<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | অনন্যা অরী ( ছদ্মবেশী ) | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/sansri/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/sansri/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for অনন্যা অরী ( ছদ্মবেশী ).</description>
	<lastBuildDate>Fri, 05 Jun 2026 00:03:59 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">42759ed141a3fe86ee02c1715cb7796b</guid>
				<title>শহরে বৃষ্টি আজও থামেনি। মীরার মনে হয়, আকাশটা যেন আজ তার হয়েই কাঁদছে। বাস স্টপেজের এক কোণে দাঁড়িয়ে সে একা। তার পরনের সাদা শাড়ির লাল পাড়টা বৃষ্টির ছোঁয়ায় ভিজে আরও গাঢ় হয়েছে। হাতে ধরা লাল গোলাপটা বৃষ্টির তোড়ে তিরতির করে কাঁপছে, ঠিক যেমন কাঁপছে মীরার ভেতরটা। মীরার চোখে অস্থিরতা—কার যেন অপেক্ষা।

​মীরা আর বিহানের পরিচয় হয়েছিল পাঁচ বছর আগে, ভার্সিটির করিডোরে। মীরা ছিল সচ্ছল পরিবারের আদুরে মেয়ে, যার হাসিতে পুরো ক্যাম্পাস মেতে থাকত।
আর বিহান ?  মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলে, যার কাঁধে ছিল সংসারের হাজারো দায়ভার। বিহানের বাবা মারা যাওয়ার পর টিউশনি করে তাকে নিজের পড়াশোনা আর ছোট বোনের খরচ চালাতে হতো। মীরা তাকে ভালোবাসত নিঃস্বার্থভাবে, কিন্তু বিহান সবসময় একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে রাখত নিজের চারপাশে। সে জানত, মীরার বাবা কখনোই একজন সাধারণ টিউশনি করা ছেলেকে তার মেয়ের জামাই হিসেবে মেনে নেবেন না।

​বিহানের পরিবার থেকে বিয়ের চাপ আসছিল তার বোনের জন্য, আর মীরার বাড়িতে তখন চলছিল মীরার জন্য ডাক্তার পাত্র খোঁজার ধুম। মীরা বহুবার বিহানকে বলেছে,

&quot;একবার শুধু আমার বাবার সামনে দাঁড়িয়ে বলো তুমি আমাকে চাও।&quot; 

কিন্তু বিহান সাহসের অভাবে পিছিয়ে যেত। তার মনে হতো, অভাবের সংসারে মীরাকে নিয়ে আসা হবে তার ওপর অন্যায় করা। এই আত্মসম্মান আর দ্বিধাই আজ তাদের এই মোহনায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

​রাস্তার ওপারে দাঁড়িয়ে বিহান অনেকক্ষণ ধরে মীরাকে দেখছে। তার মনটা আজ চুরমার হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ আগে সে জানতে পেরেছে, মীরার বাবা আজই তার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছেন। বিহান আজ শেষবারের মতো এসেছে, হয়তো কিছু বলতে, নয়তো সব হারিয়ে ফেলতে। তার চোখের কোণে বৃষ্টি জমে আছে, যা বৃষ্টির জলে মিশে একাকার। সে ভিজে জবজবে হয়ে সাহস সঞ্চয় করে মীরার দিকে এগিয়ে গেল। শার্টটা গায়ের সাথে লেপ্টে আছে, চুলগুলো অবিন্যস্ত, কিন্তু তার চোখ দুটো হন্যে হয়ে মীরার চোখের দিকে তাকাচ্ছে।

​বিহানকে কাছে আসতে দেখে মীরা তাকাল। তার ঠোঁটে একটা ম্লান হাসি ফুটে উঠল, যাতে মেশানো ছিল বছরের পর বছর জমে থাকা গভীর কষ্ট।

বিহানকে দেখে মীরা কিছুটা ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলে উঠল, 

&quot;তুমি এলে? কিন্তু আজও কি শুধু দাঁড়িয়েই থাকবে? কিছু বলবে না?&quot;

​বিহানের গলা আটকে এল। সে চারপাশের ব্যস্ত শহর আর বৃষ্টির শব্দে নিজের কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলল।
সেদিকে তাকিয়ে  মীরা বিষণ্ণ হেসে বলে উঠল,

&quot;তুমি তো সবসময় এভাবেই বলো—‘আসলে কী বলব?&quot;

