Profile Photo

Shahed BiplobOffline

  • shahedbiplob
  • Profile picture of Shahed Biplob

    Shahed Biplob

    2 months, 3 weeks ago

    কুসুমপুর
    সাহেদ বিপ্লব

    কুসুমের মত গ্রাম কিন্তু মানুষগুলো মোটেই কুসুমের মত নয়। সারাদিন মারামারি নিয়ে থাকে। তবু কে যে এই গ্রামের নাম কুসুমপুর রেখে ছিলো তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। সারাদিন ফুসফাস আলাপ করে। নদীতে কবে চর ভাসবে, কে কার আগে দখল নেবে এইসব। প্রতি বারেই দুই চারজন লোক খুন হয় চর দখল নিয়ে।
    তারপরও থেমে নেই। এইসব নিয়ে থানায় ছুটাছুটি তবু কি তারা থামে? যার টাকা বেশি সেই জিতে আসে।
    সামাদ আলী সারাদিন এইসব নিয়েই থাকে। দশ ছেলে তার। দুই চেয়ারম্যান তাকে নিয়ে টানাটানি। মারামারি করতে হলে লাঠি দরকার। তাই চেয়ারম্যান বেশি টাকা দিয়ে তার দশ ছেলেকে কিনে নেয়। এই টাকা পেয়ে আনন্দে দিন কাটে তার। সারাদিন চায়ের দোকানে গল্প, চা খায় দশ বার কাপ আর সিগারেট তো আছেই। বাজার থেকে বড় বড় মাছ কিনে আনে।
    তরকারির ঘ্রাণে দুই চার বাড়ির মানুষ ঘরে থাকা দায়। বিয়ে করেছে বেশ কিছু বড় বৌ ছাড়া সবাই টা-টা দিয়ে চলে গেছে। বড় বৌ টা-টা দিতে চেয়েছে অনেক বার কিন্তু পারেনি ছেলেগুলোর মুখের দিকে চেয়ে।
    প্রতিদিনের মত সামাদ আলী বারান্দায় বসে পায়ের উপর পা রেখে সিগারেট টানছে। গ্রামের দুই চারজন লোক এসেছে। এরা প্রতিদিন আসে কি সব গল্প করে আর মাঝে মাঝে শব্দ করে হেসে দেয় সবাই মিলে।

    ইদ্রিস আলীর এ সবের দিকে তেমন খেয়াল নেই। সে আছে তার তালে। গ্রামের সব মানুষ চর দখল নিয়ে মেতে থাকে আর তার আছে সারাদিন কাজ আর কাজ।
    ইদ্রিস আলী সামাদ আলীর ছোট ভাই। বাবা মারা যাওয়ার সাথে সাথে সামাদ আলী বিয়ে করে দুই দিন যেতে না যেতেই দশ বছরের ইদ্রিস আলীকে বলে দিল, তুমি তোমার মত কাজ করে খাও। আমি আর তোমাকে খাওয়াতে পারব না।
    বাবার যেটুকু জমি ছিলো ফাঁকি দিয়ে সামাদ আলী তার নিজের নামে লিখে নিয়েছে।
    গ্রামের মানুষ যখন বলল, দশ বছরের ছেলেকে যখন তুমি ভাত কাপড় দেবে না, তখন বাবার জমি সমান ভাগে ভাগ করে দাও।
    তখন সামাদ আলী ঘর থেকে দলিল বের করে এনে দেখিয়ে বলল, বাবা তাকে সব জমি খুশি হয়ে দিয়ে গেছে। এই দলিল দেখে গ্রামের মানুষের বুঝতে আর বাকি থাকলো না এ সব সামাদ আলীর চালাকি। তার বাবা এমন মানুষ ছিল না। সব জমি তার বড় ছেলেকে দিয়ে যাবে।
    তারপর থেকে দুই মুঠো ভাতের জন্য দশ বছরের ইদ্রিস আলীকে মানুষের দোয়ারে কাজের সন্ধানে যেতে হয়।

