতে বেশ মিষ্টি লাগছে মেয়েটাকে।
পরমুহূর্তে আবার নিজের দিকে তাকায় সে—নিজে ব্ল্যাক টি–শার্টের ওপর জ্যাকেট পরেছে, স্ট্রেট প্যান্ট আর স্নিকার্স।
তাদের পোশাকে মিল আছে।
হাসি পেয়ে যায় প্রেমের।
এমনটা তার মায়ের সাথেও হতো।
ভাবতে ভাবতেই চোখ দুটো বুজে ফেলে সে।

-------
— আমরা আবার কোথায় যাচ্ছি, বাবাই?
— যে জায়গায় তোকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, ওইখানেই।
— ওও…
কিছুক্ষণ চুপ থেকে প্রেমী আবার বলে,
— আচ্ছা বাবাই, তুমি ওই রাক্ষসীটার সাথে এত কথা বলো কেন? আর কিন্তু কথা বলবে না!
প্রেম হালকা কড়া গলায় বলে,
— এটা কেমন কথা? সে তোমার মা। তাকে একটু সম্মান দিতে শিখো।
প্রেমী ঠোঁট ফুলিয়ে থাকে।
প্রেম আবার বলতে শুরু করে,
— এমনিতেই তোরা দু’জন মিলে কালকে আমাকে যা জ্বালিয়েছিস! এবার অন্তত আমাকে একটু ছাড়।
একটু থেমে হেসে বলে,
— নেহার তুই আমাকে ব্ল্যাকমেইল করেছিস । না হলে কি আর তোকে নিয়ে বের হতাম? তোরা দু’জন মিলে আমাকে জ্বালানোর জন্যই সব ফন্দি এঁটেছিস।
প্রেমী মুখ ঘুরিয়ে ফেলে।
প্রেম এবার একটু শান্ত গলায় বলে,
— আমি হিংসা করেছি, মানছি। কিন্তু তোদের মতো করে না।
তারপর গভীর একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলে,
— বল তো, আমি কাকে রেখে কাকে সামলাবো?
কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলে,
— এখন বুঝতে পারছি, আমার মা কতটা অসহায় ছিল।

_বাবাই

_হুম... কি হল বল ওভাবে বেক্কলের মতো হাসছিস কেন বল ।

_বাবাই

_প্রেমী রাগ হচ্ছে কিন্তু হাসা বন্ধ করবে এবার।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/242589/</link>
				<pubDate>Thu, 02 Apr 2026 13:43:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অঙ্গীকারহীন কুৎসা<br />
লেখিকা : রোদরঞ্জনা বিন্তে অনামিকা </p>
<p>পর্ব &#8211; ১ (খন্ডা অংশ )</p>
<p>যদি তাকে ভালবাসত, তবে আঘাত করতে পারত না।<br />
অভিমানে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে। টু শব্দও করে না।<br />
এ পর্যায়ে মনের দুঃখগুলো অশ্রু আকারে ঝরে যেতে লাগলো।<br />
ততক্ষণে বইয়ের পাতা থেকে চোখ সরিয়ে মেয়ের দিকে তাকায় প্রেম।<br />
বলিষ্ঠ ও শক্তপোক্ত দুই হাতে মেয়ের চোখের পানি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-242589"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/242589/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e331c6c1d3fa95bf28536da73a7560bf</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/242110/</link>
				<pubDate>Tue, 31 Mar 2026 15:17:39 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ac2e797bff8553c908e062634871451c</guid>
				<title>Rodoranjana Binte Anamika changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/242109/</link>
				<pubDate>Tue, 31 Mar 2026 15:15:41 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3830923a96081da15b70f2aef9d05326</guid>
				<title>অঙ্গীকারহীন কুৎসা
লেখিকা : রোদরঞ্জনা বিন্তে অনামিকা 

পর্ব - ১

অঙ্গীকারহীন কুৎসা—

(বোঝানোর অর্থে)

অঙ্গীকারহীন কুৎসা মূলত কারও প্রতি ক্ষোভ বা নেতিবাচক মনোভাবের এক সূক্ষ্ম প্রকাশভঙ্গি। এটি রটনার (rumour) একটি অন্তর্গত উপশ্রেণী—যা সরাসরি শ্রবণকারীর নাম উচ্চারণ না করেও তার হৃদয়ে চুপিসারে সূক্ষ্ম খঞ্জরের ন্যায় আঘাত হানতে সক্ষম।
বাংলা অলংকারশাস্ত্র ও ব্যাকরণে “রটনার বৈচিত্র্য”-এর অন্তর্ভুক্ত করে একে বিবেচনা করা যেতে পারে।
অঙ্গীকারহীন—অর্থাৎ সরাসরি স্বীকারোক্তি ব্যতীত, শ্রবণকারীর সত্তাকে আঘাত করার এক নিপুণ কৌশল।
কুৎসা—বদনাম, অপবাদ, অথবা চরিত্রহননের সূক্ষ্ম প্রয়াস।
বর্ণনার সুবিধার্থে একে সহজ ভাষায় “মারাত্মক ঘৃণা” বলাও যায়।
প্রকাশ্য ঘৃণা বনাম অঙ্গীকারহীন কুৎসা
প্রশ্ন উঠতে পারে—দুটো তো ভিন্ন বিষয়, তবে কেন তাদের তুলনা?
প্রকাশ্য ঘৃণা সহজলভ্য, সরাসরি, এবং বোধগম্য। সেখানে আঘাত স্পষ্ট, প্রতিক্রিয়াও দৃশ্যমান।
কিন্তু অঙ্গীকারহীন কুৎসা—এটি নিরীক্ষণসাপেক্ষ, অভিজ্ঞতালব্ধ আঘাত। এটি ভিতর থেকে ক্ষতবিক্ষত করে, অথচ বাহ্যিকভাবে তার প্রমাণ থাকে না। আঘাত থাকে, কিন্তু ক্ষতের চিহ্ন থাকে না।
মূল কথায় ফিরে আসি—
এই ঘৃণার রূপটি নির্ভর করে উপস্থাপনার উপর। আমরা যা দেখাতে চাই, মানুষ তাই দেখে এবং গ্রহণ করে।
ঘৃণা—এক নির্মম অনুভূতি, যা এক মুহূর্তেই মানুষকে নিচু ও বিকৃত করে তুলতে পারে।
আমরা অনুভূতি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে তা প্রকাশে অধিক উৎসাহী। অথচ এই প্রকাশের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আমাদের হীনমন্যতা ও ভীরুতা।
ভীরুতা সত্য হলেও—কিছু ক্ষেত্রে তা ত্যাগ করাই উত্তম।
পরিশেষে আমরা নিজেদের আবদ্ধ করি সামাজিক শালীনতায়। সম্মুখে দাঁড়ানো মানুষের প্রতি মনের কঠোরতা গোপন করাই যেন আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য।
তবু আবার বলছি—কিছু অর্থে এই গোপনীয়তা ত্যাগ করাও প্রয়োজন।

