<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Taufiq-Al-Sadif | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/taufiq-al-sadif/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/taufiq-al-sadif/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Taufiq-Al-Sadif.</description>
	<lastBuildDate>Fri, 12 Jun 2026 06:47:07 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">98b11eafce94699c8a8ea66ac0adcfec</guid>
				<title>আমি মারা গেছি আধ ঘন্টা আগে। এখন বসে আছি বাথরুমের কমোটের ওপরে। বসে আছি বলা ঠিক হচ্ছে না। এখন আমার কোনো শরীর নেই! আমার দেহটা পড়ে আছে বাথরুমের ফ্লোরে।  এখনো বাথরুমে কেউ আসেনি। আসলে লাশটা দেখতে পেত। 
ভেবেছিলাম মৃত্যুটা খুব ভয়ংকর কিছু হবে। মৃত্যু আসলে তেমন কিছুই না। ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়ার মতো। একটা সময় সম্পূর্ণ শরীর নিস্তেজ হয়ে গেল। তারপর হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। দেখি আমি আমার শরীরের বাইরে চলে এসেছি। দেহের মধ্যে ঢুকার চেষ্টা করলাম ঢোকা যাচ্ছে না। 
আমার মৃত্যুটা সম্মানজনক হয়নি! হারপিক খেয়ে মরে গেছি! হারপিক খেয়ে মরার কথা না। কেন জানি আমি মরে গেলাম! ঠিক বুঝতে পারছি না। এই সংবাদটা মানুষকে জানান ঠিক হবে না। হারপিকের দাম বেড়ে যাবে।
ইচ্ছে করলে আমি এখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারি। আমি এখন বাতাসের মতো হয়ে গেছি। এ অবস্থাটা খারাপ লাগছে না। আমি অপেক্ষায় আছি লাশটা কে আগে দেখবে। অবশ্য বাথরুমের দরজা লাগান আছে।  এমনিতে আমি বাথরুমের দরজা লক করি না। এই জন্য আম্মুর অনেক বকা শুনেছি। একবার এমন বাথরুমের দরজা খোলা রেখে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফুল স্পিডে পানি ছাড়ছি। এ সময় আমার খালাত বোন নিশি বাথরুমে হাজির!
নিশি আমার দিকে তাকিয়ে আছে আমি ওর দিকে নীচে পানি পড়ছে! ত্রিশ সেকেন্ড এমনেই কেটে গেল। তারপর মেয়েটা বিকট চিৎকার করে উঠল। আওয়াজ শুনে পানি পড়া বন্ধ হয়ে গেল! দ্রুত দরজা বন্ধ করলাম। এরপর থেকে আমার খুব ইচ্ছেছিলো নিশির বাথরুমে এমন করে হাজির হওয়া। কিন্তু মেয়েটা আমার মতো না। সবসময় দরজা লাগিয়ে রাখে! এখন অবশ্য যাওয়া যাবে।
কয়টা ভাজে জানতে পারলে ভালো হতো। সময় জেনেই বা কী করবো? আমার তো এখন কোনো তাড়া নেই।
মা মনে হয় ঘুম থেকে এখনো উঠেনি। মা আমার ঘরে আসবে সকাল নয়টার সময়। বাবা দেশে নাই। আমেরিকা গেছে ব্যবসায়িক কাজে। বাড়িতে কাজের একটা মেয়ে আছে। নাম কুলসুম।  বয়স বেশি না পনেরো ষোল হবে। কুলসুম আমার ঘরে প্রায়ই আসে। আমার বাথরুম ব্যবহার করে। একদিন ঘুমিয়ে আছি হঠাৎ হিস হিস শব্দে ঘুম ভেঙে গেল! আমি ভয় পেয়ে গেলাম। সাপ চলে এসেছে মনে হয় ঘরের মধ্যে।  ধরফর করে উঠে বসেছি। একটু পরে দেখি কুলসুম আমার বাথরুম থেকে বের হচ্ছে!
বাথরুম থেকে বের হয়ে আসলাম। দরজার ফুটো দিয়ে চলে এসেছি।  দরজাটা খোলার চেষ্টা করলাম পারলাম না!  দরজাটা ভাঙতে হবে। একজন মিস্ত্রী খবর দিলে ভালো হয়। আমার মোবাইলে অবশ্য একজন মিস্ত্রীর নাম্বার আছে। একটা কল দিয়ে আসতে বললে হয়। কল দিতে পারব বলে মনে হয় না! আমার তো হাত পা কিছুই নাই!
কুলসুম হাঁড়ি পাতিল ধুচ্ছে। আমি কুলসুমের কাছে গিয়ে ডাকলাম,  &quot;কুলসুম। &quot;
কোনো জবাবা দিলো না! আমি ডাকলে দৌড়ে ছুটে আসে। এখন আ্মার ডাকে সাড়াই দিলো না!
আমি আবার ডাকলাম, &quot;কুলসুম। &quot;
কুলসুম কোনো সাড়া দিচ্ছে না। আমার কথা মনে হয় ও শুনতে পাচ্ছে না! 
আমার মা ঘুম থেকে উঠেছে। মাকে খুব সুন্দর লাগছে!  এতটা ভালো করে মাকে কখনো দেখা হয়নি। মা রান্নাঘরে এসে আটা মাখছে আমার জন্য পরোটা বানাবে মনে হয়। কড়া ভাজি পরোটা খেতে আমার ভালো লাগে! 
মা কুলসুম কে জিজ্ঞেস করল, &quot;বাবু উঠছে? &quot;
&quot;জানি না খালাম্মা। &quot;
&quot;যা দেখে আয়।&quot;
কুলসুম আমার রুমের দিকে যাচ্ছে।  মা একটা পাতিলে গরম পানি বসাল। গরম পানি দিয়ে ময়দা মাখবে। 
কুলসুম ফিরে এসেছে।  ও কি আমার লাশটা দেখতে পেয়েছে?  মনে হয় পায়নি। পেলে চিৎকার করত। 
&quot;বাবু ভাই বাথরুমে। &quot;
&quot;আচ্ছা ঠিক আছে। &quot;
আমার মা এখন পরোটা ভাচ্ছেন। মচমচে পরোটা। সাথে কী রাঁধবেন মা? মনে হয় আলু ভাজি। চিকন করে কাটা আলু সাথে গাজর দিবে অল্প করে। এই ভাজি দিয়ে পরেটো খেতে কী যে ভালো লাগে! আর মনে হয় খেতে পারব না! পরোটা ভাজা শেষ।  মা এখন ভাজি বসাল চুলায়। ভাজি নারছে একটা খুন্তি দিয়ে আমি মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। মায়ের রান্না দেখতে খুব ভালো লাগছে!  আগে কখনো দেখা হয়নি! জীবনের অনেক সুন্দর সুন্দর জিনিস আমাদের দেখাই হয় না! 
মা রান্না শেষ করে ফেলেছে। মা আমার রুমের দিকে যাচ্ছে। আমার রুমে ঢুকল মা। কেমন অবাক দৃষ্টিতে সারাঘরটা দেখছে! এতটা সময় আমার বাথরুমে থাকার কথা না। মা জানে আমার বাথরুম করতে খুব কম সময় লাগে। গোসলও করি অল্প সময়ে।  বাথরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মা ডাকল, &quot;বাবু।&quot;
কোনো সাড়াশব্দ নেই। কে জবাব দিবে! আমি তো মায়ের পাশেই দাঁড়িয়ে আছি।  মাকে চিন্তিত মনে হচ্ছে!  মা আবার ডাকল,&quot; বাবু।&quot;
মা দ্রুত রুম থেকে বের হয়ে গেল। কুলসুমকে ডাকল, &quot;কুলসুম তাড়াতাড়ি কেয়ারটেকারকে ডেকে নিয়ে আয়। আমার বাবুর জানি কী হয়েছে!&quot; মায়ের গলা কেমন ভারি হয়ে গেছে!
কেয়ারটেকার এসে দরজা ভেঙে ফেলল। আমার পড়ে থাকা লাশ দেখে আমার মা অজ্ঞান হয়ে গেলেন! আমাকে এম্বুলেন্স করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে।  আমার মায়ের এখনো জ্ঞান ফেরেনি!  আমি বাসাতেই আছি মায়ের সাথে।  আমার বডি নিয়ে গেছে!
মায়ের জ্ঞান ফিরেছে। মা মনে হয় হাসপাতালে যাবে। বাবাকে কল করে জানান হয়েছে।  সব মিটিং বাতিল করে বাবা বাংলাদেশে রওয়ানা হয়েছেন।
মা গাড়ি বের করেছে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য। আমি গাড়িতে না উঠে উড়ে উড়ে যাচ্ছি।  বাঃ! দারুণ লাগছে!  
আকাশ পথে হাসপাতাল চিনতে পারছি না! মায়ের গাড়িটাও দেখা যাচ্ছে না। একজন বৃদ্ধ লোক এসে আমাকে বলল, &quot;এই খোকা।&quot;
আমি ওনার দিকে তাকিয়ে দেখলাম, উনিও আমার মতো  বাতাসে উড়ছে। উনিও মনে হয় মারা গেছেন! 
আমি লোকটার সামনে গেলাম। উনি আমার কপালের দিকে তাকালেন।  এটা মনে হয় ঠিক হলো না। আমার তো কোনো শরীর নেই! কপাল আসবে কোথা থেকে!  
&quot;তোমার নাম কী? &quot;
&quot;রায়হান।&quot;
&quot;তুমি এখানে কেন! তোমার তো এই জগতে আসার সময় হয়নি। কে তোমাকে এখানে এনেছে? &quot;
&quot;আমি কিছুই জানি না।&quot;
&quot;চলো আমার সাথে।&quot;
&quot;কোথায় যাব। আঃ কথা বলো না। তাড়াতাড়ি চলো না হলে বিপদে পড়ে যাবে।&quot;
&quot;মৃত্যুর পরে আবার কী বিপদ!&quot;
&quot;বোকা ছেলে বলেটা কি! মৃত্যুর পরেই তো বিপদ শুরু!  মানুষ যদি একবার দেখতে পারত জীবনেও মরতে চাইত না।&quot;
&quot;কী বলেন! আমার তো ভালোই লাগছে! কী সুন্দর আকাশে উড়তে পারছি।&quot;
&quot;বেশিক্ষণ পারব না। ধরে নিয়ে সোজা মাটির নীচে পুতে রাখবে!&quot;
&quot;আপনি বের হলেন কী করে?&quot;
&quot;মাটিতে পঁচে ভুত হয়েছি। কত হাজার বছর মাটির মধ্যে ছিলাম তার ঠিক নেই!&quot;
&quot;চলো সময় নষ্ট করো না। কী দরকার সময় থাকতে আগে আগে কষ্টের মধ্যে পড়ার!&quot;
আমরা উড়তে উড়তে হাসপাতালে চলে এসেছি।  এ সময় বিশাল লম্বা একজন  আসল। উনিও আমাদের মতো বাতাস।  কী ভয়ংকর চেহেরা। আমাকে বলল,&quot; এই ছেলে চল।&quot;
বয়স্ক লোকটা বললেন, &quot;ওর এখনো সময় হয়নি!&quot;
&quot;ও তো সেচ্ছায় এসেছে।&quot;
&quot;বললেই হলো! হারপিক খেলে কেউ মরে নাকি! তুমি ওকে জোর করে নিয়ে এসেছ। এই ছেলে যাও শরীরে ঢুকে পড়।&quot;
আমি বৃদ্ধ লোকটার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। 
&quot;কী হলো ঢোক তাড়াতাড়ি। &quot;
&quot;কী করে ঢুকব?&quot;
&quot;নাকের ফুটা দিয়ে ঢুকে পড়।&quot;
ভয়ংকর লোকটা বলল, &quot;খবরদার এ জগতের কথা কাউকে বলবে না।&quot;
বৃদ্ধ বলল,&quot; নাক দিয়ে সোজা হার্টে চলে যাবা। এমন ভুল আর করবা না।&quot;
আমি নাকের ফুটো দিয়ে ঢুকে পড়লাম। ভিতরে ঢোকার সাথে আমি আবার দেহ হয়ে গেলাম। চোখ দিয়ে দেখতে পাচ্ছি।  
আমার বাবা মা কাঁচের মধ্যে দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। একজন ডাক্তার আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, &quot;স্যার, ছেলেটা তো এখন বেঁচে আছে।&quot;
আমার হার্ট চলতে শুরু করেছে। এসময় দেখলাম মায়ের পাশে নিশি দাঁড়িয়ে আছে।  আমার একটু দুঃখ হলো!  নিশির প্রতিশোধটা নেয়া হলো না! এসুযোগ আর পাওয়া যাবে না! একবার ঢু মেরে আসলেই হতো। মেয়েটাকে খেপানো যেত। আমাকে সবসময় পঁচায়!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/158849/</link>
				<pubDate>Sun, 09 Oct 2022 05:12:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমি মারা গেছি আধ ঘন্টা আগে। এখন বসে আছি বাথরুমের কমোটের ওপরে। বসে আছি বলা ঠিক হচ্ছে না। এখন আমার কোনো শরীর নেই! আমার দেহটা পড়ে আছে বাথরুমের ফ্লোরে।  এখনো বাথরুমে কেউ আসেনি। আসলে লাশটা দেখতে পেত।<br />
ভেবেছিলাম মৃত্যুটা খুব ভয়ংকর কিছু হবে। মৃত্যু আসলে তেমন কিছুই না। ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়ার মতো। একটা সময় সম্পূর্ণ শরীর নিস্তেজ হয়ে গেল। তারপর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-158849"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/158849/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">acf647d76fe035fb7ea11861f4059399</guid>
				<title>পাশের ঘরেই সে আছে!