    সামাদ আলী ইদ্রিস আলীকে ডেকে বলল, তুমি তো কাজ করে করে মরে যাবে। ছেলেটাকে ঢাকা থেকে নিয়ে আসো দুই বাপ বেটা কাজ করলে প্রতিদিন ছয়শত টাকা আসবে তাতে ভালো ভাবে সংসার চলে যাবে। আর একদিন তুমি কাজ না করতে পারলে তোমার ছেলে কাজ করে সংসার চালিয়ে নেবে। এমন কি কিছু কিছু টাকা জমা রেখে প্রতি বছর জমিও রাখতে পারবে। আমরা গরিব মানুষ আমাদের ছেলেদের লেখাপড়া করা সাজে ? পড়ালেখা ধনী মানুষের কাজ।
    ভাইয়ের কথা শুনে ইদ্রিস আলী বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো, তারপর বলল, গরিব মানুষে লেখাপড়া করতে পারেনা এমন নিয়ম কি আছে ? আমি তো আপনার মত আমার ছেলেকে গরু বানাতে পারি না।
    ছোট ভাইয়ের কথা শুনে সামাদ আলী হেসে দিয়ে বলল, তোমরা শুনেছ আমার পাগল ভাইয়ের কথা। আমার ছেলেরা বলে গরু।
    তা নয় তো কি, রাগের সাথে কথাগুলো বলল ইদ্রিস আলী।
    না-না আমার ছেলেগুলো গরু না। বাঘের বাচ্চা। বরং তোমার ছেলে গরুর বাচ্চা। আমার দশ ছেলে প্রতিদিন তিন হাজার টাকা আয় করে ঘরে ফেরে আর তোমার ছেলে গরুর মত বসে বসে খায়। এক টাকা আয় করার মুরোদ নেই। আমার দশ লাঠি আছে গ্রামের মানুষ আমাকে দেখে ভয় পাই। আর তোমার ?
    খুব রাগের স্বরে ইদ্রিস আলী বলল, আপনি আপনার মত থাকুন আর আমি আমার মত থাকি। বলেই রাগতে রাগতে চলে গেলো তার কাজে। কাজ না করলে তার চলবে কীভাবে তার উপর ভর করে ছেলেটা ঢাকাতে পড়ালেখা করে।