“দায়হীনতা বড্ড বিপদজনক যার কোন কালেই স্বীকৃতি হয় না”

ব্যক্ততা স্বরূপ_

আমরা আমাদের অতি প্রিয় বা আত্মার নিকটস্থ মানুষদের কাছে সর্বকালেই অধিক প্রত্যাশা করি।
যখন সেই প্রত্যাশার অনুরুপ প্রতিফলন পাওয়া য়ায না, তখনই জন্ম নেয় ঘৃণা—যা কেবল কাছের মানুষদের প্রতিই প্রযোজ্য।
যদি প্রশ্ন আসে, কেবল কি “ঘৃণা” নামক শব্দই প্রযোজ্য? প্রযোজ্য অর্থে প্রযোজ্য কোন শব্দ নেই?
তাহলে আমার উত্তর হবে—অবশ্যই আছে।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম প্রযোজ্য অনুভূতি, যা কেবল এবং কেবল নিকটস্থদের জন্যই প্রযোজ্য।
অতএব, অভিমান—অভিমানের চেয়ে সর্বমূল্যবান আর কোন অনুভূতি নেই।
এটি বড্ড দুর্লভ এবং মূল্যবান অনুভূতি, যা কেবল একান্ত মানুষদের প্রতি প্রকাশ পায়।
এর মূল্য পৃথিবীর কোনো বস্তু দ্বারা মাপা সম্ভব নয়।

হঠাৎ করে কারো প্রতি এ ধরনের অনুভূতি জন্ম নেওয়া সম্ভব নয়।
ব্যস্ত ধরণীতে চলাচলে শত শত মানুষের প্রতি ক্ষোভ বা বিরক্তি জন্ম নিতেই পারে, যা আমরা তখনই প্রকাশ করতে পারি।
তবে ঘৃণা বা অভিমান—এর প্রকাশ পাওয়া অনেক সময় দুষ্কর বলে মনে হয়।

Subtle example:[উদাহরণ জানিয়ে] 

হঠাৎ—একটি ক্ষুদ্রাতিসূক্ষ্ম অমিমাংসিত সংঘাত, সূক্ষ্ম অবহেলার নিপাত বা নগণ্য বিভ্রান্তি—যা প্রাথমিকভাবে তুচ্ছ প্রলাপের মতো প্রতীয়মান, তা প্রত্যাশার অভিসঙ্গের সাথে মিলিত হলে হৃৎপিণ্ডে অচেতন তীর্থের ন্যায় আঘাত প্রবর্তন করে।
প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রাপ্য অনুদানের অভাবই জন্ম দেয় ঘৃণার সূক্ষ্ম বহিঃপ্রকাশ—যা প্রায়শই দৃশ্যমান হয় না, কিন্তু অন্তরাত্মার স্তরে ক্রমশ প্রোথিত ক্ষতরেখা এঁকে যায়।
আমরা সাধারণত যাদের সবচেয়ে অন্তরঙ্গ ও নিকটস্থ মনে করি, তাদের প্রতি রচনা করি সবচেয়ে গভীর প্রত্যাশা, আশার এক দীপ্তিশীল মাধুর্য।
তাই তাদের প্রতি মনোজগতের আঘাত—যখন প্রত্যাশা পূরণ হয় না—হৃৎকোষে চুপচাপ ক্ষয় সৃষ্টি করে, যা সহজে প্রকাশ পায় না, তবু ধীরে ধীরে ব্যক্তির চরিত্রকে বিকৃতির অঙ্গীকারে আবদ্ধ করে।

--------

এত দীর্ঘ সময়ের বাক্য শুনে মস্তিষ্ক যেন হিম হয়ে গিয়েছে প্রেমির।
প্রেমির হিমমস্তিষ্কের এই অবস্থা দেখে  প্রেমের ওষ্ঠে ব্ল্যান হাসি দেখা গেল।
নিজেকে সংবরণ করে, নরম সুরে প্রেম তাকে  ডাকলো প্রেম —
“আমার আম্মি, কিন্তু তার প্রথম প্রশ্নের জবাব পেয়েছি, তাই না? এবার দ্বিতীয় প্রশ্নের পালা।”
প্রেমি চুপ থেকে যায়;  কতক্ষণ তার নীরবতায় কাটলো , তার পরমুহুর্তে সমসা মাথা নাড়াতে দেখা গেল তাকে ।
তার এই মাথা নাড়ানোর ভঙ্গি দেখে প্রেম ঠোট টিপে হাসি সংবরণ করল এবং আবার কথা বলা শুরু করল—

