Profile Photo

Faruk-AhmedOffline

  • Faruk-Ahmed
  • Profile picture of Faruk-Ahmed

    Faruk-Ahmed

    4 years ago

    হে অবুঝ তোমার ভালবাসা মি‌থ্যে
    তোমার আত্ম ব‌লিদা‌নে মা”বাবাই কাঁদ‌ছে
    =================================
    ।। ফারুক আহ‌মেদ।।
    হে অবুঝ; তু‌মি কি তোমার পিতা মাতার কাঁন্না শুন‌তে পাও। তোমার আত্ম ব‌লিদা‌নে কার কি ক্ষ‌তি। ভে‌বে দে‌খে‌ছো?তোমার চ‌লে যাওয়ায় তোমার বাবা হা‌রি‌য়ে‌ছে প্রিয় সন্তান‌কে। মা হারা‌লো গ‌র্ভের ধন‌কে। বন্ধুরা, পাড়া প্রতি‌বেশীরাও আজ কাঁদ‌ছে ‌তোমার চ‌লে যাওয়ায়। যে ভালবাসার জন‌্য তু‌মি জীবন দি‌লে সে‌টি ভালবাসা নয়। শুধু মা”বাবাই তোমায় ভালবা‌সে আর কেউ নয়।
    আত্মহত‌্যা, খুন, গুম কত খবরই আমরা নিত‌্য লি‌খে থা‌কি। প্রতি‌টি ঘটনার কোন না কোন কারণ খোঁজার চেষ্টা ক‌রি। যখন স্কুল ক‌লেজ পড়ুয়া ছে‌লে মে‌য়ের আত্মহত‌্যার খবর শ‌ু‌নি খুব খারাপ লা‌গে, কষ্ট লা‌গে। আর তা য‌দি আমার আপনার প্রিয় বিদ‌্যা‌পিঠের কোন ছে‌লে বা মে‌য়ে হয় তাহ‌লে তো কথাই নেই। আমার কা‌ছে স্কুল ক‌লেজ পড়ুয়া এ ছে‌লে মে‌য়ে‌দের এসব ঘটনার কারন ‌পে‌য়ে‌ছি খুব সাধারণ। জানলাম খুলনার পিপলস জুট মিলস হাই স্কু‌লে ক‌লেজ পড়ুয়া এক ছাত্র আত্মহত‌্যা ক‌রে‌ছে। সে ভালবা‌সে তার সহপা‌ঠি‌কে। সহপা‌ঠির বি‌য়ে ঠিক হ‌য়ে‌ছে। একথা শু‌নেই ফ‌্যা‌নে ঝু‌লে আত্মহন‌নের পথ বে‌ছে নিল ছে‌লে‌টি। এক‌টি বারও তার ম‌নে হয়‌নি সে কী কর‌ছে? বাবা জুট মি‌লের শ্রমিক। কত ক‌ষ্টে তা‌কে বড় কর‌ছে। কে জা‌নে এ ছে‌লে‌টি হয়ত হ‌তে পার‌তো কোন অ‌ফিসার। বাবা মার অভাব মোচন হতেও পার‌তো ওকে দি‌য়ে। এমন চ‌লে যাওয়ায় শুধু ওর মা বাবাই নয়, সমাজ‌ এমন‌কি দেশ‌ও হতাশায় প‌ড়ে যায়। দুঃখজনক এমন ঘটনা যা‌তে আর না হয় সেজন‌্য আমাদের প্রত্যেক অ‌ভিভাবক‌কে আ‌রো বে‌শি স‌চেতন হ‌তে হ‌বে। ও অবুঝ ও ভূল‌টি ক‌রেই ফেল‌লো। সক‌লের স‌চেতন হওয়ান জন‌্য এক‌টি স‌চেতন বার্তা গল্পাকা‌রে বল‌ছি, একটু কষ্ট ক‌রে শুনুন। সে‌দিন আ‌মি বা আমরা ৯ম শ্রেণী‌র সাই‌ন্স শাখার বিজ্ঞা‌নের ক্লাসের অ‌পেক্ষা কর‌ছি। আমা‌দের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক শিকদার আতাহার উ‌দ্দিন স‌্যার ক্লা‌সে প্রবেশ কর‌লেন। ক্লা‌সে আ‌নিস, নঈম, তৌ‌ফিক, ম‌নির, আ‌মিসহ আমা‌দের বান্ধবীরা র‌য়ে‌ছে। যা‌দের নাম ম‌নে আস‌ছে, আবার আস‌ছে না এমন। আমরা সাধারনত অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ছে‌লে মে‌য়ে ডিভাই‌ডেট ক্লাস ক‌রে‌ছি। মে‌য়ে‌দের সকা‌লে আমা‌দের দুপু‌রে। সে কার‌ণে মে‌য়ে‌দের সা‌ন্নিন্ধ‌্য পাই‌নি। য‌রি ফ‌লে ও‌দের প্রতি আমা‌দের আগ্রহ থাক‌তো খুব বে‌শি। আ‌মি ছোট বেলা থে‌কেই খুব নরম প্রকৃ‌তির মানুষ ছিলাম। দুঃষ্টু‌মিতে খুব একটা আগ্রহ কম থাকত। আমা‌দের কিছু বন্ধু চঞ্চল ছিল। ওরা ক্লা‌সে আ‌গে ভা‌গেই আসত। পাশেই স্কু‌লের মস‌জিদ। ওখা‌নে বহু ধর‌ণের গাছপালা, ফলগা‌ছের ক‌চি ফল যেমন আম, পে‌পে, পে‌পের পাতা মে‌য়ে‌দের টে‌বি‌লে ছি‌টি‌য়ে রাখ‌লো। স‌্যার ক্লা‌সে ঢু‌কেই বেত নি‌য়ে চ‌টে গে‌লেন। কে ক‌রে‌ছে খুজ‌তে লাগ‌লেন। যে ক‌রে‌ছে সে‌তো আ‌ছেই খু‌জে পে‌লেন না স‌্যার। নিরুপায় হ‌য়ে স‌্যার ক্লাস শুরু কর‌লেন। এ‌দি‌নের ক্লাস‌টি অন‌্যরকম ছিল। রেগুলার ক্লা‌সের মত নয়। স‌্যার শুরু কর‌লেন এভা‌বে শোন আজ তো‌দের যে বয়স এ বয়স‌টি আমার বা আমা‌দেরও ছিল। আমা‌দের প্রেমের ই‌চ্ছে হত। লু‌কি‌য়ে পাতায় প্রেমপত্র লেখা আমরাও ক‌রে‌ছি। স‌্যার এ‌দিন পু‌রো বন্ধুর মত গল্প বলা শুরু কর‌লেন। বল‌লেন তো‌দের এ বয়স‌টি ভূ‌লের। এ সময়‌টি‌তে মানুষ ভূল ক‌রে থা‌কে। পছ‌ন্দের লোক‌টির চুল উড়‌লে ভাল লাগ‌বে, হাট‌লে ভাল লাগ‌বে। তা‌কে পে‌তে খুব ই‌চ্ছে কর‌বে। যারা পছন্দ‌কে পে‌তে এ ভূল প‌থে এগো‌বে দেখ‌বি তাই ঝ‌ড়ে প‌ড়ে‌ছে। তো‌দের অ‌নেক সম্ভাবনা। তো‌দের মধ‌্য থে‌কে কেউ ডাক্তার, ই‌ঞ্জি‌নিয়ার, জজ, ব‌্যা‌রিষ্ট্রার বা রাস্ট্র প‌রিচালনা কর‌বে। এখন তো‌দের প্রেমের সময় না । এসময়‌টি খুব ক‌ঠিন। বিজ্ঞা‌নের ভাষায় জ‌টিল। এ জ‌টিল সময় অ‌তিক্রা‌ন্তের সময় হল স‌র্বোচ্চ ডিগ্রী । এর আ‌গের সব সময়ই জ‌টিল। ডিগ্রীর পর সংসার নয় চাকুরীর সন্ধা‌নে ম‌নো‌যোগ বা‌ড়ে। এসময় পিতা মাতা ভাই বোন‌কে ভাল রাখার কথা ম‌নে জে‌গে ও‌ঠে। এসময় বাবা মা বি‌য়ের প্রস্তাব দি‌য়েও বি‌য়ে করা‌তে পা‌রেন না। এসময় এক‌টি উদাহরণ দি‌য়ে স‌্যার ব‌লেন, ধর তো‌দের ভিতর থে‌কে কা‌রো ভাল‌বে‌সেই বি‌য়ের ই‌চ্ছে জাগ‌লো। আস‌লে তোরা বল, তো‌দের কি বি‌য়ের বয়স হ‌য়ে‌ছে? হলই না হয়। বৌ‌কে কি খাওয়া‌বি। বাবা মা‌কে কি খাওয়া‌বি। একটা ভাল চাক‌রি মিল‌বে না। ম‌নে রাখ‌বি তো‌দের সবার বাবা অ‌ফিসার নয়। শ্রমি‌কের ক‌ঠোর শ্রমের বি‌নিম‌য়ে রক্ত পা‌নি করা উপার্জন দি‌য়ে তো‌দের লেখা পড়া কর‌তে, মানুষ কর‌তে বিদ‌্যাল‌য়ে পা‌ঠি‌য়ে‌ছেন। এ‌টি কখনই ভূ‌লে যাস না। যারা একথা‌টি কখনই ভূ‌লে যে যা‌বেনা, সে অ‌নেক বড় হ‌বে। যারা ভূল প‌থে যা‌বে তারা ভূ‌লের খেসারত দি‌তে থাক‌বে। এখন তোমা‌দের একটাই কাজ লেখাপড়া,লেখাপড়া, লেখাপড়া।
    তাই এখনই সময় প্রত্যেক অ‌ভিভাব‌কের স‌চেতন হওয়ার। সক‌লের প্রতি পরামর্শ আপনার সন্তান কার সা‌থে মিশ‌ে কোথায় যায়? ‌কোন নেশায় আসক্ত হ‌চ্ছে কিনা? দরজা বন্ধ ক‌রে কি কর‌ছে? আচরণে কোন প‌রিবর্তন দেখ‌া যা‌চ্ছে কিনা? কার‌ণে অকার‌ণে ঝিমায় কিনা? এগু‌লো খেয়াল রাখুন। রাগ না ক‌রে ভাল ভা‌বে বুঝ দিন। তাহ‌লে এপথ থে‌কে ও‌দের দূ‌রে স‌রি‌য়ে রাখা সম্ভব ।