বেশ অনেক বছর আগের কথা।

কাগজে একটা খবর বেরিয়েছিল, একজন খুনী পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে এই কলকাতাতেই লুকিয়ে আছে। পুলিশ তদন্ত করে এই পর্যন্ত বুঝতে পেরেছিল যে খুনীটা উত্তর কলকাতার কোথাও কোনও বাড়িতে ছদ্মবেশে ডেরা গেড়ে আছে। লোকটার ছবিও ছাপা হয়েছিল। কাগজে বলা হয়েছিল কেউ যদি লোকটার সন্ধান দিতে পারে, তাহলে গভর্নমেন্ট থেকে তাকে পুরস্কৃত করা হবে।

সে সময় এখনকার মতো এত খুন খারাপি হতো না। তাই এইরকম একজন ভয়ঙ্কর খুনীকে পুলিশ ধরতে পারছে না, আর সে বহাল তবিয়তে এই কলকাতায় রয়েছে জেনে রীতিমতো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আর ভয় পেয়েছিলাম বলেই ঘটনাটা আজও আমার মনে আছে।

এরপর সেই খুনী ধরা পড়েছিল কিনা সে খবর আর পাইনি। অন্তত কাগজে কিছু চোখে পড়েনি।

জানতে পেরেছিলাম অনেক বছর পর। সেও খবরের কাগজ পড়েই।

ঘটনাটা এইরকম 


মানিকতলা ব্রিজের ওপারে একটা টু রুমড ফ্ল্যাট কিনেছিলেন বিভাবতী সরকার। টাকাটা দিয়েছিল তাঁর একমাত্র ছেলে। দিল্লিতে চাকরী করে। মা’কে বলেছিল, ” তুমি তো কলকাতা ছেড়ে নড়বে না, টাকা দিচ্ছি একটা ফ্ল্যাট কিনে নাও। রিটায়ার করে তো কলকাতাতেই তোমার কাছে গিয়ে থাকতে হবে।”

সেইমতো বিভাবতী দেবী ফ্ল্যাটটি কিনলেন। ফ্ল্যাটবাড়িটা একটা পুরনো ভাঙা বাড়ি আর খানিকটা জলা জমির ওপর তৈরি। একসময় এইসব অঞ্চলে বাড়ি ঘর কমই ছিল। যে বাড়ি ভেঙে এই ফ্ল্যাট…. সেটা ছিল কোনও এক ডাকসাইটে জমিদারের। জমিদারী কবে চলে গিয়েছিল, জমিদারের বংশধররাও কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কিন্তু সাবেকী জমিদারী মেজাজটি চলে যায়নি। সে আমলের পুরনো বাড়ি জমিদারপুত্রদের পছন্দ হচ্ছিল না। তাই সেটাকে ফেলে রেখে গিয়েছিল। মাঝেমাঝে দু-এক ঘর ভাড়াটে আসত। আবার চলে যেত। সামান্য টাকার ভাড়া। তাই জমিদারপুত্রদের মন ভরত না। তারা ঠিক করল, বাড়িটা বেচে দেবে। সেজন্য নতুন ভাড়াটেও আর বসাল না। কেননা ভাড়াটেসুদ্ধ বাড়ি কিনতে কেউ চাইবে না।

তারপর কত হাতবদল হয়ে এখন সেই বাড়িটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে একটা হাল ফ্যাশনের নতুন ফ্ল্যাটবাড়ি। কিন্তু পেছনের অংশে এখনও এখানে সেখানে ডোবা, জলা, ঢোল-কলমি আর বনতুলসীর ঝোপ রয়ে গেছে। হঠাৎ দেখলে মনে হয় না জায়গাটা কলকাতার মধ্যে।

এইখানে দুটো ঘরের ফ্ল্যাট কিনে থাকেন বিভাবতী। একাই থাকেন পুজো-আচ্চা নিয়ে। খুব ভক্তিমতী। নিজেই রাঁধেন।

একটি কাজের মেয়ে আছে। সে সারা দিন তাঁকে সাহায্য করে। তার সঙ্গেই গল্প করে তাঁর সময় কাটে।

সবই ভাল তবু কোথায় যেন একটা অস্বস্তি। বিভাবতী এমন কিছু প্রমাণ পেয়েছিলেন যাতে তিনি বুঝেছিলেন যে বাড়িটার কিছু দোষ আছে। বিশেষ করে উত্তর দিকের ঘরটায়।


তাঁর অসাধারণ মনের জোর আর সাহস ছিল তাই তিনি রাতে একাই থাকতে পারতেন। না থেকেই বা উপায় কি? ছেলের এতগুলো টাকা খরচ করে ফ্ল্যাটটা কিনেছেন। এখন ছেড়ে যাবেন ই বা কোথায়? ছেলেকেই বা কি বলবেন? বাধ্য হয়ে মুখে কুলুপ এঁটে থাকতেন। কাউকে কিছু বলতেন না। এখানে তাঁর কয়েকজন আত্মীয় স্বজন আছে। তারা মাঝেমাঝেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসত। কিন্তু কাউকে তিনি রাতে থাকতে বলতেন না। তাঁর একা থাকা নিয়ে আত্মীয়রা চিন্তা করলেও তিনি হেসে বলতেন, তিনি ভালোই আছেন। তাছাড়া ভগবান যা করবেন, তাই হবে। অনর্থক ভেবে লাভ কি।

এতখানি ভগবানের ওপর বিশ্বাস দেখে আত্মীয়রাও কেউ কিছু বলত না। শুধু জানিয়ে যেত, অসুখ বিসুখ করলে যেন তিনি সঙ্গে সঙ্গে তাদের খবর দেন।

তা বিভাবতী দেবী একটা বুদ্ধিমতীর কাজ করেছিলেন। টেলিফোন নিয়েছিলেন। আর সেটা রেখেছিলেন মাথার কাছে একটা টুলের ওপর।

মনে মনে অবশ্য জানতেন অসুখ বিসুখ ছাড়া আর যে ভয়টা তিনি নিঃশব্দে হজম করে যান, তার প্রতিকার টেলিফোন করে লোক ডেকে হয় না।

টেলিফোন নেবার কিছুদিন পরেই একটা ঘটনা ঘটল। মাঝে মাঝেই তিনি দু’একজনকে ফোন করেন। কিন্তু তাঁকে বড় একটা কেউ ফোন করে না।

হঠাৎ সেদিন গভীর রাতে টেলিফোন বাজার শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে গেল। এত রাতে কে ফোন করছে? নিশ্চয় রঙ নাম্বার। তিনি মশারীর মধ্যে থেকে হাত বাড়াতে যাচ্ছেন, হঠাৎ দেখলেন মশারির বাইরে থেকে একটা কালো লোমশ হাত রিসিভারটা তুলে তাঁর দিকে এগিয়ে দিচ্ছে। হ্যাঁ, শুধুই একটা হাত।

তিনি চমকে উঠলেন। ভয় পেলেন। কিন্তু মূহুর্তেই সামলে নিয়ে শান্ত গলায় বললেন, ” কে তুমি? কি চাও?”