এই পৃথিবীর সকল সম্পর্ক, প্রকৃতপক্ষে, গড়ে উঠেছে আদান–প্রদানের সূক্ষ্ম তন্তুর উপর—যাকে আমরা “Give and Take” সম্পর্ক বলি।
মানুষ একে অপরের প্রতি নির্ভরশীল; সেই নির্ভরতার অন্তর্নিহিত গভীরতা, প্রায়শই, সম্পর্কের জটিলতা ও অদৃশ্য সংকোচনকে উদ্দীপিত করে।
জরুরি প্রশ্ন একটুও অবহেলিত নয়—ভালোবাসা কি ঘৃণার বিপরীত?
আমি তা বিশ্বাস করি না।
বরং ভালোবাসা ও ঘৃণা—উভয়ই ক্রমশ নির্ধারিত প্রেক্ষাপট, সময়ের প্রবাহ, এবং সম্পর্কের স্বরূপ অনুযায়ী বিবর্তিত হয়।
তাদের সংজ্ঞা কখনো স্থির নয়; তারা মানসিক জটিলতার অন্তর্গত, অন্তর্নিহিত স্পন্দন, যা ব্যক্তির অভিজ্ঞতা, মনস্তাত্ত্বিক অন্তর্দৃষ্টি এবং সামাজিক সূক্ষ্মতার প্রভাবে প্রতিস্পন্দিত হয়।
এমনভাবে, ভালোবাসা ও ঘৃণার সীমা কখনোই সরল নয়—সেগুলো মানবিক সম্পর্কের ছায়াময়, অদৃশ্য ধনু, যা অনুভূতি ও প্রত্যাশার তির দ্বারা প্রক্ষেপিত।

আমরা একটি তত্ত্বে বিশ্বাস করি—
“যার শুরু আছে, তার শেষও আছে।”
কিন্তু এর সত্যতা কতটুকু?
“যার শুরু আছে তার শেষ আছে”—কথাটি সবসময় ক্ষণস্থায়ী নয়। 
এ বাক্যের যথার্থ দিলে আমরা বুঝে পাই ;
যখন কোনো বস্তু বা ঘটনা সূচনা পায়, আমরা যতই চেষ্টা করি তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে, তবুও তার অস্তিত্বের সূক্ষ্ম কণা কোথাও না কোথাও টিকে থাকে।
ধ্বংসের পরেও সেই কণার অস্তিত্ব বায়ুমণ্ডল বা স্মৃতিতে বিরাজমান থাকে।
তাই বোঝা যায়, যা শুরু হয়েছে, তার শেষ আছে—কিন্তু সেই শেষ কখনো পুরোপুরি ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, বরং ক্ষুদ্রতম আকারে, নীরবভাবে, পৃথিবী ও জীবনের অংশ হিসেবে রয়ে যায়।

“অন্তহীনতা বা infinity-র দিকে তাকালে এমন প্রশ্ন মাথায় আসে, যার ব্যাখ্যা পাওয়া কঠিন।
তবে যারা ধর্মপ্রাণ, তারা জানে—
সবশেষে আমরা সেই সৃষ্টিকর্তার কাছেই ফিরে যাব।
তাই এসব জটিল ভাবনা বেশিক্ষণ মাথায় টিকে না।
অঙ্গীকারিহীন কুৎসা—
এমন এক কঠোরতা, যাকে ঘৃণা করা যায় না; অথচ ভালোবাসাও যায় না।
তাকে দেওয়া যায় না সমৃদ্ধি, অথচ ত্যাগও সম্ভব নয়।
”

