-
তিতলি”
অনিক ভট্টাচার্য্যতিতলি, পেছন থেকে ডাক শুনে হটাৎ চমকে স্নিগ্ধা পেছন ফিরে তাকায়, দেখে কেউ নেই, সব সময় রাব্বি যাওয়ার পর থেকে শুধু লাগে, এই বুঝি রাব্বি ডাকলো, এখনো বিশ্বাস করতে পারছেনা, রাব্বি আর কোনদিন ফিরে আসবে না, আজ প্রায় বছর গড়াতে লাগলো রাব্বি নেই, সেই দিনটির কথা মনে পড়লে উন্মাদের মতো কাঁদতে থাকে স্নিগ্ধা, ছুটে চলে আসে বাড়ির পাশের এ ছোট্ট পার্কটিতে তারপর একাকি বেঞ্চিতে বসে সামনের ফোয়ারা দেখতে দেখতে হারিয়ে যায় সেসব দিনগুলোতে, এখানেই তাদের প্রথম আলাপ ,খুব প্রিয় জায়গা দুজনের ছিলো, বিকেল বেলা হাত ধরাধরি করে বাগানের এ বেঞ্চিতে বসে সামনের ফোয়ারাটার দিকে তাকিয়ে ,কতো গল্প করতো, কতো স্বপ্ন বুনতো আগামীর জন্য, কতো ঝগড়া ,মান অভিমান হতো ,প্রায় ঝগড়া হলে রাব্বি বলতো দেখিস আমি চলে যাবো আর ফিরবো না, তখন হাজারো রাগ থাকলেও
তিতলি নিজের থেকেই সরি বলে উল্টো মানাতো এতে তিতলির কোন দোষ না থাকলেও, এর জন্য মাঝে মধ্যে রাব্বির রাগ কমার বদলে বেড়ে যেতো কারন রাব্বি সবসময় যে ভুলটা করেনি তার জন্য এবং কোন বিষয়ে তিতলি সরি বলুক বা মাথা নত করুক পছন্দ করতো না, দুজন দুজনার সাথে ঝগড়া ,মারামারি আবার একজন অন্যকে ছাড়া চলতে পারতো না, যতকষ্টই হোক বা যত গোপন হোক বা যায় হোক একে অন্যের কাছে কিছু লুকোত না, তারা ঠিক করে রাব্বি একটু নিজ পায়ে দাঁড়ালে দুজন দুজনার ঘরে তাদের সম্পর্কের কথা বলবে, তাহলে বিয়েতে বাঁধা আসবেনা, দরকার হলে অপেক্ষা করবে, কিন্তু পালিয়ে বা পরিবার কে আঘাত দিয়ে বিয়ে করবেনা, বার বার চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে মন খারাপ করে ফিরে আসতো রাব্বি সেদিন কোন কথা বলতো না, কারো ফোন ধরতো না, শেষে স্নিগ্ধা ই খুঁজে আনতো , কোন না কোন পার্কে একাকী চুপচাপ বসে থাকতো, বারবার স্নিগ্ধা অনুপ্রেরণা দিয়ে স্বাভাবিক হতো, অনেক কিছুর পর সে কাঙ্খিত দিনটি এসেই গেলো, একটা প্রেশার কুকার কোম্পানির চাকরি, অনেক উঁচু পোস্ট ,এটা দেখেই রাব্বি বাদ দিয়ে দেয় কারন সাধারণ মাপের চাকরিই হচ্ছে না, তো এটা কি করে হবে? স্নিগ্ধা জোর করে এই বলে পাঠালো এমনি তে বাকি গুলোতে বাদ যায় আর এটা তো জানেই বাদ যাবে তাই এটাতে চাপ নেওয়ার ব্যাপারই নেই, গেলে লাভ না হোক ক্ষতি তো হচ্ছেনা, তাই মন খারাপের ও কিছূ নেই, এভাবে খুব সাধারণ ভাবে, আশা ছাড়ায় যায় তাই কোন প্রস্তুতি ই নিলো না,যাওয়ার সময় কম করে তিন চার বার দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে স্নিগ্ধা কে ডাকে, “তিতলি” বলে, স্নিগ্ধার এ নাম টা রাব্বির দেওয়া, চঞ্চলতার জন্য স্নিগ্ধাকে ভালোবেসে রাব্বি তিতলি ডাকতো,কিন্তু অবাক করার ব্যপার হলো অপ্রত্যাশিত ভাবে সে চাকরি সে পেয়ে যায়, লাখ টাকা মাইনে, এতো খুশিতে মোবাইল টা ইন্টারভিউ টেবিলে ফেলে আসে, অফিস থেকে দ্রুত বের হয়ে, রাস্তা পার হয়ে গাড়িতে উঠতে যাবে, তখন মাথায় এলো একটা ফোন করে জানায়, পকেটে হাত দিতেই মনে পড়ে, অফিসে ফেলে আসার কথা, তারাহুরো করে আবার রাস্তা পার হতে গিয়ে দ্রুত গতিতে আসা বাস খেয়াল করেনি , প্রচন্ড গতিতে আসা বাস মুহূর্তে পিষে দিয়ে চলে যায়,ছিটকে পরে স্বপ্নের চাকরির নিয়োগ পত্র, সহ তার সক্ষমতার মান পত্র গুলো যা এতো দিন কারো কাছে মুল্য ছিলোনা, আর মূল্যবান হয়েও ছিটকে গেলো, হাসপাতাল নেওয়ার আগেই সব শেষ, রক্তাক্ত রাব্বির দেহ দেখে, স্নিগ্ধা কাঁদতে ভুলে যায় অনেকক্ষণ পাথর হয়ে যায়, তারপর থেকে স্নিগ্ধা এখনো মানতে চাইনা রাব্বি সত্যি বারবার যায়যায় বলতে সত্যি এবার চলে গেলো, বারবার লাগে পেছন থেকে এই বুঝি রাব্বি ডাকলো”তিতলি” এই তিতলি পিছনে তাকা , মনে হয় স্বপ্ন দেখছে, এক্ষুনি রাব্বি এসে ডাকবে “তিতলি” এ্যাই তিতলি ওঠ , কুম্ভকর্ণ আর কতো ঘুমোবি?2 Comments
Friends
Md-Zahidul-Islam-Prince
@md-zahidul-islam-prince
মীর অনাবিল
@miranabil
Mohammad-Rakibul-Hasan
@mohammad-rakibul-hasan
Tahmina-Shikha
@tahmina-shikha
MD-Naimul-Islam
@md-naimul-islam
charumannan
@charumannan
Mehebub-Hasan
@mehebub-hasan
Omar Faruk Rayhan
@rayhanpoet
Arif Muslimeen
@arif-muslimeen



অভিনন্দন