উত্তর পাওয়া গেল না। শুধু অস্পষ্ট একটা পায়ের আওয়াজ ঘরের বাইরে চলে গেল।

বিভাবতী দেবী আর উঠলেন না। ভগবানকে স্মরণ করে আবার শুয়ে পড়লেন।

সকালে উঠে ভাবলেন, তিনি কি স্বপ্ন দেখছিলেন?

তখনই চোখে পড়ল, রিসিভারটা টুলের নীচে ঝুলছে।
বিনবিন করে বিন্দু বিন্দু ঘাম ফুটে উঠল তাঁর মুখে। তারপরই তিনি নিজেকে শক্ত করে নিলেন। সংসারের সব কাজই তিনি রোজকার মতো করলেন। কাউকে রাতের ঘটনা বললেন না। বললেই রটে যাবে, ফ্ল্যাটটা ভূতুড়ে। আর সে কথা ছেলের কানে গেলে তারা আর আসবে না।

একটা কথা ভেবে তাঁর ভয় হল, এখানে এসে পর্যন্ত তিনি বুঝতে পারছিলেন উত্তর দিকের ঘরটায় কিছু আছে। তবে এ ঘর তিনি ব্যবহার করেন না। কিন্তু গতরাতের ঘটনায় তিনি বুঝতে পারলেন যে সে এ ঘরেও আসতে শুরু করেছে। তাহলে তিনি এখানে থাকবেন কি করে?

তারপরই তাঁর মনে হল, লোকটা কিন্তু তাঁর ক্ষতি করার চেষ্টা করেনি। ‘ কে তুমি? কি চাই’ প্রশ্ন করাতেই সে রিসিভার ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল। কেনই বা এসেছিল, কেনই বা চলে গিয়েছিল, তার উত্তর খুঁজে পেলেন না। আরও একটা উত্তর খুঁজে পেলেন না, অত রাতে কে তাঁকে ফোন করেছিল? সত্যিই কি রঙ নাম্বার ছিল?

যাই হোক, এদিনের পর থেকে আর সে এ ঘরে ঢোকে নি। কিন্তু গোল বাধাল একদিন কাজের মেয়েটা।

তিনি ঠিক করেছিলেন কাজের মেয়েটাকে রাতে তাঁর কাছে থাকতে বলবেন। তারজন্য, বেশি মাইনেও দেবেন। মেয়েটা রাজিও হয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে একটা ঘটনা ঘটল।

সেদিন সন্ধ্যেবেলা হঠাৎ আলোগুলো নিভে গেল। বিভাবতী দেবী বুঝলেন, লোডশেডিং। এ তো রোজকার ব্যাপার। কিন্তু হঠাৎই কাজের মেয়েটা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ছুটে এল তাঁর কাছে। মুখ দিয়ে তার কথা সরছে না।
” কি রে মালতী? কি হয়েছে?” বিভাবতীদেবী জিজ্ঞেস করলেন।

মালতী অতি কষ্টে শুধু বলল, ” একটা লোক…….”

” লোক! কোথায় লোক?”

মালতী আঙুল দিয়ে ওদিকের ঘরটা দেখিয়ে দিল। তারপর কোনওরকমে বলল, ওই ঘরটায় যখন ও ঝাঁট দিতে ঢুকেছিল, তখনই লোডশেডিংটা হল। আর তখনিই স্পষ্ট দেখল একটা লম্বা মতো লোক ঘরের ভেতর কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে…..

বিভাবতীর বুকটা ভয়ে কেঁপে উঠল। লোক বলতে মালতী কি বোঝাতে চাইছে, বুঝতে বাকি রইল না তাঁর। কিন্তু মুখে সাহস দেখিয়ে বললেন, ” ও ঘরে লোক আসবে কোথা থেকে? নিশ্চয় চোখের ভুল।”

মালতী যতই বোঝাতে চায় চোখের ভুল নয়, বিভাবতী ততই বলেন, না, চোখের ভুল। ও ঘরে লোক আসবে কোথা থেকে?”

মালতী চুপ করে আছে দেখে তিনি আরও জোর দিয়ে বললেন, ” আমি এত দিন আছি। কই কোনওদিন তো কিছু দেখিনি।”

মিথ্যে কথাই বলতে হয়েছিল বিভাবতীকে। কিছু না দেখলেও ঐ বদ্ধ ঘরে মানুষের চলাফেরার শব্দ তিনি এক আধবার নয়, বারবার শুনেছিলেন।

বাধ্য হয়েই মিথ্যে বলতে হয়েছিল বিভাবতীকে। না বললে যে মালতী এ বাড়িতে কাজ করাই ছেড়ে দেবে।

শেষ পর্যন্ত মালতী থাকল। তবে সন্ধে হবার আগেই চলে যেত। তখন থেকে বিভাবতী সারা রাত একা মুখ বুজে। আর পাশের তালাবন্ধ ঘরটায় মূর্তিমান আতঙ্ক।

সেদিনও তাঁর নিস্তব্ধ ঘরটাকে সচকিত করে টেলিফোনটা বেজে উঠল। তবে গভীর রাতে নয়, সন্ধ্যের একটু পরে।

চমকে উঠলেন বিভাবতী। কোনওরকমে রিসিভারটা তুলে নিলেন।

তারপরই খুশীতে তাঁর গলার স্বর আটকে গেল, ” হ্যালো!….ও বৌমা! ”

একমাত্র ছেলের বৌ ফোন করেছে দিল্লি থেকে।

” হ্যাঁ, তা আছি একরকম…… ভালই আছি….আচ্ছা, তুমি কি আগে একদিন অনেক রাতে ফোন করেছিলে?……..ও, করো নি?……তাহলে রঙ নাম্বার……হ্যাঁ……অনেক রাতে একবার ফোন বেজেছিল আমার ঘরে…..ধরতে পারিনি……কেটে গিয়েছিল।

তুমি আসবে কলকাতায় পরশুদিন?…… খুব খুশী হলাম শুনে……মাত্র এক রাতের জন্য?….তোমার বন্ধুর বিয়েতে……থাকতে পারবে না দুদিন?…..কি আর করা যাবে…..তাই এসো। ”

বৌমার সঙ্গে কথাবার্তা শেষ করে বিভাবতী দেবী রিসিভারটা রেখে দিলেন। তারপর মুখ তুলতেই চমকে উঠলেন। ঘরের বাইরে জানলার গরাদ ধরে লম্বা মতো কে একজন দাঁড়িয়ে।

” কে? কে ওখানে?”

সঙ্গে সঙ্গে মূর্তিটা সরে গেল…..যেন অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। বিভাবতীর রক্ত হিম হয়ে গেল। ও কি শুনতে এসেছিল এ বাড়িতে নতুন কেউ আসছে কিনা?

বিভাবতী দেবীর ছেলের বৌ অঞ্জনা দিল্লির একটা বিখ্যাত ইংরেজি কাগজের অফিসে কাজ করে। কলকাতায় তার এক বন্ধুর বিয়েতে এসেছে। রাতটুকু শুধু শাশুড়ির কাছে থাকবে। পরের দিন সকালের ফ্লাইটেই দিল্লি ফিরে যাবে।

নিজের লোককে কাছে পাবার আনন্দে বিভাবতী দেবী মনে মনে খুশী হলেও সেইসঙ্গে একটু ভয়ও পেলেন। ঐ যাকে এ বাড়িতে প্রায়ই দেখা যায়…..বৌমাও তাকে দেখে ফেলবে না তো?

সেদিন দুপুরেই অঞ্জনা হাসতে হাসতে এল। সারা দুপুর শাশুড়ির পাশে শুয়ে কত গল্পই না করল। বিকেলে বেরিয়ে গেল কিছু কেনাকাটা করতে। বলে গেল সন্ধ্যের আগেই ফিরবে।


ঠিক সন্ধেবেলাতেই ফিরল অঞ্জনা। ফুটপাত থেকে উঠে কয়েক ধাপ সিঁড়ি। তারপরেই ঢোকার দরজা। কলিংবেল টিপতে যাচ্ছিল, দরকার হল না। মালতী দরজা খুলে বেরিয়ে যাচ্ছে তাড়াতাড়ি। বৌদিকে দেখে একটু হাসল।

” কাজ হয়ে গেল?”, অঞ্জনা জিজ্ঞেস করল।

” হ্যাঁ”, মালতী হেসে জবাব দিল।

” বাড়ি যাচ্ছ?”

” হ্যাঁ”।

অঞ্জনা ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। এবার একটু প্যাসেজ। প্যাসেজটা অন্ধকার। অঞ্জনা এগিয়ে যাচ্ছিল, হঠাৎ মনে হল সে যেন এগোতে পারছে না……কিসে যেন বাধা পাচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউ যেন তাকে ঠেলে বের করে দিতে চাইছে। অঞ্জনা থতমত খেয়ে গেল। তখনই তার মনে হলো তার সামনে দু’হাত দূরে কেউ যেন দাঁড়িয়ে রয়েছে……চোর নাকি?

অঞ্জনা দিল্লিতে খবরের কাগজের অফিসে চাকরি করা মেয়ে, সংবাদ সংগ্রহের জন্য নানা জায়গায় ছুটতে হয়। অত সহজে ভয় পায় না। ধমকের সুরে বলল, ” কে ওখানে?”

পরক্ষনেই মনে হল কেউ যেন পথ ছেড়ে সরে গেল।

পাছে মা ভয় পান তাই ব্যাপারটা নিয়ে অঞ্জনা বেশী হৈচৈ করল না। ঘরে ঢুকে শাশুড়িকে শুধু একটা কথাই বলল,” প্যাসেজটায় আলোর ব্যবস্থা নেই?”

