<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | নাজমুছ ছাকিব | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/sakibn1975/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/sakibn1975/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for নাজমুছ ছাকিব.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 08 Jun 2026 10:59:28 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">86ba03c4439d597f3ebb0382f8506b23</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and shewly khatun are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/252117/</link>
				<pubDate>Wed, 27 May 2026 18:10:27 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">304820323cc540f1b3c2a71b9a0143aa</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and Rahnuma Nira are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/212706/</link>
				<pubDate>Fri, 19 Apr 2024 19:06:53 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3193a8ec1507bd4a0f5e0abe9bc5f412</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and Vip Runa are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/199178/</link>
				<pubDate>Sat, 15 Apr 2023 21:59:34 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">22a606f0741d35fff98a471737c92b25</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and জনী আহমেদ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/187178/</link>
				<pubDate>Mon, 02 Jan 2023 06:19:09 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">56939df02820a16ade9974c0da9e8d56</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and Nishat Jahan are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/183735/</link>
				<pubDate>Sun, 11 Dec 2022 13:02:56 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ec05467debfc70bc7e63f87984d59e29</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and শিউলি চক্রবর্তী are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/183026/</link>
				<pubDate>Thu, 08 Dec 2022 15:30:30 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b8dd3b52c5b209efd3f06ab7f18472e8</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and ফারহাত আহমেদ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/182844/</link>
				<pubDate>Thu, 08 Dec 2022 05:04:36 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">310dbfb8e6692acf8dbf0755d9c547f6</guid>
				<title>ফ্রেডেরিক ব্রাউনের অনু গল্পঃ পৃথিবীমানবের উপহার


মঙ্গলের দেয়ার আছে অনেক কিছু এবং বিনিময়ে পৃথিবীর দেয়ার আছে আরো বেশী-শুধু যদি দুই গ্রহের মধ্যে বিনিময়ের একটা ব্যবস্থা করা যেতো!

দার রী নিজের কক্ষে একাকী বসে, আছেন, ধ্যানে মগ্ন । দরজার ওপাশে একটা চিন্তা তরঙ্গ অনুভব করলেন তিনি যা কিনা দরজায় করাঘাত করার সমতুল্য, এবং, তিনি দরজার দিকে তাকিয়ে, ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করলেন ।
দরজাটা খুলে গেলো । “এসো, বন্ধু আমার,” তিনি বললেন । মস্তিস্ক তরঙ্গ প্রেরণ করে অতিথিকে সম্ভাষণ জানাতে পারতেন তিনি, কিন্তু যেহেতু এই মুহূর্তে তারা মাত্র দুজন, মুখে কথা বলাটাই ভদ্রতার পরিচয় ।

ইজন খি ভিতরে ঢুকল । “আপনি এখনো জেগে আছেন, মহানুভব,” সে বলল ।

“হ্যা, খি । আর এক ঘণ্টার মধ্যে পৃথিবীর বায়ুযান অবতরণ করবে, এবং আমি সেটা দেখতে চাই । হ্যা, আমি জানি, ওটা এখান থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে অবতরণ করবে, যদি তাদের হিসাবে কোনো ভুল না হয়ে থাকে । দিগন্তের ওপাশে । কিন্তু ওটা এর চেয়ে আরো দূরে অবতরণ করলেও আনবিক বিস্ফোরণের ঝলক নিঃসন্দেহে দেখা যাবে । আর আমি পুরোটা জীবন এই প্রথম যোগাযোগের অপেক্ষা করেছি । যদিও বায়ুযানে কোনো পৃথিবীমানব থাকবে না, তারপরেও এটা প্রথম যোগাযোগ- তাদের জন্য । যদিও আমাদের মনগুরুরা শত শত বছর ধরেই তাদের চিন্তা তরঙ্গ অনুসরণ করছে, কিন্তু- এটা হবে পৃথিবী আর মঙ্গলের মধ্যে প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ ।”

একটা চেয়ারে আরাম করে বসল খি । “ঠিক,” সে বলল । “যদিও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো আমি ভালমতো দেখিনি । তারা আনবিক অস্ত্র ব্যবহার করছে কেন? আমি জানি যে ওরা মনে করে আমাদের গ্রহে প্রানের অস্তিত্ব নেই, তারপরেও-”

“চাদের দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে তারা বিস্ফোরণ পর্যবেক্ষণ করবে এবং- ওরা যেন কি বলে?- বর্ণালিবীক্ষণ বিশ্লেষণ । তারা যতটুকু জানে (অথবা মনে করে যে তারা জানে; যার অধিকাংশই ভুলভ্রান্তিতে ভরা) আমাদের গ্রহের আবহাওয়া মণ্ডল এবং ভূমি গঠনের উপাদানসমূহের বিষয়ে, এই বিশ্লেষণ থেকে আরো বেশী জানতে পারবে । এটা আসলে- একটা পর্যবেক্ষণ নিক্ষেপ, খি । আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তারা এখানে সশরীরে পৌঁছে যাবে । এবং তারপর-”

মঙ্গল নিজেদের লুকিয়ে রেখেছিল, অপেক্ষা করছিল পৃথিবীর আগমনের । অথবা বলা যায় মঙ্গলের যতটুকু অবশিষ্ট আছে; নয়শত অধিবাসীর এই ছোট শহর । মঙ্গলের সভ্যতা পৃথিবীর চেয়ে অনেক প্রাচীন, কিন্তু সেটা এখন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে । শুধু এই অংশটুকুই টিকে আছেঃ ছোট একটা শহর, নয়শত অধিবাসী । তারা অপেক্ষা করছিল পৃথিবীর আগমনের, উদ্দেশ্য যতটুকু স্বার্থপর তার চেয়েও বেশী স্বার্থহীন ।

মঙ্গলের সভ্যতা বিকশিত হয়েছে পৃথিবীর তুলনায় অনেকটাই ভিন্নভাবে । এখানে বস্তগত বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটেনি, তাদের নেই কোনো উন্নত প্রযুক্তি । কিন্তু তারা তাদের সামাজিক বিজ্ঞান এমন এক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে যে কারণে, বিগত পঞ্চাশ হাজার বছরে মঙ্গলে ছোটোখাটো কোনো যুদ্ধ তো দুরের কথা, ছোট কোনো অপরাধ পর্যন্ত হয়নি । এবং তারা মনোযোগাযোগ বিজ্ঞানের শীর্ষে পৌঁছে গেছে যেখানে পৃথিবী জ্ঞানের এই শাখায় মাত্র পদার্পণ করেছে ।

পৃথিবীকে অনেক কিছু শেখাতে পারবে মঙ্গল । যেমন কিভাবে অপরাধ নির্মূল করা যায়, যুদ্ধ এড়ানো যায় । আর অত্যন্ত সহজ সরল এই বিষয়গুলো ছাড়া আরো অনেক জটিল বিষয়ও আছে, যেমন মনোযোগাযোগ, ইচ্ছা শক্তির দ্বারা বস্ত পরিচালন ক্ষমতা, আবেগ-অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ…

এবং পৃথিবী, মঙ্গলের আশা, তাদেরকে এমন জ্ঞান দেবে, যা তাদের কাছে আরো বেশী মূল্যবান; কিভাবে, বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির মাধ্যমে- যে ক্ষেত্রে বিকশিত হওয়ার জন্য মঙ্গলের অনেক দেরি হয়ে গেছে, এমনকি বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত মেধাবী মস্তিস্ক থাকার পরেও- একটা মৃতপ্রায় গ্রহকে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, যেন একটা মৃতপ্রায় সভ্যতা আবার তার পূর্বের গৌরব ফিরে পেতে পারে ।

দুই গ্রহই এতে লাভবান হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে না কেউই ।

আর আজকেই হচ্ছে সেই রাত যে রাতে পৃথিবী তার প্রথম বায়ুযান প্রেরণ করতে যাচ্ছে । তার পরবর্তী প্রেরণ হবে, বায়ুযান বোঝাই পৃথিবীবাসি, অথবা নিদেনপক্ষে অন্তত একজন পৃথিবীমানব এখানে আসবে পরবর্তী বায়ুযানে, মোটামুটি পৃথিবীর দুই বছর অথবা মঙ্গলের চার বছরেরে মধ্যে । মঙ্গলবাসিরা এটা জানে, কারণ তাদের মনোযোগাযোগ প্রকৌশলিরা পৃথিবীমানবদের কিছু চিন্তা তরঙ্গ ধরতে পেরেছে, এবং সেটা পৃথিবীমানবদের পরিকল্পনা জানার জন্য যথেষ্ট । দুর্ভাগ্যক্রমে, বিশাল দূরত্বের কারণে, এই সংযোগটা হয় একমুখী । মঙ্গল পৃথিবীমানবদের জানাতে পারে না যে তাদের পরিকল্পনা আরো গতিশীল করা উচিৎ । অথবা পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের মঙ্গলের ভুমির গঠন এবং বায়ুমণ্ডলের বিষয়গুলোও জানাতে পারছে না । সেটা করতে পারলে আজকের এই বায়ুযান নিক্ষেপের কোনো প্রয়োজনই হতোনা ।

আজ রাতে রী, মঙ্গলের দলপতি (মঙ্গলের ভাষা অনুবাদ করলে এটাই হবে সবচেয়ে কাছাকাছি শাব্দিক অর্থ), এবং খি, তার প্রধান কর্মকর্তা এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু, একসাথে ধ্যান করবে, বায়ুযান পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত । তারপর দুজনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে পান করবে- কর্পূর দ্বারা তৈরি এক ধরণের পানীয়, পৃথিবীমানবদের ক্ষেত্রে মদের যেমন প্রভাব মঙ্গলবাসিদের ক্ষেত্রে এই পানীয়ের ঠিক একই প্রভাব- এবং যে ভবনে তারা বসে আছে সেই ভবনের ছাদে উঠে যাবে । তাকিয়ে থাকবে উত্তরায়ণে, যেখানে বায়ুযান অবতরণ করবে । বায়ুমণ্ডলের ফাঁক দিয়ে তারাগুলি ঝলমল করছে ।

পৃথিবীর চাদের ১ নম্বর পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে, দূরবীক্ষণ যন্ত্রে চোখ রেখে, রুগ ইভেরেট বিজয়ীর সুরে বলল, “একেবারে ঠিক যায়গায় গিয়ে বিস্ফোরিত হয়েছে । এবার, ছবিগুলো হাতে পেলেই, আমরা বুড়ো মঙ্গল গ্রহের আরো অনেক কিছু জানতে পারব ।” সোজা হয়ে দাঁড়ালো সে- এখন আর দেখার কিছু নেই- এবং সে আর উইলি সেঙ্গের হাত মিলালো । নিঃসন্দেহে এটা ছিল একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত ।

“আশা করি আমরা ওখানে কাউকে হত্যা করিনি । আমি বলতে চাইছি মঙ্গলের কোনো প্রাণীকে । রুগ, ওটা কি সিট্রিস মেজরের ঠিক কেন্দ্রে আঘাত করেছে?”