    4
    1 Comment
    • স্বাগতম লেখক! সুন্দর একটা বিষয় উপস্থাপন করছেন। আমাদের জ্ঞানের বিকাশ হয় মূলত শৈশব থেকে তারুণ্যে, এই সময়টা খুব তাৎপর্যপূর্ণ আমাদের প্রত্যেকের জীবনে। তাই যথাযথ গাইডলাইন পেলে যেমন তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে ঠিক একি ভাবে লাভবান হবে সমাজ। কিন্তু আমরা আবেগ-অনুভূতিকে অগ্রাহ্য করতে পারিনা। এই আবেগ অনুভূতি যত সহজে প্রভাবিত করা যায় তত সহজে নিয়ন্ত্রন করা যায়না। তবে এই আবেগ পরিচালিত হয় ভাবনা থেকে। আর একজন মানুষ কিভাবে ভাবতে শিখবে সেটা নির্ভর করে তার পারিপার্শিক অবস্থানের উপর। তাই নিজেকে পরিশুদ্ধ করার পাশাপাশি আমাদের পরিবেশ সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে। শুভ কামনা রইল।

Friends

Profile Photo
tanvirahmed
@tanvirahmed
Profile Photo
Wahid Ohi
@wahidohi
Profile Photo
Mazharul-Islam-Soykat
@mazharul-islam-soykat
Profile Photo
Sheikh Jabir Bin Osman
@sheikh-jabir
Profile Photo
Tanvir Ala
@tanvirala
Profile Photo
MasudRana
@masudrana
Profile Photo
MD-Uzzal-Sheikh
@md-uzzal-sheikh
Skip to toolbar