​বিহানের মুখে এবার এক কঠিন হাসি। সে ম্লান স্বরে বলল,

&quot;আমার অনেক কিছু বলার ছিল, মীরা। অনেকগুলো বছর, অনেকগুলো রাত আমি মহড়া দিয়েছি তোমাকে কী বলব। কিন্তু আমি সবসময়ই দেরি করে ফেলি, তাই না?&quot;

​মীরা তার চোখ সরিয়ে নিল রাস্তার অন্ধকারের দিকে।

&quot;হয়তো। কিন্তু আজ দেরিটা একটু বেশিই হয়ে গেছে। এখন আর কিছু বলার জায়গা অবশিষ্ট নেই।&quot;

​বিহানের বুকের ভেতরটা যেন কেউ ধারালো অস্ত্র দিয়ে চিরে দিচ্ছে। সে কম্পিত স্বরে জিজ্ঞেস করল, 

&quot;তুমি কি... সত্যিই অন্য কারোর জন্য অপেক্ষা করছো? অবশেষে আঙ্কেল তোমাকে রাজি করাতে সক্ষম হলো?&quot;

​মীরা চুপ করে রইল। তার চোখে টলমল করছে জল, কিন্তু সে চায় না বিহান তার দুর্বলতা দেখুক। সে নিচু স্বরে বলল,

&quot;হ্যাঁ, আমি অপেক্ষা করছি। কিন্তু কার জন্য জানি না। হয়তো এক নতুন বন্দিজীবনের জন্য, নয়তো এই বৃষ্টির শেষ হওয়ার জন্য।&quot;

​বিহানের ঠোঁট কাঁপছে। সে বলল, 

&quot;মীরা, আমি চাই না তুমি আর আমার জন্য অপেক্ষা করো। আমি তোমাকে দেওয়ার মতো কিছুই জোগাড় করতে পারিনি। আমি চাই না আমার এই টানাপোড়েনের জীবনে এসে তুমি কষ্ট পাও।&quot;

​মীরা তাকাল বিহানের দিকে, তার চোখে এখন অদ্ভুত এক শূন্যতা।

&quot;তুমি জানো, বিহান ? আমি তোমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছিলাম। কিন্তু আজ বুঝতে পারলাম, ভালোবাসা যখন একপাক্ষিক হয়ে যায়, কিংবা একপক্ষ যখন শুধু ভয়ে কুঁকড়ে থাকে, তখন সেই ভালোবাসার কোনো মানে থাকে না। সাহস ছাড়া ভালোবাসা টেকে না।&quot;

​বিহান মাথা নিচু করল। তার কাঁধ থেকে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ছে। সে ধরা গলায় বলল, 

&quot;তুমি ঠিকই বলেছো। আমি সবসময়ই তোমার কাছে আসতে চেয়েছি, কিন্তু আমার অভাব আর দায়িত্ব আমাকে আটকে দিয়েছে। আমি দুঃখিত।&quot;

​মীরা ম্লান হেসে বলল, 

&quot;তোমার জন্য অপেক্ষা করাটাই আমার ভুল ছিল। আমি ভেবেছিলাম তুমি এসে সব সামাজিকতা ভেঙে আমাকে রক্ষা করবে, কিন্তু তুমি এলে না।&quot;

​ঠিক তখনই শহরের শেষ বাসটা এসে স্টপেজে দাঁড়াল। মীরা আর দেরি করল না। সে দরজার দিকে পা বাড়িয়ে পেছনে না তাকিয়েই বলল,

&quot;আমি অপেক্ষা করতে করতে বড্ড ক্লান্ত বিহান, তাই আর অপেক্ষা না। সব প্রতীক্ষার শেষ বিহান, সব শেষ।&quot;

​বিহানের মনে হলো তার পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। সে কয়েক পা দৌড়ে গিয়ে আর্তনাদ করে বলল, 

&quot;মীরা, প্লিজ... আরেকটু সময় দাও! আমি সব ঠিক করে নেব!&quot;

​মীরা জানালার পাশে বসে শেষবারের মতো পেছনে তাকাল। তার চোখে তখন শ্রাবণের ধারা। সে অস্ফুট স্বরে বলল, 

&quot;সময় অনেক দিয়েছিলাম, বিহান। এবার আর নয়।&quot;

​বাসের দরজা বন্ধ হয়ে গেল। ধোঁয়া ছেড়ে বাসটা ধীরে ধীরে ধোঁয়াটে বৃষ্টির মাঝে মিলিয়ে যেতে লাগল। মীরা জানালার কাঁচে হাত রেখে দেখল বিহানের আবছা অবয়বটা ছোট হয়ে আসছে। সে মনে মনে বলল, 