“সত্যি কথা বলতে কি, কাছাকাছি। আমার হিসাবে কেন্দ্র থেকে কম বেশী এক হাজার মাইল দক্ষিণে আঘাত করেছে । আর পাচ কোটি মাইল দুরের কোনো লক্ষ্য বস্ততে আঘাত হানার ক্ষেত্রে এই বিচ্যুতি বলতে হবে একেবারেই কাছাকাছি । উইলি, তোমার কি মনে হয়, মঙ্গলে কোনো প্রানের অস্তিত্ব আছে?”

উইলি এক মুহূর্ত ভেবে জবাব দিল, “না ।”

ঠিকই বলেছিল সে ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/182488/</link>
				<pubDate>Tue, 06 Dec 2022 10:09:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফ্রেডেরিক ব্রাউনের অনু গল্পঃ পৃথিবীমানবের উপহার</p>
<p>মঙ্গলের দেয়ার আছে অনেক কিছু এবং বিনিময়ে পৃথিবীর দেয়ার আছে আরো বেশী-শুধু যদি দুই গ্রহের মধ্যে বিনিময়ের একটা ব্যবস্থা করা যেতো!</p>
<p>দার রী নিজের কক্ষে একাকী বসে, আছেন, ধ্যানে মগ্ন । দরজার ওপাশে একটা চিন্তা তরঙ্গ অনুভব করলেন তিনি যা কিনা দরজায় করাঘাত করার সমতুল্য, এবং, তিনি দরজার দিকে তাকিয়ে, ইচ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-182488"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/182488/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>14</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">215c1eae215f724969528d874c8fae44</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and Mehrin Islam are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/182485/</link>
				<pubDate>Tue, 06 Dec 2022 10:03:46 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">037148f8b82d5fd9c6e9facc79665815</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and Noyontara are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/181917/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Dec 2022 10:52:27 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ee77f39d4be4cf83c65ae006cd7e0369</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and রায়হানা জাকিয়া (নিঃসঙ্গ অ্যালবাট্রস) are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/179935/</link>
				<pubDate>Mon, 28 Nov 2022 10:06:09 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">054911e6f8424df2692c7f269f252ea9</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and Nazrul Islam are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/179099/</link>
				<pubDate>Sat, 26 Nov 2022 05:54:47 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c77bd0fafa62b1a794a4e8d4ce221094</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and মেঘনা are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/175362/</link>
				<pubDate>Wed, 16 Nov 2022 06:33:40 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2f3e9f32ac2516f54d8a5bb3c79fe1bd</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and Zinnat Farhana Bithi are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/174980/</link>
				<pubDate>Mon, 14 Nov 2022 16:28:44 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b704f429e0816d6097dee5c773145826</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and Fazilatun Nesa are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/173959/</link>
				<pubDate>Fri, 11 Nov 2022 03:55:09 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fb43fe6e4210e35af5f94d4197e7945b</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and Navamoni Khatun are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/173253/</link>
				<pubDate>Tue, 08 Nov 2022 14:35:31 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">14381d073e5cc1fc6b3005eed2ca6d3c</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and Maharin Mahar are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/158023/</link>
				<pubDate>Fri, 07 Oct 2022 14:21:22 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">85f05b7fcc4d4d7a5236490c9cd5413e</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and স্মৃতি রানী রত্না are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/157333/</link>
				<pubDate>Thu, 06 Oct 2022 12:22:57 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8cf8a70d3d169ea5a46c570c5aceb284</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and Farhana Yeasmin are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/157240/</link>
				<pubDate>Thu, 06 Oct 2022 07:57:51 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">930fc37757a75776453256eb81a504f7</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and ঈশিতা ঈরু are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/157141/</link>
				<pubDate>Thu, 06 Oct 2022 03:35:02 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">abdfb23f94855c55ec8e0cc40156e264</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and হৈমন্তীকা are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/157139/</link>
				<pubDate>Thu, 06 Oct 2022 02:54:40 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">85748e0823d84ecb98d1239b87be6747</guid>
				<title>ফ্রেডেরিক ব্রাউনের অনুগল্পঃ একটি ছোট পরীক্ষা

“বন্ধুরা, এটা হল প্রথম সময় পরিভ্রমণ যন্ত্র,” প্রফেসর জনসন গর্বের সাথে তাঁর দুই সহকর্মীকে বললেন । “আসলে, এটি একটি ছোট আকারের পরীক্ষামূলক মডেল। আপাতত এটি কেবল তিন পাউন্ডের চেয়ে কম ওজনের বস্তুর ক্ষেত্রেই কাজ করবে, পাঁচ আউন্স এবং বারো মিনিট বা তারও কম সময়ের অতীত এবং ভবিষ্যতের দূরত্বের জন্য। কিন্তু এটি কাজ করে ।”

ছোট যন্ত্রটা দেখতে বাস্তবিকই ছোট একটা দাঁড়িপাল্লার মতন— ডাকঘরে যে ধরণের দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করা হয় অনেকটা সেরকম— ব্যতিক্রম শুধু এটার পাটাতনের নিচে দুটো ডায়াল আছে ।
প্রফেসর জনসন একটা ধাতব কিউব দেখালেন । “এই বস্তটা নিয়ে আমরা পরীক্ষা করবো,” তিনি বললেন, “এটা পিতলের কিউব, ওজন এক পাউন্ড, দুই দশমিক তিন আউন্স । প্রথমে আমি এটাকে পাচ মিনিট ভবিষ্যতে পাঠাবো ।”

সামনে ঝুকে সময় পরিভ্রমণ যন্ত্রের একটা ডায়াল নিয়ে কিছু কজ করলেন । “ঘড়ির দিকে লক্ষ্য রাখবেন,” সহকর্মিদের বললেন তিনি ।

সহকর্মিরা ঘড়ির দিকে তাকাল । প্রফেসর জনসন কিউবটা আলতো ভাবে যন্ত্রের পাটাতনে রাখলেন । তৎক্ষণাৎ সেটা অদৃশ্য হয়ে গেলো ।

ঠিক পাচ মিনিট পর, এক সেকেন্ড কম বা বেশী হলো না, বস্ততা আবার ফিরে এলো ।
প্রফেসর জনসন কিউবটা তুলে নিলেন । “এবার পাচ মিনিট অতীতে ।” তারপর অন্য ডায়ালটা সেট করলেন । কিউবটা হাতে রেখেই নিজের ঘড়িতে সময় দেখলেন তিনি । “এখন তিনটা বাজতে ছয় মিনিট বাকি । আমি এখন প্রক্রিয়াটি চালু করব— কিউবটা পাটাতনে রেখে— ঠিক তিনটার সময় । আমার হিসাব অনুযায়ী, তিনটা বাজার ঠিক পাচ মিনিট আগে, কিউবটা আমার হাত থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে এবং ওটাকে পাটাতনে দেখা যাবে, আমি কিউবটাকে ওখানে রাখার পাচ মিনিট আগে ।”

“আপনি কিউবটাকে ওখানে রাখবেন কিভাবে তাহলে ?” সহকর্মিদের একজন জানতে চাইল ।
“এটা, আমি যখন হাত বাড়াতে থাকব, পাটাতন থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে এবং আমার হাতে আবার দেখা যাবে যে আমি ওটাকে পাটাতনে রাখতে যাচ্ছি । ঠিক তিনটার সময়, মনে রাখবেন ।”

কিউবটা তার হাত থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলো ।

আবার সেটা ফিরে এলো সময় পরিভ্রমণ যন্ত্রের পাটাতনে ।

“দেখেছেন? পাচ মিনিট আগে আমি কিউবটাকে ওখানে রেখেছিলাম, কিউবটা ওখানে ।”

তার অন্য সহকর্মি ভ্রু কুচকে কিউবটার দিকে তাকিয়ে আছে । “কিন্তু,” সে বলল, “যদি এমন হয় যে, মানলাম ওটা পাচ মিনিট আগের সময়ে ফিরে গেছে, কিন্তু এমন ও তো হতে পারে যে আপনি ওটাকে তিনটার সময় রাখলেন না? এটা এক ধরণের পরস্পর বিরোধিতা নয় কি?”

