-
জাদুকরের প্রতিশোধ
লেখক:- সুহাইম আহমেদ
আমার অনুৃমানই তাহলে ঠিক হলো, গাড়ির পেট্রল পুরোই শেষ। দড়াম করে গাড়ির সামনের হুডটা নামিয়ে দিলো রবার্ট।
অসম্ভব! পাশ থেকে চেঁচিয়ে উঠলো জন।আমি রওয়ানা দেওয়ার আগেই পেট্রল চেক করেছি। পুরো ফুল ছিল।
কিন্তুু, দূরত্বটাও তো দেখতে হবে।সাড়ে তিনশত কিলো…
হু,গম্ভীরস্বরে বলল জন।এতো লং রুটে এই ভাঙাচুরা গাড়িটা নিয়ে বের হওয়াই ঠিক হয়নি।তোমার বুদ্ধিতেই তো এটা হলো।
তোমার সাথে অযথা তর্কে যেয়ে লাভ নেই।এখন চিন্তার বিষয়, কিভাবে এই রাতটা কাটাবো। বিকেল তো প্রায় শেষ হয়ে এলো।
রবার্ট আর জন দুই বন্ধু।দু’জনেই একই স্কুলের একই ক্লাসে পড়ে।শীতের ছুটিতে ক্যালোফর্নিয়ায় ঘুরতে এসে পাহাড় থেকে পড়ে পা ভেঙে ফেলেছে জন।প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওখানেই অপারেশন করে ফেলেছিলো সে।
এখন ফিরছে ওরা।জন এখনো স্বাভাবিকভাবে হাঁটা-চলা করতে পারে না। ক্রেচে ভর করে চলতে-ফিরতে হয়।তাই ট্রেনে ফেরার ঝামেলা না করে গাড়ি ভাড়া করে ফিরছিলো ওরা। রবার্ট ভালো ড্রাইভিং জানে দেখে আলাদা ড্রাইভারের প্রয়োজন হয়নি।পথেই এই দূর্ঘটনা।
ঘন হয়ে জন্মানো গাছপালা কেটে তৈরি করা হয়েছে রাস্তা। সেখানে এসেই থেমে গেছে রাহাতদের ভাড়া করা গাড়ি।ভয়ে ভয়ে চারপাশে তাকালো জন।একেবারে গভীর জঙ্গলে রয়েছে তারা।হাইওয়েতে থাকলে তাও এই অবস্থায় অন্য কোন গাড়ির সাহায্য নেয়া যেতো।কিন্তুু এখন সেটাও সম্ভব না।
আর ঘন্টাখানেক পরেই সন্ধ্যা নেমে আসবে। আবার বলল রবার্ট।দিনের আলো থাকতে থাকতেই আমাদের একটা উপায় বের করা দরকার।
কি করা যায়?
এক কাজ করতে পারি।সামনে যে শহরটা আছে সেখানে গিয়ে আমি পেট্রল সংগ্রহ করে আনতে পারি।
রাস্তা চিনবে?