    ইদ্রিস আলী খেয়ে না খেয়ে ছেলের জন্য টাকা গুছিয়ে রাখে তারপর একদিন ঢাকাতে গিয়ে ছেলের হাতে দিয়ে আসে।
    মানুয়ের বাড়ি কাজ করে যা পায় তা দিয়ে চলে না তাই বাড়িতে কলা গাছ, আম গাছ, সুপারি গাছ লাগিয়ে ছেলের জন্য বাড়তি টাকার যোগান দেয়।
    ইদ্রিস আলীর বৌ ছেলেটা জন্ম দিয়েই চলে গেছে পরপারে। ছেলেটাকে মানুষের মত মানুষ করতে গিয়ে একবারও নিজের সুখের দিকে তাকায় নি। গ্রামের অনেকেই বলেছে ইদ্রিস আলী একা একা আর কত দিন। এবার একটা বিয়ে করো। বৌ তো বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পাড়ি জমালো পরপারে। ছেলেটাকে জন্ম দিতে গিয়ে।
    ইদ্রিস আলী মানুষের কথায় কান না দিয়ে সারাদিন পড়ে থাকে কাজ নিয়ে। যাতে তার ছেলেটাকে তিনশ টাকার কামলা না হতে হয়। আমাদের দেশের মানুষগুলো এখনও বোকার স্বর্গে বাস করে। একবারও চোখ তুলে দেখে না পৃথিবীর অন্য দেশের মানুষ কীভাবে এগিয়ে যায় সামনের দিকে লেখাপড়া শিখে। আর আমাদের দেশের মানুষ পড়ে আছে বিয়ে আর সন্তান জন্ম দেওয়া নিয়ে।
    একদিন কি হবে এই জাতির ভাগ্যে, বলেই একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো।
    এক মুঠো ভাত দিতে পারে না মুখে। দেখবে তার ঘরে বৌ চারটা ছেলে মেয়ে কুড়ি- কুড়ি। একটাকে তো মানুষ বানাতে পারে না। জন্ম দেয় এক কুড়ি। হয় সব গরু আর ছাগল। এরাই বেঁচে থাকার তাগিদে একদিন হয় সন্ত্রাসী।
    মানুষ কুলে জন্ম নেয়াটা আসল জন্ম নয়। আসল জন্ম হল লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হওয়া। এই কথাটা আমাদের জাতি কবে বুঝবে তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।
    আমরা বড় লোভী জাতি। দেশটাকে চেটে খেয়ে খেয়ে তলাবিহীন ঝুঁড়ি বানিয়ে দিয়েছি অনেক আগেই। তবু থেমে নেই। আর কেউ যদি ভালো কাজ করে, তাকে কীভাবে থামিয়ে দেবে এই চিন্তা। আমরা সময়ের মূল্য দিতে জানি না। তাই আমরা এতো পিছনে।
    সারাদিন চায়ের দোকানে গল্প করে কিন্তু সময়ের কাজ সময় মত করলে এই দেশ আরও এগিয়ে যেতো। আমরা বাবু সেজে বসে থাকি। আমাদের কাজ আমরা করতে পারি না। ইদ্রিস আলী মাঝে মাঝে এইসব কথা ভাবে।
    ইদ্রিস আলী আজ কলা, সুপারি আর মানুষের বাড়ি থেকে কাজ করে যে টাকা গুছিয়ে ছিলো তা নিয়ে ঢাকার দিকে পা বাড়িয়েছে ছেলেকে দিতে। এক সময় ঢাকাতে গিয়ে ছেলের হাতে টাকাগুলো দিয়ে বলল, বাবা আমি অনেক কষ্ট করে প্রতি মাসে তোমার জন্য টাকা যোগার করে নিয়ে আসি, যাতে তুমি মানুষের মত মানুষ হতে পারো। লেখাপড়া ছাড়া কোন জাতি বড় হতে পারে না।
    ছেলেটা ইদ্রিস আলীকে সালাম করতে করতে বলল, বাবা তুমি আমার জন্য দোয়া কর। আমি যেন তোমার কাজের মূল্য দিতে পারি।
    সব বাবা মা তার সন্তানের জন্য দোয়া করে কিন্তু দোয়া করলে তো হবে না। তোমাকে তো চেষ্টা করতে হবে ?
    আমি তো চেষ্টা করে যাচ্ছি বাবা।
    তোমার উপর সে বিশ্বাস আমার আছে। মাথায় হাত দিয়ে আদর করে ফিরে এলো গ্রামে। ছেলেটা বেশ কিছু পথ এগিয়ে দিয়ে গেলো ইদ্রিস আলীকে।
    এদিকে সামাদ আলীর বড় ছেলেটা কার এক মেয়ের সাথে প্রেম করে বিয়ে করে ঘর জামাই হয়ে গেছে আর কুসুমপুর আসে না।
    এবার মেঝ ছেলেটাও বিয়ের জন্য পাগল। ঠিক মত কাজ করে না। কার এক মেয়ের পিছনে পিছনে ঘোরে।
    সামাদ আলীর কি আর করা। তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে নিয়ে এলো ছেলেকে। এ ছাড়া কি-ই বা করার ছিলো তার।

    কিছুদিন যেতে না যেতেই, নতুন বৌকে নিয়ে আলাদা হয়ে গেলো। সামাদ আলী আপত্তি করলে ছেলে তার মুখের উপর বলে দিলো, আমি মাত্র প্রতিদিন তিনশ টাকা আয় করি। এই তিনশ টাকা দিয়ে আমার সংসার চলে না। তোমাদের দেবো কীভাবে। তোমার আরও ছেলে আছে না! এতো দিন কাজ করে যা আয় করেছি তোমাকে দিয়েছি। এখন আর পারবো না।
    সামাদ আলী কি আর করবে মুখ কালো করে ফিরে এলো। তা ছাড়া কি-ই বা করার ছিলো তার।

    ইদ্রিস আলীর ছেলেটা অর্থনীতিতে ভালো রেজাল্ট করাতে সরকার তাকে অর্থনীতিতে ডিগ্রি নেওয়ার জন্য বিদেশে পাঠিয়ে দেয় এবং বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে দেশে আসতে না আসতেই সরকার তাকে অর্থ মন্ত্রনালয়ের সরকারি আমলা পদে নিয়োগ দিলো।