“ভালো বলেছেন,” প্রফেসর জনসন বললেন । “আমি এই ভাবে চিন্তা করে দেখিনি, এবং চেষ্টা করে দেখাটা বেশ আকর্ষণীয় হবে বলে আমার মনে হয় । বেশ, আমি…”

সত্যি কথা বলতে কি, পিতলের কিউবটা রয়েই গেলো ।

কিন্তু পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ড, প্রফেসর আর যা কিছুর অস্তিত্ব ছিল সেগুলো সব, বিলীন হয়ে গেলো</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/157062/</link>
				<pubDate>Wed, 05 Oct 2022 18:07:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফ্রেডেরিক ব্রাউনের অনুগল্পঃ একটি ছোট পরীক্ষা</p>
<p>“বন্ধুরা, এটা হল প্রথম সময় পরিভ্রমণ যন্ত্র,” প্রফেসর জনসন গর্বের সাথে তাঁর দুই সহকর্মীকে বললেন । “আসলে, এটি একটি ছোট আকারের পরীক্ষামূলক মডেল। আপাতত এটি কেবল তিন পাউন্ডের চেয়ে কম ওজনের বস্তুর ক্ষেত্রেই কাজ করবে, পাঁচ আউন্স এবং বারো মিনিট বা তারও কম সময়ের অতীত এবং ভবিষ্যতের দূরত্বের&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-157062"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/157062/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c21b71d681bd49dbe984049a080bd992</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and অরিন্দম সাইফুল্লাহ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/156972/</link>
				<pubDate>Wed, 05 Oct 2022 15:08:45 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">16a3d58fb6244c71239fc7e82930daa0</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and Soma are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/156941/</link>
				<pubDate>Wed, 05 Oct 2022 14:04:32 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">00c450653c4923c313f9f9553bf9eb93</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and Halima-Moly are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/156914/</link>
				<pubDate>Wed, 05 Oct 2022 12:02:11 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">311e7a90ed817cc66e70ff977e6b3284</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and Rifat-Afrose-Rumpa are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/156845/</link>
				<pubDate>Wed, 05 Oct 2022 07:17:07 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">33ff970b35ee5ad8ff525ae214b5344f</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and Nilufar Ghani are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/156235/</link>
				<pubDate>Tue, 04 Oct 2022 05:13:47 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1e0d28214a1f689ee5992a47155ea4d2</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and Tasmeen-Laila are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/156159/</link>
				<pubDate>Tue, 04 Oct 2022 03:17:56 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f2e634b04fe2543909a4a4ca43475c22</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and Sufia Lipi are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/156157/</link>
				<pubDate>Tue, 04 Oct 2022 03:16:24 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c5f3580bcd6b3d18793d6d3e6b9bae19</guid>
				<title>মঙ্গল গ্রহের অশিরিরি

আদনান আহমেদ মারা যাওয়াতে আকবর আলিকে অভিযানের দলপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। 

পৃথিবীর ইতিহাসে আমরা কয়েকজনই হলাম সবচেয়ে বেশী পরিক্ষিত, পর্যবেক্ষিত আর প্রশিক্ষিত মানুষের একটি দল। মঙ্গলে প্রথম অভিযান মোটেই ছেলেখেলা নয়, এই দীর্ঘ যাত্রায় দলের সদস্যদের কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরুক কিম্বা মানসিক স্থিরতা হারিয়ে ফেলুক এটাও কাম্য নয় অবশ্যই – আর সবগুলো পরীক্ষা এবং পর্যবেক্ষণে আদনান আহমেদ আমাদের সবার মধ্যে সেরা হয়েছিল। তারপর, অভিযান শুরুর মাত্র সাত দিন আগে, সে মারা যায়। হাসপাতালের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে লেখা ছিল হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু, কিন্তু চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে আমি নিশ্চিত হয়েছি যে তারা আদনান আহমেদের মৃত্যুর যথার্থ কোন কারণ আসলে পায়নি। এমনকি, মৃত্যুর পরেও তার শারীরিক এবং মানসিক দৃঢ়তা ছিল বেচে থাকার সময় যেমন নিখুঁত ঠিক তেমন। আমার মতে, তার মৃত্যুর আসল কারণ, যে বিশাল দায়িত্বের বোঝা তার কাধে চেপে বসেছিল সেটা, মানবজাতির আশা, অভিযানের দলপতি, নতুন এক বিশ্ব, নতুন এক সূচনা, এই সব কিছু মিলিয়ে নিজেকে সে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। সুতরাং, অনুমান করে নিয়েছিলাম যে আকবর আলি নিশ্চয়ই আরো বেশী অভিজ্ঞ আর দক্ষ। কিন্তু, তিনমাসের যাত্রায়, আমরা সবাই আকবর আলির চক্ষুশূলে পরিনত হয়েছি। সে মনে হয় ধরেই নিয়েছে যে এই অভিযানে যতো সমস্যা তার সামনে উপস্থিত হয়েছে বা হবে সগুলোর জন্য আমরাই দায়ী। মহাকাশ আসলে এই রকমই- এখানে যে কোন কিছুই ঘটতে পারে। আর তাই আমি যখন দলপতির সাথে দেখা করতে গেলাম তখন তার হতাশ দীর্ঘশ্বাস আর চোখ-মুখের ভাব দেখে মোটেও অবাক হলাম না।

 &quot;আবার কি হলো?&quot; জিজ্ঞেস করল সে। &quot;আমার মনে হয় এই মহাকাশযানে একটা ভুত আছে,&quot; আমি জবাব দিলাম।

তথ্যটা দিয়ে যেন আমি তাকে কৃতার্থ করলাম। কিন্তু তাকে মোটেও চমকিত মনে হলো না। বরং, আমার কাধের উপর দিয়ে পিছনে তাকালো, আমার দিকে আবার ফিরে তাকানোর আগে, নিশ্চিত হয়ে নিল যে এই মুহূর্তে এখানে আমরা দুই জন ছাড়া আর কেউ নেই ।

 &quot;সুইচ বন্ধ করেছ তুমি?&quot; জিজ্ঞেস করল সে ।

 &quot;অবশ্যই,&quot;  বিরক্ত হয়ে জবাব দিলাম আমি। &quot;তোমার কি মনে হয় যা বলছি সেটা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রন কেন্দ্রের ওদেরকেও শোনাতে চাই?&quot;


এমন ব্যবস্থা করা আছে যাতে করে এই অভিযানের নিয়ন্ত্রক আরে পরিচালকরা সবাই পৃথিবীতে বসেই মহাকাশ যানের প্রতিটি অংশে নজর রাখতে পারবে, এই নজরদারি থেকে এমনকি টয়লেট গুলোও বাদ যায়নি। আসল বিষয়টা হলো, আট মাসের দীর্ঘ যাত্রায়, কিছু দিন যেতে না যেতেই, অতি মাত্রায় কর্মঠ বিজ্ঞানী আর প্রকৌশলীরা করার মতো কোনো কাজ আর খুজে পাবে না। তাই সময় কাটানোর জন্য সবাই কোনো না কোনো উদ্ভাবন কিংবা গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তৃতীয় সপ্তাহের শেষ দিকে সুমন আরে সুমনা একটা ডিভাইস তৈরি করে যেটা ব্যবহার করে আমরা যে কোন সময় মহাকাশ যানের যে কোন অংশ পৃথিবীর নজরদারি থেকে মুক্ত করতে পারি। স্বাভাবিক ভাবেই, পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে আকবর আলির কাছে অভিযোগ জানানো হয়, কিন্তু সুমন আরে সুমনা এই ব্যপারে কিছু জানে না বলে নিজেদের নির্দোষ দাবী করে, তারপর আরো দ্রুততার সাথে আরেকটা ডিভাইস তৈরি করে যেটা দিয়ে মহাকাশ যানের যে অংশ যখন নজরদারি মুক্ত থাকে তখন পৃথিবীর নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র ওঁই অংশের একটা নকল প্রতিবেদন পেতে থাকবে আর আমরা এই মহাকাশে কিছুটা সময় একান্তে কাটাতে পারব। হাজার হোক, পৃথিবী থেকে আমরা এই মুহূর্তে দশ কোটি কিলোমিটার দূরে – আর মহাকাশ যানের অভ্যন্তরে আমরা কি করি সেটা সবসময় পৃথিবীকে জানানোর ও প্রয়োজন নেই।

&quot;ভুত,&quot; আকবর আলি বলল। &quot;আচ্ছা...&quot; মহাকাশ যানের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছিল সে, একই সাথে সৌর তরঙ্গের পরিবর্তন নোট করছিল। প্যানেল আর পর্দার উপর মৌমাছির মতন নেচে বেড়াচ্ছে তার হাত দুটো, আমি যা বলেছি তাতেও কোনো ভাবান্তর হলো না। &quot;কি ধরনের ভুত?&quot;


 &quot;আদনান আহমেদের ভুত।&quot; আবার একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল আকবর আলি। &quot;কিভাবে যেন আমি অনুমান করতে পেরেছি।&quot; ডিসপ্লে স্ক্রিনের উপর সমান করে হাত রাখল সে – নিজেকে একটা স্ট্র্যাপ দিয়ে হাল্কা ভাবে বেধে রেখেছে, আর তাই সে ভেসে কন্ট্রোল মডিউলের নিচে চলে গেলো না – এবং ঘুরলো আমার দিকে। &quot;বুঝতে পারছি তোমার কষ্ট হচ্ছে, জুনায়েদ, আমি জানি তোমরা দু&#039;জন খুব ঘনিষ্ঠ ছিলে, কিন্তু তোমাকে এটা মেনে নিতেই হবে - সে আর নেই। আদনান আহমেদ আর নেই।&quot;
 
&quot;সেটা আমি জানি,&quot; বললাম আমি। &quot;আমিই ওঁর মৃতদেহ প্রথম দেখতে পাই। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে, শিয়ারাপেলি ফ্লাই বাইতে, ওঁর সাথে আমি ছিলাম প্রায় ছয় মাস; শুধু আমরা দুজন, একা। ওঁর ব্যপারে সবকিছুই, আমি জানি, জানতাম এবং আমি জানি কথাটা উদ্ভট শোনাবে, কিন্তু বিশ্বাস করো, সে আমাদের সাথে এই মহাকাশ যানেই আছে। আমি তার গন্ধ পাচ্ছি।&quot;