&quot;ভালো থেকো, বিহান। আমার অপূর্ণতা হয়েই থেকো।&quot;

​বিহান দাঁড়িয়ে রইল সেই জনশূন্য স্টপেজে। তার হাতের মুঠোয় মীরার ফেলে যাওয়া সেই লাল গোলাপটা। বৃষ্টির ঝাপটায় গোলাপের পাপড়িগুলো একটা একটা করে খসে পড়ছে কাদার ওপর, ঠিক যেমন ঝরে গেল তাদের দীর্ঘ পাঁচ বছরের লালিত স্বপ্ন। বিহান একা, বৃষ্টিতে ভেজা এক ব্যর্থ প্রেমিক, যার চোখে এখন শুধু অপ্রাপ্তির নোনা জল আর এক অনন্ত হাহাকার।

অনুগল্প:  #শেষ_বিকেলের_অপেক্ষায়
লেখিকা : #অনন্যা_অরী ( ছদ্মনাম )</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/247104/</link>
				<pubDate>Fri, 08 May 2026 15:58:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শহরে বৃষ্টি আজও থামেনি। মীরার মনে হয়, আকাশটা যেন আজ তার হয়েই কাঁদছে। বাস স্টপেজের এক কোণে দাঁড়িয়ে সে একা। তার পরনের সাদা শাড়ির লাল পাড়টা বৃষ্টির ছোঁয়ায় ভিজে আরও গাঢ় হয়েছে। হাতে ধরা লাল গোলাপটা বৃষ্টির তোড়ে তিরতির করে কাঁপছে, ঠিক যেমন কাঁপছে মীরার ভেতরটা। মীরার চোখে অস্থিরতা—কার যেন অপেক্ষা।</p>
<p>​মীরা আর বিহানের পরিচয় হয়েছিল পাঁচ বছর আগে, ভ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-247104"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/247104/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0b29f95567e53a57a23fef8bc60e00ff</guid>
				<title>অনুগল্প -- খামবন্দি মফস্বল
লেখনীতে - অনন্যা_অরী ( ছদ্মবেশী )



সাল ১৯৯৬

নব্বই দশকের মফস্বল শহরগুলো ছিল অদ্ভুত শান্ত। বিকেলের আকাশ জুড়ে কেবল মেঘেদের খেলা, আর বাতাসে ভেসে আসা দূরের কোনো বাড়ির রেডিওতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুর। সেই শহরে সৌমিক ছিল এক মগ্ন যুবক, যার পৃথিবীটা আটকে ছিল লাইব্রেরির বইয়ের তাক আর মোড়ের মাথার ক্যাসেটের দোকানে।

​সেদিন শ্রাবণ মাসের এক মেঘলা বিকেল। সৌমিক শহরের পুরনো সিন্ধু লাইব্রেরিতে লেখক সুকান্তের ‘ছাড়পত্র’ খুঁজছিল। সেই সময় হঠাৎ তার নাকে ভেসে এল বকুল ফুলের তীব্র অথচ মিষ্টি একটা সুবাস। সে পেছনে ফিরে তাকাতেই থমকে গেল। হালকা আকাশি রঙের সুতির শাড়ি, চোখে কালো ফ্রেমের চশমা আর দীর্ঘ বিনুনি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে হৈমন্তী।

​সৌমিক বিড়বিড় করে বলল, 

“আপনি? এখানে?”

​হৈমন্তী একটু হাসল। সেই হাসিতে যেন এক নিমেষে শ্রাবণের সব মেঘ কেটে গিয়ে রোদের দেখা মিলল। সে নিচু গলায় বলল, 

“কেন? এখানে কী শুধু আপনারই আসার অধিকার? আমি কি একটু কবিতার বই পড়তে আসতে পারি না?”

​সৌমিক লজ্জিত হয়ে মাথা নিচু করল। কারণ নব্বইয়ের সেই দিনগুলোতে মেয়েদের সাথে কথা বলা মানেই তো ছিল এক বিরাট যুদ্ধ। সে কোনোমতে বলল, 

“আসলে,মানে... আপনাকে তো সাধারণত এই সময়ে পাড়ার মোড়ে দেখা যায়। নীলু কাকিমার বাড়িতে যান বোধহয়।”

​হৈমন্তী সৌমিকের দিকে এক কদম এগিয়ে এল। চারপাশটা নিঃঝুম, শুধু লাইব্রেরির পুরনো ফ্যানের ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দটুকু শোনা যাচ্ছে। সে ফিসফিস করে বলল, 

“আপনি খুব নজর রাখেন তো! গত সাতদিন ধরে আমাদের গেটের সামনে দিয়ে যে আপনি বারবার সাইকেল নিয়ে টহল দিচ্ছেন, সেটা কি নীলু কাকিমার বাড়িতে যাওয়ার জন্য নাকি অন্য কিছু ??”