দিনের আলো থাকতে থাকতে কোন অসুবিধা হবে না।এছাড়া আর কোন উপায় নেই।তুমি চুপচাপ গাড়িতে গিয়ে বসে থাকো।আমি না আসা পর্যন্ত কোথাও যাবে না।আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরে আসবো। বলে হাঁটা শুরু করলো রবার্ট।
জন কিছুক্ষণ ক্রেচে ভর করে এদিক-ওদিক পায়চারী করে গাড়িতে গিয়ে বসলো।কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার চোখে রাজ্যের ঘুম নেমে এলো।একটা দমকা হাওয়ায় ঘুম ভেঙে গেল জনের।আকাশে তখন অন্ধকার নেমেছে।
জনের কোলের ওপর তেরছাভাবে পূর্ণিমার চাঁদের আলো এসে পড়ছে।সময় দেখার জন্য হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে আবিষ্কার করলো সে,ঘড়ির ঘন্টার কাটাটা আটের ঘরে এসে স্থির হয়ে গেছে।
ঘড়ির ব্যাটারী শেষ! ক্রেচে ভর করে উঠে দাঁড়ালো জন। গাড়ি থেকে নেমে খোলা আকাশের নিচে বেরিয়ে এলো।
আজ পূর্ণিমা।অসম্ভব সুন্দর একটা রাত।জোছনার সাথে আলোর মাখামাখি।গাড়ি থেকে নামতেই মনটা ভালো হয়ে গেল জনের। মাথা উঁচু করে সে আকাশের দিকে তাকালো , অসংখ্য ছোট-বড় তারকা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেখানে। আর তার মধ্যমণি হয়ে আছে চাঁদটা।
কিছু সময় পর আকাশের দিক থেকে চোখ নামিয়ে ক্রেচে ভর করে পায়চারী করতে লাগলো জন।রবার্টের কথা চিন্তা করতে লাগলো। সময় কতটা গেছে জানেনা সে।তবে অনুমান করলো, অন্তত দু-তিন ঘণ্টা পার হয়েছে।এতক্ষণে তো রবার্টের এসে পড়ার কথা।পথে কিছু হলো না তো আবার।অজানা আশঙ্কায় গা শিঁউরে উঠলো তার।
অল্পক্ষণের মধ্যেই জনের চিন্তায় ছেদ পড়লো।তার উপস্থিতি টের পায়ে একটা হরিণ দৌড়ে জঙ্গলের ভেতর ঢুকে গেছে। হঠাৎ তার অনেক ক্ষুধা পেলো।মনে পড়লো,দুপুরের পর পেটে কিছুই পড়েনি।ব্যাগে অনেকগুলো বিস্কুট আছে।সেগুলোর সদ্ব্যবহার করা যেতে পারে।
খাওয়ার কথা ভাবতেই জিভে জল চলে এলো তার।তাড়াতাড়ি গাড়ির পেছনের দরজা খুলে উঠে বসলো সে।ব্যাগটা খোলার জন্য হাতে নিতেই হঠাৎ তার নাকে অপরিচিত একটা ঘ্রাণ প্রবেশ করলো।মাথা ঝিমঝিম করা শুরু করলো তার। হাত-পা তার অবশ হয়ে এলো।গা এলিয়ে সিটের ওপর পড়ে গেল সে।
প্রায় অনেকক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে আসলো জনের।তারপরও কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে মড়ার মতো পড়ে রইল সে। হাত-পা নড়াবার চেষ্টা করলো।পারলো না। বুঝলো, হাত-পাগুলো তার বাঁধা অবস্থায় আছে।কয়েক মিনিট অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর সে অনুভব করলো, অপরিচিত ঘ্রাণটা আর তার নাকে ঠেকছে না। তবে এখনো মাথাটা ঝিমঝিম করছে তার।
ধীরে ধীরে চোখ খুললো জন।পরক্ষণেই ভীষণভাবে চমকে উঠল সে। এমন দৃশ্য দেখার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না। হাত-পা বাঁধা না থাকলেও হয়তো সিট থেকে পরেই যেত সে।ড্রাইভিং সিটে বসে আছে কালো-আলখাল্লাধারী এক লোক।