সবচেয়ে কাছের মনিটরের দিকে তাকাল আকবর আলি; সেখানে একটা লাল আলো অত্যন্ত ধীরে জ্বলছে আরে নিভছে, যাতে বুঝা যাচ্ছে যে যন্ত্রটা আমাদের আলোচনা রেকর্ড করছে না। ওঁর তাকানো দেখে, আমি আবার বললাম, &quot;ওটা বন্ধ । আমি আগেই দেখে রেখেছি।&quot;

নিজের অবিভ্যাক্তি লুকিয়ে রাখার জন্য সীমাহীন দক্ষতার পরিচয় দিল আকবর আলি। আমি সঠিক বলতে পারবনা যে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র আমাদের আলোচনা শুনতে পারছে না বলে সে বিরক্ত, নাকি বিষয়টা মহাকাশ যানের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ থাকাতে স্বস্তি পেয়েছে।

&quot;আর কিছু আছে, নাকি আমরা শুধু গন্ধমাদন ভুত নিয়েই আলোচনা করব?&quot; সে জিজ্ঞেস করল।

ইতস্তত করতে লাগলাম আমি। সত্যি কথা বলতে কি, পৃথিবীতে থাকলে এটা নিয়ে কারো সাথেই কথা বলতাম না; নিঃসন্দেহে, মন মূল্যায়নকারীরা চোখের পলক ফেলার আগেই আমাকে এই অভিযান থেকে বাদ দিয়ে দিত, কিন্তু এখানে, পৃথিবী থেকে অকল্পনীয় দূরত্বে এই মহাকাশে ওরা কিই বা করতে পারবে? আমাকে ফেরত পাঠাবে? মঙ্গলে পৌঁছানোর পর, বােয়া-ডোম স্থাপন, সহগামী স্বয়ংক্রিয় শিল্পসমুহ স্থাপন, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং পুনর্সরবরাহ নিশ্চিত করার পরেই কেবল তারা আমাকে ফেরত পাঠাতে পারবে। হয়তো মঙ্গলে এক বছর কাটানোর পর ওরা আমাকে ফিরিয়ে নেয়ার চিন্তা করতে পারে। কিন্তু এই মুহুর্তে ওরা কিছুই করতে পারবে না, এবং আকবর আলি অবশ্যই জানে –অথবা তার জানা উচিৎ - আমি কি দেখেছি।

&quot;আমার ধারণা আমি তাকে দেখেছি। একবার। এক রাতে বিশ্রামের সময়, আমার ঘুম আসছিল না তখন। সে ওখানে বসে ছিল, মনে হচ্ছিল যেন সে আমাদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছিল, যেন লক্ষ্য রাখছে আমাদের উপর। মঙ্গল ছিল তার স্বপ্ন, আকবর, এই অভিযানের স্বপ্নই তাকে সারাজীবন তাড়িত করেছে। আমার মনে হয়, সে যে এখানে আছে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, অভিযানের প্রতিটি বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখছে।&quot;

&quot;এখানে বসে ছিল? আমার চেয়ারে?&quot; মাথা নেড়ে আকবর আলি বলল। &quot;তুমি জানো এটাকে কি বলে, জুনায়েদ? শোক। খুবই স্বাভাবিক, কিন্তু এটা প্রচণ্ড শোক ছাড়া আর কিছু নয়।&quot;

&quot;তোমার জায়গায় আমি থাকলে ঠিক এই কথাই বলতাম। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে আদনান আহমেদের ভুত শুধু আমি একাই দেখিনি, তাই না, আকবর?&quot; এবং অভিযান দলপতির দিকে প্রশ্নবোধক ঠাণ্ডা দৃষ্টিতে তাকালাম। তার চেহারা মলিন হলো না, কিন্তু বিব্রত হয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নিল। আমি দেখলাম সে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু সেখানে ভেসে উঠা তথ্যগুলো তার মস্তিষ্কে প্রবেশ করছে না। বরং, সে আরো ভেতরের দিকে তাকালো, তারপর আমার দিকে না তাকিয়েই বলল, &quot;সংযোগটা সত্যিই বিচ্ছিন্ন করা আছে, জুনায়েদ?&quot;

&quot;হ্যা,&quot; আমি বললাম। &quot;চাইলে নিজেই দেখে নিতে পারো।&quot;

&quot;না, দরকার নেই।&quot; মলিন হাসি দেখা গেলো তার মুখে, ফিরে তাকাল আমার দিকে। &quot;ওগুলো চালু থাকলে তুমি যা বলেছ তার কিছুই আমাকে বলতে না।&quot; নাকের ডগা চুলকালো আল্বর আলি, তারপর চিবুকে আঙ্গুল বুলাতে লাগলো। &quot;তুমি কিভাবে জানতে পারলে?&quot;

&quot;ওর সাথে তোমাকে কথা বলতে শুনেছি আমি। তিন পর্যবেক্ষণ আগে। ওকে আমি দেখতে পারিনি, কিন্তু আমি ওর গন্ধ পেয়েছি। তুমি কি ওকে দেখতে পেয়েছিলে?&quot;

মাথা নাড়ল আকবর আলি। &quot;পরিস্কার কিছু ছিল না। অস্পষ্ট, কিন্তু আমি ওর কথা পরিস্কার শুনতে পেয়েছিলাম। আমার সাথে কথা বলেছিল সে... পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে আসার পর থেকেই সে আমার সাথে কথা বলছে।&quot; আড়চোখে আমার দিকে তাকাল আকবর আলি। &quot;মনে হচ্ছিল আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি।&quot;

&quot;আমারও একই অবস্থা,&quot; বললাম আমি।

&quot;আমরা দুজন ছাড়া আর কেউ কি ওর উপস্থিতি টের পেয়েছে?&quot;

&quot;আমার জানা মতে, না। কিন্তু, কথা হলো গিয়ে এটা এমন একটা বিষয় যা নিয়ে তুমি সবার সাথে আলোচনা করবে না। তাছাড়া পৃথিবী ছেড়ে আসার পর থেকেই... মহাকাশ যানে অদ্ভুত একটা পরিবেশ বিরাজ করছে।&quot; একটু বিরতি নিলাম আমি, তারপর আবার বলতে লাগলাম। &quot;পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে আসার পর তুমি ওর কথা শুনতে পাও, কিন্তু ঠিক কখন তুমি ওকে দেখতে পেয়েছিলে?&quot;

&quot;একটু সময় লেগেছিল। তুমি বলেছ যে তুমি ওর গন্ধ পাও?&quot;

সম্মতির ভঙ্গিতে মাথা নাড়লাম আমি, অবশ্য তার আগে কিছু একটা ধরে নিজেকে সামলে নিতে হয়েছিল যেন মহাকাশ যানের ছাদে গিয়ে মাথা বাড়ি না খায়।
 
&quot;আমি প্রথমে শুনতে পাই,&quot; আকবর আলি তাকিয়ে আছে ডিসপ্লের দিকে, হারিয়ে গেছে জটিল হিসাব-নিকাশ আর স্মৃতির অলি গলিতে। &quot;ওর নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ, যখন রাত্রিকালীন পর্যবেক্ষণ করছিলাম। এখন মনে পড়ছে যে আমি তখন ভাবছিলাম একজন মৃত মানুষের শ্বাস- প্রশ্বাসের শব্দ শোনা কি অদ্ভুত। কিন্তু আমি ঠিক তাই শুনছিলাম। মনে হচ্ছিল যেন সে আমার ঠিক পাশেই বসে আছে।&quot; চোখ তুলে আমার দিকে তাকাল আকবর আলি। &quot;প্রথমে আমি ভেবেছিলাম যে ওটা মহাকাশ যানের কোনো শব্দ, হয়তো বায়ু চলাচল ব্যবস্থার কোনো যন্ত্র এমন শব্দ তৈরি করছে, কিন্তু অল্প সময়েই বুঝতে পারলাম যে আমি যখন এখানে একা থাকি শুধুমাত্র তখনই এই শব্দটা কানে আসে।&quot;

&quot;সেটা কখন? কবে প্রথম ওর সাথে কথা বলেছিলে তুমি?&quot;

&quot;পৃথিবী ত্যাগ করার অল্প কিছুদিন পরেই। সম্ভবত আমরা তখন কেবল চাদের কক্ষপথ পার হয়ে এসেছি; সেটা ছিল আমার দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় রাত্রিকালীন পর্যবেক্ষণ। আগেই বলেছি, প্রথমে আমি তেমন একটা গুরুত্ব দেইনি; আমি তখনো মহাকাশ যানের বিভিন্ন রকম শব্দের সাথে নিজেকে অভ্যস্ত করে নিচ্ছিলাম। তারপর, আমি তাকে কথা বলতে শুনি, যখন আমি গতিপথের একটা সংশোধন করছিলাম, এবং সে আমাকে কোঅরডিনেটসে কিছু পরিবর্তন করতে বলে।&quot;

&quot;নতুন কো-অর্ডিনেটস গুলো কি সঠিক ছিল?&quot; আমি জিজ্ঞেস করলাম।

&quot;হ্যা, আমার তাই ধারণা, যদিও বাস্তবে তেমন কোনো প্রমান নেই। কিন্তু ওর দেয়া কো-অর্ডিনেটস গুলো দিয়ে যখন সিমুলেটর তৈরি করি, তখন, স্বীকার করতেই হবে, গতিপথ সমস্যার অত্যন্ত ফলপ্রসূ সমাধান পেয়ে যাই । আর তাই কো-অর্ডিনেটস গুলো আমি পরিবর্তন করে দেই।&quot;

&quot;নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র কিছু বলেনি?&quot;

 &quot;ওহ, পরিবর্তনগুলো করার আগে আমি ওদেরকে কিছু জানাইনি। অবশ্য ওরা যখন নিজেদের মনিটরে পরিবর্তনগুলো দেখতে পায় তখন অবাক হয়েছিল, কিন্তু আমি সিমুলেটরের ফলাফল দেখানোর পর, ওরা আর আপত্তি করেনি। তারপর থেকেই, আমি ওর পরামর্শের জন্য কান পেতে থাকি সর্বদা ।&quot;

