<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | শাওন আহমাদ কাদির | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/shawon15/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/shawon15/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for শাওন আহমাদ কাদির.</description>
	<lastBuildDate>Thu, 10 Sep 2026 12:57:19 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">10171e53ddc2e9093b6983eb31909966</guid>
				<title>খুড়িয়ে হাঁটা সেই ছেলেটি


বাবা-মা কখনো ছায়াদার বটবৃক্ষ, কখনো আঘাতের বিপরীতে ঢাল, নিকষ আঁধারে আলোর মশাল, বিষাদে স্বস্তির নিঃশ্বাস, বিপদে পরম আশ্রয়, আবার কখনো-বা শত্রুর বিপক্ষে মহাপ্রলয়। বাবা-মায়ের হাতে অদ্ভুত এক ক্ষমতা রয়েছে। কথাটিকে অদ্ভুত না বলে অলৌকিক বলাটা বোধ হয় যথাযথ হবে। তারা এই অলৌকিক ক্ষমতা বলে সন্তানের জন্য প্রায় সবকিছুই জয় করে ফেলতে পারেন; যমদূতের দ্বার থেকে ছিনিয়ে আনতে পারেন প্রাণ। 

যখন পুরো পৃথিবী মুখ ফিরিয়ে নেয়, দুধের মাছি ধরনের মানুষগুলো গা-ঢাকা দেয়; তখনো বাবা-মায়েরা ছায়া হয়ে মায়ায় জড়িয়ে রাখে, আত্মবিশ্বাস জাগায় বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখায়। এই মানুষগুলোর সমতুল্য তো দূরের কথা, কার্বন কপিও সারা ভুবনজুড়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

আমাদের ঠিক পাশের বাসায় মধ্যবয়স্ক এক ভদ্রমহিলা ও ভদ্রলোক থাকেন। অফিস ফেরার পথে, বাসার সামনের রাস্তায় প্রায়ই তাদের সঙ্গে দেখা হয় আমার। আসলে তারা রোজ সন্ধ্যায় তাদের ২০-২২ বছরের ছেলেকে হাঁটতে শেখাতে বের হন। পাখি যেমন তার ছানাদের একটু একটু করে উড়তে শেখায়, বাবা-মা যেমন তার ছোট্ট শিশুটিকে এক-পা দু-পা করে হাঁটতে শেখায়; ঠিক সেই আঙ্গিকে তারা তাদের ছেলেকে হাঁটার কৌশল শেখায়।

কী, শুনে খুব অবাক লাগছে? ভাবছেন, এত বড় ছেলেকে আবার হাঁটার কৌশল শেখানোর কী আছে? প্রথম যেদিন তাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল, আমিও বেশ অবাক হয়ে খানিকটা সময় তাকিয়ে ছিলাম। আন্দাজ করার চেষ্টা করছিলাম, দৃশ্যের পেছনের ঘটনা ঠিক কী হতে পারে!

সেদিন আমার আন্দাজের তির খুব গভীরে প্রবেশ করতে না পারলেও এটা ঠিক বুঝতে পারছিলাম, যে মানুষ দুটি ছেলেটিকে হাঁটতে শেখাচ্ছেন, তারা বাবা-মা ছাড়া আর কেউ হতেই পারেন না। তাদের চোখেমুখে আমি ইচ্ছেশক্তির যে আগ্নেয়গিরি দেখেছি, তা অকস্মাৎ নিভে যাওয়ার মতো নয়; বরং জয় করার নেশায় টগবগ করে ফুটছে। একমাত্র বাবা-মা’ই তার সন্তানকে জিতিয়ে দেওয়ার জন্য এমন মরিয়া হয়ে উঠতে পারেন, সমুদ্রের অতল গহ্বর থেকে ছিনিয়ে আনতে পারেন প্রাণভোমরা।

যেহেতু প্রায়ই তাদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, এই দেখা হওয়ার সুবাদে তাদের পেছনের গল্প জানার প্রবল আগ্রহ জন্ম নেয় আমার। কিন্তু কোনোভাবেই জানার সুযোগ হচ্ছিল না; অন্ততপক্ষে তাদের থেকে তো নয়ই। রাস্তা দিয়ে চলার সময় তারা এতটাই হন্তদন্ত থাকেন, পাশ ফিরে তাকানোর ফুরসত হয় না। এমতাবস্থায় তাদের দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন করা সমীচীন মনে হয়নি। কিন্তু ভেতরে জানার আগ্রহটা সুপ্তই থেকে গেল; তাদের সঙ্গে দেখা হলেই তা নড়েচড়ে ওঠে।

আমি বিপরীত পন্থা খুঁজতে শুরু করলাম এবং একটি মাধ্যম পেয়েও গেলাম। সেখানে কথা বলে জানতে পারলাম, ছেলেটি প্রায় দুই বছর আগে পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের বাড়ি গিয়েছিল এবং সেখানে গিয়ে বাইক দুর্ঘটনায় এই নিদারুণ অবস্থায় পতিত হয় এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

জানলাম, আমার আন্দাজ ঠিকই আছে; রোজ সন্ধ্যায় যে ভদ্রলোক-ভদ্রমহিলা ছেলেটিকে নিয়ে হাঁটতে বের হন, তারা ছেলেটির বাবা-মা। অবশ্য এখানে আন্দাজের কোনো কৃতিত্ব নেই; পৃথিবীতে এমন কিছু স্বচ্ছ জিনিস আছে, যাতে চোখ পড়লেই ভেতর-বাহিরের বার্তা পাওয়া যায়।
সেই মাধ্যমে কথা বলে আরও জানতে পারলাম, ছেলেটির অবস্থা আরও করুণ ছিল। দিন দিন বাবা-মার অক্লান্ত পরিশ্রম, ভালোবাসা আর আল্লাহর রহমতে সে এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।

ছেলেটিকে স্বাভাবিক করে তুলতে কত সাধ-আহ্লাদ বিসর্জন দিতে হচ্ছে, কত রাত না ঘুমিয়ে কাটাতে হচ্ছে, কত হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হচ্ছে—তার হিসেবে মনে হয় না-ফুরানো রাতের মতোই দীর্ঘ। আমি তো কেবল কয়েকটি সন্ধ্যার সাক্ষী হয়েছি মাত্র। এরকম অনেক সন্ধ্যা-বিকেল, ভোর-রাত আছে, যার সাক্ষী তারা ছাড়া আর কেউ নেই। অবশ্য এসব হিসেব কষায় তাদের কোনো আকুলতা নেই। তারা কেবল ছেলেটিকে স্বাভাবিক দেখার অপেক্ষায় দিন গুণে যাচ্ছেন; দিন গুণে যাচ্ছেন দীর্ঘ তিমির রাত শেষে একটি আলোরাঙা নতুন ভোরের অপেক্ষায়…

তারা হাঁটার সময় আরেকটি বিষয় খেয়াল করেছি, ভদ্রলোক আর তার ছেলে সমানতালে হেঁটে গেলেও ভদ্রমহিলা তালে ঠিক পেরে উঠেন না; হাঁপাতে হাঁপাতে তাদের খানিকটা পেছনে পেছনে হাঁটেন। ভদ্রলোক পেছন ফিরে তাকে বাসায় ফিরতে বললেও তিনি ফেরেন না, ওভাবেই হাঁটতে থাকেন। এই হচ্ছে মা! ফুটফুটে কলিজার টুকরো নাড়িছেঁড়া ধনকে রেখে বাসায় ফিরতে চান না। অথচ এই মানুষগুলোকে যদি নিজেদের অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠার জন্য এভাবে মেহনত করতে বলা হতো, তারা কখনোই এমন একাগ্রতার সাথে তা করতেন না—যেমনটা ছেলের জন্য করছেন।