বিভাবতী অবাক হয়ে বললেন, ” আছে বৈকি। এই তো মালতী গেল আলো জ্বেলে।”

” কিন্তু…. কিন্তু আমি তো ঢুকে দেখলাম, প্যাসেজ অন্ধকার। ”

বিভাবতী বললেন, ” হয়ত বালবটা কেটে গেছে।”

আধঘণ্টার মধ্যে অঞ্জনা সাজসজ্জা করে বিয়েবাড়ি চলে গেল। রাত দশটায় যখন ফিরল তখন দেখল, প্যাসেজে দিব্যি আলো জ্বলছে।

এবার শোবার পালা। কাল সকালেই প্লেন ধরতে হবে।

বিভাবতী চেয়েছিলেন, অঞ্জনা তাঁর সঙ্গেই শুলে ভাল হয়। অঞ্জনা কিন্তু শাশুড়ির সঙ্গে শুতে রাজি হল না। বলল, পাশের ঘরটা তো খালি পড়ে আছে। আমি ওখানেই শোব।”

বিভাবতীর মুখটা শুকিয়ে গেল। তিনি অনেক করে বোঝালেন। বললেন, ” ও ঘরটা ব্যবহার করি না, পরিষ্কার করা নেই? কি দরকার? একটা রাত না হয় আমার কাছেই শুলে?”

অঞ্জনা ভাবল, বোধহয় ও ঘরে বিছানা পাতা, মশারী টাঙানোর হাঙ্গামার জন্যই শাশুড়ি ও ঘরে শুতে বারণ করছেন। তাই বলল। ” আপনি কিচ্ছু ভাববেন না। আমি সব ঠিক করে নিচ্ছি।”

বলে উত্তর দিকের ঘরে গিয়ে ঝাঁটপাট দিয়ে বিছানা পেতে নিল।

নিরুপায় বিভাবতী আর কি করেন? শুধু বললেন, ” ভয়টয় পেলে আমায় ডেকো। ”

অঞ্জনা হেসে বলল, ” কিসের ভয়? ভূতের?”

‘ ভূত’ কথাটা হঠাৎই তার মুখ থেকে বেরিয়ে গেল।

কি আর করেন বিভাবতী, এক ফাঁকে তাঁর গলার রুদ্রাক্ষের মালাটা অঞ্জনার বালিশের নিচে রেখে দিয়ে এলেন। মনে মনে প্রার্থনা করলেন, ” হে ঠাকুর, বৌমাকে রক্ষা কোরো।”

খুব ক্লান্ত ছিল অঞ্জনা। তাই হাত পা ছড়িয়ে আরাম করে শোয়ামাত্র ঘুম। তখনও সে জানত না কি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে…

অনেক রাত্রে আচমকা তার ঘুমটা ভেঙে গেল। অসহ্য গরমে তার নিশ্বাস যেন আটকে আসছে। মশারির মধ্য দিয়ে তাকিয়ে দেখল, পাখা চলছে না। লোডশেডিং? কলকাতায় এত লোডশেডিং হয়! কিন্তু তখনই বাইরের জানলার দিকে চোখ পড়তে দেখল, রাস্তার আলোগুলো দিব্যি জ্বলছে।

তাহলে?

হঠাৎই তার মনে হল, ঘরের মধ্যে আরও কেউ রয়েছে। চমকে তাকাতেই দেখল, তার বিছানা থেকে মাত্র হাত পাঁচেক দূরে লম্বা মতো একটা লোক কোমরে হাত দিয়ে তার দিকে ভয়ঙ্কর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এইরকমই একটা আবছা চেহারা সে প্যাসেজে দেখেছিল সন্ধ্যেবেলা শপিং সেরে বাড়ি ঢোকার সময়। তখন মুখ দেখতে পায় নি।

ধড়মড় করে উঠে বসতে গেল অঞ্জনা। পারল না। মনে হল, তার সমস্ত শরীর যেন অবশ হয়ে গেছে।

কি করবে ভাবছে, এইসময় দেখল, লোকটা এক পা এক পা করে তার দিকে এগিয়ে আসছে………।

অঞ্জনা চিৎকার করতে গেল, পারল না। মুখ থেকে শুধু একটা গোঁ গোঁ শব্দ বেরলো।

ততক্ষণে মূর্তিটা একেবারে মাথার কাছে এসে পড়েছে। একটা হাত দিয়ে মশারীটা তুলছে……তারপর কনকনে ঠাণ্ডা হাতটা দিয়ে অঞ্জনার বাঁ হাতটা খপ করে ধরে টানাটানি করতে লাগল।

” মাগো!”
একটা শব্দই অঞ্জনার মুখ দিয়ে ছিটকে বেরিয়ে এল। তারপর তার আর কিছু মনে নেই।

পরদিন অনেক বেলায় শাশুড়ির ডাকাডাকিতে ঘুম ভাঙল অঞ্জনার। প্রথমে মনে হয়েছিল রাত্রে দুঃস্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু নিজের হাতের দিকে তাকাতেই স্তম্ভিত হয়ে গেল। হাত মুচড়ে ধরার দাগটা তখনো লাল হয়ে আছে। আর…..আর মাথার দিকে মশারিটাও খানিকটা তখনো উঁচু হয়ে আছে।

অঞ্জনা বিভাবতী দেবীকে উদ্দেশ্য করে বলল, ” আপনি এখানে একা আর থাকবেন না। আমার সঙ্গে চলুন। ”

বিভাবতী বললেন, ” হুট করে কি এখানের পাট চুকিয়ে যাওয়া যায়?”

অঞ্জনা বলল, ” তবে আমি এখন যাই। খুব তাড়াতাড়ি আপনার ছেলেকে নিয়ে আসছি। তারপর একসঙ্গে বসে আলোচনা করে ঠিক করা যাবে। এ ক’দিন একটু সাবধানে থাকবেন।”

বিভাবতী একটু হাসলেন।

ব্যাপারটা অঞ্জনা সহজে ছেড়ে দেয় নি। এই বাড়িতে এক রাত থাকার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা কাগজে লিখল। কলকাতায় এসে পুরনো কাগজপত্র ঘেঁটে যে তথ্যটা বের করেছিল তা হচ্ছে……সেই দীর্ঘদেহী খুনীটা পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে এই বাড়িতেই লুকিয়ে ছিল দলবল নিয়ে। সাহস করে কেউ পুলিশকে খবর দিতে পারেনি। কিন্তু জমিদারপুত্রদের একজন বাড়িটা খালি করার জন্য একদিন লেঠেল পাঠিয়ে তাকে খুন করে ঐখানেই পুঁতে রাখে। পুলিশ পরে এসে মাটি খুঁড়ে লাশের সন্ধান করে।

আশ্চর্য! কিন্তু লাশ পাওয়া যায়নি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/143427/</link>
				<pubDate>Tue, 06 Sep 2022 05:24:04 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পাশের ঘরেই সে আছে!</p>
<p>বেশ অনেক বছর আগের কথা।</p>
<p>কাগজে একটা খবর বেরিয়েছিল, একজন খুনী পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে এই কলকাতাতেই লুকিয়ে আছে। পুলিশ তদন্ত করে এই পর্যন্ত বুঝতে পেরেছিল যে খুনীটা উত্তর কলকাতার কোথাও কোনও বাড়িতে ছদ্মবেশে ডেরা গেড়ে আছে। লোকটার ছবিও ছাপা হয়েছিল। কাগজে বলা হয়েছিল কেউ যদি লোকটার সন্ধান দিতে পারে, তাহলে গভর্নমেন্ট থেকে তাকে পুরস্কৃত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-143427"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/143427/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d1dbb1b8f419e942f32cbac0ea129440</guid>
				<title>এপারের জঙ্গলগন্ধ অন্ধকারে আমাদের নামিয়ে
অল্প দূরের ব্রিজে বিসর্জনের তুমুল তাসায় এক ঝলক নেচে
রেলগাড়িটার লম্বা দৌড় ওপারের দিকচিহ্নহীনতায়
তারপর সমস্ত শব্দের ঢলে-পড়া ঘুম।
আমরা কেউ ওভারব্রিজের খোঁজে ঘাড় ঘোরাই
কেউ আকাশে যেমন-তেমন একট চাঁদ অথবা চেনা নক্ষত্রের খোঁজে।
আকাশের যে জায়গাটায় চাঁদ থাকার কথা।
নিদেনপক্ষে ছুটকো-ছাটকা ইনভার্টারে জ্বালানো লন্ঠন
ইসকেমিয়ার ঘোলাটে চাউনীতে সব লেপাপোঁছা।

পাহাড়টা কোন্ দিকে? উত্তরে না দক্ষিণে/
কেউ একজন প্রশ্ন করে।
পাহাড়ের আগে শাল-মিছিলে ঘেরা হ্রদ। দক্ষিণে, না উত্তরে?
অন্য কারো জানার ইচ্ছে।
ওভারব্রিজটা সামনে, না পিছনে?
কেউ একজন শুনিয়ে দেয় জবাব:
সব স্টেশনের ওভারব্রিজ থাকে না কিন্তু
অনেক স্টেশন কার্ড-বোর্ডে কাটা মানুষের মতো সমতল।
কে কার সঙ্গে কথা বলছি
বুঝতে পারি শুধু কন্ঠনালীর সৌজন্যে।
দুর্গদেয়ালের মতো অন্ধাকারে আমরা পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন।

আমাদের বলে দিয়েছিল স্টেশন থেকে নামলেই
লাল মাটির সোজা রাস্তা।
হয়তো আছে, কিন্তু অন্ধকারের দরজায় তো ফুটো নেই কোনোখানে।
আমাদের বলে দিয়েছিল স্টেশনে নামলেই
এক দৌড়ে পৌঁছে দেওয়ার এক্কা।
হয়তো ছিল, কিন্তু এখন তো মূছিত চেতনার মাঝরাত।

হঠাৎ কার যেন মনে পড়ে যায় টর্চের কথা।
টর্চ, টর্চ। টর্চ জ্বালাচ্ছিস না কেন?
নেমে আসি বালি কাঁকরের ঢালু প্রান্তরে,
পথপ্রদর্শক, টর্চের আলোর প্রেতচক্ষু।

ডাইনে আলো পড়ে টর্চের। ওটা কি?
ঝাঁঝরা কঙ্কাল, কোনো এক সময়ের সাতমহল অমরাবতীর।
টর্চের আলো ঘোরে বাঁয়ে। ওটা কি?
সমুদ্র-জাহাজের ভাঙচুর কাঠকাটরা আর নষ্ট নোঙর।