&quot;আচ্ছা, সেজন্যই তুমি বেশীরভাগ রাত্রিকালীন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব নিজের জন্য বেছে নিয়েছ। তোমার সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছিলাম আমি ।&quot;

&quot;আসলে, সেটা একটা কারণ, আরেকটা কারণ হলো রাতে ঘুমাতে পারছি না আমি । ঠিক  কখন তুমি ওর উপস্থিতি প্রথম অনুভব করেছিলে?&quot;

&quot;মোটামুটি তোমার কাছাকাছি সময়েই। কিন্তু তুমি বলেছিলে যে, তুমি ওকে দেখতেও পেয়েছিলে?&quot; আকবর আলি কেবল মাথা নাড়ল। কারণ সিট বেল্ট বাধার সময় সে ভেসে উপরে উঠে গেছে।

&quot;ওটা ছিল শুধুই একটা ছায়া, একটা অস্পষ্ট অবয়ব। কিন্তু সম্প্রতি, রাত্রিকালীন পর্যবেক্ষণের সময়, মনে হয় আমি ওকে প্রায়ই স্পষ্ট দেখছি, কখনো তাকে দেখি পর্যবেক্ষণ পোর্ট দিয়ে তাকিয়ে আছে বাইরে, অথবা দাড়িয়ে আছে এস্ট্রগেসন ডিসপ্লেগুলোর কাছে।&quot; আমার দিকে ফিরল আকবর আলি। &quot;মনে হয় সে আমাদের উপর নজর রাখছে, জুনায়েদ, আমাদের সবাইকে লক্ষ্য করছে। যখন বুঝতে পেরেছি যে সে এখানে আছে, আমাদের সাথে, আমি তার জায়গায় দায়িত্ব নেয়াতে এখন আর তেমন একটা খারাপ লাগছে না। আশা করি তোমারও খারাপ লাগছে না, জুনায়েদ?&quot;

আমি মাথা নাড়লাম।

&quot;হ্যা, খারাপ লাগছে... নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, আমাদের সব কথা শুনতে পেরেছ তোমরা?&quot;

মনুষ্যবাহি প্রথম মঙ্গল অভিযানের পথে আমরা তিন মাস, দুই সপ্তাহ, এবং পাচ দিনের দূরত্ব পেরিয়ে এসেছি। আমার মেসেজটা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে পৌছতে  লাগলো ছয় মিনিট, আরো ছয় মিনিট লাগলো তাদের জবাব আমাদের কাছে পৌছাতে। এই সময়ের মধ্যে, আকবর আলি বিস্ময়ে স্থবির হয়ে গেলো, যখন বুঝতে পারলো যে আলোচনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটাই পৃথিবীর নিয়ন্ত্রন কেন্দ্রে রিলে করা হয়েছে; প্রচণ্ড রাগে আমার উপর হামলে পড়ার জন্য আসনের বাকলস খুলতে শুরু করল সে, তখনই আমার হাতে ধরা স্টান্ট স্টিক চোখে পরল তার, অস্ত্রটা সতর্কতার সাথে লুকিয়ে রেখেছিলাম আমি এতক্ষণ; অভিযানের অন্য সদস্যরা যখন নিয়ন্ত্রণ কক্ষে প্রবেশ করতে লাগলো, হাল ছেড়ে দিল সে, কারণ বুঝতে পেরেছে যে আলোচনার পুরোটাই বা সে যা বলেছে, প্রতিটি কথা দাড়ি কমা সহ শুনেছে সবাই ।

 &quot;আমরা শুনেছি,&quot; নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জবাব দিল। &quot;অভিযানের দলপতি পরিবর্তনের অনুমতি দেয়া হলো।&quot;

মঙ্গল থেকে সংগ্রহ করা নমুনা রাখার সুরক্ষিত চেম্বারে আকবর আলিকে বন্দি করে রাখার সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা। অবশ্য, কাজটা করার ফলে চেম্বারটা দুষিত হয়ে গেলো,  কিন্তু তাতে তেমন কোনো ক্ষতি বৃদ্ধি হবে না, যেহেতু আমরা আর কখনো ফিরে যাবো না, কোনো অবস্থাতেই না। আমরা প্রথম মঙ্গলবাসি, এবং আমরা আজীবন থাকতেই যাচ্ছি । অনেক আগেই সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্তটা নেয়া হয়েছে, আমাদের প্রশিক্ষণ শুরুর একেবারে প্রথম দিকে;  আমরা, যারা সারাজীবন এমন একটা অভিযানের স্বপ্ন দেখেছি, আমাদের জন্য এটা অজানাকে জয় করার কোনো অভিযান নয়। না, বরং, এই  প্রথম আমরা নিজ গৃহে ফিরে যাচ্ছি। আদনান আহমেদের মৃত্যুর পর, একমাত্র, আকবর আলি, অনধিকার প্রবেশকারি, নবাগত দলপতি, নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ইচ্ছানুযায়ী আমাদেরকে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু, এখন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র নিজেই তাকে অপসারিত করেছে, আর আমরা তাকে বন্দি করে রেখেছি, সুতরাং অভিযান, আমাদের অভিযান, এখন নিরাপদ।

রাত্রিকালীন পর্যবেক্ষণের সময়, আমি, অভিযানের নতুন দলপতি, আসনে শক্ত করে নিজেকে আটকে নিলাম, তারপর কনসোল আর ডিসপ্লেগুলো দেখতে লাগলাম খুটিয়ে খুটিয়ে।

&quot;সঠিক পথেই এগোচ্ছি,&quot; জানালাম আমি।

ওর গন্ধ পাচ্ছি আমি।

&quot;বাড়ি ফেরার জন্য,&quot; ফিসফিস করে জবাব দিল আদনান আহমেদ, অভিযানের দলপতি, মঙ্গলের অশিরিরি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/155801/</link>
				<pubDate>Mon, 03 Oct 2022 09:20:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মঙ্গল গ্রহের অশিরিরি</p>
<p>আদনান আহমেদ মারা যাওয়াতে আকবর আলিকে অভিযানের দলপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। </p>
<p>পৃথিবীর ইতিহাসে আমরা কয়েকজনই হলাম সবচেয়ে বেশী পরিক্ষিত, পর্যবেক্ষিত আর প্রশিক্ষিত মানুষের একটি দল। মঙ্গলে প্রথম অভিযান মোটেই ছেলেখেলা নয়, এই দীর্ঘ যাত্রায় দলের সদস্যদের কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরুক কিম্বা মানসিক স্থিরতা হারিয়ে ফেলুক এটাও কা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-155801"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/155801/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e9b3dfa67af3a4d0f9c83651f3451fd4</guid>
				<title>নাজমুছ ছাকিব and ইফতিশা খানম are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/155489/</link>
				<pubDate>Mon, 03 Oct 2022 03:08:35 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1fa57a40243b48cb5ea5be6a207868c6</guid>
				<title>এয়ার লক