চমকের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পরেই যেন জনের বুক চিড়ে একটা চিৎকার বেরিয়ে এলো।কালো-আলখাল্লাধারীর হাতটা যেন একটু নড়ে উঠলো।গর্জে উঠলো ইঞ্জিন।লাফ দিয়ে উঠে চলতে শুরু করলো পেট্রল শূন্য গাড়িটি।আতংকে কাঠ হয়ে গেল জন।চিৎকার করার শক্তিও যেন তার নেই।নিশ্চল হয়ে পড়ে রইলো সে।গাড়ির স্পিডমিটারের কাটা তখন একশো বিশ ছাড়িয়ে একশো ত্রিশের ঘরে ছুঁই ছুঁই করছে।গতির চোটে থরথর করে কাঁপছে গাড়িটি।ছোট-ছোট পাতার ঝোপ-ঝাড় মাড়িয়ে দানবের গতি নিয়ে ছুটে চলছে।
বনবন করে গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরাচ্ছে কালো-আলখাল্লাধারী।হঠাৎ গাড়ির সামনের দু’চাকা উঁচু হয়ে গেল।লাফ দিয়ে শূন্যে উঠে গেল গাড়িটি।মাত্র কয়েক সেকেন্ড, প্রবল একটা ঝাঁকুনি দিয়ে মাটি ছুলো গাড়ির চাকা।
ঝাঁকির চোটে সিট থেকে গড়িয়ে নিচে পড়ে গিয়েছিল জন।দূরে কোথাও ট্রেনের হুইসেলের শব্দ শুনতে পেলো সে।সামনেই রেললাইন।কিছুক্ষণ পর গাড়িটি রেললাইনের মাঝ বরাবর এসে একটা ঝাঁকি দিয়ে থেমে গেল।
কালো-আলখাল্লাধারী লোকটা এবার পেছনে ফিরে তাকালো।চোখাচোখি হলো জনের সাথে।কিন্তুু গাড়ির ভেতর জমাট অন্ধকার থাকায় তার চেহারা ভালোমত দেখতে পেলো না জন।শুধু জ্বলজ্বল করতে থাকা চোখ দুটোই চোখে পড়লো তার।
হঠাৎ বিকট শব্দে অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো কালো-আলখাল্লাধারী।গমগম করে উঠলো পুরো গাড়ির ভেতর।নিজের অজান্তেই চোখ বন্ধ করলো জন।”গুডবাই,মি.জন” উচ্চারিত হলো লোকটির কন্ঠে।বলেই গাড়ি থেকে নেমে পড়লো সে।
কি হতে চলছে বুঝতে পারলো জন।গড়িয়ে তার সর্বক্ষণের সঙ্গী ক্রেচ দুটোর সামনে এসে পড়লো সে।ক্রেচের নিচে লোহার ধারালো অংশ দিয়ে ঘষতে লাগলো হাতের বাঁধন।কিছুক্ষণের মধ্যেই তার বাম হাত পুরোপুরি মুক্ত হয়ে গেল।তারপর ডান হাত।দু’হাত দিয়ে পায়ের বাঁধন খুলে উঠে দাঁড়ালো সে।পরক্ষণেই দরজা লক্ষে ঝাঁপ দিলো সে।
বাঁচার যে শেষ আশাটি জ্বলছিল জনের মনে তাও দপ করে নিভে গেল।দরজা লক করা।ট্রেনও অনেক সামনে এসে পড়েছে।ট্রেনের হেডলাইটের আলো গাড়িতে এসে পড়ছে।এখন যদি ট্রেন ইমারজেন্সি ব্রেকও করে তাও শেষ রক্ষা হবে বলে মনে হয় না।
মরার আগে একবার শেষ চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নিলো সে।ডান হাতে ক্রেচ তুলে নিলো।শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে বাড়ি মারলো জানালার কাঁচে।
পরপর দু’বার।ভাঙলো না গাড়ির মোটা কাঁচ।ফাটল ধরে গেল।চোখ বন্ধ করে আবারও জানালার কাচে দপাদপ বাড়ি মারতে লাগলো সে।ট্রেনের হুইসেলের শব্দ ছাপিয়ে কাঁচ ভাঙার শব্দ শোনা যেতে লাগলো।
কয়েকবার বাড়ি মারার পর ক্ষান্ত হলো জন।ক্রেচ দু’টোর সাহায্যে শেষ মুহূর্তে লাফ দিলো সে। কাঁচের ঘষা লেগে পা কেটে গেলো তার।ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেল সে।তারপর সব অন্ধকার।