মানুষগুলো শিশু অবস্থায় ছেলেটিকে যে আগ্রহ, ধৈর্য, মায়া আর ভালোবাসায় বড় করে তুলেছেন; এতটুকু আঁচ লাগতে দেননি, এই বয়সেও ঠিক সেভাবেই আগলে রাখছেন। বাবা-মায়ের কাছে সন্তানেরা বড় হয়ে যায় না। বাবা-মা সন্তানদের সক্ষম-অক্ষম, ভালো-মন্দ, ফর্সা-কালোর মাপকাঠিতেও মাপেন না। তাদের কাছে সন্তানের পরিচয় কেবলই সন্তান, সাত রাজার ধন।

অথচ আমরা সন্তানেরা একটা সময় গিয়ে সব বেমালুম ভুলে যাই!
যারা আমাদের এতগুলো বছর সকল আঘাত থেকে আড়াল করে বুকে আগলে রাখেন, তাদের বুকেই আঘাত করে দূরে সরে যাই। বাবা-মা সন্তানদের যে অকৃত্রিম ভালোবাসায় জড়িয়ে রাখে, তার একভাগ যদি সন্তানেরা বাসে—তাহলে পৃথিবীতে বৃদ্ধাশ্রম বলে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। টিভি পর্দায় কিংবা নিউজের পাতায় বাবা-মা সন্তানের দ্বারা নিপীড়নের শিকার—এমন নিউজও চোখে পড়বে না। বাবা-মা যে আঙ্গিকে সন্তানকে ভালোবাসেন, সেই ভালোবাসার বিশুদ্ধ বাতাসে পৃথিবীর প্রতিটি সন্তান মহামারির মতো আক্রান্ত হোক। পৃথিবী ছেয়ে যাক ভালোবাসা আর শান্তির দূর্বাঘাসে…</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/212703/</link>
				<pubDate>Fri, 19 Apr 2024 18:28:05 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>খুড়িয়ে হাঁটা সেই ছেলেটি</p>
<p>বাবা-মা কখনো ছায়াদার বটবৃক্ষ, কখনো আঘাতের বিপরীতে ঢাল, নিকষ আঁধারে আলোর মশাল, বিষাদে স্বস্তির নিঃশ্বাস, বিপদে পরম আশ্রয়, আবার কখনো-বা শত্রুর বিপক্ষে মহাপ্রলয়। বাবা-মায়ের হাতে অদ্ভুত এক ক্ষমতা রয়েছে। কথাটিকে অদ্ভুত না বলে অলৌকিক বলাটা বোধ হয় যথাযথ হবে। তারা এই অলৌকিক ক্ষমতা বলে সন্তানের জন্য প্রায় সবকিছুই জয় কর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-212703"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/212703/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f35449e3604d82a29b06217cff988ded</guid>
				<title>তোমার অপেক্ষায়...

তোমার অপেক্ষায় থেকে থেকে আমার শরীর ও মনে শ্যাওলা জমেছে,
স্যাঁতসেঁতে একটা গন্ধকে আঁকড়ে ধরে,
দিনের পর দিন পাড় করে চলেছি আমি।
কত আগন্তুক এসে
আমার এ শ্যাওলা পরা দেহ-মনকে ঘষেমেজে 
ব্যাপার উপযোগী করে তুলতে চেয়েছে, 
দিতে চেয়েছে তোমাকে ভালোসার অভিশাপ থেকে আমরণ মুক্তি, 
প্রতীক্ষার পলকহীন চোখে আঁকতে চেয়েছে হাজারও রঙিন স্বপ্ন, 
বারংবার ভাসাতে চেয়েছে প্রেমের বানে।
কিন্তু আমি তাদের অবলীলায় ফিরিয়ে দিয়েছি,
তোমার ফেলে যাওয়া বাক্স বাক্স স্মৃতি আগলে-
মনের ঘরে তালা এঁটে,দেখিয়ে দিয়েছি সদরদরজা।
ওরা না জানুক আমি তো জানি, 
এই শ্যাওলাগুলো আমার কত প্রিয়! 
কত বর্ষা তোমার অপেক্ষায় থেকে থেকে কত যত্নে এগুলো জমিয়েছি আমি, 
কত ভালোবাসায় আগলে রেখেছি নিজের করে।
তুমি না জানো আমিই তো জানি, 
কেবল মাত্র তোমার স্পর্শেই এ শ্যাওলা গুলো ফুল হয়ে ফুটতে পারে, 
বসতে পারে শরীর জুড়ে প্রজাপতির মেলা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/205149/</link>
				<pubDate>Tue, 19 Sep 2023 05:29:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>তোমার অপেক্ষায়&#8230;</p>
<p>তোমার অপেক্ষায় থেকে থেকে আমার শরীর ও মনে শ্যাওলা জমেছে,<br />
স্যাঁতসেঁতে একটা গন্ধকে আঁকড়ে ধরে,<br />
দিনের পর দিন পাড় করে চলেছি আমি।<br />
কত আগন্তুক এসে<br />
আমার এ শ্যাওলা পরা দেহ-মনকে ঘষেমেজে<br />
ব্যাপার উপযোগী করে তুলতে চেয়েছে,<br />
দিতে চেয়েছে তোমাকে ভালোসার অভিশাপ থেকে আমরণ মুক্তি,<br />
প্রতীক্ষার পলকহীন চোখে আঁকতে চেয়েছে হাজারও রঙিন স্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-205149"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/205149/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8421d6fd2a5e180281be03f99bc79e38</guid>
				<title>তবু ভালোলাগা ভালোবাসা এক নয়!

মানুষ কখনোই মানুষ কে ভালোবাসতে পারেনা; কারণ দিনশেষে মানুষ কেবলমাত্র নিজেকেই ভালোবাসে, সময়ে সময়ে মানুষ মানুষের প্রেমে পড়ে কিন্তু সেটা ভালোবাসা নয়।প্রেম হচ্ছে চোখের বিভ্রম যা, কিছু সময়ের জন্য মানুষের মনে বিপরীত ব্যাক্তির প্রতি আলোড়ন সৃষ্টি করে, ঘোর কেটে গেলেই আবার নতুন কোনো ঘোরের দিকে পা বাড়ায়।

মানুষ আসলে মানুষ কে অন্বেষণ করতে ভালোবাসে, এটা একটা নেশা বলা যেতে পারে। যখন একটা মানুষ আরেকটা মানুষ কে উল্টেপাল্টে জেনে ফেলে, নতুন করে আর কিছুই জানার থাকেনা, যখন সকল কথারা ফুরিয়ে যায় নতুন করে আর কিছুই বলার থাকেনা তখন মানুষ আবার নতুন করে নতুন কিছুকে জানতে পা বাড়ায়।

আমি আমার কলেজ ভার্সিটি লাইফে খুব করে চাইতাম আমরা নিজের একটা মানুষ থাকুন, যার পুরোটাই আমার।
যাকে আমি শতবার ভেঙ্গে, হাজার বার নিজের মতো করে গড়ব। যার ভেতর-বাহির সমস্ত জায়গায় আমার অবাধ বিচরণ থাকবে। তার পুরো শরীর হবে আমার ক্যানভাস; কখনো আমি আমার আঙুলের ডগায় সেই ক্যানভাসে ভালোবাসার আল্পনা আঁকব, আবার কখনো ডুব দিয়ে ঘুরে আসবো গহীনের গভীর থেকে।