সবাই জানত, তাদের দুজনের মেলামেশাটা ছিল শুধুই একটা সম্পর্ক যার কোনো পরিনতিব নেই, যেহেতু সে ছিল ক্যাপ্টেন আর মারিয়া ছিল সামান্য এক ক্যাডেট । যদি তাদের পদ মর্যাদা সমান হতো তখন হয়তো সবাই এটাকে একটা ভুল বলে উড়িয়ে দিত । অন্য ক্যাডেটরা সম্ভবত তাকে এখন চরিত্রহীনা ভাবতে শুরু করেছে । নিজের কামরায় গিয়ে মুখ লুকাল সে । স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র এক কাপ চা ঢেলে দিল তাকে । জানালা দিয়ে তাকাল বাইরে, অনেক দূরে দেখা যাচ্ছে পৃথিবী, গ্রহটা সেই কবে থেকে ঘুরছে তোঁ ঘুরছেই ।
এখনো সে দুঃস্বপ্ন দেখে । তাদের বাড়ির কংক্রিটের বেজমেন্টে গলা পরিমান পানি । পুরনো কাপড়ের র&#x200d;্যাকগুলো ডুবে গেছে পানির নীচে । বিদ্যুতের তারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে ভাসছে পানিতে আর বিদ্যুতের ঝিলিক ক্ষুব্ধ মাকড়সার মতোঁ নেচে বেড়াচ্ছে পানির উপর । মেরামতের কোনো উপায় ছিল না । কোনো উপায়ই ছিল না । দৃশ্যগুলো কল্পনা করলেই অবিরাম রক্তক্ষরণ হতে থাকে তার মনের গভীরে ।
ঘুম থেকে উঠেই পরিস্কার, শুভ্র বাথরুমে ঢুকল, অসুস্থ বোধ করছে । পোর্সেলিনের ছোট একটা গামলায় বমি করল । তার শিফটের সময় হয়ে এসেছে প্রায়, ধুসর ইউনিফর্ম পরে তৈরি হয়ে নিল সে । আর কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকাশ হতে শুরু করবে । এই ইউনিফর্ম আর তার গায়ে আটবে না । দরজা খুলে দ্রুত বেরিয়ে এলো কঠিন ইস্পাতের লম্বা হলে । হাটতে শুরু করল এবং এয়ার লকের কাছে এসে থেমে দাঁড়ালো ।
এয়ার লক এখানেই কেন বসানো হয়েছে, সবসময়ই সে অবাক হয়ে ভাবে কথাটা, হলের ঠিক মাঝখানে । এটা খোলার গোপন সংখ্যা সবার কাছেই আছে, যদি কখনো কোনো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মহাকাশযান পরিত্যাগ করার প্রয়োজন হয় । ঠিক এই জায়গাতেই এয়ার লক থাকাটা অবাক করার মতো, হলের ঠিক মাঝখানে, যেন কখনো যদি কোন ফুটো তৈরি হয় তাহলে হলটাকে তারা মহাকাশযানের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে । প্রতিদিন এটার সামনে দিয়েই সে হেটে যায়, তার আর বিশাল শূন্যতার মাঝে কেবল দুটো পাতলা দেয়াল ।
আজকে তার দায়িত্ব মহাকাশযানের ব্রিজে, অর্থাৎ, ক্যাপ্টেনকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই । থিয়েটারের পর্দা উঠার মতো ব্রিজের দরজা মেঝের উপর দিয়ে মসৃণ ভাবে একপাশে সড়ে গেলো, ক্যাপ্টেন চোখ তুলে তাকালো মারিয়ার দিকে, তারপর দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল, যেন মারিয়া তার সম্ভাষণ কিংবা দৃষ্টির যোগ্য নয় এবং তার দৃষ্টি মারিয়ার উপর এমন ভাবে ঘুরলো যেন সে আর দশটা কম্পিউটার অথবা চেয়ারের মতোই জরবস্ত । দ্রুত শিফট শেষ করল সে । ফিরে গেলো নিজের কামরায় । যাওয়ার পথে আবার থামল এয়ার লকের সামনে । এটা তার উদ্যান, তার মন্দির ।
প্রায়ই কল্পনা করে যে সে নিজেই মহাকাশযান, নিকষ কালো মহাকাশ ভেদ করে ছুটে চলেছে । দুর্বার গতি তাকে অসুস্থ করে তোলে । নাবিকদের সবাই তার শরীরের অভ্যন্তরে তুলোয় মোড়ানো রক্ত কণিকার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে, ঘর্মাক্ত হাতে তার রেলিঙগুলো নোংরা করছে, তাদের আঠালো আঙ্গুলের ছাপ পড়ছে তার জানালার শার্শিতে । ঘুম ভেঙ্গে যায় তার । মনে হলো কামরাটা দুলছে । লাফ দিয়ে উঠে একছুটে বাথরুমে ঢুকল । বমি করল ছোট শুভ্র পোর্সেলিনের গামলায় । নিজের ভেতরের সব বিতৃষ্ণা উগরে দিতে চায় সে ।
শুভ্র বাথরুম । ঠাণ্ডা জলে ভিজিয়ে রাখা শুভ্র শার্ট । ইউনিফর্ম গায়ে চাপিয়ে লম্বা হলে বের হয়ে আসে, যেন নিজের দেহের ভেতরের কোনো একটা অংশ থেকে আরেক অনশে বিচরন করছে সে । জানালা দিয়ে অনেক নীচে পৃথিবীর দিকে তাকালো, ছোট নিল মার্বেলের মতো দেখাচ্ছে গ্রহটাকে, যেন একটা খেলনা । হঠাৎ করেই মহাশূন্যের নিকষ অন্ধকারকে ভীষণ প্রিয় মনে হলো তার । এই অন্ধকারের কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই । এখানে নেই কোনো উষ্ণতার প্রয়োজন অথবা দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা ।
তাকে বিচার করার কোনো অবকাশ মহাশূন্যের নেই । জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া এখন শুন্য এবং অপ্রয়োজনীয় । যে স্থানে জীবনের সূত্রপাত সেই স্থানই আবার জীবনকে ছিঁড়ে ছিন্ন ভিন্ন করে দেয়, জন্মদায়িনি গ্রাস করে নেয় তার সন্তানদের । মারিয়া যেতে চায় ওখানে, সমর্পণ করতে চায় নিজেকে, কারণ এই অন্ধকার তাকে চায়নি কিন্তু তাকে পরম মমতায় আগলে রাখবে অনন্তকাল । এয়ার লকের সামনে দাড়িয়ে আছে সে, এবং সেটা খোলার গোপন সংখ্যাগুলো সে জানে ।

©নাজমুছ ছাকিব</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/154290/</link>
				<pubDate>Fri, 30 Sep 2022 17:49:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এয়ার লক</p>
<p>সবাই জানত, তাদের দুজনের মেলামেশাটা ছিল শুধুই একটা সম্পর্ক যার কোনো পরিনতিব নেই, যেহেতু সে ছিল ক্যাপ্টেন আর মারিয়া ছিল সামান্য এক ক্যাডেট । যদি তাদের পদ মর্যাদা সমান হতো তখন হয়তো সবাই এটাকে একটা ভুল বলে উড়িয়ে দিত । অন্য ক্যাডেটরা সম্ভবত তাকে এখন চরিত্রহীনা ভাবতে শুরু করেছে । নিজের কামরায় গিয়ে মুখ লুকাল সে । স্বয়ংক্রিয় যন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-154290"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/154290/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d840319736203b8ed2f99c60d83a3097</guid>
				<title>শেষ কথা
ডেমন নাইট 
অনুবাদঃ নাজমুছ ছাকিব