    ইদ্রিস আলীর এখন খুশির সীমা নেই। তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আজ সফল। তার ছেলে আজ মানুষ হয়েছে। এই মানুষ করার জন্যই দিনের পর দিন, রাতের পর রাত মানুষের বাড়িতে কাজ করে ছেলেকে পড়িয়েছে।

    একদিন বিকাল বেলায় ইদ্রিস আলীর ছেলেটা গ্রামের বাড়িতে এসে ইদ্রিস আলীকে নিয়ে গেলো সাথে করে ঢাকাতে। এরপর থেকে ইদ্রিস আলীর আর গ্রামে ফেরা হয়নি।
    ছেলেটা অফিস থেকে ফিরে ইদ্রিস আলীর কাছে কাছে থাকে। বিকাল হলে ইদ্রিস আলীকে নিয়ে বড় বড় হোটেলে যায়।

    একদিন ইদ্রিস আলী বলল, বাবা তুমি আমাকে এতো বড় বড় জায়গাতে নিয়ে আসো কেন ? ইদ্রিস আলীর কথা শুনে ছেলে তার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, বাবা আমার জন্য তো জীবনে অনেক কষ্ট করেছো। জীবনে তো ভালো কিছু মুখে দেওনি, ভালো জায়গাতে যেতে পারোনি। আমার মুখের দিকে চেয়ে মায়ের মৃত্যুর পর বিয়ে পর্যন্ত করোনি। তোমার তুলনা তুমিই বাবা। তোমার সাথে কারো তুলনা হয় না। বলেই শব্দ করে কেঁদে দিলো।
    ইদ্রিস আলী ছেলেটার মাথার হাত বুলিয়ে আদর করে বলল, পাগল ছেলে আমার। এইভাবে কেউ কাঁদে না-কি ? মানুষ কি ভাববে বলো তো। তুমি কি এখন ছোট আছো। কত বড় হয়ে গেছো।
    ইদ্রিস আলীর কথা শুনে ছেলেটা লজ্জায় তাড়াতাড়ি চোখ মুছে নিল। তারপর হোটেলের বিল মিটিয়ে দিয়ে বেরিয়ে এল।
    সামাদ আলীর দশ ছেলে এক, এক করে বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেল। একবারও কেউ ফিরে তাকাল না সামাদ আলীর দিকে।
    সামাদ আলী ছেলেগুলোকে ডেকে বলল, তোমরা পেয়েছ কি? আমি এখন বুড়ো বয়সে কোথায় যাব। কি খাব। তোমরা আমাকে খাওয়াবে না ?
    এক ছেলে বলল, আমি কি তোমার একা ছেলে। আরও ছেলে আছে না ? তাদের খাবার দিতে বল আর আমার সংসারিত চলে না। তোমাকে খাবার দেব কীভাবে।
    সামাদ আলী কান্না ভরা মুখে বলল, এই কি তোমাদের শেষ কথা?
    শেষ কথা নয় তো কি। এত দিন কাজ করে যা আয় করেছি তা তোমার হাতে দিয়েছি। তখন তোমার ইচ্ছা মত খরচ করেছ। এখন আমাদের সংসার আছে।
    এখন সামাদ আলী কি আর করবে। সব ছেলেগুলো যখন মুখের উপর বলে দিল তখন মুখটা কালো করে ফিরে এল।
    বয়স মোটামুটি খারাপ হয়নি সামাদ আলীর। ছেলেগুলো জন্ম গ্রহণ করার আগে পর্যন্ত কাজ করেছে কিন্তু ছেলেগুলো বড় হয়ে যাবার সাথে সাথে হাত পা ধুয়ে উঠে গেছে। আর কোনদিন কাজ করতে যায়নি। এখন কি করবে লজ্জায় মানুষের বাড়িতে কাজ করতে পারে না তাই জমি বিক্রি করে করে খায়।