“&quot;অনু&quot;
আকস্মিক পরিচিত ডাকে দীর্ঘ লিখনের সমাপ্তি টানলো অনামিকা। ঘাড় ঘোরাতেই নজর পড়লো শরৎ-এর দিকে। শরৎ-এর দুই হাতে ব্যাগ। অনামিকা হালকা একটা হাসি দিয়ে এগিয়ে গেল শরৎ-এর দিকে। শরৎ এক হাতে অনামিকাকে আগলে নিল। নরম সুরে জানতে চাইলো—
_কখন ফিরলি? তোর অপেক্ষায় ছিলাম জানিস। একটু আগে ঋতু ফোন দিয়ে বলল তুই এসেছিস, দ্রুত চলে আসলাম।
অনামিকার বলার আগেই ঋতু এগিয়ে এসে দাঁড়ায়—উদ্দেশ্য স্বামীর হাত থেকে ব্যাগগুলো নেওয়া। ঋতুকে দেখা মাত্রই শরৎ দুহাতে ঋতুকে আঁকড়ে ধরে উৎফুল্ল কণ্ঠে বলে—
_তোমাকেও মিস করছিলাম। ভেবেছিলাম রাতেই আসব, তবে ওই চুন্নি এসে আমার রুম দখল করেছে, যার কারণে আসতে পারিনি। মন খারাপ হয়েছে তোমার?
আলতো ভঙ্গিতে মাথা নাড়ালো ঋতু।
শরৎ বুঝে নিল তার বউ মন খারাপ করেনি। বউয়ের হাতে ব্যাগগুলো ধরিয়ে দিল। তার মধ্যে থেকে তিনটা ব্যাগ নিজের হাতে রাখলো। বউকে বলল—
_এর মধ্যে কিছু খাবার আছে। তোমাদের পছন্দের তেহেরি নিয়ে এসেছি। খাওনি বুঝি? বাজার ফুরিয়েছে, রাতে আর যাওয়া হয়নি তাই এখন নিয়ে আসলাম। আর ওই প্যাকেটগুলোতে তোমার জন্য কিছু গিফট আছে। তার মধ্যে একটা জয়ন্তীকে দিবে, একটা ওই চুন্নিকে।
ঋতু মিষ্টি করে মাথা নাড়িয়ে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ায়। আর কিছু ব্যাগগুলো রুমের পাশে রাখা ছোট্ট আলমারিটার মধ্যে রেখে দেয়।
শরৎ অনামিকার দিকে তিনটা ব্যাগ দিয়ে বলে—
_দেখ তো, পছন্দ হয় না।
_পরে দেখব।
_ওই চুন্নি কখন আসছে? আমি তো দেখলাম না। এসেছি অব্দি এখানে বসে। দেখলাম তোর বউ আমার ফুলগাছে পানি দিচ্ছিল। জয়ন্তীকে দেখলাম নাকে সর্ষের তেল দিয়ে ঘুমাতে। তোর কথা জানতে চাইলে তোর বউ বলল তুই নাকি নীলদের ওখানে গিয়েছিস। কিন্তু কই, ওই চুন্নির সাড়া-শব্দ তো শুনলাম না। কখন আসছে? ওর স্বামী কিছু বলল না?
_ওর স্বামী আর কী বলবে! রাক্ষসীটা তো ওর স্বামীর সাথে দাপাদাপি করে এখানে এসেছে। ও আসতেই আমাদের রুমে ঢুকেছে। নেহাত আমার ল্যাপটপটা নীলদের ফ্ল্যাটে ছিল, ওটা আনতে গিয়েছিলাম। বাকি খবর আমি জানি না। ঋতুর থেকে শুনে নে। ও তোমাকে কিছুতেই আসতে দিচ্ছিল না। আর এসব কই শুতাম—আমার ঘর তো ওই জন্য দখল করেছে।
শরৎ কথা শেষ করে অনামিকার দিকে তাকায়। অনামিকা ভাবুক দৃষ্টিতে মেঝের দিকে তাকিয়ে আছে। তখন স্মৃতি বড় প্লেটে করে খাবার নিয়ে এসে তাদের পাশে বসে।
শরৎ খাবারের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে লোকমা বানায় এবং ঋতুর মুখের মধ্যে দিয়ে দেয়। আর একটা লোকমা বানিয়ে অনামিকাকে ডাকে—
_কইরে অনু, হা কর।
অনামিকা শরৎ-এর কথায় ভ্রূক্ষেপ না করেই ঋতুকে বলল—
_চুন্নি এখানে কী করে?
ঋতু লোকমা গিলে ধীরে-সুস্থে বলে—
_এসে কথা না বলেই রুমে চলে গেছে। তারপর আমাদের সাথে আর কোনো কথাই বলেনি। রাত তিনটা পর্যন্ত কেন জানি অনেক কেঁদেছে। তার কান্নার দমকে পড়ে আপু বা আমি—কেউই ঘুমাতে পারিনি। সেজন্য আপু ঘুমাচ্ছে। কোনো কথা বলেননি আমাদের সাথে, তাই আমি জানি না।
শরৎও অবাক নয়নে তার বউয়ের দিকে তাকায়। এমনিতে ঋতু এত দীর্ঘ বাক্য বলে না—একশো কথাকে এক কথায় বানিয়ে সোজা বলে দেয়। অনামিকা বেশ অবাক হয়েছে, তবুও শরৎ-এর দিকে তাকালো।


-------

—আহা বাবাই, কী বলছ তুমি! এত দীর্ঘ বাক্য লেখার অর্থে এথা তো মোটেই যথার্থ নয়।
প্রেমির কণ্ঠে এমন অধৈর্যতার আভাসে খানিকটা হতাশার ছাপ ফুটে উঠল প্রেমের মুখে। সে বুঝল—মেয়েটিকে বোঝানো সহজ কাজ নয়। তবু ধৈর্য হারাল না। মৃদু সুরে আবার বলল—
—তাদের সম্পর্কটা বুঝলে?
প্রেমি নির্বিকার ভঙ্গিতে উত্তর দিল—
—বাবাই, তুমিও না! ভাই-বোন তো এমনই হয়।
প্রেম হালকা করে হাসল। মেয়েটিকে বোঝানোর জন্য আবার বলল—
—সত্যি করে বলো তো, তোমার কি মনে হয় ওরা সত্যিই ভাই-বোন?
প্রেমি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল—
—না হলেই বা কী! বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যেও তো এসব চলেই। 
প্রেম একটু গম্ভীর হয়ে বলল—
—সময়ের খেয়াল রাখো। এটা কিন্তু অনেক আগের ঘটনা। তখন কিন্তু এসব ভালো চোখে দেখা হতো না।
প্রেমি বিস্ময়ের সুরে বলল—
—এই সামান্য ব্যাপারটাও আগের মানুষ ভালো চোখে দেখত না! সত্যিই অদ্ভুত ছিল তোমাদের সময়ের মানুষগুলো। আচ্ছা শোনো, তুমি এভাবে আমাকে বোঝাতে পারবে না। আমার অনেক সময় লাগবে এসব পর্যবেক্ষণ করতে। তুমি বরং শুরু থেকেই সবটা বলো।
একটু থেমে সে হেসে যোগ করল—
—ততক্ষণ গাড়িটা না হয় তার আপন গতিতেই চলুক।