ডেমন নাইট ছিলেন আমেরিকান বিজ্ঞান কল্প কাহিনী লেখক, সম্পাদক এবং সমালোচক। জন্ম ১৯২২ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর এবং ২০০২ সালের ১৫ই এপ্রিল তিনি মৃত্যু বরন করেন। তিনি মূলত ছোট গল্প লিখতেন এবং এই ক্ষেত্রে তাকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ছোটগল্প লেখকদের একজন হিসেবে গন্য করা হয়। সাইন্স ফিকশন রাইটার্স এসোসিয়েশন এবং এই সংস্থার বিগত সভাপতিমণ্ডলী সর্বসম্মতিক্রমে ১৯৯৪ সালে ডেমন নাইটকে বিজ্ঞান কল্প কাহিনীর ১৩তম গ্র্যান্ড মাস্টার খেতাবে ভূষিত করেন। ২০০২ সালে তার মৃত্যুর পর এই পুরস্কারের নামকরণ করা হয় ডেমন নাইট মেমোরিয়াল গ্র্যান্ড মাস্টার এওয়ার্ড। ২০০৩ সালে তার নাম সাইন্স ফিকশন হল অব ফেম এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পাঠকদের কাছে তিনি সর্বাধিক পরিচিত তার ছোটগল্প “To Serve Man,” এর জন্য। ২০০১ সালে হুগো পুরস্কারের রজত জয়ন্তির বছরে তার এই গল্পটি ১৯৫০ সালের শ্রেষ্ঠ ছোটগল্প হিসেবে রেট্র হুগো পুরস্কার লাভ করে। 
ডেমন নাইটের &quot;The Last Word&quot; (শেষ কথা) একটু ভিন্ন ধরণের  গল্প যেখানে সনাতন খ্রিস্ট ধর্মের উপাদান, ঈশ্বর এবং শয়তানের চিরকালীন বিরোধকে বিজ্ঞান কল্প কাহিনীর আদলে বর্ননা করা হয়েছে। 
*** 
ব্যথার অস্ফুট আর্তনাদ , হয়তো এটাই ছিল মানবের মুখ নিঃসৃত ভাষার প্রথম ধ্বনি। কোন গুহামানব এক টুকরো পাথর দিয়ে আরেকটি পাথরে আঘাত করছিল হাতিয়ার বানানোর জন্য, আঘাতটা পাথরে না লেগে তার বুড়ো আঙ্গুলে লাগে– আর এভাবেই ব্যথায় আর্তনাদ করার মাধ্যমে মানব জাতি আবিষ্কার করে ভাষা। 
এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় আর প্রমাণ অসাধ্য ছোট খাটো বিষয়ের উপর আমার তীব্র ঘৃণা। প্রথম কুকুরের কথাই ধরা যাক। কোন সন্দেহ নেই যে পশুটা ছিল অত্যন্ত চালাক কিন্তু ভীতু একটা নেকড়ে, যেটা কোন না কোন ভাবে আদিম মানুষকে ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলতে পেরেছিল। আর ভয় পেয়েই আদিম মানুষেরা তাদের উচ্ছিষ্ট খাবার তাকে ছুড়ে দিত। আদিম মানুষ নিজেরাই ছিল বিরক্তিকর রকমের ভীতু। কিন্তু তারপরেও মানুষ আর নেকড়ে অচিরেই বুঝতে পারে যে একসাথে শিকার করলে নিজেদেরি লাভ। মানুষ আর নেকড়ে, দুই প্রজাতিই ছিল কাপুরুষ, তথাপি, একসাথে শিকার করার মাধমেই তারা গৃহপালিত পশু পাপ্রথম শব্দ ধ্বনিলনের প্রথা আবিষ্কার করে। 
প্রথম সহশ্রাব্দগুলতে আমি ছিলাম নিতান্তই এক নবিশ। যখন বুঝতে পারি যে মানুষকে আমার দলে আনতে হলে তাদের একেবারে কাছাকাছি থাকতে হবে, ততদিনে ইতিহাসের অজস্র গুরুত্বপুর্ন ঘটনা সংঘটিত হয়ে গেছে। আমি তখন ছিলাম এক তরুণ– বেশ, এভাবে বলা যায়, আমি ছিলাম তরুণ আর স্বর্গ হতে বিতাড়িত দেবদূত। যদি আমার বয়স আর অভিজ্ঞতা আরেকটু বেশি হতো, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ইতিহাস হত পুরোপুরি অন্যরকম। 
মনে আছে একদিন আমি এক মিশরীয় তরুণ আর তার স্ত্রীর দেখা পাই। তারা বসেছিল নীল নদের তীরে একটা পাথরের উপর। চেহারায় বিষণ্ণতা আর দুশ্চিন্তা; কারন নদীর পানি বাড়ছিল। ক্ষুধার্ত এক শৃগাল তাদের কাছ থেকে একটু দুরেই ওত পেতে বসেছিল। আমার বুঝতে অসুবিধা হয়না যে, মানুষ দুজনকে যদি মুহুর্তের জন্য অন্যমনস্ক করে দিতে পারি, শৃগালটা তার সুযোগ পেয়ে যাবে। 
“পানি অনেক বেড়েছে?” নদীর দিকে ইশারা করে আমি সম্মতির ভঙ্গিতে প্রশ্ন করলাম।
দুজনেই আমার দিকে তীব্র সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকায়। আমি যতদুর সম্ভব মানুষের ছদ্মবেশ নিয়েছিলাম, কিন্তু যতো চেষ্টাই করি না কেন আমার স্বরূপ কখনোই নিখুত ভাবে লুকানো সম্ভব হতোনা, তাই আমার গায়ে ছিল লম্বা একটা আলখাল্লা, বছরের ওই সময়ে যা ছিল একেবারেই বেমানান। 
পুরুষটি জবাব দেয়, “পানি যদি একেবারেই না বাড়ত, আমার জন্য ভালো হতো।“
“কেন? তোমার কথা শুনে অবাক হলাম,” আমি জবাব দেই। “নদীর পানি যদি না বাড়ে, তোমার ফসলি জমি তার উর্বরতা হারাবে– তাই নয় কি?”
“কথা সত্যি,” পুরুষটি বলল, “কিন্তু পানি যদি না বাড়ত তাহলে আমার জমি আমারই থাকতো।“ ইশারায় আমাকে একদিকে দেখাল যেদিকে পানির স্রোত তার জমির সীমানা বেড়াগুলো ভেঙ্গে ফেলছিল। “প্রতি বছর বন্যার পর আমরা সীমানা নিয়ে বিবাদ করি, আর এই বছর আমার প্রতিবেশির সাথে তার এক ভাই এসে যোগ দিয়েছে। সেই ভাই আবার প্রচণ্ড বলশালী মানুষ।“ কথাগুলো বলার সময় বিষণ্ণ ভাবে সে গাছের একটা শুকনো ডাল দিয়ে মাটিতে কিছু রেখা আকছিল। 
এই রেখাগুলো আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। এইতো মাত্র কিছুদিন আগে, উত্তরে, সুমেরিয়ানরা, লেখন পদ্ধতি আবিস্কার করেছে এবং সেই পরাজয়ের ধকল আমি এখনো সামলে নিতে পারিনি।  
“আসলে, জীবন মানেই লড়াই করে বেচে থাকা,” পুরুষটিকে সান্ত্বনা দেয়ার সুরে বললাম আমি। “শিকার কর অথবা নিজেই শিকার হও। জোর যার সেই জয়ী হবে আর দুর্বল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। 
পুরুষটি মনে হয় আমার কথা শুনছিল না। “যদি কোন উপায় পাওয়া যেত,” নিজের আকা রেখাগুলোর দিকে তাকিয়ে অন্যমনস্ক ভাবে বলল সে, “কোন ভাবে যদি সীমানা বেড়ার চিহ্ন রাখা যেত সেগুলোকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য।“
“বোকার মতো কথা বলো না,” বাধা দিয়ে বললাম আমি। “এমন কিছু বলার মতো জ্ঞান তোমার নেই। তোমার বুড়ো বাপ কি বলতো? যতটুকু তার জন্য ভালো...”
সাথের নারীটি এতক্ষণ একটাও কথা বলেনি। এবার পুরুষটির হাত থেকে লম্বা লাঠিটি নিয়ে কৌতূহলের সাথে পর্যবেক্ষণ করতে লাগল। “কেন নয়,” নারীটি বলল, মাটিতে আকা রেখাগুলো দেখিয়ে। ভেজা মাটির উপর পুরুষটি আনাড়ি ভাবে নিজের জমির নকশা একেছে, একদিকের সীমানা বুঝিয়েছে যে পাথরেরে উপর বসে ছিল সেটা দিয়ে। 
আর ঠিক ওই মুহূর্তে শৃগালটা আক্রমণ করে বসে। পশুটি ছিল ক্ষুধার্ত এবং মরিয়া, সেটার চোয়াল ছিল ধারালো হলুদ দাতে পরিপূর্ণ। 
হাতে ধরা লাঠি দিয়ে, নারীটি শৃগালের নাকে প্রচণ্ড আঘাত করে, ব্যথায় আর্তনাদ করতে করতে পশুটি পালিয়ে যায়।
“যাহ্‌,” আমি বললাম, হতাশার সুরে। “জীবন মানেই লড়াই...”
নারীটি কি যেন একটা কটু কথা বলল, আর পুরুষটি আমার দিকে আক্রমণের ভঙ্গীতে এগিয়ে এলো, তার চোখে তখন ছিল অন্যরকম এক আলো, তাই আমি পালিয়ে এলাম। আর তোমরা কি জানো, পরবর্তী বন্যার পরে আমি যখন আবার এই এলাকায় ফিরে আসি, তখন তারা দড়ি আর খুঁটি নিয়ে জমির সীমানা চিহ্নিত করছিল?
আবারো কাপুরুষোচিত আচরণ– ওই পুরুষটি তার প্রতিবেশীর বলশালী ভাইয়ের সাথে বিবাদ করতে চায়নি। আরেকটি সৌভাগ্যজনক দুর্ঘটনা, আর এভাবেই মানুষ আবিস্কার করে নিজেদের ফসলি জমি পরিমাপ এবং চিহ্নিত করার পদ্ধতি।
আমি যদি আরেকটু দূরদর্শী হতে পারতাম, প্রথম যে গুহামানব প্রবল কৌতূহলের আগুন জালিয়েছিল, যদি একটা হিংস্র ভালুক দিয়ে তাকে হত্যা করতে পারতাম... যাইহোক এরকম আশা করা এখন অর্থহীন। যে সময় চলে গেছে সেটা আমি ফিরিয়ে আনতে পারব না। 
ও হ্যা, সময়ের সাথে সাথে আমিও অনেক কিছু শিখেছি। উদ্ভাবনের প্রবল ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখার বদলে আমি সেটাকে নিজের উদ্দেশ্যপূরণের দিকে পরিচালিত করতে শিখলাম। চাইনিজদের বারুদ বানানোর কৌশল শেখানোর ক্ষেত্রে আমার অবদান ছিল সবচেয়ে বেশী। (তোমরা যদি আগ্রহী হও তাই বলছি, পচাত্তর ভাগ সালফেট, তের ভাগ চুনাপাথর, বার ভাগ কয়লা। কিন্তু এই উপকরণগুলো গুড়ো করা এবং সঠিক ভাবে সঠিক মাত্রায় মেশানোই ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ, ওরা নিজেরা সেটা কখনোই আবিস্কার করতে পারতনা।) চাইনিজরা যখন এই বিদ্যা শুধু আতশবাজি তৈরির কাজে ব্যবহার করা শুরু করল, আমি হাল ছাড়িনি। আমি ইউরোপে এই বিদ্যার প্রসার ঘটালাম। ধৈর্য ধারণ আমার সবথেকে বড় শক্তি। আমি কখনো হাল ছাড়িনা। লুথার যখন আমার গায়ে কালি ছুড়ে মেরেছিল, আমি রাগান্বিত হইনি। বরং নিজেকে সম্বরন করে রেখেছিলাম।

