Profile Photo

সাকেরা মজুমদারOffline

  • shakera
  • Profile picture of সাকেরা মজুমদার

    সাকেরা মজুমদার

    3 years, 9 months ago

    ৩য় খন্ড
    চিঠি
    মোহিনী বুঝতে পারছে না কে দেয় তাকে চিঠি । আর এই যুগে চিঠি যে আছে তাও সবাই ভুলে গেছে। আর ওর বাসায় চিঠি কে দিয়ে যাচ্ছে। খামের উপর নেই কোন ঠিকানা, না আছে নাম।মোহিনী চা হাতে নিয়ে চিঠিটা আবার পড়ে। তার হঠাৎ মনে পড়ে সেইদিন বাজারে যখন সে গিয়েছে বই এর দোকান থেকে বই কিনতে তখনতো সেখানে তেমন কেউ ছিলো না যে তাকে চিঠি দিবে।
    মোহিনীর বেশ ভয় লাগছিলো কে এসে চিঠি রেখে যাচ্ছে,এখানে তো কোন মানুষ নেই যে সে বলবে বা জিজ্ঞেস করবে।
    একে সে বাসায় একা থাকে তার উপর মা বাবা যদি এই চিঠির কথা শুনেন তবে তো বলবে তোমার চাকরি বাদ দিয়ে বাড়ি চলে আসো।
    সেই রাত মোহিনী না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলো। পরেরদিন স্কুল গিয়ে হেডস্যারকে জিজ্ঞেস করলো আপনি আমাকে যে বাসাটা নিয়ে দিয়েছেন সেটা কার বাসা, সেখানে আগে কেউ কি থাকতো। স্যার অবাক হয়ে বললেন, কেনো বলো তো বাসায় কি কোন সমস্যা হচ্ছে?
    মোহিনী বললো স্যার কি করে যে বলি, দুইদিন ধরে বেনামী চিঠি আসতেছে।আমি তো নতুন;তাই কাউকে চিনি না, কে আমাকে চিঠি দিবে তারপর মোহিনী চিঠিগুলি স্যারকে দেখায়। স্যার দেখে বলে তুমি ভেবো না ব্যাপারটা আমি দেখবো।
    মোহিনী বাচ্চাদের পড়াচ্ছিলো। এমন সময় দেখলো কুসুম নামের এক ছাত্রী নেই। কুসুম কোথায় সে জানতে চাইলে বাচ্চারা বলে আপা কুসুমের তো আইজ বিয়া। মোহিনী চোখ কপালে তুলে বললো কি বলছিস এসব। মোহিনীর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো । ভালো ছাত্রী কুসুম,ক্লাস ফাইভের মেয়ের বিয়ে কি করে হতে পারে তাও এখনকার যুগে। ।
    মোহিনী তার ক্লাসের দায়িত্ব অন্য ম্যাডামকে দিয়ে বাচ্চা একজনকে সংগী করে কুসুম এর বাড়ি ছুটে গেলো । কুসুম মনমরা হয়ে ঘরের উঠানে তখন বসে ছিলো। তার বিয়ে করার কোন ইচ্ছেই নেই। তার পড়তে মন চায়, সবার সাথে খেলতে ইচ্ছে করে।স্কুলের আপাকে দেখেই সে কান্না করতে করতে দৌড়ে গেলো। মোহিনী বললো তোর বাবা মা কোথায় ডেকে আন।
    কুসুম তাদের ডেকে আনলো। মোহিনী তাদের বুঝালো এতো ছোট মেয়েকে বিয়ে দিলে হাজার সমস্যার সামনে পড়তে হবে, আর আপনারা ওকে বিয়ে দিলে আমি কিন্তু আইনের আশ্রয় নিবো। ওনারা বললো অভাবের সংসার মেয়ে পড়াশোনা করিয়ে কি হবে আফা। বিয়ে দিয়ে বেচে যাবো। মোহিনী বললো আজ মেয়েকে বিয়ে দিবেন কিন্তু এই মেয়ে হাজার সমস্যায় পড়তে পারে তখন কে সামলাবে।
    মোহিনী কথা নিয়ে আসলো যাতে ১৮ বছরের আগে বিয়ে না হয়।
    আজ মোহিনীর অনেক মন খারাপ।স্কুল থেকে এসে কিছু না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো । হঠাৎ দরজায় নক করার শব্দে ঘুম ভাংগে । দরজা খুলে দেখে রুনু এসেছে।
    রুনু বলে আফার যে খোঁজ নাই। আফনার জন্য চিতল পিঠা আনলাম। রুনু এই এলাকায় মোহিনীর খুব কাছের মানুষ বলা যায়। কথা বলার একমাত্র সংগী।
    চলবে

    5
    3 Comments
Skip to toolbar