পথ আর পৌছনার মাঝখানে
কী দুঃস্বপ্ন শাসিত ব্যবধান!
মন্ত্র আর আরতির মাঝখানে
গণনাহীন বলির রক্তরেখা।

জন্ম থেকেই তো আমরা এই রকম, ঠিকানাহীন,
কেউ একজন বাতাসে ভাসিয়ে দেয় তার দীর্ঘশ্বাস।
সমস্ত রেলগাড়িই আমাদের বেলায় ছত্রিশ ঘন্টা লেট,
কেউ একজন বুক থেকে নিংড়ে আনে তার কুয়াশা।

হঠাৎ ঝড় উঠলে হয়তো সাড়া পাওয়া যেত লোকালয়ের,
কে যেন ঘাই মেরে উঠল তার বিষন্নতার বুদবুদ সরিয়ে।
রমনীসুলভ হ্রদের কোমর জড়িয়ে শালবনের মাতাল যৌবন
তাকে পেরোলেই সম্রাট মহিমার পাহাড়
আমাদের পৌছনোর কথা সেইখানে।
সেইখানেই বিশ্বস্ত লাল রোদের কেন্দ্রে
আমাদের সবুজ বাংলো রক্তকরবীর বেড়া দিয়ে ঘেরা।
ছেলেবেলার পানের ডাবর থেকে লাফিয়ে-ওঠা কেয়াখয়েরের উল্লাস নিয়ে
বাতাস বুনছে বীজানুহীন অভ্যর্থনা।
টর্চের আলো ঘোরে উত্তরে। ওটা কি?
ঝড়ে উলটোনো মহান বটের মাথামুন্ডুহীণ আধখানা।
টর্চের আলো ঘোরে দক্ষিণে। ওটা কি?
ভূল স্রোতের ফাঁদে-পড়া নদীর অকাল-ধ্বস।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/142944/</link>
				<pubDate>Mon, 05 Sep 2022 05:18:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এপারের জঙ্গলগন্ধ অন্ধকারে আমাদের নামিয়ে<br />
অল্প দূরের ব্রিজে বিসর্জনের তুমুল তাসায় এক ঝলক নেচে<br />
রেলগাড়িটার লম্বা দৌড় ওপারের দিকচিহ্নহীনতায়<br />
তারপর সমস্ত শব্দের ঢলে-পড়া ঘুম।<br />
আমরা কেউ ওভারব্রিজের খোঁজে ঘাড় ঘোরাই<br />
কেউ আকাশে যেমন-তেমন একট চাঁদ অথবা চেনা নক্ষত্রের খোঁজে।<br />
আকাশের যে জায়গাটায় চাঁদ থাকার কথা।<br />
নিদেনপক্ষে ছুটকো-ছাটকা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-142944"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/142944/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1b3da93d8bbfe5504fc9e017aff471f7</guid>
				<title>Taufiq-Al-Sadif changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/142942/</link>
				<pubDate>Mon, 05 Sep 2022 05:16:38 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">55632f3b0e085b1045fbfa3a81cda8f1</guid>
				<title>‘ভাই, আপনি কি একটা ইন্টারেস্টিং গল্প শুনতে চান?” আমি ভদ্রলোকের দিকে অবাক হয়ে তাকালাম। কিছুক্ষণ আগে তার সঙ্গে আলাপ হয়েছে– তাও এমন কোন আলাপ না। আমি ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি কিনা জানতে চাইলেন। আমি বললাম ‘হ্যাঁ’ এবং ভদ্রতা করে জানতে চাইলাম আপনি কোথায় যাচ্ছেন? ভদ্রলোক হাসিমুখে বললেন, আমি কোথাও যাচ্ছি না। আমি আমার স্ত্রীকে রিসিভ করতে এসেছি।
ও চিটাগাং থেকে আসছে। ট্রেন দু’ঘন্টা লেট। ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে না। বাসায় যাব আবার আসব, ভাবলাম অপেক্ষা করি। তার সঙ্গে এইটুকু আমার আলাপ। এই আলাপের সুত্র ধরে কেউ যখন বলে, ভাই আপনি কি একটা ইন্টারেস্টিং গল্প শুনতে চান, তখন খানিকটা হলেও বিস্মিত হতে হয়। অপরিচিত লোকের কাছ থেকে গল্প শোনার আগ্রহ আমার কম। তাছাড়া আমি আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় লক্ষ করেছি- ইন্টারেস্টিং গল্প বলে যে গল্প শুরু হয়, সে গল্প কখনোই ইন্টারেস্টিং হয় না। আমি কিছু না বলে চুপ করে রইলাম। 

ভদ্রলোক বুদ্ধিমান হলে আমার চুপ করে থাকার অর্থ বুঝতে পারতেন। বুদ্ধিমান না হলে এই গল্প আমার শুনতেই হবে। দেখা গেল ভদ্রলোক মোটেই বুদ্ধিমান নন। পকেট থেকে পানের কৌটা বের করে পান সাজাতে সাজাতে গল্প শুরু করলেন- “আপনি নিশ্চয়ই খুব বিরক্ত হয়ে আমার কথা শুনছেন। নিতান্তই অপরিচিত একজন মানুষ হড়বড় করে গল্প বলা শুরু করেছে। বিরক্ত হবারই কথা। কিন্তু সমস্যাটা কি জানেন- আজ আমার একটা বিশেষ দিন। 

এই বিশেষ দিনে আমার মজার গল্পটা কাউকে না-কাউকে বলতে ইচ্ছে করে। যদি অনুমতি দেন- গল্পটা বলি।” “বলুন।” “আপনি কি পান খান?” “জি-না।” “একটা খেয়ে দেখুন, মিষ্টি পান। খারাপ লাগবে না।” “আপনি কি বিশেষ দিনে গল্পের সঙ্গে-সঙ্গে সবাইকে পানও খাওয়ান?” ভদ্রলোক হেসে ফেললেন। আন্তরিক ভঙ্গিতেই হাসলেন। ভদ্রলোকের বয়স চল্লিশের মত হবে।

অত্যন্ত সুপুরুষ। ধবধবে সাদা পায়জামা পাঞ্জাবিতে তাকে চমৎকার মানিয়েছে। মনে হচ্ছে তিনি স্ত্রীর জন্য খুব সেগেগুজেই এসেছেন। “প্রায় কুড়ি বছর আগের কথা। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স করছি- পদার্থবিদ্যায়। এখানে অন্ধকার বলে আপনি হয়ত আমাকে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছেন না। আলো থাকলে বুঝতেন আমি বেশ সুপুরুষ। কুড়ি বছর আগে দেখতে রাজ পুত্রের মত ছিলাম। 
ছাত্রমহলে আমার একটা নাম ছিল-‘দ্যা প্রিন্স’। মজার ব্যাপার হচ্ছে, মেয়েমহলে আমার কোন পাত্তা ছিল না। আপনি ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছেন কি না জানিনা- পুরুষদের রূপের প্রতি মেয়েরা কখনো আকৃষ্ট হয় না। পুরুষদের সবকিছুই তাদের চোখে পড়ে-রূপ চোখে পড়ে না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কোন মেয়ে আমার সাথে ভাব করার জন্য কিংবা কথা বলার জন্য এগিয়ে আসে নি। 


আমিও নিজে থেকে এগিয়ে যাই নি। কারন আমার তোতলামি আছে। কথা আটকে যায়।” আমি ভদ্রলোককে থামিয়ে দিয়ে বললাম, আমিতো কোন তোতলামি দেখছি না। আপনি চমৎকার কথা বলে যাচ্ছেন। “বিয়ের পর আমার তোতলামি সেরে যায়। বিয়ের আগে প্রচণ্ড রকম ছিল। অনেক চিকিৎসাও করছি। মার্বেল মুখে নিয়ে কথা বলা থেকে শুরু করে হোমিওপ্যাথি ওষুধ, পীর সাহেবের তাবিজ- কিছুই বাদ দেই নাই। যাই হোক- গল্পে ফিরে যাই, আমার সাবসিডিয়ারি ছিল ম্যাথ এবং কেমিস্ট্রি। 

কেমিস্ট্রি সাবসিডিয়ারিতে একটা মেয়েকে দেখে আমার দম বন্ধ হয়ে যাবার মত অবস্থা হল। কি মিষ্টি চেহারা! দীর্ঘ পল্লব, ছায়াময় চোখ। সেই চোখ সবসময় হাসছে। ভাই, আপনি কি কখনো প্রেমে পড়েছেন?” “জি-না।” “প্রেমে না পড়লে আমার সেই সময়কার মানসিকতা আপনাকে বুঝাতে পারব না। আমি প্রথম দিন মেয়েটিকে দেখেই পুরপুরি অসুস্থ হয়ে পড়লাম। সারা রাত ঘুম হল না। প্রচণ্ড পানির পিপাসায় একটু পরপর গলা শুকিয়ে যায়। পানি খাই আর মহসিন হলের বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করি। সপ্তাহে আমাদের দু’টা মাত্র সাবসিডিয়ারি ক্লাস। রাগে-দুঃখে আমার কাঁদতে ইচ্ছে করে। প্রতিদিন একটা করে সাবসিডিয়ারি ক্লাস থাকলে কি ক্ষতি হত? সপ্তাহে দু’টা ক্লাস মানে পঞ্চাশ মিনিট করে একশ মিনিট। এই একশ মিনিট চোখের পলকে শেষ হয়ে যায়। তা ছাড়া মেয়েটা খুব ক্লাস ফাঁকি দেয়। এমন হয়েছে সে পরপর দু-সপ্তাহ কোন ক্লাস করল না। 

তখন আমার ইচ্ছে করে লাফ দিয়ে মহসিন হলের ছাদ থেকে নিচে পরে সমস্ত জ্বালা-যন্ত্রণার অবসান ঘটাই। সে কি ভয়াবহ কষ্ট আপনি বুঝবেন না। কারন আপনি কখনো প্রেমে পরেন নি।” “মেয়েটার নাম তো বললেন না, তার নাম কি?” “তার নাম রূপা। সে সময় আমি অবিশ্যি তার নাম জানতাম না। নাম কেন- কিছুই জানতাম না। কোন ডিপার্টমেন্টের ছাত্রী তাও জানতাম না। শুধু জানতাম তার সাবসিডিয়ারিতে ম্যাথ আছে এবং সে কাল রঙের একটা মরিস মাইনর গাড়িতে করে আসে। গাড়ির নম্বর- ভ৮৭৮১।” “আপনি তার সম্পর্কে কোনোরকম খোঁজ নেন নি?” “না। খোঁজ নেই নি। কারন আমার সব সময় ভয় হত খোঁজ নিতে গেলেই জানব- মেয়েটির হয়তোবা কারো সঙ্গে ভাব আছে। 