*** 

ছোটখাটো পরাজয় নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত ছিলাম না; বরং আমার সাফল্যই আমার অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমার প্রতিটা লড়াইয়ের পরেই মানুষ পরস্পরের আরো কাছাকাছি হতে থাকে। প্রথমে তারা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে লড়াই করছিল। তারপর ছোট দলগুলো মিলে অনেকগুলো বড় দল তৈরি করে। এরপর বড় দলগুলো নিজেদের মাঝে লড়াই শুরু করে। শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে কেবল একটি বড় দল, বাকি সব নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। 
এই খেলাটাই আমি খেলতে থাকি বারবার। মিশরীয়দের সাথে, পার্সিয়ানদের সাথে, গ্রীকদের সাথে, এবং, অবশেষে, আমি সবাইকে ধ্বংস করে দেই। কিন্তু আমার এই খেলার অবশ্যম্ভাবী ফলাফল কি আমি বুঝতে পেরেছিলাম? যখন শেষ দুটো বড় দল দুনিয়া নিজেদের মাঝে ভাগ করে নেয়, আমি জানতাম শেষ যুদ্ধের ফলাফল হবে চির শান্তি, কারন লড়াই করার জন্য আর কোন প্রতিপক্ষ থাকবে না। 
তাই আমার শেষ যুদ্ধ হবে এমন এক বিধ্বংসী অস্ত্র দিয়ে, যা এতটাই ভয়াবহ যে, মানুষের কোন অস্তিত্বই থাকবে না।
আর ঠিক তাই হয়েছিল।
পঞ্চম দিনে, আকাশে ভেসে ভেসে, আমি দেখি এক বিরান পৃথিবী, যার বনাঞ্চলগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, সবুজের কোন চিহ্ন নেই কোথাও, ভূখণ্ডের উপরিভাগের মাটিগুলো পর্যন্ত বিলীন হয়ে গেছে, তার বদলে মুখব্যদান করে বেড়িয়ে এসেছে অভ্যন্থরস্ত রুক্ষ পাথর, চন্দ্রপৃষ্ঠের জ্বালামুখের মতো। আকাশ থেকে বিচ্ছ্যুরিত হচ্ছিল অসুস্থ রক্তবর্ণের আলো, তার মাঝে বিষধর সাপের জিহ্বার মতন ধারালো আর অবিরাম বিদ্যুৎচমক। যাইহোক, চরম মুল্য দিতে হয়েছে আমাকে, কিন্ত দুনিয়ার বুক থেকে মানুষের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। 
না, পুরোপুরি বিলীন হয়নি। দুজন মানুষ এখনো বেচে আছে, একজন পুরুষ, একজন নারী। আমি যখন তাদের খুজে পাই, তেজস্ক্রিয় সাগরের বুকে মাথা উচু করা থাকা এক দুর্গম পাহাড়ের উপরে, তারা ছিল জীবিত আর সুস্থ, যদিও তাদের বেচে থাকাটা ছিল সাময়িক। তারা ছিল একটা স্বচ্ছ গম্বুজের ভিতরে, অথবা কোন এক ধরণের শক্তি ক্ষেত্রের মাঝে, যা তাদেরকে বিষাক্ত বাতাস থেকে বাচিয়ে রেখেছিল।
বুঝতে পারছ, পরাজয়ের কতটা কাছে ছিলাম আমি? আমার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই তারা যদি এই যন্ত্রটা পুরো দুনিয়াতে ছড়িয়ে দিতে পারত... কিন্তু আমার ভাগ্য ভালো যে তারা মাত্র এই একটাই তৈরি করতে পেরেছিল। আর সেটার ভিতরেই তারা আশ্রয় নিয়েছে, যেন খাচায় আটকানো দুটো সাদা ইঁদুর।
আমি কে সেটা আমাকে দেখা মাত্রই তারা বুঝে নেয়। নারীটি ছিল, স্বভাবতই যেমন হয়, অল্পবয়স্কা এবং সুশ্রী। 
“সত্যি কার্যকর একটা যন্ত্র,” নিতান্তই ভালমানুষের মতো আমি বললাম। 
বাস্তবে, যন্ত্রটা দেখতে ছিল অত্যন্ত জঘন্য, অসংখ্য তার আর নলের সংযোগ, স্তুপ করে রাখা হয়েছে মেঝের নিচে, আর একটা অর্ধবৃত্তাকার নিয়ন্ত্রন যন্ত্র, সেখানে অনেকরকমের আলো জ্বলছে নিভছে। 
“দুঃখের বিষয় যে এই যন্ত্রের কথা আমি আগে জানতে পারিনি, হয়তো এটাকে কোন কাজে লাগানো যেত।“
“এটা তোমার কোন কাজে লাগত না,” পুরুষটি বিষণ্ণ ভঙ্গীতে বলল। “এই যন্ত্রটা শান্তির জন্য। ঘটনাক্রমে, এটা আনবিক বিস্ফোরণ ঠেকানোর মতো একটা শক্তি ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।“
“তুমি কেন বলছ ‘ঘটনাক্রমে’?” আমি জানতে চাইলাম।
“সে এভাবেই কথা বলে,” এবার নারীটি কথা বলল। “তুমি যদি আর মাত্র ছয়টা মাস দেরি করতে, আমরা হয়তো তোমাকে পরাজিত করতে পারতাম। কিন্তু এখন আমার মনে হয় তুমি ভাবছ যে তুমি বিজয়ী হয়েছ।&quot;
“হ্যা, নিশ্চয়ই,” আমি বললাম। “এই যুদ্ধে আমি অনেক আগেই বিজয়ী হয়েছি। যাইহোক, এখন তো আমরা একটু সুস্থির হয়ে বসে কথা বলতে পারি।“ 
দুজনে উত্তেজনায় টানটান এবং আক্রমণাত্মক ভঙ্গীতে নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সামনে দাড়িয়ে ছিল, আমার পরামর্শ তাদের কানেই যায়নি। 
“এভাবে কেন বললে যে ‘ভাবছি’ আমি বিজয়ী হয়েছি?” জিজ্ঞেস করলাম।
“আমি এভাবেই কথা বলি। যাইহোক, তোমাকে আমরা সহজে বিজয়ী হতে দেইনি, একটা দীর্ঘ লড়াই উপহার দিয়েছি।“ 
“আর এখন তুমি এতটাই আত্নবিশ্বাসী হয়ে উঠেছ যে স্বরূপে আত্নপ্রকাশ করতেও ভয় পাওনি।“ পুরুষটি বলল। তার চোয়াল দয়ামায়াহীন পুরুষের মতো কঠিন, যুদ্ধের প্রথম দিনে এই পুরুষের মতো আরো অনেককেই দেখেছি বিমান নিয়ে হামলা করতে। 
“ওহ,” আমি বললাম, “আমিতো সেই শুরু থেকেই এখানে ছিলাম।“
“একেবারে শুরু থেকেই?” নারীটি জিজ্ঞেস করল।
তার দিকে ফিরে আমি কুর্নিশ করলাম। “প্রায়,” সত্যি কথা বলতে দোষ নেই। 
খানিক বিরতি। এমন এক অস্বস্তিকর বিরতি যা সুন্দর একটা আলোচনাকে বাধাগ্রস্থ করে। গম্বুজের মেঝেটা কেপে উঠল আচমকা। লতাপাতার মতো একগাদা জ্বলন্ত ধোয়া গম্বুজের ঠিক বাইরেই বের হতে লাগলো। 
দুজনেই উদ্বিগ্ন হয়ে নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের দিকে তাকালো। বর্নিল আলোগুলো জ্বলছে আর নিভছে। “সময় হয়েছে?” শুনতে পেলাম নারীটি শুষ্ক নিচু কণ্ঠে জিজ্ঞেস করছে।
“না,” পুরুষটি জবাব দিল। “সব ঠিক আছে– শক্তি সঞ্চয় করছে এখনো। আরো কয়েক মিনিট সময় দাও।&quot; গম্বুজের মেঝে স্থির হল একটু পরেই।
নারীটি আমার দিকে ফিরে তাকাল। খুশি হলাম তাতে, কারন তাদের আলাপচারিতায় এমন কিছু ছিল যা আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। সে বলল, “তুমি নিয়তিকে নিজের মতো চলতে দিতে পারলে না? ঈশ্বর জানেন আমরা নিখুত নই, কিন্তু আমরা ততোটা খারাপ ও নই। পরস্পরেঢ় সাথে প্রাণঘাতী সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার জন্য তোমার প্ররোচনার কোন প্রয়োজন ছিল না।&quot;
আমি মুচকি হাসলাম। 
পুরুষটি ধির স্থির কণ্ঠে বলল, “শান্তি তার দেহকে বিষাক্ত করে তুলত। একটা শুষ্ক আপেলের মতো নিঃশেষ হয়ে যেতো সে।&quot; এবং তার মন্তব্যটা ছিল আসলেই সত্যি, অথবা সত্যের যথেষ্ট কাছাকাছি, সে জন্যই তার কথার কোন প্রতিবাদ করলাম না। গম্বুজের মেঝেটা আবার কেপে উঠল। 
“আমরা নরক যন্ত্রনা ভোগ করি আর সেটা দেখার জন্য তুমি অপেক্ষা করছ,” নারীটি বলল। “তাই না?”
আবার ও মুচকি হাসলাম।
“কিন্তু সেজন্য তোমাকে আরো অপেক্ষা করতে হবে। আমরা মহাসাগরে ডুবে গেলেও এই গোলক আমাদের রক্ষা করবে। আমাদের কাছে যে পরিমাণ খাদ্য আছে তা দিয়ে আমরা এখানে বেশ অনেক দিন বেচে থাকতে পারব।“
“আমি অপেক্ষা করব,” আমোদের সুরে বললাম।
নারীটি তার স্বামীর দিকে ফিরল। “তাহলে আমরাই এই পৃথিবীর শেষ নর-নারী,” সে বলল। “বুঝতে পারছ না? তা না হলে, সে কি এখানে আসত?”
“ঠিক বলেছ,” পুরুষটি বলল, তার কণ্ঠে এমন কিছু ছিল যা আমার পছন্দ হলো না। নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের উপর ঝুঁকল সে। “এখানে আমাদের থাকার আর কোন মানেই হয় না। আভা, তুমি কি...” পিছিয়ে গেলো সে, লাল রঙের একটা হাতলের দিকে ঈশারা করল।
নারীটি এগিয়ে এসে হাতলের উপর হাত রাখল। 
“একটু দাড়াও,” অস্বস্তির সাথে বললাম আমি। “কি করছ তোমরা? ওটা কি?”
নারীটি আমাকে সুন্দর একটা হাসি উপহার দিল। “এই যন্ত্রটা শুধু শক্তি ক্ষেত্রই তৈরি করে না,“ সে বলল।
“তাই,’ আমি প্রশ্ন করলাম। “আর কি করতে পারে?’
“এটা একটা সময় পরিভ্রমণ যান,” পুরুষটি জবাব দিল। 
“আমরা ফিরে যাচ্ছি,” ফিসফিস করে বলল নারীটি, “যেখান থেকে সব শুরু হয়েছিল ঠিক সেখানে।“
ফিরে যাচ্ছে, সৃষ্টির সূচনা লগ্নে, আবার নতুন করে শুরু করার জন্য।
আমাকে ছাড়া।
নারীটি বলল, “মহাপ্রলয়ে জয়ী হয়েছ , কিন্তু পৃথিবী হারিয়েছ তুমি।&quot;
তার এই মন্তব্যের জবাব আমার দিয়েছিলাম। বাইরের রক্তিম আধারের দিকে ঈশারা করলাম আমি। “পৃথিবী হারিয়েছি আমি? তাহলে এটাকে কি বলবে তুমি?”
হাতলটা আরো শক্ত করে ধরল সে।
“নরক,” সে ছিল দুনিয়ার শেষ নারী, আর শেষ কথাটা সে-ই বলেছিল।
তারপর দশ হাজার বছর পেরিয়ে গেছে। আমি একাকী দুনিয়াতে বিচরন করে যাচ্ছি আর এই দশ হাজার বছরের নিঃসঙ্গতার মাঝে ওই নারীর বলা শেষ কথা আমি মুহুর্তের জন্যও ভুলতে পারিনি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/153872/</link>
				<pubDate>Thu, 29 Sep 2022 18:04:32 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শেষ কথা<br />
ডেমন নাইট<br />
অনুবাদঃ নাজমুছ ছাকিব</p>
<p>ডেমন নাইট ছিলেন আমেরিকান বিজ্ঞান কল্প কাহিনী লেখক, সম্পাদক এবং সমালোচক। জন্ম ১৯২২ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর এবং ২০০২ সালের ১৫ই এপ্রিল তিনি মৃত্যু বরন করেন। তিনি মূলত ছোট গল্প লিখতেন এবং এই ক্ষেত্রে তাকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ছোটগল্প লেখকদের একজন হিসেবে গন্য করা হয়। সাইন্স ফিকশন রাইটার্স এসোসিয়েশন এবং&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-153872"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/153872/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>