পরক্ষণেই বিকট একটা শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলো। মাথা ঘুরে গিয়েছিলো জনের।তাই সেদিকে আর তাকালো না সে।ক্রেচে ভর করে দৌঁড়ানো শুরু করলো।
গাড়িটা পুরোই গেছে।সেটা আর ফিরে পাওয়ার আশা নেই।এখন তাকে রবার্টের খোঁজ করতে হবে।রবার্ট নিশ্চয়ই এতক্ষণে তাকে না পেয়ে তার খোঁজে লেগে গেছে।এই ঘন জঙ্গলে তার খোঁজ করে লাভ নেই।তাকে সর্বপ্রথম হাইওয়েতে যেতে হবে। তারপর সেখান থেকে কোন গাড়ির সাহায্য নিয়ে নিকটস্থ থানায় পৌঁছাতে হবে।তারপর সব পুলিশের দায়িত্ব।
কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়ে দৌঁড়ের গতি বাড়াতেই কিসে যেন হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল জন।হাঁচড়ে-পাঁচড়ে উঠে দাড়িয়ে পেছনে ফিরে তাকালো সে।
গাছের আড়াল থেকে বের হয়ে এলো জমাট অন্ধকারে ঢেকে থাকা একটি কালো অবয়ব।
সেই আলখাল্লাধারী,বুঝলো জন।তার কালো-আলখাল্লাটা বাতাসে তখন পতপত করে উড়ছে।
পূর্ণিমার চাঁদের আলোতে লোকটির চেহাড়া দেখতে পেলো সে। চমকে উঠলো ।লোকটি তার পূর্ব পরিচিত।তার মনে পড়ে গেল কয়েক বছর আগের একটি ঘটনা:-
“তখন তার বয়স তেরো কিংবা চৌদ্দ। একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিল সে।বিশাল বড় হলরুমে অনুষ্ঠিত হচ্ছিলো অনুষ্ঠানটি।জাদুবিদ্যা প্রদর্শনী হচ্ছিলো সেখানে।দেশের নামকরা সব জাদুকর তাদের বিখ্যাত জাদুগুলো সেখানে দেখাচ্ছিলো।
প্রদর্শনী শেষ হওয়ার আগে এলো বিশেষ পর্ব।সেখানে মহাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় জাদুকর জাদু দেখালো।প্রথমেই সে একটা বিশাল বড় বাক্সে একটা ছেলেকে ঢুকালো।তারপর বিড়বিড় করে কি যেন মন্ত্রপাঠ করে ফুঁ দিলো।পরক্ষণেই অন্য একটা বাক্স থেকে বের হয়ে এলো সেই ছেলেটি।
তুমুল করতালিতে ফেটে পড়লো দর্শক-শ্রোতা।সেই শব্দ ছাপিয়ে আরেকটা শব্দ শোনা গেল,সস্তা জাদু!
কে!কে রে!চেঁচিয়ে উড়লো জাদুকর।
আমি।হাত উঠালো জন।
তুই প্রমাণ করতে পারবি এটা সস্তা জাদু?
শুধু প্রমাণ না আপনি যে সবাইকে ধোঁকা দিয়েছেন তাও প্রমাণ করবো।
এরপরের ঘটনা সংক্ষিপ্ত। জন স্টেজে উঠে এলো।সবার উদ্দেশ্যে বলল,আসলে জাদুকর প্রথম বাক্সে যে ছেলেটিকে ঢুকিয়েছিল সে এখনো ওই বাক্সেই আছে।আর দ্বিতীয় বাক্স থেকে বের হয়েছে তারই জমজ ভাই।বলাই বাহুল্য, ছেলে দু’টো আমার পূর্ব পরিচিত।তাই আমি দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম।
জনের অনুমান সত্য প্রমাণিত হলো্।ব্যস,হিরো হয়ে গেল জিরো।দর্শক-শ্রোতা উত্তেজিত হয়ে উঠলো।কেউ কেউ টিকিটের টাকা ফেরত চাইলো।কেউ কেউ আবার ধোঁকাবাজ ধোঁকাবাজ বলতে বলতে লাঠি-জুতো নিয়ে তেড়ে এলো।কেউ কেউ আবার তার প্রতি সহানুভূতি দেখালো।কোনমতে সেদিন পালিয়ে পার পেয়েছিলো সেই জাদুকর।কিন্তুু পালাবার সময় জনের বুকে আঙুল ঠেকিয়ে বলে গিয়েছিল, একদিন তোকে দেখে নেব”