একদিনের একটা ঘটনা বললেই আপনি বুঝতে পারবেন- সাবসিডিয়ারি ক্লাস শেষে হঠাত লক্ষ্য করলাম মেয়েটা হেসে-হেসে একটা ছেলের সঙ্গে গল্প করছে। আমার সমস্ত শরীর কাঁপতে লাগলো। মনে হল আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাব। ক্লাস বাদ দিয়ে হলে এলাম এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সমস্ত শরীর কাঁপিয়ে আমার জ্বর এসে গেল।” “আশ্চর্য তো।” “আশ্চর্য তো বটেই। পুরো দু বছর আমার এভাবেই কাটল। পড়াশোনা মাথায় উঠল। 

তারপর একদিন অসীম সাহসের কাজ করে ফেললাম। মরিস মাইনর গাড়ির ড্রাইভারের কাছ থেকে বাড়ীর ঠিকানা জেনে নিলাম। তার পর মেয়েটিকে সম্বোধনহীন একটা চিঠি লিখলাম। কি লিখলাম এখন আর মনে নেই। তবে চিঠির বিষয় বস্তু হচ্ছে- আমি তাকে বিয়ে করতে চাই। তাকে রাজি হতেই হবে। রাজি না হওয়া পর্যন্ত আমি তাদের বাড়ীর সামনে না খেয়ে পড়ে থাকব। 
যাকে পত্রিকার ভাষায় বলে ‘আমরন অনশন’। গল্পটা কি আপনার কাছে ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে?” “হ্যাঁ হচ্ছে। তারপর কি হল বলুন। চিঠি ডাকে পাঠিয়ে দিলেন?” “না। নিজের হাতে করে নিয়ে গেলাম। ওদের বাড়ীর দারোয়ানের কাছে দিয়ে বললাম, এ বাড়ীর একজন আপা আছেন না- ইউনিভার্সিটিতে পরেন- তার হাতে দিয়ে এসো।

দারোয়ান লক্ষ্মী ছেলের মত চিঠি নিয়ে চলে গেল এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে এসে বলল, আপা বলেছেন তিনি আপনেরে চিনেন না। আমি বললাম তিনি ঠিকই বলেছেন, তবে আমি তাকে চিনি। এটাই যথেষ্ট। এই বলে আমি গেটের বাইরে খুঁটি গেরে দাঁড়িয়ে গেলাম। বুঝতেই পারছেন- নিতান্তই পাগলের কাণ্ড। সেই সময়ে মাথা আসলেই বেঠিক ছিল। লজিক নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। 

যাই হোক, সকাল ন’টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত কোনোরকম ঘটনা ছাড়াই গেটের সামনে দাঁড়িয়ে রইলাম। লক্ষ্য করলাম দু’তালার জানালা থেকে মাঝে মাঝে কিছু কৌতূহলী চোখ আমাকে দেখছে। বিকেল চারটায় এক ভদ্রলোক বাড়ি থেকে বের হয়ে কঠিন গলায় বললেন, যথেষ্ট পাগলামি হয়েছে। এখন বাড়ি যাও। আমি তার চেয়েও কঠিন গলায় বললাম, যাব না। পুলিশে খবর দিচ্ছি। 

পুলিশ এসে তোমাকে ধরে নিয়ে যাবে। কোন অসুবিধা নেই, খবর দিন। ইউ রাস্কেল, মাতলামি করার জায়গা পাও না? গালাগালি করছেন কেন? আমিতো আপনাকে গালি দিচ্ছি না। ভদ্রলোক রাগে জ্বলতে জ্বলতে বাড়ীর ভেতর চলে গেলেন। তার পরপরই শুরু হল বৃষ্টি। ঢালাও বর্ষণ। আমি ভিজছি নির্বিকার ভঙ্গিতে। সঙ্গে-সঙ্গে বুঝছি যে জ্বর এসে যাচ্ছে। সারাদিন রোদে পোড়ার পড়ে এই ঠাণ্ডা বৃষ্টি সহ্য হবে না। তখন একটা বেপরোয়া ভাব চলে এসেছে- যা হওয়ার হবে। 



ক্ষুধায়, ক্লান্তিতে শরীর অবসন্ন। মাঝে মাঝেই মনে হচ্ছে এই বুঝি মাথা ঘুরে পড়ে গেলাম। ইতিমধ্যে আমি আশেপাশের মানুষদের কৌতূহলী দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছি। বেশ কয়েকজন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে? এখানে দাঁড়িয়ে ভিজছেন কেন? আমি তাদের সবাইকে বলেছি, আমাকে নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। আমি একজন পাগল মানুষ। মেয়েটির বাড়ি থেকেও হয়ত টেলিফনে এই ঘটনার কথা কাউকে কাউকে জানানো হয়েছে। 

তিনটি গাড়ি তাদের বাড়িতে এল। গাড়ির আরোহীরা রাগি ভঙ্গিতে আমার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে বাড়ির ভেতর ঢুকলেন। রাত ন’টা বাজল বৃষ্টি এক মুহূর্তের জন্যও থামল না। জ্বরে আমার গা পুড়ে যাচ্ছে। দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। পা ছড়িয়ে বসে পড়লাম। দারোয়ান এসে আমাকে ফিসফিস করে বলল, সাহেব পুলিশ আনতে চাইতেছেন, বড় আফা রাজি না। 

বড় আফা আপনের অবস্থা দেইখ্যা খুব কানতাছেন। টাইট হইয়া বইসা থাকেন। আমি টাইট হয়ে বসে রইলাম। রাত এগারটা বাজল। ওদের বারান্দায় বাতি জ্বলে উঠল। বসার ঘরের দরজা খুলে মেয়েটি বের হয়ে এল। মেয়েটির পেছন-পেছন ওদের বাড়ীর সব ক’জন মানুষ। ওরা কেউ বারান্দায় নামল না। মেয়েটি একা এগিয়ে এল।

আমার সামনে এসে দাঁড়াল এবং অসম্ভব কোমল গলায় বলল, কেন এমন পাগলামি করছেন? আমি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলাম। কারন এই মেয়ে সেই মেয়ে নয়। অন্য একটি মেয়ে। একে আমি কোনদিন দেখি নি। মরিস মাইনর গাড়ির দ্রাইভার আমাকে ভুল ঠিকানা দিয়েছে। হয়ত ইচ্ছে করেই দিয়েছে। মেয়েটি নরম গলায় বলল, আসুন, ভেতরে আসুন। টেবিলে খাবার দেয়া হয়েছে। আসুন তো। 

আমি উঠে দাঁড়ালাম। বলতে চেষ্টা করলাম, কিছু মনে করবেন না। আমার ভুল হয়ে গেছে। আপনি সেই মেয়ে নন। আপনি অন্য একজন। মেয়েটির মমতায় ডুবানো চোখের দিকে তাকিয়ে এই কথা বলা সম্ভব হল না। এত মমতা নিয়ে কোন নারী আমার দিকে তাকায় নি। জ্বরের ঘোরে আমি ঠিকমতো পা ফেলতে পারছিলাম না। মেয়েটি বলল, আপনার বোধয় শরীর খারাপ। আপনি আমার হাত ধরে হাঁটুন। কোন অসুবিধা নেই। 

বাসার সবাই বারান্দায় দাঁড়িয়ে কঠিন চোখে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের সবার কঠিন দৃষ্টি উপেক্ষা করে মেয়েটি হাত বাড়িয়ে দিল। যে গভীর ভালোবাসায় হাত বাড়াল সে গভীর ভালোবাসা উপেক্ষা করার ক্ষমতা ঈশ্বর মানুষকে দেন নি। আমি তার হাত ধরলাম। এই কুড়ি বছর ধরে ধরেই আছি। মাঝে-মাঝে একধরনের অস্থিরতা বোধ করি। ভ্রান্তির এই গল্প আমার স্ত্রীকে বলতে ইচ্ছে করে। বলতে পারি না। 

তখন আপনার মতো অপরিচিত কাউকে খুঁজে বের করি। গল্পটা বলি। কারন আমি জানি- এই গল্প কোন দিন আমার স্ত্রীর কানে পৌঁছাবে না। আচ্ছা ভাই, উঠি। আমার ট্রেন এসে গেল।” ভদ্রলোক উঠে দাঁড়ালেন। দূরে ট্রেনের আলো আলো দেখা যাচ্ছে। রেললাইনের ঘড়ঘড় শব্দ উঠছে। ট্রেন সত্যি-সত্যি এসে গেল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/142794/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Sep 2022 17:43:30 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>‘ভাই, আপনি কি একটা ইন্টারেস্টিং গল্প শুনতে চান?” আমি ভদ্রলোকের দিকে অবাক হয়ে তাকালাম। কিছুক্ষণ আগে তার সঙ্গে আলাপ হয়েছে– তাও এমন কোন আলাপ না। আমি ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি কিনা জানতে চাইলেন। আমি বললাম ‘হ্যাঁ’ এবং ভদ্রতা করে জানতে চাইলাম আপনি কোথায় যাচ্ছেন? ভদ্রলোক হাসিমুখে বললেন, আমি কোথাও যাচ্ছি না। আমি আমার স্ত্রীকে রিসিভ করতে এসেছি।<br />
ও চিটাগাং&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-142794"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/142794/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">08637386a4dccb6a130665fdec085435</guid>
				<title>সে আজ অনেক দিন আগের কথা। এক হাজার কি দেড় হাজার বছর তো হবেই। প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স বলে একটা জায়গা ছিল। এথেন্স কিছু অপরিচিত নাম নয়, সবাই এর নাম শুনেছে ইতিহাসে। এথেন্সে একটা পাহাড় ঘেরা ছোট্ট গ্রামে এক জঙ্গলের মধ্যে পুরনো একটা বাড়ি ছিল। অবশ্য বাড়িটি অনেকদিন ধরে খালি পড়ে ছিল। এক নির্জন পাহাড়ি অঞ্চল তার ওপর জঙ্গল দিয়ে ঘেরা পরিবেশ এবং লোকজন পরিতক্ত। লোকজন না থাকলেও বাড়িটা কিন্তু খুব একটা ভাঙাচোরা অবস্থায় ছিল না অর্থাৎ ইচ্ছে করলে পরিষ্কার করে সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়ে বসবাস করা যায়। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার ওই বাড়ির মালিক কিন্তু হাজার চেষ্টা করেও অনেকদিন পর্যন্ত কাউকে বাড়িটা ভাড়া দিতে পারেনি ।আসলে পাহাড়ের উপর নির্জন জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত বাড়িটার বেশ কিছু বদনাম হয়ে গিয়েছিল । একবার এক শান্তিপ্রিয় ভদ্রলোক এই বাড়িটা দেখে লোভ সামলাতে না পেরে ছুটি কাটাবার জন্য ওই কুটিতে এক রাত কাটাতে আসেন। কিন্তু পরদিন সকালে দেখা গেল লোকটির মৃতদেহ পড়ে আছে কুটির দালানে । প্রথম প্রথম ব্যাপারটা নিয়ে তেমন কেউ মাথা ঘামায় নি, তবে যারা তাঁর মৃতদেহ দেখে ছিল তাদের মধ্যে কিছু সন্দেহ দানা বেঁধেছিল।