​সৌমিকের কপালে ঘাম জমে উঠল। ধরা পড়ে যাওয়ার লজ্জা আর ভালোলাগা মেশানো এক অনুভূতি তাকে আচ্ছন্ন করল। সে আমতা আমতা করে বলল, 

“আসলে... ওই দিকে রাস্তাটা একটু ভালো তো, তাই...”

​“থাক, আর অজুহাত দিতে হবে না,” 

হৈমন্তী বাধা দিয়ে বলল। 

“শুনুন, কাল বিকেলে আমাদের বাড়ির পেছনের যে বাঁশবাগানটা আছে, সেখানে আসবেন? ভাইয়েরা কেউ থাকবে না আর বাবা দাদুর বাড়িতে গিয়েছে ।”

​কথাটা শেষ করেই হৈমন্তী পা টিপে টিপে লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে গেল। সৌমিক সেখানে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল। তার কানে তখন বাজছে পাশের দোকানে চলতে থাকা কুমার শানু আর অলকা ইয়াগনিকের সেই অবিস্মরণীয় গান— ‘

মেরা দিল ভি কিতনা পাগল হ্যায়...’।

​পরদিন বাঁশ বাগান। রোদের রেশ গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে মাটিতে। সৌমিক গিয়ে দেখল হৈমন্তী আগে থেকেই দাঁড়িয়ে। তার হাতে ভাঁজ করা একটা লাল রঙের খাম।

​সৌমিক কাছে যেতেই হৈমন্তী সেই খামটা বাড়িয়ে দিল। 

“এটা নিন। আর সাবধান, অন্যকারো হাতে যেন না যায়।”

​সৌমিক খামটা হাতে নিল। কাগজের স্পর্শে এক অন্যরকম শিহরণ অনুভব করল সে। সেও পকেট থেকে একটা স্বচ্ছ কভারের অডিও ক্যাসেট বের করল। টিডিকে ডি-৯০ ক্যাসেট।

​সৌমিক বলল, 

“এটা আপনার জন্য। শহরের বড় এক স্টুডিওতে গিয়ে নিজের পছন্দের সেরা দশটা গান রেকর্ড করে এনেছি। আর হ্যাঁ,এক নম্বর আর পাঁচ নম্বর গানটা ভালো করে শুনবেন, কারণ ওগুলোতে আমার মনের না বলা কথা আছে ।”

​হৈমন্তী ক্যাসেটটা হাতে নিয়ে ঠোঁটের কোণে দুষ্টুমি মাখা হাসি ফুটিয়ে বলল, 

“এক নম্বরে নিশ্চয়ই ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সনম’ আছে, তাই না?”

​সৌমিক লাজুক হাসল। 

“কী করে বুঝলেন?”

​“হয়তো আমার মনের মধ্যেও একই গান বাজছে তাই,” 

বলেই হৈমন্তী থমকে গেল। নিজের মনের কথা এত সহজে বলে ফেলে সে নিজেও লজ্জিত।
​
সেই বিকেলে কোনো মোবাইল ফোনের নোটিফিকেশন ছিল না, ইন্টারনেটের গতির লড়াই ছিল না। ছিল শুধু দুজনের মাঝে এক গভীর নৈশব্দ্য, যা হাজারটা শব্দের চেয়েও বেশি কিছু বলে দিচ্ছিল। 

​বাড়ি ফিরে সৌমিক লাল খামটা খুলল। ভেতরে সযত্নে রাখা একটি শুকনো বকুল ফুল আর সুন্দর হাতের লেখায় এক দীর্ঘ চিঠি। চিঠির পড়তে শুরু করলো সে। পড়ার এক পর্যায়ে শেষের লাইনটি এসে থমকে গেল সৌমিক । 
শেষ লাইনটা ছিল ,