—তোকে বোঝানোর ঠ্যাকা  আমি নিয়ে বসে আছি ? পারব না আমি।
প্রেম বিরক্তির সুরে কথাটা বলে মুখ ফিরিয়ে নিল।
প্রেমি কিন্তু থামার মেয়ে নয়। ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি টেনে বলল—
—তেমন কিছু না। তোমার জান তো আমার হাতেই—প্রাণভোমরা। আমাকে না বললে কিন্তু সেটাও আর ফেরত দিচ্ছি না। বাঁচতে চাইলে বলতেই হবে।
প্রেম চোখ কুঁচকে তাকাল মেয়ের দিকে। কণ্ঠে কড়া সুর টেনে বলল—
—আমার হাতে কখনো মার খাসনি বলেই এত লাফাচ্ছিস। দু-একটা গালে পড়লে বুঝবি কেমন লাগে। আমাকে ব্ল্যাকমেল করিস! সাহস তো কম নয় তোর। এইটুকু শরীরের ভেতর এত দুঃসাহস কোথা থেকে আসে—আমরাও একদিন মেপে দেখব।
প্রেমি নির্বিকার ভঙ্গিতে বাবার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরস্বরে বলল—
—তুমি সাহসের কথা বলো কেন? আমি তো তোমারই মেয়ে। তাই তো বলি—তুমি আর আমি কিন্তু আলাদা নই।
একটু থেমে সে দুষ্টু চোখে ফের বলল—
—মানুষ একটা সামলাতে পারে না, আর তুমি কিনা দুইটা করে বসে আছো! I mean  বিয়ে! আমার mom কি জানে এসব? যদি জানে—তাহলে তোমার কী হবে ভেবেছ?

প্রেম কতক্ষণ ঠোঁট টিপে বসে থাকল, তবু অনেক চেষ্টার পরও ব্যর্থ হয়ে হোঁ হোঁ করে হেসে উঠল। তার হাসির শব্দে গাড়ি যেন হালকা দুলে উঠল। গাড়ি থামিয়ে সে কিছুক্ষণ মন ভরে হেসে দিল। মেয়ের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বলল—
—তো, ম্যাডাম গোয়েন্দা, এতদিন তদন্ত করে এইটুকু খবর বের করতে পেরেছ? আমি তো ভেবেছিলাম, সবকিছু জানেই বসে আছো… হাস্যকর!
—তামাশা করছ? —মেয়ের কণ্ঠে ঠাট্টার স্বর।
—যেভাবে সবকিছু আড়াল করে রেখেছ, আমি কি এটুকু খবর বের করতে পেরেছি—তাও তো তোমার ভাগ্য। By the way, একটা কথা বলতেই হবে… বড় আম্মু সত্যিই অনেক সুন্দরী ছিল।
—হ্যাঁ, সুন্দর তো ছিলই, বোচা, সুন্দরী।
—পুরুষ মানুষ আসলেই এমন, নতুন পেলে পুরনো ভুলে যায়।
—তা কয় বছরের অভিজ্ঞতা আছে তোর এসব নিয়ে?
—আমার অভিজ্ঞতার কথা বাদই দাও।
—আমি ওকে ভালোবেসে এটা বলতাম।
প্রেমের সহজ-সরল স্বীকারোক্তিতে, মেয়েটি স্বতঃস্ফূর্ত এক নিঃশ্বাস ফেলল।
—তাই বলো। আমি তো ভেবেছিলাম… আচ্ছা, বড় মা আমাদের সঙ্গে থাকে না কেন, সে কোথায়?
—তোর মনে হয়, তোর বড়মা তোর মায়ের সঙ্গে মিলেমিশে সংসার করবে?
—তবে?
—তুই এসব কথা বাদ দে। তোর এই নাটক কবে শেষ করবে সেটা বল।
—তাইলে তুমি বলো।
—কোথা থেকে শুনবি, তাই বল?
—ভূতের মুখে রাম নাম! সত্যি, তুমি বলবে।
—বলব না।
—দেখো, একদম… কিন্তু ঘাড় তারামি করবে না। Wednesday group slide-এ কি হয়েছে, সেটা থেকে শুরু করো।
—আমার mom এবং তার গ্রুপ… তারা তাদের শুরুর গল্প করছিল। মূলত, তাদের বন্ধুত্ব কোথা থেকে শুরু হলো, তারা কি কি করেছে, এবং তাদের ডেস্টিনেশন নিয়ে কথা বলছিল। Nothing else।
—তবুও, তুমি বলো… আমি তো শুনতে চাচ্ছি।

—এত বলতে পারব না, আমার মনেও এত ভালোভাবে নেই। এগুলো সব মামাই একটা বড় ডাইরিতে লিখে রেখেছিল। তুই চাইলে ওখান থেকে পড়ে নিতে পারিস। আজকে আর গেলাম না, বুঝলি? চল, বাড়ি যাআজ বাড়ি যাই, কিন্তু কালকে তোকে নিয়ে যাব। এখন তো সন্ধ্যা হয়ে গেছে, ওখানে যেতে গেলে রাত পেরিয়ে যাবে। সকালেই রওনা দেব।
—হুম, বুঝছি। তাহলে আর কি করার… চল যাই।


-------


অতি পরিচিত, স্নিগ্ধ এক শুভ্র সুবাস নাকের ডগায় হাতছানি দিতেই,
চোখ খুলে পিটপিট করে তাকাতেই প্রেম মুহূর্তেই অনুভব করে—
তার চোখের সামনে যেন পৃথিবীর সব সুখ এসে জমা হয়েছে।
চোখের সামনে ভেসে ওঠে মায়ের মুখখানি।
দুই চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে অবিরাম।
উঠে বসতেই যেন কানে বাজে মায়ের সেই আদরমাখা সুর—
“শুয়ে থাকো বাপ…”
কিন্তু মায়ের সেই ডাক যেন আরও কাছে টেনে আনেয় প্রেম কে।
প্রেমের আর বিছানায় শুয়ে থাকা চলে না,
ঝাপিয়ে পড়ে মায়ের কোলে,
দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে—
আক্ষেপ, কষ্ট, দুঃখ, অভিযোগ ,অভিমান—সব উজাড় করে দিতে থাকে।
কিন্তু হঠাৎই টের পায়,
তার মা মিলিয়ে যাচ্ছে…
হাত বাড়িয়ে খামচে ধরতে চাইলেও লাভ হয় না—
মা হারিয়ে যায়, বিলীন হয়ে যায় নিঃশব্দে।
চোখ খুলতেই প্রেম বুঝতে পারে—
সবকিছুই ছিল এক স্বপ্ন।
তার মা নেই,
চিরতরে হারিয়ে গেছেন তিনি।

প্রেমের চোখ বেয়ে অবিরাম অশ্রু ঝরছে।
বুকের ভেতর জমে থাকা সব আক্ষেপ, অভিযোগ, কষ্ট—সব কিছু যেন একসাথে গলে বেরিয়ে আসছে সেই অশ্রুর স্রোতে। সে
ঠোঁট নাড়িয়ে বিড়বিড় করে—

“পাখি কেমনে আসে যায়... তারে ধরতে পারলে মন বেরি ধরতে পারলে... মনো বেরি দিতাম পাখির পায়...”