কিন্তু এসব আমার ভাবনার খাঁচাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছে, এর বাইরে এসে ডানামেলে উড়তে পারেনি কখনো। আমি  বন্ধু মহল বা পরিচিতজনের গভীর সম্পর্ক দেখে যেমন ভালোবাসাকে কাছে পেতে চাইতাম, দুদিন পরে সেই গভীর সম্পর্কের কাদা ছোড়াছুড়ি দেখে তেমন তার থেকে পালিয়েও বেড়াতাম।

আমি অবাক হয়ে ভাবতাম, এইতো দুদিন আগেও দুইজন মানুষ কেউ কাউকে ছাড়া নিজকে কল্পনা করতে পারত না, কখন খেলো, কখন ঘুমালো, কোথায় গেলো, কার সাথে গেলো, কি রঙের কাপড় পড়লো, কিভাবে দিনমান কাটালো সহ মোট কথা দৈনন্দিন জীবনের সবকিছুই একে অন্যের জানার বিষয় ছিলো অথচ কিছু সময়ের ব্যবধানে কিভাবে সব আমূলে পাল্টে ঘৃণায় রুপ নিলো! কিভাবে দুটি মানুষ তাদের পথ দুদিকে বাঁকিয়ে নিলো সকল সুখ-স্মৃতি ভুলে! কিছু সময়ের ব্যবধানে দুজন মানুষ ভিন্ন দুটি মানুষও জুটিয়ে নিলো নিজেদের নতুন করে ভাগ করে নিতে।

আমি যারপরনাই ইমোশনাল মানুষ, যেখানে আমি আমার বাসায় দুদিনের জন্য কোনো আত্মীয় এসে চলে গেলে তার জন্য বিষাদে মুখ ভারী করে রাখতাম দিন কয়েক সেখানে একটা মানুষের সাথে এভাবে মিলেমিশে একাকার হয়ে আচানক তার চলে যাওয়ায় আর যাইহোক নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার শক্তি যে আমার ছিলোনা; তা আমি ঢের বুঝতে পেরেছিলাম সাথে এটাও বুঝতে পেরেছিলাম কারো হাত ধরে অনেকটা পথ একসাথে পাড়ি দেওয়ার পর সেই হাত অকস্মাৎ ছুটে গেলে সেখান থেকে একা আর পিছনেও ফিরবার শক্তিও আমার নেই। তাই নানা ইঙ্গিত আর প্রস্তাবনা পেলেও আমি তার থেকে দূরে থেকেছি সর্বদা। এভাবেই আমার কলেজ ও ভার্সিটি লাইফ শেষ হয়েছে।

কিন্তু বিপত্তি বাঁধল এসে বুড়ো বয়সে। মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ এর মধ্যে শুরু হলো লকডাউনের সাথে বন্দী জীবন। দিনমান আতঙ্ক আর জেলখানার কয়েদিদের মতো কাটাতে হচ্ছে সময়। সেইসময় একদিন আমার এক ফ্রেন্ডের সাথে কথা হচ্ছিলো,  আমার দিন কাটে তো রাত কাটেনা টাইপ অবস্থা দেখে সে বললো, চাইলে তুই একজনের সাথে কথা বলে সময় পাড় করতে পারিস। আমার খুব পরিচিত এবং আমার মনে হয় তোরা ভালো থাকবি। ওর চিন্তাচেতনাও তোর মতো এবং মাঝেমধ্যে আমার এটাও মনে হয় তোরা একে অন্যের জন্যে পারফেক্ট। আমি এর আগেও তোকে বলতে চেয়েছি কিন্তু তোর আগ্রহ নেই বলে বলা হয়নি। আমি ফেসবুক আইডি দিচ্ছি কথা বলে দেখ কেমন লাগে। সে ম্যাসেঞ্জারে আইডি লিংক দিলো, লিংক ওপেন করে দেখি এমা! সেতো আমার লিস্টে আগে থেকেই আছে, ভাবলাম একটা টেক্সট করি, টেক্সট করতে গিয়ে আরেক ধাক্কা খেলাম; দেখছি বছর তিনেক আগে সে আমাকে, কেমন আছেন লিখে টেক্সট করে রেখেছে তার উত্তর করা হয়নি। টেক্সটের রিপ্লাই দিলাম, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন? কিছুক্ষণ পর ওপাশ থেকে উত্তর এলো, এতো বছর পর আপনার সময় হলো টেক্সট এর উত্তর দেওয়ার? আমি একটু রসিকতা করে উত্তর দিলাম, সময় কে সুন্দর করে তুলতে ব্যস্ততাকে ছুটি দিলাম। ওপাশ থেকে উত্তর এলো, আরোও আগে ব্যস্ততাকে ছুটি দিলে বিগত বছর গুলোতেও হয়তো আমরা সুন্দর কিছু সময়ের অংশীদার হতাম।

কিছুদিন চ্যাটিং এর পরে নাম্বার আদান-প্রদান হলো, তারপর শিডিউল মেনে ননস্টপ যাত্রা শুরু করলো আমাদের কথার রেলগাড়ি। নিজেদের কথা, পরিবারের কথা, ভালোলাগা-মন্দলাগার কথা, মন খারাপের কথা, মন ভালোর কথা সহ দুনিয়ার এমন কোনো কথা নেই যা আমাদের কথার টপিকে থাকতো না। একে অন্যের মাথায় বিলি কেটে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া, খাবার খাইয়ে দেওয়া, একে অন্যের সেই লেভেলের কেয়ার নেওয়া, এসব কিছুই ফোনকলে হতো। এমন অবস্থা হয়েছিলো একটা সময়, সে আমার একটা হাঁচির শব্দ শুনলেও তার হার্ট অ্যাটাক হবার যোগড় হতো। আমার অসুস্থতায় দিনরাত এক করে খবর রাখতো, সুস্থ না হওয়া অবধী আমার চিন্তায় বিচলিত হয়ে থাকতো।

খুব ভালোই সময় পাড় করছিলাম আমরা, এরপর লকডাউনের অবসান হলো। আমরা আমাদের ব্যস্তময় জীবনে পা রাখতে শুরু করলাম। এরপর থেকেই সবকিছু কেমন যেনো পালটে যেতে শুরু করলো। সে আর আগের মতো টেক্সট করেনা, কলও দেয় না। আমিই নিজ থেকে টেক্সট করি, কল করি , কথা বলি। আমি বুঝতে পারছিলাম তার আগ্রহ কমে গেছে আমার প্রতি; তবুও মন কে পজিটিভ কিছু বুঝিয়ে টাচে থাকার ট্রাই করতাম। এসবের মধ্যেই তার একটা প্রাইভেট ব্যাংকে জব হলো, তখন থেকে তার প্রায় লাপাত্তা হবার অবস্থা। আমিও নিজ থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলাম। তার পরিবর্তনে দিনমান ভেতরে যে করুণ সুর বাজছিলো তা আর দীর্ঘায়ীত করতে চাইনি আসলে। তাকে আমি তার মতো ছেড়ে দিলাম, সেও নিরুদ্দেশ হলো।