​
“সৌমিক, এই শহরটা বড্ড ছোট, কিন্তু আপনার জন্য আমার ভালোবাসা এই ছোট শহরের সীমা ছাড়িয়ে নীল আকাশের মতো অসীম।
আমাদের হয়তো পূর্ণতা পেতে আরও অনেকটা পথ হাঁটতে হবে, অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। তবু বিশ্বাস রাখি এই ধীর, মন্থর প্রেমই একদিন আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠবে। তাই জানতে চাই, আপনি কি এই অপেক্ষার মধ্যে লুকিয়ে থাকা আমাদের ভালোবাসার গভীরতাকে ধরে রাখবেন? যতদিন না আমাদের আকাশ এক হয়।”

​চিঠিটা পড়া শেষ করে সৌমিক জানালার পাশে এসে দাঁড়াল। বাইরে তখন ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাপিয়ে শুরু হয়েছে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। ঝাপসা কাঁচের ওপারে মফস্বল শহরের টিমটিমে ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ভিজে ওঠা রাস্তাটাকে আজ বড় বেশি মায়াবী লাগছে। তার মনে হলো, ক্যাসেটের রিলগুলো এখন হয়তো হৈমন্তীর টেপরেকর্ডারে ঘুরছে। এক নম্বর গানের সুরটা যখন তার কানে পৌঁছাবে, সে কি বুঝবে সেই সুরের ভাঁজে কতটা ব্যাকুলতা লুকিয়ে ছিল?

​সেই রাতে চিঠির পাতায় কলম ছোঁয়ালো সৌমিক। আবেগের ভারে অক্ষরগুলোও যেন একটু কাঁপছিল । সে লিখল, 

“হৈমন্তী, অপেক্ষা যদি তোমার পাঠানো এই চিঠির মতো সুন্দর হয়, তবে আমি অনন্তকাল এই মন্থর সময়ের বালুচরে দাঁড়িয়ে থাকতে রাজি। প্রাপ্তি আমাদের ভাগ্যে থাকুক বা না থাকুক, তোমার দেওয়া এই লাল খাম আর শুকিয়ে যাওয়া বকুল ফুলের ঘ্রাণটাই আমার জীবনের সবচেয়ে দামী উপহার হয়ে থাকবে। তাই আমি কথা দিচ্ছি, আমাদের আকাশ এক না হওয়া পর্যন্ত আমি এই অসীম নীলিমার পাহারাদার হয়েই থাকব।”

​নব্বই দশকের প্রেমগুলো এমনই ছিল—সহজে ছোঁয়া যেত না বলেই তার পবিত্রতা ছিল আকাশের মতো বিশাল। সেখানে কোনো ইনস্ট্যান্ট মেসেজ ছিল না, ছিল মাসের পর মাস অপেক্ষার প্রহর গোনা। নীল খাম আর অডিও ক্যাসেটের আড়ালে এক জোড়া হৃদয়ের সেই নীরব প্রতিশ্রুতি মফস্বল শহরের গলি ছাড়িয়ে অসীম নীলিমায় মিশে রইল। পূর্ণতা হয়তো সবার কপালে জোটে না, কিন্তু সেই শ্রাবণী বিকেলের ভেজা হাওয়া আর বকুল ফুলের গন্ধ সৌমিকের ধূসর জীবনে এক চিরস্থায়ী বসন্তের ছাপ রেখে গেল। সময় বদলে যাবে, শহরটা হয়তো একদিন ইট-পাথরের জঙ্গল হবে, কিন্তু ওই বাঁশবাগানের মায়া আর লাল খামের শব্দগুলো তার বুকের বাঁ-পাশে ঠিকই স্পন্দিত হতে থাকবে।

                                  ~সমাপ্ত~</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/241422/</link>
				<pubDate>Sat, 28 Mar 2026 10:58:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner">
<p>অনুগল্প &#8212; খামবন্দি মফস্বল<br />
লেখনীতে &#8211; অনন্যা_অরী ( ছদ্মবেশী )</p>
<p>সাল ১৯৯৬</p>
<p>নব্বই দশকের মফস্বল শহরগুলো ছিল অদ্ভুত শান্ত। বিকেলের আকাশ জুড়ে কেবল মেঘেদের খেলা, আর বাতাসে ভেসে আসা দূরের কোনো বাড়ির রেডিওতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুর। সেই শহরে সৌমিক ছিল এক মগ্ন যুবক, যার পৃথিবীটা আটকে ছিল লাইব্রেরির বইয়ের তাক আর মোড়ের মাথার ক্যাসেটের দোকানে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-241422"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/241422/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c9bb0a1c5b219c517a55bfcd6c7ed161</guid>
				<title>অনন্যা অরী ( ছদ্মবেশী ) changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/241040/</link>
				<pubDate>Thu, 26 Mar 2026 15:31:08 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>