সেইদিন যে এসে পড়েছে তা শরীরের প্রতিটি অণুতে অণুতে অনুভব করলো সে।তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটিই যে সেই জাদুকর তা বুঝতে অসুবিধা হলো না জনের।
কয়েক পা সামনে এগোলো জাদুকর। তার হাসি একান-ওকান ঠেকেছে।চোখ দু’টো প্রতিশোধের জ্বালায় উন্মাদ হয়ে উঠেছে। হঠাৎ তার হাতে লকলক করে উঠলো একটা দু’মুখো ছোঁড়া। এগিয়ে আসতে লাগলো সে জনের দিকে।
এক পা-দুই পা করে পিছাতে লাগলো জন।একটা মোটা গাছের গুড়ির সাথে পিঠ ঠেকে গেলো তার।জাদুকর চেঁচিয়ে উঠলো,তোকে ট্রেন চাপা দিয়ে মারার চেষ্টা করেছিলাম।কিন্তুু তুই অতি চালাক।তবে মনে রাখবি,কথায় আছে ‘অতি চালাকের গলায় দড়ি’। তোর গলায়ও এবার দড়ি পড়েছে।আমার হাতে বন্দি হয়ে গেছিস তুই।এবার তোর মরার পালা।মর তুই!শহর থেকে পেট্রল নিয়ে ফিরে আসছিলো রবার্ট।অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলেছিলো।টর্চ জ্বেলে রাস্তা খোঁজার চেষ্টা করছিলো সে।হঁঠাৎ তার কানে এলো কে যেন বাঁচাও! বাঁচাও! বলে চিৎকার করছে।
শব্দ লক্ষে দৌঁড়ানো শুরু করলে সে।বামে একটা বাক নিতেই সে দেখতে পেলো,কালো-আলখাল্লা পড়া এক লোক জনের গলায় ছুড়ি ঠেকিয়ে রেখেছে।চিৎকার করে উঠলো সে।চমকে উঠলো জাদুকর।রবার্ট তার হাতের টর্চর আলোটা পুরো জাদুকরের চোখ বরাবর ফেললো।কিছুক্ষণের জন্য কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল গেলো জাদুকর। এই সুযোগটা কাজে লাগালো জন।দুই হাত দিয়ে একটা ক্রেচ উঠিয়ে বাড়ি মারলো জাদুকরের মাথা বরাবর।
জনের বাড়ির আঘাতে মাটিতে পড়ে গিয়েছিলো জাদুকর। হঁঠাৎ সে হাতের ছোঁড়াটা রাহাতের বাহুর সন্ধিস্থল লক্ষে ছুড়ে মারলো।
অব্যর্থ লক্ষ!রবার্ট বাহু চেপে মাটিতে বসে পড়লো।জন রবার্টের কাছে দৌড়ে গেল।এমন সময় জাদুকর মরণ চিৎকার করে উঠলো।চমকে উঠে ফিরে তাকিয়েছিলো দু’জনই।যা দেখলো তা তাদের অকল্পনীয় ছিলো।
একটা বাঘ জাদুকরের গলা কামড়ে ধরে রেখেছে।জাদুকরের গলা থেকে অবিরাম ধারায় রক্ত ঝরছে।
বাঘ দেখে উঠে দৌড় দিতে যাচ্ছিলো রবার্ট।জন তাকে থামালো।বলল,ভয় পাওয়ার কিছু নেই।ও আমাদের কোন ক্ষতি করবে না।
রবার্ট জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে জনের দিকে তাকালো।জন বলল, সব জানবে।তবে এতটুকু জেনে রাখো,এই বাঘটা জাদুকরের পোষা ছিলো।জাদুকর একে নিয়ে একটি জঘন্যরকম ষড়যন্ত্র এঁটেছিলো।এ বাঘ খুন করতে জানে না।ও শুধু এসেছে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য।প্রতিশোধ!4 Comments
Friends
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
@mohammad-shahzaman
মেহজাবিন হাসান
@mehzabinh
Avantika
@avantika
Shazzad Sobuj
@mr-green360
Sadia-Nizamy
@sadia-nizamy
Rajib M Sarker
@sarkerr-rrajiv
Zahid-Rahman-Jony
@zahid-rahman-jony
ঈশিতা ঈরু
@eshitabiswaseru15
Toimun Naher
@toimun


খুব ভালো লাগলো