এখনো আমার শরীর জুড়ে ব্যামোদের মেলা বসে, এখনো বিষাদে আমার মনের আকাশ কালো গম্ভীর হয়; কিন্তু বছর পেরুলেও তার আর কোনো খবর পাওয়া যায় না। যে মানুষ টার আমার হাঁচির শব্দে হার্ট অ্যাটাক হবার জোগাড় হতো, সে এখন আমি অসুস্থ হয়ে দিনের পর দিন বিছানায় পড়ে থাকলেও টের পায় না। এইতো কয়েকদিন আগে আমি জ্বরে টানা ১০ দিনের মতো বিছানায় পড়েছিলাম। এরমধ্যে একদিন সকালবেলা দেখি রাতে সেই মানুষটি আমাকে বার কয়েক কল করেছিলেন কিন্তু জ্বরের ঘোরে টের পাইনি। আমি কল ব্যাক দিলাম, কল রিসিভ হবার পর রাতে কল রিসিভ না করার কারণ জানতে চাইলে, বললাম আমার জ্বর ছিলো ১০৪ তাই বুঝতে পারিনি। এই কথা শুনে সে জাস্ট ওহ টাইপের উচ্চারণ করলেন, যেনো আমার তেমন কিছুই হয়নি। টুকটাক কথা হবার পর ফোন রেখে দিলাম। এরপর আর সে একটি বারের জন্যেও কল করে আমার খব নেয়নি যে আমরা অবস্থা কেমন, বা আমি সুস্থ হয়েছি কিনা। আমর ভাবতে ভীষণ অবাক লাগে এই মানুষটাই কী আমার জন্য এতো ব্যাকুল ছিলো নাকি অন্য কেউ? এর উত্তর আমার কাছে নেই। তবে যে উত্তর টা আমার কাছে আছে তা হলো ঘোর কেটে গেলে সব কেটে যায়। আমি এই ঘোর কে ভয় করি, আমি এই ঘোর কে ঘৃণাও করি।

তার পরিবর্তনে প্রথম প্রথম অনেক যন্ত্রণা হয়েছে আমার, বিষাদের পেয়ালায় ডুবিয়ে রাতের ঘুমেরাও পালিয়েছিলো আমাকে রেখে। ক্ষণে ক্ষণে তার তার জন্য বুকের বাঁপাশে টাটিয়ে উঠতো, ব্যথায় আমি কুঁকড়ে যেতে থাকতাম কিন্তু তার সাথে আর যোগাযোগ করিনি ইভেন আমি চাইওনি সে আবার আমাকে ধ্বংস করেতে ফিরে আসুক। আমি এখন ঢের ভালো আছি, দিনে বারকয়েক নিজের প্রেমে পড়ি, নিজেতে মুগ্ধ হই; আর আত্মিক প্রশান্তি পাই।

ছবিঃ গুগল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/205061/</link>
				<pubDate>Sun, 17 Sep 2023 07:51:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>তবু ভালোলাগা ভালোবাসা এক নয়!</p>
<p>মানুষ কখনোই মানুষ কে ভালোবাসতে পারেনা; কারণ দিনশেষে মানুষ কেবলমাত্র নিজেকেই ভালোবাসে, সময়ে সময়ে মানুষ মানুষের প্রেমে পড়ে কিন্তু সেটা ভালোবাসা নয়।প্রেম হচ্ছে চোখের বিভ্রম যা, কিছু সময়ের জন্য মানুষের মনে বিপরীত ব্যাক্তির প্রতি আলোড়ন সৃষ্টি করে, ঘোর কেটে গেলেই আবার নতুন কোনো ঘোরের দিকে পা বাড়ায়।</p>
<p>মানুষ আসলে মানুষ কে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-205061"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/205061/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">24494e5fa0f5aaa8fb1366f27490de7d</guid>
				<title>অসুস্থ মস্তিষ্ক নিয়ে বেড়ে উঠছে আগামী প্রজন্ম!

বর্তমান প্রজন্ম ঠিক কোথায় যাচ্ছে এটা নিয়ে আমি ভীষণ চিন্তিত, এটা এখন শুধুই চিন্তার বিষয় নয় সমাধানের বিষয় হয়েও দাঁড়িয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে বিকৃত মনোভাব আর মস্তিষ্ক নিয়ে বেড়ে উঠবে আমাদের প্রজন্ম, ফলশ্রুতিতে নৈতিক অবক্ষয় আর অপরাধে ছেয়ে যাবে পুরো জাতি। আমি আমার প্রত্যক্ষ করা ও মিডিয়া-পত্রিকায় প্রকাশ করা কিছু ঘটনা শেয়ার করছি ব্লগে।

ঘটনাঃ

১. কয়েকদিন আগে দেখলাম ফেসবুকে একটা ভিডিও সেই লেভেলের ভাইরাল হয়েছে, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একজন মেয়ে তার অন্তর্বাসের ফিতা কেটে এনে বয়ফ্রেন্ডের হাতে পরিয়ে দিচ্ছে, শুধু সেই মেয়েই নয় আরও অনেক মেয়েই এই কাজ করছে তাও সেটা কোনো এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে। এটাই নাকি ট্রেন্ড চলছে, এই কাজ না করলে নাকি প্রেমিক সমাজে মুখ দেখানো যাচ্ছেনা।

২. একবার আমার এক মেয়ে কাজিন আমাকে বলছিলো; ওরা বান্ধবীরা নাকি একজন আরেকজন কে জিজ্ঞেস করে, দোস্ত কয়টা পোলা খাইলি? একটা সময় ছেলেরা এই বিকৃত কাজে প্রতিযোগিতা করতো, এখন মেয়েরাও এতে পিছিয়ে নেই। রাস্তায় কয়েকজন মেয়ে একসাথে থাকলে ছেলেদের দেখলে ব্যাড কল দেয় ইভেন মাল ও বলে! এটাই এখন ট্রেন্ড।

৩। আমার ভাতিজা ক্লাস থ্রীতে পড়ে, একদিন সন্ধ্যাবেলা ওর মা ওকে পড়াতে বসিয়েছে, কোনো একটা কাজে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। খেয়াল করলাম আমার ভাতিজা তার মিডল ফিঙ্গার দেখিয়ে তার মাকে জিজ্ঞেস করছে এটার মানে কী? ভাবী পুরাই থ হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ভাতিজাকে জিজ্ঞেস করলাম এটা কোথায় পেলে? সে বলে তার এক ফ্রেন্ড নাকি কাকে এটা দেখিয়ে ফাঁক বলছে! বুঝুন অবস্থা! ক্লাস থ্রীর একটা বাচ্চা সে মিডল ফিঙ্গার দেখিয়ে অন্যকে ফাঁক বলা শিখে গেছে। অথচ এই বয়েসে আমি আলাদা জেন্ডারই চিনতাম বলে মনে হয় না।

৪। গত পরশু একটা নিউজ দেখলাম, ষাটঊর্ধ্ব এক মহিলা মেয়ের জামাইয়ের জন্য গরুর মাংস নিয়ে মেয়ের বাড়ি গিয়েছেন, মেয়ের জামাইকে খাওয়াবেন বলে। রাতে সেই মেয়ের জামাই শ্বাশুড়িকে প্রেশারের ওষুধ বলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে রাতভর ধর্ষণ করেছে! সেই মহিলা মিডিয়ার সামনে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, আমি নিজের ছেলেরে মতো যাকে মনে করতাম সেই আজ আমাকে এই কলঙ্ক দিলো।