কণ্ঠটা কাঁপছে, যেন প্রতিটি শব্দের ভেতর লুকিয়ে আছে অজানা কোনো হাহাকার।

রাতের নরম আলোয় তার মুখটা কেমন ফ্যাকাশে হয়ে আছে।
চোখে আবছায়া, ঠোঁট দুটো তার তীর তীর করে কাঁপছে—
তবু সে গেয়ে চলে।
যেন গান নয়, কোনো পুরনো স্মৃতির তার মুখের আওড়ানোতে খোদাই করবে।

দূরে কোনো এক অচেনা পাখির ডাকে রাতটা আরও ভারী হয়ে ওঠে।
আর সেই নিস্তব্ধতার ভেতরেও প্রেমের কণ্ঠে বাজতে থাকে সেই এক সুর—
মায়াময়, বিষণ্ণ, অথচ অদ্ভুতভাবে সুন্দর—
“তারে ধরতে পারলে মনো বেরি দিতাম ও.... পাখির পায়…”

এ অভ্যাসটা প্রেম তার মায়ের থেকেই পেয়েছে—
কথা না বলে, গানের সুরে বা আড়াল করা ইঙ্গিতে অনুভূতি প্রকাশের এক অদ্ভুত ক্ষমতা।
তার মা সবসময়ই ছিলেন প্রকাশে পারদর্শী।
যে কথাটা সরাসরি বলা যেত, তিনি সেটাকেই বলতেন এক ভিন্ন ভঙ্গিতে—
কখনো গানের সুরে, কখনো কথার খেলায়।
কিন্তু সেই কথাগুলোর ভেতরে লুকিয়ে থাকত নির্মম বাস্তবতা,
যা অনেকেই বুঝতে পারত না, আবার কেউ কেউ বুঝেও চুপ করে থাকত।
প্রেম টের পায় তার বুকের ব্যথা বুকের সমস্ত অভিযোগ নিংড়ে দিতে ব্যস্ত হয় মাকে উদ্দেশ্য করে বলে_

“তোমরা সবাই মিলে আমাদের তিন ভাইবোনকে একা করে দিলে!
আমরা কি এতটাই বোঝা হয়ে গিয়েছিলাম?”

কিন্তু মনে পড়ে যায় তার মা তো আর নেই ।
চিৎকার করে কান্না করতে চায় তবে,
গলাটা হঠাৎ শুকিয়ে আসে প্রেমের।
মনের ভেতর কোথাও যেন কিছু একটা চেপে বসে।
সে বুঝে উঠতে পারে না, এই কষ্টটা কোথা থেকে আসে,
কেন আসে, বা কেন এতটা ভারী লাগে বুকটা।
পাশে রাখা পানির বোতল তুলে নিয়ে ঢকঢক করে শেষ ফোঁটা পর্যন্ত খেয়ে ফেলে সে। পরমুহুর্তে একবার পাশ  ফিরে তাকায় না আজ তার পাশে প্রার্থী নেই কিভাবে থাকবে সেই তো বারণ করেছে যেন আজ রাতে তাকে একা ছেড়ে দেওয়া হয় । হতাশার শ্বাস ফেলে সে ।
তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়—
পা দুটো যেন ওজনহীন, তবু এক অদ্ভুত টান তাকে টেনে নিয়ে যায় স্টাডি রুমের দিকে।
কিন্তু দরজার মুখে গিয়েই থেমে যায় প্রেম।
খোলা বইয়ের উপর মাথা হেলিয়ে, দুহাত ভাঁজ করে ঘুমিয়ে আছে প্রেমি।
নরম আলোয় প্রেমির মুখটা শান্ত, অথচ কেমন শিশুর মতো নির্ভার।
চোখের পাপড়িগুলো কাঁপছে, পর মুহুর্তে তার চোখ যায় প্রেমীর  ডান গালের জ্বলজ্বল করা পাচ আঙ্গুলের ছাপ বাম গালে হয়তো এরকম আরো পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ আছে ভেবে বুকটা হু হু করে ওঠে প্রেমের এ মেয়েটাকে না সে তার মায়ের স্থান দিয়েছিল তবে কেন আঘাত করল সে কেন ? কেন নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না সে কেন পারে না ? তার এই ছোট্ট মেয়েটা কে সে কি একটু বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলেছে। সে আরো খেয়াল করে
বইয়ের পাতার ওপর ছড়িয়ে আছে চুলের গোছা—
যেন নিস্তব্ধতার মাঝেও একটা জীবন্ত সৌন্দর্য শ্বাস নিচ্ছে।
প্রেম কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে স্তব্ধ হয়ে।
তার মনে হয়, এই মুহূর্তটা যেন সময়ের বাইরে—
সব শব্দ থেমে গেছে, কেবল শ্বাসের মৃদু শব্দ আর প্রেমির মুখের ছায়া।
সে জানতো, প্রেমি বই পড়তে ভালোবাসে,
কিন্তু এমন করে রাত জেগে পড়ে থাকে—
এই দৃশ্যটা সে কোনোদিনও কল্পনা করেনি।
ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় প্রেম।
চেয়ার টেনে বসে পড়ে ঠিক তার মুখোমুখি।
দীর্ঘ কিছু মুহূর্ত সে তাকিয়ে থাকে—নিঃশব্দ, অচঞ্চল।
মনে হয়, প্রেমির মুখটা শুধু ঘুমন্ত নয়,
তার ভেতরেও যেন কোনো গল্প লুকিয়ে আছে—
যা সে পড়তে পারছে না,
কিন্তু অনুভব করছে বুকের ভেতর নিঃশব্দে জেগে থাকা কোনো পুরনো স্মৃতির মতো।
হয়তো, এই চুপচাপ মুহূর্তের ভেতরেই লুকিয়ে আছে তার মায়ের সেই না-বলা কথাগুলোর উত্তর—
যা আজও প্রেম বোঝার চেষ্টা করে,
আর প্রতিবারই হেরে যায়।