কারন মৃত্যুর পরেও লোকটির চোখ মুখে একটা অস্বাভাবিক ভয় লেগেছিল। আর চোখ দুটো ভয়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছিল। কিন্তু পরে মানে বেশ কিছুদিন পর আর একজন সৈনিক ধরনের লোক বাড়িতে এসেছিল রাত কাটাতে। লোকটি ছিল অসম্ভব সাহসী। তিনি প্রাণ হারাননি ঠিকই কিন্তু তার মুখ থেকে রাতের অভিজ্ঞতা যা শোনা গিয়েছিল তা ছিল রীতিমতো ভয়াবহ।

খাওয়া-দাওয়া সেরে রাত্রে সবেমাত্র তিনি ঘুমোতে গিয়েছিলেন এমন সময় হঠাৎ সে দেখতে পেলো ছাই রঙের দাড়িওয়ালা চেহারার বিশাল এক বুড়ো হাতে পায়ে শিকল পরা অবস্থায় তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ চেহারা থেকে কেমন এক ধরনের গো গো আওয়াজ বেরোচ্ছিল। সৈনিক পুরুষটি মারা যায়নি, কিন্তু অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল । পরদিন জ্ঞান ফিরে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বাড়িটি ছেড়ে সে পালিয়ে যায়। সৈনিকটির মুখে শোনার পর সারা গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। এমনকি দিনের বেলাতেও আর কোনও সাহসী লোক ঐ বাড়ীর দিকে পা মাড়ায়নি।

‘ভূতের বাড়ি’ তকমা লেগে গেল। এই বাড়িটির মালিক এই বাড়িটি ভাড়া দিয়েই নিজের সংসার চালাতো। কিন্তু যেই মুহুর্তে ভুতুড়ে বদনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল তারপর থেকে আর কেউই এই কুঠিটা ভাড়া নিতে রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত কুঠির মালিক জলের দরে বিক্রি করে দিতে চাইলেন কুঠিটাকে। কিন্তু কিনবে কে? শখ করে ভুতের হাতে প্রাণ দিতে কে আসবে?  তবু একজন রাজি হল। কুঠির মালিক একজন খদ্দের পেলেন। লোকটি ছিলেন তখনকার দিনের একজন নামকরা দার্শনিক। দার্শনিক মানুষেরা সাধারণত নির্জন জায়গা পছন্দ করেন। তারা যুক্তি-তর্ক দিয়ে সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করতে ভালোবাসেন।লোকমুখে এই কুঠিটির কথা শুনেই দার্শনিক লোকটি ওখানে এসেছিল। কিন্তু তিনি মনেপ্রাণে কোন অলৌকিক ব্যাপার বিশ্বাস করতে চাইতেন না। তিনি স্থির করলেন বাড়িতে গিয়ে তিনি উঠবেন। মানুষের মধ্যে ভুতের সংস্কারকে উড়িয়ে দেবেন। কুঠির মালিকের কাছে গিয়ে তিনি কুঠিটির কেনার কথা জানালেন। কুঠির মালিক যেন হাতে স্বর্গ পেলেন। সে ধরে নিয়েছিল যে এমন ভূতের বাড়ি কোনদিনও ভাড়া হবে না বা বিক্রি হবে না। তাই দার্শনিক ভদ্রলোকের প্রস্তাব শুনে আকাশ থেকে পড়ল সে। সঙ্গে সঙ্গে জলের দরে বাড়িটি বিক্রি করে হাফ ছাড়লেন তিনি। 

যুক্তি ছাড়া দার্শনিকেরা চলেন না। যা চোখে দেখা যায় না, হাত দিয়ে ছোঁয়া যায় না অথবা অন্তর দিয়ে দেখেও উপলব্ধি করা যায় না, তেমন কিছু কখনো দার্শনিকেরা বিশ্বাস করে না। নিজের সব জিনিসপত্র নিয়ে গিয়ে দার্শনিক ভদ্রলোক উঠলেন সদ্য কেনা সেই বাড়িতে। সারাদিন ধরে নিজের হাতে সবকিছু গোছালেন। নিজের হাতেই সব কাজ করতে হয়েছিল কারণ বাড়িটির এমন বদনাম হয়েছিল যে, বেশি পয়সার লোভ দেখিয়েও কোন চাকর-বাকর রাখতে পারেননি তিনি।যাইহোক সারাদিন পরিশ্রমের পর দার্শনিক ভদ্রলোক বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। খুব একটা খাবার ইচ্ছে না থাকলেও রাতে সামান্য রুটি মাংস আর কফি দিয়ে রাতের আহার শেষ করলেন। তারপর তিনি গিয়েছিলেন তার ছোট্ট বিছানায়। মাথার কাছে সেকেলে ধরনের একটা জানালা ছিল। সেটা খুলেই রাখলেন, গরমের দিন রাতের ফুরফুরে হাওয়ায় অত্যন্ত ক্লান্ত দেহে বাতি নিভিয়ে শোয়ার সাথে সাথেই তিনি গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলেন।

 কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলেন কে জানে? হঠাৎ, একটা অদ্ভূত আওয়াজ আর অস্বস্তির মধ্যে তার ঘুমটা ভেঙে গেল। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন মানুষের হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে প্রকৃতিস্থ হতে সময় লাগে। ভদ্রলোকেরও সামান্য সময় লাগল। তিনি কোথায় আছেন? কেমন ভাবে আছেন এটুকু বুঝতে। তারপর তার সবকিছু একে একে মনে পড়ল তিনি নতুন বাড়িতে এসেছেন আর নতুন বাড়িতে এটাই তার প্রথম রাত্রিবাস মনে পরতে লাগল।

কান খাড়া করে অদ্ভুত আওয়াজ আর অস্বস্তিটা বোঝার চেষ্টা করতে লাগলেন 2-3 মিনিট মরার মত পড়ে থেকে, তিনি বুঝলেন আওয়াজটা অনেকটা শেকলের আওয়াজের মত। কিন্তু খুব অস্পষ্ট। কে যেন অনেক দূর থেকে শেকল টেনে টেনে আসছে। ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকালেন দার্শনিক ভদ্রলোক। জমাট অন্ধকার সারা ঘরে ছড়িয়ে আছে, মাথার কাছের জানালা দিয়ে কেবল আকাশ টুকু দেখা যায়। অবশ্য সেই সময় আকাশটাকে আলাদা করে চেনা যাচ্ছিল না। আকাশের রং ঘরের রং এক হয়ে গিয়েছিল।

দার্শনিক ভদ্রলোক কিন্তু চট করে বিছানা ছেড়ে উঠে বসলেন না। তিনি লক্ষ্য করতে চাইলেন ব্যাপারটা কি? আরও একটা অস্বস্তি তিনি অনুভব করলেন। সমস্ত ঘরের বাতাস যেন স্তব্ধ হয়ে আসছে। একটা দমবন্ধ করা গুমোট পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকটা সময় যখন এইভাবে কেটে গেল, আর জমাটবাঁধা অন্ধকারটা যখন ধীরে ধীরে সয়ে এল হঠাৎই তিনি আবিষ্কার করলেন হাতে-পায়ে শেকলবাঁধা একটা অস্পষ্ট ছায়ামূর্তি আস্তে আস্তে ভেসে উঠছে। হাত নেড়ে সেই ছায়ামূর্তিটা কি যেন বলতে চাইছে তাকে। দুটো চোখ থেকে যেন জ্বলন্ত আগুনের আভা বেরোচ্ছে। দার্শনিক ভদ্রলোক ছিলেন প্রচন্ড রকমের সাহসী। এই ভয়ানক দৃশ্য দেখেও তিনি ভয় না পেলেও একটা অদ্ভুত বিস্ময় তাকে কিছুক্ষণের জন্য আচ্ছন্ন করে ফেললো।

তিনি বুঝতে চেষ্টা করলেন জিনিসটা কি? কোনো ভয়ঙ্কর দানব, নাকি কোন অসৎ মানুষ ওইভাবে সাজগোজ করে এসে তাকে ভয় দেখাচ্ছে! শুয়ে শুয়ে এসব নানান যুক্তিতর্ক যখন তার মনে ঝড় তুলেছে তখনই তিনি দেখলেন সেই হাতে পায়ে শিকল পরা ছায়ামূর্তিটা ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসছে। মূর্তিটার দু-চোখ তখনও জ্বলছে। সে যেন মুখ হাঁ করে আর হাত-পা নেড়ে কিছু বলতে চাইছে তাকে। তার হাত-পা নাড়ার সাথে সাথে শেকলের ঝনঝন আওয়াজটাও ক্রমাগত শব্দ তুলছিল। অন্য কেউ হলে এতক্ষণ নিশ্চয় অজ্ঞান হয়ে যেত অথবা দুর্বল হলে মৃত্যু হত। কিন্তু অত্যন্ত সাহসী এই দার্শনিকের কিছুই হল না। বরং তিনি যেমন ছিলেন সেই ভাবেই তাকিয়ে রইলেন ছায়ামূর্তি টার দিকে। আসলে তিনি দেখতে চাইছিলেন মূর্তিটা এরপর কি করে?