৫। পাশাপাশি প্রতিবেশী দুই পরিবারে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো, এর মধ্যে এক প্রতিবেশী পরিবার আরেক পরিবারকে বলেছিলো তোদের আমরা এমন কলঙ্ক দিবো যা সারা জীবনেও মুছবেনা। যেই কথা সেই কাজ, যে পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছিলো সেই পরিবারে একজন বিধবা বৃদ্ধা ছিলেন তার ছেলেদের সাথেই মূলত জমি নিয়ে বিরোধ হচ্ছিলো হুমকি দেওয়া প্রতিবেশী পরিবারের ছেলেদের। একদিন রাতে হুমকি দেওয়া পরিবারের ১৬-১৭ বছরের এক ছেলে এসে ভিকটিম পরিবারের বৃদ্ধার ঘরের জানালা ভেঙ্গে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে রক্তাক্ত করে, সেই বৃদ্ধা নাকি ছেলেটাকে বারবার বলছিলেন তুই আমার নাতীর বয়সী তুই এই কাজ করিস না আমার সাথে, আমি বৃদ্ধ মানুষ আমাকে ছেড়ে দে কিন্তু সেই নরপিশাচ সেই কথা না শুনে মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে এমন নির্মম ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন সেই বৃদ্ধা।

৬। ক্লাস ফাইভের কয়েকজন ছেলে মিলে সিনেমার মতো কায়দায় একটি মেয়েকে ধরে ধর্ষণ করেছে। জানতে চাইলে বলা হয়েছে তারা মুভি দেখে এসব শিখেছে। এখন মুভি থেকে শুরু করে শিশুতোষ অনেক কার্টুন আছে যেখানে ভালোবাসা, চুম্মাচাটি দেখানো হয়।

৭। বাসায় আমার এক ভাতিজী খেলার ছলে গোসল করছে, যে গোসল করছে সে অন্য ভাতিজীকে বলছে লুকিয়ে লুকিয়ে তার গোসল দেখতে। বাসা থেকে বলা হল, এটা আবার কেমন খেলা? তার উত্তরে বললো তারা টিভিতে দেখেছে একজন বাথরুমে গোসল করছে অন্যজন লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে। তাই তারা এভাবে খেলছে।

৮। আমার ভাতিজার যখন টিচার আসে তখন আর পড়া রেডি করা ব্যাতীত বাকি সকল সময় মোবাইল না হয় টিভিতে মুখ গুজে থাকে, এই সময় দুনিয়া উলটে গেলেও তাকে সেখান থেকে ইচ্ছেমতো মাইর দেওয়া ব্যাতীত উঠানো যায় না। হয়ও তাই, প্রতিদিন মাইর পড়ে পিঠে। যখন নেট লাইন বা বিদ্যুৎ থাকেনা তখন কিন্তু সে আবার ঠিকি নানান রকমের ইনডোর খেয়ার ব্যস্ত থাকে।

৯। আমার ফুপু ভীষণ অসুস্থ, কোমড়ের ব্যথায় বিছানা থেকে মুভ করতে পারছেন না, সারা রাত না ঘুমিয়ে একাধারে বসে রাত কাটিয়েছেন, পাশে ফুপা বসে ছিলেন। ভোরবেলায় আমাকে ফোন করলেন বাসায় গিয়ে দেখি ফুপু কান্না করেই যাচ্ছেন, ঈদের রাত বলে ডাক্তারের ব্যবস্থাও করা যায়নি এতো রাতে। বাসায় গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম মিরাজ কোই? ফুপু বলে সারা রাত নেট ব্রাউজ করে এখন পড়ে পড়ে ঘুমচ্ছে, মনে মনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম এ কেমন ছেলে! মায়ের এমন অবস্থায় কারো ঘুম আসে? আমি দৌড়ে গিয়ে ডাক্তার নিয়ে এলাম। খবর পেয়ে বাসায় অনেকেই এসেছেন, ভালোই কথাবার্তা হচ্ছে, ডাক্তার ট্রিটমেন্ট করে চলে গেলেন। ফুপুর আদুরে ছেলে তখনও গুমচ্ছে! 

১০। আমার আরেক কাজিন হোস্টেলে থেকে বড় হয়েছে, বাবার অঢেল টাকা। হোস্টেল থাকা অবস্থায় ইচ্ছেমতো টাকা উড়িয়েছে, এখনো উড়াচ্ছে। এই ছেলের বাবা-মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রতি তার কোনো মায়া নেই। সে তার জগতে চলে, তার মতো করে। শুধুমাত্র টাকার প্রয়োজন হলে বাবা মায়ের সাথে কথা বলে টাকা নেয়, এর বাইরে আর কোনো কথা বলেনা। অথচ ওর মা-বাবা খুব করে ওর সান্নিধ্য চায় কিন্তু পায় না।

১১। আমার এক পরিচিত মহিলার ছেলে, বয়স খুব বেশী হলে ১৩-১৪ সেই ছেলে নাকি দিনরাত পর্ণ মুভিতে বুঁদ হয়ে থাকে। কিছুদিন আগে আমার এক কাজিনের মা আমাকে তার ছেলের সম্পর্কে বিচার দিলো, বললো তার ছেলেও নাকি খারপ ছবি দেখে, সে এটা আন্দাজ করতে পেরেছেন এবং বিছানায় বার কয়েক স্পার্ম ও পড়ে থাকতে দেখেছেন কন্ডম সহ। আমার এই কাজিনের বয়স ও খুব বেশি না, আমার চেয়ে ৯ বছরের ছোট হবে। এই হচ্ছে অবস্থা! তার বসয়ে আমি বন্ধুদের মুখে উল্টাপাল্টা কিছু শুনলেও মুখ ঘুরিয়ে রাখতাম

১২। তথাকথিত টিকটক সেলিব্রিটির সাথে টিকটক করতে গিয়ে মেয়ে টিকটকার গ্যাং রেপ হচ্ছে, সেই ভিডিও ধারণ করে তাদের ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে ভারতের পতিতালয়ে।

১৩। যে ওয়েতে তাপ দিয়ে টিশার্টে স্টিকার বসানো হয়, সেই ওয়েতে ঠোঁটে রঙ মেখে ,কোনো এক বিশেষ কাগজে সেই রঙ মাখা ঠোঁটে ইচ্ছেমতো চুমিয়ে সেই ঠোঁটের ছাপ তাপ দিয়ে টিশার্টের বুকে লাগিয়ে বয়ফ্রেন্ডদের উপহার দেওয়া হচ্ছে। এটা না করলেও নাকি প্রিমিক সমজে আর সম্মান থাকছেনা প্রেমিকের।

এরকম আরও অনেক ঘটনা আছে যা লিখে শেষ করা যাবেনা। আমাদের সকল পরিবারের দায়িত্ব আধুনিকতার নামে আমাদের পরিবারের বাচ্চারা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে এবং কাদের সাথে মেলামেশা করছে খোঁজ রাখা। সময়ের স্রোতে গাঁ ভাসিয়ে স্বধীনতা দেবার নামে আমাদের বাচ্চাদের জীবন কে ধ্বংস করে দিচ্ছি কি না সে বিষয়েও আমাদের খেয়াল রাখা উচিৎ, পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তারা ঠিক কী করছে সে বিষয়েও নজর রাখা উচিৎ। যদি আমরা সবকিছু এভাবে লাগামহীন ভাবে ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকি তাহলে সত্যিই আমাদের খুব বাজে কিছুর অম্মুখীন হতে হবে এবং তা খুব শীঘ্রই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/204940/</link>
				<pubDate>Thu, 14 Sep 2023 05:38:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অসুস্থ মস্তিষ্ক নিয়ে বেড়ে উঠছে আগামী প্রজন্ম!</p>
<p>বর্তমান প্রজন্ম ঠিক কোথায় যাচ্ছে এটা নিয়ে আমি ভীষণ চিন্তিত, এটা এখন শুধুই চিন্তার বিষয় নয় সমাধানের বিষয় হয়েও দাঁড়িয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে বিকৃত মনোভাব আর মস্তিষ্ক নিয়ে বেড়ে উঠবে আমাদের প্রজন্ম, ফলশ্রুতিতে নৈতিক অবক্ষয় আর অপরাধে ছেয়ে যাবে পুরো জাতি। আমি আমার প্রত্যক্ষ করা ও মিডিয়া-পত্রিকায় প&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-204940"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/204940/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3b18e7157302c89496812dea85e477ce</guid>
				<title>ঈদ এবং আমাদের নানাবাড়ি ভ্রমণ