গভীর রাত।
বাইরে নিস্তব্ধতা, মাঝে মাঝে জানালার ফাঁক দিয়ে হালকা বাতাস ঢুকে বইয়ের পাতা নাড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রেম তখনও স্থির হয়ে বসে আছে প্রেমীর সামনে।
তার চোখ থেমে আছে সেই খোলা বইটির ওপর—
যেটা প্রেমীর মাথার নিচে বালিশের মতো রেখে ঘুমিয়ে আছে।
হঠাৎ বইয়ের এক পৃষ্ঠা বাতাসে নড়ে ওঠে।
প্রেমের দৃষ্টি আটকে যায় সেখানে।
একটি লাইন যেন অন্ধকার ভেদ করে আলো হয়ে জ্বলে ওঠে—

“কোন অপরাধে আমি চিৎকার করে দুঃখ নিংড়াতে পারলাম না…”

লাইনটা বুক চিরে তীরের মতো বিঁধে যায় তার ভেতর।
মুহূর্তেই যেন সবকিছু থেমে যায়—
ঘরের অবস্থিত প্রতিটা অলংকার যেন তার অতীতের সমস্ত স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দেয় ।
মায়ের মুখ—ক্লান্ত, অথচ শান্ত।
সেই অচেনা কান্নার সর , যা সে কোনোদিন শুনতে পায়নি,
আজ সেই বইয়ের লাইন হয়ে ফিরে এসেছে।
মনে ভেসে ওঠে এক কণ্ঠ—
কখনো নিজের, কখনো যেন মায়ের:
“অতীত ঘেঁটে কিঞ্চিত হাসি হাসতে ঠিকই পারবি,
তবে বাস্তবে তাকে না দেখার যন্ত্রণা কিকরে সইবি?”

প্রেম টের পায় তার কলিজা ছিড়ে যাচ্ছে ।
চোখ বন্ধ করে বসে থাকে সে,
প্রেমীর ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে যেন নিজের অতীতের ছায়া খুঁজে বেড়ায়।
এই এক লাইন, এই এক মুহূর্ত—
তার সমস্ত স্মৃতি, সমস্ত অনুশোচনা, আর হারিয়ে যাওয়া মায়ের গন্ধ একসাথে মিশিয়ে দেয়।
এ যেন এক অদ্ভুত সংযোগ—
মায়ের নীরবতা, প্রেমীর উপস্থিতি, আর তার নিজের নিঃশব্দ বেদনা।
রাতের সেই নিরব মুহূর্তে প্রেম বুঝতে পারে,
কিছু সম্পর্ক আছে যেগুলো রক্তে নয়,
আত্মায় গাঁথা থাকে—
যেখানে কান্না আর ভালোবাসা একে অপরের ভাষা হয়ে ওঠে।