    সামাদ আলী এখন আর আগের মত শক্তি পায় না। সারাদিন চিন্তায় থাকে কীভাবে চলবে তার জীবন। যে সব মানুষ তার কাছে আসত তারা আর এদিকে আসে না। পরিচিত মুখগুলো দিন দিন অপরিচিত হয়ে যাচ্ছে। যে চেয়ারম্যান বিচার আচারে ডাকত এখন আর ডাকে না সামাদ আলীকে।
    এখন তার দশ ছেলে তার কথা শোনে না। লাঠির জোর নেই তার। জমিগুলো বিক্রি করে খেয়েছে। এখন তাও নেই কীভাবে চলবে? শরীরে এখন তেমন শক্তি নেই যে কাজ করে খাবে। দুই তিন দিন না খেয়ে পড়ে রইল ঘরে। কোন ছেলে উঁকি দিয়েও দেখেনি এদিকে। খিদের জ্বালায় থাকতে না পেরে ধীরে ধীরে বের হলো ঘর থেকে। তারপর কুসুমপুর থেকে পাঁচ ছয় গ্রাম দূরে গিয়ে ভিক্ষা করে বেশ রাতে ফিরে আসে বাড়িতে। যাতে গ্রামের মানুষ না দেখে তাকে। ঘরের দরজায় টোকা দিতেই—
    বৌ দরজা খুলে সামাদ আলীকে দেখে অবাক হয়ে বলল, কোথায় গিয়েছিলে এত রাত করে ফিরলে যে?
    ও—কথা পড়ে শুনো, আগে চাউলগুলো পাক করে নিয়ে এসো। আমি খিদের জ্বালায় দাঁড়াতে পারছি না।
    কথা না বাড়িয়ে চাউলগুলো পাতিলে নিতে গিয়ে দেখে চাউলগুলো ছোট বড় সাদা কালো, বুঝতে আর বাকি রইল না তার স্বামী যে ভিক্ষা করে চাউল এনেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই কিন্তু কোন প্রশ্ন না করে চাউলগুলো নিয়ে পাকের ঘরে গিয়ে তাড়াতাড়ি পাক করে এনে প্লেটে ভাত ঢেলে দিল। এতো তাড়াতাড়ি সামাদ আলীকে ভাতগুলো খেতে দেখে চোখের পানি ছেড়ে দিল। মনে মনে ভাবছে যে মানুষ ভাল ভাল খাবার ছাড়া খায়নি আজ লবণ আর মরিচ দিয়ে কীভাবে ভাতগুলো খাচ্ছে।

    ইদ্রিস আলীর ছেলেটা মার্কেট থেকে ইদ্রিস আলীর জন্য বেশ কিছু কাপড় নিয়ে বাসায় ফিরে এসে বাবাকে বলল, বাবা গ্রামের কোন খবর রাখ ?
    কেন, কি হয়েছে ?
    বড় কাকা না—কি এখন ভিক্ষা করে বেড়ায়। এক ছেলেও না—কি তাকে খাবার দেয় না, একটু থেমে আবার বলল, বাবা তুমি যদি বল তাহলে বড় কাকাকে নিয়ে আসি।
    একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল, ছেলেগুলো জন্ম দিল কিন্তু মানুষ করতে পারল না। ঠিক আছে নিয়ে আয় বলে চোখ মুছতে মুছতে অন্য রুমে চলে গেল ইদ্রিস আলী।

    পরের দিন বড় কাকাকে নিয়ে ফিরে এলো ঢাকাতে।
    সামাদ আলী বাসায় ঢুকেই ইদ্রিস আলীর হাত ধরে কেঁদে দিয়ে বলল, জীবন যুদ্ধে আমি হেরে গেলাম। এতোগুলো গরুর পাল জন্ম দিলাম কিন্তু তোমার মত একটা ছেলে জন্ম দিয়ে লেখাপড়া শেখালে আমার কপাল আজ এমন হতো না।
    ইদ্রিস আলী, সামাদ আলীর শরীরে হাত দিয়ে সান্ত্বনা দিতে দিতে বলল, এত চিন্তা কিসের আমরা তো আছি। ইদ্রিস আলীর কথা শুনে সামাদ আলী ইদ্রিস আলীকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল।

    2
    2 Comments
    • সমাজের প্রতি আপনার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণগুলো সত্যিই প্রশংসনীয়

Skip to toolbar