আমাদের বাড়ি থেকে আমাদের নানাবাড়ির দূরত্ব বেশি হওয়ায়, বছরে দুইবার মানে দুই ঈদে আমারা কেবল আমাদের নানাবাড়ি যেতাম। অবশ্য আমাদের পড়া-লেখার জীবন শুরু হবার আগে বছরের প্রায় অনেকটা সময় আমরা নানাবাড়িতেই কাটিয়ে দিতাম; তবে পড়া-লেখার জীবন শুরু হবার পর, বছরের দুই ঈদ-ই ছিলো আমাদের নানাবাড়ি যাবার একমাত্র উছিলা।

আমার মামা-খালা আর নানা-নানি   এই ব্যাপারে শতভাগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত হয়ে বসে থাকতেন যে, হয় আমরা ঈদের দিন কিংবা ঈদের পরদিন সকালের মধ্যেই তাদের উঠানে পা রাখবো। হতোও তাই, হয় আমরা ঈদের দিন কিংবা ঈদের পরদিন সকালবেলা নানাবাড়ির উঠানে গিয়ে হাজির হতাম।

প্রত্যেক ঈদের সাথে আমাদের নানাবাড়ি যাবার আনন্দ যুক্ত হয়ে, ঈদের আনন্দ কে ঢের থেকে ঢের বাড়িয়ে তুলতো। ঈদের মাঠ থেকে বাড়িতে এসে অপেক্ষা করতে থাকতাম; আব্বা কখন ডেকে বলেন, &#039;এই তোমরা তৈরি হও, আমরা এখন তোমাদের নানাবাড়ি যাব। যখনই এই শব্দগুচ্ছ কানে আসতো, আমরা ভাইয়েরা হুড়মুড় করে নিজেদের তৈরি করতে শশব্যস্ত হয়ে যেতাম।

এরপর আমরা মুড়ির টিন কিসিমে’র বাসে চড়ে রওনা করতাম নানাবাড়ির পথে। পিচ উঠে যাওয়া গর্তে ভরা রাস্তায়; আমাদের বাস লাফিয়ে লাফিয়ে ছুটে চলতো আমাদের নিয়ে। আমারা ঝাঁকি খেতে-খেতে আর জানালা দিয়ে গাছেদের ছুটে চলা দেখতে-দেখতে, নানাবাড়ির পথে এগিয়ে চলতাম। একটা সময় আমাদের শরীর বাসের ঝাঁকি নামক অত্যাচারের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করতো, ফলশ্রুতিতে আমরা ওয়াক! ওয়াক! বমি বিসর্জন করে ক্লান্ত হয়ে, বাসের সিটে আমাদের শরীর এলিয়ে দিতাম। একটা সময় আমাদের ক্লান্ত আর বিধ্বস্ত শরীর নিয়ে, বাস নানাবাড়ির স্ট্যান্ডে পৌঁছাতো।

আমরা হেলেদুলে বাস থেকে নেমে; সেই এলাকার জাতীয় যানবাহন ভ্যানগাড়িতে চেপে, পা দুলিয়ে দুলিয়ে নানাবাড়ি গিয়ে পৌঁছাতাম। নানাবাড়িতে পা রাখা মাত্রই কোথা থেকে মৌমাছির ঝাঁকের মতো মামা-খালারা এসে, যে যার মতো আমাদের বাজপাখির মতো ছোঁ মেরে কোলে তুলে নিতেন। এদিকে আমাদের দেখে; তনু-মন অস্থির করে, দিনমান বেড়ার ফাঁকে, কিংবা ধুলোমাখা পথের পানে, আমাদের প্রতীক্ষায় চেয়ে থাকা নানীর আঁখি-যুগল প্রশান্তির পলক ফেলতো।

নানীর হাতের সব রকমের খাবার&#039;ই আমাদের কাছে স্পেশাল ছিলো। আমদের আগমের আগেই নানী মানুষ দিয়ে গাছের কলা পেড়ে মাটির কোলায় জাগিয়ে রাখতেন, সাথে থাকতো নানীর হাতের ভাজা গরম গরম খৈ। নানী মাটির চুলায় খৈ ভাজার আয়োজন করতেন; আর আমরা চুলার পাশে পিঁড়ি পেতে বসে, বিষ্ময় নিয়ে খৈ ভাজা দেখতাম। উনুন জ্বালিয়ে তার উপর মাটির পাত্র চাপিয়ে বালি গরম করা হতো; বালি যথাযথ গরম হয়ে গেলে, সেই বালির মধ্যে রোদে শুকিয়ে রাখা সোনা বর্ণের ধান দিয়ে নাড়াচাড়া করতেই ধান গুলো লাফিয়ে লাফিয়ে খৈ হয়ে যেতো। কি যে চোখ ধাঁধানো ছিলো সেই দৃশ্য! কলা দিয়ে খৈ আমার কাছে অমৃতের মতো লাগতো; বিশেষ করে আমি আর আমার ছোট ভাই বেতে বোনা ছোট পাত্রে কলা ও মুড়ি নিয়ে সারা বাড়ি হেঁটে হেঁটে খেতাম। নানীর হাতের মেরা পিঠার স্বাদও ঘোর লাগলো ছিলো। নানী সিদ্ধ মেরা পিঠা ঠান্ডা করে মাটির চুলায় পুড়িয়ে দিতেন আমাদের, আমরা সেই গরম গরম মেরা পিঠা ফুঁ দিয়ে দিয়ে খেতাম। পিঠার শরীর দিয়ে অদ্ভুত একটা পোড়া গন্ধ আসতো, এই পড়া গন্ধ পিঠার স্বাদ আরও বাড়িয়ে দিতো।

নানাদের একান্নবর্তী পরিবার ছিলো। মাঝখানে উঠান আর উঠানের পাশ দিয়ে নানার ঘর সহ নানার অন্যান্য ভাইদের ঘরও ছিলো। সকল ভাইয়ের আবার বেশকিছু করে সন্তান-সন্ততিও ছিলো। সবাই আমাদের মামা-খালা ছিলেন। আমরা সবাই মিলে পুরো বাড়িটাকে ঈদের কয়েকদিন হৈ-হুল্লোড় আর উৎসবের আখড়া বানিয়ে রাখতাম। দিনমান দৌড়-ঝাঁপ এমনকি রাতের চাঁদের আলোতেও বিভিন্ন রকমের খেলায় মেতে উঠতাম। চলতো নাচ-গান, গল্প-কবিতা আর হা-হা হি-হির বহর।