প্রেমীর চোখ হঠাৎ খুলে যায়।
ঘরের বাতাস ভারী। যেন কেউ কিছুক্ষণ আগেই গভীর নিঃশ্বাস ফেলেছে।
অন্ধকারে চোখ সয়ে দেখতে পায়—প্রেম চুপচাপ বসে আছে, দৃষ্টি স্থির বইয়ের পাতায়।
তার হাতের ফাঁকে বইটা তখনও খোলা।
পাতাগুলো নিঃশব্দে কাঁপছে, যেন তাতে কোনো অদেখা হাত স্পর্শ করেছে।
প্রেমি ধীরে ঘুরে তাকায় দেয়ালের ঘড়ির দিকে—৩টা ৫০ মিনিট।
এই সময়টা যেন অস্বাভাবিক ঠেকে।
তবুও মুখ ফিরিয়ে নেয়। সামনে থাকে মানুষটির থেকে কথা বলবে না।
তার সাথে কিভাবে বা বলবে—এই মানুষটা তাকে আঘাত করেছে।
সে যদি তাকে ভালবাসত, তবে আঘাত করতে পারত না।
অভিমানে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে। টু শব্দও করে না।
এ পর্যায়ে মনের দুঃখগুলো অশ্রু আকারে ঝরে যেতে লাগলো।
ততক্ষণে বইয়ের পাতা থেকে চোখ সরিয়ে মেয়ের দিকে তাকায় প্রেম।
বলিষ্ঠ ও শক্তপোক্ত দুই হাতে মেয়ের চোখের পানি মুছে দেয়।
উঠে গিয়ে মেয়েকে শক্ত করে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে।
নরম সুরে বলে,
“বাবাই সরি, আমি বুঝতে পারিনি। প্রচুর রাগ হয়ে গিয়েছিল। বাবাকে কি ক্ষমা করবে? না, আমার উচিত ছিল ঠান্ডা মাথায় তোমাকে বোঝানো।
এখন আমি যদি তোমার জন্মদাত্রীকে নিয়ে ব্যাট কমেন্ট করি, তোমার কেমন লাগবে?
নিশ্চয়ই প্রচুর খারাপ লাগবে। আমারও তখন অনেক খারাপ লেগেছিল।
সে শুধু আমার জন্মদাত্রী নয়, আমার পথপ্রদর্শক।
তুমি হয়তো বুঝবে না, কারণ আমি তোমাকে সঠিক পথ দেখাতে পারিনি।
আমি বাপ হিসেবে ব্যর্থ। আমি জানি না কিভাবে আমার ভুল সংশোধন করতে হবে এই মুহূর্তে।
কিন্তু যদি Mom থাকতো, হয়তো আজ আমি একজন ভালো বাবা হতে পারতাম।
আমি জানি না তুমি তার সম্পর্কে এত বাজে কথা কোথা থেকে জেনেছ।
কিন্তু সে আসলে তোমার জানা মতে নয়।”
প্রেম বুঝতে পারছে না সে তার মেয়েকে কিভাবে বোঝাবে।
এ পর্যায়ে তার মনে পড়ল—সে যখন তার মায়ের উপর অভিমান করত, তখন তার মা তার মাথার চুলের মধ্যে হাত বুলিয়ে দিত, কপালে ঠোঁট ছোঁয়াতো, নিজের হাতের মজার মজার খাবার বানিয়ে খাওয়াত।
সেইভাবেই মেয়েকে মানানোর সিদ্ধান্ত নিল।
মেয়েকে কোলে তুলে নিল প্রেম।
এবার লক্ষ্য করল, মেয়েটা খুবই ছোট।
এটা কেন? সে তো এই বয়সে অনেক লম্বা ছিল।
শুধু তাই না, তার স্ত্রীও প্রচুর লম্বা।
মেয়ে এতটা শর্ট কিভাবে?
কিন্তু বিষয়টিকে অত পাত্তা দিল না।
মেয়েকে কাছে টেনে নিল নিজের কোলের ওপর বসিয়ে।
চুলের মাঝে হাত বুলিয়ে দিল। কপালে পরপর চুমু খেল।
নরম সুরে বলল,
“আমার আম্মু এখন আমার ওপর মন খারাপ করে থাকবে।
তোমার জন্য আমি নতুন নতুন চকলেট নিয়ে আসব।
তুমি জানো, আমি একটা স্পেশাল রেসিপি জানি।
তোমার অনেক পছন্দ হবে, তোমাকে বানিয়ে খাওয়াবো।
আর কালকে সম্ভবত বিকেলের দিকে মেলা বসবে।
সেখানে তোমাকে নিয়ে যাব আমার সাথে।”
কথাগুলো বলে , প্রেম আবার আদরে সুরে বলল তুমি না আমার মিষ্টি মামনি বাবা তোমাকে কত ভালবাসি তোমায় বাবার উপর এভাবে অভিমান করে থাকবে চলো আমরা ঘুরে আসি তুমি জানো আমি যখন মন খারাপ করে থাকতাম আমার mom আমাকে নিয়ে  হাঁটতে বের হতো রাতের বেলা হাটা কতটা স্বস্তিদায়ক তুমি জানো চলো তোমাকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসি।
প্রেমীর ফুপিয়ে কেঁদে ওঠে।

_ও..ও…ও
ও আমার আদুরে বাচ্চাটা এভাবে কাঁদে কেন? খুব ব্যাথা লেগেছে বুঝি দেখি, কোথায় ব্যাথা লেগেছে কথাটি বলেই প্রেম প্রেমির থাপ্পর পড়া গালে ঠোট ছোঁয়ায় ।

প্রেমে আদুরে আহ্লাদ ে হাত পা ছুড়তে থাকে প্রেমী  কাঁদতে কাঁদতে বলে, _   যাবো না তোমার সাথে কোথাও যাবো না তুমি আমাকে একটুও ভালোবাসো না, তুমি আমাকে মেরেছ যখনই আসে তখনই একটু আমাকে সময় দিতে চায় না ।সারাক্ষণ কাজ করে । তুমি চলে যাও, আমার রাগ তোমার ভাঙাতে হবে না তুমি তোমার কাজের জায়গা চলে যাও ,থাকতে হবে না আমার কাছে । তোমরা কেউই আমাকে ভালোবাসো না কেউ না চাচ্চু ও ভালোবাসে না চাচী মনিও ভালোবাসে না অহিন আমার সাথে কেমন কেমন করে ও আমাকে পছন্দ করে না ।তোমার বউ আমাকে আদর করে না ও তো একটা রাক্ষসী ও তোমার সংসার ভেঙেছে ওর ভালোবাসা আমার চাই না ,ওর জন্য আমার বড়মা কত কষ্ট পেয়েছে । তুমিও চলে যাও তুমি আমাকে ভালোবাসো না।
আমার রাগ কখনো ভাঙবে না। আমাকে কাছে থাকতে হবেনা।”
রাগ করলে যদি</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/242107/</link>
				<pubDate>Tue, 31 Mar 2026 15:11:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অঙ্গীকারহীন কুৎসা<br />
লেখিকা : রোদরঞ্জনা বিন্তে অনামিকা </p>
<p>পর্ব &#8211; ১</p>
<p>অঙ্গীকারহীন কুৎসা—</p>
<p>(বোঝানোর অর্থে)</p>
<p>অঙ্গীকারহীন কুৎসা মূলত কারও প্রতি ক্ষোভ বা নেতিবাচক মনোভাবের এক সূক্ষ্ম প্রকাশভঙ্গি। এটি রটনার (rumour) একটি অন্তর্গত উপশ্রেণী—যা সরাসরি শ্রবণকারীর নাম উচ্চারণ না করেও তার হৃদয়ে চুপিসারে সূক্ষ্ম খঞ্জরের ন্যায় আঘাত হানতে সক্ষম।<br />
বাং&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-242107"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/242107/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>