এক মুখ দাঁড়ি গোঁফের জঙ্গল আর এক মাথা চুলে মূর্তি টাকে তখন বেশ ভয়াবহ মনে হচ্ছিল। তার ওপর তার হাতের নখ গুলো বেশ বড় বড়। হাতের তীক্ষ্ণ আর বড় বড় নখ দেখে দার্শনিক ভদ্রলোকের মনে একটা অন্য ধরনের ভয়ের উদয় হল। মৃত্যুর পর আত্মা মানুষের কতটা ক্ষতি করতে পারে সে সম্বন্ধে তার কোনো ধারনাই ছিল না। এমন কিছু পৃথিবীতে আছে বলেও তার বিশ্বাস ছিল না। চোর-ডাকাত ভূতের চেয়ে বেশি ক্ষতি করে বলে তিনি মনে করেন।

কিন্তু এখন, এখন তিনি কী করবেন? এই বিপদ থেকে আত্মরক্ষার উপায় ভাবছিলেন যখন হঠাৎ সেই সময়ে দার্শনিক ভদ্রলোক লক্ষ্য করলেন মূর্তিটি আর এক পা এগিয়ে এসে ক্রমাগত পিছু হটতে লাগল। একসময় সে ঘর পরিত্যাগ করল।অশরীরী মূর্তিটিকে পিছিয়ে যেতে দেখে দার্শনিক ভদ্রলোকটি পূর্বের অবস্থা ত্যাগ করে বিছানা ছেড়ে উঠলেন। তারপর নিজের ঘর ছেড়ে বাইরে এসে দাঁড়ালেন। অদ্ভুত বা আজব যাইহোক তিনি লক্ষ্য করলেন ব্যাপারটা। মূর্তিটি ধীরে ধীরে নিচে নেমে এল।তারপর উঠোনের ঠিক মাঝবরাবর গিয়ে হঠাৎই যেনো কর্পূরের মতো মিলিয়ে গেল। দার্শনিক একবার চিৎকার করে বললেন “কে” “কে” বলে। কিন্তু উত্তরে কেবল অনেক দূর থেকে ভেসে আসা অস্পষ্ট গোঙানি ছাড়া আর কিছুই শুনতে পেলেন না। যে জায়গায় মূর্তিটা অদৃশ্য হয়েছিল সেখানে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে কি যেন ভাবলেন। তিনি আরো দু-একবার ডাকাডাকি করেও কারো কিছু উত্তর পেলেন না। বিফল মনোরথ হয়ে তিনি ঘরে এসে শুয়ে পড়লেন। বাকি রাতটি তিনি ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা করতে করতে কাটিয়ে দিলেন।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে গত রাতে ঠিক যে জায়গা থেকে মূর্তিটা অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল সেখানে এসে অনেক কিছু পর্যবেক্ষণ এর দৃষ্টিতে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে লক্ষ করতে লাগলেন। কিন্তু দিনের বেলায় কোনকিছুই তার অস্বাভাবিক মনে হল না। পাহাড়ের টিলায় এই বাড়িটা ছিল লোকালয় থেকে বেশকিছু দূরে। তার উপর ‘ভুতুড়ে’ বদনামের জন্য, লোকজন এমনকি কোনও সাহসী পুরুষ এই বাড়ির ত্রিসীমানায় আসতে ভয় পায়।নির্বান্ধব এই পরিবেশে দার্শনিক ভদ্রলোক আবার তন্ময় হয়ে গেলেন নিজের পড়াশোনায়। প্রায় সারাদিনই বইয়ের জগতে ডুবে থাকলেন ফলে রাতের অশরীরী আর অদ্ভূত ঘটনার কথা প্রায় ভুলেই গেলেন। রাতের খাওয়া দাওয়া সেরে যখন বিছানায় শুতে এলেন তখনই আরেকবার গত রাতের ঘটনার কথা মনে পড়ল। কিন্তু ঘটনাটি তিনি তেমন আমল দিলেন না। ভাবলেন অত্যধিক ক্লান্তি আর চিন্তাগ্রস্থ থাকার জন্য আধা-ঘুম আধা-জাগা অবস্থায় কি দেখতে দেখতে কি দেখেছিলেন!বিছানায় শোয়ার সাথে সাথে ঘুম না এলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলেন। সবকিছুকে অলীক বলে উড়িয়ে দিলেও, আজ রাতেও গত রাতের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল। এমনকি তারপরের রাতেও একই ব্যাপার ঘটল।পরপর তিনরাত্রি এইভাবে অশরীরীর আবির্ভাব এবং একইভাবে হাত-পা নেড়ে কিছু বলতে চাওয়ার চেষ্টা এবং একইভাবে উঠোনের দিকে একই জায়গায় এসে তার মিলিয়ে যাওয়া বেশ ভাবিয়ে তুলল তাকে। তিনি কিছুতেই বুঝতে পারছিলেন না এটা কেমন করে হচ্ছে, কিভাবে হচ্ছে? অবশেষে চতুর্থ দিন সকালে দার্শনিক কিন্তু আর সবকিছু নিছক কল্পনা বলে উড়িয়ে দিতে পারলেন না। আবার ভয় পেয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েও গেলেন না।

তিনি মনে মনে ভাবলেন নিশ্চয়ই এর মধ্যে অনুসন্ধানের কিছু আছে। সত্যি যদি কোন অশরীরী থেকে থাকে তাহলে সে নিশ্চয়ই তাকে কিছু বলতে চাইছে। আর সবচেয়ে বেশি যেটা তাকে আকৃষ্ট করল সেটা হচ্ছে উঠোনের ওই নির্দিষ্ট স্থানেই কেনইবা প্রতিরাতে অদ্ভুত আর বীভৎস আকৃতির এই মূর্তি উঠোনের ওই বিশেষ জায়গায় এসে হারিয়ে যাচ্ছে? তাহলে ওই জায়গাটিতে নিশ্চয় তাৎপর্যপূর্ণ কিছু আছে। এর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।চতুর্থ দিন সকালে আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে দার্শনিক আর বাড়িতে বসে রইলেন না চলে গেলেন শহরে। প্রথমে তিনি যোগাযোগ করলেন স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে। সব কথা খুলে বললেন। অন্য কেউ হলে হয়তো ম্যাজিস্ট্রেট পাগলের প্রলাপ বলে উড়িয়ে দিতেন। কিন্তু দার্শনিক ওই এলাকায় বেশ পরিচিত ছিলেন। জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমান হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত ছিলেন সকলের কাছে। তাই তার কথাকে খেলায় উড়িয়ে দিতে পারলেন না ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব। কালবিলম্ব না করে তিনি বেশকিছু মুজুর নিয়ে ফিরে এলেন দার্শনিকের কেনা নতুন বাড়িতে।

উঠোনের ঠিক যে জায়গায় এসে সেই অশরীরী মূর্তিটি গত তিন দিন রাত্রে অদৃশ্য হয়েছে সে জায়গাটির মাটি কোপাতে লাগলো মজুরেরা। অবশ্য বেশি দূর মাটি খুঁড়তে হলো না সামান্য কয়েক হাত জমির নিচে পাওয়া গেল একটা আস্ত কঙ্কাল। কঙ্কালটির হাত পা শেকল দিয়ে বাঁধা রয়েছে। পুরু শেকলেও মরচে ধরেছে। ভূত প্রেতে দার্শনিকের কোনদিনও বিশ্বাস ছিল না ঠিকই, কিন্তু সব ঘটনা চাক্ষুষ করে তার বিস্ময়ের সীমা রইল না। ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের পরামর্শে ধর্মীয় নিয়ম কানুন মেনে যথাযথভাবে কবর দেওয়া হল সেই কঙ্কালটিকে।

আর সবথেকে অদ্ভুত ব্যাপার ভালোভাবে ধর্মীয় রীতি মেনে কবরস্থ করার পর আর কোনদিনও ওই বাড়িতে সেই অশরীরী মূর্তির আবির্ভাব ঘটে নি। এরপর দার্শনিক বলেছিলেন আর কোনদিনও কিছু দেখেননি তিনি। কিন্তু তিনি তবুও বাড়িটির ব্যাপারে খোঁজখবর শুরু করলেন।গ্রামের কেউ কিছু ঠিকভাবে বলতে না পারলেও গ্রামের এক বৃদ্ধার মুখে শোনা গেল “অনেকদিন আগে এক বৃদ্ধ ক্রীতদাসকে সামান্য অপরাধের জন্য ওইভাবে হাতে পায়ে শেকল বেঁধে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছিল ওই বাড়িতে” এই ঘটনা সত্য কি মিথ্যা জানার উপায় নেই, তবে দার্শনিক বুঝেছিলেন মৃত্যুর পরে আত্মার আসা-যাওয়া থাকে। আর সে আত্মা যদি অতৃপ্ত হয় তাহলে অশরীরীর রূপ নিয়ে মানুষকে দেখা দিতে চায় হয়তবা অতৃপ্ত আত্মা মুক্তির পথ খুঁজতে চাইছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/142499/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Sep 2022 07:44:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সে আজ অনেক দিন আগের কথা। এক হাজার কি দেড় হাজার বছর তো হবেই। প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স বলে একটা জায়গা ছিল। এথেন্স কিছু অপরিচিত নাম নয়, সবাই এর নাম শুনেছে ইতিহাসে। এথেন্সে একটা পাহাড় ঘেরা ছোট্ট গ্রামে এক জঙ্গলের মধ্যে পুরনো একটা বাড়ি ছিল। অবশ্য বাড়িটি অনেকদিন ধরে খালি পড়ে ছিল। এক নির্জন পাহাড়ি অঞ্চল তার ওপর জঙ্গল দিয়ে ঘেরা পরিবেশ এবং লোকজন পরি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-142499"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/142499/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>