দেখতে দেখতে চোখের পলকেই আনন্দের দিনগুলো শেষ হয়ে যেতো, বেজে উঠতো আমাদের বিদায়ের ঘন্টা। বুকের ভেতর টা হু হু করতো চলে আসার কথা শুনে, খুব করে চাইতাম যদি আরও কিছুদিন থেকে যাওয়া যেতো; কিন্তু আমাদের চাওয়ারা পূর্ণতা পেতো না। মাঝেমধ্যে আমারা না আসার জন্য এদিক সেদিক লুকিয়ে থাকতাম, কখনো কখনো  কাজের চাপ থাকলে আব্বা আমাদের রেখেই চলে আসতেন; কিন্তু কাজের চাপ না থাকলে আমাদের খুঁজে বের করে সঙ্গে করেই নিয়ে আসতেন।

আমাদের আসার দিন নানীর মনের আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যেতো, যা তার মুখ দেখে সহজেই উপলব্ধি করা যেতো। তিনি আমাদের চলে আসার কথা শুনেই নাওয়া-খাওয়া শিকেয় তুলে দিতেন, তার সাথে আমরাও নাওয়া -খাওয়া শিকেয় তুলে দিতাম। বিদায় বেলায় নানী আঁচলে মুখ ঢেকে, আমাদের পিছনে পিছনে এসে প্রধান সড়ক পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে যেতেন। তিনি আঁচলে মুখ ঢেকে রাখলেও আঁখি যুগলের ঘোর বর্ষা ঢেকে রাখতে পারতেন না। একটা সময় ঠিকই বাচ্চাদের মতো ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠতেন। নানীর সঙ্গে মা সমেত আমরাও কাঁদতাম। বাসে উঠে মন খারাপ করে জানালা দিয়ে তাকিয়ে নানাবাড়ির স্মৃতি মনে করতাম। বাড়িতে আসার পরেও বেশকিছুদিন সময় লেগে যেতো মন ভালো হতে। একটা সময় সব স্বাভাবিক হয়ে যেতো, আমরা আবার আরও একটি ঈদের স্বপ্ন দেখতাম; উছিলা খুঁজতাম নানাবাড়ি যাবার।

এখন আর নানাবাড়ির সেই চিরচেনা গন্ধ নেই, নেই আর আগের সেই আমেজ। নানা-নানী&#039;রা ইহকালের পাঠ চুকিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন পরকালের জগতে। খালারাও বিয়ের পাঠ চুকিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাদের নিজস্ব সংসার জগতে, কত বছর হয়েগেছে অনেকের সাথেই আর দেখা হয় না! একান্নবর্তী পরিবার প্রথা ভেঙ্গে, সবার নিজস্ব বাড়ির আলাদা দেয়াল উঠেছে। এখন চাইলেই আর এক উঠান মাড়িয়ে সবার বাড়ি যাওয়া যায় না। সবাই হয়তো এখন একা একা থাকতেই ভালোবাসেন। আধুনিকতার মোড়কে নিজদের মোড়াতে ব্যস্ত হওয়া মানুষ গুলো কখন যে সবার থেকে একা হয়ে গেছেন টেরই পাননি। আধুনিকতা আর জীবনের দৌড়ে, দৌড়াতে দৌড়াতে আমরাও হারিয়ে ফেলেছি নানাবাড়ি, মায়া আর বন্ধন। ভালো থাকুক আমাদের নীল ছেলেবেলা, সযত্নে গাঁথা থাকুক আমাদের স্মৃতির মালা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/199742/</link>
				<pubDate>Wed, 26 Apr 2023 08:23:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ঈদ এবং আমাদের নানাবাড়ি ভ্রমণ</p>
<p>আমাদের বাড়ি থেকে আমাদের নানাবাড়ির দূরত্ব বেশি হওয়ায়, বছরে দুইবার মানে দুই ঈদে আমারা কেবল আমাদের নানাবাড়ি যেতাম। অবশ্য আমাদের পড়া-লেখার জীবন শুরু হবার আগে বছরের প্রায় অনেকটা সময় আমরা নানাবাড়িতেই কাটিয়ে দিতাম; তবে পড়া-লেখার জীবন শুরু হবার পর, বছরের দুই ঈদ-ই ছিলো আমাদের নানাবাড়ি যাবার একমাত্র উছিলা।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-199742"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/199742/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">40ad22d126ae099d378802b063769c2e</guid>
				<title>গাছ আমার আত্মার আত্মীয় 

সেই শৈশব থেকেই আমি অদ্ভুত রকমের গাছ প্রেমী একজন মানুষ। অবশ্য কথাটি গাছ প্রেমী না বলে গাছ পাগল বললেও আমার প্রতি খুব একটা অবিচার করা হবে বলে আমার মনে হয় না।গাছের সঙ্গে কোথাও আমার এক অদৃশ্য সুতোর মায়ার বাঁধন রয়েছে। যে মায়ার টান আমি প্রতিটি মুহুর্তে অনুভব করতে পারি। এই গাছ প্রেমের জন্য পাড়ায় আমার বেশ বদনামও আছে। পাড়ার অনেকেই পাগল বলে আখ্যায়িত করেছেন আমাকে। অবশ্য এসব তথাকথিত সুনাম-বদনাম নিয়ে আমার মাথা ব্যথা ছিলোনা কখনোই আর এখনো নেই।

মনে পড়ে ছোটবেলায় যখন আমরা বাচ্চারা খেলার ছলে নিজদের বাড়ি বানাতাম তখন আমার বন্ধুরা ইটের টুকরো, পাটকাঠি এসব দিয়ে বাড়ি বানালেও আমি তাদের উল্টো পথে হেঁটে এদিক সেদিক খুঁজে শিকড়সমেত রঙবেরঙের বুনো গাছ আর লতাপাতা নিয়ে এসে সেগুলো পুঁতে পুঁতে বাড়ি বানাতাম। পানি ঢেলে সেই গাছ গুলো কে জীবন্ত করার মধ্য দিয়ে আমার বাড়িটাকেও জীবন্ত বাড়ি করে তুলতাম। আমি সেখানে গিয়ে একা শুয়ে-বসে থাকতাম, বই পড়তাম। সে এক অন্যরকম ভালো লাগা যা লিখে প্রকাশ করার মতো শব্দ আমার ঝুলিতে নেই।

একটা সময় আমার রুমেও অনেক গাছের আনাগোনা ছিলো। আমার পড়ার টেবিল, বুক শেল্ফ, ওয়্যারড্রপ, ড্রেসিং টেবিল, জানালার ধার এইসব জায়গায় তারা সংসার পেতে বসেছিলো। আমি নিয়ম করে তাদের গা ধুয়ে দিতাম, পানি ঢালতাম, রাতবিরেতে তাদের সঙ্গে গল্প করতাম। আমার একাকীত্ব দূর করার একমাত্র মাধ্যম ছিলো গাছেরা। শুনে নিশ্চয়ই আপনারাও আমাকে পাগল ভাবতে শুরু করেছেন? হয়তো ভাবছেন গাছের সঙ্গে আবার কথা বলা যায় নাকি? কিন্তু বিশ্বাস করুন অবাস্তব হলেও সত্য যে আমি গাছের সঙ্গে এখনো কথা বলি। আমার মনে হয় ওরা আমাদের ভালোবাসা বুঝতে পারে, আমাদের শুনতেও পারে। যদি এসব নাই হতো তাহলে ওদের সঙ্গে থেকে, কথা বলে আমার এতো শান্তি লাগে কেনো? আমি জানি আমার মতো অনেকেই আছেন যারা গাছের সঙ্গে কথা বলেন তাদের ভালোবাসা বুঝতে পারেন।

আমি বাসায় লাল শাপলা লাগাই, পদ্ম লাগাই, কচুরিপানা লাগাই। গাছ নিয়ে আমার এমন আদিখ্যেতা দেখে আমার রিলেটিভসরা মুখ টিপে হাসে আর ভাবে ছেলেটার সত্যি সত্যিই মাথাটা গেছে না হলে কি কেউ আর টবে এসব জলজ গাছ দিয়ে মশার চাষ করে? অবশ্য এসব
কানে তোলার পাত্র আমি নোই। যাতে আমার শান্তি মিলে আমি তাই করি অবশ্য তা যদি অন্যের ক্ষতির কারণ না হয় তবেই। গাছ লাগালে আর যাইহোক মানুষের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা যে জিরো পার্সেন্টও না তা আমরা সবাই জানি। আমার ভাতিজা আমাকে মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন গাছের পাতা,ফুল ও ফল এনে দিয়ে জিজ্ঞেস করে, আচ্ছা কাকা এটা কি গাছ? ওর ধারণা আমি সব রকমের গাছের নাম জানি। যখন ফুল-পাতা দেখে ওকে গাছের নাম জানিয়ে দেই ও শুনেই বলে উঠে আমি জানতাম তুমি পারবে, তাই আমি না চিনতে পেরে তোমাকে দেখানোর জন্য নিয়ে এসেছি। আমার এক ফ্রেন্ড আছে জার্মান থাকে। সে আমার গাছের প্রতি পাগলামো দেখে বিভিন্ন জায়গায় ট্যুর করে আমার জন্য ফুল,প্রকৃতি আর গাছের ভিডিও ও ছবি পাঠায়।এসব দেখে আমার অদ্ভুত রকমের ভালোলাগা কাজ করে।

এক একটা গাছ আমার কাছে এক একটা ভালো বন্ধুর মতো। যারা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে জানে। তবে প্রবীণ গাছ গুলোর প্রতি আমার আলাদা একটা ভালোবাসা আর কৌতূহল কাজ করে। প্রবীণ গাছ গুলোর শরীর ছুঁতে ছুঁতে মনে হয় এই গাছ গুলো কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া কতশত সুখ-দুঃখের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কত সকাল, কত ক্লান্ত দুপুর আর সন্ধ্যার গল্প বুকে পুষে রেখেছে। গাছের যদি মানুষের মতো কথা বলার ক্ষমতা থাকতো। তাহলে তারাও আমাদের নানী-দাদীদের মতো গল্পের ঝুলি খুলে বসতো আর আমরাও এইসব গাছেদের চারপাশে গোল হয়ে বসে ইতিহাসের গল্প শুনতাম।

গাছপালা ধ্বংস করে স্থাপনা সুন্দর করার পক্ষে আমি নোই। বরং আমি তাদের পক্ষে যারা গাছপালা বাঁচিয়ে স্থাপনা কে সুন্দর করে তুলে। আমাদের একটা খেজুর বাগান ছিলো। যে বাগানের প্রতিটি গাছ আমার দাদার নানার হাতে লাগানো। এই বাগানে আমার দাদা থেকে শুরু করে আমাদের, ইভেন আমাদের পাড়ার অনেক মানুষের অনেক সোনালী স্মৃতি জড়িয়ে আছে। খেজুরের মৌসুমে কাক ডাকা ভোরে খেজুর কুড়ানো ছিলো আমাদের দিন শুরুর প্রথম কাজ। আমরা পাড়ার ছেলে-মেয়েরা প্রতিযোগিতা করে খেজুর কুড়াতাম।বাগানে যে আগে যেতে পারতো তার দখলে থাকতো সবচেয়ে বেশি খেজুর। আর অন্যদের কপালে জুটতো পাখির আধখাওয়া খেজুর। অবশ্য সেই সময় সেটাও অমৃত ছিলো আমাদের কাছে। আমারা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতাম শালিক ভাই, শালিক ভাই, একটা খেজুর দে। যখনই পাখির ঠোঁট ফসকে খেজুর নিচে পড়তো আমারা হুমড়ি খেয়ে পড়তাম সেই খেজুরের উপর আর বলতাম পাখি আমাদের কথা শুনেছে। তারপর সেই কুড়ানো খেজুর মক্তবে নিয়ে গিয়ে অন্যদের দেখিয়ে দেখিয়ে খেতাম। সে এক অন্যরকম দিনের গল্প।

এবার বাসায় গিয়ে আমি ভীষণ রকমের মর্মাহত হয়েছি। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বাগানের প্রত্যেকটি খেজুর গাছ কেটে ফেলে সেখানে ড্রেজার দিয়ে মাটি ফেলে ভরাট করা হয়েছে। অথচ চাইলে গাছ গুলো না কেটেই এই কাজগুলো করা যেতো। কিন্তু আমরা যে ধ্বংসলীলায় বিশ্বাসী তাই আমাদের মাথা থেকে সংরক্ষণের চিন্তারা ছুটি নিয়েছে। যেবার আমাদের পাড়ার মোড়ের সবচেয়ে বৃদ্ধ গাবগাছ টি আগুনের তাপ সইতে না পেরে একটু একটু করে মরে যাচ্ছিলো তখন ওর মরে যাওয়া দেখে ভেতরে ভেতরে আমিও মরে যাচ্ছিলাম। আমার পূর্ব পুরুষদের অনেক কাছ থেকে দেখেছে এই গাছটি। যাদের আমরা দেখিনি বা চিনিনা তাদেরও সে দেখেছে, সে তাদেরও চিনে। শুনেছি আটাশির বন্যার সময় এই গাবগাছের মস্তবড় এক ডাল কেটে রাস্তার ভাঙ্গন ঠেকানো হয়েছিলো। কি অদ্ভুত না! যে রাস্তার ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য তার অঙ্গ কাটা গেলো এতোগুলো বছর পর সেই রাস্তার পিচ পোড়ানো আগুনেই তাকে জীবন দিতে হলো। আমরা মানুষেরা অতিমাত্রায় নিষ্ঠুর। যে গাছের ছায়ায় বসি ,যে গাছের ফল খাই সেই গাছেরই পাতা ছিঁড়ি, ডাল ভেঙ্গে নিয়ে যাই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/199668/</link>
				<pubDate>Mon, 24 Apr 2023 06:45:04 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গাছ আমার আত্মার আত্মীয় </p>
<p>সেই শৈশব থেকেই আমি অদ্ভুত রকমের গাছ প্রেমী একজন মানুষ। অবশ্য কথাটি গাছ প্রেমী না বলে গাছ পাগল বললেও আমার প্রতি খুব একটা অবিচার করা হবে বলে আমার মনে হয় না।গাছের সঙ্গে কোথাও আমার এক অদৃশ্য সুতোর মায়ার বাঁধন রয়েছে। যে মায়ার টান আমি প্রতিটি মুহুর্তে অনুভব করতে পারি। এই গাছ প্রেমের জন্য পাড়ায় আমার বেশ বদনামও আছে। পা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-199668"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/199668/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7da910938d52c7d8e156eda89099a841</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/199667/</link>
				<pubDate>Mon, 24 Apr 2023 06:21:20 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c294f0ce6054d06dd1db0280bdf30a20</guid>
				<title>শাওন আহমাদ কাদির changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/199664/</link>
				<pubDate>Mon, 24 Apr 2023 06:04:17 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>